মহারাষ্ট্রের লোনার ঝিল: বিস্ময়কর বিরল হ্রদ

হারুন আল নাসিফ

মহারাষ্ট্রের লোনার ঝিল: বিস্ময়কর বিরল হ্রদ

লোনার ঝিল ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের রাজধানী মুম্বাই থেকে প্রায় পাঁচশ কিলোমিটার দূরে বুলধানা জেলার লোনারে অবস্থিত একটি পর্যটন আকর্ষণ। এটি লোনার ক্রেটার নামেও পরিচিত। শুধু স্থানীয় পর্যটক নন, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে এসে এই বিস্ময়কর হ্রদটি দেখতে ভিড় জমান বিজ্ঞানীরাও। প্রাচীন গ্রন্থ পদ্মপুরান ও স্কন্ধ পুরান এবং ষোড়শ শতকে লেখা আইন-ই-আকবরী গ্রন্থেও এই হ্রদের কথা উল্লেখ রয়েছে। ১৮২৩ সালে প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে ব্রিটিশ কর্মকর্তা জে. ই. আলেকজান্ডার হ্রদটি পরিদর্শন করেন।

লোনার ঝিল প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট হ্রদ নয়। এটি পৃথিবীর কোনো স্থানে অতি-বেগে পতিত উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণুর আঘাতে ব্যাসাল্টিক শিলায় সৃষ্ট গর্ত বা ক্রেটারগুলোর অন্যতম। ব্যাসাল্টিক প্রভাবে সৃষ্ট অন্য তিনটি ক্রেটার বা গর্ত রয়েছে দক্ষিণ ব্রাজিলে। উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণুর আঘাতের ফলে সৃষ্ট এ বিশাল ও গভীর গর্তটি কালক্রমে হ্রদে পরিণত হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা বা উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণুটি পূর্বদিক থেকে সেকেন্ডে ১১ মাইল বেগে মহাকাশ থেকে ধেয়ে এসে ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি কোণে ভূমিতে আঘাত করেছিলো।

লোনার ক্রেটারটির অবস্থান ডেকান মালভূমিতে। এটি প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট ব্যাসাল্ট শিলার বিশাল সমতল। প্রায় ছয় কোটি সাড়ে ৬৫ লাখ বছর আগে এটি গঠন হতে শুরু করে। প্রায় ৩০ হাজার বছর ধরে চলে এ অগ্ন্যুৎপাত। মূল লাভা-বিধৌত অঞ্চলের আয়তন ১৫ লাখ বর্গ কিলোমিটার ছিলো বলে ধারণা করা হয়। পরে ক্ষয় ও প্লেটটেকটোনিকের কারণে এটি ছোট হয়ে আসে। এর বর্তমান আয়তন প্রায় পাঁচ লাখ বর্গ কিলোমিটার এবং পুরুত্ব দুই হাজার মিটার বা ছয় হাজার ছয়শ ফুট।

ঊনিশ শতকে যখন এটি আন্তর্জাতিক নজরে আসে তখন কিছু ভূতাত্ত্বিক ব্যাসাল্ট ক্ষেত্রে অবস্থান হওয়ায় এটিকে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ বলে অভিমত দিয়েছিলেন। তবে, বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ভূতাত্ত্বিকরা সন্দেহ করতে শুরু করেন যে এটি উল্কাপিণ্ড, গ্রহাণু বা ধূমকেতুর অভিঘাতে সৃষ্টি হয়েছে। পরে এ স্থানে উচ্চ গতিবেগের অভিঘাতে সৃষ্ট মাস্কেলিনাইট নামক একটি কাঁচ প্রাপ্তির মাধ্যমে তাদের সন্দেহ সত্য পরিণত হয়। ১৯৭৩ সালে সায়েন্স ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে হ্রদে এই কাচের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়।

গর্তটির বয়স সাধারণত ৫২ হাজার বছর বলে মনে করা হয়। তবে ২০১০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়, এটির বয়স আনুমানিক পাঁচ লাখ ৭০ হাজার বছর। ২০১৯ সালে আইআইটি বোম্বে পরিচালিত একটি  সমীক্ষায় দেখা গেছে যে এপোলো প্রোগ্রামের সময় চাঁদের শিলায় প্রাপ্ত খনিজগুলোর সাথে হ্রদের মাটিতে থাকা খনিজগুলোর বেশ মিল রয়েছে। ২০০০ সালের নভেম্বর মাসে হ্রদটিকে সংরক্ষিত রামসার সাইট ঘোষণা করা হয়। ভারতের জাতীয় জিও হেরিটেজের তকমাও পেয়েছে লেকটি।

ভূতাত্ত্বিক, বাস্তুবিদ, প্রত্নতাত্ত্বিক, প্রকৃতিবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ হ্রদের বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা প্রকাশ করেছেন। স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউট, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ, ভারতের ভূতাত্ত্বিক জরিপ, সাগরি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শারীরিক গবেষণা পরীক্ষাগার এ স্থানটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছে। ২০০৭ সালে এই হ্রদের জৈব নাইট্রোজেন নির্ধারণ আবিষ্কার হয়। এখানে বসবাসরত অণুজীবগুলো কেবল পিএইচ১১-তেই বেঁচে থাকতে পারে।

হ্রদের পানির রঙ সাধারণত সবুজ। কিন্তু ২০২০ সালের জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে হঠাৎ করে মাত্র দুই-তিনদিনে হ্রদের পানির রঙ বদলে লালচে গোলাপি রঙ ধারণ করে। জানা যায়, আগেও কয়েকবার লোনার হ্রদের পানির রঙে লালচে বা গোলাপি আভা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার রঙের ঘনত্ব বেশি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হৈ চৈ পড়ে যায়। পরিবেশবিদ থেকে বিজ্ঞানী সবাই কারণ খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অবশেষে আগারকার গবেষণা ইনস্টিটিউট, জাতীয় পরিবেশ প্রকৌশল গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং ভারতের ভূতাত্ত্বিক জরিপের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পানির স্তর কমে যাওয়ায় উচ্চ লবণাক্ততার কারণে হ্যালোব্যাকেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায় এবং ক্যারোটিনয়েডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে এই রঙবদল ঘটে।

৭৭.৬৯ হেক্টর আয়তনের হ্রদটি ওভাল বা প্রায় গোলাকার। শীর্ষে এটির পরিধি প্রায় ৮ কিলোমিটার (পাঁচ মাইল)। দেয়ালের মতো হ্রদের পাড় আশপাশের ভূমি থেকে ২০ মিটার বা ৬৫ ফুট উঁচু। প্রায় গোলাকার বেসিন বা অববাহিকা ঘিরে রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি টিলা। বেসিনের পাড়ের ঢাল প্রায় ৭৫ ডিগ্রি কোণ সৃষ্টি করেছে। পাড়ের পাদদেশে হ্রদের পরিধি প্রায় ৪.৮ কিলোমিটার (তিন মাইল)। হ্রদের গড় ব্যাস ১.২ কিলোমিটার (৩,৯০০ ফুট) এবং এটি ক্রেটার রিমের ১৩৭ মিটার (৪৪৯ ফুট) নীচে অবস্থিত। শীর্ষে উল্কাগর্তের ব্যাস প্রায় ১.৮ কিলোমিটার (৫,৯০০ ফুট)। এর ঢালে রয়েছে অনেক প্রজাতির গাছ-পালা। এছাড়া হ্রদের কিনারে বাজরা, ভুট্টা, ঢেঁড়শ, কলা, পেঁপে ইত্যাদিও চাষ করা হয়।

আরও পড়ুন


ভারতে আজ ১০ হাজার রেমডেসিভির পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

ভারতে করোনায় মৃত্যুতে আবারও নতুন রেকর্ড

টানা তৃতীয়বারের মতো শপথ নিলেন মমতা

আইপিএল স্থগিতে যত টাকা ক্ষতি হলো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের


হ্রদের পানি লবণাক্ত এবং ক্ষারযুক্ত। এতে বিভিন্ন লবণ এবং সোডা রয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়ার সময়, যখন বাষ্পীভবন পানির স্তর হ্রাস করে, তখন এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে সোডা সংগ্রহ করা হয়। হ্রদের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যে দুটি স্বতন্ত্র অঞ্চল দেখা যায়, একটি বাহ্যিক নিরপেক্ষ (পিএইচ৭) এবং একটি অভ্যন্তরীণ ক্ষারক (পিএইচ১১), এরা একটির সাথে আরেকটি মিশে না। পূর্ণা ও পেঙ্গাঙ্গা নামে দুটি ছোট জলধারা হ্রদে প্রবাহিত হয়। হ্রদের পানির ধারেই দক্ষিণ দিকে একটি মিঠাপানির কূয়া সৃষ্টি রয়েছে।

হ্রদটির আশপাশ বিপুল উদ্ভিদ ও প্রাণীর এক বিশাল আবাসস্থল। এখানে ১৬০ প্রজাতির পাখি, ৪৬ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ১২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। আবাসিক পাখির পাশাপাশি এখানে অনেক অতিথি পাখিরও আনাগোনা রয়েছে। রয়েছে ময়ূর ও একাধিক প্রজাতির হরিণ। ভারত সরকার ২০১৫ সালের ২০ নভেম্বর এখানকার ৩.৮৮ বর্গ কিলোমিটার (১.৪৮ বর্গ মাইল) আয়তনের এলাকাকে লোনার বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণা করেছে।

মূল হ্রদ থেকে প্রায় সাতশ মিটার (২,৩০০ ফুট) দূরে একটি ছোট হ্রদ রয়েছে। ধারণা করা হয়, যে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে মূল গর্তটি সৃষ্টি হয়েছিলো তার থেকে ছিটকে আসা একটি ছোট খণ্ডের আঘাতে এটি সৃষ্টি হয়। এর নাম অম্বার হ্রদ। এটিকে কখনো-কখনো ছোট লোনারও বলা হয়। এই হ্রদের কাছে একটি হনুমান মন্দির রয়েছে। এর পাথরের প্রতিমাটি অত্যন্ত চৌম্বকীয় বলে বিশ্বাস করা হয়। স্থানীয় কৃষকরা এই হ্রদ থেকে পানি সেচে চাষাবাদে ব্যবহার করে থাকেন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

ফ্যান্টাসিওয়্যার: ড্যান্ডেলিয়ন ফুল আর পরীর রাজ্য

অনলাইন ডেস্ক

ফ্যান্টাসিওয়্যার: ড্যান্ডেলিয়ন ফুল আর পরীর রাজ্য

মাত্র ১০ বছর আগে শখের বসে রবিন ‘ফ্যান্টাসিওয়্যার’ নামে ছোট্ট একটি পারিবারিক ব্যবসা শুরু করেন। রবিন উইট একজন ভাস্কর। তিনি স্টেইনলেস স্টিলের তার ব্যবহার করে পরী ও ড্যান্ডেলিয়ন ফুলের ভাস্কর্য তৈরি করে থাকেন। তার স্ত্রী ও তার দুই ছেলে-মেয়ে একাজে সাহায্য করে তাকে।

অনলাইনে তার তৈরি ভাস্কর্য বেশ বিখ্যাত। এগুলো প্রশংসিত হয়েছে লাখো মানুষের কাছে। এমনকি কোন বিজ্ঞাপন ছাড়াই ইন্টারনেটে তার তৈরি ভাস্কর্যের ছবি অহরহ দেখা যায়।

সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য রবিনের তৈরি ভাস্কর্য বাচ্চাদের খেলার মাঠে ব্যবহারের চিন্তা ট্রেন্থাম গার্ডেনসের মার্কেটিং ম্যানেজার অ্যামান্ডা ডসনের মাথায় আসে। তিনি রবিনের কাছ থেকে কয়েকটি ভাস্কর্য কিনে তা বাগানে সাজিয়ে রাখেন।

অ্যামান্ডা জানান, এরপর থেকেই বাগানে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এমনকি ৭২৫ একর আয়তনের এই বিশাল বাগানে অবিস্কার করার মতো আরও অনেক কিছু থাকলেও শুধুমাত্র ভাস্কর্য রাখা জায়গাগুলোতেই ভিড় হতে থাকে।

একদিন এক দর্শনার্থী ভাস্কর্যগুলোর কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করলে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যায় রবিনের ভাস্কর্যগুলো। ফেসবুকে তার রয়েছে ৪৪ মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার। তার একেকটি ভাস্কর্য বিক্রি হয় ১৫ হাজার ইউরোতে।

বিশ্বজুড়ে তার ভক্তেরা ফেয়ারি ফ্যানস নামে পরিচিত। তার ফেসবুক গ্রুপে প্রতি সপ্তাহে তিনি তার বর্তমান কাজের আপডেট জানান।


আরও পড়ুনঃ

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

হোটেলে নারী এনে জরিমানার মুখে চিলির ফুটবলাররা

বেবি বাম্পের ছবি দিয়ে নুসরাতের লুকোচুরির ইতি

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক কুমির ‘মুজা’র জন্মদিন পালন


তবে এসবের সাথে সাথে একটি সমস্যাও দেখা দেয়। নেটদুনিয়ায় তার ভাস্কর্যের ছবি চুরি ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হয়! তার ওয়েবসাইটের ছবিগুলো অপরাধীরা চুরি করে তা বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহার করে।

এই প্রতারণায় ফেসবুকে তার ছবির ওপর ক্লিক করলে তা অন্য একটি পেইজ বা ওয়েবসাইটে নিয়ে যায় যেখানে হুবহু তার ছবিগুলো ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। পরে তাদেরকে নিম্নমানের পণ্য ধরিয়ে দেওয়া হয়, অথবা তারা কিছুই পান না।

এই বিজ্ঞাপনগুলো বন্ধের জন্য বারবার ফেসবুকের কাছে আবেদন করলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি রবিন। মানুষের ভোগান্তি দূর করার চেয়ে বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া অর্থই ফেসবুকের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

ধূমপান ছাড়তে চান?

অনলাইন ডেস্ক

ধূমপান ছাড়তে চান?

ধূমপান ক্ষতিকর সেকথা সবাই জানে। মৃত্যুর কারণও হতে পারে  ধূমপান। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা বলছে হৃদরোগের জন্য ৫৪ ভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী হলো ধূমপান। গবেষনায় দেখা গেছে, সাধারণের তুলনায় ধূমপায়ীদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকে ছয় গুণ বেশি।

সুস্থ থাকতে চাইলে ধূমপান বর্জন করা জরুরি। কিন্তু অনেকেই ধূমপান ছাড়তে চাইলেও পারেন না। আর এটা চাইলেই একদিনে ছাড়া সম্ভব হয় না। চলুন জেনে নেওয়া যাক ধূমপান ছাড়ার কার্যকরী কিছু উপায়-

#ধূমপান ছাড়ার জন্য সবার আগে প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি। আপনি যদি একবার সিদ্ধান্ত নেন যে ধূমপান ছেড়ে দেবেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকুন। 

#নিজের পকেটেই সিগারেট রাখুন। এতে অন্যের কিাছ থেকে চাওয়ার প্রবণতা কমবে। তবে সিগারেট খাওয়া থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। 

#খেয়াল করুন, কোন সময়টাতে আপনার সিগারেট খেতে বেশি ইচ্ছা করে। হতে পারে তা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে, ফোনে কথা বলার সময়, টিভি দেখার সময়, খাবারের পর কিংবা চায়ের সঙ্গে। যে সময়েই হোক, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। 

#কাজ করতে করতে সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস? আজ থেকে বাদ দিন।

news24bd.tv/এমিজান্নাত

পরবর্তী খবর

দুর্লভ আবাসিক পাখি ‘জল ময়ূর’

আব্দুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও

দুর্লভ আবাসিক পাখি ‘জল ময়ূর’

ময়ূর সবাই চিনে, তবে জলময়ূর অনেকের অচেনা। এই পাখি সাধারণত জল ময়ূর, নেউ, নেউপিপি, পদ্মপিপি, মেওয়া নামেও পরিচিত। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাখি। লম্বালেজী অনিন্দ্য সুন্দর পাখিটি বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি ‘জল ময়ূর’। 

প্রজননকারী পাখির মাথা, গলা ও ডানার পালক-ঢাকনি সাদা থাকে। ঘাড় সোনালি- হলুদ, পিঠ গাড় বাদামি, বুক-পেট কালচে বাদামি ও লেজ কালচে। এই পাখির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে জলাধারের কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসে। বন বিভাগ জল ময়ূরের জাত রক্ষায় নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এটি লম্বা লেজী।

বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি ‘জল ময়ূর’। এ পাখির তিন ধরনের প্রজাতি রয়েছে। নেউ, নেউপিপি এবং পদ্মপিপি বা মেওয়া নামেও পরিচিত। প্রজননকালে জল ময়ূর অত্যন্ত সুন্দর হয়ে ওঠে। এ সময় ২৫ সেন্টিমিটার লম্বা লেজসহ পাখির দেহের দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৩৯ থেকে ৫৮ সেন্টিমিটার। ওজনে পুরুষ ১১৩ থেকে ১৩৫ গ্রাম। স্ত্রী প্রজাতির পাখি ২০৫ থেকে ২৬০ গ্রাম হয়। প্রজননকারী পাখির মাথা, গলা ও ডানার পালক সাদা থাকে। ঘাড় সোনালি-হলুদ, পিঠ গাঢ় বাদামি, বুক-পেট কালচে-বাদামি ও লেজ কালচে হয়। একটি কালচে-খয়েরি রেখা মাথা ও ঘাড়-গলার সাদা ও সোনালি-হলুদ রংকে পৃথক করেছে। ঠোঁট নীলচে হয়। চোখ বাদামি ও পা নীলাভ-কালো। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম।

আরও পড়ুন


কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে ইসরাইলি সেনাদের মনোবল চাঙ্গা হবে না: হামাস

বিবস্ত্র করা ছবি তুলে ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর স্ত্রী, মামলায় আ.লীগ নেতাও আসামি

‘নিখিলকে আগেই বলেছিলাম, নুসরাত তোমাকে ঠকাবে’

বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগ মূহুর্তে যে কারণে বিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন সালমান


জল ময়ূর হাওর, বিল, হ্রদ এবং মিঠাপানির জলাভূমিতে বাস করে। দেশের প্রায় সব বিভাগেই দেখা যায় এ পাখিটি। গ্রীষ্মকালে একাকী বা জোড়ায় ও শীতকালে ঝাঁক বেঁধে বিচরণ করে। ভাসমান পাতার ওপর হেঁটে হেঁটে জলজ উদ্ভিদে থাকা পোকা-মাকড় ও অমেরুদন্ড প্রাণী খায়। এ ছাড়াও জলজ উদ্ভিদের কচি পাতা, অংকুর ও বীজ খেয়ে থাকে। 

সচরাচর ওড়ার সময় করুণ সুরে নে...উ...ইউ...,  নে...উ...ইউ..., নে...উ...ইউ স্বরে ডাকতে থাকে। প্রজননকালে পুরুষ শাপলা ও পদ্মপাতা বা এ জাতীয় ভাসমান কোনো উদ্ভিদের পাতার ওপর বাসা বানায়। স্ত্রী এতে চারটি জলপাই-বাদামি চকচকে ডিম পেড়ে চলে যায়। পুরুষ একাই ডিমে ২৩ থেকে ২৬ দিন তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। ডিম থেকে ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই বাচ্চা হাঁটতে, সাঁতরাতে ও ডুব দিতে পারে। প্রায় দুই মাস পর্যন্ত বাবার তত্ত্বাবধানে থাকে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সাইকেল দিয়ে পদ্মা পাড়ি!

অনলাইন ডেস্ক

সাইকেল দিয়ে পদ্মা পাড়ি!

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পাইকপাড়ার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাইফুল। একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরিরত। পাশাপাশি নেশা হিসেবেই নতুন কিছু আবিষ্কারের কাজে মত্ত থাকেন। আরও অনেক কিছু তৈরির চেষ্টা চলছে তার।

কর্মজীবন শুরু করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সৌর শক্তি আলোর একটি উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে। পরে একটি ওষুধ কোম্পানিতে সিনিয়র মেডিকেল প্রমোশন অফিসার হিসেবে যোগ দেন।
সাইফুল ইসলাম জানান, পঞ্চম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় সৌর বিদ্যুৎচালিত বাস তৈরি করেন। তার তৈরি করা সাইকেলের হ্যান্ডেল ও ক্যারিয়ারে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল রয়েছে। দুই চাকার দুই পাশে রয়েছে চারটি গোলাকার টিউব। এর সাহায্যে সাইকেলটি পানিতে ভেসে থাকতে পারে। সাইকেল চালাতে প্যাডেল ব্যবহার করতে হয় না। কারণ এটি সৌর বিদ্যুতে চলে। সাইকেলটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা আর সময় লেগেছে ছয় মাস।


আরও পড়ুন

আবু ত্ব-হাকে খুঁজে বের করার দাবিতে সমাবেশ

ক্লাবে ঢুকে মদ না পেয়ে তারা ভাংচুর চালায় : ক্লাব কর্তৃপক্ষ (ভিডিও)

টিকা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: চীনের আশ্বাস

জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে পরীমণিকে

এছাড়া সে নিজের বানানো সৌরচালিত সাইকেল চালিয়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদী পাড়ি দিয়েছেন। 

news24bd.tv/এমিজান্নাত            

পরবর্তী খবর

যত্নে রাখুন শাড়ি

অনলাইন ডেস্ক

যত্নে রাখুন শাড়ি

আপনার শখের শাড়ি অনেকদিন পর আলমারি থেকে বের করে দেখলেন পোকা কেটেছে বা ফেসে গেছে? সঠিকভাবে যত্নের অভাবে শাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। তাই আলমারিতে শাড়ি তুলে রাখার আগে খেয়াল রাখতে হবে কিছু বিষয়- 

#গর্জিয়াস  শাড়িগুলো আলাদা সংরক্ষণ করুন। সম্ভব হলে এ ধরনের শাড়ি বক্সে রাখুন।

#দাগ লেগে যাওয়া শাড়ি সেভাবেই রেখে দেবেন না। ভিনেগার, লেবুর রসের সাহায্যে দাগ উঠিয়ে ফেলুন।

#শা ইস্ত্রি করার সময় উপরে একটি কাপড় বিছিয়ে নিন। এছাড়া দেখে নেবেন যেন খুব বেশি তাপমাত্রা সেট করা না থাকে।

#সব ধরনের শাড়ি একইভাবে পরিষ্কার করবেন না। সুতি শাড়ি ওয়াশিং মেশিনে পরিষ্কার করতে পারেন।
 
#জরি অথবা সিল্কের শাড়ি দুই মাসে একবার বের করে ভাঁজ বদলে রাখবেন।

# সুতি শাড়ি আয়রন করে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখুন।

news24bd.tv/এমিজান্নাত   

পরবর্তী খবর