টেস্টে দিনব্যাপী বোলিং করেও কোন বোলারই সফল হয়নি

ড. তুহিন মালিক

টেস্টে দিনব্যাপী বোলিং করেও কোন বোলারই সফল হয়নি

টেস্ট ক্রিকেটে দিনব্যাপী বোলিং করেও যখন কোন বোলারই সফল হয়নি। দিনশেষে তখন মাত্র কয়েক ওভার বল করেই বিজয় নিশ্চিত করলো আরেক বোলার। একদিকে সবাই যখন শত শত বল ছুঁড়েও উইকেটের দেখা পায়নি। অন্যদিকে একজন তখন অল্পকিছু বল খরচ করেই সফল।

উদাহরণটা দিলাম, কোয়ালিটি ও কোয়ান্টিটির তফাৎটা বোঝানোর জন্য। অর্থাৎ কোন কর্মের কোয়ালিটি বা মান তার কোয়ান্টিটি বা পরিমানের চাইতে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

পয়েন্টটা কিন্তু ক্রিকেট নিয়ে নয়। এটা উদাহরণ মাত্র। আসল পয়েন্টটা হচ্ছে, শবে ক্বদরের ইবাদত নিয়ে। অর্থ্যাৎ সারারাত জেগে দ্রুতগতিতে শত শত রাকাত মনোযোগবিহীন নামাজের চাইতে। ধীরে সুস্থে লম্বা রাকাতের। লম্বা রুকু-সেজদার।  কোয়ালিটিসম্পন্ন অল্প নামাজই আল্লাহর সাথে অনেক বেশী কানেক্টেভিটি বা যোগাযোগ তৈরি করতে সক্ষম। আর ক্বদরের রাতে আল্লাহর সাথে এরকম কোয়ালিটি বা মান সম্পন্ন কানেক্টেভিটিই তৈরি করতে হবে। যেমনটা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘তুমি এমনভাবে নামাজ আদায় কর, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ; যদি তুমি দেখতে অক্ষম হও, তাহলে মনে কর আল্লাহ তোমাকে দেখছেন।’ 

প্রশ্ন হচ্ছে— আল্লাহর সাথে এই কানেক্টেভিটির পরিমাপটা মাপবো কিভাবে? হিসাবটা সোজা। সেজদায় গিয়ে যতটুকু চোখের পানি ফেলতে পারি। কানেক্টেভিটির পরিমাপটাও ততটুকু বাড়বে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘বান্দা আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী হয়, যখন সিজদারত থাকে। অতএব তোমরা তখন অধিক দোয়া করতে থাকো।’ 

অনেকেরই জিজ্ঞাসা। ক্বদরের এই মহিমান্বিত রাতে কি কি ইবাদত করবো? এর সরল ও সহজ উত্তর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নিজেই দিয়েছেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘একদা আমি রাসুল (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি ক্বদরের রাত সম্পর্কে অবহিত হতে পারি; তবে আমি কি করব? তখন রাসুল (সাঃ) আমাকে এই দোয়া পাঠ করার জন্য বললেন। দোয়াটি হলো: اَللَّهُمَّ اِنَّكَ عَفُوُّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُوْ عَنَّا ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি’। অর্থাৎ: ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।’

আসলে আল্লাহর পছন্দই হচ্ছে, তাঁর বান্দারা যেন ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। আর তিনি ক্ষমা করতেই থাকেন। করতেই থাকেন....। আর আল্লাহ তো ক্ষমা করতেই ভালোবাসেন। কিন্তু শয়তান মানুষকে সারাজীবন ধোঁকার মধ্যে রাখে। যাতে সে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে না পারে। আজকে কালকে করতে করতেই যেন মৃত্যু চলে আসে। অথচ আল্লাহ বলছেন, ‘আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন?’ ‘আল্লাহই তওবা কবুলকারী, করুণাময়।’  ‘যে খারাপ কাজ করে কিংবা নিজের প্রতি জুলুম করে, তারপর আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা চায়, সে আল্লাহ্‌কে ক্ষমাশীল ও দয়ালু পাবে।’

তাই এ রাতে নিজের পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে বেশি বেশি তাওবা, এস্তেগফার, দোয়া, মোনাজাত করার পাশাপাশি। অবশ্যই আল্লাহর ফরজ বিধান এ রাতের মাগরিব, ইশা এবং ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হবে। সাথে তারাবীহ, তাহাজ্জুদ, কিয়ামুল লাইল, নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকারসহ নেক আমলে সময় কাটানো। কোরআনের অনেকগুলো পারা দ্রুতগতিতে তিলাওয়াত করার চাইতে। পরিমানে অল্প হলেও ধীরে সুস্থে শ্রুতিমধুর ভাবে। আয়াতের অর্থ বুঝে। শুদ্ধভাবে আদবের সাথে। পরিপূর্ণ তৃপ্তির সাথে আল্লাহর কালাম তেলাওয়াত করি।

এ রাতে দান, খয়রাত, সাদাকাহ, চ্যারেটি বা সৎকর্ম বেশী পরিমানে করি। কারন, দোয়া ও চ্যারেটির মাধ্যমে মানুষের তাকদিরের পরিবর্তন হয়ে থাকে। 

হায়েজা মা-বোনরা এ মহিমান্বিত রজনীর সাওয়াব-সৌভাগ্য অর্জন থেকে বঞ্চিত থাকবেন না। তারাও বেশি বেশি দোয়া-ইস্তিগফার-তাওবা ও জিকির-আজকার করতে পারবেন এবং দান-সাদাকাহ, চ্যারেটি বা সৎকর্ম করতে পারবেন।
রমজানের শেষ দশকে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কোমর বেঁধে ইবাদত করতেন। তিনি নিজে রাত জাগতেন এবং উনার পরিবারবর্গকে জাগিয়ে দিতেন। তাই অবশ্যই আমাদের পরিবারের সদস্যদেরকেও জাগিয়ে দিয়ে এ রাতের সৌভাগ্য লাভে উৎসাহিত করতে হবে। 

একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল আমরা অনেকেই করে থাকি। তা হলো, অনেকেই মনে করি ক্বদরের রাত বুঝি শুরু হয় এশার পর থেকে। তাই মাগরিবের পর ইফতার শেষে দুনিয়াবি হাসি-তামাশা কিংবা পরচর্চার মত খোশগল্পে ব্যাস্ত থাকি। অথচ ক্বদরের রাত মাগরিবের পরই শুরু হয়ে যায়। চলে ফজর পর্যন্ত। টিভি বা মোবাইল স্ক্রিনের আসক্তি থেকে নিজেকে দুরে সরিয়ে রাখি। এগুলোর সঠিক ব্যবহারও করতে পারি। প্রয়োজনে বিভিন্ন ইসলামিক স্কলারের লেকচার শুনি। মোবাইল স্ক্রিনে সূরা, তরজমা, তাফসির শিখি। 

অর্থাৎ সারাংশ একটাই। অনুতপ্ত হয়ে, চোখের পানি ফেলে, গুনাহ মাফ চেয়ে। ভবিষ্যতের জন্য পুরোপুরি সংশোধিত হয়ে। নিজের ভিতরের ইগো বা অহংকারের এখনই দাফন করি। কাল থেকে অবশ্যই নিজের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনি। মানুষের হক ফিরিয়ে দিয়ে ও মানুষের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে। আমৃত্যু আল্লাহর হুকুম ও রাসূল (সাঃ)এর প্রদর্শিত জীবন বিধান মত বাকি হায়াতের জীবনটুকু অতিবাহিত করতে পারাটাই হচ্ছে শবে ক্বদরের আসল প্রাপ্তি। সাথে অবশ্যই বোনাস হিসাবে পাচ্ছি, একনাগারে ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চাইতেও অধিক পরিমানের সওয়াব।
আল্লাহ আমাকে সহ সবাইকে বুঝে আমল করার তওফিক দান করুন।

লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ।

news24bd.tv/আলী 

পরবর্তী খবর

ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার মানুষ মানেই কিন্তু রাগী না

কাজী শরীফ

ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার মানুষ মানেই কিন্তু রাগী না

ঘটনাটা আজ থেকে তেরো বছর আগের ৷ ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে আমাদের সম্মান প্রথম বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম বর্ষে থাকার সময় আমি ন্যূনতম পড়াশোনাও করিনি। তাই পরীক্ষার হলে যেতাম আধাখ্যাঁচড়া একটা প্রস্তুতি নিয়ে। দ্বিতীয় বর্ষ থেকে আমি কিছুটা পড়াশোনা করতে শুরু করি। আমার ফলাফলে পড়া প্রভাব থেকেই এ দাবির সত্যতা মেলে।

মূল প্রসঙ্গে ফিরি। পরীক্ষার হলে বসে আছি। রোমান ল’ পরীক্ষা। আমার কাছে এ বিষয়টা খুবই কঠিন লাগত ৷ পড়াশোনা না করলে কঠিন লাগাটাই স্বাভাবিক৷ আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে প্রশ্ন হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলাম। তেরোটা থেকে দশটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। পূর্ণমান ৫০। বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা প্রশ্ন পড়তে পড়তেই আমি ঘামতে শুরু করি। তেরোটার মধ্যে পারি কেবল একটা প্রশ্ন! সুতরাং ফেল কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না নিশ্চিত হয়ে পারা একটাও না লিখে বসে ছিলাম। মিনিট দশেক পর আমার সামনের বেঞ্চে বসা বন্ধু রানাকে বললাম, "আমি যাইরে। কিচ্ছু পারি না। শুধু শুধু বসে থেকে লাভ কী!"

আমার বন্ধু রানা আমার দিকে মাথা ঘুরিয়ে বলে কী কস তুই?

আমি বললাম, কিচ্ছু পারি না। তুই পরীক্ষা দে। আমি যাই।

এ কথা বলে দাঁড়াতেই একটা হাত আমাকে শক্ত করে ধরে ফেলল। আর বলল, আরে বয় তো। আমি যা পারি তাই লেখ। দেখি না কী হয়!

হাত ধরেছিল রানাই। ওর পুরো নাম কাজী নজরুল ইসলাম। আমার নাম কাজী শরীফুল ইসলাম।

সেদিন পরীক্ষার হলে পরিদর্শক ছিলেন ফারজানা ম্যাম। আমাদের ইংরেজি পড়াতেন তিনি। রানা একপাশ হয়ে লেখা শুরু করল। আমি ওর ঠিক পেছনে বসে মাথা নিচু করে ও যা লিখছে তাই লিখে যাচ্ছি!

এভাবে ছয়টা প্রশ্নের উত্তর লেখা শেষ। লাস্টের এক বেঞ্চ আগে বসায় ফারজানা ম্যামের দৃষ্টি এড়িয়ে পাস নাম্বার তুলে ফেলেছি ততক্ষণে!

ম্যাম আচমকাই বললেন, "শরীফ তুমি কি সামনের জন থেকে দেখছ?"

আমি বললাম, জি ম্যাডাম। মাত্র দেখা শুরু করব তখনই আপনি দেখে ফেললেন!

ম্যাম আমাকে ডাক দিলেন। তার বসার টেবিলে আলাদা চেয়ার দিয়ে বসিয়ে দিলেন। মজার ব্যাপার হলো রানা যে ছয়টা প্রশ্নের উত্তর দেখিয়েছে সেগুলোর মধ্যে আমি যে প্রশ্নটার উত্তর পারতাম ওটা ছিল না!

ম্যামের পাশে বসে পারা প্রশ্নটার উত্তর লিখে পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে আসার সময় ফেল করব না নিশ্চিত হয়ে যাই!

সেদিন রানা যদি আমার হাতটা না ধরত, আমাকে না বসাত তাহলে আমাকে পরের বছর আবার এ বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হতো। আমার কনফিডেন্স লেভেল তলানিতে গিয়ে ঠেকত!

প্রথম বর্ষের ফল পেয়ে বুঝলাম না পড়ে এত পেলে একটু পড়লে ভালো করা সম্ভব। রানার ঐ হাত ধরাই আমাকে বদলে দেয়।

রানার সেদিনের আচরণ আমি বাকি জীবনে ভুলব না। ওদের মত মানুষকে মনে করেই ভুপেন হাজারিকা সৃষ্টি করেন -

বল কি তোমার ক্ষতি

জীবনের অথৈ নদী

পার হয় তোমাকে ধরে

দুর্বল মানুষ যদি!

আমাদের প্রত্যেকের সম্ভাবনা আছে। শুধু একটা ধাক্কা লাগে। বিপদে হাত ধরে এগিয়ে দেয়ার মানুষ লাগে। আমার জীবনে অনেকের ধাক্কা আছে। হাত ধরে এগিয়ে দিয়েছে অনেকেই। তাদের স্মরণ করি বিনম্র শ্রদ্ধায়। আমার আজকের লেখা রানার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে।


আরও পড়ুন:


তিন সঙ্গীসহ তিনদিন নিখোঁজ ধর্মীয় বক্তা আদনান

পরীমনির ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে কোথাও কারো মধ্যে ঘাপলা আছে

মধ্যগগণে ক্রু-যাত্রীদের ধ্বস্তাধস্তি, বিমানের জরুরি অবতরণ

চতুর্থ বিয়ের মধুচন্দ্রিমায় পাহাড়ে যেতে চান শ্রাবন্তী?


ও এখন ঢাকা জজকোর্টে ওকালতি করে। আমার প্রতি যে ভালোবাসা আজ থেকে তেরো বছর আগে রানা দেখিয়েছে পরম করুণাময় তার চেয়ে কোটিগুণ বেশি ভালোবাসা ওকে ফিরিয়ে দিক।

ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার মানুষ মানেই কিন্তু রাগী না। রগচটাও না। আমি এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি কারণ রানার বাড়ি যে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায়!

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

পরীমনির ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে কোথাও কারো মধ্যে ঘাপলা আছে

আশরাফুল আলম খোকন

পরীমনির ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে কোথাও কারো মধ্যে ঘাপলা আছে

শুধু পরীমনি কেন, যেকোনো নারী যদি অনৈতিকতার শিকার হয় অবশ্যই এর সুষ্ঠু বিচার চাই। কিন্তু ঘটনা প্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে এখানে কোথাও কারো মধ্যে কোনো ঘাপলা আছে। গড্ডলিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে, কারো চরিত্র হনন না করে আসল ঘটনা খুঁজে বের করা দরকার। ঘাপলাটা কোথায় এবং করলো কে।

নাসির উদ্দিন মাহমুদের কিংবা পরিমনির চরিত্রের সার্টিফিকেট দেয়া নেয়া আমার কাজ না। আমরা যদি এই দুইজনের আশেপাশের সহকর্মীদের কাছে ওদের অতীত রেকর্ড সম্পর্কে একটু খোঁজ খবর নেই তাহলে তাদের চারিত্রিক গুণাবলী সম্পর্কে অনেক ধারণা পাওয়া যাবে। কে কোন মহলের বাসিন্দা। কার অতীত ইতিহাস কি বলে। আমজনতা না পারলেও সাংবাদিকদের জন্য খোঁজ খবর নেয়া খুব সহজ কাজ।

একটি গোষ্ঠী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বন্ধু হিসাবে পৃথিবীতে একজনকেই পেলেন, তিনি হলেন পুলিশের আইজিপি বেনজির আহমেদ।আরে ভাই, কারো সাথে ছবি থাকতেই পারে, বন্ধু হতেই পারে, আরও অনেকেরই ছবি থাকবে - এর মানে কি বেনজির সাহেব ওনাকে বলে দিয়েছেন নায়িকার সাথে খারাপ ব্যবহার করার জন্য? নাসির মাহমুদ প্রায় ত্রিশ বছর সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ সাহেবের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এই লোকের সাথে দেশের অনেক বিখ্যাত মানুষেরই দেখলাম ছবি আছে। তাহলে কি সবাই দায়ী।


আরও পড়ুন:


তিন সঙ্গীসহ তিনদিন নিখোঁজ ধর্মীয় বক্তা আদনান

মধ্যগগণে ক্রু-যাত্রীদের ধ্বস্তাধস্তি, বিমানের জরুরি অবতরণ

চতুর্থ বিয়ের মধুচন্দ্রিমায় পাহাড়ে যেতে চান শ্রাবন্তী?

দায়িত্ব গ্রহণ করেই যে প্রতিশ্রুতি দিলেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী


পত্রিকার সংবাদ দেখে দুইটা বিষয় আমার কাছে এখনো খটকা লাগছে। প্রথমত: যেখানে যাচ্ছিলেন, বন্ধুর সেই অসুস্থ মা’কে দেখতে না গিয়ে আরেকজনের কথায় পরিমনি কেন মধ্যরাতে আশুলিয়াতে বোট ক্লাবে গেলেন? যদিও যাওয়া কোন অপরাধ না। আর নাসির মাহমুদ এতবড় অভিযোগের পরও কেন এখনো চুপচাপ আছেন। কেন তিনি কথা বলছেন না? আর এই সুযোগে হুজুগে জাতি বেনজির আহমেদের চরিত্র হনন করেই যাচ্ছে।

তবে, পরিমনি অনেক ভাগ্যবতী, দেশের আইজিপির সাথে সরাসরি ফোনে কথা বলার সুযোগ ওনার রয়েছে।

(লেখক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি। এই লেখাটি ফেইসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের। স্যোশাল মিডিয়া পাতায় প্রকাশিত লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে উদ্ভট কথার বাজার ভালো

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

বাংলাদেশে উদ্ভট কথার বাজার ভালো

আবু ত্বহা আদনান নামের একজন ধর্মীয় বক্তা নিখোঁজ হয়েছেন। কিছুদিন আগে ভদ্রলোকের একটি ওয়াজের ভিডিও, আমাকে এক পাঠক পাঠিয়েছিলেন, এবং আমার মন্তব্য জানতে চেয়েছিলেন। কৌতূহলবশত আমি তার কয়েকটি ভিডিও দেখি, এবং এগুলোর বিরোধীতা করে কয়েক লাইনের প্রতিক্রিয়া লিখি। এ নিয়ে ভদ্রলোকের ভক্তরা আমাকে আক্রমণ করেছিলেন। ভদ্রলোক স্পষ্ট ভাষায় আধুনিক অর্থনীতিকে হারাম বলেছেন, ভ্রান্ত যুক্তির ভিত্তিতে কাগজের টাকার বিরোধীতা করেছেন, কারেন্সি হিশেবে খেজুর ও স্বর্ণমুদ্রার প্রশংসা করেছেন, এবং সেক্যুলার ঘরানার মুসলিমদের কাফের ও মুশরিক ঘোষণা করেছেন। দাজ্জালের একটি কাল্পনিক রূপও তিনি আবিষ্কার করেছেন। ঢাকা শহরের উপর যেকোনো সময় আল্লাহর গজব নেমে আসতে পারে, এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।   

নো ওয়ান্ডার, এ উদ্ভট কথাগুলো আমার কাছে প্রলাপই মনে হয়েছে, কারণ যারা সবকিছুকে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন, তাদের পক্ষে কোনোকিছুকেই নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। মডার্ন কারেন্সি সিস্টেম কীভাবে কাজ করে, তা জানা থাকলে তিনি এগুলো বলতেন না। স্পেনিশরা যখন এজটেক বিজয় করে, তখন তারা দেখতে পায়, এজটেক শিশুরা স্বর্ণপিন্ডকে, সাধারণ পাথর হিশেবে খেলাধুলার সামগ্রীরূপে ব্যবহার করছে।

কাগজ বা স্বর্ণ নয়, কারেন্সি সিস্টেমের ভিত্তি হলো বিশ্বাস। কাগজের মতো স্বর্ণও মূল্যহীন, যদি না মানুষ স্বর্ণকে মূল্যবানরূপে বিশ্বাস করে। যদি মানুষ আগামীকাল থেকে বলে, স্বর্ণের উপর আমাদের আর বিশ্বাস নেই, স্বর্ণকে আমরা আর মূল্যবান মনে করি না, আমরা মূল্যবান মনে করি লোহা বা কপারকে, স্বর্ণের চেয়ে এলুমিনিয়ামের অলংকারই ভালো, তাহলে পরশু থেকেই স্বর্ণ, একটি সাধারণ ধাতুতে পরিণত হবে।

মানুষ একসময় বিশ্বাস করতো শামুকের খোল বা কাওয়ারি শেল মূল্যবান। এই কাওয়ারি শেল দীর্ঘদিন মুদ্রা হিশেবে ব্যবহৃত হয়েছিলো। কিন্তু এটি ভেঙে যেতো, এবং বস্তায় করে সারাক্ষণ বহন করা সহজ ব্যাপার ছিলো না। এজন্য একসময় উদ্ভব ঘটেছিলো ধাতব মুদ্রার। এই ধাতব মুদ্রাদের মধ্যে স্বর্ণমুদ্রা খুব জনপ্রিয় হয়েছিলো, কারণ ধাতু হিশেবে স্বর্ণ ছিলো দুর্লভ, এবং সহজে নষ্ট হতো না।

আর স্বর্ণমুদ্রা মোটেই মুসলিমদের কোনো আবিষ্কার নয়। কাগজের মুদ্রার মতো স্বর্ণমুদ্রাও বিধর্মীদের আবিষ্কার।

ভারতে তো একসময় স্বর্ণের কোনো দামই ছিলো না। পারস্যের সাথে যখন তারা ব্যবসা শুরু করলো, তখন পারসিয়ানরা, সিল্কের বিনিময় মূল্য হিশেবে স্বর্ণ চাইলো। কারণ, স্বর্ণ ভারতে মূল্যবান না হলেও মূল্যবান ছিলো পারস্যে। এর কারণ বিশ্বাস। পারসিয়ানরা শামুকের খোলের মতো স্বর্ণের উপরে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলো। আর ভারতীয়রা ভাবতো— পারসিয়ানরা এতো বোকা কেন? ফালতু স্বর্ণের বিনিময়ে এরা আমাদের মূল্যবান সিল্ক দিচ্ছে!

যাইহোক, বাংলাদেশে উদ্ভট কথার বাজার ভালো। এগুলো অনেকেই বিশ্বাস করেন, কেউ যাচাই বাছাই করে দেখার কোনো প্রয়োজন বোধ করেন না। আমি এসব বলা বা বিশ্বাস করার স্বাধীনতা নিয়ে এখানে প্রশ্ন তুলছি না, কিন্তু কিছু ব্যাপার আছে যা আমার কাছে সবসময়ই আপত্তিকর মনে হয়। যেমন, কাউকে বা কোনো গোষ্ঠীকে যদি আপনি কাফের, মুশরেক, মুরতাদ, ইহুদিদের দালাল, নাসারাদের দালাল, জঙ্গী, এসব ট্যাগ দিয়ে দেন, তখন ওই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জীবন বিপন্ন হয়ে উঠতে পারে।

আমি ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়িয়ে, কারও জীবন বিপন্ন করে তোলাকে সমর্থন করি না। আমি মানুষকে ভয় দেখানোও সমর্থন করি না। সভ্য দেশ হলে এসব নিয়ে নির্বিকার থাকা যেতো, কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় ধর্মীয় ফ্যানাটসিজমকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।

এসব ফ্যানাটিসিজমকে রুখে দেয়ার সভ্য উপায় হলো এগুলোর বিরুদ্ধে লিখা ও কথা বলা, যা খুবই বিপজ্জনক কাজ। আমি লেখালেখি করি অনেক বছর ধরে, কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহ এসব ফ্যানাটিসিজমের বিরুদ্ধে লিখেই নানা উপাধি পেয়ে গেছি। আমি শুধু মানুষকে সাবধান করেছিলাম যে, ধর্মকে যারা নিজ নিজ রাজনীতিক ও অর্থনীতিক স্বার্থে ব্যবহার করে, তাদের কথা সতর্কতার সাথে আমলে নিতে। কিন্তু এ সামান্য কথাতেই মানুষ খেপে উঠেছিলো।

এখন প্রশ্ন হলো, কথার জবাব কথা দিয়ে না দিয়ে, লেখার জবাব লেখা দিয়ে না দিয়ে, কাউকে নিখোঁজ করে ফেলাটা সঠিক কি না?

উত্তর হলো, আমার কোনো শত্রুকেও আমি গুম করা সমর্থন করি না। আদনান সাহেবকে কে বা কারা কী কারণে নিখোঁজ করেছে তা আমরা জানি না। শুধু অনুমান করতে পারি মাত্র। যদি মনে হয় আদনান সাহেব কোনো অপরাধ করেছেন, বা কারও জীবনের প্রতি হুমকি হয়ে উঠেছেন, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্থানীয় আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। এজন্য স্ট্যান্ডার্ড প্রক্রিয়া হলো, তাকে প্রকাশ্যে আইনি প্রক্রিয়া মেনে গ্রেপ্তার করা, এবং আদালতে প্রেরণ করা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন হলে, সেটিরও স্ট্যান্ডার্ড প্রসেজার আছে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে। কিন্তু একজন নাগরিককে, গোপনে নিখোঁজ করা, অত্যন্ত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।

আবার এমনও হতে পারে, তার কোনো বিরোধী পক্ষ তাকে নিখোঁজ করেছে। সবই অনুমান মাত্র। কিন্তু পুলিশকে এসব অনুমান গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে, এবং তাকে উদ্ধার করতে সামর্থ্যের সবটুকু প্রয়োগ করতে হবে।

কারও বক্তব্যের সাথে আমার দ্বিমত থাকতে পারে, কাউকে আমার কাছে উন্মাদ মনে হতে পারে, কিন্তু তার কোনো মৌলিক অধিকারের হরণ আমার পক্ষে সমর্থন করা সম্ভব নয়। কেউ আমার শত্রু হলেও, আমি তার উপর সংগঠিত কোনো অন্যায়কে উপভোগ করি না।

আর ওয়াজ-মাহফিলের যারা ভক্ত, তাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে বলে মনে করি। অপ্রয়োজনীয় ধর্মীয় বয়ান, যা ঘৃণা-বিদ্বেষ ও মারদাঙ্গাকে উৎসাহিত করে, যা স্রেফ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নানা রাজনীতিক ও অর্থনীতিক মতবাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার প্রচার করে, তা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।


আরও পড়ুন:


তিন সঙ্গীসহ তিনদিন নিখোঁজ ধর্মীয় বক্তা আদনান

মধ্যগগণে ক্রু-যাত্রীদের ধ্বস্তাধস্তি, বিমানের জরুরি অবতরণ

চতুর্থ বিয়ের মধুচন্দ্রিমায় পাহাড়ে যেতে চান শ্রাবন্তী?

দায়িত্ব গ্রহণ করেই যে প্রতিশ্রুতি দিলেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী


মনে রাখতে হবে, পৃথিবীটা শুধু মুসলিমদের জন্য নয়। সব ধর্মের, সব মতের মানুষ যেন শান্তিপূর্ণভাবে বাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যেতে হবে। নিজের মত, নিজের বিশ্বাস, কারও উপর চাপিয়ে দেয়া কোনো ভালো কাজ নয়। কারও কোনো কথা আমলে নেয়ার আগে, আবেগের পরিবর্তে যুক্তির মানদন্ডটিকে একটু ব্যবহার করতে হবে।

আবু ত্বহার পরিবার যে দুর্ভোগ ও দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছে, তার দ্রুত অবসান হোক।

(এই লেখাটি ফেইসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের। স্যোশাল মিডিয়া পাতায় প্রকাশিত লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

আমাদের রত্ন আপাতত আমাদেরই থাক!

কাজী শরীফ

আমাদের রত্ন আপাতত আমাদেরই থাক!

ভারতের লোকসভার সদস্য নুসরাত জাহান সম্প্রতি দাবি করেছেন নিখিল জৈনের সাথে তার বিয়েই হয়নি। সুতরাং বিচ্ছেদের প্রশ্ন অবান্তর। লোকসভায় দাঁড়িয়ে তিনি যে নিখিলের পরিচয় দিয়েছিলেন তা কি তবে মিথ্যা? এ নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন তারা ভুলে যাচ্ছেন তিনি কেবল রাজনীতিবিদ নন নায়িকাও। ফলে তার পক্ষে ছলাকলা যেমন বেমানান নয় অভিনয় করাও তেমনি অবাক করার মতও নয়! 

আগের পর্বেই লিখেছিলাম আমাদের ঢালিউডের নায়িকা মাহিয়া মাহি অবশ্য নুসরাতের মত এত নিষ্ঠুর নন। তিনি অপুকে স্বামী বলেছেন তবে দুই বছরের আগেই স্বামীর আগে সাবেক শব্দটি বসে গেছে বলে দাবি করেছেন।

যদিও তার স্বামী দাবি করেছেন তিনি ঘুম থেকে উঠে শুনেছেন মাহি বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হলো দুই বছর মেয়াদি এ দীর্ঘ ঘুম ভাঙলো কী করে!

মাহি যেমন উদার তেমন উদার আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি। অনার্সে এক বিষয়ে ফেল করে ও দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়েও একজন শিক্ষক হয়েছেন বলে গণমাধ্যমের বদৌলতেই জানলাম।

ওদিকে ভাবমূর্তি রক্ষার্থে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভাগ নিয়ে মন্তব্য করতে নিষেধ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি। উপাচার্য মহোদয় যেহেতু সব বিভাগের মুরুব্বি তাই তিনি পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্যেই এ হুকুম জারি করেছেন। সাবেকদের উপর এ হুকুম বলবৎ থাকবে কিনা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন আমার মত সাবেকেরা!

আরও পড়ুন:


নিয়োগ দেবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর

শুভাগত হোমকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দিয়েছে মোহামেডান

তুরস্কে পাওয়া গেল ১ হাজার ৮শ বছর আগের ভাস্কর্য

নিজের দাম বাড়িয়েছেন রাশি খান্না!


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ভাবমূর্তি নিয়ে চিন্তিত সেখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় দশ টাকায় চা, চপ আর সিঙ্গারা পাওয়া যায় মর্মে গিনিজ বুকে নাম অন্তর্ভুক্তির আশায় উদ্দীপ্ত! 

গিনিজ বুকের কথা যেহেতু এলোই বাংলাদেশ হিরো আলমকে নিয়ে একটা চেষ্টা করে দেখতে পারে। সবচেয়ে বেশি ভাষায় গান করার রেকর্ডতো তার ইতোমধ্যে হয়ে যাওয়ার কথা। বাংলা, আরবি, ইংরেজি, হিন্দি, চাইনিজ ভাষায় গান করে ফেলেছেন এ বিখ্যাত গায়ক। নিন্দুকেরা বলেন তিনি আরবি গান গাওয়ার পর নাকি বাংলাদেশে গরম বেড়ে গেছে। এই যে গানের সাথে ঋতু পরিবর্তনের যোগ আছে এ বিষয়েও তিনি এক ও অদ্বিতীয় বলেই আমার ধারণা! 

তবে এ খবর প্রচার করা যাবে না। এ খবর পেয়ে বরফের দেশে হিরো আলমকে নিয়ে গেলে আরবি গানের প্রভাবে বরফ গলে পুরো পৃথিবীর ভারসাম্য বদলে যেতে পারে! আমাদের রত্ন আপাতত আমাদেরই থাক! 

কাজী শরীফ
১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ।

news24bd.tv / তৌহিদ

পরবর্তী খবর

মেয়েদের বহুগামিতা সহ্য করা যায় না, পুরুষদের যায়

অনলাইন ডেস্ক

মেয়েদের বহুগামিতা সহ্য করা যায় না, পুরুষদের যায়

-- বহুগামিতা একেবারেই মানতে পারি না।

-- মেয়েদের? 
--শুধু মেয়েদের হবে কেন, পুরুষদেরও। 
--কোনও পুরুষ  বহুগামী, এমন খবর  শুনলে এমন ছিঃ ছিঃ রব শোনা যায় না তো! 
--আলবৎ শোনা যায়। 
--একটা উদাহরণ দাও তো। 
--এভাবে উদাহরণ দেওয়া যায় না কি? 
--খুব যায়। শিল্প সাহিত্য নাটক সিনেমার জগতে  যে পুরুষ বহুগামী নয়,  এমন কয়েকজনের নাম বলো। অথবা যে কজন বহুগামী, তাদেরই নাম বলো।
--কী বলতে চাইছো? 
--বলতে চাইছি, যে পুরুষেরা বহুগামী, তাদের বিরুদ্ধে তুমি কি সরব? 
--নিশ্চয়ই।
--তুমি তো উত্তম কুমার বলতে অজ্ঞান। উনি  তো গৌরী দেবী এবং সুপ্রিয়া দেবী -- দুজনের  সঙ্গে থাকতেন।  একসময়    গৌরী দেবীকে ছেড়ে   সুপ্রিয়া দেবীকে বিয়ে না করেই স্বামী স্ত্রীর মতোই থাকা শুরু করলেন।   তুমি তো উত্তম কুমারকে গালি দাও না। তুমি তো সমরেশ বসুরও নিন্দে করো না, উনি তো দু'বোনকে বিয়ে করেছিলেন।
--একজনকে ছেড়ে আরেকজনকে নিয়ে থেকেছেন, একে তো বহুগামিতা বলে না।
--তাহলে যে মেয়েটির নিন্দে করছো, সেও তো একজনকে ছেড়ে আরেকজনকে নিয়ে থেকেছে। যা করেছে প্রকাশ্যে, লুকিয়ে নয়, কাউকে ঠকিয়ে নয়।  তাহলে তার নিন্দে করছো কেন।

আরও পড়ুন:


নিয়োগ দেবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর

শুভাগত হোমকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দিয়েছে মোহামেডান

তুরস্কে পাওয়া গেল ১ হাজার ৮শ বছর আগের ভাস্কর্য

নিজের দাম বাড়িয়েছেন রাশি খান্না!


--সমরেশ বসু বা উত্তর কুমার অনেক বড়, এত বড়'র সঙ্গে কোথাকার কে, তার তুলনা চলে না। 
--বড় হলে বুঝি অনৈতিক কাজ করা যায়? আর কোথাকার কে'দের জন্যই নীতি? নাকি শুধু মেয়েদের বেলায় নীতির প্রশ্ন ওঠে?
--বাজে কথা হচ্ছে।  আমি নারী -পুরুষকে আলাদা করে দেখিনা।
-- তাহলে শুধু  মেয়েদের পতিতালয়  কেন, পুরুষদের পতিতলয় কেন নেই-- এই প্রশ্ন কোনওদিন করেছো? বাই দ্যা ওয়ে,   পতিতালয়কে  যে আইনত বৈধ করা হয়েছে , তার বিরুদ্ধে কিছু বলো না কেন?
--কেন বলবো, পতিতালয় তো থাকা উচিত। আছে বলেই তো সমাজে ধর্ষণ কম হয়। 
--হা হা হা। তাই বুঝি?
--হ্যাঁ তাই। 
--তোমাদের বৈধ পতিতালয় তো বিবাহিত, অবিবাহিত সব পুরুষের জন্য। পতিতালয়ের গেটে তো সাইনবোর্ড নেই, 'শুধু অবিবাহিত পুরুষ অ্যালাউড'। বিবাহিত পুরুষেরা যারা সেখানে যাচ্ছে, তারা  তো বহুগামিতা করছে। করছে না? বৈধ ভাবেই করছে। সে ক্ষেত্রে তো পুরুষের বহুগামিতা বৈধ। 
--শুধু খারাপ লোকেরা যায় ওসব জায়গায়। 
--তাহলে বলতে চাইছো খারাপ লোকদের জন্য বহুগামিতা ঠিক,  শুধু ভালো লোকদের জন্য ঠিক নয়? 
--আমি তা বলতে চাইছি না, বহুগামিতা ব্যাপারটাই খারাপ। 
--তাহলে পতিতালয়ে বিবাহিত পুরুষদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার কথা কোথাও মুখ ফুটে বলো না কেন? 
--আমি বললে কে শুনবে। 
--কিন্তু তুমি যে একটি মেয়ের বহুগামিতার বিরুদ্ধে চিৎকার করছো, ও তো অনেকে শুনছে। 
--মেয়েদের এসব সহ্য করা যায় না। 
--এই তো আসল কথা পাড়লে। মেয়েদের বহুগামিতা সহ্য করা যায় না, পুরুষদের বহুগামিতা সহ্য করা যায়। 
--পুরুষ আর নারীর  শরীর তো এক নয়, পার্থক্য আছে। হরমোনের পার্থক্য।  পুরুষদের সেক্সটা বেশি দরকার হয়। 
--এতক্ষণে অরিন্দম!  মনের কথাটি  আগে বলে ফেললেই পারতে। বলো যে পুরুষের বহুগামী হওয়ার অধিকার আছে, যেহেতু তাদের হরমোন বেশি সেক্স চায়, এক নারীতে তা মেটে না। কিন্তু নারীর বহুগামী হওয়ার কোনও অধিকার নেই। নারীকে  একগামী হতে হবে। 
--আমাদের মায়েরা   কি কল্পনা করতে পারতো স্বামী ছাড়া অন্য কারও দিকে কোনওদিন  তাকাবে? 
--তুমি চাইছো দুনিয়ার সব মেয়ে তোমাদের মায়ের মতো হোক। 
--তা তো হয়নি, চারদিকে সব চরিত্রহীন বহুগামী মেয়ে। 
--চারদিকে কি চরিত্রহীন বহুগামী পুরুষ নেই? 
--উফ এসব শুনতে আর ভালো লাগছে না।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর