শবে কদরের নামাজের নিয়ম

অনলাইন ডেস্ক

শবে কদরের নামাজের নিয়ম

আজ দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল কদর। রমজান মাসের বিশেষ মর্যাদার অন্যতম দিক ‘লাইলাতুল কদর’ বা কদরের রাত, যার অপর নাম শবে কদর। আল্লাহ মহিমান্বিত এই রাতে কোরআন নাজিল করেছেন এবং রাতকে হাজার মাসের চেয়ে মর্যাদাবান ঘোষণা করেছেন। এই রাতের কোনো এক সময় পৃথিবীর সকল অচেতন পদার্থ, বৃক্ষ-লতা ইত্যাদি আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে সিজদাহ্‌ করে থাকে।

এই রাতে ফেরেশতাগণ পৃথিবীতে এসে মানুষের ইবাদত পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাদের শান্তি কামনা করেন। তাই এই রাতে জেগে থেকে কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, দোয়া-দুরূদ, জিকির ইত্যাদি ইবাদত বেশি করে করা প্রত্যেক মুসলমানের একান্ত কর্তব্য।

শবে কদরের নামাজের নিয়ত: ‘নাওয়াইতু আন্‌ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকআতাই সালাতিল লাইলাতিল কাদ্‌রি নফ্‌লে মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি- আল্লাহু আকবর।’

অর্থ: আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্য শবে কদরের দুই রাকআত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম- আল্লাহু আকবর।

শবে কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম: শবে কদরের নামাজ দুই রাকআত করে চার রাকআত পড়তে হয়। এরপর যত ইচ্ছা নফল নামাজ পড়া যায়। এই নামাজের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর একবার সূরা কদর ও তিনবার সূরা ইখ্‌লাস পড়তে হয়।

নামাজ শেষে নিচের দোয়াটি কমপক্ষে ১০০ বার পড়া উত্তম

‘সুব্‌হানাল্লাহি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর, লা হা’ওলা কুয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহিল্‌ আলীয়্যিল আযীম।’

‘লাইলতুল কদর’ আরবি শব্দ। শবে কদর হলো ‘লাইলাতুল কদর’-এর ফারসি পরিভাষা। কয়েক শতাব্দী মুঘল শাসন এবং উপমহাদেশে ফারসি রাজকীয় ভাষা থাকার কারণে ধর্ম, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিচার-আচারের বহু ফারসি শব্দ আমাদের সংস্কৃতির সাথে একাকার হয়ে গেছে। ‘সালাতের’ পরিবর্তে নামাজ, ‘সাওমের’ পরিবর্তে রোজার মতো লাইলাতুল কদর এর ফারসি পরিভাষা শবে কদর সাধারণ মানুষের কাছে তাই বেশি পরিচিত।

‘শব’ অর্থ রাত, আর আরবি ‘লাইলাতুন’ শব্দের অর্থও রাত বা রজনী। কদর অর্থ সম্মানিত, মহিমান্বিত। সুতরাং লাইলাতুল কদরের অর্থ সম্মানিত রজনী বা মহিমান্বিত রজনী।

লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও ফজিলত: পবিত্র কোরআন ও সহীহ-হাদীস দ্বারা লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ‘শব-ই-বরাত’ নিয়ে এবং শব-ই-বরাতের হাদিসগুলোর বর্ণনা নিয়ে হাদিস বিশেষজ্ঞ ও ফকিহ্দের মধ্যে যে সংশয় রয়েছে- লাইলাতুল কদরের ব্যাপারে তার কোনো অবকাশ নেই। পবিত্র কোরআন, নির্ভরযোগ্য হাদিস এবং রাসূলুল্লাহ সা:-এর লাইলাতুল কদরের জন্য গৃহীত কর্মতৎপরতা লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ সম্মানিত রজনীর গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি এ (কোরআনকে) কদরের রাতে নাজিল করেছি। তুমি কি জান, কদরের রাত কি? কদরের রাত হাজার মাস হতেও উত্তম-কল্যাণময়’ (সূরা আল কদর : ১-৩)। এ রাতটি কোন মাসে?

এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘রমজান এমন মাস যাতে কুরআন নাযিল হয়েছে-’ (বাকারা : ১৮৫)। এ রাতটি রমজানের কোন তারিখে? রাসূলুল্লাহ সা: একটি রহস্যময় কারণে তারিখটি সুনির্দিষ্ট করেননি। ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিম, ইমাম আহমদ ও ইমাম তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে হজরত আয়েশা (রা:) বর্ণনা করেছেন, নবী করীম (সা:) বলেছেন, ‘কদরের রাতকে রমজানের শেষ দশ রাতের কোনো বেজোড় রাতে খোঁজ কর’।

এ রাতের আরো একটি গুরুত্ব হল এ পবিত্র রাতেই কোরআন নাযিল হয়েছে। আর কোরআনের সাথেই মানুষের ভাগ্য জড়িয়ে আছে। এজন্য কদরের আর একটি অর্থ হল- ভাগ্য। তাহলে লাইলাতুল কদরের অর্থ হয় ভাগ্য রজনী। যে মানুষ, যে সমাজ, যে জাতি, কোরআনকে বাস্তব জীবন বিধান হিসাবে গ্রহণ করবে তারা পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে সম্মানীত হবে। এ রাতে নাযিলকৃত কোরআনকে যারা অবহেলা করবে তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। এ রাতেই মানব কল্যাণে আল্লাহ মানুষের জন্য চূড়ান্তু সিদ্ধান্ত ফেরেস্তাদের জানান। আল্লাহ বলেন- ‘এ রাতে প্রত্যেকটি ব্যাপারে অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত ও সুদৃঢ় ফায়সালা জারি করা হয়।’ (সূরা দুখান : ৪)

এ রাতে আমাদের করণীয়: কোরআন অধ্যয়ন- এ রাতে পবিত্র কোরআন নাযিল হয়েছে। মানব জাতির এ বিরাট নিয়ামতের কারণেই এ রাতের এত মর্যাদা ও ফজিলত। এ কোরআনকে ধারণ করেলেই মানুষ সম্মানীত হবে, দেশ ও জাতি মর্যাদাবান হবে; গোটা জাতির ভাগ্য বদলে যাবে। কাজেই এ রাতে অর্থ বুঝে কোরআন পড়তে হবে। কোরআনের শিক্ষাকে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠার শপথ গ্রহণ করতে হবে। বাছাইকৃত কিছু আয়াত এ রাতে মুখস্তও করা যেতে পারে। যাদের কোরআনের উপর প্রয়োজনীয় জ্ঞান রয়েছে তারা এ রাতে একটি দারসও প্রস্তুত করতে পারেন।

পড়ার নিয়ম- ন্যুনতম ৮ রাকাত থেকে যত সম্ভব পড়া যেতে পারে। এজন্য সাধারণ সুন্নতের নিয়মে ‘দু’রাকাত নফল পড়ছি’ এ নিয়তে নামাজ শুরু করে শেষ করতে হবে। এ জন্য সূরা ফাতিহার সাথে আপনার জানা যেকোনো সূরা মিলালেই চলবে। বাজারে প্রচলিত কিছু বইতে ৩৩ বার সূরা আল্ কদর, ৩৩ বার ইখলাস ইত্যাদি উল্লেখ করে অহেতুক জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

এছাড়া সালাতুল তাওবা, সালাতুল হাজত, সালাতুল তাসবিহ নামাজও আপনি পড়তে পারেন। এগুলোর নিয়ম আপনি মাসয়ালার বইগুলোতে পাবেন। রাতের শেষভাগে কমপক্ষে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা আমরা অবশ্যই করব। কারণ এ নামাজ সর্বশ্রেষ্ঠ নফল নামাজ। আর রাতের এ অংশে দোয়া কবুল হয়। নফল নামাজের সংখ্যার হিসাবের চেয়ে নামাজের গুণগত দিকটির দিকে আমাদের বেশি লক্ষ্য রাখতে হবে।

জিকির ও দোয়া- হাদিসে যে দোয়া ও জিকিরের অধিক ফজিলতের কথা বলা হয়েছে সেগুলো থেকে কয়েকটি নির্বাচিত করে অর্থ বুঝে বার বার পড়া যেতে পারে। ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) ও দরুদ আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়। কমপক্ষে ১০০ বার ইস্তেগফার ও ১০০ বার দরুদ পড়া যেতে পারে। হযরত আয়েশা রা: বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা: কে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ- যদি কোনো প্রকারে আমি জানতে পারি রাতটি লাইলাতুল কদর তাহলে কি দোয়া করব?

জবাবে নবী সা: বলেন, এ দোয়া পড়বে- আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন কারিমুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।” অর্থাৎ ‘আয় আল্লাহ তুমি বড়ই মাফ করণেওয়ালা এবং বড়ই অনুগ্রহশীল। মাফ করে দেয়াই তুমি পছন্দ কর। অতএব তুমি আমাদেরা গুনাহগুলো ক্ষমা করে দাও।’

মুনাজাত- মুনাজাতের মাধ্যমে বান্দার বন্দেগি ও আল্লাহর রবুবিয়াতের প্রকাশ ঘটে। বান্দাহ তার প্রভূর কাছে চায়। প্রভূ এতে ভীষণ খুশি হন। মহন আল্লাহ তার বান্দার প্রতি এতটাই অনুগ্রহশীল যে, তিনি তার কাছে না চাইলে অসস্তুষ্ট হন। ‘যে আল্লাহর নিকট কিছু চায় না আল্লাহ তার উপর রাগ করেন’- (তিরমিযি)। ‘দোয়া ইবাদতের মূল”- (আল হাদিস)।’ যার জন্য দোয়ার দরজা খোলা তার জন্য রহমতের দরজাই খোলা রয়েছে’- (তিরমিযি)। কাজেই আমরা কায়মনোবাক্যে আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করব, ক্ষমা চাইব, রহমত চাইব, জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাইব।

উপরোক্ত আমলের মাধ্যমে আমরা এ পবিত্র রাতটি কাটাতে পারি। লাইলাতুল কদর পাওয়ার তামান্না নিয়ে নিষ্ঠার সাথে অনুসন্ধান করলে আল্লাহ আমাদের বঞ্চিত করবেন না ইনশাআল্লাহ। অবশ্য নফল ইবাদত নিরবে নিভৃতে ঘরে আদায় করাই মাসনুন। এতে আমাদের ইবাদত রিয়া (প্রদর্শন ইচ্ছা) দোষে দুষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। এ পবিত্র রাতে কিছু অনাকাঙ্খিত কাজ হতে দেখা যায়। এগুলো বন্ধ করার জন্য গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

পরবর্তী খবর

সুবহানাল্লাহ’র তাৎপর্য ও ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

সুবহানাল্লাহ’র তাৎপর্য ও ফজিলত

সুবহানাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা পুতঃপবিত্র। যা কুরআনের আয়াত দ্বারা সাব্যস্ত। 

সুরা বাক্বারা ৩২ নং আয়াতে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ফেরেশতাদের বক্তব্যে তা উঠে এসেছে। সুবহানাল্লাহ’র তাৎপর্য ও ফজিলত এখানে তুলে ধরা হলো-

তাৎপর্য

ক. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‌এ বাক্যটির অর্থ হলো- আল্লাহ পবিত্র অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা যাবতীয় মন্দ ও  সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।

খ. একবার হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট প্রশ্ন করেছিলেন, আমরা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’র অর্থ জানি। কিন্তু সুবহানাল্লাহ’র তাৎপর্য কি? তখন হজরত আলী  রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাব দিয়েছিলেন, ‘আল্লাহ তাআলা এ বাক্যটি নিজের জন্য পছন্দ করেছেন। তিনি এ বাক্য দ্বারা সন্তুষ্ট হন। এ বাক্যটির জিকির আল্লাহ তাআলার  মহান দরবারে অত্যন্ত পছন্দনীয়।

গ. হজরত মাইমুন ইবনে মেহরান রহমাতুল্লাহি আলাইহি সুবহানাল্লাহর প্রসঙ্গে বলেছেন, এতে আল্লাহ তাআলার তাযিম রয়েছে এবং তাঁর পবিত্রতার 

বর্ণনা রয়েছে।

ফজিলত
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট  ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তি প্রত্যেক দিন ১০০০ নেকি অর্জন করতে সক্ষম কি? তন্মধ্যে একজন বললেন, আমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি কিভাবে ১০০০ হাজার নেকি অর্জন করবে? তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ১০০ বার سُبْحَانَ اللهِ (সুবহানাল্লাহ) বললে, তার জন্য ১০০০ হাজার নেকি লেখা হবে। অথবা তার ১০০০ পাপ মোচন করা হবে। (মুসলিম, মিশকাত)

পরিশেষে...
আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা বর্ণনা করেছেন ফেরেশতারা। যার বাস্তব শিক্ষা কুরআনে কারিমে তুলে ধরা হয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস দ্বারা ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। সুতরাং অনেক ছোট বাক্য ‘সুবহানাল্লাহ’র জিকির অত্যন্ত জরুরি। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সকাল-সন্ধ্যায় এ জিকির করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল

পরবর্তী খবর

অমুসলিমদের দেওয়া খাবার খাওয়া কী জায়েজ?

অনলাইন ডেস্ক

অমুসলিমদের দেওয়া খাবার খাওয়া কী জায়েজ?

অমুসলিমদের রান্না করা খাবার যেমন- মাছ, তরকারি ইত্যাদি খাওয়া জায়েজ। তবে তাতে হারাম কোনো কিছুর সংমিশ্রণ যেন না থাকে (তাদের কোনো উপাস্যের জন্ম উৎস্বর্গকৃত না হতে হবে)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) অমুসলিমদের দাওয়াত গ্রহণ করেছেন। তাদের রান্নাকৃত খাবার খেয়েছেন। তাদের দেওয়া উপহারও গ্রহণ করেছেন। (বুখারি, হাদিস: ২৬১৫)

আবু হুমাইদ আল-সাঈদি (রা.) বলেন, ‘আমি নবী (সা.)-এর সঙ্গে তাবুক যুদ্ধ করেছি। আয়লা-র বাদশাহ নবী (সা.)-কে সাদা রঙের একটি খচ্চর এবং একটি চাদর উপহার দিয়েছেন। ’ (বুখারি, হাদিস: ২৯৯০)

আল-আব্বাস বিন আবদুল মোত্তালিব হুনাইনের দিন সম্পর্কে বলেন, ‘রাসুল (সা.) সাদা রঙের একটি খচ্চরের উপর ছিলেন; যে খচ্চরটি ফারওয়া বিন নুফাছা আল-জুযামি তাকে উপহার দিয়েছিলেন। ’ (মুসলিম, হাদিস: ১৭৭৫)

আলী ইবনে আবু তালেব (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, নবী (সা.)-কে দুমাত-এর (একটি স্থান) উকাইদির (রাজা) একটি রেশমী কাপড় উপহার দিয়েছেন। তখন তিনি সেটা আলী (রা.)-কে দিয়ে বললেন: ‘এটাকে কেটে খিমার (নারীর অবগুণ্ঠন) বানিয়ে ফাতেমাদের দাও। ’ (বুখারি, হাদিস: ২৪৭২; মুসলিম, হাদিস: ২০৭১)

ইমাম শারফ আন-নববী বলেন, ‘এ হাদিসে কাফেরের হাদিয়া গ্রহণ বৈধ হওয়ার পক্ষে দলিল রয়েছে। ’ (শারহু মুসলিম: ১৪/৫০)

আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, এক ইহুদি নারী (সা.)-এর কাছে একটি বিষযুক্ত ভেড়া নিয়ে আসে। তিনি সে ভেড়া থেকে খেয়েছেন। (বুখারি, হাদিস: ২৪৭৪; মুসলিম, হাদিস: ২১৯০)

সৌদি আরবের স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্রে এসেছে, ‘অমুসলিমেরা সাধারণ উপলক্ষগুলোতে যেমন- নতুন শিশুর জন্ম ও অন্যান্য উপলক্ষে মুসলিমদের যেসব মিষ্টান্ন দেয়, সেগুলো খাওয়া জায়েজ; তবে ধর্মীয় উপলক্ষকেন্দ্রিক কোনো খাবার খাওয়া জায়েজ নয়।

নবী (সা.) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, ‘তিনি মুশরিকদের দেওয়া উপহার গ্রহণ করেছেন। ’ শাইখ আবদুল আজিজ ইবনে বাজ, শাইখ আবদুল আজিজ আলে শাইখ, শাইখ বকর আবু যায়েদ। (ফাতাওয়াল লাজনাদ দায়িমা, আল-মাজমুআ আস-সানিয়া: ১০/৪৭০)

শাইখ বিন উছাইমিন (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, আমার একজন অমুসলিম প্রতিবেশী আছে। কখনও কখনও বিভিন্ন উপলক্ষে সে আমাকে খাবার ও মিষ্টান্ন পাঠায়। এ খাবার আমি খাওয়া ও আমাদের বাচ্চাদের খাওয়ানো কি জায়েজ হবে?

জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ। যদি আপনি নিরাপদ মনে করেন, তাহলে কাফেরের দেওয়া হাদিয়া খাওয়া আপনার জন্য জায়েজ। কেননা নবী (সা.)-কে যে ইহুদি নারী ভেড়া হাদিয়া দিয়েছে এবং তিনি সেটা গ্রহণ করেছেন। যে ইহুদি তাকে তার ঘরে দাওয়াত করেছে, তিনি তার দাওয়াত গ্রহণ করেছেন এবং তার খাবার খেয়েছেন।

আরও পড়ুন:


এবারও হচ্ছে না প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা

আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা: প্রধানমন্ত্রী

ওসমানীনগরে শিক্ষিকাকে গলাকেটে হত্যার পর গৃহকর্মীর আত্মহত্যা

এবার মাহিয়া মাহির দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে গুঞ্জন


তাই কাফেরদের উপহার ও তাদের বাসায় খেতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু শর্ত হচ্ছে- নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। যদি কোনো আশংকা থাকে, তাহলে তাদের দাওয়াত গ্রহণ করা যাবে না। অনুরূপভাবে আরেকটি শর্ত হচ্ছে, খাবার ও উপহারগুলো তাদের ধর্মীয় উপলক্ষ কেন্দ্রিক না হওয়া (যেমন- পূজা ও বড়দিন পালন ইত্যাদি ধরনের কোনো উপলক্ষ)। এই ধরনের অবস্থায় উপলক্ষকেন্দ্রিক তাদের উপহার গ্রহণ জায়েজ নেই। (ফাতাওয়া নুরুন আলাদ দারব: ২৪/২)

অমুসলিমদের তাদের দাওয়াতে অংশগ্রহণ করলে ঈমান-আমলের ক্ষতি হবার আশঙ্কা থাকলে অংশগ্রহণ করা জায়েজ হবে না। (আহকামুজ জিম্মাহ: ১/৭২৩) অনুরুপভাবে তাদের জবাইকৃত পশুর গোশত খাওয়া যাবে না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৭৩)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

কোরআনের কবুল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ৩টি দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

কোরআনের কবুল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ৩টি দোয়া

গুরুত্বপূর্ণ ৩টি দোয়া প্রথমটি রোগমুক্তির দোয়া, দ্বিতীয়টি বিপদমুক্তির জন্য আর তৃতীয়টি সন্তান লাভের জন্য।

আল্লাহর নবী হজরত আইয়ুব (আ.) দোয়া করেছিলেন-

আরবি উচ্চারণ : আন্নী মাচ্ছানিয়াদ্দুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমীন।

অর্থ : (হে আমার প্রতিপালক!) আমাকে দুঃখ-ক্লেশ (ব্যাধি) স্পর্শ করেছে, আর তুমি তো শ্রেষ্ঠ দয়ালু। -সূরা আম্বিয়া : ৮৩

এই দোয়া প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘অতঃপর আমি তার (সেই) আহ্বানে সাড়া দিলাম এবং তার দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিলাম এবং তার পরিবরাবর্গ ফিরিয়ে দিলাম, আর তাদের সঙ্গে তাদের সমপরিমাণ আরও দিলাম আমার পক্ষ থেকে কৃপাবশতঃ আর এটা ইবাদতকারীদের জন্য উপদেশস্বরূপ।’ -সূরা আম্বিয়া : ৮৪

২. হজরত ইউনুস (আ.) দোয়া করেছিলেন-

আরবি উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনাজ জোয়ালিমীন।

অর্থ : তুমি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ আমি গোনাহগার। -সূরা আম্বিয়া : ৮৭

এই দোয়া বর্ণনার পর আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘অতঃপর আমি তার (সেই) আহ্বানে সাড়া দিলাম এবং তাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এমনিভাবে বিশ্বাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।’ -সূরা আম্বিয়া : ৮৮

হজরত জাকারিয়া (আ.) দোয়া করেছিলেন-

আরবি উচ্চারণ : রাব্বী লা তাযারনী ফারদান ওয়া আনতা খাইরুল ওয়ারিসীন।

অর্থ : হে আমার পালনকর্তা! আমাকে একা রেখ না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিস। -সূরা আম্বিয়া : ৮৯

এই দোয়া কবুল হওয়া প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘অতঃপর আমি তার দোয়া কবুল করেছিলাম, তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া এবং তার জন্য তার স্ত্রীকে প্রসবযোগ্য করেছিলাম।’ -সূরা আম্বিয়া : ৯০

ওপরে এ তিনটি দোয়া পরীক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য, সুতরাং রোগমু্ক্তি, বিপদমুক্তি কিংবা সন্তান লাভের জন্য এসব দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া মুমিনের দায়িত্ব।

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল

পরবর্তী খবর

সূরা ফাতিহার ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ফাতিহার ফজিলত

সূরা আল ফাতেহা পবিত্র আল কোরআনের প্রথম সূরা। আয়াত সাতটি। মক্কায় অবতীর্ণ। প্রথম তিনটি আয়াত মহান আল্লাহতায়ালার প্রশংসা এবং শেষ তিন আয়াত মানুষের পক্ষ হতে আল্লাহপাকের কাছে প্রার্থনা ও দরখাস্তের বিষয়বস্তুর সংমিশ্রণ। মধ্যের একটি আয়াত প্রশংসা ও দোয়া মিশ্রিত। এ সূরা দ্বারা চিরতরে আল্লাহপাক ছাড়া অন্য কারও ইবাদত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

‘ফাতিহা’ শব্দের অর্থ শুরু, আরম্ভ, উদ্বোধন, উদঘাটন প্রভৃতি। কুরআনুল কারিমের ১১৪টি সূরার মধ্যে প্রথম সূরাটি হলো সূরাতুল ফাতিহা। আর এ জন্য সূরা ফাতিহাকে ‘ফাতিহাতুল কুরআন’ বা কুরআনের শুরু বলে অভিহিত করা হয়। সূরা ফাতিহাকে সূরাতুল হামদ, উম্মুল কুরআন, আসসাবউল মাছানি, ওয়াকিয়াহ, সূরাতুল কাফিয়্যাহ, সূরাতুল কানয, সূরাতুশ শিফা ও সূরাতুল আসাস নামেও অভিহিত করা হয়।

সূরা ফাতিহার ফজিলতের কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। ‘খাজিনাতুল আসরার’ কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ফজরের সুন্নত নামাজ আদায় করে ফরজ নামাজ আদায়ের আগে কেউ যদি বিসমিল্লাহসহ সূরা ফাতিহা ৪০ বার পাঠ করে তাহলে ওই ব্যক্তি নিঃসন্তান থাকলে সন্তান হবে, বেকার থাকলে চাকরি হবে, ঋণ থাকলে ঋণ পরিশোধের উপায় হয়ে যাবে, সম্পদহীন থাকলে সম্পদ লাভ হবে, অসুস্থ থাকলে সুস্থ হয়ে যাবে ও বিপদাপন্ন হলে উদ্ধার পেয়ে যাবে’। 

হজরত আলী রা: বলেছেন, কোনো বিপদে পতিত ব্যক্তি এক হাজার বার সূরা ফাতিহা পাঠ করলে ওই ব্যক্তির আর বিপদ থাকতে পারে না। হজরত ইমাম জাফর সাদেক রা: বলেছেন, ‘৪১ বার সূরা ফাতিহা পাঠ করে পানিতে ফুঁক দিয়ে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে খাওয়ালে অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাবে’। (তাওয়ারিখে মদিনা)। 

হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন, একবার এক সফরে আমাদের এক সাথি জনৈক গোত্রপতিকে শুধু সূরা আল ফাতেহা পড়ে ফুঁ দিয়ে সাপের বিষ ঝাড়েন এবং তিনি সুস্থ হয়ে যান (বুখারী শরীফ :৫৪০৫)। এ দেখে রাসূল (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এটা যে রকিয়্যাহ (অর্থাৎ পড়ে ফুঁ দেয়ার সূরা) তা তুমি কেমন করে জানলে? (তাফসীরে ইবনে কাসীর)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) ফরমিয়েছেন, তোমরা সূরা ফাতেহা পড়। কোনো বান্দা যখন বলে আলহামদুলিল্লাহি রাবি্বল আলামিন, তখন আল্লাহপাক বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছেন। যখন আমার বান্দা বলে, আররাহমানির রাহিম, তখন আল্লাহপাক বলেন, আমার বান্দা আমার গুণ বর্ণনা করেছে। 

আরও পড়ুন:


বেতন বাড়ছে ক্রিকেটারদের, কত পান সাকিব-তামিম-মুশফিকরা

রিজার্ভের সব রেকর্ড ভেঙে ৪৫.৪৬ বিলিয়ন ডলার

বাব-মা-বোনকে হত্যার পর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে যা বলেছিলো মেহজাবিন


বান্দা যখন বলে, মালিকি ইয়াওমিদ্দীন, তখন আল্লাহপাক বলেন, আমার বান্দা আমার মর্যাদা বর্ণনা করেছে। বান্দা যখন বলে, ইয়্যাকানাবুদু ওয় ইয়্যা কানাস্তাইন, তখন আল্লাহপাক বলেন, এ হচ্ছে আমার ও আমার বান্দার মাঝে কথা। আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে যা সে চায়। বান্দা যখন বলে, ইহদিনাস সিরাতল মুস্তাকিম...শেষ পর্যন্ত। আল্লাহপাক বলেন, এসব হচ্ছে আমার বান্দার জন্য, তাই রয়েছে, যা সে চায় (মুসলিম শরীফ :৩৯৫)। 

এ ছাড়া কুরআনের একটি হরফ বুঝে পাঠ করলে ১০টি নেকি লাভ হয়। সূরা ফাতিহায় ১২৫টি হরফ রয়েছে। ১২৫টি হরফ যিনি পাঠ করবেন তার আমল নামায় ১২৫০টি নেকি দান করা হয়।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ওজুর তারতিব ও সুন্নাতসমূহ

অনলাইন ডেস্ক

ওজুর তারতিব ও সুন্নাতসমূহ

পবিত্রতা অর্জন ও সালাত আদায়ের মূল শর্ত হল ওজু। আল্লাহ তাআলা ওজুকে ফরজ করেছেন। পাক-পবিত্রতা অর্জনে ওজুর রয়েছে অত্যাধিক গুরুত্ব। এছাড়া ওজু ছাড়া ইবাদত-বন্দেগি করা যায় না। সুন্দরভাবে ওজু করাও একটি ইবাদত। কী ভাবে সুন্নাতি কায়দায় ওজু করা যায় সে ব্যাপারে অনেক হাদিস ও ওলামায়ে কেরামগণ দিয়েছেন সুন্দর সুন্দর পন্থা। ওজুর ফরজগুলো ইতোপূর্বে তুলে ধরা হয়েছে। ওজুর সুন্নাতি তারতিব ও সুন্নাতসমূহ তুলে ধরা হলো-

ওজুর তারতিবসমূহ-

ক. ওজুতে নিয়্যাতে একটু উঁচু জায়গায় বসা যাতে ওজুর পানির ছিটা নিজের শরীরে না আসে।
খ. বিসমিল্লাহ তথা (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) বলে ওজু শুরু করা।
গ. উভয় হাতে কবজি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা।
ঘ. মিসওয়াক করা। যদি মিসওয়াক না থাকে তবে মোটা কাপড় বা হাতের আঙ্গুল বা অন্য কিছুর দ্বারা উত্তমরূপে দাঁত পরিষ্কার করা।
ঙ. তিনবার কুলি করা। রোযা না থাকলে গড়গড়া করে কুলি করা।
চ. তিনবার নাকে পানি দেয়া। বাম হাতে কণিষ্ঠা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা নাক পরিষ্কার করা। (রোজাদার না হলে নাকের নরম অংশে পানি পৌঁছানো)
ছ. সমস্ত মুখ অর্থাৎ চুলের গোড়া হতে থুতনির নিচ পর্যন্ত এবং এক কানের লতি হতে অন্য কানের লতি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা।
জ. দাড়ি ঘন হলে খিলাল করা।
ঝ. উভয় হাতের কনুইসহ তিন বার ধৌত করা। প্রথমে ডান তারপর বাম হাত। এসম উভয় হাতের আঙ্গুল খিলাল করা।
ঞ. সম্পূর্ণ মাথা একবার মাসেহ করা।
ট. কান মাসেহ করা। অর্থাৎ শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে কানের ভিতর এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কানের বাহির অংশ মাসেহ করা
ঠ. ঘাড় বা গর্দান হাতের আঙ্গুলের পিঠ দিয়ে মাসেহ করা। কান ও গর্দান মাসেহের ক্ষেত্রে নতুন করে পানি নেয়ার দরকার নেই। মাথা মাসেহ করার পানি দিয়ে করলেই চলবে।
ড. উভয় পায়ের টাখনুসহ তিনবার ধৌত করা। প্রথমে ডান পা এবং পরে বাম পা ধৌত করা। পায়েল আঙ্গুলি খিলাল করার ক্ষেত্রে ডান পায়ের কণিষ্ঠা আঙ্গুল হতে শুরু করে বাম পায়ের কনিষ্ঠাঙ্গুলিতে এসে শেষ করা এবং বাম হাতের কণিষ্ঠাঙ্গুলি দিয়ে খিলাল করা।

আরও পড়ুন


সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২৮-৩৫, নবীদের অবমাননার শাস্তি

দেশজুড়ে ভারি বর্ষণের আভাস, পাহাড় ধসের শঙ্কা

ত্ব-হা ও দুই সফরসঙ্গীর জবানবন্দির পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর

নওমুসলিম ইমামকে ডেকে নিয়ে মসজিদের সামনে গুলি করে হত্যা


অজুর সুন্নতসমূহ

১. বিসমিল্লাহ বলা, ২. কবজিসহ উভয় তিন বার ধৌত করা, ৩. মিসওয়াক করা, ৪. তিনবার কুলি করা, ৫. নাকে তিন বার পানি দেয়া, ৬. সমস্ত মাথা একবার মাসেহ করা, ৭. প্রত্যেক অঙ্গকে তিনবার করে ধৌত করা, ৮. কান মাসেহ করা, ৯. উভয় হাত এবং পায়ের আঙ্গুলগুলো খিলাল করা, ১০. নিয়্যাত করা, ১১. ধারবাহিকভাবে ওজু করা, ১২. এক অঙ্গ শুকানোর পূর্বেই পরবর্তী অঙ্গ ধৌত করা, ১৩. ডান থেকে শুরু করা। এগুলো ওজুর করার সুন্নাত।

ইবাদত-বন্দেগি কবুলের জন্য আল্লাহ শিখানো পদ্ধতিতে আদায়ের ক্ষেত্রে ওজু ফরজ থেকে শুরু করে মোস্তাহাব পর্যায়ে এসে শেষ হয়েছে। সুতরাং আমরা উত্তমরূপে ওজুর করে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগিতে মনোনিবেশ করবো। আল্লাহে তা’আলা সবােইকে ওজুর ফরজ ও সুন্নাত সমূহ শিখে ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর