চাঁদ দেখা নিয়ে সৌদির নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক

চাঁদ দেখা নিয়ে সৌদির নির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যর দেশ সৌদি আরবে আগামীকাল মঙ্গলবার ২৯ রমজান।  চন্দ্র মাস হিসেবে রমজান মাসও ২৯ দিন হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। তাই সৌদিতে বসবাসরত সব মুসলিমকে ২৯ রমজানের সন্ধ্যাবেলা নতুন চাঁদ দেখার নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। 

কোর্টের এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার (১১ মে) সন্ধায় শাওয়ালের চাঁদ দেখতে বলা হয়েছে। কেউ নতুন চাঁদ দেখলে তা সুপ্রিম কোর্টে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। 

বিবৃতিতে, কেউ খালি চোখে বা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে নতুন চাঁদ দেখলে নিকটস্থ আদালতে জানাতে ও তার সাক্ষ্য নিবন্ধন করতে বলা হয়। অথবা নিকটস্থ আদালতে পৌঁছাতে সহায়তার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে জানাতে বলা হয়। 

news24bd.tv/আলী 

পরবর্তী খবর

ফরজ নামাজের পর যে আমল জান্নাতের পথ সুগম করবে

অনলাইন ডেস্ক

ফরজ নামাজের পর যে আমল জান্নাতের পথ সুগম করবে

আল্লাহ তার বান্দাদের জান্নাতে প্রবেশের অনেক উপায় দেখিয়ে দিয়েছেন। বান্দাদের শুধু সে অনুযায়ী আমল করা। পবিত্র কুরআনুল কারিমে এমন মর্যাদাপূর্ণ অনেক আয়াত আছে। এক একটি আয়াতুল কুরসি। এ আয়াতের অনেক ফজিলত হাদিসের একাধিক বর্ণনায় এসেছে। তবে ফরজ নামাজের পর রয়েছে এ আয়াতের নিয়মিত আমল। যা মানুষকে জান্নাতে পৌঁছাতে মৃত্যুই শুধু বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।

প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর কুরআনুল কারিমের মর্যাদাপূর্ণ আয়াত ‘আয়াতুল কুরসি’ পাঠ করা সুন্নাত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত এ আমল করতেন।

আয়াতুল কুরসিতে তাওহিদের শ্রেষ্ঠ ঘোষণাগুলো তেলাওয়াত করা হয়। আর এতেই এর তেলাওয়াতকারীর মর্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। সে কারণেই যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ‘আয়াতুল কুরসি’ পড়ে, ওই ব্যক্তি ও জান্নাতের মাঝে এতোটুকু দূরত্ব থাকে যে, সে যেন শুধুমাত্র মৃত্যুবরণ করেনি বলেই (কবরে) জান্নাতের নেয়ামতগুলো উপভোগ করতে পারছে না। হাদিসে পাকে এসেছে-
হজরত আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে কেউ প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত করে; তার মৃত্যুই তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য বাধা হয়ে থাকে।’ (নাসাঈ, ইবনু হিব্বান, বুলুগুল মারাম)

যদিও ইমাম তাবারানি তার বর্ণননায় (এ সুরাটি) বাড়িয়েছেন। তাহলো- ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ।’ (বুলুগুল মারাম)

উচ্চারণ ও অর্থসহ আয়াতুল কুরসি
اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

উচ্চারণ- আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তাঅ খুযুহু সিনাতুঁও ওয়া লা নাওম। লাহু মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্বি। মাং জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইংদাহু ইল্লা বি-ইজনিহি। ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহিতুনা বিশাইয়্যিম্ মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ ওয়াসিআ কুরসিইয়্যুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি, ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিয়্যুল আজিম।’ (উচ্চারণটি কোনো কুরআন বিশেষজ্ঞের কাছে বিশুদ্ধভাবে পড়ে নেয়া জরুরি)

অর্থ: (তিনিই) আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং ঘুমও নয়। সবই তাঁর, আসমান ও জমিনের মধ্যে যা কিছু রয়েছে। কে আছ এমন- যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? (চোখের সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানের সীমা থেকে কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টিত করতে পারবে না, কিন্তু ‘হ্যাঁ’, তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। সমগ্র আসমান এবং জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে তাঁর সিংহাসন। আর সেগুলোকে ধারণ (নিয়ন্ত্রণ) করা তাঁর জন্য কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।’

আরও পড়ুন


সূরা ইয়াসিন: আয়াত ৩৬-৪৪, সৃষ্টিজগতের অন্যতম মৌলিক বিধান

পটিয়া আওয়ামী লীগ নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ, ভেঙে দেওয়া কমিটি পুনর্বহালের দাবি

ভারতকে উড়িয়ে টেস্টের রাজা নিউজিল্যান্ড

আ.লীগের ওপর যতবার আঘাত এসেছে, ততবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে: প্রধানমন্ত্রী


সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর সুন্নাতের অনুসরণে নিয়মিত আয়াতুল কুরসির আমল করা। হাদিসে ঘোষিত ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জনের চেষ্টা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আয়াতুল কুরসির নিয়মত আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ৩৬-৪৪, সৃষ্টিজগতের অন্যতম মৌলিক বিধান

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ৩৬-৪৪, সৃষ্টিজগতের অন্যতম মৌলিক বিধান

সূরা ইয়াসিন পবিত্র কুরআনের মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এই সূরার প্রথমে বর্ণিত দুই মুকাত্তায়াত হরফের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরায় রয়েছে ৮৩টি আয়াত। আজ এই সূরার ৩৬ থেকে ৪৪ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে।

এই সূরার ৩৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

سُبْحَانَ الَّذِي خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنْبِتُ الْأَرْضُ وَمِنْ أَنْفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ (36)

“পবিত্র তিনি যিনি যমীন থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদকে, তাদেরই মানুষকে এবং যা তারা জানে না, তার প্রত্যেককে জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন।” (৩৬:৩৬)

গত আসরে এই প্রকৃতিতে আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদের কিছু নিদর্শন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আজকের এই আয়াতে সৃষ্টিজগতের অন্যতম মৌলিক বিধান অর্থাৎ সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টির প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হচ্ছে: প্রাণী, উদ্ভিদ ও মানুষকে যে আল্লাহ তায়ালা জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন তা তোমরা জানো। এর পাশাপাশি আল্লাহ এমন অনেক কিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন যা তোমাদের জানা নেই। সৃষ্টিতে যে আল্লাহর এত বিশাল ক্ষমতা এবং যিনি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করে সব সৃষ্টির প্রয়োজন পূরণ করেছেন তিনি সব ধরনের অপূর্ণতা ও ত্রুটির ঊর্ধ্বে। সৃষ্টি করার জন্য তার কোনো শরিক বা সহযোগীর প্রয়োজন হয় না।

এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. যিনি জোড়ায় জোড়ায় সবকিছু সৃষ্টি করেছেন তার কোনো জোড়া বা শরিকের প্রয়োজন নেই। তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই।

২. শারিরীক চাহিদা ও প্রবৃত্তির দিক দিয়ে মানুষ অন্য সব সৃষ্টির সমান এবং এদিক দিয়ে তার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।

৩. মানুষের জ্ঞান সীমিত এবং এখনো সৃষ্টিজগতের বহু রহস্য তার জানতে বাকি রয়েছে।

সূরা ইয়াসিনের ৩৭ থেকে ৪০ নম্বর পর্যন্ত আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

وَآَيَةٌ لَهُمُ اللَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَإِذَا هُمْ مُظْلِمُونَ (37) وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ (38) وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ (39) لَا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ (40)

“তাদের জন্য আরেক নিদর্শন রাত্রি, আমি তা থেকে দিনকে অপসারণ করি, তখনই তারা (নিজেদের অজান্তে) অন্ধকারে তলিয়ে যায়।” (৩৬:৩৭)  

“এবং সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর বিধান (ও পরিমাপ) অনুযায়ী সম্পন্ন হয়।” (৩৬:৩৮)

“এবং চন্দ্রের জন্যে আমি বিভিন্ন মনযিল নির্ধারণ করেছি। অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরূপ অর্ধচন্দ্রাকৃতি হয়ে যায় (এবং ক্রমেই পূর্ণ চন্দ্রে পরিণত হয়)।” (৩৬:৩৯)

“না সূর্য নাগাল পেতে পারে চন্দ্রের, না রাত্রি অগ্রে চলে দিনের এবং প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে।” (৩৬:৪০)

এই চার আয়াতে আকাশে সূর্য ও চন্দ্রের আবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলোকে মহান আল্লাহ নির্ধারিত কক্ষপথে এবং নির্দিষ্ট গতিতে স্থাপন করে দিয়েছেন। মানুষ রাত ও দিনে নিজেদের চোখে চন্দ্র ও সূর্যকে দেখতে পায়। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী সার্বক্ষণিকভাবে যার যার কক্ষপথে আবর্তন করে এবং কখনোই পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় না এবং কখনো এই আবর্তনে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয় না।  আমাদের এই পৃথিবীর পৃষ্ঠ অন্ধকারে পরিপূর্ণ এবং এর নিজস্ব কোনো আলো নেই।  পৃথিবীর যে অর্ধাংশে সূর্যের আলো পতিত হয় সেই অংশ কেবলমাত্র আলোকিত হয়। কিন্তু নিজ অক্ষের ওপর পৃথিবীর ঘুর্ণয়নের ফলে ওই অংশ ধীরে ধীরে সূর্য থেকে দূরে চলে যায় এবং সেখানে রাতের অন্ধকার নেমে আসে। আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই অন্ধকারও যেন ঘুটঘুটে না হয় সে ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন মহাজ্ঞানী আল্লাহ তায়ালা। তিনি চন্দ্র নামক একটি আয়নাকে পৃথিবীর অপর প্রান্তে স্থাপন করেছেন যার ওপর সূর্যের আলো নিক্ষিপ্ত হয়ে তার প্রতিবিম্ব পৃথিবীতে এসে পড়ে। চাঁদের এই মিটিমিটি আলো রাতের অন্ধকারে মানুষকে প্রশান্তি দেয় যাতে সে নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিতে পারে।

এই চার আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর ঘুর্ণয়ণ এবং রাত ও দিনের সৃষ্টি মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান ও ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।

২. নিজ নিজ কক্ষপথে চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবীর আবর্তন সুনির্দিষ্ট ও সূক্ষ্ম হিসাবনিকাশের ফসল যা কেবল মহান স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালার পক্ষেই সম্ভব। দৈবক্রমে এমন সুবিন্যস্ত প্রকৃতি সৃষ্টি হয়নি।

৩. ক্ষুদ্রাকৃতির চাঁদের ক্রমেই পরিপূর্ণ চাঁদ হয়ে ওঠা আল্লাহ তায়ালার একটি মহান নিদর্শন। কুরআনে কারিমের অন্যত্র বলা হয়েছে, দিন, মাস ও বছর গণনার জন্য মহান আল্লাহ এ ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন


পটিয়া আওয়ামী লীগ নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ, ভেঙে দেওয়া কমিটি পুনর্বহালের দাবি

ভারতকে উড়িয়ে টেস্টের রাজা নিউজিল্যান্ড

আ.লীগের ওপর যতবার আঘাত এসেছে, ততবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

মহাসড়কে যেভাবে ছিনতাই করতো বুস্টার গ্যাং


এই সূরার ৪১ থেকে ৪৪ নম্বর পর্যন্ত আয়াতে বলা হয়েছে:

وَآَيَةٌ لَهُمْ أَنَّا حَمَلْنَا ذُرِّيَّتَهُمْ فِي الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ (41) وَخَلَقْنَا لَهُمْ مِنْ مِثْلِهِ مَا يَرْكَبُونَ (42) وَإِنْ نَشَأْ نُغْرِقْهُمْ فَلَا صَرِيخَ لَهُمْ وَلَا هُمْ يُنْقَذُونَ (43) إِلَّا رَحْمَةً مِنَّا وَمَتَاعًا إِلَى حِينٍ (44)

“এবং তাদের জন্যে আরেকটি নিদর্শন এই যে, আমি তাদের সন্তান-সন্ততিকে পণ্যবোঝাই জাহাজে আরোহণ করিয়েছি।” (৩৬:৪১)     

“এবং তাদের জন্যে জাহাজের অনুরূপ যানবাহন সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা আরোহণ করে।” (৩৬:৪২)

“আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে নিমজ্জিত করতে পারি, তখন তাদের জন্যে কোন সাহায্যকারী নেই এবং তারা পরিত্রাণও পাবে না।” (৩৬:৪৩)  

“কিন্তু আমারই পক্ষ থেকে (আরেকবার তাদের জন্য) কৃপা (প্রদর্শন) এবং তাদেরকে (আরো) কিছু কাল জীবনে উপভোগ করার সুযোগ দেয়ার জন্য তা করি না।” (৩৬:৪৪)

এই চার আয়াতে সাগর ও মহাসাগরের কিছু ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হচ্ছে: যেসব জাহাজ সাগরে চলাচল করে এবং মানুষ ও মালামাল পরিবহন করে তাতেও আল্লাহর ক্ষমতার নিদর্শন রয়েছে। কারণ তিনি এমনভাবে জলরাশি সৃষ্টি করেছেন যাতে জাহাজের আরোহীরা পানিতে ডুবে না গিয়ে দূর-দূরান্তের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। অবশ্য বর্তমানে ট্রেন ও বিমানসহ নানা ধরনের আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আজও সবচেয়ে বেশি পণ্য পরিবহন করা হয় জাহাজের মাধ্যমে।  বর্তমানে খাদ্য ও জরুরি পণ্যের পাশাপাশি তেল ও তরল গ্যাসের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ যদি জাহাজে করে একস্থান থেকে অন্যস্থানে নেয়া না যেত তাহলে মানুষের জীবনযাপন অত্যন্ত কঠিন হয়ে যেত। যদি আল্লাহ তায়ালা জাহাজ ভাসিয়ে রাখার ব্যাপারে পানির এ বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য তুলে নেন তাহলে সব জাহাজ তলিয়ে যাবে এবং তখন এসব জাহাজের যাত্রীদেরকে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ বাঁচাতে পারবে না।

এই চার আয়াতের শিক্ষণীয় দু’টি দিক হচ্ছে:

১. ভূপৃষ্ঠ ও সাগরে চলাচলকারী নানা ধরনের বাহন মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হয়। এসব বাহন চলাচলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আল্লাহতায়ালা সৃষ্টির শুরুতেই তৈরি করে রেখেছেন।

২. আল্লাহ আমাদেরকে যত নেয়ামত দান করেছেন তার সবগুলোকে মহান প্রভুর দান মনে করতে হবে। এর কোনোটিই আমরা তাঁর কাছ থেকে চেয়ে পাইনি, বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আল্লাহ দান করেছেন। কাজেই আমাদের যা কিছু আছে তা নিয়ে যেন অহঙ্কার না করি কারণ তাতে আল্লাহর মহাক্রোধের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

নবীজির চিঠির জবাবে যা বলেছিলেন রোমসম্রাট

অনলাইন ডেস্ক

নবীজির চিঠির জবাবে যা বলেছিলেন রোমসম্রাট

ইসলামের বার্তাবাহক হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ইসলামের দাওয়াত পৌছে দিতে তিনি চষে বেড়িয়েছেন পবিত্র নগরী মক্কা-মদিনাসহ আরবের অনেক শহর। ইসলামের দাওয়াত নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে বিশেষ দূত মারফত চিঠি পাঠিয়েছেন। রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছেও তিনি চিঠি পাঠিয়েছেন। আজও সেসব চিঠিসহ ও অনেক নির্দশন পৃথিবীর বুকে বিদ্যমান।

প্রিয় নবী (সা.) তাঁর নবুয়তকালের সমসাময়িক রাজন্যবর্গের মধ্যে সর্বাধিক প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছেও অকপটে দ্বিনের দাওয়াত পৌঁছে দেন। অত্যন্ত দৃঢ় ও স্পষ্ট ভাষায় লিখিত একটি পত্র প্রিয় নবী (সা.) রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে পৌঁছান। এ পবিত্র পত্র অত্যন্ত সুদর্শন সাহাবি হজরত দেহইয়া বিন খলিফা কালবি (রা.) সম্রাটের হাতে অর্পণ করেন। 

পত্রের বিষয়বস্তু ছিল নিম্নরূপ : ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

আল্লাহর বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর পক্ষ থেকে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস বরাবর।

ন্যায়ের পথের অনুসারীদের প্রতি সালাম। অতঃপর আমি আপনাকে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। যদি শান্তি লাভ করতে চান, তবে ইসলামে দীক্ষিত হোন। যদি আপনি ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ প্রতিফল দেবেন। আর যদি প্রত্যাখ্যান করেন, তবে আপনার সব প্রজাসাধারণের ভ্রষ্টতার দায় আপনার ওপর বর্তাবে।

হে আহলে কিতাব, বিতর্কিত সব বিষয় স্থগিত রেখে আসো, আমরা এমন এক বিষয়ে (অর্থাৎ তাওহিদের বিষয়ে) ঐকমত্যে পৌঁছি, যাতে তোমাদের ও আমাদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই। আর তা হচ্ছে, আমরা এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করব না... যদি এ বিষয়গুলো আপনি অস্বীকার করেন, তবে শুনে রাখুন, সব অবস্থায় আমরা আল্লাহর একত্বের বিশ্বাসে অবিচল থাকব। —মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (বুখারি)’

প্রিয় নবী (সা.)-এর পবিত্র পত্র পাঠে রোম সম্রাটের মনোজগতে ঝড় বইতে শুরু করে।

রোম সম্রাট প্রিয় নবী (সা.)-এর নবুয়তের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে বলেছিলেন, ‘হায়! আমি যদি তাঁর কাছে পৌঁছতে পারতাম! তবে আমি তাঁর (সা.) পা ধুয়ে দিতাম।’ (বুখারি) শুধু তা-ই নয়, তিনি রাজপ্রাসাদে রোমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সামনে ঘোষণা করলেন : ‘হে রোমবাসী! তোমরা কি কল্যাণ, হেদায়েত ও তোমাদের রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব চাও? তাহলে এই নবীর আনুগত্য (বায়াত) গ্রহণ করো...।’ (বুখারি)

প্রিয় নবী (সা.)-এর পত্রের প্রতিক্রিয়ায় হিরাক্লিয়াস আরো বলেছিলেন, ‘শিগগিরই তিনি (সা.) আমার এ দুই পায়ের নিচের জায়গার (রোম সাম্রাজ্য) মালিক হবেন। আমি নিশ্চিত জানতাম, তাঁর (সা.) আবির্ভাব হবেই...।’ (বুখারি)

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, হিরাক্লিয়াস ক্ষমতা হারানো ও গণরোষের ভয়ে ইসলাম গ্রহণ করেননি।

হিরাক্লিয়াসের কাছে পাঠানো পত্রটি ছিল হজরত আবু বকর (রা.)-এর পবিত্র হাতে লিখিত। স্বয়ং প্রিয় নবী (সা.) তাতে সিলমোহর লাগিয়েছিলেন। হিজরি ষষ্ঠ শতাব্দীর বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবিদ আল্লামা সুহাইলি (রহ.) এই পবিত্র পত্র দেখেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

হিজরি সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত পবিত্র পত্রটি স্পেনে সংরক্ষিত ছিল। বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাকারী আল্লামা কুস্তালানি (রহ.) লিখেছেন, মালিক মনসুর কালাদুন সালেহি স্পেনের একজন শাসক আল-ফানসুর কাছে একজন দূত প্রেরণ করেছিলেন। আল-ফানসু মালিক মানসুরের দূত সাইফুদ্দিন ক্বালাজিকে পবিত্র পত্রটি দেখিয়েছিলেন। পত্রটি একটি স্বর্ণের বাক্সে সুসংরক্ষিত ছিল। আল-ফানসু বলেন, এটিই রাসুল (সা.)-এর ওই পত্র, যা তিনি আমাদের পূর্বপুরুষ রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে প্রেরণ করেছিলেন। (কুস্তালানি) ইতিহাসের ক্রমধারায় প্রিয় নবী (সা.)-এর পবিত্র পত্রটি আজও আবুধাবির জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

পবিত্র পত্রটি মসৃণ পাতলা চামড়ার ওপর লিখিত। পত্রটি আটটি ছত্রে সমাপ্ত। আবুধাবির শেখ যায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের সংস্কৃতি ও পুরাতত্ত্ব বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ইব্রাহিম বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হন এ পত্রটিই রোম সম্রাটের কাছে প্রেরিত প্রিয়নবীর (স) পবিত্র স্পর্শ ও স্মৃতিধন্য আসল পত্র

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামের সঠিক জীবন ব্যবস্থায় আশ্রয় গ্রহণে এভাবে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শেখানো পদ্ধতি ও চিঠির ভাষায় ইসলামের দাওয়াতের প্রচার প্রচারণায় অংশগ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

গোনাহ করলে যেসব ক্ষতি হয়

অনলাইন ডেস্ক

গোনাহ করলে যেসব ক্ষতি হয়

হাদিসে গোনাহের মারাত্মক ক্ষতির কথা ওঠে এসেছে। হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘নিশ্চয়ই গোনাহের কাজ করলে-

১. চেহারা কুৎসিত হয়।

২. অন্তর অন্ধকার হয়।

৩. রিজিকের মধ্যে সংকীর্ণতা দেখা দেয়।

৪. মানুষের অন্তরে তার প্রতি ঘৃণা ভাব জম্মায়।

৫. ফলে তাকে কেউ ভালো দৃষ্টিতে দেখে না।

মুসনাদে আহমাদে বর্নিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মর্মে সতর্ক করেন যে, বান্দাহ গোনাহ করার দ্বারা রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:


পরমাণু ইস্যুতে বাইডেনের সঙ্গে কোনও বৈঠক নয়: রাইসি

তদন্তের প্রয়োজনেই হুইপ সামশুলসহ ৬ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা: দুদক

নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও কলঙ্কিত করল আওয়ামী লীগ: চরমোনাই পীর

বিশেষ বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত


অন্য বর্ণনায় আরও এসেছে, ‘গোনাহের কারণে হায়াত (আয়ু) কমে যায় এবং জীবনের বারাকাত শেষ হয়ে যায়। গোনাহ এবং পাপাচার শুধু মানুষের দেহকে দুর্বল করে না বরং সাথে সাথে অন্তরকেও দুর্বল করে দেয়। আর অন্তর যেহেতু শরীরের অধীনে এই জন্য শরীরের প্রভাব অন্তরের ওপরও পড়ে ফলে গোনাহগার ব্যক্তি দুনিয়া এবং পরকালে চরমভাবে বিপদগ্রস্থ হয়।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ফেসবুকে ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক

ফেসবুকে ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের মনোভাব প্রকাশে অনেকে বিভিন্ন ‘রিঅ্যাক্ট’ চিহ্ন ব্যবহার করেন। এর মধ্যে ‘লাইক, স্যাড, হা-হাসহ রিঅ্যাক্ট চিহ্ন আছে। এবার ফেসবুকে ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট ব্যবহার সম্পর্কে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।

‘কাউকে নিয়ে ঠাট্টা বা হাসাহাসি করা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন-

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এটি ব্যবহার অনেক বেশি দেখা যায়। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন- কেউ একটি কমেন্ট বা পোস্ট করেছেন; এ পোস্ট বা কমেন্টে তাকে তাচ্ছিল্য করার জন্য সাধারণত ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট দিয়ে থাকে। তাকে বিদ্রূপ করে।

কথা হলো- যার সঙ্গে বা যার কমেন্ট বা পোস্টে মজা করে ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট করা হয়; আর কমেন্ট বা পোস্ট যার, তিনিও যদি এটি নিয়ে মজা করেন তবে তা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু যদি কাউকে তাচ্ছিল্য বা বিদ্রূপ করার জন্য ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট করা হয় তবে তা হারাম বা নিষিদ্ধ। এটি পুরোপুরি নাজায়েজ একটি কাজ।

আল্লাহ তাআলা কাউকে তাচ্ছিল্য বা বিদ্রূপ করা সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন-

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا یَسۡخَرۡ قَوۡمٌ مِّنۡ قَوۡمٍ عَسٰۤی اَنۡ یَّکُوۡنُوۡا خَیۡرًا مِّنۡهُمۡ وَ لَا نِسَآءٌ مِّنۡ نِّسَآءٍ عَسٰۤی اَنۡ یَّکُنَّ خَیۡرًا مِّنۡهُنَّ ۚ وَ لَا تَلۡمِزُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ وَ لَا تَنَابَزُوۡا بِالۡاَلۡقَابِ ؕ بِئۡسَ الِاسۡمُ الۡفُسُوۡقُ بَعۡدَ الۡاِیۡمَانِ ۚ وَ مَنۡ لَّمۡ یَتُبۡ فَاُولٰٓئِکَ هُمُ الظّٰلِمُوۡنَ

‘হে ঈমানদারগণ! কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো পুরুষকে বিদ্রূপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর কোন নারীও যেন অন্য নারীকে বিদ্রূপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর তোমরা একে অপরের নিন্দা কর না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেক না। ঈমানের পর মন্দ নাম কতই না নিকৃষ্ট! আর যারা তাওবা করে না, তারাই তো জালিম।’ (সুরা হুজরাত : আয়াত ১১)

তিনি এক ভিডিওতে আরও বলেন, ‘মুসলমানদের ইজ্জত এবং সম্মান লুণ্ঠন করাকে হারাম করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন, এই স্থান, এই মাস ও সময় যেমন আল্লাহর কাছে সম্মানিত; একজন মানুষের ইজ্জত এ রকম আল্লাহর কাছে সম্মানিত। তাই কাউকে তাচ্ছিল্যভরে বিদ্রূপ করা যায় না।

আজকাল ফেসবুকে ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়া একটা নরমাল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখেন, যারা আখেরাতের আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে এ বিশ্বাস রাখেন, যারা বান্দার প্রত্যেকটি ছোটখাটো বিষয় নিয়ে জবাবদিহি করতে হবে এটি বিশ্বাস রাখেন; তারা বিদ্রূপাত্মকভাবে কোনো পোস্টে, কোনো কমেন্টে ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট দিতে পারেন না বলেও উল্লেখ করেন।

ফেসবুক ব্যবহারকারী সবা মানুষের প্রতি তাঁর আহ্বান-

প্রিয় ভাই এবং বোন আমার, আপনারা আল্লাহর ওয়াস্তে এ কাজটি থেকে বেরিয়ে আসুন। কাউকে নিয়ে বিদ্রূপ করে কোনোভাবেই ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট দেবেন না। কাউকে কষ্ট দেবেন না। কেউ ভুল করলে সম্ভব হলে সুন্দর ভাষায়, মার্জিত ভাষায়, যুক্তিনির্ভরভাবে তাকে তার ভুল খণ্ডন করে দিন। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। যদি তা-ও সম্ভব না হয় তবে এড়িয়ে যান। কিন্তু তাকে নিয়ে বিদ্রূপ করে; তাঁকে হাসির পাত্র বানিয়ে আপনি নিজেই গোনাহগার হচ্ছেন।

তিনি হয়তো একটি ভুল বা ত্রুটি করেছেন। আর আপনি এ ত্রুটিতে ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট দিয়ে আরেকটি ত্রুটি করলেন।  হতে পারে আপনার ত্রুটি তার ভুলের চেয়ে বেশি জঘন্য। কিংবা বান্দার হক নষ্ট করার মতো বিষয়ও হতে পারে। অথচ বান্দার হক নষ্ট করলে কেয়ামতের দিন আমলনামা থেকে সাওয়াব কেটে নেওয়া হবে।

সুতরাং ফেসবুকে যে কাউকে ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়া থেকে বেঁচে থাকতে হবে।

মহান আল্লাহর কথাটি খেয়াল করুন-

'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের এক গোষ্ঠী যেন অপর গোষ্ঠীকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ না করে। কারণ হতে পারে যাকে নিয়ে তুমি বিদ্রূপ করছ, সে তোমার চেয়ে (শেষ পরিণতির বিচারে) শ্রেষ্ঠ! (৪৯/১১)

মহান আল্লাহ আমাদের তাকওয়ার পথে এক পা এক পা করে অগ্রসর হওয়া এবং আত্মসংশোধন করার তাওফিক দান করুন।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর