একদিন আমরা মানুষ ছিলাম

জসিম মল্লিক

একদিন আমরা মানুষ ছিলাম


মানুষ বেঁচে থাকতে একবারও ভাবে না জীবন কত ক্ষনস্থায়ী। যদি ভাবত যে ভাল কাজগুলিই শুধু থাকবে, ভাল একটা কথা, মিষ্টি একটা হাসি, কারো একটু উপকার করা, বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া, দুঃখের দিনে পাশে থাকা, একটু  স্নেহের পরশ বুলানো, মাথায় একটু ভরসার হাত রাখা, ভালবাসা দেওয়া এসবের মূল্য অসীম। এসবই স্মৃতিতে জাগরুক থাকবে। মৃত্যুর পর বলবে মানুষটা বড় ভাল ছিল। রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও তাই। ভাল শাসকদের কথা মানুষ শত শত বছর মনে রাখে। আর খারাপ বা অত্যাচারি শাসকদের  চিরদিন ঘৃণার সাথে স্মরণ করে। আমি দারুণ স্নেহ ভালবাসার কাঙাল। বিড়ালের মতো গদ গদ হয়ে যাই কেউ একটু মিষ্টি কথা বললে, ভালবাসার কথা বললে। কেউ ভালবাসার অভিনয় করলেও আমি বিগলিত হয়ে পড়ি। সত্যি মনে হয়। ঠকেও জিতে যাই। পৃথিবীতে বেশিরভাগ মানুষই ভাল। বেশিরভাগ মানুষই ভালবাসতে জানে। আমার মতোই।

আমি কারো কাছে কোনোদিন কোনো অনুগ্রহ চাইনি, হাত পাতিনি, মাথাও নত করিনি। আমি শুধু চেয়েছি কেউ যেনো আমাকে অবহেলার চোখে না দেখে, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না করে, আমার সাথে ছল চাতুরি না করে। আমি এসব একদম নিতে পারি না। কিন্তু তা সত্বেও আমি জীবনে অনেকই অবহেলার শিকার হয়েছি। আমার প্রাপ্য থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমাকে অপমানিত হতে হয়েছে। এইসব কষ্ট কখনো ভোলা যায় না। আমাকে ঠকিয়েছে অনেকেই। অনেককে বিশ্বাস করেও ঠকেছি। কিন্তু তারপরও মানুষের প্রতি আমার ভালবাসার বা বিশ্বাসের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। ওসব থেকে আমি শিখেছি বটে কিন্তু আমি নিজেকে বদলাইনি। এর কারণ হচ্ছে আমি মানুষের কাছ থেকে যতনা অবহেলা আর তাচ্ছিল্য পেয়েছি ভালবাসা পেয়েছি তারচেয়ে বহুগুন।


জীবনে চলার পথে অনেকের সাথেই আমাদের সখ্যতা হয়, ঘনিষ্ঠতা হয়, ভালবাসা হয়, প্রেম হয়। আবার একদিন সেসব হারিয়েও যায়। সে এক রহস্য বটে। জীবন খুবই রহসম্যয়। মানুষ একসাথে অনেক কিছু ধারন করতে পারে না সম্ভবত। আমার শৈশব, কৈশোর বা তারুণ্যের অনেক বন্ধুকে, অনেক চেনা মানুষকে হারিয়ে ফেলেছি আমি, অনেক আত্মীয়দের সাথে দুরত্ব তৈরী হয়েছে। অনেকে আমাকে যেমন খারিজ করে দিয়েছে তেমনি আমিও অনেক সম্পর্ককে ধরে রাখতে পারিনি। আমার অনেক ব্যর্থতা। জীবন সংগ্রামে এতোটাই বিভোর ছিলাম যে অনেক  সম্পর্ক স্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছে। আসলে কি সব হারিয়ে যায় জীবন থেকে! যায় না। 

সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে পুরনো অনেকের সাথে আবার যোগাযোগ ঘটে যায়। পুরনো বন্ধুরা স্মৃতি হাতরিয়ে অনেক মুক্তো মানিক তুলে আনে। পুরনো অনেক কিছু ভুলে গেছি দেখে নিজেই লজ্জিত হই। নিজেকে বলি ছিঃ আমি এমন! কেমন করে এসব ভুলে থাকলাম! যাদের অনেক ঘনিষ্ঠ ছিলাম এক সময় তাদের সাথেও দূরত্ব তৈরী হয়েছে। ভালবাসা করেছিলাম যাদের সাথে তাদের সাথেও বিচ্ছিন্নতা এসেছে। এসব ভাবলে আজকাল খুব কষ্ট লাগে। আর হয়ত সেসব সম্পর্ক জোড়া লাগবে না। আবার আগের জায়গায় ফিরবে না কিছুই। এই অপূর্ণতা নিয়েই একদিন বিদায় হব। জীবন কত ক্ষনস্থয়ী তা কোভিডকালে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কত আপনজন হারিয়েছি আমরা। কারো জন্য শোক প্রকাশের সময়ও পাই না। নিরিবিলি দুফোটা চোখের জল ফেলার ফুরসত পাওয়া যায় না।


প্রকৃতির এই বিপর্যয় থেকে আমরা শিখি না। এখনও পৃথিবীতে কত অনিয়ম, অবিচার, নিষ্ঠুরতা,  প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা, ঈর্ষা, ঘৃণার বিষবাষ্প ছাড়ানো। একে অন্যকে ধ্বংস করার চেষ্টা। মনে হয় পৃথিবী থেকে এসবের মুক্তি নাই। অনেক ক্ষুদ্র সব ব্যাপারে আমরা নিচুতার পরিচয় দেই। ঈর্ষাকাতর হই। অনেক সময় অবচেতন মনেও হই। আচ্ছা ঈর্ষা জিনিষটা কে আবিষ্কার করেছে! কোথায় থাকে! জেলাসি ইজ অল বলস। আমার নিজের মধ্যেও জেলাসি আছে। অবচেতনেই জেলাসি কাজ করে। 
সে এক রহস্য বটে। এখানেই মানুষের সীমাবদ্ধতা, ক্ষুদ্রতা। এসবের উর্ধ্বে একদম উঠতে পারি না  আমরা। ফেসবুকের কথাই ধরা যাক। অনেক হাই প্রোফাইল বন্ধু আছে আমার যাদের সব কিছুতে আমি প্রতিক্রিয়া দেখাই, অনেক তুচ্ছ জিনিস, পাতে নেওয়ার মতো না তাতেও লাইক দেই কিন্তু তারা অনেকেই আমার ব্যাপারে নির্বিকার থাকে। এটাই মনে হয় মানুষের জীবনের ধর্ম। এতে বিষ্মিত হওয়ার কিছু নাই।

কিন্তু আমি আমার সব বন্ধুর প্রতি সমান প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেষ্টা করি। বিশেষ কারো প্রতি পক্ষপাত দেখাই না কারণ আমার কোনো গ্রুপ নাই, বিশেষ কারো নজরে আসার সবিশেষ আগ্রহ নাই। কারো কাছ থেকে কিছু চাওয়ার নাই। মিলিওনিয়ার বন্ধু যেমন আছে আমার তেমনি দোকানদার বন্ধুও আছে। লেখক বন্ধু যেমন আছে, উকিলও আছে। পুলিশের বড় কর্তা যেমন আছে সিকিউরিটি গার্ড আছে, ডেলিভারি ম্যান আছে, ট্যাক্সি চালকও আছে। এমপি, মন্ত্রী যেমন আছে মেম্বার সাবও আছে। কে নাই! সব টাইপই আছে। রুপবতী যেমন আছে তেমনি কুৎসিত দেখতেও আছে, তরুণ যেমন আছে বৃদ্ধও আছে। দশ বিশ হাজার লাইক আর লক্ষ ফলোয়ারের অধিকারী বন্ধু যেমন আছে, দশ বিশটা লাইক কমেন্টস পাওয়া বন্ধুও কাছে। অল আর সেম।

টরন্টো ১১ মে ২০২১

লেখক, জসিম মল্লিক, সাংবাদিক, কানাডা

পরবর্তী খবর

আমাদের রত্ন আপাতত আমাদেরই থাক!

কাজী শরীফ

আমাদের রত্ন আপাতত আমাদেরই থাক!

ভারতের লোকসভার সদস্য নুসরাত জাহান সম্প্রতি দাবি করেছেন নিখিল জৈনের সাথে তার বিয়েই হয়নি। সুতরাং বিচ্ছেদের প্রশ্ন অবান্তর। লোকসভায় দাঁড়িয়ে তিনি যে নিখিলের পরিচয় দিয়েছিলেন তা কি তবে মিথ্যা? এ নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন তারা ভুলে যাচ্ছেন তিনি কেবল রাজনীতিবিদ নন নায়িকাও। ফলে তার পক্ষে ছলাকলা যেমন বেমানান নয় অভিনয় করাও তেমনি অবাক করার মতও নয়! 

আগের পর্বেই লিখেছিলাম আমাদের ঢালিউডের নায়িকা মাহিয়া মাহি অবশ্য নুসরাতের মত এত নিষ্ঠুর নন। তিনি অপুকে স্বামী বলেছেন তবে দুই বছরের আগেই স্বামীর আগে সাবেক শব্দটি বসে গেছে বলে দাবি করেছেন।

যদিও তার স্বামী দাবি করেছেন তিনি ঘুম থেকে উঠে শুনেছেন মাহি বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হলো দুই বছর মেয়াদি এ দীর্ঘ ঘুম ভাঙলো কী করে!

মাহি যেমন উদার তেমন উদার আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি। অনার্সে এক বিষয়ে ফেল করে ও দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়েও একজন শিক্ষক হয়েছেন বলে গণমাধ্যমের বদৌলতেই জানলাম।

ওদিকে ভাবমূর্তি রক্ষার্থে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভাগ নিয়ে মন্তব্য করতে নিষেধ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি। উপাচার্য মহোদয় যেহেতু সব বিভাগের মুরুব্বি তাই তিনি পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্যেই এ হুকুম জারি করেছেন। সাবেকদের উপর এ হুকুম বলবৎ থাকবে কিনা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন আমার মত সাবেকেরা!

আরও পড়ুন:


নিয়োগ দেবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর

শুভাগত হোমকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দিয়েছে মোহামেডান

তুরস্কে পাওয়া গেল ১ হাজার ৮শ বছর আগের ভাস্কর্য

নিজের দাম বাড়িয়েছেন রাশি খান্না!


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ভাবমূর্তি নিয়ে চিন্তিত সেখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় দশ টাকায় চা, চপ আর সিঙ্গারা পাওয়া যায় মর্মে গিনিজ বুকে নাম অন্তর্ভুক্তির আশায় উদ্দীপ্ত! 

গিনিজ বুকের কথা যেহেতু এলোই বাংলাদেশ হিরো আলমকে নিয়ে একটা চেষ্টা করে দেখতে পারে। সবচেয়ে বেশি ভাষায় গান করার রেকর্ডতো তার ইতোমধ্যে হয়ে যাওয়ার কথা। বাংলা, আরবি, ইংরেজি, হিন্দি, চাইনিজ ভাষায় গান করে ফেলেছেন এ বিখ্যাত গায়ক। নিন্দুকেরা বলেন তিনি আরবি গান গাওয়ার পর নাকি বাংলাদেশে গরম বেড়ে গেছে। এই যে গানের সাথে ঋতু পরিবর্তনের যোগ আছে এ বিষয়েও তিনি এক ও অদ্বিতীয় বলেই আমার ধারণা! 

তবে এ খবর প্রচার করা যাবে না। এ খবর পেয়ে বরফের দেশে হিরো আলমকে নিয়ে গেলে আরবি গানের প্রভাবে বরফ গলে পুরো পৃথিবীর ভারসাম্য বদলে যেতে পারে! আমাদের রত্ন আপাতত আমাদেরই থাক! 

কাজী শরীফ
১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ।

news24bd.tv / তৌহিদ

পরবর্তী খবর

মেয়েদের বহুগামিতা সহ্য করা যায় না, পুরুষদের যায়

অনলাইন ডেস্ক

মেয়েদের বহুগামিতা সহ্য করা যায় না, পুরুষদের যায়

-- বহুগামিতা একেবারেই মানতে পারি না।

-- মেয়েদের? 
--শুধু মেয়েদের হবে কেন, পুরুষদেরও। 
--কোনও পুরুষ  বহুগামী, এমন খবর  শুনলে এমন ছিঃ ছিঃ রব শোনা যায় না তো! 
--আলবৎ শোনা যায়। 
--একটা উদাহরণ দাও তো। 
--এভাবে উদাহরণ দেওয়া যায় না কি? 
--খুব যায়। শিল্প সাহিত্য নাটক সিনেমার জগতে  যে পুরুষ বহুগামী নয়,  এমন কয়েকজনের নাম বলো। অথবা যে কজন বহুগামী, তাদেরই নাম বলো।
--কী বলতে চাইছো? 
--বলতে চাইছি, যে পুরুষেরা বহুগামী, তাদের বিরুদ্ধে তুমি কি সরব? 
--নিশ্চয়ই।
--তুমি তো উত্তম কুমার বলতে অজ্ঞান। উনি  তো গৌরী দেবী এবং সুপ্রিয়া দেবী -- দুজনের  সঙ্গে থাকতেন।  একসময়    গৌরী দেবীকে ছেড়ে   সুপ্রিয়া দেবীকে বিয়ে না করেই স্বামী স্ত্রীর মতোই থাকা শুরু করলেন।   তুমি তো উত্তম কুমারকে গালি দাও না। তুমি তো সমরেশ বসুরও নিন্দে করো না, উনি তো দু'বোনকে বিয়ে করেছিলেন।
--একজনকে ছেড়ে আরেকজনকে নিয়ে থেকেছেন, একে তো বহুগামিতা বলে না।
--তাহলে যে মেয়েটির নিন্দে করছো, সেও তো একজনকে ছেড়ে আরেকজনকে নিয়ে থেকেছে। যা করেছে প্রকাশ্যে, লুকিয়ে নয়, কাউকে ঠকিয়ে নয়।  তাহলে তার নিন্দে করছো কেন।

আরও পড়ুন:


নিয়োগ দেবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর

শুভাগত হোমকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দিয়েছে মোহামেডান

তুরস্কে পাওয়া গেল ১ হাজার ৮শ বছর আগের ভাস্কর্য

নিজের দাম বাড়িয়েছেন রাশি খান্না!


--সমরেশ বসু বা উত্তর কুমার অনেক বড়, এত বড়'র সঙ্গে কোথাকার কে, তার তুলনা চলে না। 
--বড় হলে বুঝি অনৈতিক কাজ করা যায়? আর কোথাকার কে'দের জন্যই নীতি? নাকি শুধু মেয়েদের বেলায় নীতির প্রশ্ন ওঠে?
--বাজে কথা হচ্ছে।  আমি নারী -পুরুষকে আলাদা করে দেখিনা।
-- তাহলে শুধু  মেয়েদের পতিতালয়  কেন, পুরুষদের পতিতলয় কেন নেই-- এই প্রশ্ন কোনওদিন করেছো? বাই দ্যা ওয়ে,   পতিতালয়কে  যে আইনত বৈধ করা হয়েছে , তার বিরুদ্ধে কিছু বলো না কেন?
--কেন বলবো, পতিতালয় তো থাকা উচিত। আছে বলেই তো সমাজে ধর্ষণ কম হয়। 
--হা হা হা। তাই বুঝি?
--হ্যাঁ তাই। 
--তোমাদের বৈধ পতিতালয় তো বিবাহিত, অবিবাহিত সব পুরুষের জন্য। পতিতালয়ের গেটে তো সাইনবোর্ড নেই, 'শুধু অবিবাহিত পুরুষ অ্যালাউড'। বিবাহিত পুরুষেরা যারা সেখানে যাচ্ছে, তারা  তো বহুগামিতা করছে। করছে না? বৈধ ভাবেই করছে। সে ক্ষেত্রে তো পুরুষের বহুগামিতা বৈধ। 
--শুধু খারাপ লোকেরা যায় ওসব জায়গায়। 
--তাহলে বলতে চাইছো খারাপ লোকদের জন্য বহুগামিতা ঠিক,  শুধু ভালো লোকদের জন্য ঠিক নয়? 
--আমি তা বলতে চাইছি না, বহুগামিতা ব্যাপারটাই খারাপ। 
--তাহলে পতিতালয়ে বিবাহিত পুরুষদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার কথা কোথাও মুখ ফুটে বলো না কেন? 
--আমি বললে কে শুনবে। 
--কিন্তু তুমি যে একটি মেয়ের বহুগামিতার বিরুদ্ধে চিৎকার করছো, ও তো অনেকে শুনছে। 
--মেয়েদের এসব সহ্য করা যায় না। 
--এই তো আসল কথা পাড়লে। মেয়েদের বহুগামিতা সহ্য করা যায় না, পুরুষদের বহুগামিতা সহ্য করা যায়। 
--পুরুষ আর নারীর  শরীর তো এক নয়, পার্থক্য আছে। হরমোনের পার্থক্য।  পুরুষদের সেক্সটা বেশি দরকার হয়। 
--এতক্ষণে অরিন্দম!  মনের কথাটি  আগে বলে ফেললেই পারতে। বলো যে পুরুষের বহুগামী হওয়ার অধিকার আছে, যেহেতু তাদের হরমোন বেশি সেক্স চায়, এক নারীতে তা মেটে না। কিন্তু নারীর বহুগামী হওয়ার কোনও অধিকার নেই। নারীকে  একগামী হতে হবে। 
--আমাদের মায়েরা   কি কল্পনা করতে পারতো স্বামী ছাড়া অন্য কারও দিকে কোনওদিন  তাকাবে? 
--তুমি চাইছো দুনিয়ার সব মেয়ে তোমাদের মায়ের মতো হোক। 
--তা তো হয়নি, চারদিকে সব চরিত্রহীন বহুগামী মেয়ে। 
--চারদিকে কি চরিত্রহীন বহুগামী পুরুষ নেই? 
--উফ এসব শুনতে আর ভালো লাগছে না।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

অবিরাম এই যুদ্ধ মানুষকে কখনো কখনো অন্ধ বানিয়ে দেয়

আশরাফুল আলম খোকন

অবিরাম এই যুদ্ধ মানুষকে কখনো কখনো অন্ধ বানিয়ে দেয়

বুঝতে হবে শিক্ষার আগে থেকেই যুদ্ধটা শুরু হয়। যখনও শিক্ষার মানে বুঝিনি তখনই ক্লাসের বেঞ্চে সুবিধাজনক জায়গায় বসা নিয়ে বন্ধুদের সাথে যুদ্ধের শুরু। বাবা মায়ের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সহোদরদের সাথেও এক প্রকার যুদ্ধেই নামতাম। 

স্কুলের সুন্দরী মেয়েদের দৃষ্টি আকর্ষণের যুদ্ধটা কার মধ্যে ছিল না? পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের যুদ্ধ করতে গিয়ে সফলতা আসে, কিন্তু ব্যর্থতার সংখ্যাও কম নয়। জীবনে প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ’তো থাকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত। 

এই অবিরাম যুদ্ধ মানুষকে কখনো কখনো অন্ধ বানিয়ে দেয়। এই অস্থির যুদ্ধ থেকে শুধু একটু বিরতি নিন। জোরে জোরে নি:শ্বাস নিয়ে কিছুক্ষণ নির্ভেজাল চিন্তা করুণ। নিজের ভূত ভবিষ্যৎ নিয়ে না ভেবে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে নিজের চারপাশটা একবার খুব ভালো করে দেখে দেখে আসুন। 

দেখবেন, চারপাশের যাদেরকে মানুষ ভাবেন তাদের মধ্যেও অমানুষ ও বেঈমানের একটা চেহারা আছে। অপরদিকে যাদেরকে অমানুষ ভেবে আসছেন তাদেরও সুন্দর একটা মন আছে।

আরও পড়ুন


জি-৭ সম্মেলন: চীন তাহলে সবক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর!

আবারও সিঁথিতে সিঁদুর দিয়ে বিয়ের সাজে শ্রাবন্তী!

শ্বাসকষ্ট নিয়ে আইসিইউতে ভর্তি সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার

টঙ্গীতে বস্তিতে আগুন, শত শত ঘর পুড়ে ছাই


আসলে মানুষ চিনতে হলে মাঝে মাঝে জীবন যুদ্ধ থেকে বিরতি নিতে হয়। চোখ বন্ধ করে ভাবার সময় বের করে নিতে হয়। জোরে জোরে নি:শ্বাস নিতে হয়। দেখবেন, চারপাশে অকৃতজ্ঞের বাজার বসে আছে …। 

এরপর আবার নতুন করে জীবন যুদ্ধ শুরু করুন। এই যুদ্ধে জয়ী হবেন নিশ্চিত। কারণ ততক্ষণে ভেজাল বিদায় হয়েছে… বিরতি আপনাকে জীবনের অনেক মানে শিখিয়ে দিবে।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অপরাধে কানাডার ফেডারেল রাজনীতিক গ্রেপ্তার

শওগাত আলী সাগর

স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অপরাধে কানাডার ফেডারেল রাজনীতিক গ্রেপ্তার

স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে সভা করার অপরাধে ফেডারেল রাজনীতিক ম্যাক্সিম বার্নিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কনজারভেটিভ পার্টির লিডারশীপ প্রতিযোগিতায় অকৃতকার্য হয়ে ম্যাক্সিম বার্নিয়ার পিপলস পার্টি অব কানাডা নামে চরম ডানপন্থী একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তিনি সেই দলের প্রধান।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বহাল থাকা লক ডাউনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ম্যানিটোবায় তিনি সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন। কয়েকটি প্রত্যন্ত এলাকায় সভা করার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

news24bd.tv আহমেদ

আরও পড়ুন


ফ্লয়েডকে নির্যাতনের ভিডিও করা সেই কিশোরী পেলেন পুলিৎজার পুরস্কার

গাজা যুদ্ধে ইসরাইলের উৎসমূলে মারাত্মক আঘাত হেনেছি: হামাস

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস আজ

আমিরাতের কাছে ইসরাইলের এফ-৩৫ বিক্রি ও সোলাইমানি হত্যা সম্পর্কযুক্ত: পম্পেও


 

পরবর্তী খবর

রেলমন্ত্রীর বিয়ে নিয়ে হাস্যকৌতুক করা খুবই অমানবিক আর অরুচিকর ব্যপার

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

রেলমন্ত্রীর বিয়ে নিয়ে হাস্যকৌতুক করা খুবই অমানবিক আর অরুচিকর ব্যপার

৬৫ বছর বয়স্ক রেলমন্ত্রী বিয়ে করেছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে। তিনি বিপত্নীক। ছেলে মেয়েরা বিয়ে থা করে সংসারী। কয়েকটি সংবাদপত্র এটা নিয়ে যেভাবে শিরোনাম করেছে তাতে বোঝা যায় তারা এটা নিয়ে স্থুল কৌতুক ও রঙ্গ করার সুযোগটি ছাড়তে চাইছেনা। জনতাও লুফে নিচ্ছে। 

একজন বয়স্ক বিপত্নীক পুরুষ একজন একা নারীকে নিয়ে যদি পুনর্বার সংসারী হয় এবং সুখী হয় সেটা দুপক্ষের জন্যই নিঃসন্দেহে ভাল। সেটা নিয়ে হাস্যকৌতুক করা খুবই অমানবিক আর অরুচিকর ব্যপার। বাংলাদেশে একজন সিনিয়ির সিটিজেন বিয়ে করবেন আর তাকে নিয়ে দল বেধে কৌতুক করবেনা এমনটা বিরল। 

মূলত মানুষের সত্যিকারের সংগী লাগে শেষ বয়সেই। 

এই সমাজ সিনিয়র সিটিজেনদেরকে খুব অবহেলার চোখে দেখে। তাদের নিঃসংগ, বিদ্ধস্ত, অবসাদগ্রস্ত,পরান্নজীবী  আর হতাশ দেখতেই পছন্দ করে। একজন নিঃসংগ সিনিয়র সিটিজেনের বিয়ে করার ইচ্ছেকে তারা পায়ের তলায় পিষতে চায়। লজ্জা দিয়ে সেই ইচ্ছেকে মেরে ফেলতে চায়।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর