আপনি চুপই ছিলেন তাই না? এতে ধর্মান্ধরা সংঘবদ্ধ হয়ে ঘিরে ফেলছে

মঞ্জুরে খোদা টরিক

আপনি চুপই ছিলেন তাই না? এতে ধর্মান্ধরা সংঘবদ্ধ হয়ে ঘিরে ফেলছে

ধর্মান্ধদের আপত্তিকর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে- আজ সময় টিভিতে চঞ্চল চৌধুরীর আক্ষেপ-অভিযোগ শুনলাম! তিনি বলছেন, কোন শিল্পীকে আমার বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ-ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখলাম না! দশজন শিল্পীও কি নেই, আমার পক্ষে দাড়ানোর মত? 

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে প্রিয় চঞ্চল, যখন জয়া আহসানকে যখন ধর্মান্ধরা হুমকি দেয়- তখন আপনি কোথায় ছিলেন? তখন কি আপনি প্রতিবাদ করেছিলেন? তখন আপনি ভেবেছিলেন এটা আমার কোন বিষয় না, সেই বুঝুক, তাই না? মোশাররফ করিমকে যখন ধর্মান্ধরা হুমকি দিল তখন কি আপনি প্রতিবাদ করেছিলেন? তখনো আপনি চুপই ছিলেন তাই না?

এভাবেই জয়া আহসানে উপর যখন ধর্মান্ধরা চড়াও হয় তখন মোশাররফ করিম চুপ থাকেন, প্রতিবাদ করেন না! তিনি ভাবেন এটা তো আমার বিষয় না, সেই বুঝুক, তাই না? জয়া আহসানও অন্যদের ক্ষেত্রে তাই করেন! তেমনি ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে যখন হুমকি দেয়া হয় তখন আপনারা চুপ ছিলেন, কেউ কথা বলেননি, প্রতিবাদ করেননি! এভাবে আপনাদের বিচ্ছিন্নতা ও অনৈক্যের সুযোগ নিচ্ছে ধর্মান্ধরা। তারা আরো সংঘবদ্ধ হচ্ছে এবং আপনাদের ঘিরে ফেলছে। এখন যা দেখছেন এগুলো তার সিমটম মাত্র!

এ ঘটনাগুলো আমাকে আর মোটেই অবাক করে না, কারণ আমি-আমরা জানতাম এমনটা ঘটবে এবং একটা পর্যায়ে এগুলো আর ঠোকাঠুকির পর্যায়ে থাকবে না আরো ভয়াবহ হবে।  

কবি মার্টিন নিম্যোলার জীবনের প্রথম দিকে ছিলেন জার্মানের হিটলারের সমর্থক, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মানবাধিকার পক্ষে ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কাজ করেন। তাঁর এক বিখ্যাত কবিতায় পাওয়া যায় আমাদের এ সময়ের সেই করুণ চিত্র! 
“যখন ওরা প্রথমে কমিউনিস্টদের জন্য এসেছিল, আমি কোনো কথা বলিনি,
কারণ আমি কমিউনিস্ট নই।
তারপর যখন ওরা ট্রেড ইউনিয়নের লোকগুলোকে ধরে নিয়ে গেল, আমি নীরব ছিলাম,
কারণ আমি শ্রমিক নই।

তারপর ওরা যখন ফিরে এলো ইহুদিদের গ্যাস চেম্বারে ভরে মারতে,আমি তখনও চুপ করে ছিলাম,
কারণ আমি ইহুদি নই।
আবারও আসল ওরা ক্যাথলিকদের ধরে নিয়ে যেতে,আমি টুঁ শব্দটিও উচ্চারণ করিনি,
কারণ আমি ক্যাথলিক নই।

শেষবার ওরা ফিরে এলো আমাকে ধরে নিয়ে যেতে,
আমার পক্ষে কেউ কোন কথা বলল না, কারণ, কথা বলার মত তখন আর কেউ বেঁচে ছিল না।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

লেখক: ড. মঞ্জুরে খোদা (টরিক) লেখক, গবেষক ও অনলাইন এ্যাক্টিভিষ্ট

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মরে যায়!

এমি জান্নাত

স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মরে যায়!

ঘর-সংসার শব্দটা আমরা একসাথে জুড়ে দেই ঠিকই। কিন্তু ঘর আর সংসারের মধ্যে একটা বিস্তর ফারাক আছে বোধহয়।

আমার সীমিত জ্ঞানে ঘর বলতে বুঝি একটা ভালোবাসার ছায়াতলে বসবাস। যেখানে সুখ না থাকলেও শান্তি থাকে। দিন শেষে ফেরার তাড়া থাকে। কিন্তু সংসার নামক বেড়াজালে মানুষ শুধুই আবদ্ধ থাকে দায়িত্ব, ভাঙা গড়ার খেলায় মত্ত সুখের খোঁজে! প্রশান্তিটা এসবের মাঝেই অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। ঘর মানে চার দেয়ালের প্রতিটা কোণায় অভিমান, অনুরাগ আর ভালোবাসার নিবিড় বন্ধন, যেখানে সংসারে চারটা দেয়াল থাকে আর স্যাক্রিফাইস এর বদলে কম্প্রোমাইজ বেশি থাকে। কোথায় একটা লিখেছিলাম, স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মন মরে যায়! সংসারের সবাই হতে পারে, কিন্তু ঘরের কয়জন!

সংসার থেকে পালিয়ে বাঁচা যায়, ঘর থেকে না। মনের বসত তো ঘরেই হয়। দায়িত্ব থেকে সৃষ্টি হওয়া মায়া কাটানো যায়, কিন্তু ভালোবাসা থেকে সৃষ্টি হওয়া মায়া কাটানো বড় কঠিন!

তাই মনে হয়, সব ঘরই সংসার, কিন্তু সব সংসার ঘর হতে পারে কী?

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

এতো মন্ত্রণালয় থেকে কী হবে?

রুবাইয়াত সাইমুম চৌধুরী

এতো মন্ত্রণালয় থেকে কী হবে?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হচ্ছে ভালো কথা। যুক্তি বোঝা যায়। যেটা বোঝা যায় না সেটা হলো শিক্ষার ব্যাপারে পরিকল্পনা কি?

কিভাবে ভালো ভাবে ক্লাস নেওয়া যাবে অনলাইনে? কোনো নতুন হাল্কা (লাইট) সফটওয়ার কেনা হয়েছে? পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যাপারে কোনো চিন্তা ভাবনা?

অনলাইনে বেশী মানুষকে কিভাবে এনগেজ করা হবে তার কোনো পরিকল্পনা? বিশ্বের অন্যদেশ অনলাইনে কিভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে তার কোনো গবেষণা কি হয়েছে?

কিভাবে ছাত্রদের সৃজনশীলতার বাড়ানো যাবে তার ব্যাপারে কেউ কি কিছু ভেবেছে?

অনলাইনে কিউ এস রাংকিং এর অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রাম পার্টনারশিপ করছে। অল্প কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে। বাকিরা?

ছাত্রদের মোটিভেট করতে কোনো মাস্টারপ্লান আছে?

যেহেতু কোনো ফল দেখছিনা তাই ধরে নেওয়া যায় প্রশ্ন গুলোর পজিটিভ উত্তর নাই।

তাহলে এত মন্ত্রনালয় থেকে কি হয়? কি হবে? দেশের সেরা মেধাবীদের নিয়ে তৈরি, দেশ সেবায় নিয়জিত ক্যাডার সার্ভিসের মানুষজন কি ভাবে শিক্ষার উন্নয়নে তাদের সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন?


আরও পড়ুন:


ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ: মাঠে যাওয়ার সময় আম্পায়ারদের গাড়িতে হামলা

১০ বছরের জেল হতে পারে নেতানিয়াহুর: ইসরাইলি আইনজীবী

এবার ফিলিস্তিনি নারীকে গুলি করে হত্যা ইসরাইলি বাহিনীর

বিয়ের আসরে নকল গহনা, মারামারি পরে ক্ষতিপূরণ রেখে তালাক


আগেও বলেছি করোনার আগের শিক্ষা ব্যবস্থা আর পরেরটা একই থাকবে না। বদল হবে। হবেই।

এই কথা সরকার-মন্ত্রানালয়-শিক্ষক-ছাত্র-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যত দ্রুত বুঝবে ততই মঙ্গল।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

সাকিবের একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

আনোয়ার সাদী

সাকিবের একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

সাকিবের আচরণ ক্রিকেটের ভাষায় শোভন নয়। তার সাজা হয়েছে । তিনি সাজা মেনে নিয়েছেন। ঘটনা এখানেই শেষ নয়।  সাকিব পরিকল্পিতভাবে ইউকেটে লাত্থি দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের এটাই মত। তিনি বল ছোঁড়ার পর বসে আবেদন করেছেন। ফিরে যখন দেখলেন আম্পায়ার আউট দেননি, সাকিব প্রথমে উইকেটে লাত্থি দিয়েছেন, তারপর আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেছেন। 

এই ভিডিও বিশ্লেষন করে একজন বিশেষজ্ঞ আমাকে বলেছেন, হতে পারে সাকিব আগেই ভেবে রেখেছে, LBW সে পাবে না। কারণ আগের সাত ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে কোনো LBW নাই। 

এখন বিসিবি একটা তদন্ত কমিটি করেছে । তারা সব ক্লাবের সঙ্গে কথা বলবে। ’আম্পায়ার’ বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে বলে জানা গেছে। 
এর মানে হলো বিসিবি অভিযোগ আমলে নিয়েছে। আম্পায়ারদের স্বজনপ্রীতি আছে কী না, তা প্রমাণ করার এটা একটা উদ্যোগ। এটাকে একই সঙ্গে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি থাকার বেশ ভালো সম্ভাবনার স্বীকৃতি হিসাবেও কেউ কেউ দেখছেন। 

তাহলে জল গড়ালো অনেক দূর। সাকিব ঘটনা ঘটিয়েছেন প্রকাশ্যে, ক্ষমা চেয়েছেন প্রকাশ্যে, সাজা পেয়েছেন, তা মেনে নিয়েছেন। তিনি কখনো দাবী করেননি, তিনি সিস্টেমকে লাত্থি দিয়েছেন। তিনি দুর্নীতির প্রতিবাদ করেছেন বলে কোথাও দাবী করেননি। আউট দেয়নি বলে তিনি রেগে গেছেন। 

এমনকী ফেইসবুকে ক্ষমা চাওয়ার সময়ও সিস্টেম নিয়ে তার কোনো জোড়ালো বক্তব্য নেই। 
তাহলে প্রশ্ন, একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

এটা কার বুদ্ধি ? ​

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সবার আগে সাকিবের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া দরকার

শওগাত আলী সাগর

সবার আগে সাকিবের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া দরকার

ক্রিকেটার সাকিবকে নিয়ে নানা জনের নানা রকমের প্রতিক্রিয়ার কোনোটাই পড়িনি, পড়ার প্রয়োজন মনে করিনি। সাকিব একজন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, যে কোনো পরিস্থিতিতে তার আচরণ হবে খেলোয়াড়সুলভ- এটিই হচ্ছে বটমলাইন। এর ব্যত্যয় হলে সেটিকে অবশ্যই ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে বিবেচনায় নিতে হবে।

একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় ‘বিহেভিয়ারাল নর্মস’ সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন থাকেন, থাকতে হয়। সেখানে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন হয়ে পরে। 

সাকিব আল হাসানের ঘটনাকে আমি এই আঙ্গিকে দেখার পক্ষপাতি। একজন খেলোয়াড় হুটহাট রেগে যান না, রেগে গেলেও তারা ভায়োলেন্ট রিঅ্যাকশন দেখান না। যখন এগুলো ঘটে তখন তার মানসিক অবস্থার দিকে মনোযোগ দেয়া জরুরী হয়ে পরে। সাকিব কী কোনো স্ট্রেসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন? তার মানসিক সুস্থতায় কোথাও কী কোনো ধরনের আচড় লেগেছে? কোভিডকালে অনেক মানুষই কোনো না কোনো ভাবে মানসিক অবসাদে ভোগছেন, মানসিক চাপের মধ্যে পরেছেন। সাকিবেরও সে ধরনের কোনো পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। আমি মনে করি, সাকিবের সবার আগে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শ্মরণাপন্ন হওয়া দরকার। সাকিবের যারা শুভাকাংখী তারা নিশ্চয়ই তাকে এই পরামর্শটা দেবেন। 

বাই দ্যা ওয়ে,মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞর শ্মরণাপন্ন হওয়ার কথা শুনে  নাক সিটকাবেন না যেনো। উন্নত দেশগুলোতে যে কোনো মানুষের মানসিক স্বাস্থকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। অনেক বড় বড় সেলিব্রেটিকেও এমন কি গবেষক, শিক্ষাবিদদেরও  অনেক সময় ’অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট’ এর ভেতর দিয়ে যেতে হয়। এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ‘ওয়েলনেস প্রসিডিউর’।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ও তো একটা বেশ্যা

তসলিমা নাসরিন

ও তো একটা বেশ্যা

মেয়েদের আন্দোলনে ''আমার শরীর, আমার সিদ্ধান্ত'' স্লোগানটা কেমন লাগে?
ভীষণ ভালো। 
সমর্থন করো?
ভীষণ। 

এই যে  তোমার শহরে একটি মেয়ে বিবাহিত অবস্থায় স্বামী নয়, অন্য কারো  সঙ্গে শুয়ে প্রেগনেন্ট হলো, একে কিভাবে দেখ? 
ওর কথা বলো না, ও  তো একটা বেশ্যা। 
হলিউডের নায়িকা ''বি'' কে তোমার ভালো লাগে? 
ভীষণ। 

''বি'' তো বিবাহিতা, কিন্তু বয়ফ্রেন্ডের বাচ্চা তার পেটে। তারপরও ভালো লাগে? 
ওর অভিনয়ের কোনও তুলনা হয়? হয় না। 
আর বাচ্চা যে পেটে, একে অবৈধ বলবে না? 
এটা ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার। 
নাকি ও তোমার শহরের বা দেশের  মেয়ে নয় বলে মেনে নিচ্ছ? 
পাশ্চাত্যে ওসব চলে। 
এখানে চলে না? 
মোটেও না। 

তাহলে তোমার শহরে  'আমার শরীর আমার সিদ্ধান্ত' স্লোগান দিয়ে যখন মিছিল  বের হয়, সেই মিছিলে কেন সামিল হও? 
হবো না কেন? 
প্রগতিশীল বনার জন্য? 
এ কেমন অদ্ভুত প্রশ্ন? গেট লস্ট।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর