ঠিক এই মুহুর্তটি খুব ট্রানজিশনাল

টুকু জামিল

ঠিক এই মুহুর্তটি খুব ট্রানজিশনাল

যদি ধরেন আজকে ঈদের চাঁদ না দেখা যায় তাহলে আগামীকাল হবে ঈদের আগের দিন আর পরশু ঈদ। আমার জীবনে ঠিক এই মুহুর্তটি খুব ট্রানজিশনাল, আমি একটা এনিগমার মধ্যে ভুগি এই সময়টায়। আমাকে তাড়া করে ফেরে আজকে থেকে ৩১ বছর আগের ঠিক এই দিনগুলো। 

এই সময়টি ছিল ১৯৯০ সালের ২৫ এপ্রিল, অন্যান্য গ্রীষ্মের সকালের মতই আমাদের ঘুম ভেঙ্গেছিল। আমি তখন ক্লাস এইটে পড়ি, দুইদিন পরে ঈদ। ১০-১২ দিনের মধ্যে মা চলে যাবে ইউ এস এতে ১৩ মাসের জন্য। সকাল ১০ টা নাগাদ বাবা তখন কোর্টের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে গেছেন, আম্মাও অফিসে যাবে মনে হয়। হঠাত দেখি আমাদের বাসায় কিছু পরিচিত আত্মীয়- স্বজন আর আম্মার একান্ত কিছু স্টাফের আনাগোনা। 

কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে সাহস পাচ্ছি না, আব্বা চলে আসলেন কিছুক্ষনের মধ্যে- বড় ভাই মুনির নাকি ঢাকায় অসুস্থ, আব্বা দুপুর দেড়টার শাকিল খানে ঢাকায় যাবে। আমি বোধহয় দ্রুত আব্বার স্যুটকেস গুছিয়ে দিলাম, আব্বা লঞ্চ ঘাটের উদ্দেশ্যে চলে গেলেন যথারিতি ঢাকার উদ্দেশ্যে। এদিকে বাসায় লোকজন বারছেই, কেউ আম্মার সামনে কিছু বলছে না। বড় ভাই মুনির অসুস্থ... আম্মা যদি আরও টেনশনে অসুস্থ হয়ে যায়। বিকাল বেলা মেঝো ভাই, জাকিরকে খুব সম্ভবত দূর থেকে কাদতে দেখলাম। আমি সন্ধ্যায় পড়তেও বসে গেছি, ইফতারের পরে। 

তারপর রাতে ঘুমালাম, সকালে উঠে দেখি বাসায় কান্নার রোল ... মুনির নাকি মারা গেছে। আমি অবাক... কিছু বুঝতে না বুঝতে আম্মার অফিশিয়াল গাড়ি নিয়ে ড্রাইভার আতাহার কাক্কু আমাদের সবাইকে দাদীর বাড়িতে নিয়ে আসলো...  সকাল ৮ টা নাগাদ আসলো সেই ট্রাক, লাশবাহী ট্রাক। জানালায় লাল পতাকা লাগানো কালকে ঈদ, জীবনে প্রথম মনে হয় সেদিন কফিন দেখেছিলাম। কোথা থেকে একটা শাবল যোগাড় করে চাড় দিয়ে কফিন খোলা হল- মনিরের নিথর লাশ। চোখে সুরমা দেয়া, কর্পুর লাগানো- গলায় থুত্নি পর্যন্ত লাশকাটা সেলাই- ক্লিন শেভড মুখ।

মুনির মারা গিয়েছিল আগেরদিন সকাল ৯-১০টার মধ্যেই, অফিশিয়ালি আত্মহত্যা। অথচ আমাদের পরিচিত প্রিয় আত্মীয় স্বজনরা আমার বাবার মত পলিটিকালি ইনফ্ল্যেনশিয়াল লোককে ভাওতা দিয়ে অসুস্থতার কথা বলে লঞ্চে উঠিয়ে দিয়েছিল। তথাকথিত ময়না তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন, তিনি কিছুতেই ঢাকায় যোগাযোগ না রাখতে পারেন। খুব দ্রুততার সাথে লাশের সুরতাহাল, উদ্দার, ময়না তদন্ত ,গোছল শেষ করে মুনিরের লাশ যখন পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে রাত ৯ টায় রওনা দিয়েছে বাবা তখন সবে লঞ্চে বরিশাল লঞ্চ ঘাটে পৌছেছেন, যিনি তখনও জানেন না তার সবচেয়ে বড় ছেলেটি মারা গেছে অনেক আগেই। বাবাকে বরিশাল লঞ্চ ঘাট থেকেই নামিয়ে আনা হয়েছিল আর রাত ১২ টা নাগাদ তিনি বরিশালের সেজো চাচার অফিশিয়াল গাড়ি নিয়ে পটুয়াখালীতে পৌছেছিলেন।

দুপুর বেলা পুরাতন হাসপাতালের কাছে শিশু একাডেমির সামনে জানাজা শেষ করে আমরা মুনিরকে পটুয়াখালী কবরস্থানে দাফন করি। সেদিন রাতে দারুন কাল বৈশাখী ঝড় হয়েছিল- অনেক বৃষ্টি। দাদীর বাসায় সামনের বারান্দায় বিছানায় শুয়েছিলাম, আমি আর আব্বা। আব্বা বলেছিলেন, বৃষ্টির শব্দে আর কান্নার শব্দে- মুনিরের কবরে পানি ঢুকছে, না ?- আমরা দুজনেই ভীষণ কাঁদছিলাম, একজন পিতা তাঁর সন্তানকে হারিয়েছেন।

তার পরেরদিন ঈদ, আম্মার চিৎকার আর কান্নায় শুরু হয়েছিল সেদিনটি। এরপর আম্মা যতদিন বেচেছিলেন, আমাদের প্রতিটি ঈদ শুরু হত মুনিরের জন্য কান্নায়।

এই দুঃস্বপ্ন আমাকে ভীষণ তাড়া করে গত ৩১ বছর... একটা রোলার কোস্টারের মত ঘোর লাগা এনিগমা। আমি চারপাশে খুব যেন, একটা অস্থিরতার শব্দ টের পাই ঈদের দিনের ঠিক ২ দিন আগে থেকেই... একটা লাশ, চোখে সুরমা-কর্পুর, গলা পর্যন্ত সেলাই, বাবার হাআতে সিকো ঘড়ি, গায়ে শাদা পাঞ্জাবি, কফিন আর কিছু কান্না- এক অবিমিশ্র ঘোর।

news24bd.tv / কামরুল  

পরবর্তী খবর

সাংবাদিক কোনো পক্ষের হয়ে গেলে তিনি আর সাংবাদিক থাকেন না

শওগাত আলী সাগর

সাংবাদিক কোনো পক্ষের হয়ে গেলে তিনি আর সাংবাদিক থাকেন না

কানাডিয়ান মিডিয়া আপনার লেখাটা খুলে দেখার আগে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট এর দিকে নজর দেয়। ওখানে আপনি কী করেন, কী লেখেন, সেইগুলোর ভেতর দিয়ে ঘুরে এসে আপনার লেখাটা খুলে বসেন।’ – এইটুকু শুনে চমকে উঠেছিলাম। কানাডার কর্পোরেট অফিসগুলোর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া নীতিমালা আছে, সাংবাদিকদেরও আছে, কিন্তু লেখা ছাপা হওয়া না হওয়ার সাথে লেখকের, সাংবাদিকের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টের সম্পর্ক কী?

সেই সম্পর্কটাই ব্যাখ্যা করছিলেন রজার বেলগ্রেভ, টরন্টো স্টারের কলামিষ্ট। অভিবাসী সাংবাদিকদের কানাডিয়ান জার্নালিজমের ধারায় তৈরি করতে ‘নিউ কানাডিয়ান মিডিয়ার (এনসিএম) এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথা এর আগেও বলেছিলাম।

আরও পড়ুন:


বিপদটা এখানেই

ফ্রান্সের কাছে জার্মানির হার

ওমানের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

মুমিনদের সম্পর্কের গুরুত্ব, ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ হক

‘তা হলে কানাডিয়ান মিডিয়া বাইরের লেখকদের (যারা প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত নন) লেখা কিভাবে মূল্যায়ন করে? মানে কোন লেখাটা ছাপা হবে, কোন লেখাটা ছাপা হবে না- এই সিদ্ধান্তটা কীভাবে হয়!’- প্রশ্নটা আসলে আমাদের সবারই মনের প্রশ্ন। আমরা মানে- আমাদের যাদের পরিচয়- এথনিক সাংবাদিক, পলিটিশিয়ানদের অনেকেই এখন ‘কালচারাল মিডিয়া’ নামেও ডাকে। আমরা যারা কানাডিয়ান মূলধারার পত্রপত্রিকায় আমাদের লেখা ছাপ হোক- তেমন স্বপ্ন দেখি, তাদের জন্য তো অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

কিন্তু লেখা দেখার আগে লেখকের সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে তারা নজর দেয় কেন? কারো লেখা প্রকাশের আগে কানাডিয়ান মিডিয়া নিশ্চিত হতে চায়, যিনি লিখছেন, যে বিষয়ে লিখছেন, এই বিষয়ে তিনি এক্টিভিজম করছেন কী না। যেই বিষয় নিয়ে কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক্টিভিজম করছেন- সেই বিষয় নিয়ে তার লেখা প্রকাশ না করার নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করে কানাডিয়ান মিডিয়া।

টরন্টো স্টারের রিপোর্টারদের জন্য যে লিখিত নীতিমালা আছে, তাতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, একজন সাংবাদিক একই সাথে সংবাদ এবং সাংবাদিক- দুই ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারবেন না। যিনি সাংবাদিক তিনি কেবল সাংবাদিকতাই করবেন, সংবাদ হবেন না, তিনি যখন সংবাদ হয়ে উঠবেন- তখন তার সাংবাদিকতার ইতি। এক্টিভিজমকে সংবাদ হিসেবে দেখে তারা, ফলে এক্টিভিষ্টকে সংবাদ কিংবা সংবাদপত্রের লেখক হিসেবে তারা অনুমোদন করে না।

এক্টিভিষ্টের সাংবাদিক হওয়ায় সমস্যা কোথায়? সমস্যা আছে। একজন এক্টিভিষ্ট একটি পক্ষের হয়ে তার লড়াইটা করেন। কিন্তু সাংবাদিককে কোনো পক্ষের হলে চলে না। তিনি যখন কোনো পক্ষের হয়ে যান- তখন তিনি আর সাংবাদিক থাকেন না, তখন তিনি হয়ে যান এক্টিভিষ্ট।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

বিপদটা এখানেই

গুলজার হোসেন উজ্জল

বিপদটা এখানেই

ক্রিটিক্যাল থিংকিং একটু আনকমন জিনিস। স্টেরিওটাইপ চিন্তার বাইরে মানুষ যেতে পারেনা সহজে। অধিকাংশ মানুষ চালিত হয় সেন্টিমেন্ট দিয়ে। এটাকে আমরা বলি পাবলিক সেন্টিমেন্ট।

তাই যারা একটু চালাক তারা সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগায়। এরা আমাদের সমাজে সাক্সেসফুল হিসেবে পরিচিতি পায়। 
ইদানিং ফেসবুক পাবলিক সেন্টিমেন্ট উৎপাদনের এক উর্বর জমিতে পরিণত হয়েছে৷ তাই যারা একটু বেশি চালাক তারা ফেসবুকের আম আদমীদের সেন্টিমেন্ট কাজে লাগিয়ে অল্প চাপে বেশি পানি বের করছেন। সাধারণভাবে যা সহজে পারা যায় না ফেসবুক সেন্টিমেন্ট ক্রিয়েট করে তা সহজেই হাসিল করা যাচ্ছে৷ বেশ সফলতাও আসছে তাতে।

আমাদের আটোপৌরে আম ফেসবুকাররা একটি ঘটনার যেকোন একটি ন্যারেটিভকেই সত্য বলে ধরে নেয়। সেই সত্যকে তারা বিবেচনা করে কখনো ধর্মীয় মূল্যবোধের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, কখনো প্রগতিবাদের চোখ দিয়ে, কখনো পুরুষতন্ত্রের প্রতিনিধি হয়ে, কখনো বা নারীবাদের দৃষ্টিকোণ থেকে।

বস্তুত অপরাধ মনস্তত্ত্ব মানুষের প্রবৃত্তির একটি ফল। এর সাথে আরো কিছু উপাদান থাকে।  এটি প্রায় সকল মতবাদের উর্ধে। তাই যে কোন অপরাধমূলক ঘটনাকে দেখতে হয় একদম উপর থেকে নির্লিপ্ত দর্শকের চোখ দিয়ে। নাহলে যে কেউ যখন তখন অন্যায়ভাবে ভিক্টিমাইজ হতে পারে।

একারণেই মানুষ সভ্য হবার সাথে সাথে বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে৷ বিচার ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করতে  উকিলের প্রচলন করেছে।

আইনের শাসন যেখানে আছে সেখানে একজন খুনীরও উকিল থাকে। সেই উকিল অভিযুক্তের হয়ে তার পক্ষের যুক্তিগুলো উপস্থাপন করে। আবার ভিক্টিমেরও উকিল তার মক্কেলের পক্ষে বলে। দুটো ভিন্ন ন্যারেটিভকে বিবেচনায় নিয়ে পদ্ধতিগতভাবে বিচারের কাজটি করা হয়। উকিল মূলত একাধিক ন্যারেটিভ তৈরির কাজটিই করে দেন যেন বিচার প্রক্রিয়ায় বিচারক একটি বিস্তৃত দৃশ্যপট দেখতে পান। একাধিক ন্যারেটিভকে বিবেচনায় রেখে মতামত দেওয়াটা সভ্য ও পরিণত সমাজের বৈশিষ্ট্য। 
আম ফেসবুকাররা ইদানিং এক নতুন বিচার ব্যবস্থা কায়েম করেছে, সেটিকে বলা হচ্ছে মিডিয়া ট্রায়াল। এটি টানেল ভিশনের একটি প্রতিফলন।  এখানে এক পক্ষের উকিল আরেক পক্ষের উকিলকে মানতে পারেনা। পারেনা তো পারেইনা৷ এখানে একাধিক ন্যারেটিভকে একসাথে দেখার চল নাই।

মিডিয়া ট্রায়াল বিচারকে প্রভাবিত করছে অনেকটা।  অন্তত প্রাথমিকভাবে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করে সামাজিকভাবে হেয় করছে। যদিও পরে দেখা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া যাকে ফেরেশতা ভেবেছিল সেই আসল অপরাধী। উদাহরণ দিয়ে বলি,  কিছুকাল আগেও বরগুনার মিন্নি এবং পুলিশ অফিসার বাবুলকে আমি ভাল মানুষ ভেবেছিলাম। যারা এদের সন্দেহ করেছিলো আমি তাদের জটিল মানুষ ভেবেছিলাম। পরে কি বেরুলো  সবাই তো জানেন।  কিন্তু একটা অন্তত ভাল কাজ আমি করেছি। সেইসব ইস্যুতে আমি মতামত দেইনি। কারণ এটুকু আমি জানতাম "যে কোন কিছুই হতে পারে।’

ফেসবুক রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকান কিংবা গ্রামের পুকুর ঘাটের সমাজ বিশ্লেষণের আধুনিক রূপান্তর হলেও অনেক ক্ষেত্রেই সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভূমিকা রাখছে। এটি ভাল এবং মন্দ দুটোই। নির্ভার হয়ে ভাল বলা যেতো যদি এর ব্যবহারকারীরা ন্যুনতম বুদ্ধি রাখে সেই নিশ্চয়তা পেতাম।

কিন্তু বিপদটা হলো এখানে আসলে সবাই সেন্টিমেন্টাল হয়ে যায়৷ কলেজ পড়ুয়া টিনএজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পর্যন্ত। সবার উদ্দেশ্য থাকে একটাই "সর্বোচ্চ শুদ্ধ নীতি কথা বলতে হবে"। নিজকে নীতিবান হিসেবে প্রচার করার এই উদ্দেশ্য হাসিল করতে যেয়ে নীতি বিরুদ্ধ হতেও তাদের বাধে না।

ফেসবুক যেন  আজব নেশা। মধ্যরাতে ক্লাবে গিয়ে মদ খেয়ে মাতলামি করার মতই ফেসবুকে মাতাল হতে আসে ছেলেবুড়ো অনেকেই। মাতালে মাতালে ঝগড়া করে এর ওর নামে দল বেধে বিষোদগারও করে।

মদ তবু একটি নিরপেক্ষ জিনিস৷ ফেসবুকের মাতালরা মাতলামি করে সমাজ ও রাষ্ট্রের সিরিয়াস ইস্যু নিয়ে। এরা রীতিমত দার্শনিকের চরিত্রে অভিনয় করে। অনেকেই এদেরকে সিরিয়াসলিও নেয়।  বিপদটা এখানেই।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

অবস্থান মেপে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আজ ভ্যাকসিন পাবেন কী না

শওগাত আলী সাগর

অবস্থান মেপে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আজ ভ্যাকসিন পাবেন কী না

এমপিপি ডলি বেগমের অফিস থেকে কাল বিকেলেই ইমেইলে সবাইকে জানানো হয়েছিলো ওয়ার্ডেন হিলটপের আজকের ভ্যাকসিন ক্রিনিকের কথা। ‘আগে আসলে আগে পাবেন  ভিত্তিতে’ বা যতোক্ষণ সাপ্লাই থাকে ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দেয়া হবে সেটিও জানানো হয়েছিলো। 

সকাল সাড়ে ৮টায় ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হলেও প্রথম ব্যক্তিটি লাইনে এসে দাঁড়িয়েছেন রাত ১.৩০ মিনিটে। সকালে ভ্যাকসিন ক্লিনিক খোলার আগে সেই লাইনটা কোথায় গিয়েছে? 

মূলধারার মিডিয়ার ফটোগ্রাফাররা অনেক কসরত করেও অপেক্ষমান মানুষের পুরো লাইনের ধারনা পাওয়া যায়- এমন একটি ছবি তুলতে সক্ষম হননি।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া দ্বিতীয় ডোজ পেতে আগ্রহীদের জন্য ভ্যাকসিন পাবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিলো এই ভ্যাকসিন ক্লিনিকে।

আরও পড়ুন:


আম্পায়ারের ওপর চড়াও হয়ে লাথি দিয়ে স্ট্যাম্প ভাঙলেন সাকিব (ভিডিও)

রাজশাহী মেডিকেলে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ১৫ জনের মৃত্যু

সুযোগ পেলে নায়ক হিসেবে অভিনয় করতে রাজি বেরোবি উপাচার্য কলিমউল্লাহ

পাওনা টাকা না দেওয়ায় প্রায় ৬ কোটি টাকার বাড়ি ভেঙে দিলেন মিস্ত্রি


মাত্র ২ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন দেয়ার সক্ষমতা আছে আজকের ক্লিনিকে। কাজেই যারা লাইনে আছেন, তারা তাদের অবস্থান মেপে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন- আজ ভ্যাকসিন পাবেন কী না।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

এখানে লকডাউন মানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি, আর সব কিছু চলবে!

রাখাল রাহা

এখানে লকডাউন মানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি, আর সব কিছু চলবে!

সরকার বলছে দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫% এর নীচে না নামলে সে স্কুল-কলেজ খুলবে না! কিন্তু সরকার যেভাবে করোনা টেষ্ট করছে চাইলেই এই হার তার পক্ষে আরো কয়েক বছর ধরে ৫%-এর উপরে রাখা সম্ভব! তাহলে কি এভাবেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বছরের পর বছর?

১৫১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে! দেশে আত্মহত্যার হার বেড়েছে প্রায় ৪৫%! দুনিয়ার কোনো সভ্য দেশ এভাবে একটানা ৪৫৬ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে করোনা মোকাবেলা করছে না! সবচেয়ে আক্রান্ত দেশগুলোও সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রেখে করোনা মোকাবেলা করছে!

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে করোনা দূর করার কসরৎ উত্তর কোরিয়া, বার্মা, কম্বোডিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, ফিলিপাইন, ইরাক, আজারবাইজান, মাদাগাস্কার এরকম ১৬টি দেশ, যাদের অধিকাংশই করোনায় সবচেয়ে কম আক্রান্ত দেশ। সুতরাং দেখুন, কোনো সিঙ্গাপুর বা কানাডা নয়, বাংলাদেশ এই ১৬টি দেশের মধ্যে রয়েছে! আর এখানে লকডাউন মানে শুধুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি, আর সব কিছু চলবে! এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি! 

তাহলে এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো টিকবে, শিক্ষার্থীরা বাঁচবে?
কথা বলবেন সহজপাঠ (ঢাকা) ও ফুলকি (চট্টগ্রাম) স্কুল; উদয়ন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ও ইকবাল সিদ্দিকী (গাজীপুর) কলেজ; এবং তামিরুল মিল্লাত (টঙ্গী) ও মাদ্রাসাতুল মদীনা (বগুড়া) মাদ্রাসার প্রধানগণ। 

আজ ১৫ই জুন ২০২১ মঙ্গলবার রাত ৯টায়। 

লাইভ সম্প্রচার লিংক :https://www.facebook.com/shishir.movement

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

স্যালুট বঙ্গবীর, আপনি দীর্ঘজীবী হোন

সোহেল সানি

স্যালুট বঙ্গবীর, আপনি দীর্ঘজীবী হোন

ছবি- বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম)

পড়েনি, কোনদিনও পড়বে না বঙ্গবীরের। কেননা এটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন তৈরি করেছে অথবা ছন্দপতন ঘটিয়েছে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের।

শুভ জন্মদিন এই মহান নেতা বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। আপনি বেঁচে থাকবেন বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের মনের মনিকোঠায়-অনন্তকাল ধরে। কারণ আপনিই একমাত্র সেই যোদ্ধা যিনি অস্ত্র হাতে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

স্যালুট বঙ্গবীর। আপনি দীর্ঘজীবী হোন।

সোহেল সানি: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর