প্রকাশক সৎ না হলে পাবে ঘোড়ার আন্ডা

রাউফুল আলম

প্রকাশক সৎ না হলে পাবে ঘোড়ার আন্ডা

বাংলাদেশে লেখালেখি করে কেউ জীবন চালাতে পারবে না। ফলে ডেডিকেইটেড লেখক, ফুল-টাইম লেখক, প্রফেশনাল লেখক, গবেষক ও অনুবাদক উঠে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এর জন‍্য দায়ী প্রকাশক ও পাঠক।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ প্রকাশক নৈতিকতাহীন। দুষ্ট। অসৎ।

লেখকদেরকে বইয়ের হিসেব দেয় না। রয়ালটি দেয় না। —এইসব অভিযোগ তো বহু পুরানো। কিন্তু ওরা এরচেয়ে আরো অনেক বেশি খারাপ!
কতোভাগ প্রকাশক ভালো? —ত্রিশ ভাগ? বড়ো জোড় চল্লিশ ভাগ!

পত্রিকাগুলোও নোংরা। তারা উপার্জন করবে প্রচুর কিন্তু লেখকদের টাকা দিবে ফকিরের মতো। এগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। কথা বলা উচিত।

এখন পাঠকের কথা যদি বলি, তাহলে পাঠক বই কিনতে অনাগ্রহী। পাঁচশ টাকা চায়ের বিল দিবে কিন্তু বইয়ের দাম দুইশ টাকা হলেই আর পেরে ওঠে না। আঠারো কোটি মানুষের দেশে আঠারো লক্ষ পাঠক নেই যারা নিয়মিত বই কেনে। শখ করে বই কেনে। বই উপহার দেয়। আর এ যুগে এসে বই বের না হতেই পিডিএফ চাওয়া শুরু করে। আদতে সেসব পিডিএফ কোনোদিন খুলেও দেখে না। তবুও চাইবে।

কোন বইয়ের গায়ের ম‍ূল‍্য যদি দুইশত টাকা হয়, সে বই থেকে লেখক পায় ১৫-২০ টাকা। কিংবা আরো কম! তাহলে সে বই যদি মাসে এক হাজার কপিও বিক্রি হয়, লেখক পাবে সবোর্চ্চ বিশ হাজার টাকা। যদি প্রকাশক সৎ হয়। প্রকাশক সৎ না হলে পাবে ঘোড়ার আন্ডা।

তাহলে কেউ যদি মাসে পঞ্চাশ-ষাট হাজার টাকা উপার্জন করতে চায়, তাহলে তার বই বিক্রি হতে হবে মাসে অন্তত তিন-চার হাজার কপি! বছরে প্রায় চল্লিশ-পঞ্চাশ হাজার! এই সময়ে এসে এটা প্রায় অসম্ভব ব‍্যাপার! তাহলে জীবিকা হিসেবে লেখালেখিকে বেছে নিবে কেন?

নব্বইয়ের দশকেও দেশে প্রবাসী লেখকের সংখ‍্যা তেমন ছিলো না। এখন অনেক। এই সংখ‍্যা আরো বাড়বে। প্রাবাসী লেখকরা টাকার জন‍্য লেখে না। লিখতে হয় না। দেশে বই বিক্রির টাকা দিয়ে প্রবাসে গাড়ির তেল খরচও উঠবে না। ফলে দিন দিন প্রবাসী লেখকের সংখ‍্যা বাড়বে। দেশে ধর্মীয় বইয়ের লেখকও বাড়বে। কারণ ধর্মীয় বই মানুষ কেনে বেশি। প্রকাশকরাও ছাপাতে আগ্রহী!

দেশে বসে যারা লেখে, তারা অর্থ-কষ্টে থাকে। তাদের অনেকেই লেখক হয়ে ওঠে কিন্তু জীবনযুদ্ধে জর্জরিত। তাদেরকে দেখার কেউ নেই! শুধু মরার পর বেঁচে থাকার এক ইলুশন, মিথ‍্যা মোহ নিয়ে সবাই লেখক হয়ে ওঠে না।

আমাদের দেশে অনেক তালিকা হয়। এখন সময় হয়েছে অসৎ ও নৈতিকতাহীন প্রকাশকদের একটা তালিকা প্রকাশ করা। এই তালিকা প্রকাশ করলে কিছু লেখক দেশে বসেও খেয়ে-পড়ে বাঁচতে পারবে বলে আমার মনে হয়।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

আমাদের কাছে মৃত্যুহার ৪০-৫৫ পারসেন্ট

ডা. শাহজাদ হোসেন মাসুম

আমাদের কাছে মৃত্যুহার ৪০-৫৫ পারসেন্ট

ডা. শাহজাদ হোসেন মাসুম

শুধু আপনারাই মধ্যবিত্ত নন। আমরা ডাক্তাররাও মূলত মধ্যবিত্ত। খুব অল্প সংখ্যক চিকিৎসকদেরই আপনারা উচ্চবিত্ত হিসেবে দেখে ভুল করে সবাইকে এক কাতারে ফেলে দেন। আমাদের সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সামাজিক যোগাযোগ নিম্নবিত্ত মানুষের। 

তারা কেউ আমাদের আত্মীয়, কেউ ডিপেনডেন্ট। কেউ আমাদের পরিচিত সবজি বিক্রেতা, কেউ মুদি দোকানদার, কেউ সিএনজি ড্রাইভার, কেউ পাড়ার রিকশাওয়ালা। কেউ প্লাম্বার, কেউ ইলেকট্রিশিয়ান, কেউ দারোয়ান, বাজারের নাইট গার্ড, অনেক পেশার স্বল্প আয়ের মানুষ। আমরা সবই দেখি।

সবার মুখের হাসি মিলিয়ে গেছে। মানুষ টিকে থাকার লড়াই করছে, কেউ হেরে গিয়ে চোখের পানি নিয়ে কোথাও হারিয়ে গেছে, কেউ খাবি খেয়ে খেয়ে টিকে আছে। তাদের সংসার কিভাবে চলছে তারাই জানে। যারা কচুক্ষেতে বাজার করেন তারা জানবেন রজনীগন্ধা মার্কেট আর কচুক্ষেত বাজারের মাঝখানের জায়গাটায় আগে প্রতি সন্ধ্যায় ভ্যানের উপর খাবারের দোকান বসতো, অন্য অনেক দোকানও বসতো। তাদের ক্রেতারাও ছিলেন স্বল্প আয়ের মানুষ। এসব আমার চোখে পড়তো। ওই জায়গাটা আমার পছন্দের জায়গা ছিল। 

আমি সেখানকার মানুষদের দেখতাম। আজ বহুদিন ওই দোকানগুলো আর বসে না। এই মানুষগুলো আজ কিভাবে সংসার চালায় জানিনা। নানা কারণে আমি বাজার করি খোলা বাজারে। আমি বড় ডিপার্টমেন্ট শপের মাছ খেতে পারিনা। টুকরিতে রাখা সবজি আমার দেখতে ভালো লাগে। 

এবার ঈদের বাজার করতে যাবো, হাসপাতাল থেকে বের হয়ে দেখি কালো আকাশ, ঝুম বৃষ্টি। আমাকে স্বপ্নতে যেতেই হলো। কিন্তু আমি সবকিছু সেখান থেকে কিনতে পারিনি। সবার চেহারা আমার মনে পড়ছিল। আমি ফিরে আসি কচুক্ষেতে। কিছুটা ভিজেই বাজার শেষ করি। আমাদের কাছেও সব মানুষের কষ্টই পরিচিত। আমরা এলিয়েন না। 

এই দেশেরই ভূমিপুত্র আমরা। সবার জন্য আমরাও কষ্ট পাই। কিন্তু প্রশ্নটা সর্দিজ্বরের নয়। জীবন মৃত্যুর। একটা প্যান্ডেমিক যার মৃত্যুহার আপনার কাছে কম, আমাদের কাছে বেশি। 

আরও পড়ুন:


ভ্যাকসিন নিয়ে উপহাস করা সেই ব্যক্তির করোনায় মৃত্যু

মাসে এক কোটি টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নামের সাথে লীগ জুড়ে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নেই: কাদের

করোনা: খুলনা বিভাগে একদিনে ৪৫ জনের মৃত্যু


আমাদের ওয়ার্ড উপচানো রোগী। আমরা আমাদের সক্ষমতার বাইরে রোগী নিচ্ছি। আমাদের ওয়ার্ডের, ইমারজেন্সির, ট্রায়াজের চিকিৎসকরা ক্লান্ত। তাঁদের কাছে মৃত্যুহার কিন্তু এক বা দুই পারসেন্ট নয়। পাঁচ থেকে সাত পারসেন্ট। তাঁরা আতংকিত। 

আর আমরা যারা আইসিইউতে কাজ করছি, আমাদের কাছে মৃত্যুহারটি চল্লিশ থেকে পঞ্চান্ন পারসেন্ট। আমরা ক্লান্ত, অবসন্ন, বিষন্ন। আমরা আতংকিতও। 

আমদের কাছে কোভিডের চেহারা আর আপনাদের কাছে কোভিডের চেহারা এক নয়। ব্রিফিংএর সময় আইসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে রোগীদের স্বজনদের মুখগুলো দেখে যেতে পারেন।

কাজেই আমরা যখন বীরপুঙ্গবদের মাস্কহীন চেহারা দেখি বা কেউ ইন্টারনেটপ্রাপ্ত জ্ঞান নিয়ে আমাদের শেখাতে আসেন তখন আমরা কঠিন করে কথা বলি। আপনাদের যদি তা খারাপ লাগে তাহলে গিলে ফেলবেন। এমনিতে না পারলে পানি দিয়ে গিলে ফেলবেন। অনুরোধ জানাই। বিনীত অনুরোধ।

লেখাটি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, ডা. শাহজাদ হোসেন মাসুম-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া।

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

দর্শন কোন কাজে লাগে? উত্তর দেয়ার আগে নিৎসের কিছু কথা শোনাই

শান্তা আনোয়ার

দর্শন কোন কাজে লাগে? উত্তর দেয়ার আগে নিৎসের কিছু কথা শোনাই

ফ্রেডরিক নিৎসে

দর্শন ( philosophy) আমাদের কোন কাজে লাগে? এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে আপনাদের নিৎসের কিছু কথা শোনাই। দার্শনিক নিৎসে তার সময়ের সমসাময়িক অন্যান্য দার্শনিককুলকে ক্যাবেজ হেড বা "বাঁধাকপি-মাথা" হিসাবে ডাকতেন। নিৎসে ছিলেন আত্মগরিমা বা ইগোতে ভরপুর। 

তিনি বলেছিলেন: ‘আমার নিয়তি হচ্ছে প্রথম ডিসেন্ট মানুষ হওয়া। আমার সবচেয়ে বড় আতংক এই যে আমাকে এই পৃথিবী একদিন পূজনীয় বলে ঘোষণা করবে।’

ভবিষ্যতের মানুষ কীভাবে তাঁর কাজ উপভোগ করবে সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি একটা চিঠিতে লিখেছিলেন, “আমার কাছে মনে হয় যে আমার একটি বই হাতে নেওয়াই কারো জন্য সেই বিরলতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠবে যা কেউ নিজেকে উপহার দিতে পারে। এমনকি আমি কল্পনা করতে পারি যে তিনি যখন জুতা খোলার কথা বলেন তখন জুতোই খোলেন - বুটের কথা বলেন না।’

কোটেশনটা অনুবাদ জন্য হয়তো বুঝতে অসুবিধা হতে পারে। কিন্তু তিনি যা বলতে চেয়েছেন তা হচ্ছে, উনার বই পড়বেন ‘কুল’ পাবলিকেরা। যারা প্রসঙ্গে থেকে আলাপ করতে পারে, যা বলতে চায় তা সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা অথবা বিশ্লেষণ করতে পারে। 

এর প্রায় দেড় শতাব্দী পরে, নিৎসের স্বাস্থ্যকর অহং বা ইগো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে-একটি আশ্চর্যরকম আধুনিক কারণের জন্য। তিনিই প্রথম বলেছিলেন, প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়টাই জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। এর ফলে আমরা আরো শক্তিমান হয়ে উঠি। ফেইলিওর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস কথাটা আসলে নীৎসের। 

আরও পড়ুন:


স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাসব্যাপী আগস্টের কর্মসূচী ঘোষণা

জার্মানিতে বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

রেকর্ড গড়েই টোকিও অলিম্পিকের প্রথম সোনা জিতলেন চীনা তরুণী

বৃষ্টিপাতে ভারতের গোয়ায় ধস, ট্রেন লাইনচ্যুত (ভিডিও)


আজকের যুগে আমাদের "ব্যর্থতার উপহার" উদযাপন এবং নির্ভীকতার প্রসারের জন্য, আর সেইসাথে আমাদের ব্যর্থতার ফেটিশিজম উদযাপনের এক শতাব্দীরও বেশি আগে, নিটশে এই মূল্যবোধগুলিকে প্রথম পৃথিবীবাসীকে শিখিয়েছিলেন। আর তিনি মিথ্যা বলেননি, এখনো নিৎসে পড়াটা এক বিরলতম অভিজ্ঞতাই হয়ে থেকেছে। আমার মনে হয় তার একটা বড় কারণ নিৎসের ভাষা। তিনি এমন ভাষায় লিখতেন যে আমাদের পক্ষে তা অনুবাদ করে মর্মোদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব। 

অনেকে বলেন, দর্শন কী কাজে লাগে? আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সব কাজেই, সব মূল্যবোধেই সব চর্চাতেই দর্শন লুকিয়ে আছে, আমরা সেটা দেখতে অথবা অনুভব করতে পারি না। ঠিক যেভাবে ম্যানেজমেন্টের বহুল আলোচিত ‘ফেইলিউর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস’ এটা যে আসলে নিৎসের দর্শন সেটাও আমরা অনেকেই জানতাম না।

লেখাটি শান্তা আনোয়ার-এর ফেসবুক থেকে নেয়া হয়েছে। (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

চাঁদে আজান শোনার বিরুদ্ধে বললে তারা ক্ষেপে উঠে

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

চাঁদে আজান শোনার বিরুদ্ধে বললে তারা ক্ষেপে উঠে

কথা বললাম আফগানিস্তানের একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে, আর ক্ষেপে উঠলো বাংলাদেশের মানুষ। এ দুইটির যোগসূত্র মেলাতে গিয়ে দেখলাম, আফগানিস্তান হলো আফিম চাষের দেশ, আর বাংলাদেশ হলো পাট চাষের দেশ। 

পাট নিয়ে গবেষণা করেন, এমন একজন বিজ্ঞানীকে একটু আগে অনুরোধ জানালাম, পাট পাতার কোনো মাদকীয় গুণাবলী আছে কি না, তা একটু খতিয়ে দেখতে। 

আমি যখন আমেরিকার বিরুদ্ধে, স্তালিনের বিরুদ্ধে, ওবামার বিরুদ্ধে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে, লেনিনের বিরুদ্ধে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে, শিবসেনার বিরুদ্ধে কথা বলি, তখন কিন্তু তারা ক্ষেপে উঠে না। গ্রাম-গঞ্জে ইমাম সাহেবদের বেতন বাড়ানোর কথা বললেও তারা ক্ষেপে উঠে না। 

তারা ক্ষেপে উঠে শুধু, চাঁদে আজান শোনার বিরুদ্ধে কথা বললে, জাল হাদিসের বিরুদ্ধে কথা বললে, তরুণদের মগজ ধোলাইয়ের বিরুদ্ধে কথা বললে। এমন কি পৃথিবীর নানা অঞ্চলে, মুসলিমদের দুর্দশার কারণ নিয়ে কথা বললেও তারা ক্ষেপে ওঠে।
 
অনেকে আবার ক্ষেপে ওঠাকে দাবি করেন ‌‘সমালোচনা’। বিদ্বেষপ্রসূত অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য আর সমালোচনা যে এক জিনিস নয়, এ সাধারণ বোধটুকোও তাদের নেই। 

‘মানুষ এবং অন্ধকারের প্রশংসা’ রচনাটিতে আমি অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। বহু মানুষ ও জাতির সমালোচনা করেছি। কিন্তু বাঙালি ফেসবুক মুসলিমরা, শুধু বেছে বেছে ওই লাইনগুলো পড়ছেন, যেগুলোতে তাদের বিষয়ে সত্য উচ্চারিত হয়েছে। সত্য উচ্চারণ, এ অঞ্চলে সবসময়ই বিপজ্জনক ছিলো। 

‘ফেসবুক মুসলিম’ আর ‘প্রকৃত মুসলিম’ এক জিনিস নয়। প্রকৃত মুসলিমদের উচিত, ফেসবুক মুসলিমদের থেকে সাবধান থাকা। তারা নানাভাবে ভুলিয়েভালিয়ে, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ব্যবহার করতে চায়।
 
আর আমার লেখা কোনো ইসলামি সাহিত্য নয়। ধর্মসম্মত সাহিত্য বা দর্শন উৎপাদন, এটি আমার কাজ নয়। এ কাজের জন্য অন্যরা আছেন। পৃথিবীতে মানুষের লেখা, একটিও গুরুত্বপূর্ণ বই দেখাতে পারবেন না, যেটি ধর্মসম্মত। বইকে থাকতে হয় ধর্মীয় বৃত্তের বাইরে। বইয়ের কিছু কথা, কাকতালীয়ভাবে আপনার পক্ষে যেতে পারে, আবার বিপক্ষেও যেতে পারে। 

এজন্য আপনি সুস্থভাবে দ্বিমত প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু অনেকেই প্রলাপ বা অর্থহীন বাক্যকে দ্বিমত মনে করেন। গালাগালিকেও দ্বিমত দাবি করেন! খেয়াল করলে দেখা যাবে, যারা প্রলাপ বকেন, তাদের অভিজ্ঞতা ও পড়াশোনো অত্যন্ত সীমিত। এ সীমাবদ্ধতা থেকেই তারা ক্ষেপে ওঠেন। 

আরও পড়ুন:


স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাসব্যাপী আগস্টের কর্মসূচী ঘোষণা

জার্মানিতে বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

রেকর্ড গড়েই টোকিও অলিম্পিকের প্রথম সোনা জিতলেন চীনা তরুণী

বৃষ্টিপাতে ভারতের গোয়ায় ধস, ট্রেন লাইনচ্যুত (ভিডিও)


যার পড়াশোনো ও অভিজ্ঞতা যতো বেশি, তার দ্বিমত প্রকাশের ধরণও ততো উন্নত। অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ আমাকে কমেন্ট এবং ইনবক্সে, সুস্থভাবে তাদের দ্বিমত জানান। এটি আমাকে আনন্দ দেয়। তখন তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো বিষয়কে দেখার সুযোগ তৈরি হয়। 

আর আমি ডগম্যাটিস্ট বা গোঁয়ার নই যে সারাক্ষণ নিজের মতামতে অটল থাকবো। একই বিষয়কে আমি, প্রায়ই নানা মত ও নানা চিন্তার আলোকে বিচার করে থাকি, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী, আমি আমার মতামতে পরিবর্তন আনি। কারণ আমি জানি, মানুষের কোনো মতামতই ধ্রুব সত্য নয়। একমাত্র পাগলের মতামতই ধ্রুব সত্য।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ফকির আলমগীর চাচা জীবনটাকে সেভাবেই জয় করে গেছেন

ফাহমিদা নবী

ফকির আলমগীর চাচা জীবনটাকে সেভাবেই জয় করে গেছেন

ফকির আলমগীর চাচা চলে গেলেন। অত্যন্ত প্রানোচ্ছল হাসিখুশী মানুষ, সংগ্রাম আর গন মানুষের গান গাইতেন। করোনা কালের বিপর্যয় তাঁকে নিয়ে গ্যালো! এই বিপর্যয়ে কে কখন চলে যাবে জানিনা…!

তবে সাবধানতা, সচেতনা নিজেকেই বুঝতে হবে। ভ্যাকসিন টা দিতে হবে। মাস্কটা পড়তে হবে। হাতটা সাবান দিয়ে ঘন ঘন ধুঁতে হবে।

বাতাসে ছড়াচ্ছে করোনার বিষ! সবাই মাস্ক পড়ুন দয়া করে। তাতে করে মাইল্ড করোনা হতে পারে। যা বাড়ীতে থেকে সুস্থ হবার চিকিৎসা নেয়া সম্ভব।

করোনার চিকিৎসা অনেক ব্যয় বহুল মনে রাখতে হবে। নিয়ম মাফিক খাওয়া দাওয়া আর ব্যায়াম করো সবাই। মানসিক সুস্হতা সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন। অল্প ব্যয় এবং নিমিত্তে চলার চেষ্টা করো। প্রকৃতি অনেক ক্ষেপেছে। জলবায়ু পরিবর্তনেই এতো মহামারির রকমভেদ।

হয়তো এই মহামারি আরো অনেকদিন থাকবে কিন্তু এর তেজ কমে আসবে। তাই সচেতনতাই এর একমাত্র চিকিৎসা।

দু:খিত এতো উপদেশ মুলক কথা বলবার জন্য। খুব কষ্ট থেকে বলছি। জানিনা কার কখন কি হবে?!

ফকির চাচা বর্নাঢ্য জীবন উপভোগ করে গেলেন। একজন সংগ্রামী গানের শিল্পী গন মানুষের কষ্টের কথা, খেটে খাওয়া মানুষের কথা হাসিমুখে সুরে সুরে বলতে বলতে, জীবনটাকে সেভাবেই জয় করে গ্যাছেন!

অভিযোগে অভিমান বাড়ে। তাই যে কোন ভালো সুযোগকে বরাবরই সম্মান দিয়ে নিজেকে জড়িয়ে আদায় করে নিয়েছেন গণমানুষের  ভালোবাসা!


আরও পড়ুন:

পিএসজির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ল পচেত্তিনোর

মুখ্যমন্ত্রীকে গরুর মাংস উপহারের ইচ্ছা পোষণ, নারী গ্রেপ্তার

হাইতি প্রেসিডেন্টের সৎকার অনুষ্ঠান থেকে পালিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

মাছের ড্রামে যারা ঢাকা যাচ্ছে, তাদের নিয়ে ট্রল করাটা ঠিক হচ্ছে না


তাঁর প্রতি রইলো সম্মান। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। পরম করুনাময় আল্লাহতাআলাহ যেন তাকে জান্নাত দান করেন।

চাচার পরিবারের সদস্যদের প্রতি রইলো গভীর সহমর্মিতা।

সবার সুস্হতা কামনা করি। আমিন।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

মাছের ড্রামে যারা ঢাকা যাচ্ছে, তাদের নিয়ে ট্রল করাটা ঠিক হচ্ছে না

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

মাছের ড্রামে যারা ঢাকা যাচ্ছে, তাদের নিয়ে ট্রল করাটা ঠিক হচ্ছে না

মাছের ড্রামের ভেতর করে যারা ঢাকা যাওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের নিয়ে ট্রল করাটা সঠিক মনে হচ্ছে না। এ মানুষগুলো স্বাস্থ্যবিধি মানছে না, এটা সত্য, কিন্তু কেন মানছে না, তা একটু তলিয়ে দেখা দরকার।

এরা খেটে খাওয়া মানুষ। এদের অনেকের হাতেই এক মাস চলার মতো টাকা নেই। মাস শেষে নিশ্চিত বেতনের প্রশান্তি তারা পান না। তাদের মাছের ড্রামের ভেতর একবার ঢুকলে, আপনি তাদের পৃথিবীটা সামান্য দেখতে পাবেন। তাদের যে-খাদ্যাভ্যাস, যেটিকে আপনারা ডায়েট বলেন, সেটি খুবই দরিদ্র। সার্ভাইভালের জন্য যতোটুকো দরকার, ঠিক ততোটুকু। তারপরও তাদের কোনো সঞ্চয় নেই। কারণ তাদের যে আয়, তা মোটেও সঞ্চয়যোগ্য নয়।

তাদের সবার জন্য, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকার ব্যবস্থা করা উচিত। ড্রামের ভেতর থেকে যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে বিশ হাজার করে টাকা দিয়ে বাড়িতে পাঠান।

খবরদার! তাদের গ্রেপ্তার বা জরিমানা করবেন না।


আরও পড়ুন:

পিএসজির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ল পচেত্তিনোর

মুখ্যমন্ত্রীকে গরুর মাংস উপহারের ইচ্ছা পোষণ, নারী গ্রেপ্তার

হাইতি প্রেসিডেন্টের সৎকার অনুষ্ঠান থেকে পালিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

বৃষ্টিপাতে ভারতের গোয়ায় ধস, ট্রেন লাইনচ্যুত (ভিডিও)


news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর