রোজিনা ছিঁচকে চোর না,সে এদেশের সবচেয়ে নন্দিত সাংবাদিক

আসিফ নজরুল

রোজিনা ছিঁচকে চোর না,সে এদেশের সবচেয়ে নন্দিত সাংবাদিক

প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম ছিঁচকে চোর না। সে এদেশের সবচেয়ে নন্দিত ও পুরস্কৃত একজন সাংবাদিক। তার প্রতিবেদন থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়সহ সরকারের বিভিন্ন অফিসের দায়িত্বহীনতা, দূনীতি ও অনিয়ম সম্পকে জেনেছি আমরা (নীচের ছবিগুলো তার কিছু প্রমান)। তার সাথে ছিঁচকে চোরের মতো ব্যবহার কিভাবে করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়? 

রোজিনা বিনা অনুমতিতে সরকারী কোন নথির ছবি তুললে তার বিরুদ্ধে মামলা করা যেত। কিন্ত ‍তাকে পাচ-ছয়ঘন্টা আটকে রাখার কোন অধিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নেই। আমার বিবেচনায়, এটি বরং অপরাধমূলক আটক সমতুল্য। 

আর তারা রোজিনার মোবাইল আটকে রাখল কোন যুক্তিতে? সরকারী নথির ছবি তোলার অভিযোগ আনলে তা বিশ্বাসযোগ্য কিনা এ প্রশ্নও আসবে এখন। রোজিনার প্রতিবেদনে যাদের স্বার্থহানি হয়েছে তারা তো ইচ্ছেমতো ছবি তুলে এসব অভিযোগ দিতে পারে- এ সন্দেহেরও অবকাশ এখন থাকবে। 

এখন আবার মানবজমিনে পড়লাম- তার দেহ তল্লাশী করে নাকি সরকারী নথি উদ্ধার করা হয়েছে। তল্লাশী কে করেছে? স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের লোকেরা? এটা করার তো কোন অধিকার নেই তাদের। আর যদি থানায় দেহ তল্লাশী করা হয় তাহলে আমাদের কি বিশ্বাস করতে হবে যে, ছয় ঘন্টা আটক থাকা অবস্থায় সে সরকারী নথি বয়ে বেড়াচ্ছিল!

(বাই দ্যা ওয়ে, কিসের নথি-র ছবি তুললে বা কোন নথি নিলে এমন ক্ষিপ্ত হতে পারে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়? স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় তো প্রতিরক্ষা বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় না? কেন এতো অস্বস্তি তাদের?)

আসিফ নজরুল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক (ফেসবুক থেকে)

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সেকারণেই হয়তো এই দেশে ইতিবাচক মানুষ তৈরি হয় কালেভদ্রে

নজরুল ইসলাম

সেকারণেই হয়তো এই দেশে ইতিবাচক মানুষ তৈরি হয় কালেভদ্রে

ফেসবুকে লক্ষ করি প্রায় সব বাবা মা'ই কামনা করেন তার সন্তান যেন বড় হয়ে একজন প্রকৃত সৎ ও ভাল মানুষ হন। প্রকৃত ভাল মানুষ বলতে তারা কি বোঝেন সেটার কোন পরিষ্কার দিক নির্দেশনা অবশ্য দেননা। 

রক্তদান সম্পর্কিত একটা গ্রুপে গিয়ে দেখলাম প্রথম রক্তদানের পর তাদের মায়ের কি রিয়েকশন ছিল। তাতে দেখলাম অধিকাংশ মা'ই বিরক্ত, দুঃখিত ও মর্মাহত হয়েছেন। 

তাদের বক্তব্য ছিল 'নিজের শরীরেই রক্ত নাই আবার রক্ত দিতে আসছে', 'তোরে কি খাওয়া দাওয়াইয়া বড় করছি মাইনষেরে রক্ত দিতে' 'যারে রক্ত দিছিস তার বাড়িত গিয়া থাক', 'আইছে আমার বীরপুরুষ' ইত্যাদি।

এইসব বক্তব্যকে আমরা সরল চোখে বাৎসল্য বা সন্তানের প্রতি মায়ের চিরন্তন দুর্বলতা হিসেবেই দেখি। আদতে এটি বাঙ্গালি মায়ের সংকীর্ণতাই। যা সন্তানকে একজন পরোপকারী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরুৎসাহিত করে। 

বাঙ্গালি মায়েরা শেখায় তোর নোটটা কাউকে দিবিনা, কোথায় কোথায় পড়তে যাস বলবিনা, বাংগালি মা নিজের সন্তানের ভাল রেজাল্ট দিয়ে পাশের বাসার সন্তানকে লো ফিল করাতে পছন্দ করে আবার নিজের সন্তানকে তারচেয়ে ভাল কাউকে দেখলে তার পা ধোয়া পানি খেতে বলে। কখনো নিজের সন্তান, কখনো পরের সন্তানকে অপমান করে মাটিতে মিশিয়ে দিতে কুন্ঠা করেনা। 

এগুলো আমাদের সমাজে খুব ক্যাজুয়ালি চলে আসছে৷ আমরা এগুলোকে খুব মন্দ কিছু মনেও করি না। আদতে আমাদের এই আচরণগুলি সন্তানকে স্বার্থপর, নেতিবাচক ও নিন্দুক স্বভাবের করে গড়ে তোলে। একজন উদার মনের সৎ, প্রকৃত ভালমানুষ রূপে গড়ে তোলার প্রকৃত প্রেরণা বাংলার অধিকাংশ মায়েরই থাকেনা। 

আমি এক ডাক্তারের মা কে পেয়েছিলাম যে খুব বিরক্ত ও  আফসোস নিয়ে বলেছিল তার ছেলে ঢাকা থেকে অনেক দুরের উপজেলায় চাকরি করে এটা তার ভাল লাগেনা। চাকরি করে ভাল কথা, এত সিনসিয়ার হবার দরকার কি। অনেকেই তো সপ্তাহে দুই এক দিন থেকে চলে আসে। 

নিজের সরকারি চাকুরে ছেলে চাকরি করে মাসে পাচ লক্ষ টাকা আয় করে এরকম গর্বিত মা, বাবা,  শ্বশুর এই সমাজে ভুরি ভুরি। বস্তুত আমি আজ পর্যন্ত এরকম মা কিংবা বাবাকে দেখিনি যে নিজের সন্তানের অবৈধ আয় দেখে বিব্রত হয়েছে। এমন সন্তানও দেখিনি যে পিতার অবৈধ আয়ে বিরক্ত বা বিব্রত। কোন ধর্ষককে তার পিতা বা মাতা ত্যাগ করেছে এমন শুনিনি। বরঙ সব ষড়যন্ত্র, 'সরল ছেলেটা না বুঝে ফাঁদে পা দিয়েছে' টাইপ চিন্তাই সবাই করে। 

আরও পড়ুন:


নদীতে ভাসছিলো অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ

ঝিনাইদহে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু

বাগেরহাটে পিকআপের ধাক্কায় ৬ ইজিবাইক যাত্রী নিহত

কে এই অভিষিক্ত শামীম পাটোয়ারী


বাস্তব সত্য হচ্ছে বাংলার অধিকাংশ মা'ই চায় (বাবাও) তার সন্তান সবাইকে পিছে ফেলে এগিয়ে যাক। যেভাবেই হোক- সফল হোক, স্বচ্ছল হোক। সেকারণেই হয়ত এই দেশে জেনারাস, বিনয়ী,  ইতিবাচক মানুষ তৈরি হয় কালে ভদ্রে। বরং নিয়মিত দুর্নীতিতে চমকের পর চমক সৃষ্টি করি আমরা। এদেশে সৎ মানুষ তৈরি হবার সিস্টেমটাই নাই।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

নিয়মিত দুর্নীতিতে চমকের পর চমক সৃষ্টি করি আমরা

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

নিয়মিত দুর্নীতিতে চমকের পর চমক সৃষ্টি করি আমরা

ফেসবুকে লক্ষ করি প্রায় সব বাবা মাই কামনা করেন তার সন্তান যেন বড় হয়ে একজন প্রকৃত সৎ ও ভালো মানুষ হন। প্রকৃত ভালো মানুষ বলতে তারা কী বোঝেন সেটার কোনো পরিষ্কার দিকনির্দেশনা অবশ্য দেন না।

রক্তদান সম্পর্কিত একটা গ্রুপে গিয়ে দেখলাম প্রথম রক্তদানের পর তাদের মায়ের কী রিয়েকশন ছিল। তাতে দেখলাম অধিকাংশ মাই বিরক্ত, দুঃখিত ও মর্মাহত হয়েছেন। তাদের বক্তব্য ছিল ‌‌‘নিজের শরীরেই রক্ত নাই আবার রক্ত দিতে আসছে’, ‘তোরে কি খাওয়া দাওয়াইয়া বড় করছি মাইনষেরে রক্ত দিতে’ ‘যারে রক্ত দিছিস তার বাড়িত গিয়া থাক’, ‘আইছে আমার বীরপুরুষ’ ইত্যাদি৷ এইসব বক্তব্যকে আমরা সরল চোখে বাৎসল্য বা সন্তানের প্রতি মায়ের চিরন্তন দুর্বলতা হিসেবেই দেখি। আদতে এটি বাঙ্গালি মায়ের সংকীর্ণতাই। যা সন্তানকে একজন পরোপকারী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরুৎসাহিত করে। 

বাঙ্গালি মায়েরা শেখায় তোর নোটটা কাউকে দিবি না, কোথায় কোথায় পড়তে যাস বলবি না, বাংগালি মা নিজের সন্তানের ভালো রেজাল্ট দিয়ে পাশের বাসার সন্তানকে লো ফিল করাতে পছন্দ করে আবার নিজের সন্তানকে তারচেয়ে ভালো কাউকে দেখলে তার পা ধোয়া পানি খেতে বলে। কখনো নিজের সন্তান, কখনো পরের সন্তানকে অপমান করে মাটিতে মিশিয়ে দিতে কুণ্ঠা করে না।

এগুলো আমাদের সমাজে খুব ক্যাজুয়ালি চলে আসছে৷ আমরা এগুলোকে খুব মন্দ কিছু মনেও করি না। আদতে আমাদের এই আচরণগুলো সন্তানকে স্বার্থপর, নেতিবাচক ও নিন্দুক স্বভাবের করে গড়ে তোলে। একজন উদার মনের সৎ, প্রকৃত ভালোমানুষরূপে গড়ে তোলার প্রকৃত প্রেরণা বাংলার অধিকাংশ মায়েরই থাকে না।

আমি এক ডাক্তারের মা কে পেয়েছিলাম যে খুব বিরক্ত ও আফসোস নিয়ে বলেছিল তার ছেলে ঢাকা থেকে অনেক দূরের উপজেলায় চাকরি করে এটা তার ভালো লাগে না। চাকরি করে ভালো কথা, এত সিনসিয়ার হবার দরকার কী। অনেকেই তো সপ্তাহে দুই এক দিন থেকে চলে আসে।

নিজের সরকারি চাকুরে ছেলে চাকরি করে মাসে পাচ লাখ টাকা আয় করে এরকম গর্বিত মা, বাবা,  শ্বশুর এই সমাজে ভুরি ভুরি। বস্তুত আমি আজ পর্যন্ত এরকম মা কিংবা বাবাকে দেখিনি যে নিজের সন্তানের অবৈধ আয় দেখে বিব্রত হয়েছে। এমন সন্তানও দেখিনি যে পিতার অবৈধ আয়ে বিরক্ত বা বিব্রত। কোনো ধর্ষককে তার পিতা বা মাতা ত্যাগ করেছে এমন শুনিনি। বরং সব ষড়যন্ত্র, ‘সরল ছেলেটা না বুঝে ফাঁদে পা দিয়েছে’ টাইপ চিন্তাই সবাই করে।

বাস্তব সত্য হচ্ছে বাংলার অধিকাংশ মাই চায় (বাবাও) তার সন্তান সবাইকে পিছে ফেলে এগিয়ে যাক। যেভাবেই হোক- সফল হোক, স্বচ্ছল হোক। সে কারণেই হয়তো এই দেশে জেনারাস, বিনয়ী, ইতিবাচক মানুষ তৈরি হয় কালেভদ্রে। বরং নিয়মিত দুর্নীতিতে চমকের পর চমক সৃষ্টি করি আমরা। এদেশে সৎ মানুষ তৈরি হবার সিস্টেমটাই নাই।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

ভূঁইয়া ইকবালের গবেষণার একটি অন্যতম বিষয় ছিল রবীন্দ্রনাথ

আলী রিয়াজ

ভূঁইয়া ইকবালের গবেষণার একটি অন্যতম বিষয় ছিল রবীন্দ্রনাথ

আমরা এমন এক সময়ে বাস করি যখন ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’; আত্মপ্রচার আর কলরবের এই সময়ে একজন নিভৃতচারী গবেষকের জীবনাবসানের সংবাদ অনেকের চোখে পড়বে না – তাঁকে চিনতে পারবেন এমন লোকের সংখ্যাই বা কতজন? তদুপরি তিনি থেকেছেন রাজধানীর বাইরে – দীর্ঘ সময় ধরে। কিন্ত গবেষণার কাজে তাঁর আত্মনিবেদনের কথা কী আসলেই বিস্মৃত হওয়া যায়? ভূঁইয়া ইকবালের মৃত্যু সংবাদ শুনে এই কথাগুলো মনে হলো। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হয়েছিলেন গবেষক হিসেবে ১৯৭৩ সালে, পরে অধ্যাপনা করেছেন - অবসর নেয়ার আগে পর্যন্ত।  কিন্ত তারও আগে তিনি সাংবাদিকতা করেছেন, দৈনিক বাংলায় – প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা হিসেবে, পরে রিপোর্টার হিসেবে স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে। 

ইকবাল ভাইকে চেনার সুযোগ হয়েছে অগ্রজ আলী মনোয়ারের সূত্রে, স্বাধীনতার আগেই। মনোয়ার ভাইয়ের ঘনিষ্ঠজনদের একজন ইকবাল ভাই। আমার কৈশোরে ভারী চশমা পড়া ইকবাল ভাইকে দেখে একধরনের সমীহার ভাব জাগতো – খানিকটা ভয়েরও। ভূইয়া ইকবালের প্রায় সার্বক্ষনিক সঙ্গী ছিলেন গোলাম মোস্তফা। 

ইকবাল ভাইয়ের সঙ্গে আলাদা করে যোগাযোগ গড়ে ওঠে ১৯৭৪ সালের দিকে অগ্রজ আলী মনোয়ার প্রবাসী হবার পরে, সেটা সম্ভব হয়েছিল রেবু বৌদির (সুলতানা রেবু) কারণে। সেই সময়েই ইকবাল ভাইয়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল ‘মানিক বন্দ্যোপাধায়’ গ্রন্থটি। তখনও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে আলোচনার শক্তিশালী ধারা বাংলাদেশে গড়ে উঠেছিল বলে মনে হয় না। কিন্ত সেই কাজটি নিষ্ঠার সঙ্গে করেছিলেন ভুঁইয়া ইকবাল। নিভৃতচারী, স্বল্পবাক কথাগুলো সম্ভবত তাঁর জন্যেই তৈরি হয়েছিল। 

একটি সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন যে, আলস্যের কারণে তাঁর লেখালেখি কম; পরিকল্পিত অনেক কাজ তিনি করে উঠতে পারেন না। কিন্ত আসল কারণ কী আলস্য নাকি গবেষণার প্রতি নিষ্ঠাই তাঁর স্বল্প রচনার কারণ? ‘সমাজ ও সংস্কৃতি’ শিরোনামে তাঁর একটি বই আছে – সেটি পাঠ করলেও বোঝা যায় বিষয়ের গভীরে প্রবেশ না করে তিনি আলোচনা করেন না; নতুনভাবে দেখা ও দেখানোর কাজটি তিনি করতে চান – সেই কারনেই তাঁর সময়ের দরকার। 

ভূঁইয়া ইকবালের গবেষণার একটি অন্যতম বিষয় ছিল রবীন্দ্রনাথ। এই মুহুর্তে তাঁর তিনটি গ্রন্থের কথা স্মরণে আসে, ‘রবীন্দ্রনাথঃ তাঁর চিঠি, তাঁকে চিঠি’, ‘বাংলাদেশে রবীন্দ্র সংবর্ধনা’, এবং ‘রবীন্দ্রনাথ ও মুসলমান সমাজ’। 

ভিন্ন আলোয় রবীন্দ্রনাথকে চেনার কাজে এগুলোর ভূমিকা অসামান্য। লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে ভুঁইয়া ইকবালের অনেকগুলো সম্পাদিত গ্রন্থ আছে। কিন্ত এগুলো কেবল সংগ্রহ নয়, প্রত্যেকটি সম্পাদিত গ্রন্থ তাঁর গবেষণার ফসল। ‘নরেশ গুহকে অমিয় চক্রবর্তীর স্মৃতিকথা ও পত্রাবলি’ তার একটি উদাহরণ।

কয়েক দশক ধরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলেও তাঁকে বিস্মৃত হবার সুযোগ ছিল না। কেবল ব্যক্তিগত কারণে আমার তাঁকে বিস্মৃত না হবার কথা নয়, তাঁকে আরেকটি কারণে সকলেরই জানা থাকার কথা; আমার স্মৃতি আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা না করলে ১৯৭১ সালের শেষ দিকে বা ১৯৭২ সালের গোড়াতে দৈনিক বাংলায় তাঁর একটি প্রতিবেদন ছিল রাও ফরমান আলীর একটি ডায়েরির কয়েকটি পাতা নিয়ে করা; সেখানেই লেখা ছিল, বুদ্ধিজীবী হত্যার তালিকা। 

এখন অনেক ভাবে ইতিহাস লেখা হয়, কিন্ত এই ধরণের দলিলগুলো খুঁজে পাওয়া যায় না। রাজধানীর পাদপ্রদীপের আলোর বাইরে, প্রতিষ্ঠা ও পরিচিতির বাইরেই সমস্ত জীবন কাটালেন ইকবাল ভাই।  কিন্ত তাই বলে তাঁকে বিস্মৃত হওয়া যাবে না, আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই।

লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া হয়েছে। (মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

আরও পড়ুন:


পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ঢাকায় আসছে অস্ট্রেলিয়া

আগের চেয়েও কঠোর হবে কাল থেকে শুরু হওয়া লকডাউন!

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে কর্মমুখি-ঘরমুখি উভয় দিকে যাত্রীদের চাপ

কুষ্টিয়ায় করোনা ও উপসর্গে ১৬ জনের মৃত্য


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

ঈদে বাড়ি যাওয়ার পরিবর্তে

আনোয়ার সাদী

ঈদে বাড়ি যাওয়ার পরিবর্তে

কাজই যাদের ঈদ অথবা ঈদের দিনে যাদেরকে কাজ করতে হয় তাদেরকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রতিটি ঈদে প্রায় প্রতিটি চ্যানেলে প্রচার করা হয়। চিকিৎসক, পুলিশ, ফায়ার ব্রিগেডের কর্মী ও সাংবাদিকরা সেখানে বক্তব্য দেন। 

এমন একটি প্রতিবেদন আমি প্রথম করি অনেক বছর আগে। ১৮ / ১৯ বছর আগে। তখন আমি কাজ করি চ্যানেল আই -তে, রিপোর্টার পদে। কী দারুণ উত্তেজনা কাজ করে মনের ভেতর, কী দারুণ সব কথা, ঈদ আর কর্তব্যের সম্পর্কের কী অসাধারণ সমীকরণ! বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে বক্তব্য নেই। 

এরপর একটা প্রতিবেদন করলাম, যারা দুই পয়সা বেশি আয় করার আশায় গ্রামের বাড়ি যায় না। নারী বা নাড়ী কোনোটার টানই তাকে ঢাকা থেকে সরাতে পারে না। তারা হলেন হকার, বাদামওয়ালা, বাঁশি ওয়ালা ইত্যাদি। ঈদের সময় নাগরিকরা বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে যান, সে সব স্থাপনার সামনে তারা কিছু পণ্য বিক্রি করেন, উৎসবে বিক্রি বাড়ে, দুই পয়সা বেশি আয় হয়। শিশু পার্ক তখন জমজমাট স্পট, সংসদ ভবনের আবেদনও চরম মাত্রার।

একটা সময় আমি বাংলাভিশনের বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। সেসময় আমাকে একটা সাক্ষাৎকার দিতে হয় ঈদে দায়িত্ব পালন বিষয়ে। এটা ছিল অন্যরকম অভিজ্ঞতা। আমি কী বলেছিলাম, তা এখন আর মনে নেই, তবে ভালো বলেছিলাম, তাতে সন্দেহ নেই।

ঈদে প্রথম দায়িত্ব পালন করি চ্যানেল আইতে। বয়সও তখন বেশ কম ছিলো। তখনকার বার্তা সম্পাদক শাহ আলমগীর ভাই ও চিফ রিপোর্টার সাইফুল আমিন ভাই আমাকে দারুণ একটা সারপ্রাইজ দিলেন। গ্রামের ঈদ শিরোনামে আমাকে প্রতিবেদন করার অ্যাসাইনমেন্ট দিলেন। আমি অনুমতি পেলাম নিজের জেলায় গিয়ে প্রতিবেদন করার। অফিসের গাড়ী চড়ে মনের মতো জায়গায় যাওয়ার স্বাধীনতা একই সঙ্গে অফিসের কাজ করা।

আসলে এই ধরনের ব্যবস্থাপনা তখন সাংবাদিকদের ফেলো ফিলিংস অনেক বাড়িয়ে দিতো। এই যেমন, এখন এই ঈদে আলমগীর ভাই এই পৃথিবীতে নেই, সাইফুল ভাইও ঢাকায় নেই, তারপরো দুজনকে আমার বেশ মনে পড়ল।

ঈদে বাড়ি যাওয়ার পরিবর্তে কর্মস্থলে থাকার গুরুত্ব অনেক বেশি -এই বোধে আস্থা ছিলো আমার ছোট বেলার বন্ধু জসিমের। সে কাজ করতো বেক্সিমকো ফেব্রিকসএ কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগে। দু:খের বিষয় জসিমও বেঁচে নেই। কিন্তু কর্ম-নিষ্ঠা নিয়ে তার অনুপ্রেরণা এখনও আমার মনে পড়ে।

যাহোক, এখন অতিমারী চলছে। এর শেষ কোথায় আমরা জানি না। এই অতিমারীতে সাংবাদিকরাও ফ্রন্টফাইটার হিসাবে কাজ করছে। এই ঝুঁকিতে কাজ করা আর ঈদের দিনে কাজ করা, এক নয় নিশ্চয়ই।

ঈদে গ্রামে যাওয়া মানে আসলে নিজের স্মৃতির কাছে ফিরে যাওয়া। এটা একধরনের অতীত ভ্রমন। অনেকটা টাইম মেশিনে চড়ে অতীতে ঘুরে আসার মতো। এমনিতে অনেক স্মৃতি আমাদের মনে চাপা পড়ে যায়।পুরনো মানুষদের দেখলে সে সব স্মৃতি মনে পড়ে। আর স্মৃতি রোমন্থন মানে হলো, একই অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে আবারো যাওয়া। অনেকটা পড়া বই আবারো পড়া বা রিভাইস করার মতো।

মানুষের শরীরের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে। মনের শক্তি অসীম, তার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। ফলে, বাড়ি ফেরা নিছকই বাড়ি ফেরা নয়, বাবা মার কবর জিয়ারত করা, প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা করা এসবও আছে। এসবই স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে রচিত নানা বর্ণিল সম্পর্ক।

যাহোক, এবারের ঈদে আমি অফিসে আছি, আপনাদের সেবায় । আমার মতো ছোট-বড় যে পেশাজীবীরা উৎসবে অফিস করছেন তাদের সবাইকে এই সুযোগে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাখতে চাই। এমন একটা সময় হয়তো সামনে আসবে যখন সব সেক্টরই বছরের সব সময় খোলা থাকবে । 

মানুষ তার প্রয়োজনের সেবা চাওয়ামাত্র দিনরাতের সব সময়, বছরের সব দিনে পাবে। সে সব দিনে মানুষের জীবন কেমন হবে? আমি সময় পেলে তা ভাবার চেষ্টা করি। 

যা হোক, সবাই ভালো থাকবেন। ঈদ মোবারক।

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজ টোয়েন্টিফোর।



আরও পড়ুন


বিয়ের মাত্র একদিন পরই মারা গেলেন কলেজ শিক্ষক

পর্যায়ক্রমে সবাইকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করলেন মাহি!

বঙ্গবন্ধু সেতুতে একদিনে প্রায় তিন কোটি টাকা টোল আদায়


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

সবার জীবনে খুশির মানেটা একরকম হয়না

এমি জান্নাত

সবার জীবনে খুশির মানেটা একরকম হয়না

আমরা অনেকেই ঈদের খুশিটা নানাভাবে ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করছি৷ হ্যাঁ, ঈদ মানেই খুশি। তবে সবার জীবনে খুশির মানেটা একরকম হয়না।

যখন করোনাভাইরাস নামে পৃথিবীতে কিছু ছিলো না, তখনও সবার ঈদ একরকম হতোনা। পথশিশু থেকে শুরু করে দুস্থ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং স্বজনহারা পরিবার কারও দিনটা খুশিতে কাটেনা। কিন্তু যেকোনো খুশির উছিলা পেলে ঝাপিয়ে পড়তে চায় না, এমন কেউও নেই।

আর মহামারির এই সময়ে এই খুশি খুঁজে বেড়ানোর মানুষের সংখ্যা পরিমাপ করার সাধ্য কারও আছে বলে আমার জানা নেই। শুধু যারা একটু হলেও ভালো আছি তারা ভালো না থাকা মুখগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সাধ্য তো রাখি!

এখন রাত ঠিক ১১ঃ৪৯ মিনিট। ২০.০৭.২০২১। আমিও অফিস শেষে বাসায় ফিরছি। কিছুটা খুশির খোঁজে আবার সাথে মনের কোণায় কোথায় একটা ব্যথার পীড়া নিয়ে। আর লিখছিলাম বসে বসে। হঠাৎ রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এক নারীর নিথর দেহ দেখে চালক বললেন পেছনে একটা মহিলাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখলাম! সাথে সাথে গাড়ি ঘোড়াতে বললাম। দম বন্ধ হয়ে আসছিলো তাকে দেখে! নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে আছে! মাথায় আঘাত স্পষ্ট! ঈদ নিয়ে আজকের আমার লেখার বিষয়টার মধ্যে চলে এলো অজানা এই নারীর পড়ে থাকা প্রাণহীন দেহ!

কে ইনি? কেমন হতো তার ঈদ? কেনইবা ছুটছিলেন? এই কথাগুলো জানার আগেই উনি নিউজ হয়ে যাবেন। আমাদের দায়িত্ব ছিলো পুলিশকে ইনফর্ম করা। সেটা শেষ করে তাদের আসা কনফার্ম করে ছুটলাম বাড়ির পথে।

লেখাটি ‍সাংবাদিক এমি জান্নাত-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া  (মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর