প্রতিবেশী কারা, ইসলামে তাদের অধিকার ও মর্যাদা

অনলাইন ডেস্ক

প্রতিবেশী কারা, ইসলামে তাদের অধিকার ও মর্যাদা

সাধারণভাবে বাড়ির আশপাশে যারা বসবাস করে, তাদের প্রতিবেশী বলা হয়। তবে কখনও কখনও সফর অথবা কাজের সঙ্গীকেও প্রতিবেশী বলা হয়। প্রতিবেশীই হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে নিকটজন, যিনি তার খবরাখবর সম্পর্কে অন্যদের তুলনায় বেশি জানেন। তাই ইসলাম ধর্মে প্রতিবেশীর অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তার অধিকারকে খুব বড় করে দেখা হয়েছে।

প্রতিবেশীর ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, ইসলাম ধর্মে মুসলমানদের তাদের প্রতিবেশীর সঙ্গে যথাসাধ্য বিনয় আচরণ প্রদর্শন করতে এবং তাদের অসুবিধা হতে পারে এমন কোনো কাজ সৃষ্টি না করার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেশী কারা? কতদূর এর সীমা? এ প্রশ্নের জবাবে হজরত হাসান (রা.) বলেছেন, 'নিজের ঘর থেকে সামনে ৪০ ঘর, পেছনে ৪০ ঘর, ডানে ৪০ ঘর এবং বাঁয়ে ৪০ ঘরের অধিবাসী হচ্ছে প্রতিবেশী।'

আয়েশা (রা.) বলেন- রাসুল (সা.) বলেছেন, 'জিব্রাইল আমাকে সবসময় প্রতিবেশী সম্পর্কে অসিয়ত করে থাকেন। এমনকি আমার মনে হলো, তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারেস বানিয়ে দেবেন' (বুখারি ৬০১৪)। 

পবিত্র কোরআনে মুসলমানদের প্রতিবেশীর দৈনন্দিন সব প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, সে ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেট ভরে খায় আর পাশেই তার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে (আদাবুল মুফরাদ)। 

আবু শুরাইহ থেকে আরেকটি হাদিসে প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে- রাসুল (সা.) বলেন, 'আলল্গাহর নামে শপথ করে বলছি, সে ইমানদার নয়। আলল্গাহর নামে শপথ করে বলছি, সে ইমানদার নয়। আলল্গাহর নামে শপথ করে বলছি, সে ইমানদার নয়।' তখন হজরত মুহাম্মদকে (সা.) প্রশ্ন করা হলো, হে আলল্গাহর হাবিব, কে সে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদবোধ করে না, সে ব্যক্তি ইমানদার নয় (বুখারি :৫৫৫৭)।

আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, তোমরা আল্লাহর উপাসনা করো আর কোনো কিছুকে তাঁর অংশী করো না এবং পিতামাতা, আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, আত্মীয় ও অনাত্মীয় প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথি, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীর প্রতি সদ্ব্যবহার করো (নিসা :৩৬)। 

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমার দু'জন প্রতিবেশী আছে। আমি তাদের মধ্যে কার কাছে হাদিয়া পাঠাব?' তিনি বললেন, 'যার দরজা তোমার বেশি নিকটবর্তী, তার কাছে পাঠাও (বুখারি :৬০২০)। আবার রাসুলের (সা.) গর্বিত প্রতিবেশীরাও রাসুলের প্রতি অনেক উদার ছিলেন। 

আয়েশা (রা.) বলেন : দুই মাস আমাদের চুলায় আগুন জ্বলেনি; কয়েকটি আনসার পরিবার রাসুলের (সা.) প্রতিবেশী ছিলেন; তাদের কিছু দুধালো উটনি ও বকরি ছিল। তারা রাসুলের (সা.) জন্য দুধ হাদিয়া পাঠাত। তিনি আমাদের তা পান করতে দিতেন (বুখারি :২৫৬৭)।

তোমার ঘরের দেয়াল উঁচু করে তার বাতাস বন্ধ করবে না। ফল ক্রয় করলে তাকে পাঠিয়ে দাও, না পারলে গোপন রাখো এবং নিজ সন্তানদের ফল হাতে বের হতে দিয়ো না, যেন প্রতিবেশীর সন্তান দুঃখ না পায়। নিজের রান্নাঘরের ধোঁয়া দ্বারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দিয়ো না। কিন্তু তাকে যদি খাদ্য দাও, তাহলে অসুবিধা নেই' (তাবারানি)। 

আরও পড়ুন:

 আমার একটাই কথা, মারামারি করবেন তো খবর আছে: মাশরাফী (ভিডিও)

 সত্য প্রকাশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সরকার: ৫৭ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

 ফিলিস্তিন-ইসরাইল ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান জানালো কানাডা

 রেস্তোরাঁর আড়ালে সিসা সেবনের ব্যবসা চালাচ্ছিল ওমর সানি-মৌসুমীর ছেলে

এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, কোনো প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে দেয়ালে কাঠ গাড়তে নিষেধ না করে। আবু হুরাইরাহ (রা.) বললেন, কী ব্যাপার, আমি তোমাদের রাসুলের (সা.) সুন্নাহ থেকে মুখ ফেরাতে দেখছি! আলল্গাহর কসম, নিশ্চয় আমি এ সুন্নাহকে তোমাদের ঘাড়ে নিক্ষেপ করব (অর্থাৎ এ কথা বলতে থাকব) (বুখারি :২৪৬৩)।

ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার বা কর্তব্যের বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হলো:প্রতিবেশীকে সালাম দেওয়া, তার সালামের উত্তর দেওয়া, কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া এবং তার সেবা-শুশ্রূষা করা, বিভিন্ন উপলক্ষে তাকে দাওয়াত দেওয়া এবং তার দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

মুমিনদের সম্পর্কের গুরুত্ব, ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ হক

অনলাইন ডেস্ক

মুমিনদের সম্পর্কের গুরুত্ব, ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ হক

‘আল-মুসলিমু মিল্লাতুন ওযাহেদা’ অর্থাৎ বিশ্ব মুসলিম এক জাতি এক দেহ।’ মুসলমান মুসলমানের আয়না স্বরূপ। কোনো মুমিন মুসলমানের মধ্যে কোনো দোষ বা অন্যায় দেখা দিলে অপর মুমিন মুসলমান তাকে সেটা দেখিয়ে দেবে, পরিশুদ্ধ করবে, এটা ঈমানি দায়িত্ব। যাতে সে দুনিয়া ও পরকালে সফলতা লাভ করতে পারে।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে মুমিন মুসলমানের পারস্পরিক দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে অনেক নসিহত পেশ করেছেন।

আরও পড়ুন:


বিপদটা এখানেই

ফ্রান্সের কাছে জার্মানির হার

ওমানের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ


হজরত নোমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘(দুনিয়ার) সব মুমিন একটি ব্যক্তিসত্তার মতো। যখন তার চোখে ব্যাথ্যা শুরু হয়, তখন তার গোটা শরীরই ব্যাথা অনুভব করে। আর যদি তার মাথা ব্যথা হয় তাতে তার গোটা শরীরই বিচলিত হয়ে পড়ে।’ (মিশকাত)

বিস্তারিত ভিডিওতে

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

ইমামের আগে সালাম ফেরালে নামাজ হবে কী?

অনলাইন ডেস্ক

ইমামের আগে সালাম ফেরালে নামাজ হবে কী?

ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নামাজ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে বার বার নামাজের তাগিদ পেয়েছেন। কুরআনে পাকে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি ৮২ বার সালাত শব্দ উল্লেখ করে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজকে ঈমানের পর স্থান দিয়েছেন। আজকে আমরা আলোচনা করবো ইমামের আগে সালাম ফেরালে নামাজ হবে কী না।

আরও পড়ুন:


আম্পায়ারের ওপর চড়াও হয়ে লাথি দিয়ে স্ট্যাম্প ভাঙলেন সাকিব (ভিডিও)

রাজশাহী মেডিকেলে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ১৫ জনের মৃত্যু

সুযোগ পেলে নায়ক হিসেবে অভিনয় করতে রাজি বেরোবি উপাচার্য কলিমউল্লাহ

পাওনা টাকা না দেওয়ায় প্রায় ৬ কোটি টাকার বাড়ি ভেঙে দিলেন মিস্ত্রি


 

এমন প্রশ্নের জবাবে ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেছেন, ইমামের আগে একজন মুক্তাদি যদি ডানদিকে সালাম ফেরান, তাহলে তাঁর সালাত বাতিল হয়েছে। তিনি ইমামকে অনুসরণ করেননি। ইমামকে অনুসরণ করা তাঁর ওপর ওয়াজিব ছিল। 

যেহেতু তিনি ইমামের আগে সালাম ফিরিয়েছেন, সেহেতু তাঁর সালাত হয়নি। এটাই ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য এবং এটাই বিশুদ্ধ বক্তব্য।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ঋণ পরিশোধে বিশ্বনবীর মুজিজা

অনলাইন ডেস্ক

ঋণ পরিশোধে বিশ্বনবীর মুজিজা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্ব মানবতার জন্য রহমতস্বরুপ। উম্মতের ব্যথায় তিনি ব্যথিত হতেন। তাদের সমস্যার সমাধানে থাকতেন সক্রিয়। উম্মতের সমস্যা সমাধানে রয়েছে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসংখ্য মুজিজা। এমনই একটি মুজিজায় ঋণ থেকে মুক্তি পেল এক সাহাবি। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমার পিতা উহুদ যুদ্ধে শহীদ হন এবং অনেক ঋণ রেখে যান। এ ঋণ পরিশোধের মতো কোনো সামর্থ আমার ছিল না। আমার কাছে পিতার রেখে যাওয়া সামান্য খেজুর ছিল।

ঋণ পরিশোধের সময় হলে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে আমার অবস্থান তুলে ধরি। তিনি আমাকে বললেন, খেজুরগুলো পৃথক পৃথক স্থানে স্তুপ করে রাখ।

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবচেয়ে বড় খেজুরের স্তুপের চারদিকে ৩ বার প্রদক্ষিণ করলেন অতঃপর এক স্থানে বসে গেলেন। তিনি (প্রিয়নবি) বললেন, পাওনাদারদের ডাক।

এরপর পাওনাদাররা একের পর এক তাদের ঋণের পরিমাণ হিসাব করে বড় স্তুপ থেকে খেজুর নিয়ে গেল। আমি খুবই আনন্দিত ও সন্তুষ্ট হতে থাকলাম এই ভেবে যে, (আমার পিতার) সব ঋণ পরিশোধ হয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন


সূরা ইয়াসিন: আয়াত ১০-১২, কাফিরদের শাস্তি

গোল করে মেসির রেকর্ড, তবুও জয়ের মুখ দেখলো না আর্জেন্টিনা (ভিডিও)

ওরা যখন পরীমনিকে গালাগাল করছিল তখন আমার হাত কাঁপছিল : জিমি

১৫ সেকেন্ডের ভিডিও শুনলে সহ্য করতে পারবেন না : পরীমণি


আল্লাহ তাআলার অসীম কৃপায় প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে স্তুপের কাছে বসে ছিলেন; সে স্তুপের একটি খেজুরও হ্রাস পায়নি। (বুখারি)

এ ছিল প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ, দোয়া ও পবিত্র হাতের বরকত। এটি ছিল বিশ্বনবীর একটি অন্যতম মুজিজাও।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয়নবীর আদর্শকে অনুসরণ ও অনুকরণ করার তাওফিক দান করুন। তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠের তাওফিক দান করুন। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের রহমত ও বরকত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ১০-১২, কাফিরদের শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ১০-১২, কাফিরদের শাস্তি

পবিত্র কুরআনের মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা সূরা ইয়াসিন। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এই সূরার প্রথমে বর্ণিত দুই মুকাত্তায়াত হরফের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরায় রয়েছে ৮৩টি আয়াত। সূরা ইয়াসিনে বিশ্বাসগত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আজ এই সূরার ১০ থেকে ১২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে। এই সূরার ১০ ও ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

وَسَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ (10) إِنَّمَا تُنْذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ (11)  

১০. “আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের পক্ষে দুটিই সমান; তারা ঈমান আনবে না।”
১১. “আপনি কেবল তাকেই সতর্ক করতে পারেন, যে উপদেশ (অর্থাৎ কুরআন) অনুসরণ করে এবং দয়াময় আল্লাহকে গোপনে ভয় করে। অতএব আপনি তাকে সুসংবাদ দিয়ে দিন ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের।”

আগের আয়াতগুলোতে কিয়ামতের দিন কাফির ও মুশরিকদের ভয়াবহ শাস্তির কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এই দুই আয়াতে বলা হচ্ছে, কাফিররা আল্লাহর প্রতি বিদ্বেষ ও গোঁয়ার্তুমির কারণে সত্য গ্রহণ করতে পারেনি। তারা হয় আল্লাহর রাসূলের যুক্তপূর্ণ কথা শুনতেই অস্বীকার করেছে অথবা যদিও বা শুনেছে তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি। ভাবখানা এমন যেন কিছুই শুনতে পায়নি। কাজেই এ ধরনের লোকদের সতর্ক করা বা না করা দু’টিই সমান। কারণ, তারা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে ঈমান আনবে না। তাদের অন্তর হচ্ছে সেই শক্ত মাটির মতো যার মধ্যে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে না। এ ধরনের মাটি স্বাভাবিকভাবে সতেজ হয় না এবং তাতে কোনো উদ্ভিদও গজায় না।

পরের আয়াতে বলা হচ্ছে, সেই ব্যক্তিকে সতর্ক করলে কাজ হয় যে উপদেশ গ্রহণ কোরে তা মেনে চলতে মানসিকভাবে প্রস্তুত। গোটা পবিত্র কুরআনই হচ্ছে উপদেশবাণী এবং এই মহাগ্রন্থের বহু আয়াতে বিশ্বনবী (সা.)কে মুযাক্কির বা উপদেশ প্রদানকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে চেনা ও সত্য গ্রহণের ক্ষমতা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিতে দিয়ে দেয়া হয়েছে। নানা কারণে মানুষ নিজের ভেতরে থাকা সেই উপলব্ধি ক্ষমতাকে উপেক্ষা করে। সেই সহজাত প্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তুলে মানুষকে সঠিক পথের দিশা দেয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা নবী-রাসূল ও আসমানি কিতাব পাঠিয়েছেন। যার অন্তর সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত সে অবশ্যই রাসূল ও কুরআনে কারিম থেকে উপকৃত হয়। এ ধরনের মানুষ প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহর কথা স্মরণে রাখে এবং গোনাহর কাজ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করে। এধরনের মানুষের প্রতি আল্লাহ তায়ালা দয়ালু আচরণ করবেন। তাদের গোনাহগুলোকে ঢেকে রাখবেন এবং নেক কাজের জন্য তাদেরকে পুরস্কৃত করবেন।

এই দুই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. প্রতিটি মানুষকেই পরকালের ব্যাপারে সতর্ক করতে হবে।  এই সতর্কবাণী শুধুমাত্র উপদেশ গ্রহণে প্রস্তুত ব্যক্তিকেই সঠিক পথের দিশা দিতে পারে অন্য কাউকে নয়।
২. প্রকৃত ঈমান হচ্ছে গোপনে ও অন্তরে আল্লাহকে ভয় করা; শুধুমাত্র বাহ্যিক আচরণ ও পোশাক-আশাকে ঈমানদারি যথেষ্ট নয়।
৩. যারা আল্লাহর রাসূলের সতর্কবাণী গ্রহণ করে তারাই আল্লাহর রহমত লাভ করবে এবং তাদেরকেই জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে।

সূরা ইয়াসিনের ১২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَى وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآَثَارَهُمْ وَكُلَّ شَيْءٍ أحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُبِينٍ (12)

১২. “নিঃসন্দেহে আমি মৃতদেরকে জীবিত করি এবং তারা যা আগে পাঠিয়েছে ও যেসব কাজ করেছে তা লিপিবদ্ধ করি। আমি প্রত্যেক বস্তু স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি।”

নবী-রাসূলরা মানুষের প্রতি যেসব সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কিয়ামত দিবসের হিসাব-নিকাশ। মৃত্যুর পর মানুষ কিয়ামতের দিন আবার জীবিত হবে এবং তাদেরকে পার্থিব জীবনের কৃতকর্মের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচার করা হবে। স্বাভাবিকভাবেই সেদিনের বিচারের জন্য দুনিয়ার কৃতকর্মগুলো লিখে রাখা বা সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

পৃথিবীর আদালতে শুধুমাত্র মানুষের খারাপ কাজের বিচার করা হয়। এ ধরনের আদালতে শুধুমাত্র ওই খারাপ কাজের বাহ্যিক ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে শাস্তি দেয়া হয়। কিন্তু কিয়ামতের বিচার দিবসে খারাপ কাজের জন্য যেমন মানুষকে শাস্তি পেতে হবে তেমনি ভালো কাজের জন্য তাদেরকে দেয়া হবে মহা পুরস্কার। সেই আদালতে মানুষের কৃতকর্মের বাহ্যিক ফলাফলকে যেমন বিবেচনা করা হবে তেমনি তার যেসব কাজের প্রভাব তার মৃত্যুর শত শত বছর পরও পৃথিবীতে পড়েছে সেটিও বিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুন


গোল করে মেসির রেকর্ড, তবুও জয়ের মুখ দেখলো না আর্জেন্টিনা (ভিডিও)

ওরা যখন পরীমনিকে গালাগাল করছিল তখন আমার হাত কাঁপছিল : জিমি

১৫ সেকেন্ডের ভিডিও শুনলে সহ্য করতে পারবেন না : পরীমণি

পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


উদাহরণস্বরূপ, দুনিয়ার আদালতে একজন খুনিকে মানুষ হত্যা করার অপরাধে শাস্তি দেয়া হয়। কিন্তু যাকে খুন করা হয়েছে দেখা যাবে তার স্ত্রী ও পরিবার তাদের অভিভাবক হারানোর কারণে বহু বছর ধরে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর জীবনযাপনে বাধ্য হয়। পৃথিবীতে প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির পরিবারটির জন্য নেমে আসা সমূহ বিপদকে বিবেচনায় নেয়া হয় না। খুনি ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় যাতে নিহত ব্যক্তির পরিবার মানসিক তৃপ্তি ছাড়া বাহ্যিকভাবে লাভবান হয় না। কিন্তু কিয়ামতের দিন আল্লাহর আদালতে ব্যক্তির কৃতকর্ম সেটা ভালো হোক কিংবা খারাপ, তার দীর্ঘমেয়াদী ও সুদূরপ্রসারি প্রভাবকে বিবেচনা করা হবে।

আয়াতের পরবর্তী অংশে মানুষের কৃতকর্ম লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে বলা হচ্ছে: লৌহে মাহফুজে সব কিছু হিসাব করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং কোনো কিছুই বাদ পড়ছে না। কিয়ামতের দিন যেহেতু এই লৌহে মাহফুজকে মানুষের ভালো ও মন্দ কাজের হিসাব নেয়ার জন্য মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে তাই এই আয়াতে একে ‘ইমাম’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. মানুষের কৃতকর্মের হিসাবের খাতা তার মৃত্যুর পর কিয়ামত পর্যন্ত খোলা থাকে। তার কৃতকর্মের যেসব প্রভাব মৃত্যুর পরেও মানবজাতির উপর পড়তে থাকে সেসব তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয়।
২. ইসলামে মানুষকে শুধুমাত্র তার কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহী করতে হয় না সেইসঙ্গে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের ওপর তার কৃতকর্মের প্রভাবের জন্যও কৈফিয়ত দিতে হয়।
৩. কিয়ামত দিবসের কোনো বিচার অনুমান নির্ভর হবে না বা সেখানে সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে ভুল বিচারেরও কোনো আশঙ্কা নেই। বরং সেদিনের বিচার হবে সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আমলনামার ভিত্তিতে যাতে কোনো ধরনের কমবেশি করা হবে না।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

যে পাঁচটি রাতের ইবাদতে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়

অনলাইন ডেস্ক

যে পাঁচটি রাতের ইবাদতে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়

মহান আল্লাহ আমাদেরকে শুধুমাত্র তার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। আর তাই আমরা তার করুনা, অনুগ্রহ ও ক্ষমা পাবার আশায় সর্বদা ইবাদতে মগ্ন থাকার চেষ্টা করবো। আজ আমরা আলোচনা করবো এমন পাঁচটি রাত নিয়ে যে রাতে ইবাদত করলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। 

হযরত মু’আজ ইবনে জাবাল [রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, “যে ব্যক্তি পাঁচ রাত জেগে ইবাদত করবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। পাঁচটি রাত হলো—

১. জিলহ্বজ মাসের আট তারিখের রাত।
২. জিলহ্বজের ৯ তারিখের রাত।
৩. ঈদুল আযহার রাত।
৪. ঈদুল ফিতরের রাত।
৫. ১৫ই শাবানের রাত।

আরও পড়ুন:


করোনা: দেশে একদিনে মৃত্যু ছাড়াল অর্ধশতক, বেড়েছে শনাক্তও

পুলিশ বাহিনী আজ জনগণের ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে: আইজিপি

পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা: প্রধান আসামি নাসিরসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার


 

শায়খুল হাদিস জাকারিয়া (রা.) বলেন, অন্তর সজীব থাকার অর্থ হলো, তাদের হৃদয় পাপে আচ্ছাদিত হবে না। এমনকি কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্ব মুহূর্তেও সিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার দিন তারা সজ্ঞান থাকবে (ফাযায়েলে রমজান)।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর