সূরা ইয়াসিন পাঠ করলে যে বিষয়ে দুনিয়াতেই সুফল পাবেন

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন পাঠ করলে যে বিষয়ে দুনিয়াতেই সুফল পাবেন

সূরা ইয়াসিনকে বলা হয় পবিত্র কুরআনের হৃদয়। সূরাটিতে রয়েছে ৮৩টি আয়াত, পাঁচটি রুকু এবং ৭টি মুবিন। কেন সূরা ইয়াসিনকে কুরআনের হৃদয় বলা হয় এ নিয়ে তাফসীরকারকরা বিভিন্ন বিশ্লেষণ করেছেন। সূরাটি ফজিলত সম্পর্কে হাদিসের অনেক বর্ণনা রয়েছে।

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন - রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক বস্তুরই একটা হৃদয় থাকে আর কুরআনের হৃদয় হল সূরা ইয়াসিন। যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন একবার পড়বে, মহান আল্লাহ তাকে দশবার পুরো কুরআন পড়ার সওয়াব দান করবেন।’ (তিরমিজি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, ‘সূরা ইয়াসিন কুরআনের রূহ বা হৃৎপিণ্ড। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের কল্যাণ লাভের জন্য সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে তার জন্য রয়েছে মাগফিরাত বা ক্ষমা।

সূরা ইয়াসিন বুঝে পড়ায় রয়েছে অনেক উপকারিতা। এ সূরায় মানুষকে পরকালের প্রস্তুতির দিকে আহ্বান করে। আর পরকালভীতিই মানুষকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং অবৈধ বাসনা ও হারাম কাজ থেকে বিরত রাখে।

সুতরাং দেহের সুস্থতা যেমন অন্তরের সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল তেমনি ঈমানের সুস্থতা পরকালের চিন্তার ওপর নির্ভরশীল। এ সূরার নিয়মিত আমলকারীর প্রতি থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকারীর কোনো গোনাহ থাকে না। সে দিক থেকে পরকালীন কল্যাণের জন্য সূরা ইয়াসিন বুঝে পড়া খুবই জরুরি।

গোনাহ মাফের মাধ্যম সূরা ইয়াসিন

প্রতিদিনের কাজ-কর্মে মানুষ অনেক ভুল-ত্রুটি করে থাকে। আর এসব ভুল-ত্রুটি করা গোনাহের কাজ। গোনাহ মানুষকে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করে। আর জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর অনুগ্রহ ও নেক আমল করা।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন - রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রাতে সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তার ওই রাতের সব গোনাহ মাফ করে দেবেন।’ (দারেমি)

হজরত ইবনে ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন - রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে আল্লাহ তাআলা তার বিগত জীবনের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (বায়হাকি,আবু দাউদ)

দুনিয়ার জীবনে সূরা ইয়াসিন পড়লে যে উপকার  

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন - যদি কোনো ব্যক্তি অভাব-অনটনের সময় সূরা ইয়াসিন পাঠ করে তাহলে তার অভাব দূর হয়, সংসারে শান্তি আসে এবং রিজিকে বরকত হয় ‘ (মাজহারি)

হজরত আতা বিন আবি রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন - আমি শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দিনের বেলায় সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে, তার সব হাজত (প্রয়োজন) পূর্ণ করা হবে।’ (দারেমি)

হজরত ইয়াহইয়া ইবনে কাসির রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত সুখে-স্বস্তিতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত শান্তিতে থাকবে।’ (মাজহারি)

আরও পড়ুন

 হেফাজতের শীর্ষ নেতার সম্পদের খোঁজে দুদক

  গাজায় হামলা চলবে বাইডেনকে নেতানিয়াহু

  যে কারণে হামাসের রকেট ধ্বংসে লাখ লাখ ডলার ব্যয় ইসরায়েলের

  এশিয়া কাপ বাতিল

 

মৃত্যুর যন্ত্রণা মুক্ত থাকার মাধ্যম সূরা ইয়াসিন

তাফসিরে জালালাইনের হাশিয়ায় এসেছে, ‘যদি কোনো মুসলমানের মৃত্যুর সময় হয়, আর সে সময় তার পাশে কেউ সূরা ইয়াসিন পাঠ করে, তবে বেহেশত থেকে রেদওয়ান ফেরেশতা জান্নাতের সুসংবাদ না দেয়া পর্যন্ত রূহ কবজকারী ফেরেশতা (মালাকুল মাউত) ওই ব্যক্তির রূহ কবজ করেন না। রূহ কবজের সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তি অবস্থান হয় রাইয়্যান নামক জান্নাতে।

হজরত আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘মৃত্যুশয্যা ব্যক্তির কাছে সূরা ইয়াসিন পাঠ করলে তার মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ হয়ে যায়। (মাজহারি)

হযরত ইবনে ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এটা (সূরা ইয়াসিন) তোমাদের মুমূর্ষু (মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে) ব্যক্তিদের কাছে পাঠ কর।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত প্রতিদিন সকালে অন্তত একবার এ সূরাটি তেলাওয়াত করা। কেননা এ সূরার তেলাওয়াতকারীকে ইহকাল ও পরকালে ব্যাপক কল্যাণ ও শান্তি দান করা হবে।

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ‘এ সূরা কেয়ামতের দিন অধিক সংখ্যক মানুষের জন্য সুপারিশকারী হবে আর আল্লাহ তাআলা তা অবশ্যই কবুল করবেন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

ঋণ পরিশোধের দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

মানুষ অভাবে ও সংকটে পড়ে। এটি জীবনব্যবস্থার খুবই স্বাভাবিক বিষয়। তাই কেউ যখন আর্থিক দুরাবস্থায় পড়ে কিংবা গুরুতর প্রয়োজনে বাধ্য হয়-তখন অন্যের কাছ থেকে ঋণ নেয়। ঋণের টাকায় নিজের প্রয়োজন ও আবশ্যিকতা পূরণের চেষ্টা করে।

কিন্তু ঋণ কারো কারো জীবনে কখনো অভিশাপ বয়ে আনে। ঋণদাতাকে যেমন ঋণ আদায় করতে না পারার হাতাশায় ভুগতে হয় তেমনি ঋণগ্রহীতাকেও ঋণদাতার বাক্যবাণে নাজেহাল হতে হয়। 

আরও পড়ুন:


করোনায় আক্রান্ত কনডেম সেলের ফাঁসির আসামি

টিকা নিলে কমে মৃত্যু ঝুঁকি: আইইডিসিআর

করোনা: কুষ্টিয়ায় একদিনে ৯ জনের মৃত্যু

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রয়োগ শুরু


দ্রুত ঋণ আদায় করতে বা ঋণমুক্ত হতে সক্ষম হওয়ার জন্য রাসুল (সা.) কিছু দোয়া ও আমল শিক্ষা দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি ঋণ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে অত্যধিক আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠের যত ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠের যত ফজিলত

সুরা বাকারা। পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় সুরা। এ সুরার শেষ দুটি আয়াতের রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও তাৎপর্য। নিয়মিত এ অংশের আমল বান্দাকে নানা বিপদাপদ থেকে রক্ষা করবে। জান্নাতের পথও সুগম করবে।

বিশ্ব নবী (সাঃ) একদিন বললেন, “এই মাত্র আকাশের একটি দরজা খোলা হয়েছে। এর আগে কখনও এ দরজাটি খোলা হয়নি, এ দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা অবতরণ করছেন। এর আগে তিনি কখনও পৃথিবীতে অবতরণ করেননি। এ ফেরেশতা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে সালাম করে বলেন, সুসংবাদ গ্রহণ করুন আপাদমস্তক দুটি নূরের, যা আপনার আগে কোন নবীকে দেয়া হয়নি।

১. ফাতেহাতুন কিতাব অর্থাৎ সুরা ফাতেহা এবং

২. সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত।

উভয় আয়াতে দোয়া আছে। আল্লাহর উসিলা করে,আপনি এসব দোয়ার যে অংশই পাঠ করবেন আল্লাহ আপনাকে অবশ্যই রহমত দান করবেন, (অর্থাত কবুল করা হবে)। সহীহ মুসলিম।

রাতের বেলা ঘুমানোর পূর্বে সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করলে তাহাজ্জুদ নামাযের সমান সওয়াব পাওয়ার আশা করা যেতে পারে।

রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতের বেলা সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পড়বে সেটা তার জন্য যথেষ্ঠ হবে।”

বুখারি ৫০১০, মুসলিম ৮০৭।

হজরত আবু মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত রাতে পাঠ করবে, তার জন্য এ দুটি আয়াত যথেষ্ট হবে; অর্থাৎ সারারাত সে জিন ও মানুষের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে এবং প্রতিটি অপ্রিয় বিষয় থেকে তাকে হেফাজত করা হবে।

সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম।

আ’উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম।

آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

উচ্চারণঃ

২৮৫. আমানুর-রাসুলু বিমা উংজিলা ইলাইহি মির রাব্বিহি ওয়াল মু’মিনুন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালা-ইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহি, লা নুফার-রিকু বাইনা আহা’দিম-মির রুসুলিহি। ওয়া ক্বালু সামি’না, ওয়া আত্বা’না, গুফরা নাকা, রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির।

২৮৬. লা ইউ কাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উস-আ’হা। লাহা মা কাসাবাত ওয়া আ’লাইহা মাক তাসাবাত। রব্বানা লা-তু আখজিনা-ইন্না সিনা- আও আখত্বা’না। রাব্বানা ওয়ালা তাহ’মিল আ’লাইনা ইসরান কামা হা’মালতাহু আ’লাল্লাজিনা মিন ক্বাবলিনা। রব্বানা ওয়ালা তুহা’ম্মিলনা মা-লা ত্বাকাতালানা বিহ। ওয়াআ’ফু আ’ন্না, ওয়াগ ফিরলানা, ওয়ার হা’মনা। আংতা মাওলানা, ফানছুরনা আ’লাল ক্বাওমিল কাফিরিন। (আমিন)।

অর্থঃ

২৮৫. রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

২৮৬. আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর।

বদরি সাহাবি আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সুরা বাকারার শেষে এমন দুটি আয়াত রয়েছে, যে ব্যক্তি রাতের বেলা আয়াত দুটি তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এ আয়াত দুটোই যথেষ্ট। অর্থাৎ রাতে কোরআন মজিদ তিলাওয়াত করার যে হক রয়েছে, কমপক্ষে সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত তিলাওয়াত করলে তার জন্য তা যথেষ্ট।’ [সহিহ্ বুখারি: ৪০০৮]

আরও পড়ুন:


দেশে একদিনে করোনায় মৃত্যু বাড়ল

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু


 

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সবাইকে পবিত্র কোরআন শরিফের এ বরকতময় সম্মানিত আয়াত পাঠ এবং আমল করার তাওফিক দিয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের সব মুসিবত, বিপদ-আপদ, রোগ-শোক অতিক্রম করে শান্তিময় ও সুখের জীবনলাভে ধন্য করুন। আমিন!

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

দোয়া ইউনুস পড়ার সঠিক নিয়ম

অনলাইন ডেস্ক

দোয়া ইউনুস পড়ার সঠিক নিয়ম

কোনো বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ইত্যাদি থেকে মুক্তি লাভের জন্য দোয়া ইউনুস পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর আমল। কিন্তু এ দোয়া ইউনুস কখন, কীভাবে এবং কতবার পড়তে হয় এবং এ দোয়া পড়ার সঠিক নিয়ম কি অনেকেই হয়তো জানেন না।  

দোয়া উইনুস পড়ার নিয়ম হল মহান আল্লাহর কাছে একান্ত বিনয় ও নম্রতা, একাগ্রতা, পূর্ণ আন্তরিকতা ও ভয়ভীতির মাধ্যমে যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা। এ দোয়া কবুল ও উপকারিতা লাভে রয়েছে কিছু নিয়ম-নীতি আর তা নিচে তুলে ধরা হল-

প্রথমে দোয়া ইউনুস পাঠ করার পর আল্লাহর কাছে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য নিয়ে দোয়া করলে, মহান আল্লাহ দোয়া কবুল করবেন। এ ক্ষেত্রে দোয়া কবুলের শর্তাবলি ও আদব ঠিক থাকতে হবে।

এ দোয়ার আমলকারীকে অবশ্য হালাল উপার্জন থেকে খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করা এবং হালাল অর্থের উপর জীবন যাপন করা। দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরুদ পাঠ করা। দোয়া শেষে আবারও দরুদ পাঠ করা ভালো।

অন্তরে দোয়া কবুল হওয়ার দৃঢ় আস্থা ও মনোভাব অক্ষুণ্ন রাখা। একান্ত বিনয়-নম্রতার সাথে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বারবার দোয়া করতে থাকা।

আরও পড়ুন:


তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

ঘরে ফিরতেই মাকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল মেয়ে

দোয়া করতে করতে বিরক্ত না হওয়া। দোয়া কবুলের জন্য তাড়াহুড়া না করা। দোয়ার মধ্যে গোনাহের কোনো কিছু না থাকা ইত্যাদি।

মহান আল্লাহ তা'আলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথভাবে দোয়া ইউনুস'এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় ‘তাহাজ্জুদ’ বলা হয় এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত যেকোনো নফল নামাজ পড়া। এ নামাজকে ‘কিয়ামুল-লাইল’, ‘সালাতুল-লাইল’ও বলা হয়ে থাকে। 

কোরআন-হাদিসের অসংখ্য জায়গায় ‘তাহাজ্জুদ’ নামাজের অনেক ফজিলত বর্ণিত আছে।

মহান আল্লাহ রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লক্ষ্য করে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করো—তোমার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে। আশা করা যায়, তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।’ (সুরা বনি ইসরাঈল : আয়াত ১৬)

হাদিস শরিফে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো রাতের (তাহাজ্জুদ) নামাজ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬৩)

তাহাজ্জুদ নামাজের সর্বোত্তম সময়

তবে তাহাজ্জুদ নামাজের সর্বোত্তম সময় হলো রাতের শেষ প্রহরে ঘুম থেকে ওঠার পর। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কোরআনে তাহাজ্জুদের জন্য বিছানা ত্যাগকারীর প্রশংসা করে আয়াত নাজিল করেছেন—‘তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা হয়। তারা ভয় ও আশা নিয়ে তাদের রবকে ডাকে। আর আমি তাদের যে রিজিক দান করেছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে।’ (সুরা সাজদা, আয়াত : ১৬)

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

তাহাজ্জুদ নামাজের সর্বোত্তম সময় রাতের শেষ প্রহরে ঘুম থেকে ওঠার পর হলেও এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া যায় এবং তাহাজ্জুদের ফজিলত লাভ হয়। কেননা তাহাজ্জুদ নামাজের মূল সময় এশার নামাজের পর থেকেই শুরু হয়ে যায়, যদিও উত্তম সময় হলো ঘুম থেকে ওঠার পর। আমরা অনেকেই শেষ রাতে উঠতে না পারার কারণে তাহাজ্জুদের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বীয় উম্মতের এই দুর্বলতার প্রতি সদয় হয়ে এই শিক্ষা দিয়েছেন যে তোমরা এশার নামাজের পর শোয়ার আগেই তাহাজ্জুদের নিয়তে দু-চার রাকাত নামাজ পড়ে নেবে।

আরও পড়ুন:


ঘরে ফিরতেই মাকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল মেয়ে

পর্নো ভিডিওর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন

হাদিস শরিফে এসেছে, সাউবান (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, রাত্রিজাগরণ কষ্টকর ও ভারী জিনিস, তাই তোমরা যখন (শোয়ার আগে) বিতর পড়বে তখন দুই রাকাত (নফল) নামাজ পড়ে নেবে। পরে শেষ রাতে উঠতে পারলে ভালো, অন্যথায় এই দুই রাকাতই ‘কিয়ামুল লাইল’-এর ফজিলত লাভের উপায় হবে।’ (সুনানে দারেমি, হাদিস : ১৬৩৫; সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ১১০৬; তাহাবি, হাদিস : ২০১১)

মহান আল্লাহ তা'আলা সকলকে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার ধৈর্য দান করুন। আমিন 

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

দুর্দিনে আর্থিক সংকট থেকে বাঁচার উপায়

অনলাইন ডেস্ক

অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে কে না চায়। তবে অনেকেই ভ্রান্ত পথ বেছে নেয়। যা গুনাহের কাজ। এমনকি চরম দুর্দিনেও অন্যায় পথ বেছে নেওয়া যাবে না।  ইসলাম এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে হতাশ হবার কোনো কারণ নেই। কারণ সমাধান রয়েছে। দুর্দিনে আর্থিক সঙ্কট থেকে বাচাঁতে মহান আল্লাহর কাছে দয়া ভিক্ষা চাইতে হবে। বিস্তারিত ভিডিওতে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর