আয়রন ডোমের আদ্যোপান্ত
আয়রন ডোমের আদ্যোপান্ত

আয়রন ডোমের আদ্যোপান্ত

অনলাইন ডেস্ক

ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েলের গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। এ সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নাটকীয় দৃশ্যের অবতারণা ঘটছে। আঘাতের পাল্টা জবাবে কয়েক দিন ধরে ফিলিস্তিন থেকে শত শত রকেট ছোড়া হচ্ছে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে। তবে এসব রকেটের অধিকাংশই ঠেকিয়ে দেওয়ার দাবি করছে ইসরায়েল।

রকেট হামলা ঠেকানোর জন্য ইসরায়েলের হাতে আছে ‘আয়রন ডোম’ নামের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা আয়রন ডোমের মাধ্যমে ৯০ শতাংশ রকেট হামলা আকাশেই ঠেকিয়ে দিয়েছে। আয়রন ডোম কী, আর তা কীভাবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে, তা তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

আয়রন ডোম আসলে একটি প্রতিরক্ষামূলক আচ্ছাদন। কোনও দেশের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম যা ব্যবহার করে থাকে। রকেট, মর্টার বা অন্য যে কোনও অস্ত্র যাতে এসে ধাক্কা লেগে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। ইজরায়েল সেনারও দাবি, প্রতিপক্ষের ছোড়া রকেটের প্রায় ৯০ শতাংশই তারা আয়রন ডোমের সাহায্যে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে।

সাধারণত কোন দেশ তাদের আকাশ বা জলপথের সীমানায় এই ধরণের আয়রন ডোম ইনস্টল করে থাকে। রকেট, মর্টার থেকে যাবতীয় দূরপাল্লার বিভিন্ন অস্ত্রকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন অদৃশ্য এক দেয়াল এই আয়রন ডোম।

ইজরায়েল যে আয়রন ডোম পরিষেবা ব্যবহার করে তা বানিয়েছে ফ্রান্সের বিখ্যাত রাফাল অ্যাডভান্স ডিফেন্স সিস্টেম। এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে গাজা প্রদেশ নিয়ে উত্তেজনার জেরে ২০১১ সালেই ইজরায়েল সরকারের ছাড়পত্রে সেদেশের সেনা ইনস্টল করেছিল এই আয়রন ডোমটি।

২০০৬-র লেবাননেন যুদ্ধ ও তারপরের সময়ে হেজবোল্লা ও হামাস জঙ্গিদের তরফে ইজরায়েলের উত্তর-প্রান্তে ছোড়া হয়েছিল প্রায় ৪ হাজারের বেশি রকেট। যাতে ৪৪ জন ইজরায়েলি প্রাণ হারিয়েছিলেন, বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল প্রায় আড়াই লক্ষকে। যার পরই দেশের উত্তর-প্রান্তে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করতে আয়রন ডোম পরিষেবা ইনস্টল করে ইজরায়েল সরকার।

নির্দিষ্ট ট্র্যাকিং রাডার, ব্যাটারির মাধ্যমে বছরের সব সময়তেই কার্যকর থাকে এই আয়রন ডোম। তবে নির্দিষ্ট একটি সহনশীলতা মাত্রা অতিক্রম করলে যার কার্যকারিতা নষ্ট হতে থাকে। কিন্তু আপাতত গাজাকে ঘিরে অশান্ত পরিবেশের মাঝে যে পাল্টা আক্রমণহামাসের পক্ষ থেকে এসেছে, তার অনেকটাই সামলে দিয়েছে আয়রন ডোম। ইজরায়েলের দাবি, তাদের দেশের সীমা লক্ষ করে প্রায় দেড় হাজার রকেট ছোড়া হয়েছিল, যার মধ্যে ৯০ শতাংশকেই আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে আয়রন ডোম।

আয়রন ডোম ব্যবস্থার প্রধান দিক তিনটি। রাডার ব্যবস্থা, কন্ট্রোল ব্যবস্থা, মিসাইল ফায়ারিং ব্যবস্থা। এ তিন ব্যবস্থা মিলেই গড়ে ওঠে সুদৃঢ় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসা রকেটকে চিহ্নিত ও তার গতিপথ শনাক্ত (ট্র্যাক) করে রাডার ব্যবস্থা। তারপর কন্ট্রোল ব্যবস্থা ধেয়ে আসা রকেটের সম্ভাব্য ‘হিট পয়েন্ট’ নির্ধারণ করে। ‘হিট পয়েন্ট’ নির্ধারণের পর কন্ট্রোল ব্যবস্থা মিসাইল ফায়ারিং ব্যবস্থাকে নির্দেশনা দেয়। মিসাইল ফায়ারিং ব্যবস্থা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যায় আকাশে। আকাশে গিয়ে ধেয়ে আসা রকেটের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়। এতে রকেট আকাশেই ধ্বংস হয়ে যায়।

সম্প্রতি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লে. কর্নেল জনাথন কনরিকাস স্বীকার করেন, তাদের হাতে যদি আয়রন ডোম ব্যবস্থা না থাকত, তাহলে ইসরায়েলিদের ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হতো। আয়রন ডোম ব্যবস্থা তাদের জীবন রক্ষায় কাজ করছে।

news24bd.tv/আলী

;