ন্যায়বিচার ও কাকলী ফার্নিচার

মিল্লাত হোসেন

ন্যায়বিচার ও কাকলী ফার্নিচার

রাষ্ট্রের ইচ্ছাই ন্যায়বিচার। রাষ্ট্র যতোটুকু সহ্য করবে, ততটুকুই ন্যায়বিচারের সীমানা। আন্তর্জাতিক স্তরে বিচারও কেবল তখনই সম্ভব হয় যখন রাষ্ট্রই তা অনুমোদন করে বা পরিত্যাগ করে কিংবা রাষ্ট্রই আর থাকে না।

আর রাষ্ট্রের মুখপাত্র হলো সরকার। সার্বভৌম রাষ্ট্রের ইচ্ছাগুলোর সিংহভাগই সরকারের মুখ দিয়ে বের হয়। সরকারের বাইরে রাষ্ট্রের ইচ্ছা প্রকাশের ফোরাম ও সুযোগ নেই, এমন না হলেও খুব সংকীর্ণ। তাই এর বাইরে যারা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশী, তারা হয় 'আদর্শ রাষ্ট্র'(Ideal state) নয় 'কল্পরাষ্ট্র' (Utopia)-র নাগরিক।

আয়রনি হলো, জনগণই রাষ্ট্র, তারপর সরকার তৈরি করে। জনগণ বলতে আসলে সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা শক্তিশালী জনগণই বোঝায় সাধারণত, সব জনগণ নয়! এরপর, বাকি জনগণকেও তা মেনে নিতে হয়।

নইলে সেই "বাকি জনগণ"কে রাষ্ট্রই তাদেরই টাকায় কেনা বুলডোজার দিয়ে তাদের পিষে দেবে। আর, সেটা করতে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রই ভেঙে যাবে। রাষ্ট্রের চরিত্রই এমন।

এখন 'সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ' এটা একটা ক্লিশে কথা হলেও সঠিকও আবার। জনগণ ভোট দেবে- এমনটা নয়। আগেকার দিনে যুদ্ধই ছিলো রাষ্ট্র, সমাজ, সরকার গঠনের শীর্ষ পথ। হাল আমলের নির্বাচন, ভোট দেয়া, জরিপ, এলগোরিদ্মিক এনালাইটিক্স এসবের বালাই তো ছিলো না তখনো।

তবুও, তখনও সংখ্যাগুরু/শক্তিমানদেরই সরকার-রাষ্ট্র হতো। কোন একটা কৌম গড়ে উঠতো, সেই কৌমের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের ভেতর দিয়ে নেতা গড়ে উঠতো। সেই নেতার বিরাট সমর্থক, সভাসদ গড়ে উঠতো। তারা সৈন্যসামন্ত-লোকলস্কর জোগাড় করে যুদ্ধে লিপ্ত হতেন। এই বিরাট কর্মযজ্ঞ সংখ্যাগুরু মানুষের সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিলো না। এখনকার তুলনায় তখনকার যুগের জনসমর্থন প্রকাশ বা ভোট করার পদ্ধতিই কিছুটা ভিন্ন ছিলো- এই যা!

কিন্তু রাষ্ট্রের হাতে তুরুপের টেক্কাটি চলে যায় এজন্যই যে, জনগণ একবার রাষ্ট্রটি গঠন করে ফেলার পর রাষ্ট্রটি এমনই লায়েক ও বাহাদুর হয়ে ওঠে যে জনগণই আর তার নাগাল পায় না; নিয়ন্ত্রণতো দূরের কথা! একেই কী বলে গহীনরাষ্ট্র (deep state)? অদৃশ্য অথচ watching Big Brothers।

যারা নিজেরা রোজকার হরেদরের রাজনীতিতে না গলান না, কিন্তু রাজনীতির গ্র‍্যান্ড ন্যারেটিভগুলো ও পরিধিতে লাল পতাকা গেঁড়ে দেন। এহেন রাষ্ট্র সর্বোচ্চ যতটুকু সহ্য করতে পারবে বলে মনে করে সেই মাত্রার আইন তৈরি করে তার সমমাত্রার আইনের শাসন অনুমোদন করে। কিন্তু মহাশয় নিজেও এতোই বাহাদুর হয়ে উঠেন যে, নিজেকেই মানতে চান না। রাষ্ট্রকে বাহাদুর না হয়েও উপায় নেই। না হতে পারলে সে টিকেও থাকতে পারবে না!

প্রথমতঃ নিজেকে রক্ষা, এরপর বিকাশের প্রয়োজনে নিজের আরেকটা আধিরাষ্ট্রিক সত্বা' নির্মাণ করে নেয়, যা কারো কাছেই জবাবদিহি করে না। বরং জনগণসহ সবাইকেই "আধিরাষ্ট্রিক সত্তা"র কাছে জবাবদিহি করতে হয়।

পুঁজিবাদী, সমাজতন্ত্রী, গণতন্ত্রী, একনায়কতন্ত্রী, রাজতন্ত্রী, সামন্ততন্ত্রী, এসলামি, কেরেস্তানি, হিঁদু, বৌদ্ধ, ইউনিটারি বা কনফেডারেট - সব রাষ্ট্রের চরিত্র বা আকাঙ্ক্ষা একই। পার্থক্য স্রেফ মানুষের খাদ্যাভ্যাস, জিন আর আবহাওয়ায়! নিজেদের যতোভাবেই মহিমান্বিত করুক না কেনো, রাষ্ট্রের কাছে মানুষ দু'পেয়ে জীব ছাড়া আর কিছুই না। দামে কম, মানেও কম, কাকলী ফার্নিচার মাত্র!

তাহলে উপায় কী মানুষের? একটাই, প্রতিনিয়ত ছোট ছোট লড়াই করা। নিজের যোগানো প্রতিটি পাইপয়সা ও সমর্থনের হিসাব নিতে হবে। সুসময়েও সজাগ থাকতে হয় দুঃসময়ের পাথেয় সঞ্চয়ের জন্য। কেউ শুনছে না, সে জন্যই কথাগুলো বারবার বলে যাওয়া যে- Injustice anywhere is a threat to justice everywhere!

(মিল্লাত হোসেন, বিচারক)

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

একশোটা ব্যঙ্গচিত্র যা পারতো না একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তা পেরেছে

আলী রীয়াজ

একশোটা ব্যঙ্গচিত্র যা পারতো না একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তা পেরেছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েই এই কথা জানানো হয়েছে। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রে একটি কার্টুন প্রকাশিত হবার পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা হেয় প্রতিপন্ন না হয় সেজন্য’ এই সিদ্ধান্ত। এই খবর পাঠ করেই আমার স্মরণ হল যে, আর কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী। একশো বছরের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোথায়  গিয়ে দাঁড়িয়েছে এই বিজ্ঞপ্তি হচ্ছে তার একটি উদাহরণ।

যে বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার উপাচার্য সামান্য ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ সহ্য করতে পারে না, সেই প্রতিষ্ঠান কী করে শেখাবে সহিষ্ণুতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার? একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যদি স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকারকেই না সহ্য করতে পারে তবে বিশ্ববিদ্যালয় শেখাবে কি? একটি বিশ্ববিদ্যালয়, আসলে যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান – এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও, কেবল ক্লাশরুমের চার দেয়ালের মধ্যে শেখায় না। সবচেয়ে বড় কথা, নাগরিকের করের অর্থে চলা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে নাগরিকরা কিছু বললে তার জন্যে ‘আইনি’ ব্যবস্থার হুমকি তো পাকিস্তানী আমলে ষাটের দশকেও শোনা যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের কি কিছুই অর্জন নেই? অবশ্যই আছে। কিন্ত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত বলে দিচ্ছে যে, কর্তৃপক্ষের অবস্থান কী।

কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভাবমূর্তি’ নিয়ে উদ্বিগ্ন, যেন ‘ভাবমূর্তি’ একটা বায়বীয় বিষয়। ভাবমুর্তি তৈরি হয় আচরণ দিয়ে, কর্মকাণ্ড দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হলগুলোতে কথিত ‘গণরুমে’ শিক্ষার্থীরা অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিকভাবে জীবনযাপন করে, তাঁদের ওপরে নির্যাতনের ঘটনার কথা জানা যায়, তাঁদের বাধ্য করা হয় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের হয়ে কাজ করতে, এই রকমভাবে প্রাণ সংহার হয় শিক্ষার্থীর - এইসব কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি কোথায় যায় তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ নেই।

উদ্বেগ নেই এই নিয়েও যে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় বরাদ্দ খুব সামান্য – মোট ব্যয়ের ৫ শতাংশের মতো। আর সেই বরাদ্দ করা অর্থও ব্যয় করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সক্ষম হয় না। ২০১৯-২০ সালে বরাদ্দ করা ৪০ কোটি টাকার মধ্যে ২৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিলো। অথচ ২০১৯-২০২০ সালে বরাদ্দ আগের বছরের তুলনায় কমানো হয়েছিলো। এগুলোই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি তৈরি করে। 

ভাবমূর্তির ভাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে স্বাধীনভাবে জ্ঞান উৎপাদন, জ্ঞান বিতরণ,  জ্ঞান চর্চা  এবং সকলের মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা – শিক্ষকের, শিক্ষার্থীর; স্বাধীনভাবে প্রশাসন পরিচালনা করা। এইগুলো নিয়ে ভাবলে ভাবমূর্তি নিজেই গড়ে উঠবে, তার জন্যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে না। আর অন্যভাবে বললে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে একশোটা ব্যঙ্গচিত্র যা করতে পারতো না একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সেটাই পেরেছে।

লেখক : অধ্যাপক, ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটি

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

তাসের ঘরের সন্ধানে

মিল্লাত হোসেন

তাসের ঘরের সন্ধানে

আমি তখন ১ম বা ২য় শ্রেণিতে পড়ি। সময়টা সেই হিসেব ১৯৮৪ বা ৮৫ সাল হবে। আমরা থাকি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায়, আব্বুর চাকুরিসূত্রে। একদিন দেখলাম, আম্মা কি যেন শব্দ করে পড়ছেন আর হাপুসনয়নে কাঁদছেন। দুই আপা তাকে ঘিরে শুনছে আর কান্নায় সঙ্গত করছে। আমিও যোগ দিলাম-শ্রোতা, দর্শক উভয় হিসেবেই।

বিষয়টা ছিলো, বেকারি থেকে বেলা বিস্কুট বা পাউরুটি আনার কাগজের ঠোঙ্গা, যা আসলে ছিলো ‘তাসের ঘর’ নামক উপন্যাসের কয়েকটা পাতা। খুবই আবেগাক্রান্ত আর বিয়োগাত্মক ছিলো এটা মনে আছে, তবে কাহিনী কী ছিলো সেটা মনে নেই। 

কিছুক্ষণ পর শহর থেকে মেজোমামা আসলেন বেড়াতে। তিনি তখন চিটাগাং পলিটেকনিকের ছাত্র।

মামাকে, কথ্য ভাষার লাইব্রেরিতে (আসলে বইয়ের দোকান) পাঠিয়ে দেয়া হলো তাসের ঘর খুঁজে আনতে। না পেলে বেকারি থেকে আরো কিছু বিস্কুট ঠোঙ্গায় করে কিনে আনতে বলা হলো। বই মেলেনি, ঠোঙ্গায় আরো কয়েকটা পাতা এলো তাসের ঘরের। কান্নাভেজা পাঠের পুনরাবৃত্তি চললো আরেকদিন। এরপর, বেকারি থেকে পুরো বইটাই আনতে গেলে ৮/১০ পাতার মতো পাওয়া গেলো। তীব্র অতৃপ্তিতে বেশ কিছু দিন খোঁজাখুঁজি চলেছিলো। পাওয়া যায়নি। এক সময় যথারীতি সবাই ভুলে গেলেন।

মেজোমামা অনেকদিন এই পৃথিবীতে নেই; আর এই ঘটনাটাও সম্ভবতঃ আমি ছাড়া আর কারো স্মৃতিতেই অবশিষ্ট নেই। আমি ভুললাম না। মাঝেমাঝেই 'তাসের ঘর' উঁকি দেয় আমার মনের ঘরে, স্মৃতির চিলেকোঠায়।

একটু বয়েস হলে খুঁজে পেতে রবীন্দ্রনাথের "তাসের দেশ" পাই, কিন্তু 'তাসের ঘর' পাই না কিছুতেই। আরো পরে একবার রোখ চেপে গেলো। না, এই বার 'তাসের ঘর' খুঁজে বার করতেই হবে!

খোঁজ, খোঁজ, নেমে পড়লাম তাসের ঘরের সন্ধানে। না, এই নামের কোন বইয়ের হদিস পাই না। বুঝলাম, নেহাত সার্চে কাজ হবে না, রিসার্চই করতে হবে।

সাহিত্যের ইতিবৃত্ত ধরনের ঢাউস মার্কা বই ধরে খুঁজতে হবে। ক'দিন পরে তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় এর "তাসের ঘর" নামের ছোটগল্প পেলাম। তিনি সমগ্র বাংলারই অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক, তাঁর লেখায় ঢলঢল আবেগ থাকার কথা না। পেলামও না পড়ে। মোটে ৩ পৃষ্ঠায় শেষ নির্মেদ গল্পের ওস্তাদির। এটা ইপ্সিত "তাসের ঘর" যে না, সেটা নিশ্চিত হয়ে আগে বাড়লাম।

এরপর "তাসের ঘর" নামের সিনেমার খোঁজ পেলাম। তাতে মহানায়ক উত্তমকুমারের দ্বৈত চরিত্র। প্রচণ্ড ধনী ও সমপরিমাণ অসুখী একজনের বেকারত্বের জ্বালায় আত্মহত্যা করতে যাওয়া look alike এর সাথে জীবনবদলের গল্প। এতেও আবেগ/বেদনা হাত ধরাধরি করে আছে। এই সিনেমাটাই কি 'তাসের ঘর' উপন্যাস অবলম্বনে বানানো হয়েছে? তাহলে বই একটা তো থাকার উচিত। কিন্তু এ তো সিনেমা, আমারটাতো ছাপা বই। সেটা কই? এই রকম কোনো বইয়ের হদিস পাইনি।

একবার মনে হলো, এমন যদি হয় এই বইটা কোন নামগোত্রহীন লেখকের? অনেকেই তো নিজ উদ্যোগে লেখক হিসেবে নিজের নাম ছাপার অক্ষরে দেখার জন্য বই ছাপান। কেউ কেউ সিনেমার গল্প নিয়েই সস্তা বই ফেঁদে বসেন। তেমন বই হলে পাওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কাছাকাছি।

সর্বশেষ  রাডারে ধরা পড়লো বন্দে আলী মিয়া'র এই নামের একটা বই আছে। তিনি উঁচুমাপের বা জনপ্রিয় সাহিত্যিক ছিলেন না এবং ১৯৮৪/৮৫ সালের দিকে তার বিষাদে ভরপুর কোন বই ঠোঙ্গা হিসেবে পাওয়ার সম্ভাবনা মিলিয়ে আমার মনে হলো- ইউরেকা! ইউরেকা!!

কিন্তু আমার উচ্ছ্বাসে কিছুটা জল ঢলে পড়লো যখন জানলাম যে, ওটা উপন্যাস নয় গল্পগ্রন্থ, যার একটা গল্পের নাম "তাসের ঘর"।

আবার মনে হলো, ২০/২৫ পৃষ্টার বড়্গল্পও'তো হতে পারে। কিন্তু, বন্দে আলী মিয়ার বই আজ আর বইয়ের দোকানে মেলে না। পরে জানা গেলো বাংলা একাডেমি তাঁর রচনাবলী প্রকাশ করেছে। ২য় খণ্ডে আছে "তাসের ঘর"। একুশে বইমেলায় গিয়ে কয়েকবার বাংলা একাডেমিতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, এটা আউট অভ প্রিন্ট অনেকদিন ধরে। রচনাবলীর ২য় খণ্ডটি এখনো সংগ্রহ করতে পারিনি...'তাসের ঘর'ও এখনো অক্ষত আছে।

আমি সেই গল্পের পাঠক নয়, শ্রোতা ছিলাম মাত্র। তাও এমন শ্রোতা, কাহিনীও যার মনে নাই! ফলে, শেষ হইয়াও শেষ না হওয়ারও ৬৫/৩৫% সম্ভাবনা আছে।

মিল্লাত হোসেন, বিচারক।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / তৌহিদ

পরবর্তী খবর

পরীমনি এবং....

নজরুল ইসলাম​

পরীমনি এবং....

জাঁ জ্যাক রুশো ১৭৬১ এ-র দিকে ‘জুলি বা ল্য নোভেল এলোইজ’ নামে একটি উপন্যাস লিখেন। সেখানে তিনি নারীর প্রকৃতি, ভুমিকা, অবস্থা নির্দেশ ও ব্যাখা করেন। রুশোর দর্শনে নারী হবে সুন্দরী, প্রেমপূর্ণ তবে অযৌন ও শীতল সতী। নারী পরিপূর্ণ থাকবে লাজনম্র সতীত্বে। নারী আবেদনময়ী হবে কিন্তু সবার জন্য নয় শুধু স্বামীর জন্য। তার মতে সতীত্বের উপর কোনো গুণ থাকতে পারে না। সঠিক পিতৃত্বের ব্যাপারে তিনি তার দর্শন চর্চায় খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে রুশো নিজে ছিলেন কামার্ত ও অনেক অবৈধ সন্তানের দায়িত্বহীন জনক।

সাম্প্রতিক পরীমনি কাণ্ডে আমাদের মধ্যে অনেকে আছি যারা পরীমনির নাচ উপভোগ করি, তার সিনেমা দেখে ফ্যান্টাসিতে ভুগী,  নিদেন পক্ষে পরীমনির লাস্যময়ী ছবি জুম করে দেখে-টেখে  মন্তব্যের ঘরে গিয়ে প্রচণ্ড অশ্লীলভাবে ট্রিট করে ছাপার অযোগ্য ভাষায় গালিগালাজ করছি।  এই ব্যাপারটির মধ্যে কেমন জানি একটা ‌‘রুশো রুশো’ গন্ধ আছে।

চর্চিত সংস্কৃতির কথা বলে, যাপিত প্রণালীর দোহাই দিয়ে কিংবা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ কোনো দিক থেকেই এটা করার সুযোগ নাই। ইসলামে অপ্রয়োজনে কোনো নারীর ছবি দেখা, নাচ-গান উপভোগ করা কিংবা কল্পনাতেও কিছু  আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রশ্ন আসতে পারে, সবাই তাকে এসবের কোনোভাবেই দেখছেন না শুধু তার কাজের জন্য গালি দিচ্ছেন।তাহলে শুনুন। ইসলামে অন্যকে গালি দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। যেকোনো কারণেই হোক, কাউকে গালি দেওয়ার অনুমতি নেই।

হাদিসে আছে, মুমিন কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপদাতা, অশ্লীলভাষী ও গালিগালাজকারী হয় না। (তিরমিজি, হাদিস নং : ২০৪৩)।

যারা মনে করছেন এ ধরনের কাজ করে ‘জিহাদ’ করার মতো অশেষ নেকি হাসিল করে ফেলছেন তারা একটি জীবন ব্যাবস্থাকে অন্যদের নিকট হাস্যকরূপে উপস্থাপন করছেন। অথচ ইসলাম  কোনোভাবেই তার অনুমোদন দেয় না।  ইসলাম আনুষ্ঠানিকতা নির্ভর কোনো ধর্ম নয়। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমুতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রত্যেকটি বিষয়ে ইসলামের ইন্টারফেয়ারেন্স থাকে এবং তা একদম সুস্পষ্টভাবে। সুতরাং পরীমনির বিষয়ে এত সিরিয়াস না-হয়ে নিজের বিষয়ে ভাবি।

আরও পড়ুন:


যে কারণে গাজার ‘আগুনে বেলুন’কে এত ভয় ইসরাইলের

ঠাকুরগাঁওয়ে ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

মালয়েশিয়ায় করোনায় প্রবাসীর মৃত্যু


আর যারা পরীমনির এসব ব্যাপার- স্যাপার কে আমাদের কৃষ্টি কালচারের সাথে যায় না বলে গালিগালাজ করছেন কিংবা প্রগতিশীলতার কথা বলে সাপোর্ট করছেন তাদের মধ্যেও শত শত বিভাজন বিদ্যমান। যে ধরনের জীবনবোধে অভ্যস্ত সেভাবেই আমাদের সংস্কৃতিকে দেখছেন। ইতালীয় দার্শনিক বেনেদিত্তো ক্রোচের মতে, প্রতিটি জাতির এমন কিছু সামাজিক আবেগ আছে যার মাধ্যমে জাতিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্যাসের আকারে পুরোমাত্রায় বিরাজমান থাকে। কিন্তু সেটা আমাদের ক্ষেত্রে  তা কখনো হয়নি। 

নারীবাদীরা বলছেন, ‘পরীমনিকে সাপোর্ট করুন নাহলে একদম চুপ থাকুন।’ এদের কারণে কতিপয়  সাংবাদিকদের অবস্থা হয়েছে দেখার মতো।

তাদের পরীমনিকে খুব প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছে, এত রাতে আপনি ওখানে কেন গিয়েছিলেন? কিনতু তা তারা করছে না কারণ এ প্রশ্ন করলে এ সাংবাদিকের  ক্যারিয়ারই শেষ করে দিবে নারীবাদীরা।

এদিকে সাধারণ জনগণ এটাকে দেখছেন আমাদের ‘যাপীত জীবনের সাথে কোনোভাবেই যায় না’ সে কনসেপ্ট থেকে। আবার যারা সো হোয়াট, ডোন্ট মাইন্ড আর খোলামেলা জীবনে অভ্যস্থ তারা বলছে, ‘অসুবিধা কি!’ আসলে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে  দিনের পর দিনে এদেশে নতুন নতুন ভাবাদর্শ তরঙ্গ তুলেছে কিন্তু আমরা মনের দিক থেকে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের মতো বারবার বিচ্ছিন্ন থেকে গিয়েছি। আহমদ ছফা ‘বাঙালি মুসলমানদের মন’ এ লিখছেন, ‘অনেক কিছুর সংবাদ সে জানে কিন্তু কোন কিছুকে যুক্তি দিয়ে,মনীষা দিয়ে আপনার করতে জানে না। কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে গোঁজামিল দিয়ে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায়। বাঙালি মুসলমান বিমূর্তভাবে চিন্তা করতেই জানে না এবং জানে না এ কথাটি ঢেকে রাখার যাবতীয়  প্রয়াসকে তারা কৃষ্টি- কালচার বলে পরিচিত করতে কুণ্ঠিত হয় না’।

যদিও সো -কল্ড  নারীবাদিদের কথাগুলোকে তেমন গুরত্ব দেওয়ার কিছু নেই তারপরেও এদের দ্বিচারিতাার নীতিটা সামনে আনার জন্য বলি। এদেরই কোনো আত্মজা, ভগিনী, মাতাকে কখনোই এরা রাত দুটোয় কোনো ক্লাবে যেতে দিবেন না। প্রকৃতিগত হোক  বা বৈষয়িক কোনো কারণেই হোক, তারা তা দেবে না। কিন্তু কায়েমি স্বার্থবাদিতা ও ফাঁপরবাজির জন্য তারা গলা ছড়াবেই। প্র্যাকটিক্যাল প্রমানের কথাই যদি বলি, যিনি ছবি বানায় সে রকম একজন পরিচালক সোনানুর রহমানই বলছেন, পরীমনি অহরহ রাত বারটার পর বের হয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। বোঝা যাচ্ছে এ জীবনাচরণে তাদেরও প্রশ্ন আছে।

এরাই ডলি সায়নন্তির সাড়া জাগানো - জ্বলন্ত সিগারেট ঠোঁটে ধরা,
লাল শার্ট গায়ে তার বুক খোলা,
সানগ্লাস কপালে.আছে তোলা,
রাখনা কেন ঢেকে ওই দুটি চোখ,
হেই যুবক  গানে কোমর দোলালেও নিজের বোন বা কন্যা কে পাত্রস্থ করতে  ই. ইন্জিনিয়ারিংএ পি. এইচ. ডি. করা বোস্টন ফেরত ছেলেকেই খুঁজবে; ওই যুবককে নয়।

তাই ধর্মীয়ভাবে নিজের পরিশুদ্ধতার বিষয়ে যত্নবান না হয়ে আর সংস্কৃতির ধোঁয়াটে ভন্ডামি করে পরীমনির জীবনাচরণের এনাটমি বাদ দেওয়া উচিত। এটা চূড়ান্তভাবে মানুষ কে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে না। অন্য একটা ঘটনায় তা বোঝা যায় সহজেই। একজন ইসলামি স্কলার নিখোঁজ হওয়ায় অনেকেই তাঁর কোনো বক্তব্য না শুনেই তার জীবনাচার, মানুষকে সঠিক পথে আহবান করার প্রয়াস তাঁকে তাদের  কাছে হিরো বানিয়ে দিয়েছে। এতেই তো পরীমনির জীবনাচরণের পরাজয় ঘটে গেছে। আপনি এত ‘গাইল পারেন ক্যা?’ বরং এ প্রশ্ন করুন পরীমনির জীবনাচরণে দোষ দেখলেন আর ওই স্কলারে স্বস্তি দেখলেন কোন জাস্টিফিকেশনে? উত্তর দেওয়ার আগে চেমফোর্ডের একটা কথা বলে নেই- নারীরা ফাঁসিতে ঝুলার আগেও প্রসাধনটা একটু দেখে নেয়। এটা নারীর স্বভাবজাত কিন্তু  কেউ যখন বেলেল্লাপনায় সবকিছুই উম্মুক্ত করে দেয় সেক্ষেত্রে অন্যদের কথা বলতে পারছি না তবে তা আমার ও আমার সন্তানদের  মনোজগতকে  Toxic করে নিঃসন্হেহে আর ওই স্কলারের ফিলোসোফি মানুষ হিসেবে আমার ভুলগুলো কোথায় এবং তা  রিফর্ম করার চিন্তাটা মাথায় ঢুকিয়ে দেয়। উত্তরটা এখানেই। 

অতএব, নিজ নিজ আত্মার পরিশোধনের পর সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে বাস্তব জীবনে তার কাঠামো দাঁড় করিয়ে দিন আর সে বার্তাটিই আপনি যার জীব।

লেখক- সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / তৌহিদ

পরবর্তী খবর

মিডিয়ার লোকজন ভালো হয় না, ভালোরাও খারাপ হয়ে যায়!

এমি জান্নাত

মিডিয়ার লোকজন ভালো হয় না, ভালোরাও খারাপ হয়ে যায়!

মিডিয়ার লোকজন ভালো হয়না! ভালোরাও খারাপ হয়ে যায়। এইটা মাঝে মধ্যে শুনি। এখানে মিডিয়ার লোকজন বলতে যারা চাকরি করেন তারাসহ শিল্পীদের চৌদ্দগোষ্ঠী যে বোঝানো হয় এইটুকু আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সবাই বুঝবে।

সে যাই হোক, ঠিক কোন কিছিমের পেশার লোকজন ভালো আর ভালোর সঠিক ব্যাখ্যা কী এইটা বহুত আপেক্ষিক ব্যাপার।

সাধারণ জ্ঞান মানে কমনসেন্সে দেখতে গেলে ভালো বলতে যাদের মন ভালো, উদার, কারও সাথে খারাপ ব্যবহার করেনা, সৎ, পরোপকারী, কোনো কুটিলতা, সমালোচনার মধ্যে নাই এগুলোর সমষ্টি যে মানুষগুলোর মধ্যে আছে তাদেরকে ভালো বলা হয়। কিন্তু এই গুণগুলো থাকার পর বেশিরভাগ মানুষের কাছে ভালো থাকলেও সবার কাছে ভালো থাকা যায় কী?

এই যেমন, আপনি সৎ! অসৎ লোকের কাছে আপনি খারাপ কারণ আপনি তার বিরুদ্ধ পক্ষ। আবার আপনি কারও সাতে পাঁচে নেই, আপনার পাশের একজন নানান রঙ মাখানো সমালোচনার ঝুড়ি নিয়ে এসে পাত্তা পেলো না। তার কাছেও আপনি ঠিক সুবিধার না। আপনিও তার সেই ফুলঝুড়ির একটা অংশ।

যে অন্যের ভালো খারাপের বিচার নিয়ে বসে সে নিজের চেহারা আয়নায় কতটা স্পষ্ট দেখতে পায় আমার জানা নেই। মানুষের কাছে ভালো থাকার চেয়ে সবচেয়ে দরকার নিজের কাছে পরিষ্কার থাকা। যেটাই করছি, ১০০% দিয়ে করছি কিনা। নিজের সম্পর্কে নিজের হিসাবের অংক মিললো কিনা এই ক্লিয়ারেন্সটা থাকা সবচেয়ে জরুরি।


আরও পড়ুনঃ

আবু ত্ব-হা আদনানকে খুঁজে দিতে জাতীয় দলের ক্রিকেটার শুভর আহ্বান

গণপূর্ত ভবনে অস্ত্রের মহড়া: সেই আ.লীগ নেতাদের দল থেকে অব্যাহতি

আবারও মিয়ানমারের গ্রামে তাণ্ডব চালিয়েছে সেনাবাহিনী

সুইসদের হারিয়ে সবার আগে শেষ ষোল নিশ্চিত করল ইতালি


শুরুর লাইনে আসি, ভালো খারাপ মানুষের পেশায় থাকে না। রক্তে আর মনে মিশে থাকে। আর তাই যেমন ধর্মশালায় বলাৎকার হয়, পরিবারেও রক্তারক্তি হয়, অন্যদিকে কিছু মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ায় মন উজার করে। সবটাই হয় কিন্তু মনের তাগিদেই। কোনো পেশায় না, মনের ঘরেই ভালো-মন্দের বসবাস।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং কিসের উপর ভিত্তি করে হয়?

রউফুল আলম

ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং কিসের উপর ভিত্তি করে হয়?

ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং কিসের উপর ভিত্তি করে হয়?

অনেকগুলো বিষয়কে বিবেচনা করা হয়। তবে প্রধাণত যে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দেয়া হয়-

এক. প্রতি বছর কী পরিমাণ গবেষণা আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত আর্টিকেলগুলোর আন্তর্জাতিক স্কেলে মান। এই আর্টিকেলগুলো কতোবার সাইট করা হয়—মোট সাইটেশন নাম্বার।

দুই. স্টুডেন্ট-ফ‍্যাকাল্টি অনুপাত। যেমন, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট-ফ‍্যাকাল্টি অনুপাত হলো ৫:১।

তিন. প্রতি বছর কি পরিমান ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়া হয়।

চার. ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও ছাত্র সংখ‍্যা কেমন। দুনিয়ার যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো র‍্যাঙ্কে এগিয়ে থাকে তাদের ক‍্যাম্পাসে একটা ডাইভারসিটি দেখা যায়। বহু দেশের স্টুডেন্টরা এসে পড়াশুনা করে। গবেষণা করে।

পাঁচ. আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে কতো সংখ‍্যক স্টুডেন্ট জব পায়, সেটা বিবেচনা করা হয়। এটা মূলত ইঙ্গিত করে যে একটা প্রতিষ্ঠান তরুণদেরকে কেমন মানের যোগ‍্য করে তুলছে। আমি যে বারবার বিশ্বমানের তারুণ‍্যের কথা বলি—এ জন‍্যই। আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলো থেকে স্টুডেন্টরা পাশ করে বের হয়েই যদি সরাসরি আন্তর্জাতিক যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোতে চাকরি পায়, তাহলে বুঝতে হবে আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলোতে বিশ্বমানের পড়াশুনা ও গবেষণা হচ্ছে।

ছয়. পড়াশুনা এবং গবেষণার মান সম্পর্কিত “একাডেমিক রেপুটেশন” জরিপ করা হয়।

বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের র‍্যাংকিং একই রকম হয় না। অবশ‍্যই কিছু হেরফের হয়। কিন্তু তাই বলে, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি যদি কোন তালিকায় দশম হয় অন‍্য তালিকায় একশো হবে না।


আরও পড়ুন:


 

নাসির আমার বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে: পরীমণি

জি-সেভেনের বিবৃতি চীনের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মারাত্মক হস্তক্ষেপ: বেইজিং

‘আটলান্টিক মহাসাগরে ইরানি নৌবহরের উপস্থিতিতে উদ্বিগ্ন শত্রুরা’

এমন ফ্রি-কিকে গোল মেসির দ্বারাই সম্ভব (ভিডিও)


 

আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে র‍্যাংকিং চিন্তা করার দরকার নেই। একটা প্রতিষ্ঠানকে যদি ইউনিভার্সিটি বলতে হয়, সেটার মৌলিক কতোগুলো ক্রাইটেরিয়া থাকে। আগে তো ফান্ডামেন্টাল বিষয়গুলো ঠিক করা চাই। তারপর আসে র‍্যাংকিং নিয়ে চিন্তা।

ক‍্যাম্পাসে গুণ্ডামি, দলাদলি, ছাত্র-শিক্ষক মিলে রাজনীতি, দেয়ালে দেয়ালে নেতা-নেত্রীর পোস্টার-শ্লোগান, শিক্ষক নিয়মে সীমাহীন অনিয়ম, গবেষণার জন‍্য নামমাত্র বরাদ্ধ, শিক্ষকের সংখ‍্যা বিবেচনা না করে গণহারে ছাত্র ভর্তি, ভিসি’দের সেচ্ছাচারিতা, ব‍্যাচেলর পাশ স্টুডেন্টদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ—এগুলো ইউনিভার্সিটি নামধারী কোন প্রতিষ্ঠানে থাকে না।

এগুলো ঠিক-ঠাক না করে, র‍্যাংক-ফ‍্যাংক নিয়ে চিন্তা করার কোন মানেই নাই! আগে তো খুঁটি, নাইলে চাল দিয়ে কি হবে?

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর