গার্মেন্টস কারখানা ঘোষণা করে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে খুলে দেয়া উচিত

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

গার্মেন্টস কারখানা ঘোষণা করে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে খুলে দেয়া উচিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাঁর ছাত্রছাত্রীদের ধৈর্য্যধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন, বেঁচে থাকলে পড়াশোনা করা যাবে। তিনি আরও বলেছেন, ছাত্রদের নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা আছে। তা থাকতেই পারে, কিন্তু ছাত্রদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা কী, তা তিনি জানাতে পারেন নি। এর কারণ সম্ভবত, ছাত্রদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পরিকল্পনাই নেই। উপাচার্যের কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে আমি কোনো প্রশ্ন তুলবো না, কিন্তু কিছু কথা বলা জরুরি।

প্রথমত, বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় না (কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে, যা এখানে ধর্তব্য নয়)। তারা যায় ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের একটি উপায় খুঁজে নিতে। এ উপায় অনেকাংশেই একটি চাকুরি। চাকুরির প্রস্তুতির জন্য তারা একটি স্ট্যান্ডার্ড প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ায় প্রথমেই তাদের একটি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হয়, যেটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দিয়ে থাকে। এজন্য একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের প্রধান লক্ষ্য থাকে, যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব এ ডিগ্রিটি নিয়ে নেয়া। অন্যথায়, চাকুরির বাকি প্রস্তুতিগুলো সে নিতে পারে না।

দ্বিতীয়ত, আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী গ্রামের দরিদ্র পরিবার থেকে আসা। তাদের অনেকের বাড়িতেই চাকুরির প্রস্তুতি নেয়ার (যেটিকে উপাচার্য পড়াশোনা বলছেন), পর্যাপ্ত সেট-আপ নেই। হয়তো একসময় ছিলো, কিন্তু বিশ্বাবিদ্যালয়ে ঢোকার পর ওই সেট-আপ ছোট-ভাইবোনদের দখলে চলে গেছে। গ্রামে ইন্টারনেট সংযোগের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। কারও ঘরেই নির্বিঘ্ন ওয়েব সংযোগ পাওয়া যায় না। সড়ক ও ধানক্ষেতের আইলে হেঁটে তাদের ওয়েব ঘাঁটতে হয়। বিদ্যুৎ এই যায়, এই আসে। ফলে অনলাইনে পড়াশোনা করা তাদের জন্য মোটামুটি অসম্ভব।

তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের যে-বয়স, সে-বয়সটি মাসের পর মাস, বাব-মা’র সাথে ঘরে বসে কাটানো সম্ভব নয়। তারা চায় সমবয়সী তরুণদের সাথে মিংলিং করতে। তাদের চাকুরির প্রস্তুতিও অনেকটা এ আদলের। যারা হলে থেকে অভ্যস্ত (যদিও তা হল নয়, ঘিঞ্জি বস্তি), তারা হলের পরিচিত পরিবেশ ছাড়া পড়াশোনোয় মন বসাতে পারে না। তাদের অনেকেই আড্ডা ও ফুর্তিতে অভ্যস্ত, যার অভাব তারা দীর্ঘদিন ধরে টের পাচ্ছে। তরুণদের আড্ডা, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আড্ডাহীন পানসে জীবন, যেকোনো মানুষকে হঠাৎ মারাত্মক বিষণ্নতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। ফলে, বেড়ে যেতে পারে আত্মহত্যার মতো সাংঘাতিক ঘটনা।

চতুর্থত, এ ছাত্রদের অনেকেই প্রাইভেট টিউশোনি করে কিছু টাকা আয় করতো, যা দিয়ে নিজে চলতো, এবং পরিবারের ছোট ভাইবোনগুলোর পড়াশোনোর খরচ যোগাতো। তাদের আয়ের এ পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে। অনেকের হাতেই ইন্টারনেট প্যাকেজ কেনার টাকা পর্যন্ত নেই। সরকার এ ছাত্রদের জন্য কোনো নগদ সাহায্যের ব্যবস্থা করে নি। ফলে নিরুপায় হয়ে অনেকেই ঝুঁকছে, মাদকব্যবসাসহ নানা ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতিক কর্মকান্ডে। অনেকে হয়তো হতাশা কাটাতেও মাদক গ্রহণও করছে।


আরও পড়ুন


 আয়ারল্যান্ডে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবিতে ৫০ হাজার আবেদন

 শতবর্ষের প্রথা ভেঙে আশ্রমে ঢুকলো মাছ-মাংস

 লন্ডনে ক্যাফে খুলছেন সেই পাকিস্তানি 'ভাইরাল' চা ওয়ালা

 নাগরিকদের সিনোফার্ম টিকার তৃতীয় ডোজ দেয়ার ঘোষণা আমিরাত-বাহরাইনের


পঞ্চমত, এ বয়সের ছেলেমেয়েদের প্রেমিক-প্রেমিকা থাকে। ভালোবাসার যে-উত্তাপ, তা এ বয়সের তরুণ-তরুণীরাই সবচেয়ে বেশি টের পায়। তাদের মানসিক স্থিরতার জন্য, ভালোবাসার এ মানুষগুলোর সাহচর্য জরুরি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা একে অপরের মুখ দেখা থেকে বঞ্চিত। এ অস্থিরতা নিয়ে পড়াশোনো করা বা চাকুরির প্রস্তুতি নেয়া অসম্ভব।

আমার বুঝে আসে না, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি গার্মেন্টস কারখানা ও প্লাস্টিক কারখানা খোলা রাখা যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা রাখা যাবে না কেন? উপাচার্যদের উচিত, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অন্তত গার্মেন্টস কারখানা ঘোষণা করে হলেও খুলে দেয়া। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং কিসের উপর ভিত্তি করে হয়?

রউফুল আলম

ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং কিসের উপর ভিত্তি করে হয়?

ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং কিসের উপর ভিত্তি করে হয়?

অনেকগুলো বিষয়কে বিবেচনা করা হয়। তবে প্রধাণত যে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দেয়া হয়-

এক. প্রতি বছর কী পরিমাণ গবেষণা আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত আর্টিকেলগুলোর আন্তর্জাতিক স্কেলে মান। এই আর্টিকেলগুলো কতোবার সাইট করা হয়—মোট সাইটেশন নাম্বার।

দুই. স্টুডেন্ট-ফ‍্যাকাল্টি অনুপাত। যেমন, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট-ফ‍্যাকাল্টি অনুপাত হলো ৫:১।

তিন. প্রতি বছর কি পরিমান ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়া হয়।

চার. ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও ছাত্র সংখ‍্যা কেমন। দুনিয়ার যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো র‍্যাঙ্কে এগিয়ে থাকে তাদের ক‍্যাম্পাসে একটা ডাইভারসিটি দেখা যায়। বহু দেশের স্টুডেন্টরা এসে পড়াশুনা করে। গবেষণা করে।

পাঁচ. আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে কতো সংখ‍্যক স্টুডেন্ট জব পায়, সেটা বিবেচনা করা হয়। এটা মূলত ইঙ্গিত করে যে একটা প্রতিষ্ঠান তরুণদেরকে কেমন মানের যোগ‍্য করে তুলছে। আমি যে বারবার বিশ্বমানের তারুণ‍্যের কথা বলি—এ জন‍্যই। আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলো থেকে স্টুডেন্টরা পাশ করে বের হয়েই যদি সরাসরি আন্তর্জাতিক যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোতে চাকরি পায়, তাহলে বুঝতে হবে আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলোতে বিশ্বমানের পড়াশুনা ও গবেষণা হচ্ছে।

ছয়. পড়াশুনা এবং গবেষণার মান সম্পর্কিত “একাডেমিক রেপুটেশন” জরিপ করা হয়।

বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের র‍্যাংকিং একই রকম হয় না। অবশ‍্যই কিছু হেরফের হয়। কিন্তু তাই বলে, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি যদি কোন তালিকায় দশম হয় অন‍্য তালিকায় একশো হবে না।


আরও পড়ুন:


 

নাসির আমার বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে: পরীমণি

জি-সেভেনের বিবৃতি চীনের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মারাত্মক হস্তক্ষেপ: বেইজিং

‘আটলান্টিক মহাসাগরে ইরানি নৌবহরের উপস্থিতিতে উদ্বিগ্ন শত্রুরা’

এমন ফ্রি-কিকে গোল মেসির দ্বারাই সম্ভব (ভিডিও)


 

আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে র‍্যাংকিং চিন্তা করার দরকার নেই। একটা প্রতিষ্ঠানকে যদি ইউনিভার্সিটি বলতে হয়, সেটার মৌলিক কতোগুলো ক্রাইটেরিয়া থাকে। আগে তো ফান্ডামেন্টাল বিষয়গুলো ঠিক করা চাই। তারপর আসে র‍্যাংকিং নিয়ে চিন্তা।

ক‍্যাম্পাসে গুণ্ডামি, দলাদলি, ছাত্র-শিক্ষক মিলে রাজনীতি, দেয়ালে দেয়ালে নেতা-নেত্রীর পোস্টার-শ্লোগান, শিক্ষক নিয়মে সীমাহীন অনিয়ম, গবেষণার জন‍্য নামমাত্র বরাদ্ধ, শিক্ষকের সংখ‍্যা বিবেচনা না করে গণহারে ছাত্র ভর্তি, ভিসি’দের সেচ্ছাচারিতা, ব‍্যাচেলর পাশ স্টুডেন্টদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ—এগুলো ইউনিভার্সিটি নামধারী কোন প্রতিষ্ঠানে থাকে না।

এগুলো ঠিক-ঠাক না করে, র‍্যাংক-ফ‍্যাংক নিয়ে চিন্তা করার কোন মানেই নাই! আগে তো খুঁটি, নাইলে চাল দিয়ে কি হবে?

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

প্রতিবেশীকে যে না জানে, দুনিয়াকে কী করে জানবে!

তসলিমা নাসরিন

প্রতিবেশীকে যে না জানে, দুনিয়াকে কী করে জানবে!

তসলিমা নাসরিন

পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের বড় বোনকে দিদি বলে ডাকে, অথবা না ডাকলেও দিদি মানে কী, তা জানে। মুসলমানদের মধ্যে দিদিকে বুবু ডাকার চল বেশ। 

আমার কিছু উপন্যাসে ছোটবোন বড়বোনকে বুবু বলে ডাকে। 'অপরপক্ষ' এবং 'ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে' -- এই দুটো উপন্যাসিকায় দু'বোনের কাহিনী বর্ণনা করেছি। ছোটবোন নূপুর বড়বোন যমুনাকে বুবু বলে। 

পশ্চিমবঙ্গে আমার ওই দুটো উপন্যাসিকা যারা পড়েছে, তারা অনেকেই আমার সঙ্গে কাহিনী নিয়ে আলোচনা করেছে। আমাকে কিন্তু বারবারই তখন  মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে হয়েছে। তারা ভেবেছে, আমার  কাহিনীর চরিত্র তিনজন, নূপুর, যমুনা আর বুবু। 

তারা বুবু যে দিদি জানে না, তারা মনে করে বুবু কারও নাম,  কারণ তাদের অনেকের  ডাক নাম বুবু। দুটো চরিত্রের মধ্যে কথোপকথন চলতে থাকলে ওরা কিভাবে তিনটে চরিত্রের  মধ্যে কথোপকথন চলছে ভেবে নেয়, আমার মাথায় ঢোকে না। 

একজন বললো, তোমার বইয়ে নূপুর একটু ভীরু, যমুনা ততটা ভীরু নয়, তবে বুবু বেশ সাহসী চরিত্র। আমি বললাম, বুবু আবার আলাদা চরিত্র কী করে হলো, যমুনাই তো নূপুরের বুবু, মানে দিদি!  কী বলছো? 

পাঠিকা অবিশ্বাস চোখে আমার দিকে তাকায়, যেন আমি মিথ্যে বলছি। দিদিকে যে বাঙালি- মুসলমানদের অনেকে বুবু ডাকে, এ তোমার জানা নেই? আকাশ থেকে পড়লো পাঠিকা, 

একেবারেই জানা নেই। তোমার রাজ্যের শতকরা তিরিশ ভাগ তো মুসলমান, তাই না? হ্যাঁ। ওদের দাদা দাদি নানা নানি চাচা ফুপা ডাক জানো না, কিন্তু হিন্দি ছবি দেখে তো জানো ডাকগুলো।

আরও পড়ুন:


পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা: প্রধান আসামী নাসিরসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার

আওয়ামী লীগ কখনও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে না: কাদের

পরীমণিকে নির্যাতনের ঘটনায় সংসদে বিচার চাইলেন এমপি হারুন

মামলার এজাহারে যা বলেছেন পরীমণি


তাছাড়া আমার বই যখন পড়ছো, তখন তো বোঝার কথা যে, বড়বোনকে বুবু বলে ডাকা হচ্ছে। অন্য কোনও কালচারের বা ভাষার বই যদি পড়ো তাহলে কি ওদের অনেক কিছুই জানা হয়ে যায় না? কোনও বইয়ে যদি পিটার নাম দেখ, তাহলে কি ভাবতেই হবে, এ তোমাদের কুকুরকে নিয়ে গল্প, যেহেতু তোমাদের কুকুরের নাম পিটার? 

নিজের ছোট্ট গন্ডি থেকে বেরোতে হয় দুনিয়াকে জানতে হলে! অবশ্য প্রতিবেশীকে যে না জানে, দুনিয়াকে কী করে জানবে! আমি কী বললাম পাঠিকা হয়তো বুঝতেই পারেনি। নূপুর আর যমুনার মতো নয়, বুবুর মতো চরিত্র যেন আরও নির্মাণ করি, সেই আশা ব্যক্ত করে বিদেয় নিয়েছে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মরে যায়!

এমি জান্নাত

স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মরে যায়!

ঘর-সংসার শব্দটা আমরা একসাথে জুড়ে দেই ঠিকই। কিন্তু ঘর আর সংসারের মধ্যে একটা বিস্তর ফারাক আছে বোধহয়।

আমার সীমিত জ্ঞানে ঘর বলতে বুঝি একটা ভালোবাসার ছায়াতলে বসবাস। যেখানে সুখ না থাকলেও শান্তি থাকে। দিন শেষে ফেরার তাড়া থাকে। কিন্তু সংসার নামক বেড়াজালে মানুষ শুধুই আবদ্ধ থাকে দায়িত্ব, ভাঙা গড়ার খেলায় মত্ত সুখের খোঁজে! প্রশান্তিটা এসবের মাঝেই অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। ঘর মানে চার দেয়ালের প্রতিটা কোণায় অভিমান, অনুরাগ আর ভালোবাসার নিবিড় বন্ধন, যেখানে সংসারে চারটা দেয়াল থাকে আর স্যাক্রিফাইস এর বদলে কম্প্রোমাইজ বেশি থাকে। কোথায় একটা লিখেছিলাম, স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মন মরে যায়! সংসারের সবাই হতে পারে, কিন্তু ঘরের কয়জন!

সংসার থেকে পালিয়ে বাঁচা যায়, ঘর থেকে না। মনের বসত তো ঘরেই হয়। দায়িত্ব থেকে সৃষ্টি হওয়া মায়া কাটানো যায়, কিন্তু ভালোবাসা থেকে সৃষ্টি হওয়া মায়া কাটানো বড় কঠিন!

তাই মনে হয়, সব ঘরই সংসার, কিন্তু সব সংসার ঘর হতে পারে কী?

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

এতো মন্ত্রণালয় থেকে কী হবে?

রুবাইয়াত সাইমুম চৌধুরী

এতো মন্ত্রণালয় থেকে কী হবে?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হচ্ছে ভালো কথা। যুক্তি বোঝা যায়। যেটা বোঝা যায় না সেটা হলো শিক্ষার ব্যাপারে পরিকল্পনা কি?

কিভাবে ভালো ভাবে ক্লাস নেওয়া যাবে অনলাইনে? কোনো নতুন হাল্কা (লাইট) সফটওয়ার কেনা হয়েছে? পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যাপারে কোনো চিন্তা ভাবনা?

অনলাইনে বেশী মানুষকে কিভাবে এনগেজ করা হবে তার কোনো পরিকল্পনা? বিশ্বের অন্যদেশ অনলাইনে কিভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে তার কোনো গবেষণা কি হয়েছে?

কিভাবে ছাত্রদের সৃজনশীলতার বাড়ানো যাবে তার ব্যাপারে কেউ কি কিছু ভেবেছে?

অনলাইনে কিউ এস রাংকিং এর অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রাম পার্টনারশিপ করছে। অল্প কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে। বাকিরা?

ছাত্রদের মোটিভেট করতে কোনো মাস্টারপ্লান আছে?

যেহেতু কোনো ফল দেখছিনা তাই ধরে নেওয়া যায় প্রশ্ন গুলোর পজিটিভ উত্তর নাই।

তাহলে এত মন্ত্রনালয় থেকে কি হয়? কি হবে? দেশের সেরা মেধাবীদের নিয়ে তৈরি, দেশ সেবায় নিয়জিত ক্যাডার সার্ভিসের মানুষজন কি ভাবে শিক্ষার উন্নয়নে তাদের সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন?


আরও পড়ুন:


ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ: মাঠে যাওয়ার সময় আম্পায়ারদের গাড়িতে হামলা

১০ বছরের জেল হতে পারে নেতানিয়াহুর: ইসরাইলি আইনজীবী

এবার ফিলিস্তিনি নারীকে গুলি করে হত্যা ইসরাইলি বাহিনীর

বিয়ের আসরে নকল গহনা, মারামারি পরে ক্ষতিপূরণ রেখে তালাক


আগেও বলেছি করোনার আগের শিক্ষা ব্যবস্থা আর পরেরটা একই থাকবে না। বদল হবে। হবেই।

এই কথা সরকার-মন্ত্রানালয়-শিক্ষক-ছাত্র-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যত দ্রুত বুঝবে ততই মঙ্গল।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

সাকিবের একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

আনোয়ার সাদী

সাকিবের একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

সাকিবের আচরণ ক্রিকেটের ভাষায় শোভন নয়। তার সাজা হয়েছে । তিনি সাজা মেনে নিয়েছেন। ঘটনা এখানেই শেষ নয়।  সাকিব পরিকল্পিতভাবে ইউকেটে লাত্থি দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের এটাই মত। তিনি বল ছোঁড়ার পর বসে আবেদন করেছেন। ফিরে যখন দেখলেন আম্পায়ার আউট দেননি, সাকিব প্রথমে উইকেটে লাত্থি দিয়েছেন, তারপর আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেছেন। 

এই ভিডিও বিশ্লেষন করে একজন বিশেষজ্ঞ আমাকে বলেছেন, হতে পারে সাকিব আগেই ভেবে রেখেছে, LBW সে পাবে না। কারণ আগের সাত ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে কোনো LBW নাই। 

এখন বিসিবি একটা তদন্ত কমিটি করেছে । তারা সব ক্লাবের সঙ্গে কথা বলবে। ’আম্পায়ার’ বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে বলে জানা গেছে। 
এর মানে হলো বিসিবি অভিযোগ আমলে নিয়েছে। আম্পায়ারদের স্বজনপ্রীতি আছে কী না, তা প্রমাণ করার এটা একটা উদ্যোগ। এটাকে একই সঙ্গে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি থাকার বেশ ভালো সম্ভাবনার স্বীকৃতি হিসাবেও কেউ কেউ দেখছেন। 

তাহলে জল গড়ালো অনেক দূর। সাকিব ঘটনা ঘটিয়েছেন প্রকাশ্যে, ক্ষমা চেয়েছেন প্রকাশ্যে, সাজা পেয়েছেন, তা মেনে নিয়েছেন। তিনি কখনো দাবী করেননি, তিনি সিস্টেমকে লাত্থি দিয়েছেন। তিনি দুর্নীতির প্রতিবাদ করেছেন বলে কোথাও দাবী করেননি। আউট দেয়নি বলে তিনি রেগে গেছেন। 

এমনকী ফেইসবুকে ক্ষমা চাওয়ার সময়ও সিস্টেম নিয়ে তার কোনো জোড়ালো বক্তব্য নেই। 
তাহলে প্রশ্ন, একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

এটা কার বুদ্ধি ? ​

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর