সুরা লাহাবের বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ

অনলাইন ডেস্ক

সুরা লাহাবের বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ

সুরা লাহাব পবিত্র কুরআনের ১১১ নম্বর সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৫ এবং সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। আবু লাহাবের আসল নাম ছিল আবদুল ওয্‌যা। সে ছিল আবদুল মোত্তালিবের অন্যতম সন্তান। 

গৌরবর্ণের কারণে তার ডাক নাম হয়ে যায় আবু লাহাব। কোরআন পাক তার আসল নাম বর্জন করেছে। কারণ সেটা মুশরিকসুলভ। এছাড়া ‘আবু লাহাব’ ডাক নামের মধ্যে জাহান্নামের সাথে বেশ মিলও রয়েছে। 

সে রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) - এর কট্টর শত্রু ও ইসলামের ঘোর বিরোধী ছিল এবং রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে কষ্ট দেয়ার প্রয়াস পেত। তিনি যখন মানুষকে ঈমানের দাওয়াত দিতেন, তখন সে সাথে সাথে যেয়ে তাকে মিথ্যাবাদী বলে প্রচার করত।

আরবি:

 بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
١  تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ 
٢ مَا أَغْنَى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ 
٣ سَيَصْلَى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ 
٤ وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ 
٥ فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِنْ مَسَدٍ 

উচ্চারণ:

‘বিসমিল্লাহ-হির রহমা-নির রাহীম’

ত্বাব্বাত ইয়াদা- আবী লাহাবিউ ওয়া তাব্বা. মা আগনা- 'আনহু মা-লুহু ওয়ামা- কাসাব. ছাইয়াছলা-না-রানযা-তা লাহাবিউ ওয়ামরাআতুহ, হাম্মা- লাতাল হাত্বোয়াব. ফীজী দিহা- হাবলুম মিম মাসাদ।

আরও পড়ুন:

 ইয়োসি কোহেনকে মোসাদ প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিলেন নেতানিয়াহু 

 ঘূর্ণিঝড়ের নাম বিতর্ক: যশ, ইয়াশ না ইয়াস?

 পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষেপে গেলেন সিএনএন’র সাংবাদিক

  কবিরা গুনাহের পরিচয় ও পরিণতি

 

বাংলায় অনুবাদ:

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
১. আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে,
২. কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে।
৩. সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে
৪. এবং তার স্ত্রীও - যে ইন্ধন বহন করে,
৫. তার গলদেশে হবে এক খর্জুরের রশি ।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

জুম্মার দিনে যে সময়টাতে দোয়া কবুল হয়

অনলাইন ডেস্ক

জুম্মার দিনে যে সময়টাতে দোয়া কবুল হয়

সাপ্তাহিক দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন জুমা। এই দিন মুসলমানদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিন তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিন তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। (মুসলিম, হাদিস : ১৮৬১)

আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বর্ণনা করেন, শুক্রবারে আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়। বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ যাদুল মাআ’দ-এ বর্ণিত আছে, জুমার দিন আসরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুল হয়। (২/৩৯৪)। ইমাম আহমদ (রহ.) ও একই কথা বলেছেন। (তিরমিজির ২য় খণ্ডের ৩৬০ নং পৃষ্ঠায় কথাটি উল্লেখ আছে)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয়ই জুমার দিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, সে সময়টিতে একজন মুসলমান যে কল্যাণের দোয়া করবে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা দান করবেন।’ (মুসলিম)

আর এটি আসরের একেবারে শেষ সময়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা আসরের পরে একবারে শেষ সময়ে দোয়া করো।’ (আবু দাউদ)


মেঘনায় ট্রলার ডুবে জেলের মৃত্যু, জীবিত উদ্ধার ১১

পর্যটকদের জন্য খুলছে সৌদির দরজা

বগুড়ার গাবতলীতে ৩০০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক-রেল-নৌপথে ২৯৫ জন নিহত


যেহেতু এই সময়টাতে দোয়া কবুল হয়। অতএব এই সময়টাতে আমাদের বেশি বেশি প্রার্থনা করা উচিৎ। মহান আল্লাহপাক আমাদেরকে দোয়া করার তওফিক দান করুন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ (সা.)-এর ২০টি সেরা উপদেশ

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ (সা.)-এর ২০টি সেরা উপদেশ

বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ মানুষের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যাণকর। তার আদর্শ অনুসরণই হতে পারে মুক্তির একমাত্র উপায়। আল্লাহ তাআলা বিশ্ববাসীর জন্য তাঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ ও রহমত করে পাঠিয়েছেন। কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন-

‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি।’ (সূরা আম্বিয়া: আয়াত ১০৭)
‘তাদের জন্যে রাসুলুল্লাহর জীবনে উত্তম আদর্শ রয়েছে; যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে বেশি স্মরণ করে।’ (সূরা আহজাব: আয়াত ২১)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সব কথা ও কাজ ছিল শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ। দুনিয়ার জীবনের উন্নত দিকনির্দেশনা। তাঁর অসংখ্য আদর্শের মধ্যে জীবনঘনিষ্ঠ কিছু আদর্শ তথা উপদেশ তুলে ধরা হলো-

১. সালাম দেয়া

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম গুণ ছিল - তিনি সবাইকে আগে আগে সালাম দিতেন। সাধারণ কেউ তাকে আগে সালাম দিতে পারতেন না। এটি ছিল বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম শিক্ষা। এ কারণেই তিনি বলেছেন - ‘কথা বলার আগে সালাম দাও।’

২. আল্লাহকে বেশি স্মরণ করা

আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন বাস্তবায়নই ছিল বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিশন। তিনি সব সময় সব কাজে মহান আল্লাহকে স্মরণ করতেন এবং আল্লাহ স্মরণ করতে বলতেন। আল্লাহর নির্দেশ-
‘সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর; আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো আর আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সূরা বাকারা: আয়াত ১৫২)
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ কর।’ (সূরা আহজাব: আয়াত ৪১)
হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন কোনো বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হও, তখন সুদৃঢ় থাক এবং আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ কর; যাতে তোমরা উদ্দেশ্য কৃতকার্য হতে পার।’ (সূরা আনফাল: আয়াত ৪৫)

৩. তাহাজ্জুদ নামাজ

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যেতে চায়, তাদের উচিত যত্নের সঙ্গে তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়মিত পড়া। কুরআনের বিভিন্ন সুরায় এ নামাজের প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে। তাই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি, তাবে-তাবেয়িসহ সব যুগের ওলি ও বিদ্বানরা তাহাজ্জুদ নামাজে রাত কাটিয়ে দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লামকে বিশেষভাবে (রাতে) তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘হে চাদর আবৃত, রাতের সালাতে দাঁড়াও; কিছু অংশ ছাড়া।’ (সুরা মুজাম্মিল : আয়াত ১-২)

৪. নামাজ পড়া

নামাজ ছিল প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের শ্রেষ্ঠ ইবাদাত ও আদর্শ। এমনকি তিনি যখন কোনো বিপদে পড়তেন সঙ্গে সঙ্গে তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। আবার কোনো কারণে কষ্ট বা হতাশা বা চিন্তাগ্রস্ত হলেও তিনি তাৎক্ষণিক নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।

৫. নীরবতা পালন

তিনি দীর্ঘ সময় নীরব থাকতেন। আল্লাহর কাছ থেকে ওহি ছাড়া কোনো কথা তিনি বলতেন। এ কারণেই নীরব থাকা বিশ্বনবির অন্যতম সুন্নাত ও ইবাদত।

৬. কম হাসা

তিনি কম হাসতেন। কেননা বেশি হাসলে মুমিনের অন্তর নিস্তেজ হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন বেশি বেশি কাঁদো; অল্প অল্প হাসো। এটি কুরআনুল কারিমেরও নির্দেশনা-
‘অতএব, তারা সামান্য হেসে নিক এবং তারা তাদের কৃতকর্মের বদলাতে অনেক বেশী কাঁদবে।’ (সুরা তাওবাহ : আয়াত ৮২)

৭. মুচকি হাসি

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হাসি হাসতেন। এ হাসি অনেক উপকার বয়ে আনে। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সৎ আমলের কোনো কিছুকেই তুচ্ছ মনে করো না, যদি তা (সৎ আমলটি) তোমার নিজের ভাইয়ের সঙ্গে মুচকি হাসি দিয়ে মিলিত হওয়ার দ্বারাও হয়। (মুসলিম) মুসলমানের জন্য এটাও একটা সদকা।

৮. প্রতিশোধ পরায়ন না হওয়া

কারো প্রতি প্রতিশোধ না নেয়া ছিল বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম আদর্শ। হদযোগ্য কোনো অপরাধ না থাকলে অপরাধীকে ক্ষমা করে দেয়া। কেউ অপরাধ করে থাকলে ধৈর্যধারণ করাও শ্রেয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের জন্য কখনোই প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না।

৯. আঘাত না করা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কাউকে আঘাত করতেন না। শারীরিক আঘাত তো দূরের কথা তিনি কথা বা আচরণ দিয়েও কাউকে কষ্ট দিতেন না। তবে যুদ্ধের ময়দানে কিংবা হদযোগ্য অপরাধের কথা ভিন্ন।

১০. শিশুদের স্নেহ করা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোমলমতি শিশুদের বেশি স্নেহ করতেন এবং ভালোবাসতেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক ব্যক্তি একটি শিশু নিয়ে বিশ্বনবীর খিদমতে এসে শিশুটিকে চুমু দিতে লাগলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দৃশ্য দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, শিশুটির প্রতি কি তোমার দয়া জেগে উঠেছে? সে বলল, ‘হ্যাঁ’, হে আল্লাহর রাসুল! তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহ তাআলা তোমার প্রতি এর চেয়েও অধিক দয়া করেন। কেননা তিনি দয়ালুদের শ্রেষ্ঠ দয়ালু। (বুখারি)

১১. পরিবারের সঙ্গে কোমল আচরণ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোমল আচরণ করতেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোমল ও উত্তম আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। খাবার-দাওয়া, কেনা-কাটা, সাংসারিক কাজে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা ও উত্তম জিনিস দেয়াকে উত্তম ইবাদত ও খরচ বলে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং হাদিসের দিকনির্দেশনা হলো-
- প্রথমেই পরিবার পরিজনের চাহিদা মেটানো। যাতে তারা সব সময় অভাবমুক্ত থাকে। যা পরিবারের দায়িত্বশীল ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব।
- মৃত্যুর সময় ওয়ারিশদেরকে স্বচ্চল অবস্থায় রেখে যাওয়া। যাতে করে অভিভাবকের মৃত্যুর পর কারো মুখাপেক্ষী হতে না হয়।

১২. রোজা পালন

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি সপ্তাহে দুই দিন (সোম ও বৃহস্পতিবার) রোজা রাখতেন। মাসে ৩ দিন (আইয়্যামে বিজ) চন্দ্র মাসের ১৩-১৫ তারিখ রোজা রাখতেন।

১৩. মেসওয়াক করা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুম থেকে ওঠে মেসওয়াক করতেন। প্রত্যেক ওজুতে মেসওয়াক করতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছন, ‘জিবরিল আলাইহিস সালাম বিশ্বনবিকে এতবেশি মেসওয়াক করার তাগিদ দিয়েছেন যে, তিনি মেসওয়াক ওয়াজিব হয়ে যাওয়ার আশংকা করতেন।

আরও পড়ুন


সূরা বাকারা: আয়াত ৫-৭, প্রধান দুটি শিক্ষা

হেলেনার বাসায় মদের সাথে আর যা পেল র‌্যাব

টি-টোয়েন্টিতে ভারত ৮১ রানে অলআউট!

হেলেনা আটক, নেয়া হচ্ছে র‍্যাব সদর দফতরে


১৪. মিথ্যা পরিহার করা

মিথ্যা সব পাপের জননী। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় মিথ্যা থেকে বিরত থাকার কথা বলেছেন। তিনি মিথ্যাকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করতেন।

১৫. উপহার গ্রহণ করা

উপহার দেয়া এবং নেয়া সুন্নাত। কেউ কাউকে উপহার দিলে তা গ্রহণ করার উৎসাহ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিয়া বা উপহার গ্রহণ করতেন এবং নিজে ব্যবহার করতেন। কেননা তিনি সাদকা খেতেন না।

১৬. সাদকা বা দান করা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশি বেশি সাদকা করতেন। ইসলামের জন্য সাদকা করতে হজরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা তার সমূদয় সম্পদ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিয়েছিলেন। আর তিনি তা দ্বীনের পথে ব্যয় করেছেন। বেশি বেশি সাদকা বা দান করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যখন কোনো সাদকা আসতো তিনি তা সবার মাঝে বিলিয়ে দিতেন।

১৭. খাবারের দোষ না ধরা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না। কোনো খাবার খেতে ভালো না লাগলে তিনি তা খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন। হাদিসের এসেছে-
হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহ আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনোই কোনো খাবারের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করতেন না। খাবার পছন্দ ও রুচি হলে তিনি তা খেতেন। আর পছন্দ ও রুচি না হলে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন।’

১৮. ক্ষমা করা

ক্ষমা মহান আল্লাহ তাআলার অন্যতম গুণ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ক্ষমা করতে ভালোবাসতেন। তিনি অন্যদের ক্ষমা করে দেয়াকে বেশি পছন্দ করতেন। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্ষমার ব্যাপারে এভাবে দোয়া করতেন এবং তাঁর উম্মতেকে দোয়া করতে বলতেন-
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওয়ুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালো বাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

১৯.  কাউকে অবহেলা না করা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কাউকে অবহেলা করতেন না। কারো মর্যাদা বিনষ্ট হোক এটা তিনি কামনা করতেন না। সবার প্রতি তিনি উদার ছিলেন। বিশেষ করে তার কাছে আসা সব ব্যক্তিকেই তিনি সমাদর করতেন। গুরুত্ব দিতেন। তাদের কথা শুনতেন। সুতরাং কাউকেই অবহেলা করা ঠিক নয়।

২০. সুস্পষ্ট কথা বলা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সুস্পষ্টভাষী। তিনি ছিলেন সত্যমিথ্যার পার্থক্যকারী। সত্যের মানদণ্ডে তিনি ছিলেন স্পষ্টবাদী। কথা বলার সময় তিনি সুস্পষ্টভাষায় কথা বলতেন। তার কথা ছিল প্রাঞ্জল ও সুস্পষ্ট। এমন কেউ ছিলেন না যিনি প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা বুঝতেন না। সুতরাং কথা বলার ক্ষেত্রে সবার উচিত, সুস্পষ্ট ভাষায় কথা বলা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ গুণগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার তাওফিক দান করুন। বিশ্বনবীর আদর্শে নিজেকে রাঙিয়ে তোলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারা: আয়াত ৫-৭, প্রধান দুটি শিক্ষা

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ৫-৭, প্রধান দুটি শিক্ষা

সূরা বাকারা পবিত্র কুরআনের দ্বিতীয় সূরা। সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সূরা যা মদিনায় অবতীর্ণ। এতে মোট ২৮৬টি আয়াত আছে। আজকের পর্বে সূরা আল-বাকারা’র ৫ থেকে ৭ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হল। এই সূরার পঞ্চম আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

أُولَئِكَ عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (5

‘‘তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথপ্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম।’’ (২:৫)

ঈমানদার মুত্তাকীদের বর্ণনা দেয়ার পর এই আয়াতে বলা হয়েছে - ‘‘ওই মুমিন ব্যক্তিরা তাদের প্রতিপালকের নির্দেশিত পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।’’ এই আয়াতে পরহেজগার ব্যক্তিদের পরিণাম ‘‘সফলতা’’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তারা আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলেই এ সফলতায় পৌঁছায়।

সফলতা মানে প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা থেকে মুক্ত হওয়া এবং নৈতিক উৎকর্ষ অর্জন করা। আরবী ভাষায় কৃষককে বলা হয় ‘‘ফাল্লাহ্‌’’। কারণ কৃষক তার পরিশ্রমের মাধ্যমে মাটির তলদেশ থেকে বীজের অঙ্কুরোদ্‌গম এবং ফসল বেড়ে ওঠার ব্যবস্থা করে। সফলতা মানুষের পূর্ণতার সর্বোচ্চ পর্যায়। কারণ কোরআনের আয়াত অনুযায়ী সৃষ্টিজগত মানুষের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষ এবাদতের জন্য এবং এবাদত হলো তাকওয়ায় পৌঁছার জন্য। আর এ আয়াতে বলা হয়েছে- ‘‘মুত্তাকী ও পরহেজগার ব্যক্তিরা সফলকাম হবেন।’’

এ আয়াত আমাদেরকে দু’টি প্রধান বিষয় শিক্ষা দেয়।

প্রথমত: কল্যাণ ও সৌভাগ্যবান হতে হলে আল্লাহর নির্দেশিত পথ অনুযায়ী চলতে হবে।

দ্বিতীয়ত: চেষ্টা ছাড়া কল্যাণ অর্জন সম্ভব নয়। জ্ঞান ও বিশ্বাসের যেমন দরকার আছে তেমনি কাজ ও উত্তম আমলেরও প্রয়োজন আছে।

এরপর সূরা বাকারা’র ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ (6

‘‘যারা অবিশ্বাস করেছে অর্থাৎ কাফের হয়েছে আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন আর নাই করুন, তাদের জন্য উভয়ই সমান, তারা বিশ্বাস করবে না।’’ (২:৬)

মুত্তাকী ও পরহেজগার ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার পর এই আয়াতে কাফেরদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। সত্য প্রত্যাখ্যানকারী কাফেররা বিরুদ্ধাচরণ করতে করতে এমন বিদ্বেষী হয়ে পড়ে যে সত্য কথা তাদের মধ্যে কোন প্রভাব ফেলে না এবং তারা ঈমান আনে না। আরবী ভাষায় ‘কুফর' শব্দের অর্থ হলো ঢেকে ফেলা, উপেক্ষা করা। সুতরাং কাফের মানে ওই ব্যক্তি যে সত্য গোপন করে এবং সত্যকে উপেক্ষা করে। আল্লাহ যদি চাইতেন তাহলে সব মানুষ ঈমান আনতে বাধ্য হতো। কিন্তু চাপিয়ে দেয়া বিশ্বাসের কোন মূল্য নেই। আল্লাহই চান মানুষ যাতে স্বেচ্ছায় ঈমান আনে। তাই সব মানুষ পরহেজগার, ঈমানদার ও মুত্তাকী হয়ে যাবে-এমনটি আশা করা আমাদের উচিৎ নয়।

সূরা বাকারা’র ৬ নম্বর আয়াত থেকে আমরা যে কয়েকটি বিষয়ে শিক্ষা লাভ করছি তা হলো-

প্রথমত: কুফরী, বিদ্বেষ- মানুষকে পাথরের মত কঠিন করে ফেলে। তাই কোন উপদেশ বা ভালো কথাও তার মধ্যে কোন প্রভাব ফেলে না।

দ্বিতীয়ত: যদি মানুষ সত্য গ্রহণে ইচ্ছুক না হয় তাহলে নবীদের আহ্বান কাজে আসবে না। নবীদের আহ্বান হলো বৃষ্টির মত। যদি উর্বর মাটিতে পড়ে তাহলে ফুল ফোটে, আর যদি নোনা ও শক্ত মাটিতে পড়ে তাহলে জংলী আগাছা আর কাঁটাযুক্ত ঝোপঝাড় জন্মায়।

তৃতীয়ত: যদিও আমরা জানি যে কাফেররা ঈমান আনবে না, কিন্তু তবুও আমাদের দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে এবং তাদেরকে সদুপদেশ দিতে হবে।

আরও পড়ুন


হেলেনার বাসায় মদের সাথে আর যা পেল র‌্যাব

টি-টোয়েন্টিতে ভারত ৮১ রানে অলআউট!

হেলেনা আটক, নেয়া হচ্ছে র‍্যাব সদর দফতরে

আরও বাড়লো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি


এরপরের আয়াতে বলা হয়েছে-

خَتَمَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَعَلَى سَمْعِهِمْ وَعَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ (7

‘‘আল্লাহ তাদের হৃদয় ও কান মোহর করে দিয়েছেন। তাদের চোখের ওপর আবরণ রয়েছে এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।’’ (২:৭)

মানুষ হিসাবে কাফেরদেরও বিবেক-বুদ্ধি, চোখ ও কান আছে। কিন্তু খারাপ কাজ, অযৌক্তিক বিদ্বেষ, একগুঁয়ে ও হিংসার কারণে এমন পর্দা সৃষ্টি হয় যে তারা সত্য দেখা, শোনা ও উপলদ্ধির শক্তি হারিয়ে ফেলে। এটি হলো দুনিয়াতেই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য নির্ধারিত শাস্তি। তাছাড়া কেয়ামতে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন শাস্তি। এখানে একটি প্রশ্ন দেখা দেয়, আর তা হলো আল্লাহ যদি নিজেই কাফেরদের চোখ,কান বন্ধ করে দেয় তাহলে খোদাদ্রোহিতার ক্ষেত্রে তাদেরতো কোন দোষ নেই। কারণ তারা বাধ্য হয়েই কাফের হয়েছেন। এ প্রশ্নের উত্তর আল্লাহ তা'লা কোরআনেই স্পষ্টভাবে দিয়েছেন। সূরা মুমিনের ৩৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-"আল্লাহ প্রত্যেক উদ্ধত ও অত্যাচারী ব্যক্তির হৃদয় মোহর করে দেন।"

সূরা নিসার ১৫৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-"সত্য প্রত্যাখ্যানের জন্য আল্লাহ তাদের হৃদয় মোহর করে দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে এসব আয়াতে মানুষ সম্পর্কে আল্লাহর নির্ধারিত নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। যদি মানুষ সত্যের সামনে ঔদ্ধত্য, গর্ব ও একগুঁয়েমি দেখায় তাহলে শেষ পর্যন্ত তার মধ্যে সত্যকে চেনার শক্তি লোপ পাবে, সত্যকে সে উল্টো দেখতে পাবে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন পরিণতির শিকার হবে।

সূরা বাকারাহ'র ৭ম আয়াতের দু''টি প্রধান শিক্ষণীয় বিষয় হলো-কেউ জেনে শুনে সত্য প্রত্যাখ্যান করলে আল্লাহপাকও তার অন্তর্চক্ষু ঢেকে দেন এবং এটি আল্লাহর শাস্তি। এছাড়াও জীব-জন্তুর ওপর মানুষের মর্যাদার কারণ হলো তার বিবেক-বুদ্ধি, উপলদ্ধি ক্ষমতা এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গী। কিন্তু মানুষ সত্য প্রত্যাখ্যান এবং আল্লাহ ও তার নিদর্শনাবলী অবিশ্বাসের মাধ্যমে এই মর্যাদা হারিয়ে ফেলে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সূরা আল নাসের বাংলা অনুবাদ

অনলাইন ডেস্ক

সূরা আল নাসের বাংলা অনুবাদ

পবিত্র কোরআন শরীফের সর্বশেষ সূরা আল নাস। এই সূরার আয়াত সংখ্যা ৬, এতে রুকু আছে ১টি। সূরা আল নাস মদিনায় অবতীর্ণ হয়। 

সূরা আল নাসের আরবি উচ্চারণসহ বাংলা অনুবাদ:

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
কুল আউযু বিরাব্বিন নাস
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার,

مَلِكِ النَّاسِ
মালিকিন্ নাস
মানুষের অধিপতির।

إِلَهِ النَّاسِ
ইলাহিন্ নাস
মানুষের মা’বুদের।

مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ
মিন্ শররিল ওয়াস্ ওয়াসিল খান্নাস
তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে,

الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ
আল্লাযী ইউওযাসবিসু ফী ছুদুরিন্নাস
যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে।

مِنَ الْجِنَّةِ وَ النَّاسِ
মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্নাস
জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।

আরও পড়ুন:


পবিত্র জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য

মহান আল্লাহ তা'আলা সকলকে কোরআন পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

পবিত্র জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য

মুফতি মুহাম্মদ ওসমান সাদেক

পবিত্র জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য

আল্লাহ রাত ও দিনকে সৃষ্টি করেছেন। সব দিনের মধ্যে জুমাবার বা শুক্রবারকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। কোরআন ও হাদিসে এই দিনের বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে।

জুমার দিনের পাঁচ বৈশিষ্ট্য : সৃষ্টিজগতের শুরু থেকে জুমার দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। তা হলো—এক. আল্লাহ তাআলা এদিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন, দুই. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন, তিন. এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন, চার. এই দিনে এমন সময় আছে যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন। যতক্ষণ না সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না, পাঁচ. এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)

জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা : মহান আল্লাহর কাছে জুমাবারের বিশেষ মর্যাদা আছে। শেষনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের জন্য এই দিনটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা আগের জাতিদের কাছে জুমার মর্যাদা অজ্ঞাত রাখেন। তাই ইহুদিরা শনিবার নির্ধারণ করে। আর খ্রিস্টানরা রবিবার নির্ধারণ করে। অতঃপর আমরা আসি। আমাদের তিনি জুমার দিনের মর্যাদা প্রকাশ করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৫৬)
জুমার দিন পুরো বছর নামাজের সওয়াব : জুমার দিন গোসল করা ও আগে আগে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আউস বিন আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালো করে গোসল করল, দ্রুততর সময়ে মসজিদে গেল ও (ইমামের) কাছাকাছি বসে মনোযোগ দিয়ে (খুতবা) শুনল, তাঁর জন্য প্রতি কদমের বদলে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব থাকবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)

মসজিদে প্রথমে প্রবেশের সওয়াব : জুমার দিন মসজিদে আগে প্রবেশ করা ও মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার বিশেষ গুরুত্ব আছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, অতঃপর প্রথমে মসজিদে গেল সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে এরপর মসজিদে গেল সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। আর যে এপর ঢুকল সে যেন ছাগল কোরবানি করল, এরপর যে ঢুকল সে যেন মুরগি কোরবানি করল, আর যে এরপর ঢুকল সে ডিম সদকা করল। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য এলে ফেরেশতারা আলোচনা শোনা শুরু করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪১)

আরও পড়ুন:


বান্দরবানে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা

পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে ‘বাংলা' রাখার অনুরোধ মুখ্যমন্ত্রী মমতার

গুনাহ মাফ হয় : সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তাঁর দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

জুমার দিন দোয়া কবুলের সময় : জুমার দিন একটি সময় আছে যখন মানুষ আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে ভালো কিছুর দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দেন। তোমরা সময়টি আসরের পর অনুসন্ধান করো।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ১০৪৮)

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর