‘ইয়াস’র প্রভাব, খুলনার বেড়িবাঁধ উপচে পানি ঢুকছে লোকালয়ে

সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা

‘ইয়াস’র প্রভাব, খুলনার বেড়িবাঁধ উপচে পানি ঢুকছে লোকালয়ে

খুলনার পাইকগাছার দেলুটি চুকরিবুকরিতে বেড়িবাঁধ উপচে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে বাঁধের জরুরি মেরামত কাজ শুরু করেন এলাকাবাসী।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে খুলনার উপকূলীয় কয়রা ও পাইকগাছার ৫টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। এছাড়া দাকোপে ৯টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ঝুকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেখানে জরুরি ভিত্তিতে মাটি ও জিও ব্যাগ দিয়ে মেরামত কাজ করা হচ্ছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে নদীতে স্বাভাবিকের তুলনায় জেয়ারের পানি বাড়তে থাকলে পাইকগাছার গড়ইখালির কুমখালি ও দেলুটি ইউনিয়নের চকরিবকরিতে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। পরে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে সেখানে দিনভর বাঁধ মেরামতে অংশ নেয় সাধারণ মানুষ।

দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, মঙ্গলবার দুপুরে জোয়ারের প্রবল স্রোতে ২০নং পোল্ডারের চকরিবকরি প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এতে বেশ কিছু এলাকা তলিয়ে যায়। পরে ভাটার সময় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এলাকাবাসী ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ মেরামত করেন। লস্কর ইউনিয়নের ১০/১২নং পোল্ডারের ভরেঙ্গা স্লুইচ গেট, বাইনতলা গেট, আলমতলা গেট, আলমতলা দক্ষিণ বিলের গেট জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য জোয়ারের পানি বৃদ্ধি হলেই বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকতে থাকে। বেড়িবাঁধে পানি প্রবেশ ঠেকাতে গড়ইখালি উত্তর কুমখালিতে মাটি ও জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ উচু করা হয়েছে। এছাড়া লতা ইউনিয়নে পুটলাখালিতে মাটি দিয়ে বাঁধ মেরামত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুকিপূর্ণ বাঁধে জরুরী মেরামত কাজ করা হয়েছে।

এদিকে জোয়ারের অতিরিক্ত চাপে কয়রা উপজেলা মহারাজপুর মঠবাড়ি, দক্ষিণ বেতকাশি আংটিহারা ও মাটিভাঙ্গা পয়েন্টে বেড়িবাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করেছে। বৈরি আবহাওয়ায় বাতাসের গতিবেগ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধিতে জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধে চাপ বাড়ছে। মাইংকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হচ্ছে।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ হোসেন জানান, একই সাথে ঘূর্ণিঝড়, পূর্নিমার প্রভাবে নদীতে জোয়ারের পানি দুই থেকে তিন ফুট বৃদ্ধি পেয়ে কয়রার মহারাজপুর মঠবাড়ি, দক্ষিণ বেতকাশির আংটিহারা ও মাটিভাঙ্গা পয়েন্টে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। জানা যায়, জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে দাকোপের কামিনীবাসিয়া, মোজামনগর, গৌর কাঠি, মৌখালি পিচের মাথা, পানখালি পুরাতন খেয়াঘাট, জাবেরের খেয়াঘাট ও খলিসা পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

শরণখোলায় পানিবন্দী গ্রামবাসী কেটে দিল বাঁধ

শেখ আহসানুল করিম, বাগেরহাট

শরণখোলায় পানিবন্দী গ্রামবাসী কেটে দিল বাঁধ

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দী থাকা ক্ষুব্দ গ্রামবাসী কেটে দিল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাঁধ। গত ২৭ জুলাই থেকে পানিবন্দী থাকার পর সোমবার ভোর রাতে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রাজাপুর বটতলা পয়েন্টে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন শুরু করে তারা।

এদিকে সোমবার সকালে রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণে রাজাপুর এবং খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর গ্রামের কালিয়ার খালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাঁধ কাটতে গেলে পুলিশ গিয়ে তা বন্ধ করে দিয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, গত ২৭ জুলাই থেকে তিনদিনে প্রায় ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে পানিবন্দী হয়ে পরে উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধিন ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়ি বাঁধে পর্যাপ্ত স্লুইসগেট নির্মাণ না করে অপরিকল্পিতভাবে ছোট করে অল্প সংখ স্লুইসগেট নির্মাণের কারণে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না।

ফলে কৃষি খামার রাস্তা-ঘাট ও বিভিন্ন বাড়ি-ঘরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ৭০ হাজার মানুষ এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় তারা ক্ষুব্দ হয়ে বাঁধ কেটে দেয়।

ধানসাগর ইউপি চেয়ারম্যান মাইনুল ইসলাম টিপু বলেন, রাতের আধারে কারা বাঁধ কেটেছে তা আমার জানা নেই। তবে পানিবন্দী হাজার হাজার মানুষের রান্নাবান্না বন্ধ এবং ঘর থেকে বের হতে না পেরে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল।

রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, পানি ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে হয়তো বাঁধ কেটেছে।

উপকূল রক্ষা বেড়ি বাঁধ প্রকল্পের সিইসি সাইফুল ইসলাম বলেন, বাঁধ নির্মান প্রকল্পের টিম লিডার মিস্টার হেরির নের্তৃত্বে সোমবার ৫ সদস্যের একটি টিম সরেজমিন ঘুরে পাইপ স্থাপন করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাতুনে জান্নাত বলেন, পানিবন্দী মানুষ অতিষ্ট হয়ে বাঁধ কেটেছে। গণহারে বাঁধ কাটার উদ্যোগ নিলে আমি তাদের বুঝিয়ে তা বন্ধ করেছি।

সোমবার (৩ আগস্ট) থেকে পাইপ স্থাপনের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন শুরু করা হবে। এছাড়া স্থায়ী সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত স্লুইসগেট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: 


বগুড়ায় এই প্রথম এত মৃত্যু

তথ্য লুকিয়ে সরকারের কী লাভ?

পিয়াসা-মৌয়ের বিরুদ্ধে গুলশান-মোহাম্মদপুরে মামলার প্রস্তুতি


news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না আজ

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না আজ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেশ কিছু এলাকায় আজ গ্যাস থাকবে না। গ্যাসের পাইপলাইন স্থানান্তরের জন্য আজ রোববার ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব রোড, শের শাহশুরি রোড, তাজমহল রোডসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। এ সময় আশপাশের এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকবে।

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ঢাকামুখি যাত্রীদের চাপ

শফিকুল ইসলাম শামীম, রাজবাড়ী :

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ঢাকামুখি যাত্রীদের চাপ

কর্মস্থানে উপস্থিত না থাকলে কর্ম হারাতে হবে। কর্মস্থানে যেতে হলে জীবনের ঝুঁকি নিতে হবে। পরিবার পরিজনকে সুখে রাখতে নিজের জীবন বাজি রেখে কর্মস্থানে যাচ্ছি। কথাগুলো অনেক কষ্ট বুকে নিয়ে বললেন কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী আবুল হোসেন। 

তিনি আরও বলেন, আজ রোববার অফিস। রাত ৯টার সময় দৌলতদিয়া ঘাটে এসেছি। এখন সকাল ৮টা। কখন ঢাকা যাব, কখন অফিস করব। তবুও অনিশ্চয়তার মধ্যে কর্মস্থানে যাওয়া ব্যর্থ চেষ্টা করছি।

চুয়াডাঙ্গা থেকে পরিবার নিয়ে ছোট একটি খোলা ট্রাকে ঢাকা যাচ্ছে খবির আহমেদ। তিনি জানান, কষ্ট কাকে বলে বলে বুঝানো যাবে না। সারারাত দৌলতদিয়া ঘাটে পারের অপেক্ষায়। দফায় দফায় বৃষ্টি সব মিলে এত কষ্ট কখনও করি নাই। তবুও কি করার কর্মস্থানে যেতে তো হবে। 

নুরজাহান নামের এক পোশাক শ্রমিক বলেন, আমাদের গরীব মানুষের সব বিষয়ে সংগ্রাম করে চলতে হয়। ঢাকা যেতেও সংগ্রাম করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যারা রপ্তানিমুখি প্রতিষ্ঠান খোলা রাখলেন, তারা কিন্ত ঘরের বাহির হবে না। আমাদের ঘরে থাকলে চলবে না। তাই বেঁচে থাকার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকার পথে। 

এমনি পরিস্থিতে কর্ম বাঁচানোর জন্য, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজধানী মুখি হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। এতে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে কর্মমুখি মানুষের স্রোত দেখা যায়। এদিকে ঢাকামুখি অতিরিক্ত চাপ থাকার কারণে রাত থেকে লঞ্চ ও গণপরিবহন দুপুর রোববার ১২টা পর্যন্ত চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্ত এই এত কম সময় হওয়ার কারণে শ্রমিকরা গণপরিবহন ও লঞ্চ চালানোর অনিহা করে। যে কারণে অনুমমি থাকলেও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল করতে তেমন দেখা যায়নি। মহাসড়কে গনপরিবহনও তেমন দেখা যায়নি। 

দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের ম্যানেজার নুরুল আনোয়ার মিলন জানান, বেশির ভাগ লঞ্চের শ্রমিকরা বাড়ি চলে গেছে। তারা আসবে কখন আবার লঞ্চ চালাবে কখন। যে কারণে অনেক শ্রমিক না আসার কারণে অনুমতি থাকার পরও চালানো সম্ভব হয়নি। 

যাত্রীবাহী বাস সোহাগ পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট সুপারভাইজার সুজন আহমেদ বলেন, খুলনা থেকে ঢাকায় যেতে একটি গাড়ি কমপক্ষে ৮ঘণ্টা সময় লাগে। ঘাটে আসতে যদি ১২টার বেশি লাগে তাহলে ঢাকা যাবে কিভাবে। যে কারণে গণপরিবহন তেমন আসেনি। 

আবুল, খবির ও নুরজাহানের মত হাজার হাজার ঢাকামুখি যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মমুখি হচ্ছে। এতে গত দুই দিন যাবৎ দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ঢাকামুখি মানুষের ঢল দেখা যায়। তবে বেলা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ঢাকামুখি যাত্রীদের চাপ কমে আসে। 

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় সরেজমিন এবং ঘাট সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এমনি চিত্র দেখা ও জানা যায়। 

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যক্তিগত যানবাহন প্রাইভেটকার-মাক্রোবাস ও এ্যাম্বুলেন্স ৪ হাজার ৩শত ৭০টি এবং পণ্যবাহী ট্রাক ৮শত ৯৬টি ফেরি পার হয়েছে। তবে যাত্রী পারাপারের সঠিক কোন তথ্য নেই তাদের কাছে। 

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা বন্দরের পোর্ট অফিসার মো.মাসুদ পারভেজ জানান, ঢাকামুখি যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ থাকার কারণে দুপুর ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল শুরু করা হয়। 

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

শেরপুর থেকে ট্রাকে করে কর্মস্থলে ফেরার হিড়িক, চরম ভোগান্তি

জুবাইদুল ইসলাম, শেরপুর:

শেরপুর থেকে ট্রাকে করে কর্মস্থলে ফেরার হিড়িক, চরম ভোগান্তি

শিল্প-কারখানা খোলার খবরে শেরপুর থেকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের কর্মস্থলে ফেরার হিড়িক পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। 

শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকেই মানুষ ভিড় করছে শহরে। লকডাউনের কারণে বাস বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ট্রাক, লেগুনা, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা, ভ্যানগাড়ি- যে যা পাচ্ছেন সেটি করেই ভেঙে ভেঙে ঢাকায় ছুটছেন কর্মজীবী মানুষরা। এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না মানুষের ঢাকামুখী জোয়ার।

রোববার দুপুরে শহরের নবীনগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই ১ আগস্ট থেকে শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণায় শেরপুর জেলাসহ পাশ্ববর্তী জামালপুরের বকশীগঞ্জ, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীরা ঢাকায় ফিরতে শেরপুর শহরে পৌঁছে ভিড় করছে।

অনেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রিজার্ভ করে শহরে আসছেন। এরপর ট্রাকে বা অন্য যে পরিবহন পাচ্ছেন সেটি দিয়েই যাচ্ছেন ঢাকায়। যাত্রীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই দেখা যায়নি। 

এদিকে ২শ টাকার ভাড়া ৮শ থেকে ১২শ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে। এ অবস্থায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছে এসব যাত্রীরা। এদিকে হঠাৎ বৃষ্টিতে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। খোলা ট্রাকে বৃষ্টিতে ভিজেই ঢাকা যেতে হচ্ছে যাত্রীদের। কিছু কিছু ট্রাকের উপর পলিথিন থাকলেও তা দিয়ে বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। 

ঢাকামুখী যাত্রী শ্রীবরদী উপজেলার আবু বকর বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আইছিলাম। হঠাৎ আমার কারখানা খোলা দিছে। এখন যেভাবেই হোক আজই ঢাকায় যাইতে হবে। বাস বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে ট্রাকে কইরা যাইতেছি। 

এরা ভাড়া বেশি চাইতাছে। কিন্তু কি করার, যাইতেই হইব। পৌরশহরের উত্তর গৌরীপুর মহল্লার বাসিন্দা গার্মেন্টস কর্মী আছমা আক্তার বলেন, কারখানা বন্ধ থাকায় বাপের বাড়িতে ঈদের ছুটিতে আইছিলাম। এখন রোববার থেকে কারখানা খোলা দেয়ার কারণে কষ্ট কইরাই ঢাকা রওনা হইছি। কাইলকা সকালে অফিসে যাবার না পাইলে চাকরি থাকব না। 

কুড়িগ্রামের রৌমারা থেকে আসা যাত্রী আব্দুল মোতালেব জানান, রৌমারী থেকে ভেঙে ভেঙে শেরপুর আসতেই সাড়ে ৪শ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখন ঢাকার ভাড়া চাইতেছে কেবিনে ১২শ আর পেছনে খোলা বডিতে ৮শ টাকা। এত টাকা দিয়া কেমনে যামু বুঝতাছি না। 

এ ব্যাপারে ট্রাকের ভাড়ার টিকেট কাটার সময় শেরপুর জেলা ট্রাক চালক-শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দেওয়া আবুল হাশেম বলেন, আমরা বেশি ভাড়া নিতেছি না। ৩শ/৪শ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী নিয়ে গেলে রাস্তায় পুলিশে ঝামেলা করে, অনেক সমস্যা। তারপরও যাত্রীর চাপ থাকায় আর বাস না চলার কারণে ট্রাক যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:


দেশে একদিনে করোনায় মৃত্যু বাড়ল

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১২ দিন পর চালু


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে জনস্রোত

শফিকুল ইসলাম শামীম, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে জনস্রোত

গণপরিবহন বন্ধ। রোববার থেকে খোলা থাকবে রপ্তানিমুখি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান মালিকদের কঠোর নির্দেশ। রোববার কাজে যোগ দিতে হবে। সুতরাং কাজ রক্ষাতে, কাজে যোগ দেওয়ার জন্য ছুঁটছে কর্মমুখি মানুষ। 

মহাসড়কে গণপরিবহন না থাকায় পায়ে হেঁটে, ট্রাক, অটোটেম্পু সহ ইঞ্জিন চালিত যানবাহনে ওপর নির্ভর করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মমুখি হচ্ছে দক্ষিণ পশ্চিঞ্চলের ২১ জেলার সাধারণ মানুষ। গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

আজ শনিবার সকালে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় গিয়ে ঘাট সংশ্লিষ্ট এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া হয়।  

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, লকডাউন চলমান সময় পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি যানবাহন নদী পারাপার করার জন্য ৩টি ছোট ও ৩টি বড় ফেরি পালাক্রমে চলাচল করছে। কিন্ত ঢাকামুখি যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ থাকার কারণে শনিবার সকাল থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৪টি ছোট বড় ফেরি চলাচল করছে। তবে এই নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
  
এ সময় পাংশা থেকে ঢাকাগামী এক নারী বলেন, হঠাৎ অফিসের ফোন। মোবাইল ধরতে উপর পাশ থেকে বলা হলো রোববার অফিস। যেভাবে পারো ঢাকা চলে আসো। কিন্ত রাস্তায় তো গাড়ি নেই। তাহলে আমরা কিভাবে ঢাকায় যাব। বাধ্য হয়ে ভ্যানে পাংশা থেকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের উদ্দ্যোশে এসেছি। ভ্যান চালক পুলিশের ভয়ে ফেরি ঘাটের ৩কিলোমিটার দূরে নামিয়ে দেওয়ার কারণে পায়ে হেঁটে আসতো হলো। 

তিনি আরও বলেন, দুর্ভোগের কথা কিভাবে বুঝাব। কোলের শিশু বাচ্চা নিয়ে অনিশ্চয়তার পথে। কখন, কিভাবে যাব এর নিশ্চয়তা নেই। এর চেয়ে দুর্ভোগ আর কি?

কামারখালী থেকে ঢাকাগামী এক পোশাক শ্রমিক বলেন, কর্ম বাঁচাতে ঢাকামুখি। ঘরে বসে থাকলে কি আর কর্ম থাকবে। সুতরাং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকার পথে। সকাল ৭টার সময় বাড়ি থেকে বের হয়েছি। এখন ১২টা, তবুও ফেরি পার হতে পারি নাই। 

তিনি আরও বলেন, সহজে ফেরি পার হতে পারলেও পাটুরিয়া ঘাট থেকে কিভাবে যাব এই চিন্তা করছি।  

কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এক নারী বলেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ ঢাকামুখি মনুষের দুর্ভোগ ছাড়া কিছু নয়। তিনি বলেন, ইচ্ছা করলে তো ঢাকায় চলে যাওয়া যায় না। রপ্তানীমুখি প্রতিষ্ঠান গুলো খুলে দেওয়া হলো এর সাথে গণপরিবহন খুলে দিলে ঢাকা মুখি মানুষের কষ্ট কিছুটা কমে আসতো। 

নাসিফ নামের এক যাত্রী বলেন, সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু গণপরিবহন ছাড়া। সব কিছু যেহেতু খুলে দিলেন সেই সাথে গণপরিবহন খুলে দেওয়া প্রয়োজন ছিল। গণপরিবহন খুলে না দেওয়া ঢাকামুখি যাত্রীদের দুর্ভোগ ২/৩ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। সাথে অতিরিক্ত টাকাও ব্যয় হচ্ছে। 

বাংলাদেশ অভ্যান্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. শিহাব উদ্দিন জানান, রপ্তানিমুখি প্রতিষ্ঠান গুলো খুলে দেওয়ার কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকা মুখি যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ রয়েছে। তবে ফেরি পারের অপেক্ষায় কোন প্রকার যানবাহন নেই। 

আরও পড়ুন:


জলাবদ্ধতার সাথে মশা, ব্যাঙ বিষাক্ত প্রাণীর সাথে বসবাস

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১২ দিন পর চালু


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর