অর্থসহ সূরা ইয়াসিন

অনলাইন ডেস্ক

অর্থসহ সূরা ইয়াসিন

সূরা ইয়াসিন (আরবি ভাষায় : سورة يس‎) পবিত্র কোরআনুল কারিমের ৩৬ তম সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ৮৩টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ৫টি। সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। 

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক বস্তুরই একটা হৃদয় থাকে আর কোরআনের হৃদয় হলো সূরা ইয়াসিন। যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন একবার পড়বে, মহান আল্লাহ তাকে দশবার পুরো কোরআন পড়ার সওয়াব দান করবেন।’ (তিরমিজি)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, ‘সূরা ইয়াসিন কোরআনের রূহ বা হৃৎপিণ্ড। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের কল্যাণ লাভের জন্য সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে তার জন্য রয়েছে মাগফিরাত বা ক্ষমা।

অর্থসহ সূরা ইয়াসিন:

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

يس
ইয়াসিন [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:১ ]

وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ
প্রজ্ঞাময় কোরআনের কসম। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:২ ]

إِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ
নিশ্চয় আপনি প্রেরিত রাসূলগণের একজন। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৩ ]

عَلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
সরল পথে প্রতিষ্ঠিত। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৪ ]

تَنزِيلَ الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ
কোরআন পরাক্রমশালী পরম দয়ালু আল্লাহর তরফ থেকে অবতীর্ণ, [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৫ ]

لِتُنذِرَ قَوْمًا مَّا أُنذِرَ آبَاؤُهُمْ فَهُمْ غَافِلُونَ
যাতে আপনি এমন এক জাতিকে সতর্ক করেন, যাদের পূর্ব পুরুষগণকেও সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা গাফেল। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৬ ]

لَقَدْ حَقَّ الْقَوْلُ عَلَى أَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
তাদের অধিকাংশের জন্যে শাস্তির বিষয় অবধারিত হয়েছে। সুতরাং তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৭ ]

إِنَّا جَعَلْنَا فِي أَعْنَاقِهِمْ أَغْلاَلاً فَهِيَ إِلَى الأَذْقَانِ فَهُم مُّقْمَحُونَ
আমি তাদের গর্দানে চিবুক পর্যন্ত বেড়ী পরিয়েছি। ফলে তাদের মস্তক উর্দ্ধমুখী হয়ে গেছে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৮ ]

وَجَعَلْنَا مِن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لاَ يُبْصِرُونَ
আমি তাদের সামনে ও পিছনে প্রাচীর স্থাপন করেছি, অতঃপর তাদেরকে আবৃত করে দিয়েছি, ফলে তারা দেখে না। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৯ ]

وَسَوَاء عَلَيْهِمْ أَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لاَ يُؤْمِنُونَ
আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের পক্ষে দুয়েই সমান; তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:১০ ]

إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَن بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
আপনি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করতে পারেন, যারা উপদেশ অনুসরণ করে এবং দয়াময় আল্লাহকে না দেখে ভয় করে। অতএব আপনি তাদেরকে সুসংবাদ দিয়ে দিন ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:১১ ]

إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَى وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ وَكُلَّ شَيْءٍ أحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُبِينٍ
আমিই মৃতদেরকে জীবিত করি এবং তাদের কর্ম ও কীর্তিসমূহ লিপিবদ্ধ করি। আমি প্রত্যেক বস্তু স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:১২ ]

وَاضْرِبْ لَهُم مَّثَلاً أَصْحَابَ الْقَرْيَةِ إِذْ جَاءهَا الْمُرْسَلُونَ
আপনি তাদের কাছে সে জনপদের অধিবাসীদের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করুন, যখন সেখানে রসূল আগমন করেছিলেন। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:১৩ ]

إِذْ أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ فَكَذَّبُوهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوا إِنَّا إِلَيْكُم مُّرْسَلُونَ
আমি তাদের নিকট দুজন রসূল প্রেরণ করেছিলাম, অতঃপর ওরা তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। তখন আমি তাদেরকে শক্তিশালী করলাম তৃতীয় একজনের মাধ্যমে। তারা সবাই বলল, আমরা তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:১৪ ]

قَالُوا مَا أَنتُمْ إِلاَّ بَشَرٌ مِّثْلُنَا وَمَا أَنزَلَ الرَّحْمن مِن شَيْءٍ إِنْ أَنتُمْ إِلاَّ تَكْذِبُونَ
তারা বলল, তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ, রহমান আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা কেবল মিথ্যাই বলে যাচ্ছ। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:১৫ ]

قَالُوا رَبُّنَا يَعْلَمُ إِنَّا إِلَيْكُمْ لَمُرْسَلُونَ
রাসূলগণ বলল, আমাদের পরওয়ারদেগার জানেন, আমরা অবশ্যই তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:১৬ ]

وَمَا عَلَيْنَا إِلاَّ الْبَلاَغُ الْمُبِينُ
পরিস্কারভাবে আল্লাহর বাণী পৌছে দেয়াই আমাদের দায়িত্ব। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:১৭ ]

قَالُوا إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ لَئِن لَّمْ تَنتَهُوا لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَيَمَسَّنَّكُم مِّنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ
তারা বলল, আমরা তোমাদেরকে অশুভ-অকল্যা ণকর দেখছি। যদি তোমরা বিরত না হও, তবে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রস্তর বর্ষণে হত্যা করব এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি স্পর্শ করবে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:১৮ ]

قَالُوا طَائِرُكُمْ مَعَكُمْ أَئِن ذُكِّرْتُم بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُونَ
রসূলগণ বলল, তোমাদের অকল্যাণ তোমাদের সাথেই! এটা কি এজন্যে যে, আমরা তোমাদেরকে সদুপদেশ দিয়েছি? বস্তুতঃ তোমরা সীমা লংঘনকারী সম্প্রদায় বৈ নও। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:১৯ ]

وَجَاء مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ
অতঃপর শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা রসূলগণের অনুসরণ কর। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:২০ ]

اتَّبِعُوا مَن لاَّ يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُم مُّهْتَدُونَ
অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:২১ ]

وَمَا لِي لاَ أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
আমার কি হল যে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যার কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে, আমি তাঁর এবাদত করব না? [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:২২ ]

أَأَتَّخِذُ مِن دُونِهِ آلِهَةً إِن يُرِدْنِ الرَّحْمَن بِضُرٍّ لاَّ تُغْنِ عَنِّي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا وَلاَ يُنقِذُونِ
আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্যান্যদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করব? করুণাময় যদি আমাকে কষ্টে নিপতিত করতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনই কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে রক্ষাও করতে পারবে না। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:২৩ ]

إِنِّي إِذًا لَّفِي ضَلاَلٍ مُّبِينٍ
এরূপ করলে আমি প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হব। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:২৪ ]

إِنِّي آمَنتُ بِرَبِّكُمْ فَاسْمَعُونِ
আমি নিশ্চিতভাবে তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। অতএব আমার কাছ থেকে শুনে নাও। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:২৫ ]

قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ
তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলল হায়, আমার সম্প্রদায় যদি কোন ক্রমে জানতে পারত- [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:২৬ ]

بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ
যে আমার পরওয়ারদেগার আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:২৭ ]

وَمَا أَنزَلْنَا عَلَى قَوْمِهِ مِن بَعْدِهِ مِنْ جُندٍ مِّنَ السَّمَاء وَمَا كُنَّا مُنزِلِينَ
তারপর আমি তার সম্প্রদায়ের উপর আকাশ থেকে কোন বাহিনী অবতীর্ণ করিনি এবং আমি (বাহিনী) অবতরণকারীও না। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:২৮ ]

إِن كَانَتْ إِلاَّ صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ خَامِدُونَ
বস্তুতঃ এ ছিল এক মহানাদ। অতঃপর সঙ্গে সঙ্গে সবাই স্তদ্ধ হয়ে গেল। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:২৯ ]

يَا حَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِ مَا يَأْتِيهِم مِّن رَّسُولٍ إِلاَّ كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُون
বান্দাদের জন্যে আক্ষেপ যে, তাদের কাছে এমন কোন রসূলই আগমন করেনি যাদের প্রতি তারা বিদ্রুপ করে না। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৩০ ]

أَلَمْ يَرَوْا كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّنْ الْقُرُونِ أَنَّهُمْ إِلَيْهِمْ لاَ يَرْجِعُونَ
তারা কি প্রত্যক্ষ করে না, তাদের পূর্বে আমি কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি যে, তারা তাদের মধ্যে আর ফিরে আসবে না। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৩১ ]

وَإِن كُلٌّ لَّمَّا جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ
ওদের সবাইকে সমবেত অবস্থায় আমার দরবারে উপস্থিত হতেই হবে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৩২ ]

وَآيَةٌ لَّهُمُ الْأَرْضُ الْمَيْتَةُ أَحْيَيْنَاهَا وَأَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَأْكُلُونَ
তাদের জন্যে একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৩৩ ]

وَجَعَلْنَا فِيهَا جَنَّاتٍ مِن نَّخِيلٍ وَأَعْنَابٍ وَفَجَّرْنَا فِيهَا مِنْ الْعُيُونِ
আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং প্রবাহিত করি তাতে নির্ঝরিণী। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৩৪ ]

لِيَأْكُلُوا مِن ثَمَرِهِ وَمَا عَمِلَتْهُ أَيْدِيهِمْ أَفَلَا يَشْكُرُونَ
যাতে তারা তার ফল খায়। তাদের হাত একে সৃষ্টি করে না। অতঃপর তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না কেন? [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৩৫ ]

سُبْحَانَ الَّذِي خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنبِتُ الْأَرْضُ وَمِنْ أَنفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ
পবিত্র তিনি যিনি যমীন থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদকে, তাদেরই মানুষকে এবং যা তারা জানে না, তার প্রত্যেককে জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৩৬ ]

وَآيَةٌ لَّهُمْ اللَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَإِذَا هُم مُّظْلِمُونَ
তাদের জন্যে এক নিদর্শন রাত্রি, আমি তা থেকে দিনকে অপসারিত করি, তখনই তারা অন্ধকারে থেকে যায়। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৩৭ ]

وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ
সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ, আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৩৮ ]

وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ
চন্দ্রের জন্যে আমি বিভিন্ন মনযিল নির্ধারিত করেছি। অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৩৯ ]

لَا الشَّمْسُ يَنبَغِي لَهَا أَن تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ
সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি অগ্রে চলে না দিনের প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৪০ ]

وَآيَةٌ لَّهُمْ أَنَّا حَمَلْنَا ذُرِّيَّتَهُمْ فِي الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ
তাদের জন্যে একটি নিদর্শন এই যে, আমি তাদের সন্তান-সন্ত তিকে বোঝাই নৌকায় আরোহণ করিয়েছি। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৪১ ]

وَخَلَقْنَا لَهُم مِّن مِّثْلِهِ مَا يَرْكَبُونَ
এবং তাদের জন্যে নৌকার অনুরূপ যানবাহন সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা আরোহণ করে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৪২ ]

وَإِن نَّشَأْ نُغْرِقْهُمْ فَلَا صَرِيخَ لَهُمْ وَلَا هُمْ يُنقَذُونَ
আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে নিমজ্জত করতে পারি, তখন তাদের জন্যে কোন সাহায্যকারী নেই এবং তারা পরিত্রাণও পাবে না। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৪৩ ]

إِلَّا رَحْمَةً مِّنَّا وَمَتَاعًا إِلَى حِينٍ
কিন্তু আমারই পক্ষ থেকে কৃপা এবং তাদেরকে কিছু কাল জীবনোপভোগ করার সুযোগ দেয়ার কারণে তা করি না। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৪৪ ]

وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّقُوا مَا بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَمَا خَلْفَكُمْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা সামনের আযাব ও পেছনের আযাবকে ভয় কর, যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়, তখন তারা তা অগ্রাহ্য করে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৪৫ ]

وَمَا تَأْتِيهِم مِّنْ آيَةٍ مِّنْ آيَاتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا عَنْهَا مُعْرِضِينَ
যখনই তাদের পালনকর্তার নির্দেশাবলীর মধ্যে থেকে কোন নির্দেশ তাদের কাছে আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখে ফিরিয়ে নেয়। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৪৬ ]

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ أَنفِقُوا مِمَّا رَزَقَكُمْ اللَّهُ قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنُطْعِمُ مَن لَّوْ يَشَاء اللَّهُ أَطْعَمَهُ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় কর। তখন কাফেররা মুমিনগণকে বলে, ইচ্ছা করলেই আল্লাহ যাকে খাওয়াতে পারতেন, আমরা তাকে কেন খাওয়াব? তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত রয়েছ। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৪৭ ]

وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
তারা বলে, তোমরা সত্যবাদী হলে বল এই ওয়াদা কবে পূর্ণ হবে? [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৪৮ ]

مَا يَنظُرُونَ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً تَأْخُذُهُمْ وَهُمْ يَخِصِّمُونَ
তারা কেবল একটা ভয়াবহ শব্দের অপেক্ষা করছে, যা তাদেরকে আঘাত করবে তাদের পারস্পরিক বাকবিতন্ডাকালে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৪৯ ]

فَلَا يَسْتَطِيعُونَ تَوْصِيَةً وَلَا إِلَى أَهْلِهِمْ يَرْجِعُونَ
তখন তারা ওছিয়ত করতেও সক্ষম হবে না। এবং তাদের পরিবার-পরিজ নের কাছেও ফিরে যেতে পারবে না। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৫০ ]

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ الْأَجْدَاثِ إِلَى رَبِّهِمْ يَنسِلُونَ
শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৫১ ]

قَالُوا يَا وَيْلَنَا مَن بَعَثَنَا مِن مَّرْقَدِنَا هَذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ
তারা বলবে, হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে আমাদেরকে নিদ্রাস্থল থেকে উখিত করল? রহমান আল্লাহ তো এরই ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং রসূলগণ সত্য বলেছিলেন। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৫২ ]

إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ
এটা তো হবে কেবল এক মহানাদ। সে মুহুর্তেই তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৫৩ ]

فَالْيَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَلَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
আজকের দিনে কারও প্রতি জুলুম করা হবে না এবং তোমরা যা করবে কেবল তারই প্রতিদান পাবে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৫৪ ]

إِنَّ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ الْيَوْمَ فِي شُغُلٍ فَاكِهُونَ
এদিন জান্নাতীরা আনন্দে মশগুল থাকবে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৫৫ ]

هُمْ وَأَزْوَاجُهُمْ فِي ظِلَالٍ عَلَى الْأَرَائِكِ مُتَّكِؤُونَ
তারা এবং তাদের স্ত্রীরা উপবিষ্ট থাকবে ছায়াময় পরিবেশে আসনে হেলান দিয়ে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৫৬ ]

لَهُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ وَلَهُم مَّا يَدَّعُونَ
সেখানে তাদের জন্যে থাকবে ফল-মূল এবং যা চাইবে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৫৭ ]

سَلَامٌ قَوْلًا مِن رَّبٍّ رَّحِيمٍ
করুণাময় পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে সালাম। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৫৮ ]

وَامْتَازُوا الْيَوْمَ أَيُّهَا الْمُجْرِمُونَ
হে অপরাধীরা! আজ তোমরা আলাদা হয়ে যাও। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৫৯ ]

أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَن لَّا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
হে বনী-আদম! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৬০ ]

وَأَنْ اعْبُدُونِي هَذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيمٌ
এবং আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৬১ ]

وَلَقَدْ أَضَلَّ مِنكُمْ جِبِلًّا كَثِيراً أَفَلَمْ تَكُونُوا تَعْقِلُونَ
শয়তান তোমাদের অনেক দলকে পথভ্রষ্ট করেছে। তবুও কি তোমরা বুঝনি? [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৬২ ]

هَذِهِ جَهَنَّمُ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ
এই সে জাহান্নাম, যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হতো। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৬৩ ]

اصْلَوْهَا الْيَوْمَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ
তোমাদের কুফরের কারণে আজ এতে প্রবেশ কর। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৬৪ ]

الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَى أَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَا أَيْدِيهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৬৫ ]

وَلَوْ نَشَاء لَطَمَسْنَا عَلَى أَعْيُنِهِمْ فَاسْتَبَقُوا الصِّرَاطَ فَأَنَّى يُبْصِرُونَ
আমি ইচ্ছা করলে তাদের দৃষ্টি শক্তি বিলুপ্ত করে দিতে পারতাম, তখন তারা পথের দিকে দৌড়াতে চাইলে কেমন করে দেখতে পেত! [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৬৬ ]

وَلَوْ نَشَاء لَمَسَخْنَاهُمْ عَلَى مَكَانَتِهِمْ فَمَا اسْتَطَاعُوا مُضِيًّا وَلَا يَرْجِعُونَ
আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে স্ব স্ব স্থানে আকার বিকৃত করতে পারতাম, ফলে তারা আগেও চলতে পারত না এবং পেছনেও ফিরে যেতে পারত না। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৬৭ ]

وَمَنْ نُعَمِّرْهُ نُنَكِّسْهُ فِي الْخَلْقِ أَفَلَا يَعْقِلُونَ
আমি যাকে দীর্ঘ জীবন দান করি, তাকে সৃষ্টিগত পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেই। তবুও কি তারা বুঝে না? [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৬৮ ]

وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنبَغِي لَهُ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْآنٌ مُّبِينٌ
আমি রসূলকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং তা তার জন্যে শোভনীয়ও নয়। এটা তো এক উপদেশ ও প্রকাশ্য কোরআন। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৬৯ ]

لِيُنذِرَ مَن كَانَ حَيًّا وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِينَ
যাতে তিনি সতর্ক করেন জীবিতকে এবং যাতে কাফেরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৭০ ]

أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا خَلَقْنَا لَهُمْ مِمَّا عَمِلَتْ أَيْدِينَا أَنْعَامًا فَهُمْ لَهَا مَالِكُونَ
তারা কি দেখে না, তাদের জন্যে আমি আমার নিজ হাতের তৈরী বস্তুর দ্বারা চতুস্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তারাই এগুলোর মালিক। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৭১ ]

وَذَلَّلْنَاهَا لَهُمْ فَمِنْهَا رَكُوبُهُمْ وَمِنْهَا يَأْكُلُونَ
আমি এগুলোকে তাদের হাতে অসহায় করে দিয়েছি। ফলে এদের কতক তাদের বাহন এবং কতক তারা ভক্ষণ করে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৭২ ]

وَلَهُمْ فِيهَا مَنَافِعُ وَمَشَارِبُ أَفَلَا يَشْكُرُونَ
তাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তুর মধ্যে অনেক উপকারিতা ও পানীয় রয়েছে। তবুও কেন তারা শুকরিয়া আদায় করে না? [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৭৩ ]

وَاتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ آلِهَةً لَعَلَّهُمْ يُنصَرُونَ
তারা আল্লাহর পরিবর্তে অনেক উপাস্য গ্রহণ করেছে যাতে তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হতে পারে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৭৪ ]

لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَهُمْ وَهُمْ لَهُمْ جُندٌ مُّحْضَرُونَ
অথচ এসব উপাস্য তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম হবে না এবং এগুলো তাদের বাহিনী রূপে ধৃত হয়ে আসবে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৭৫ ]

فَلَا يَحْزُنكَ قَوْلُهُمْ إِنَّا نَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ
অতএব তাদের কথা যেন আপনাকে দুঃখিত না করে। আমি জানি যা তারা গোপনে করে এবং যা তারা প্রকাশ্যে করে। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৭৬ ]

আরও পড়ুন:

 ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিল ইয়াস, ৬ ফুট উচ্চতার জোয়ারের শঙ্কা 

 দুপুরে আঘাত হানতে পারে ‘ইয়াস’, সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকবে   ১৮৫ কিমি

 যে কাজটি করলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি মিলবে

 ব্ল্যাক ফাঙ্গাস থেকে রক্ষার ৭ উপায়

 

أَوَلَمْ يَرَ الْإِنسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِن نُّطْفَةٍ فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌ مُّبِينٌ
মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি বীর্য থেকে? অতঃপর তখনই সে হয়ে গেল প্রকাশ্য বাকবিতন্ডাকারী। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৭৭ ]

وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ قَالَ مَنْ يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ
সে আমার সম্পর্কে এক অদ্ভূত কথা বর্ণনা করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে কে জীবিত করবে অস্থিসমূহকে যখন সেগুলো পচে গলে যাবে? [সূরা ইয়াসিন ৩৬:৭৮ ]

قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ
বলুন, যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্বপ্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৭৯ ]

الَّذِي جَعَلَ لَكُم مِّنَ الشَّجَرِ الْأَخْضَرِ نَارًا فَإِذَا أَنتُم مِّنْهُ تُوقِدُونَ
যিনি তোমাদের জন্যে সবুজ বৃক্ষ থেকে আগুন উৎপন্ন করেন। তখন তোমরা তা থেকে আগুন জ্বালাও। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৮০ ]

أَوَلَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُم بَلَى وَهُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ
যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন, তিনিই কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৮১ ]

إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ
তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন, `হও' তখনই তা হয়ে যায়। [ সূরা ইয়াসিন ৩৬:৮২ ]

فَسُبْحَانَ الَّذِي بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
অতএব পবিত্র তিনি, যাঁর হাতে সবকিছুর রাজত্ব এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। [সূরা ইয়াসিন ৩৬:৮৩]

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ওজুর তারতিব ও সুন্নাতসমূহ

অনলাইন ডেস্ক

ওজুর তারতিব ও সুন্নাতসমূহ

পবিত্রতা অর্জন ও সালাত আদায়ের মূল শর্ত হল ওজু। আল্লাহ তাআলা ওজুকে ফরজ করেছেন। পাক-পবিত্রতা অর্জনে ওজুর রয়েছে অত্যাধিক গুরুত্ব। এছাড়া ওজু ছাড়া ইবাদত-বন্দেগি করা যায় না। সুন্দরভাবে ওজু করাও একটি ইবাদত। কী ভাবে সুন্নাতি কায়দায় ওজু করা যায় সে ব্যাপারে অনেক হাদিস ও ওলামায়ে কেরামগণ দিয়েছেন সুন্দর সুন্দর পন্থা। ওজুর ফরজগুলো ইতোপূর্বে তুলে ধরা হয়েছে। ওজুর সুন্নাতি তারতিব ও সুন্নাতসমূহ তুলে ধরা হলো-

ওজুর তারতিবসমূহ-

ক. ওজুতে নিয়্যাতে একটু উঁচু জায়গায় বসা যাতে ওজুর পানির ছিটা নিজের শরীরে না আসে।
খ. বিসমিল্লাহ তথা (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) বলে ওজু শুরু করা।
গ. উভয় হাতে কবজি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা।
ঘ. মিসওয়াক করা। যদি মিসওয়াক না থাকে তবে মোটা কাপড় বা হাতের আঙ্গুল বা অন্য কিছুর দ্বারা উত্তমরূপে দাঁত পরিষ্কার করা।
ঙ. তিনবার কুলি করা। রোযা না থাকলে গড়গড়া করে কুলি করা।
চ. তিনবার নাকে পানি দেয়া। বাম হাতে কণিষ্ঠা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা নাক পরিষ্কার করা। (রোজাদার না হলে নাকের নরম অংশে পানি পৌঁছানো)
ছ. সমস্ত মুখ অর্থাৎ চুলের গোড়া হতে থুতনির নিচ পর্যন্ত এবং এক কানের লতি হতে অন্য কানের লতি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা।
জ. দাড়ি ঘন হলে খিলাল করা।
ঝ. উভয় হাতের কনুইসহ তিন বার ধৌত করা। প্রথমে ডান তারপর বাম হাত। এসম উভয় হাতের আঙ্গুল খিলাল করা।
ঞ. সম্পূর্ণ মাথা একবার মাসেহ করা।
ট. কান মাসেহ করা। অর্থাৎ শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে কানের ভিতর এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কানের বাহির অংশ মাসেহ করা
ঠ. ঘাড় বা গর্দান হাতের আঙ্গুলের পিঠ দিয়ে মাসেহ করা। কান ও গর্দান মাসেহের ক্ষেত্রে নতুন করে পানি নেয়ার দরকার নেই। মাথা মাসেহ করার পানি দিয়ে করলেই চলবে।
ড. উভয় পায়ের টাখনুসহ তিনবার ধৌত করা। প্রথমে ডান পা এবং পরে বাম পা ধৌত করা। পায়েল আঙ্গুলি খিলাল করার ক্ষেত্রে ডান পায়ের কণিষ্ঠা আঙ্গুল হতে শুরু করে বাম পায়ের কনিষ্ঠাঙ্গুলিতে এসে শেষ করা এবং বাম হাতের কণিষ্ঠাঙ্গুলি দিয়ে খিলাল করা।

আরও পড়ুন


সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২৮-৩৫, নবীদের অবমাননার শাস্তি

দেশজুড়ে ভারি বর্ষণের আভাস, পাহাড় ধসের শঙ্কা

ত্ব-হা ও দুই সফরসঙ্গীর জবানবন্দির পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর

নওমুসলিম ইমামকে ডেকে নিয়ে মসজিদের সামনে গুলি করে হত্যা


অজুর সুন্নতসমূহ

১. বিসমিল্লাহ বলা, ২. কবজিসহ উভয় তিন বার ধৌত করা, ৩. মিসওয়াক করা, ৪. তিনবার কুলি করা, ৫. নাকে তিন বার পানি দেয়া, ৬. সমস্ত মাথা একবার মাসেহ করা, ৭. প্রত্যেক অঙ্গকে তিনবার করে ধৌত করা, ৮. কান মাসেহ করা, ৯. উভয় হাত এবং পায়ের আঙ্গুলগুলো খিলাল করা, ১০. নিয়্যাত করা, ১১. ধারবাহিকভাবে ওজু করা, ১২. এক অঙ্গ শুকানোর পূর্বেই পরবর্তী অঙ্গ ধৌত করা, ১৩. ডান থেকে শুরু করা। এগুলো ওজুর করার সুন্নাত।

ইবাদত-বন্দেগি কবুলের জন্য আল্লাহ শিখানো পদ্ধতিতে আদায়ের ক্ষেত্রে ওজু ফরজ থেকে শুরু করে মোস্তাহাব পর্যায়ে এসে শেষ হয়েছে। সুতরাং আমরা উত্তমরূপে ওজুর করে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগিতে মনোনিবেশ করবো। আল্লাহে তা’আলা সবােইকে ওজুর ফরজ ও সুন্নাত সমূহ শিখে ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২৮-৩৫, নবীদের অবমাননার শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২৮-৩৫, নবীদের অবমাননার শাস্তি

সূরা ইয়াসিন পবিত্র কুরআনের মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এই সূরার প্রথমে বর্ণিত দুই মুকাত্তায়াত হরফের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরায় রয়েছে ৮৩টি আয়াত। আজ এই সূরার ২৮ থেকে ৩৫ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে। এই সূরার ২৮ থেকে ৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى قَوْمِهِ مِنْ بَعْدِهِ مِنْ جُنْدٍ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا كُنَّا مُنْزِلِينَ (28) إِنْ كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ خَامِدُونَ (29) يَا حَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِ مَا يَأْتِيهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ (30)

“এবং তারপর আমি তার সম্প্রদায়ের উপর আকাশ থেকে কোন বাহিনী অবতীর্ণ করিনি এবং (এর আগেও) আমি (বাহিনী) অবতরণকারী ছিলাম না। (অর্থাৎ আমার রীতি এর আগেও এরূপ ছিল না।)” (৩৬:২৮)

“বস্তুতঃ এ ছিল এক মহানাদ। অতঃপর হঠাৎ সবাই স্তদ্ধ হয়ে যায়।” (৩৬:২৯)

“বান্দাদের জন্যে আক্ষেপ যে, তাদের কাছে এমন কোন রাসূলই (হেদায়েতের জন্য) আগমন করেননি যাকে তারা বিদ্রুপ করে নি।” (৩৬:৩০)

গত আসরে আমরা বলেছি, শাম অঞ্চলের আনতাকিয়া শহরের জনগণকে হেদায়েতের জন্য কয়েকজন নবী আগমন করলে সেখানকার লোকজন তাদেরক লাঞ্ছনা করে এবং তাদের নবুওয়াত মেনে নিতে অস্বীকার করে। এ সময় নবীদেরকে রক্ষা করার জন্য হাবিবে নাজ্জার নামক এক ব্যক্তি এগিয়ে এলে কাফেররা তাকে হত্যা করে। এরপর এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, যে জাতি নবীদের অস্বীকার করে এবং এক ব্যক্তিকে শহীদ করে ফেলে তাদের ওপর ঐশী আজাব অবধারিত হয়ে যায়। আল্লাহর আদেশে এমন গগনবিদারী আওয়াজ হয়ে যার ফলে ওই জাতির সব লোক মৃত্যুবরণ করে। এই আজাব ছিল পার্থিব শাস্তি এবং কিয়ামতে তাদের জন্য আরো কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে।

প্রকৃতপক্ষে কাফের ও গোনাহগার ব্যক্তিদের ধ্বংস করে ফেলা আল্লাহ তায়ালার জন্য অত্যন্ত সহজ কাজ। এই কাজের জন্য ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আসমান থেকে কোনো বাহিনী প্রেরণের প্রয়োজন নেই। বরং, আল্লাহর ইচ্ছায় আসমান ও জমিন থেকে এমন বিকট শব্দ হয় যে, এর ফলে সবাই নিস্তব্ধ হয়ে যায়।  পরের আয়াতে আল্লাহ তাঁর এ ধরনের বান্দাদের জন্য আক্ষেপ করে বলছেন, তারা আল্লাহর হেদায়েতের বাণী গ্রহণ না করে এমন আচরণ করে যা তাদের ধ্বংস ডেকে আনে। নবী-রাসূলদের ঠাট্টা করা থেকে এই আচরণ শুরু হয় এবং তাদেরকে লাঞ্ছনা করে শেষ পর্যন্ত অনেক নবীকে মেরে ফেলা হয়।

এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. কোন সমাজ যদি আল্লাহর ওলীদেরকে ব্যাঙ্গ-বিদ্রূপ করে বা তাদেরকে লাঞ্ছিত করে তাহলে সেই সমাজ আল্লাহর শাস্তিতে নিপতিত হতে পারে; যে শাস্তি আসে হঠাৎ করে।
২. দাম্ভিক ও অত্যাচারী ব্যক্তিদের হুমকিতে ভয় পাওয়া বা সত্য ত্যাগ করা যাবে না। আল্লাহ চাইলে অত্যাচারীরা অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে।
৩. অন্যরা সত্যকে বিদ্রূপ করলে আমাদের ঈমান যেন দুর্বল হয়ে না যায় এবং আমরা যেন ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে পিছ-পা না হই। সমস্ত নবী-রাসূল বিদ্রূপের শিকার হওয়া সত্ত্বেও সত্যের পথে অটল থেকেছেন। 

সূরা ইয়াসিনের ৩১ ও ৩২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

  أَلَمْ يَرَوْا كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنَ الْقُرُونِ أَنَّهُمْ إِلَيْهِمْ لَا يَرْجِعُونَ (31) وَإِنْ كُلٌّ لَمَّا جَمِيعٌ لَدَيْنَا مُحْضَرُونَ (32)

“তারা কি প্রত্যক্ষ করে না, তাদের পূর্বে আমি কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি, যারা আর তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) কাছে ফিরে আসবে না?” (৩৬: ৩১)

“এবং ওদের সবাইকে (কিয়ামতের দিন) আমার কাছে উপস্থিত হতেই হবে।” (৩৬:৩২)

আগের কয়েকটি আয়াতের সূত্র ধরে এই দুই আয়াতে সব মানুষকে উদ্দেশ করে আল্লাহ তায়ালা বলছেন: তোমরা কেন অতীত জাতিগুলোর ইতিহাস ও তাদের পরিণতি সম্পর্কে ভেবে দেখছ না? তোমরা কেন দেখছ না যে, তোমাদের পূর্বে কত শত জাতি এই পৃথিবীতে এসেছিল যাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে? তাদের মধ্যে অনেক জাতির ছিল সমৃদ্ধ সভ্যতা; ধনে-জ্ঞানে তাদের কোনো তুলনা ছিল না। কিন্তু আজ তাদের কোনো চিহ্ন এই পৃথিবীতে অবশিষ্ট নেই। আজকের সমাজে ফিরে আসার কোনো ক্ষমতাও তাদের নেই।

এই দুই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. পবিত্র কুরআন বারবার অতীত জাতিগুলোর ইতিহাস জানার ও তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার নির্দেশ দিয়েছে। শুধু বিনোদনের জন্য ইতিহাস জানা যথেষ্ট নয়।

২. পৃথিবী পরিচালনায় আল্লাহর রীতি অভিন্ন এবং অতীত জাতিগুলোর পরিণতি প্রায় একই রকম। কাজেই যে জাতি মুক্তি পেতে চায় তার উচিত এসব জাতির পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের চলার পথ সংশোধন করা।

আরও পড়ুন


দেশজুড়ে ভারি বর্ষণের আভাস, পাহাড় ধসের শঙ্কা

ত্ব-হা ও দুই সফরসঙ্গীর জবানবন্দির পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর

নওমুসলিম ইমামকে ডেকে নিয়ে মসজিদের সামনে গুলি করে হত্যা

আবু ত্ব-হাসহ সঙ্গীদের রাতেই আদালতে নিল পুলিশ


সূরা ইয়াসিনের ৩৩ থেকে ৩৫ নম্বর পর্যন্ত আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

وَآَيَةٌ لَهُمُ الْأَرْضُ الْمَيْتَةُ أَحْيَيْنَاهَا وَأَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَأْكُلُونَ (33) وَجَعَلْنَا فِيهَا جَنَّاتٍ مِنْ نَخِيلٍ وَأَعْنَابٍ وَفَجَّرْنَا فِيهَا مِنَ الْعُيُونِ (34) لِيَأْكُلُوا مِنْ ثَمَرِهِ وَمَا عَمِلَتْهُ أَيْدِيهِمْ أَفَلَا يَشْكُرُونَ (35)   

“এবং তাদের জন্যে একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে। (৩৬:৩৩)

“এবং আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং তাতে প্রবাহিত করি ঝরনাধারা।” (৩৬:৩৪)

“যাতে তারা তার ফল এবং নিজেদের হাতে উৎপাদিত শস্য খেতে পারে। সুতরাং তাদের কি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত নয়?” (৩৬:৩৫)

এই তিন আয়াতে বলা হচ্ছে: আখিরাতের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে মৃত ভূমির প্রাণ ফিরে পাওয়া। শীতকালে মাটি এমনভাবে শুকিয়ে যায় যাতে মনে হয় এখানে আর কোনোদিন শষ্য উৎপাদিত হবে না। কিন্তু গ্রীষ্মকালে বৃষ্টির পানি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই মৃত ভূমি আবার সতেজ হয়ে ওঠে এবং তাতে নানারকম শস্য ও ফলমূল উৎপাদিত হয়। প্রতি বছর মানুষ তার চোখের সামনে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেখে।

আল্লাহর দেয়া খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে পবিত্র কুরআনে খোরমা ও আঙ্গুরের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং এই দুই ফলকে আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নেয়ামত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হয়ত এ কারণে একথা বলা হয়েছে যে, এই দুই ফলে যেমন মানুষের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব খাদ্যগুণ রয়েছে তেমনি মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব ভিটামিনের সমাহার এই দুই ফলে ঘটেছে।

এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. প্রকৃতি হচ্ছে আল্লাহকে উপলব্ধি করার কিতাব যার প্রতিটি পৃষ্ঠা অধ্যয়নের মাধ্যমে মানুষ তার স্রষ্টাকে আরো ভালোভাবে চিনতে ও বুঝতে পারে।
২. মানুষের পক্ষে পার্থিব জগতে বসে তার মৃত্যু পরবর্তী জীবন উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। কিন্তু আখিরাত দিবসের সত্যতা উপলব্ধি করার জন্য আল্লাহ তায়ালা মাটি, গাছ ও গুল্মলতার জীবন ও মৃত্যু মানুষের সামনে বারবার দেখিয়ে দিয়েছেন।
৩. নানারকম খাদ্য ও ফলমূল ভক্ষণ করার কারণে মানুষের উচিত এসব খাদ্যের স্রষ্টা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বেশিরভাগ মানুষ অকৃতজ্ঞ হয়।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

ইস্তেগফারের গুরুত্ব ও ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

ইস্তেগফারের গুরুত্ব ও ফজিলত

‘ইস্তেগফার’ শব্দের অর্থ কৃত পাপকর্মের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহর অসংখ্য মহান গুণাবলির একটি হলো ক্ষমা। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি, যে তওবা করে, ইমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎপথে অবিচলিত থাকে।’ (সূরা তাহা, আয়াত: ৮২)

মানবজাতিকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী।’ (সূরা নাসর, আয়াত: ৩)

ইস্তেগফারের গুরুত্ব:

রাসূল (সা.) ইস্তেগফারের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে বলেন (অথচ তিনি মা’সুম-নিষ্পাপ), হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার ও তাওবা করো। কারণ আমি নিজেও দৈনিক শতবার তাওবা-ইস্তেগফার করি। 

অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) বলেন, যার আমলনামায় ইস্তেগফার অধিক সংখ্যায় পাওয়া যাবে তার জন্য রইল সুসংবাদ।

হযরত লোকমান হাকীম তাঁর সন্তানকে উপদেশ দান করে বলেন, হে আমার পুত্র! ‘আল্লাহুম্মাগ ফিরলী’ বলাকে অভ্যাসে পরিণত করে নাও। কারণ এমন কিছু সময় আছে যখন আল্লাহ তা’আলা যেকোনো দু’আকারীর দু’আ কবুল করেন।

হযরত আবু মূসা (রা.) বলেন, আমাদের সুরক্ষাদানকারী দুটি জিনিস ছিল, তন্মধ্যে হতে একটি চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছে। সেটা হলো আমাদের মাঝে রাসূল (সা.)-এর উপস্থিতি। আর দ্বিতীয় জিনিস ইস্তেগফার যা এখনো আমাদের মাঝে রয়ে গেছে। যেদিন এটিও চলে যাবে (করার মতো কেউ থাকবে না) তখন আমাদের ধ্বংস অনিবার্য। 

হযরত হাসান (রহ.) বলেন, তোমরা ঘরে-দুয়ারে, দস্তরখানে, রাস্তা-ঘাটে, হাটে-বাজারে, সভা-সমাবেশে বেশি বেশি ইস্তেগফার করো। কারণ ইস্তেগফার কবুল হওয়ার সময় তোমাদের জানা নেই।

ইস্তেগফারের ফজিলত:

ইস্তেগফারের ফজিলত অনেক। কোরআন-হাদীসের আলোকে কিছু উপকারের কথা নিচে তুলে ধরা হলো।

এক. গোনাহখাতা মাফ হয়। 
কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে : তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। (সূরা নূহ-১০)

দুই. অনাবৃষ্টি দূর হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তিনি (আল্লাহ) আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। (নূহ-১১)

তিন. সন্তান ও সম্পদ লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে :  তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে উন্নতি দান করবেন। (নূহ-১২)

চার. সবুজ-শ্যামল পরিবেশ লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান। (নূহ-১২)

পাঁচ. নদ-নদীর ব্যবস্থা হবে। 
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের জন্য নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দেবেন। (নূহ-১২)

ছয়. উপভোগ্য জীবন লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমরা তোমাদের রবের কাছে গোনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করো। অতঃপর তাঁর অভিমুখী হও (ভবিষ্যতে গোনাহা না করার এবং আল্লাহর হুকুম-আহকাম পালন করার দৃঢ় সংকল্প করো)। তিনি তোমাদের নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত উত্তম জীবন উপভোগ করতে দেবেন। (সূরা হুদ-৩)

সাত. শক্তি-সামর্থ্য বাড়বে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের শক্তির সাথে বাড়তি আরো শক্তি জোগাবেন। (হুদ-৫২)

আরও পড়ুন:


বাঁচবো কিনা জানি না, সবাই ক্ষমা করে দিয়েন

দুদককে পরীমণির সম্পদের হিসাব চাওয়ার আহ্বান হেলেনা জাহাঙ্গীরের

গণপরিবহনে অবাধে যাতায়াত করায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপেনে ছিলেন আবু ত্ব-হা: পুলিশ


আট. আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপত্তা দান করবে। 

ইরশাদ হচ্ছে : তারা ইস্তেগফারে রত থাকাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা তাদের শাস্তি দেবেন না। (আনফাল-৩৩)

নয়. সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন : যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তা’আলা তার সর্বপ্রকার সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুলে দেবেন।

দশ. উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুঃখ-চিন্তা দূর হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন : সর্বপ্রকার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুঃখ-চিন্তা লাঘব করে স্বস্তি ও আনন্দ দান করবেন।

এগারো. অকল্পনীয় রিযিকের ব্যবস্থা হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন :তাকে কল্পনাতীত রিযিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। (আবু দাউদ)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসির আমলের বিশেষ ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসির আমলের বিশেষ ফজিলত

আল্লাহর নামে শুরু করা মুমিনের প্রতিটি কাজই ইবাদত। ঘুমও এর মধ্যে একটি। ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসির রয়েছে কার্যকরী আমল ও বিশেষ মর্যাদা। হাদিসে পাকে প্রিয় নবী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি পড়ার বিশেষ মর্যাদা ঘোষণা করেছেন। কী সেই ফজিলত ও মর্যাদা?

আল্লাহর নামে ঘুমও একটি শান্তিময় ইবাদত। ঘুমের সঙ্গে আরও অনেক ইবাদত জড়িত। তন্মধ্যে এটি আয়াতুল কুরসির আমল করে ঘুম যাওয়া। আর এতে ফেরশতারা সারারাত ওই ব্যক্তির জন্য নিরাপত্তার দোয়া করতে থাকেন। হাদিসের দীর্ঘ এক বর্ণনায় তা ওঠে এসেছে-

‘যখন তুমি শয্যা গ্রহণ করবে তখন আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে। তাহলে সর্বদা আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য একজন হেফাজতকারী থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না।’

এ সংক্রান্ত হাদিসের পুরো বর্ণনা

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার দেখতে পেলেন একজন ব্যক্তি সাদকার মাল চুরি করছে। তখন তিনি তার হাত ধরে বললেন, ‘আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুলের কাছে নিয়ে যাব।’ তখন ওই ব্যক্তি বলল যে, সে খুব অভাবী আর তার অনেক প্রয়োজন। তাই দয়াবশত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে ছেড়ে দিলেন।

পরদিন সকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসার পর তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন- ‘গতকাল অপরাধীকে কী করেছে?’

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন তাকে ক্ষমা করার কথা বললেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘অবশ্যই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবারও আসবে।

এভাবে ওই চোর পরপর ৩দিন সাদকার মাল চুরি করতে আসে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুও তাকে প্রত্যেকবার ছেড়ে দেন। সর্বশেষ সে (ওই চোর) আয়াতুল কুরসির আমলের কথা বর্ণনা করে বলে-

আমি তোমাকে এমন কিছু বলে দেব; যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করবেন।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটা জানতে চাইলে (ওই) চোর বলল-

‘রাতে যখন ঘুমাতে যাবে তখন আয়াতুল কুরসি (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম) পড়ে ঘুমাবে তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য একজন ফেরেশতাকে পাহারাদার নিযুক্ত করবেন। যে তোমার সঙ্গে থাকবে আর কোনো শয়তান সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে আসতে পারবে না।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ঘটনা শুনে বললেন, ‘যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী কিন্তু সে সত্য বলেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন- ‘তুমি কি জান সে কে?’ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘না’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘সে হচ্ছে শয়তান।’ (বুখারি)

আরও পড়ুন


সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২০-২৭, যেসব বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে

বারডেম হাসপাতালের নীচে আগুন

ওই নারী যত উপরে পা তুলে আঘাত করল, শতকরা ৯৮ জনই এটা পারে না: টিপু

পরীমনির পোশাক নিয়ে রাঙ্গার মন্তব্য, সাংসদ টিপু বললেন ‌‘নাসিরকে চিনি’


আয়াতুল কুরসি ও অর্থ

اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান। (সূরা বাকারা ২:২৫৫)

আয়াতুল কুরসি কুরআনের অন্যসব আয়াতের সর্দার বা নেতা। আয়াতটি যে ঘরে পড়া হবে, সে ঘর থেকে শয়তান বের হয়ে যাবে।’এছাড়া আয়াতুল কুরসী অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ একটি আয়াত। হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী কুরআন মাজীদের সর্বাধিক ফযীলতপূর্ণ আয়াত এটি।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, ঘুমের আগে নিয়মিত আয়াতুল কুরসির আমল করা। সুন্নাতের আলো জীবন পরিচালনা করা। আর এতে মুমিনের জীবন হবে শান্তিময়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসির আমল যথাযথভাবে নিয়মিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২০-২৭, যেসব বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২০-২৭, যেসব বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে

সূরা ইয়াসিন পবিত্র কুরআনের মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এই সূরার প্রথমে বর্ণিত দুই মুকাত্তায়াত হরফের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরায় রয়েছে ৮৩টি আয়াত। সূরা ইয়াসিনে বিশ্বাসগত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আজ এই সূরার ২০ থেকে ২৭ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে। এই সূরার ২০ ও ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

  وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ (20) اتَّبِعُوا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ (21)

“অতঃপর শহরের শেষ প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল (এবং) বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা (আল্লাহর) রাসূলগণকে অনুসরণ কর।” (৩৬:২০)

“তাদের অনুসরণ কর, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।” (৩৬:২১)

গত আসরে আমরা একটি পথভ্রষ্ট জাতির লোকজনকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য কয়েকজন নবীর আগমন নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। সে আলোচনার ধারাবাহিকতায় এই দুই আয়াতে বলা হচ্ছে: কোনো কোনো মুমিন ব্যক্তি অত্যাচারী লোক ও শাসকের হাত থেকে নবী-রাসূলদের রক্ষা করার জন্য নিজেদের জীবন পর্যন্ত বিলিয়ে দিয়েছেন। এখানে যে সৌভাগ্যবান ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছে হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী তার নাম ছিল হাবিব নাজ্জার। তিনি শহরের শেষ প্রান্তে বসে শুনতে পান লোকজন আল্লাহর রাসূলদের নির্যাতন করে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছে। এ অবস্থায় তিনি হন্তদন্ত হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং নবীদের রক্ষা করার জন্য উপস্থিত জনতার সাহায্য চান। হাবিব নাজ্জার একজন মুমিন ব্যক্তি হিসেবে জানতেন যে, কাফেরদেরকে ঈমানের পথে আহ্বান করতে হয়। তিনি উপস্থিত জনতাকে দ্বীনের পথে আহ্বান জানিয়ে বলতে থাকেন তারা যেন এসব রাসূলের আনুগত্য করেন যারা তাদের হেদায়েতের বিনিময়ে কোনো টাকা-পয়সা বা ধন-সম্পদ চান না।

এ দুই আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হচ্ছে:

১. ধর্ম ও ধর্মীয় নেতাদের রক্ষা করা ঈমানদার ব্যক্তির কর্তব্য।
২. ধর্ম রক্ষা করার ক্ষেত্রে সঙ্গীহীন ও একা থাকা কোনো অজুহাত হতে পারে না। প্রয়োজনে একাই লড়াই করতে হবে। দ্বীন রক্ষার ক্ষেত্রে নিজেদের সংখ্যার অপ্রতুলতা দেখে ঘাবড়ে যাওয়া যাবে না।
৩. আমরা তাদেরই অনুসরণ করব যারা সঠিকপথ প্রাপ্ত হয়েছেন।

সূরা ইয়াসিনের ২২ থেকে ২৪ নম্বর পর্যন্ত আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

وَمَا لِيَ لَا أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ (22) أَأَتَّخِذُ مِنْ دُونِهِ آَلِهَةً إِنْ يُرِدْنِ الرَّحْمَنُ بِضُرٍّ لَا تُغْنِ عَنِّي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا وَلَا يُنْقِذُونِ (23) إِنِّي إِذًا لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (24)

“কেন আমি তাঁর এবাদত করব না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যার কাছে তোমরা সবাই প্রত্যাবর্তিত হবে?” (৩৬:২২) 

“আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্যদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করব, করুণাময় (আল্লাহ) যদি আমাকে কষ্টে নিপতিত করতে চান, তবে যাদের সুপারিশ আমার কোনই কাজে আসবে না এবং যারা আমাকে রক্ষাও করতে পারবে না?" (৩৬:২৩)

“এরূপ করলে আমি প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হব।”(৩৬:২৪)  

যিনি নবীদের রক্ষা করার জন্য শহরের মাঝখানে ছুটে যান এবং উপস্থিত জনতার সাহায্য চান তিনি নিজের একত্ববাদী বিশ্বাস তুলে ধরে বলেন: তোমাদের মূর্তি ও কল্পিত উপাস্যদের উপাসনা করার কোনো কারণ আমি দেখি না। কারণ আমি জানি, দয়াময় আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করেছেন। যদি কারো উপাসনা করতে হয় আমি একমাত্র তাঁর উপাসনা করব। মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য এবং যুক্তি উভয়ই বলে যিনি সৃষ্টিকর্তা তাঁর ইবাদত করতে হবে। কিন্তু তোমরা যেসব মূর্তির উপাসনা করো সেগুলো কোনো যুক্তির ধোপে টেকে না। কারণ, কেউ যদি আমার ক্ষতি করতে চায় তাহলে এসব মূর্তি আমার কোনো উপকারে আসবে না এবং কেউ যদি আমার উপকার করতে চায় তাহলেও তাতে বাধা দেয়ার কোনো শক্তি এসব উপাস্যের নেই। কাজেই বিবেকের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আমি তোমাদের হাতে তৈরি মূর্তির উপাসনা করতে পারব না। যদি করি তাহলে সুস্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাব।

এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হচ্ছে:

১. যেকোনো যুক্তির বিবেচনায় সৃষ্টিকর্তার ইবাদত গ্রহণযোগ্য। কিন্তু অন্য কারো উপাসনা কোনো যুক্তির বিচারেই টেকে না।
২. আল্লাহ তায়ালা শুধু আমাদের সৃষ্টিকর্তাই নন একইসঙ্গে আমাদের জীবন পরিচালনাও হয় তাঁর নির্দেশে। কাজেই ইবাদতের একমাত্র যোগ্য ও দাবিদার হচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুন


বারডেম হাসপাতালের নীচে আগুন

ওই নারী যত উপরে পা তুলে আঘাত করল, শতকরা ৯৮ জনই এটা পারে না: টিপু

পরীমনির পোশাক নিয়ে রাঙ্গার মন্তব্য, সাংসদ টিপু বললেন ‌‘নাসিরকে চিনি’

ভারতের নতুন আতঙ্ক ‘গ্রিন ফাঙ্গাস’


সূরা ইয়াসিনের ২৫ থেকে ২৭ নম্বর পর্যন্ত আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

  إِنِّي آَمَنْتُ بِرَبِّكُمْ فَاسْمَعُونِ (25) قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ (26) بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ (27)

“আমি নিশ্চিতভাবে তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। অতএব আমার বক্তব্য শুনে নাও।” (৩৬:২৫)

“(শেষ পর্যন্ত তাকে শহীদ করা হলো এবং) তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলল হায়, আমার সম্প্রদায় যদি কোনক্রমে জানতে পারত-”(৩৬:২৬) 

“যে আমার পরওয়ারদেগার আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।” (৩৬:২৭)

নবীদের রক্ষার্থে ছুটে যাওয়া ব্যক্তি ঘোষণা করেন, আমি এই নবীদের প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাদের সাহায্য করার জন্য আমি তোমাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু গোঁড়া ও অন্ধ কাফেররা তার এ সত্যবাণী শুনতে মোটেই আগ্রহী ছিল না। তারা তাকে হত্যা করে এই ভেবে যে, এই ব্যক্তির কণ্ঠে আর উপদেশবাণী শুনতে হবে না। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা শহীদ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর নির্দেশ দেন। এটি হচ্ছে বারযাখি জান্নাত যা কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। আল্লাহর যেসব বান্দা শহীদ হয়েছেন তারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত এই জান্নাতে অবস্থান করবেন।

শহীদদের জীবিত থাকা প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ সূরা আলে-ইমরানের ১৬৯ নম্বর আয়াতে বলেন: যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তুমি কখনো তাদেরকে মৃত মনে করো না। বরং তারা জীবিত ও নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিকাপ্রাপ্ত। কাজেই নিজ জাতির লোকদের হাতে নিহত ওই ঈমানদার ব্যক্তি তার হত্যকারীদের জন্যও দোয়া করেছেন যেন তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হয় এবং জান্নাত লাভ করতে পারে।

এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. ধর্ম ও ধর্মীয় নেতাদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে নিজেদের জীবন অকাতরে বিলিয়ে দিতে হবে।
২. আল্লাহর প্রেমে মত্ত ব্যক্তিরা সব মানুষের হিতাকাঙ্ক্ষী। মানুষ তাদেরকে কষ্ট দেয়া সত্ত্বেও তারা কষ্ট দানকারী ব্যক্তিদের মঙ্গল কামনা করেন। এসব মানুষ কষ্ট পাক তা তারা চান না।
৩. আল্লাহর রাস্তায় শহীদগণ কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বারযাখি জগতে বিশেষ জীবন ও জীবিকাপ্রাপ্ত হন। তারা ওই জগতে জান্নাতের সব আরাম আয়েশ ভোগ করেন।

আল্লাহ তাআলা সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে ঈমানের সঙ্গে সঙ্গে নেক আমল করে জান্নাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর