ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭ উপজেলা
ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭ উপজেলা

ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭ উপজেলা

অনলাইন ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ‘অত্যন্ত প্রবল’ ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ ভারতের ওড়িষ্যা উপকূলে আছড়ে পড়েছে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে প্রথমে এটি রাজ্যটির ধরমা উপকূলে আংশিক আঘাত হানে। পরে উপকূল ধরে আরও উত্তর-পশ্চিমে এগিয়ে যায়।  

বিশাল আকারের এই ঘূর্ণিঝড়ের বড় একটি প্রভাব ছিল বাংলাদেশে।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানি বেড়ে খুলনা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত উপকূলীয় বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল ভাসিয়ে নিয়েছে। কোথাও বাড়তি পানির তোড়ে বাঁধ টপকে আবার কোথাও বাঁধ ভেঙে বা ফাটল দিয়ে হু হু করে লোকালয়ে প্রবেশ করে ঢুকে পড়ে জোয়ারের পানি। এতে ফসলের ক্ষেত ও ঘরবাড়ি ভেসে গেছে।  

বিভিন্ন স্থানে আম-লিচুসহ মৌসুমী ফল ঝরে পড়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ২৪টি নদীর পানি বিপদসীমার উপরে চলে গেছে।  

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বাংলাদেশে আঘাত করেনি। এটি ভারতের ওড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ এখন সম্পূর্ণরূপে এর প্রভাবমুক্ত। তবে পূর্ণিমার কারণে জোয়ারের পানি বেশি ছিল। এ কারণে অতি জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় ৯ জেলার ২৭ উপজেলার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোলার লালমোহনে গাছচাপায় একজন মারা গেছেন। উপকূলীয় ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) সূত্র জানিয়েছে, ইয়াসের প্রভাবে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুণা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম, জেলা ও এগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের ওপর দিয়ে ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এসব জেলার নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৬ ফুট অধিক উচ্চতার জোয়ারে প্লাবিত হয়। ঝড়টি স্থলভাগে উঠে আসার পর বায়ুচাপের তারমত্য পরিলক্ষিত হয় উল্লি­খিত জেলাগুলোতে। ওইসব এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ আজও চলবে।

ডা. এনামুর রহমান বলেন, অতি জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ২৭টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলাগুলো হলো- শ্যামনগর, আশাশুনি, কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, শরণখোলা, মোংলা, মোড়লগঞ্জ, মঠবাড়িয়া, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, পটুয়াখালী সদর, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, দশমিনা, মির্জাগঞ্জ, কলাপাড়া, চরফ্যাশন, মনপুরা, তজুমদ্দিন, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, ভোলা সদর, হাতিয়া, রামগতি ও কমলনগর।

ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. মোহসীন বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে। আরেকটা সভা করে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিবেদন করা হবে। মাঠের কাজ শেষ হলে অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সেটা করব।

news24bd.tv/আলী 

;