মানবসৃষ্ট ভূমিকম্প ও এর কারণ
মানবসৃষ্ট ভূমিকম্প ও এর কারণ

মানবসৃষ্ট ভূমিকম্প ও এর কারণ

Other

ভূমিকম্প সাধারণত হয়ে থাকে প্রাকৃতিক কারণে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট কারণেও ভূমিকম্প হতে পারে। এ ধরনের ভূমিকম্পকে মানবসৃষ্ট বা আরোপিত ভূমিকম্প বলা হয়ে থাকে। বাংলাভাষায় এ নিয়ে সঠিক তথ্যভিত্তিক কোনো লেখা আমার চোখে পড়েনি।

এ ধরনের ভূমিকম্প সাধারণত স্বল্পমাত্রার হয়ে থাকে। একে হালকাভাবে জানালা-কাঁপানো ভূমিকম্প বলা যেতে পারে। তবে এক সময় কল্পনাতীত মনে হলেও বর্তমানে এটি যে বাস্ততা তা বিজ্ঞানীরা বেশ কবছর আগে থেকেই স্বীকার করছেন।

২০১৭ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সিসমোলোজিক্যাল রিসার্স লেটারস জার্নালে প্রকাশিত এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে গত দেড়শ বছরে মানবসৃষ্ট নানা কারণে ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে এমন ৭৩০টি স্থান সনাক্ত করা হয়।  

গবেষকরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখতে পেয়েছেন যে মানবসৃষ্ট কারণে ক্ষেত্র বিশেষে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প পর্যন্ত হতে পারে। বিজ্ঞানীরা এ ধরনের ভূমিকম্পের ফলাফল কেবল বুঝতে শুরু করেছেন।

মানবসৃষ্ট ভূমিকম্পের কারণ:

১. মাইনি বা খনি খনন:

সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী মানবসৃষ্ট ভূমিকম্পের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী মাইনিং। বিপুল পরিমাণ কয়লা বা পটাশের মতো ভূগর্ভস্থ বস্তু উত্তোলনের কারণে খনির ছাদ ধসে ভূমিকম্প ঘটতে পারে। এতে বলা হয়, খনি এলাকায় এরকম ২৭১টি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে।

২. কৃত্রিম জলাধার বা বাধ-ধস:

বিজ্ঞানীদের মতে মানবসৃষ্ট ভূমিকম্পের দ্বিতীয় কারণ হলো কৃত্রিম জলাধারে সংরক্ষিত পানির অতিরিক্ত ওজনজনিত চাপ। এ কারণে ১৬৭টি ভূমিকম্প হয়েছে। সবচেয়ে প্রবল ভুমিকম্পটি হয়েছে ২০০৮ সালে চীনের সিচুয়ান প্রদেশের জিপিংপু কৃত্রিম জলাআধার ধসে। এ প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে ৮০ হাজার মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়। বাধে সংরক্ষিত ৩২০ মিলিয়ন টন ওজনের পানির চাপে সেখানে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।

৩. তেল ও গ্যাস উত্তোলন:

গবেষকরা দেখতে পান, ২৯টি স্থানে ভূমিকম্প হয়েছে ফ্র্যাকিংয়ের কারণে, ৩৬ স্থানে ভূমিকম্প হয়েছে ফ্র্যাকিং-উত্তর বর্জ্য জল অপসারণের কারণে। ১২ স্থানে হয়েছে অনির্ধারিত তেল, গ্যাস ও বর্জ্য জল অপসারণের কারণে।
 
ফ্র্যাকিং হচ্ছে খনির ভেতরে উচ্চ চাপের পানি, বালু ও রাসায়নিকের মিশ্রণ প্রয়োগ যাতে খনিস্থ শৈল থেকে গ্যাসি নিঃসৃত হয়ে কূপমুখের দিকে প্রবাহিত হয়।

ঘন ঘন ফ্র্যাকিংয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় বছরে স্বল্পমাত্রার কয়েকশ ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যেখানে এর আগে ভূমিকম্প হতো না বললেই চলে।

আরও পড়ুন:

 ২০৩৫ সালে আমেরিকা দখল করতে পারবে বলে বিশ্বাস চীনা প্রেসিডেন্টের: বাইডেন

 সাদুল্লাপুরে ১৪৪ ধারা চলছে

 জিয়াউর রহমানের ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

 অঙ্গীকার ভঙ্গ কোন ধরনের গুনাহ

 

৪. পারমাণবিক বিস্ফোরণ:

বিজ্ঞানীরা ২২ স্থানে পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন।

৫. সুবিশাল স্থাপনা নির্মাণ:

সিসমোলোজিক্যাল রিসার্স লেটারস জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২টি স্থানে অতিরিক্ত ওজনের সুবিশাল স্থাপনা নির্মাণের কারণে ভূমকম্প সংঘটিত হয়েছে।

সমীক্ষায় বলা হয়, ২০১৭ পর্যন্ত এক দশকে ১০৮টি স্থানে মানবসৃষ্ট ভূমিকম্প হয়েছে। ভূমিকম্পগুলো তুলনামূলক স্বল্পমাত্রার, সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৮ মাত্রা পর্যন্ত শক্তিশালী।

এসব ভূমিকম্পের বেশিরভাগ ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এবং এগুলোর কারণ ফ্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ভূড়র্ভে প্রবিষ্ট বর্জ্য জল অপসারণ।

সিনিয়র সাবএডিটর- বাসস (ফেসবুক থেকে নেওয়া)

news24bd.tv নাজিম