আসলেই কি চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিস্থিতি এতোটা খারাপ!

শওগাত আলী সাগর

আসলেই কি চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিস্থিতি এতোটা খারাপ!

শওগাত আলী সাগর

সীমান্ত জেলাগুলোয় করোনা পরিস্থিতি কি সত্যি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে! মিডিয়ার খবর থেকে পরিস্থিতি আসলে টের পাওয়া যাচ্ছে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএমএ এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাধারন সম্পাদক ডা. মো. গোলাম রব্বানীর পোস্টটি পড়ে ভেতরটা কেঁপে উঠলো। আসলেই কি চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিস্থিতি এতোটা খারাপ! ডা. রব্বানীর পোস্টটি এখানে তুলে ধরলাম।

একটি করুণ আকুতি ও মানবিক আবেদন:

ডা. মো. গোলাম রব্বানী

বর্তমানে চাপাইনবাবগঞ্জে এক হাহাকার অবস্থা চলছে। আলো-বাতাসে পরিপূর্ণ এই বায়ুমন্ডল। আর এই বায়ুমন্ডলের প্রায় ২১ শতাংশ অক্সিজেন। তারপরও মানুষের দেহে অক্সিজেনের অভাব। এ শুধু অভাব নয়, চলছে অক্সিজেনের তীব্র হাহাকার।

এতদিন আমরা কেউই বুঝতে পারি নাই অক্সিজেন নামের এই বায়বীয় পদার্থ টি আমাদের জীবনে বেঁচে থাকার জন্য কি পরিমাণ অপরিহার্য। আজ প্রত্যেকটা করোনা আক্রান্ত রোগী অক্সিজেনের কি যে প্রয়োজন, অক্সিজেনের অভাবে কি যে কষ্ট হয় তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারছে। আর  চিকিৎসক হিসেবে আমি খুব কাছ থেকে তা অনুধাবন করছি।

মানুষের দেহে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫ অথবা তার থেকে বেশি থাকলে ভালো হয়। কিন্তু যখনই ৯৩ অথবা  তার নিচে নেমে যায় তখনই মানুষের দেহে অক্সিজেনের অভাব জনিত কষ্ট শুরু হয়। আর এই অক্সিজেনের লেভেল যখন আরও নিচে নেমে যায় যেমন ধরুন ৫০% অথবা আরও নিচে তাহলে একবার অনুধাবন করুনতো কি পরিমান কষ্ট হয় এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের। একমাত্র ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ তা অনুধাবন করতে পারে না। 

এইসব করোনা আক্রান্ত অক্সিজেনের অভাব জনিত অসহায় নিরীহ মানুষগুলোর আকুতি এবং কষ্ট দেখতে দেখতে আমি এখন দিশেহারা হয়ে গেছি। নিজের বিবেকের কাছে বারবার দংশিত হচ্ছি। আমি কেন তাদের জন্য কিছু করতে পারছিনা? কেন এই সমাজ তাদের জন্য এগিয়ে আসছে না? আমরা কি শুধুই সরকারি ব্যবস্থাপনার দিকে তাকিয়ে থাকব? 

আমাদের আধুনিক সদর হাসপাতালে সরকারি পর্যায়ে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ অক্সিজেনের ব্যবস্থা আছে তাতে সর্বসাকুল্যে পনের থেকে বিশ জনের মত রোগীর সেবা করা যেতে পারে। কিন্তু তার থেকে বেশি হলে সেটা সম্ভব না। কিন্তু বর্তমানে চাপাইনবাবগঞ্জে করোনা আক্রান্ত ভর্তিযোগ্য রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। 

অনেক রোগী খুব ক্রিটিকাল অবস্থায় থাকার পরেও একমাত্র অক্সিজেনের অভাবের কারণে হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না। এই অবস্থা যদি চলতে থাকে তাহলে এই মুমূর্ষু রোগী গুলোর আকাল মৃত্যু চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। বাস্তবে হচ্ছেও তাই।

প্রতিদিন অনেক করোনা আক্রান্ত রোগী অক্সিজেনের তীব্র অভাবজনিত অবস্থায় আমার কাছে আসছে। আর আমি খুবই অসহায় বোধ করছি কারণ এই মানুষগুলোর জন্য কিছুই করতে পারছিনা। আজকেই একটা রোগী যার অক্সিজেনের মাত্রা ছিল ৬৬ শতাংশ, এই রোগী টাকে ভর্তি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করলাম, কিন্তু কোন সিট ফাঁকা নাই। কি জানি হয়তো এতক্ষণে রোগীটা মারায় গেছেন।

তাই সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সমস্ত বিত্তশালী অর্থশালী এবং শিল্পপতিদের প্রতি আকুল আবেদন, আপনারা এই দুর্যোগের সময় এই  অসহায় মানুষগুলোর সাহায্যার্থে এগিয়ে আসুন। আপনারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় অনেক অর্থ খরচ করেন। মানুষকে সাহায্য‌ও করেন।আপনাদের যে বিপুল অর্থের সম্ভার রয়েছে সেখান থেকে সামান্য একটু অংশ যদি এই নিরুপায় মানুষগুলোর জন্য ব্যয় করেন তাহলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনেক মৃত্যুপথযাত্রী রোগী মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যেতে পারে। 

আরও পড়ুন:

 ২০৩৫ সালে আমেরিকা দখল করতে পারবে বলে বিশ্বাস চীনা প্রেসিডেন্টের: বাইডেন

 সাদুল্লাপুরে ১৪৪ ধারা চলছে

 জিয়াউর রহমানের ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

 অঙ্গীকার ভঙ্গ কোন ধরনের গুনাহ

 

এই মুহূর্তে একটা, শুধু মাত্র একটা জিনিসের খুব প্রয়োজন, তাহলো অক্সিজেন অক্সিজেন এবং অক্সিজেন। অনেক শিল্পপতি এবং বিত্তশালী মানুষ আছেন আমাদের এই চাপাই নবাবগঞ্জে।  আপনারা যদি এই মুহূর্তে ৫০ থেকে ৬০ টা 6.8 M3 সাইজ অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন এবং তার সঙ্গে আনুষঙ্গিক কিছু, তাহলে আমাদেরকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না। আর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অপমানজনক উক্তিও শুনতে হবে না। 

আসুন এবার এদিক সেদিক না তাকিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য নিজেদের দক্ষিণ হস্ত প্রসারিত করি। আমার বিশ্বাস, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিত্তবানরা এগিয়ে আসবেন। আর সবার সহযোগিতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ একদিন করোনামুক্ত হবেই হবে ইনশাআল্লাহ।

ধন্যবাদ।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

কারো মাথায় আসলো না এই ভয়ানক বার্তা দেবার আগে?

বন্যা মির্জা

কারো মাথায় আসলো না এই ভয়ানক বার্তা দেবার আগে?

মিডিয়া আমাদের অনেকেরই জীবনধারনের জায়গা ঠিকই, আর রুটিরুজির জায়গা নিয়ে আলাদা করে কঠোর কিছু বলতে বাধেও। কিন্তু মিডিয়া একই সঙ্গে নানাবিধ ধ্যানধারণা প্রকাশের একটা জায়গাও বটে। বিপজ্জনক, আক্রমণাত্মক, বিদ্বেষমূলক ধারণা সম্প্রচার করে তারপর ক্ষমা চাইলেই যথেষ্ট দায়মোচন ঘটে না। 

অটিজম বলুন আর প্রতিবন্ধিত্ব -- এসব নিয়ে এরকম ভয়ানক ধারণা সম্প্রচার করেছেন মানেই হলো আপনার/আপনাদের মাথায় এইসব উদ্ভট চিন্তা কাজ করে। একটা সিরিয়ালে কত্তগুলো লোক কাজ করেন - লেখক আছেন, পরিচালক আছেন, অভিনেতাবৃন্দ আছেন, প্রযোজক দল আছেন, সম্পাদকেরা আছেন, কৃৎ-কুশলী আছেন। কারো মাথায় আসলো না এই ভয়ানক বার্তা দেবার আগে?

আরও পড়ুন:

চীনে গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৪

এনএসও'র দাবি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহারে বিশ্বের লাখো মানুষ ঘুমাতে পারছে

পিএসজির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ল পচেত্তিনোর


এই দুর্ঘটনা আমাদের আরেকটা বিষয়েও সতর্ক করল কিন্তু! এইসব এওয়ারনেস মার্কা এনজিও কার্যক্রম আসলে প্রগ্রাম এরিয়া বাড়ানো ছাড়া কোনোরকম কিছু অশ্বডিম্ব তৈরি করতে পারেনি সমাজে। চিন্তাভাবনার বদল কেবল ঢোলপিটানিতে হয় না। ওটা সমাজে দর্শনচর্চার প্রসঙ্গ।

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

জয়ের কর্মে আজকের বাংলাদেশ সর্বত্র জয়ময়

আশরাফুল আলম খোকন

জয়ের কর্মে আজকের বাংলাদেশ সর্বত্র জয়ময়

সারা বিশ্বকে চমকে দিয়ে গত এক যুগে নীরব ডিজিটাল বিপ্লব ঘটে গেছে বাংলাদেশে। আজ তথ্য ও প্রযুক্তিগত সুবিধা মানুষের হাতের মুঠোয়। দ্রুত ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারে এগিয়ে থাকা দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম।

এটা সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী রূপকল্প বাস্তবায়নে আইসিটি উপদেষ্টা জয়ের কারণেই।
জয়ের কর্মে আজকের বাংলাদেশ যেন সর্বত্র জয়ময়। মহাকাশে জয়, তথ্য ও প্রযুক্তিতে জয়।

শুভ জন্মদিন 
ডিজিটাল বাংলাদেশের নেপথ্য নায়ক, সমৃদ্ধ আগামীর প্রতিচ্ছবি, কোটি তরুণের স্বপ্নসারথি 
সজীব ওয়াজেদ জয়।

news24bd.tv/এমিজান্নাত

পরবর্তী খবর

এক টুকরো দেয়াল

মুম রহমান

এক টুকরো দেয়াল

দেয়াল সম্পর্কে তোমরা কি জানো? একটা দেয়াল কিংবা দেয়ালের একটা অংশ ঠাই দাঁড়িয়ে থাকে, কতোদিন, কতো বছর? ওর কি বেড়াতে যেতে ইচ্ছে করে? দেয়াল কি আদর চায়? চুমু চায়? দেয়াল কি সাজতে ভালোবাসে? 

একটা দেয়াল বুক পেতে রাখে ঘরের দিকে, আমাদের দিকে। একটা দেয়াল পিঠ দিয়ে রাখে বাইরের দিকে, পৃথিবীর দিকে। দেয়ালের পিঠে এসে রোদ লাগে, বৃষ্টি লাগে। 

আমাদের জন্য রোদ-বৃষ্টি ঠেকিয়ে রাখে দেয়াল। দেয়াল বুক পেতে পেরেক নেয়। আমরা সেখানে ছবি, মুখোশ, চাবির রিং আরো কতো কি ঝুলিয়ে দেই। দেয়াল ঘরের ভেতরের আমাদের দেখে। আমরা যখন চুলোচুলি করি তখন দেখে, যখন চুমোচুমি করি তখনও দেখে। 

ছবি : আজ সকালে আমাদের বেডরুমের দেয়াল

আদতে দেয়াল সম্পর্কে কতোটুকু জানো তুমি? ঘরের দেয়াল পরকীয়া প্রেমের মতো। সে পরের, তবু আমার, সে বাইরের,  তবু ভেতরে। ডাকলে সে আসে না। না ডাকলে দাঁড়িয়ে থাকে ডাকের অপেক্ষায়।

দেয়াল সম্পর্কে কতোটুকু জানো তুমি? আমি যতোটুকু জানি ততোটুকু তো প্রকাশ্যে বলাও নিষেধ।

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আহা! হাঁজীর সাথে ঝুরি গোশত

নজরুল ইসলাম

আহা! হাঁজীর সাথে ঝুরি গোশত

তখন তো আর ফ্রিজ ছিল না যে গোশত তাতে সংরক্ষণ করে রাখবে। মাকে দেখতাম জ্বাল দিয়ে দিয়ে গোশত টিকিয়ে রাখতেন। কোরবানির দুই তিনের মধ্যেই ঝোল শুকিয়ে গোশত ঝুরঝুরে হয়ে যেত। এখন যা ঝুরি মাংস হিসেবে পরিচিত। 

এ গোশতের স্বাদ-গন্ধ যে কত অভাবনীয় তা বরফ যুগের মানুষকে বুঝানো গেলেও ফিজের যুগের মানুষদের বুঝানো যাবে না। নলার ঝোল (নেহারী/;পায়ার রেসিপি) এর সাথে এ গোশতের জুটি মিলিয়ে দিলে তো কথাই নাই। সমস্যা হয় নলার ঝোল শেষ হয়ে গেলে। 

তবে চট্টগ্রামের লোকদের এ নিয়ে তেমন চিন্তা করতে হয় না। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে এক অদ্ভুত রেসিপিতে চাটগাঁর মাানুষ বাঁধা পড়ে আছে আর তা হলো "হাঁজী"।  

হলফ করে বলতে পারি শুধু  বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর কোথাও কেউ এ রেসিপি সম্বন্ধে জানে না। বিভিন্নভাবে এ হাঁজী তৈরি করা যায়। বরইয়ের আচার বা অন্য কোন আচার দিয়ে সরিষার তেলযোগে সিম্পলি লবণ দিয়ে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে দিন অথবা রসুন ও কাঁচামরিচ তাওয়ায় পুড়ে দুটোই একসাথে মেশ করে অল্প সরিষার তেল দিন  এরপর লবণ দিয়ে পানিতে গুলিয়ে ফেলুন দেখবেন কি সুন্দর হাঁজী হয়ে গিয়েছে। 

সরিষার তেল একটু হালকা ভাসতে থাকবে, দেখতেই ভাল লাগবে। হাতের কাছে কিছু না পেলে লেবুর রস চেপে তাতে লবণ ও সরিষার তেল দিয়ে পানিতে মিশিয়ে নিন তাতেও আপনার কাজ হয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে সবাই যেমন তেল খায় হাঁজীও তেল ছাড়া আপনাকে ভাল ফ্লেভার দিবে না। 

আরও পড়ুন


বিভিন্ন জেলায় করোনা ও উপসর্গে মৃত্যুর তথ্য

গার্মেন্টস খোলার ব্যাপারে যা জানালেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

বাল্যবিয়ে মুক্ত উপজেলায় বাল্যবিয়ের চেষ্টা, জরিমানা-মুচলেকায় রক্ষা

ময়মনসিংহ মেডিকেলে করোনায় ‍মৃত্যুর রেকর্ড


এরপর ঝুরি গোশতের বা ঝুরঝুরে গোশতের বাটিটা টেনে নিন। গরম ভাতের সাথে এ অপূর্ব রেসিপি আপনাকে স্বর্গীয় ফিলিংস না দিলেও বাংলাদেশের যে কোন জায়গার রেসিপির চেয়ে ব্যাতিক্রমধর্মী স্বাদে ডুবিয়ে দিবে।

"সো, এরর" বলছি! তবে ঝুরি মাংসটা আবার একটু হালকা তেলে ভেজে বেরেস্তা দিয়ে দিলে "সেরাম" হতে দেখেছি। আহা! আহারে কোথায় গেলো সে হাঁজী আর ঝুরি গোশতের অপূর্ব স্বাদের দিনগুলি!

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

বোল্ড তো তাদের কাজ যারা সত্যিকার সাহসী

অনলাইন ডেস্ক

বোল্ড তো তাদের কাজ যারা সত্যিকার সাহসী

যে কোনো অনিয়ম-অসঙ্গতি চোখে পড়লেই তার সমালোচনা করে থাকেন ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। নারী স্বাধীনতার পক্ষে সব সময় তিনি সোচ্চার।

সম্প্রতি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি ‘বোল্ড’ শব্দটি নিয়ে বলেছেন।

তিনি বলেছেন, বোল্ড তো আসলে তাদের কাজ যারা সত্যিকার সাহসী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা এমন কাজ করে, যে কাজ করলে মুণ্ডুটা কাটা পড়বে, অথবা জীবন যাপনে বিস্তর সমস্যা হবে। আমি কাদের কাজকে বোল্ড বলি, তার দু'একটা উদাহরণ দিচ্ছি । যারা ভিন্ন ধর্মের, ভিন্ন বর্ণের, ভিন্ন জাতের কাউকে ভালোবেসে বিয়ে করে এবং সমাজের বাধা সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে; যে সমকামীরা, রূপান্তরকামীরা ঘোষণা দিয়ে ক্লোজেট থেকে বেরিয়ে আসে; যে মেয়েরা স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে একা থাকে...।

তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

তিনি লিখেছেন, ‘বোল্ড শব্দটা এ দেশে দেখলাম উলঙ্গ বা অর্ধ উলঙ্গ মেয়ে বা অনেকটা স্তন দেখা যাওয়া মেয়েদের বেলায় ব্যবহার করা হয়। অবশ্য সেই মেয়েদের সিনেমা থিয়েটার মিউজিক ইত্যাদির অর্থাৎ শো বিজের মেয়ে হতে হবে, অথবা ফ্যাশন সচেতন উচ্চবিত্ত বা উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির মেয়ে হতে হবে। হ্যাঁ মেয়ে হতে হবে, ছেলে হলে হবে না। শার্ট খুলে সিক্স প্যাক দেখালেও হবে না।’

‘অবশ্য সব মেয়ের শরীর দেখা গেলেই বোল্ড বলা হয় না। রাস্তার দরিদ্র ভিখিরি মেয়েদের হাড্ডিসার শরীর উন্মুক্ত হয়ে থাকলে কেউ তাকে বোল্ড বলবে না।’

বোল্ড শব্দটার মিসইউজ দেখলে খারাপ লাগে। স্তন দেখাতে সাহস লাগে নাকি? যত তার স্তন দেখা যাবে, তত তার শো বিজের বাজার রমরমা হবে। এতে সাহসের চেয়ে বেশি আছে বাণিজ্য- কৌশল।

বোল্ড তো আসলে তাদের কাজ যারা সত্যিকার সাহসী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা এমন কাজ করে, যে কাজ করলে মুণ্ডুটা কাটা পড়বে, অথবা জীবন যাপনে বিস্তর সমস্যা হবে। আমি কাদের কাজকে বোল্ড বলি, তার দু'একটা উদাহরণ দিচ্ছি । যারা ভিন্ন ধর্মের, ভিন্ন বর্ণের, ভিন্ন জাতের কাউকে ভালোবেসে বিয়ে করে এবং সমাজের বাধা সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে; যে সমকামীরা, রূপান্তরকামীরা ঘোষণা দিয়ে ক্লোজেট থেকে বেরিয়ে আসে; যে মেয়েরা স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে একা থাকে; যারা ধর্মান্ধ কট্টরপন্থী আর উগ্রবাদী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠির বিরুদ্ধে একা যুদ্ধ করে; স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়; ........।

দুঃখ এই, তাঁদের কাজকে আমাদের আঁতেল এবং মিডিয়া গোষ্ঠী বোল্ড বলার বদলে বলে ‌‘বিতর্কিত’।

আরও পড়ুন:


বিভিন্ন জেলায় করোনা ও উপসর্গে মৃত্যুর তথ্য

গার্মেন্টস খোলার ব্যাপারে যা জানালেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

বাল্যবিয়ে মুক্ত উপজেলায় বাল্যবিয়ের চেষ্টা, জরিমানা-মুচলেকায় রক্ষা

ময়মনসিংহ মেডিকেলে করোনায় ‍মৃত্যুর রেকর্ড


 news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর