ইসলামের দৃষ্টিতে ভূমিকম্প

অনলাইন ডেস্ক

ইসলামের দৃষ্টিতে ভূমিকম্প

ভূ-অভ্যন্তরে শিলায় পীড়নের জন্য যে শক্তির সঞ্চয় ঘটে, সেই শক্তির হঠাৎ মুক্তি ঘটলে ভূপৃষ্ঠ ক্ষণিকের জন্য কেঁপে ওঠে এবং ভূত্বকের কিছু অংশ আন্দোলিত হয়। এমন আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনকে ভূমিকম্প ((Earthquake) বলে। সাধারণত তিনটি কারণে ভূমিকম্পের উত্পত্তি হয়ে থাকে-ভূপৃষ্ঠজনিত, আগ্নেয়গিরিজনিত ও শিলাচ্যুতিজনিত কারণে ভূমিকম্প হয়।

পবিত্র কোরআনে ‘ভূমিকম্প’ (Earthquake) নামের একটি সুরা আছে। এর নাম হলো ‘জিলজাল’। ‘জিলজাল’-কে ইংরেজিতে convulsion বলা হয়। এর ভয়াবহতা বোঝাতে when the Earth is shaken to (utmost) convulsion বলা হয়।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি ভয় দেখানোর জন্যই (তাদের কাছে আজাবের) নিদর্শনগুলো পাঠাই। ’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত নং : ৫৯)। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, “বলে দাও, ‘আল্লাহ তোমাদের ওপর থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম। ’ (সুরা আনআম, আয়াত নং : ৬৫)

বুখারি শরিফে আছে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যখন তোমাদের পায়ের নিচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম’ আয়াতটি নাজিল হলো, তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ’ ”(বুখারি)
শায়খ ইস্পাহানি (রহ.) এই আয়াতের তাফসির করে বলেন, ‘এর ব্যাখ্যা হলো, ভূমিকম্প ও ভূমিধসের মাধ্যমে পৃথিবীর অভ্যন্তরে ঢুকে যাওয়া (পৃথিবীতে ভূমিকম্প হওয়া)। ’

ভূমিকম্প হওয়ার কারণ:

প্রাকৃতিক নানা বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ মানুষের অপকর্ম। এগুলোর পথ ধরেই মানুষ কিয়ামতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সতর্ক করে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘যখন অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জিত হবে। কাউকে বিশ্বাস করে সম্পদ গচ্ছিত রাখা হবে, কিন্তু তা আত্মসাত করা হবে (অর্থাৎ যার সম্পদ সে আর ফেরত পাবে না)। জাকাতকে দেখা হবে জরিমানা হিসেবে। ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া বিদ্যা অর্জন করা হবে, একজন পুরুষ তার স্ত্রীর বাধ্যগত হয়ে মায়ের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করবে। বন্ধুকে কাছে টেনে নেবে আর পিতাকে দূরে সরিয়ে দেবে। মসজিদে উচ্চস্বরে শোরগোল (কথাবার্ত) হবে। যখন সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তিটি সমাজের শাসক রূপে আবির্ভূত হবে। সে সময় তোমরা অপেক্ষা করো— রক্তিম বর্ণের ঝড়ের (এসিড বৃষ্টি), ভূকম্পনের, ভূমিধসের, রূপ বিকৃতির (লিঙ্গ পরিবর্তন), পাথর বৃষ্টির এবং সুতো ছেঁড়া (তাসবিহ) দানার ন্যায় একটির পর একটি নিদর্শনগুলোর জন্য। ’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ১৪৪৭)

আরও পড়ুন:

কাকলি ফার্ণিচার ব্যবসা করুক আপত্তি নেই, আমি চিন্তিত অন্য জায়গায় 

২০৩৫ সালে আমেরিকা দখল করতে পারবে বলে বিশ্বাস চীনা প্রেসিডেন্টের: বাইডেন

 সাদুল্লাপুরে ১৪৪ ধারা চলছে

 অঙ্গীকার ভঙ্গ কোন ধরনের গুনাহ

 

আল্লামা ইবনু কাইয়িম (রহ.) বলেন, মহান আল্লাহ মাঝে মাঝে পৃথিবীকে জীবন্ত হয়ে ওঠার অনুমতি দেন। ফলে বড় ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তখন এই ভূমিকম্প মানুষকে ভীত করে। তারা মহান আল্লাহর নিকট তাওবা করে, পাপ কর্ম ছেড়ে দেয়, আল্লাহর প্রতি ধাবিত হয় এবং তাদের কৃত পাপ কর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে মোনাজাত করে। আগেকার যুগে যখন ভূমিকম্প হতো, তখন সঠিক পথে পরিচালিত সৎকর্মশীল লোকেরা বলতো, ‘মহান আল্লাহ আমাদেরকে সতর্ক করেছেন। ’

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ইস্তেগফারের গুরুত্ব ও উপকারিতা

অনলাইন ডেস্ক

ইস্তেগফারের গুরুত্ব ও উপকারিতা

ইস্তেগফার মানুষের গোনাহখাতার কার্যকর প্রতিষেধক, ইস্তেগফারকারীর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকেন। কারণ সে নিজের গোনাহ ও অপরাধ স্বীকার করে সততার পরিচয় দিয়েছে।

ইস্তেগফারের গুরুত্ব 

রাসূল (সা.) ইস্তেগফারের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে বলেন (অথচ তিনি মা’সুম-নিষ্পাপ), হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার ও তাওবা করো। কারণ আমি নিজেও দৈনিক শতবার তাওবা-ইস্তেগফার করি। 

অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) বলেন, যার আমলনামায় ইস্তেগফার অধিক সংখ্যায় পাওয়া যাবে তার জন্য রইল সুসংবাদ।

হযরত লোকমান হাকীম তাঁর সন্তানকে উপদেশ দান করে বলেন, হে আমার পুত্র! ‘আল্লাহুম্মাগ ফিরলী’ বলাকে অভ্যাসে পরিণত করে নাও। কারণ এমন কিছু সময় আছে যখন আল্লাহ তা’আলা যেকোনো দু’আকারীর দু’আ কবুল করেন।

হযরত আবু মূসা (রা.) বলেন, আমাদের সুরক্ষাদানকারী দুটি জিনিস ছিল, তন্মধ্যে হতে একটি চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছে। সেটা হলো আমাদের মাঝে রাসূল (সা.)-এর উপস্থিতি। আর দ্বিতীয় জিনিস ইস্তেগফার যা এখনো আমাদের মাঝে রয়ে গেছে। যেদিন এটিও চলে যাবে (করার মতো কেউ থাকবে না) তখন আমাদের ধ্বংস অনিবার্য। 

হযরত হাসান (রহ.) বলেন, তোমরা ঘরে-দুয়ারে, দস্তরখানে, রাস্তা-ঘাটে, হাটে-বাজারে, সভা-সমাবেশে বেশি বেশি ইস্তেগফার করো। কারণ ইস্তেগফার কবুল হওয়ার সময় তোমাদের জানা নেই।

ইস্তেগফারের উপকারিতা :

ইস্তেগফারের উপকারিতা অনেক। কোরআন-হাদীসের আলোকে কিছু উপকারের কথা নিচে তুলে ধরা হলো।

এক. গোনাহখাতা মাফ হয়। 
কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে : তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। (সূরা নূহ-১০)

দুই. অনাবৃষ্টি দূর হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তিনি (আল্লাহ) আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। (নূহ-১১)

তিন. সন্তান ও সম্পদ লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে :  তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে উন্নতি দান করবেন। (নূহ-১২)

চার. সবুজ-শ্যামল পরিবেশ লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান। (নূহ-১২)

পাঁচ. নদ-নদীর ব্যবস্থা হবে। 
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের জন্য নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দেবেন। (নূহ-১২)

ছয়. উপভোগ্য জীবন লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমরা তোমাদের রবের কাছে গোনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করো। অতঃপর তাঁর অভিমুখী হও (ভবিষ্যতে গোনাহা না করার এবং আল্লাহর হুকুম-আহকাম পালন করার দৃঢ় সংকল্প করো)। তিনি তোমাদের নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত উত্তম জীবন উপভোগ করতে দেবেন। (সূরা হুদ-৩)

আরও পড়ুন:


নদীতে ভাসছিলো অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ

ঝিনাইদহে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু

বাগেরহাটে পিকআপের ধাক্কায় ৬ ইজিবাইক যাত্রী নিহত

কে এই অভিষিক্ত শামীম পাটোয়ারী


সাত. শক্তি-সামর্থ্য বাড়বে।

ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের শক্তির সাথে বাড়তি আরো শক্তি জোগাবেন। (হুদ-৫২)

আট. আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপত্তা দান করবে। 
ইরশাদ হচ্ছে : তারা ইস্তেগফারে রত থাকাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা তাদের শাস্তি দেবেন না। (আনফাল-৩৩)

নয়. সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন : যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তা’আলা তার সর্বপ্রকার সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুলে দেবেন।

দশ. উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুঃখ-চিন্তা দূর হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন : সর্বপ্রকার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুঃখ-চিন্তা লাঘব করে স্বস্তি ও আনন্দ দান করবেন।

এগারো. অকল্পনীয় রিযিকের ব্যবস্থা হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন :তাকে কল্পনাতীত রিযিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। (আবু দাউদ)

বেশি বেশি উস্তেগফার করে সকলকেই এর উপকারিতা লাভের চেষ্টা করতে হবে। 

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

মৃত ব্যক্তির নামে কি কোরবানী দেওয়া যাবে?

অনলাইন ডেস্ক

মৃত ব্যক্তির নামে কি কোরবানী দেওয়া যাবে?

ইসলামে যত বিধান আছে, তার অন্যতম হলো কোরবানী। কোরবানী করা অত্যন্ত তাৎপর্যমণ্ডিত ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। এতে আছে আত্মত্যাগের মহিমা ও আর্তের সেবার গৌরব। 

আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল থেকে শুরু হওয়া এই কোরবানীর ইতিহাস মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.)–এর মহান আত্মবিসর্জনে উজ্জ্বল, যা কিয়ামত পর্যন্ত অম্লান থাকবে। 

উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে কোরবানী গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। এখন প্রশ্ন হলো মৃত ব্যক্তির নামে কি কোরবানী দেওয়া যাবে? 

আরও পড়ুন:


হজে প্রথমবারের মতো নিরাপত্তার দায়িত্বে সৌদি নারী সেনা

ফরজ গোসল অবহেলার শাস্তি

আমেরিকাকে প্রতিহত করতেই রাশিয়া হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ করছে: পেসকভ

৫০ হাজার টাকা বেতনে লোক নেবে আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরি


উত্তরটি জানতে এখানে ক্লিক করুন:

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আজকের নামাজের সময়সূচি

অনলাইন ডেস্ক

আজকের নামাজের সময়সূচি

আজ বৃহস্পতিবার, ঢাকা ও তার পাশ্ববর্তী এলাকার জন্য নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো-

> জোহর- ১২:০৮ মিনিট।
> আসর- ৪:৪৩ মিনিট।
> মাগরিব- ৬:৫০ মিনিট।
> ইশা- ৮:১৪ মিনিট।
> ফজর (২৩ জুলাই)- ৩:৫৯ মিনিট।

> আজ সূর্যাস্ত- ৬:৪৭ মিনিট।
> আগামীকালের (২৩ জুলাই) সূর্যোদয়- ৫:২৩ মিনিট।

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, তাহলো-

বিয়োগ করতে হবে
> চট্টগ্রাম : -০৫ মিনিট
> সিলেট : -০৬ মিনিট

যোগ করতে হবে-
> খুলনা : +০৩ মিনিট
> রাজশাহী : +০৭ মিনিট
> রংপুর : +০৮ মিনিট
> বরিশাল : +০১ মিনিট

তথ্যসূত্র : ইসলামিক ফাউন্ডেশন

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ফরজ গোসল অবহেলার শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক

ফরজ গোসল অবহেলার শাস্তি

ফরজ গোসল ওই গোসলকে বলা হয়, যা করা অপরিহার্য। বালেগ বয়সে নাপাক হলে অর্থাৎ কারো স্বপ্নদোষ হলে বা স্বামী-স্ত্রীর মিলনে গোসল ফরজ হয়। আর তা থেকে পবিত্রতা অর্জনের তাগীদ দিয়ে আল্লাহ বলেন: যদি তোমরা নাপাক হয়ে থাক, তবে গোসল কর। [সূরা মায়েদাহ: ৬]।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা আমি আমার এক প্রতিবেশীর জানাযাতে যোগদান করি। তার লাশ কবরে নামানোর সময় বিড়ালের ন্যায় একটি অদ্ভুত জানোয়ার কবরের ভিতরে বাইরে লম্বঝম্প করে লাশ কবরে নামাতে বাধার সৃষ্টি করতে লাগল।

সেটিকে তাড়াবার জন্য সকলে মিলে চেষ্টা করলাম। কিন্তু কোন প্রকারই দূর করা গেল না। ব্যর্থ হয়ে অন্যত্র গিয়ে কবর খনন করা হল। সেখানে গিয়ে জন্তুটি ভয়ানক উৎপাত করতে লাগল। সেটিকে মারতে গিয়েও সর্ব প্রকার চেষ্টা ব্যর্থ হল।

অগত্য বাধ্য, হয়ে অন্যত্র গিয়ে তৃতীয় কবর খনন করা হল। সেখানে গিয়েও জন্তুটি আরও বেশী উপদ্রব শুরু করল। অনন্যোপায় হয়ে আমরা তাড়াতাড়ি তৃতীয় কবরেই তাকে দাফন করে সভয়ে দ্রুতপদে সেখানে হতে প্রস্থান করলাম। দফনান্তে কবর হতে বজ্রবৎ ভীষণ এক আওয়াজ বের হয়েছিল। আমি জানার জন্য তার স্ত্রীর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, তার স্ত্রী উত্তর দিল, সহবাসের পর তিনি ফরয গোসল অবহেলা করতেন।

এতে তার ফজরের নামাজ কাযা হয়ে যেত। এছাড়া তার অন্য কোন পাপ আমি কখনো দেখি নাই।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ইসলামে প্রতিবেশীর মর্যাদা ও অধিকার

অনলাইন ডেস্ক


ইসলামে প্রতিবেশীর মর্যাদা ও অধিকার

সাধারণভাবে বাড়ির আশপাশে যারা বসবাস করে, তাদের প্রতিবেশী বলা হয়। তবে কখনও কখনও সফর অথবা কাজের সঙ্গীকেও প্রতিবেশী বলা হয়। প্রতিবেশীই হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে নিকটজন, যিনি তার খবরাখবর সম্পর্কে অন্যদের তুলনায় বেশি জানেন। তাই ইসলাম ধর্মে প্রতিবেশীর অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তার অধিকারকে খুব বড় করে দেখা হয়েছে।

প্রতিবেশীর ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, ইসলাম ধর্মে মুসলমানদের তাদের প্রতিবেশীর সঙ্গে যথাসাধ্য বিনয় আচরণ প্রদর্শন করতে এবং তাদের অসুবিধা হতে পারে এমন কোনো কাজ সৃষ্টি না করার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেশী কারা? কতদূর এর সীমা? এ প্রশ্নের জবাবে হজরত হাসান (রা.) বলেছেন, 'নিজের ঘর থেকে সামনে ৪০ ঘর, পেছনে ৪০ ঘর, ডানে ৪০ ঘর এবং বাঁয়ে ৪০ ঘরের অধিবাসী হচ্ছে প্রতিবেশী।'

আয়েশা (রা.) বলেন- রাসুল (সা.) বলেছেন, 'জিব্রাইল আমাকে সবসময় প্রতিবেশী সম্পর্কে অসিয়ত করে থাকেন। এমনকি আমার মনে হলো, তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারেস বানিয়ে দেবেন' (বুখারি ৬০১৪)। 

পবিত্র কোরআনে মুসলমানদের প্রতিবেশীর দৈনন্দিন সব প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, সে ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেট ভরে খায় আর পাশেই তার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে (আদাবুল মুফরাদ)। 

আবু শুরাইহ থেকে আরেকটি হাদিসে প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে- রাসুল (সা.) বলেন, 'আলল্গাহর নামে শপথ করে বলছি, সে ইমানদার নয়। আলল্গাহর নামে শপথ করে বলছি, সে ইমানদার নয়। আলল্গাহর নামে শপথ করে বলছি, সে ইমানদার নয়।' তখন হজরত মুহাম্মদকে (সা.) প্রশ্ন করা হলো, হে আলল্গাহর হাবিব, কে সে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদবোধ করে না, সে ব্যক্তি ইমানদার নয় (বুখারি :৫৫৫৭)।

আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, তোমরা আল্লাহর উপাসনা করো আর কোনো কিছুকে তাঁর অংশী করো না এবং পিতামাতা, আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, আত্মীয় ও অনাত্মীয় প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথি, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীর প্রতি সদ্ব্যবহার করো (নিসা :৩৬)। 

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমার দু'জন প্রতিবেশী আছে। আমি তাদের মধ্যে কার কাছে হাদিয়া পাঠাব?' তিনি বললেন, 'যার দরজা তোমার বেশি নিকটবর্তী, তার কাছে পাঠাও (বুখারি :৬০২০)। আবার রাসুলের (সা.) গর্বিত প্রতিবেশীরাও রাসুলের প্রতি অনেক উদার ছিলেন। 

আয়েশা (রা.) বলেন : দুই মাস আমাদের চুলায় আগুন জ্বলেনি; কয়েকটি আনসার পরিবার রাসুলের (সা.) প্রতিবেশী ছিলেন; তাদের কিছু দুধালো উটনি ও বকরি ছিল। তারা রাসুলের (সা.) জন্য দুধ হাদিয়া পাঠাত। তিনি আমাদের তা পান করতে দিতেন (বুখারি :২৫৬৭)।

তোমার ঘরের দেয়াল উঁচু করে তার বাতাস বন্ধ করবে না। ফল ক্রয় করলে তাকে পাঠিয়ে দাও, না পারলে গোপন রাখো এবং নিজ সন্তানদের ফল হাতে বের হতে দিয়ো না, যেন প্রতিবেশীর সন্তান দুঃখ না পায়। নিজের রান্নাঘরের ধোঁয়া দ্বারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দিয়ো না। কিন্তু তাকে যদি খাদ্য দাও, তাহলে অসুবিধা নেই' (তাবারানি)।

আরও পড়ুন:


বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস

পশু কোরবানীর আগে ও পরে কিছু সতর্কতা

ঈদুল আজহার নামাজের নিয়ত ও পড়ার নিয়ম


এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, কোনো প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে দেয়ালে কাঠ গাড়তে নিষেধ না করে। আবু হুরাইরাহ (রা.) বললেন, কী ব্যাপার, আমি তোমাদের রাসুলের (সা.) সুন্নাহ থেকে মুখ ফেরাতে দেখছি! আলল্গাহর কসম, নিশ্চয় আমি এ সুন্নাহকে তোমাদের ঘাড়ে নিক্ষেপ করব (অর্থাৎ এ কথা বলতে থাকব) (বুখারি :২৪৬৩)।

ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার বা কর্তব্যের বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হলো:প্রতিবেশীকে সালাম দেওয়া, তার সালামের উত্তর দেওয়া, কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া এবং তার সেবা-শুশ্রূষা করা, বিভিন্ন উপলক্ষে তাকে দাওয়াত দেওয়া এবং তার দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর