সন্দেহ
সন্দেহ

সন্দেহ

Other

ছোটবেলায় শুনেছি ক্যাট ফাইট বা "বিলাইয়ের ঝগড়ায়" একটু পানি ছিটিয়ে দিতে পারলে কম্ম সারা। এ যুদ্ধ থামবেই না বরং কঠিন রুপ পরিগ্রহ করবে। কারণ সন্দেহ। এক বিড়াল মনে করে অপর বিড়াল তার গায়ে "হিসু" করে দিয়েছে।

অপরটিও তাই।

সন্দেহ বিষয়টি আসলেই মারাত্মক। সভ্যতার আধুনিকায়ন হয়েছে। যাপিত জীবনে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। তার সাথে পাল্লা দিয়ে  নিঃশব্দে বাড়ছে হতাশা। হতাশা জন্ম দিচ্ছে বিশ্বাসহীনতা। যেকোনো ঘটনার মুখোমুখি হলে মগজে মোচড় দিয়ে ওঠে অবিশ্বাস, সন্দেহ। কেউ ভালো আছে বললে সন্দেহ জেগে উঠছে, ভালো নেই বললেও সন্দেহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। চুপ করে থাকলে সন্দেহ, মন খুলে বললেও সন্দেহ। আক্রান্ত হলে সন্দেহ, নিহত বা আহত হলে সন্দেহ।  

অপহৃত হলে সন্দেহ, উদ্ধার হলেও সন্দেহ। দুর্ঘটনা, ধর্ষণ, মৃত্যু, হত্যা, গুম—সন্দেহ সবখানে। সন্দেহ আগুন লাগলে, সেই আগুন নিভলেও সন্দেহ। হাসিতে সন্দেহ, ফাঁসিতে সন্দেহ। সন্দেহ উচ্চ ও কম মূল্যে, সন্দেহ জাগে বিনা মূল্যেও। সন্দেহ গুণে, ধ্যানে, জ্ঞানে। পুরস্কারে সন্দেহ, সন্দেহ নিন্দায়। সততা, নিষ্ঠা, কর্তব্য পালন—সবই সন্দেহের কবলে।

প্রামাণ্য জ্ঞানের ক্ষেত্রে সন্দেহকে পদ্ধতিগত মূল্য দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন-ভারতীয় শাস্ত্রে জ্ঞানের চারটি সোপান বা পৈঠার কথা বলা আছে। যথা : শাস্ত্র, সন্দেহ, বিচার ও মীমাংসা। যখন কোনো বস্তু বা বিষয়-সম্পর্কিত প্রকল্প জিজ্ঞাসাপূর্ণ বা রহস্যযুক্ত প্রতীয়মান হয়, তখন তা সন্দেহ বা সংশয়ের উদ্রেক করে। এই সন্দেহ বিচার বা বিশ্লেষণের অবকাশ সৃষ্টি করে। বিচার-প্রক্রিয়ার দ্বারা লব্ধ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অতঃপর মীমাংসায় উপনীত হওয়া যায়। এতে প্রতীয়মান হয়_ সন্দেহ পদ্ধতিসম্মত একটি পদক্ষেপ, যা বিহিত নিশ্চয়তা অভিমুখী। কিন্তু সন্দেহকে যদি সন্দেহ করি, তাহলে তো সন্দেহ থাকে না।

একটা কবিতা আছে_ ‘অথচ আমার ঘর, আমি কেন উঁকি দিই তাতে?’ আগে-পরে আর কোনো পঙ্ক্তি বা শব্দ নেই। এখন, ঘর অর্থে যদি ‘ঘরণী’ ধরে নিই, তাহলে ব্যাপারটা স্পষ্টত সন্দেহবাচক। আর, ‘আমার ঘর’ বলতে যদি ব্যক্তি মানুষের ভেতরটা বোঝানো হয়, তাহলে অজ্ঞেয়বাদের গন্ধ পাওয়া যাবে।
আবার একটা কবিতার নামই  আছে ‘সন্দেহ’। -
কপাল জুড়ে একটি মাত্র ফোঁটা
অবিশ্বাসীর মুগ্ধ প্রতিবাদ।
ঘুমের ঘোরে স্বপ্নঘুড়ি কাটে,
তবুও চলে মূর্খ চাষাবাদ।
আজ বিকেলে ভাঙলে প্রথম খোঁপা
ভাঙালো মেঘের প্রতীক্ষিত জলও
দুই বিনুনি গেঁথেছো আজ চুলে_
একটি আমার, অন্যটি কার বলো।

"সন্দেহ" আবার সবচে বেশি শিকার করতে পছন্দ করে স্বামী-স্ত্রীকে। স্পেশলি স্ত্রী কে। জন পুল বলেছেন, স্ত্রীরা স্বামীকে বেশি সন্দেহ করে কারণ তারা নারী। তাই বলে এভাবে- 
এক প্রার্থী নির্বাচনে তিনটি মাত্র ভোট পেয়ে মন খারাপ করে বাড়িতে এসে দেখলো বউ কাপড়চোপড় গুছিয়ে বাপের বাড়ি চলে যাচ্ছে।  

স্বামী জিজ্ঞেস করলো, তোমার আবার কি হইলো?"
 স্ত্রী বলে উঠল,"একটা ভোট আমি দিছি, আরেকটা তুমি।  
তারপর?
এটা বুঝার জন্য কি জজ- ম্যাজিস্ট্রেট হতে হবে?

নজরুল ইসলাম : বিচারক, শিক্ষক ও লেখক

news24bd.tv / কামরুল 

;