অধিকাংশ পুরুষের জীবনের একটা লম্বা সময় কাটে নারীর ব্রা নিয়ে
অধিকাংশ পুরুষের জীবনের একটা লম্বা সময় কাটে নারীর ব্রা নিয়ে

অধিকাংশ পুরুষের জীবনের একটা লম্বা সময় কাটে নারীর ব্রা নিয়ে

Other

বাঙলাদেশের ছেলেদের ওড়নার প্রতি ব্যাপক দুর্বলতা; কিশোর থেকে শুরু করে বুড়ো, অধিকাংশেরই ওড়নার প্রতি মারাত্মক দুর্বলতা। ওড়না পোশাকটি নারীদের না হয়ে পুরুষদের হলেও কি তারা এতোটাই দুর্বলতাবোধ করতো? সারাদিনে আল্লাহ, ভগবান, ঈশ্বরেরও নামও এতবার জিকির করে না, যতটা ওড়না নিয়ে তাদের গবেষণা, প্রতিবাদ, আগ্রহ-অনাগ্রহ।  

ঘটনা হচ্ছে যে, আমাদের সমাজে যে সকল বাক্য মানুষের মুখেমুখে প্রচলিত, তার অধিকাংশই মিথ্যে। এবং মিথ্যেগুলি কোটিকোটিবার উল্লেখ করে মানুষকে বোঝানো হয় যে এগুলোই সত্য।

এবং এই প্রচলিত মিথ্যেগুলিকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে আমাদের মহান ও মহৎ পুরুষগণ।  

যেমনঃ যে সকল নারী ওড়না পরে না বা গলায় রাখে না বা স্তন ঢেকে রাখে না- সে সকল নারী খারাপ বা চরিত্রহীন বা অসভ্য বা মাগী ইত্যাদি নিকৃষ্টমানের শব্দে ও বাক্যে তাদের অপমান ও অপদস্থ এবং একঘরা করে রাখার জন্য পুরুষেরা এই ধরণের বাক্যদ্বয় সকলস্তরে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সত্য হচ্ছে যে, যে সকল পুরুষ নারীর গলায় ওড়না আছে কি নেই, স্তন দেখা যাচ্ছে কি না, কী রঙের ব্রা পরেছে তা নিয়ে গবেষণা করতে থাকে ও অশ্লীল মন্তব্য করে অন্যকে বিব্রত করার চেষ্টা করে- সে সকল পুরুষ চরিত্রহীন, অসভ্য, অভদ্র, ও যৌনবিকারগ্রস্থ। নিজেদের যৌন বিকারগ্রস্থতা লুকোনোর জন্যই তারা ওড়নাকে গুরুত্বর হাতিয়ার বানিয়েছে।  

আবার, পুরুষেরা ইচ্ছাকৃতভাবে নারীদের বিব্রত ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য বলে, ‘’ছোটদের বা শিশুদের খাবার ঢেকে রাখুন’’, এখানেও পুরুষের ভণ্ডামো লক্ষণীয়।  

অধিকাংশ পুরুষের জীবনের একটা লম্বা সময় কাটে নারীর ওড়না নিয়ে, নারী স্তন নিয়ে, নারীর সাইজ নিয়ে, নারীর ব্রা নিয়ে গবেষণা করে ও নারীবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে এবং নিম্নমানের কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা এবং কটূক্তি করে, তারাই আবার সচেতনতার ভাব দেখানোর জন্য নাকি এই বাক্যটি ব্যয় করে।  

যেই পুরুষের জীবনের অধিকাংশ সময় কাটে নারীর স্তন দেখে ও চেপে এবং খেয়ে, তারাই আবার প্রচার করে নারীর স্তন নাকি শুধুমাত্র শিশুদের জন্য।   হিপোক্রেসিতে পুরুষদের পরাজিত করা সহজ নয়।

অনন্য আজাদ( ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv/আলী 

;