মানুষ নিজের চোখের আলোর শক্তিতে মানুষ হয়ে উঠুক

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

মানুষ নিজের চোখের আলোর শক্তিতে মানুষ হয়ে উঠুক

১. কতটা বড় মানুষ। যতটা মানুষ ভাবে ততটা না। মানুষ যখন বিশাল আকাশের দিকে তাকায়, তখন মানুষ কতটা ছোট তা সে বুঝতে পারে। মানুষ যখন মহাসমুদ্রের সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন উত্তাল নীল ঢেউ মানুষের কানে কানে যেন বলে যায় ‘যতটা বড় তুমি তোমাকে ভাবছো তুমি ততটাই ছোট।’ সমগ্র পৃথিবীর সাথে মানুষের তুলনা কখনো কি করা যায়? যায় না।

প্রচণ্ড ঘূর্ণাবর্তের আঘাতের চেয়ে মানুষের প্রতিঘাত কখনো কি বড় হয়ে উঠতে পারে? হয়তোবা পারে, পারে না। সময়ের চেয়ে মানুষ কখনো বড় হয় না। তারপরও শক্তি দিয়ে মানুষ সময়কে কেনার বৃথা চেষ্টা করে। ঠকে যায়, ধস নামে। মাটিতে গড়াগড়ি খায়। কেউ মানুক আর না মানুক, বড়র থেকে বড়, তার থেকে বড় থাকে।

এ যেন অসীম ধারণার যুক্তিতে বুলেটবিদ্ধ কবির কবিতার মতো। যে কবি প্রতিনিয়ত বড় থেকে বড় স্বপ্নের সাথে লড়ে যায়। থমকে দাঁড়ায়। নত হয়, ক্ষয়ে ক্ষয়ে রিক্ত হয়, আবার নিজেকে ভাঙতে ভাঙতে একসময় বিস্মিত চোখে কিংবদন্তি মহানায়কের মতো উঠে দাঁড়ায়। মানুষ নিজেকে যত ছোট ভাববে, ততই মানুষ বড় হয়ে উঠবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। এটাই গতানুগতিক ধারা। ঝাপসা চোখে আলোকিত চিঠির শব্দের মায়াবী জাদু।

একটা মানুষ কতটা শক্তশালী, কতটা বড়। যে মানুষ জানেনা তার মৃত্যু কখন হবে। কখন দেহটা মাটিতে মিশে হারিয়ে যাবে। সব কিছু অনিশ্চিত। গন্তব্যহীন। যেখানে সুর নেই, তাল নেই, আছে অচেনাকে চেনার মতো করে নিজেকে চেনার নিস্তব্ধতার গান। মানুষ যখন মানুষ হয়ে উঠবে, ছোট করে নিজেকে আবিষ্কার করবে তখন সব বড়র বড়রা মানুষের কাছে ছোট হয়ে ধরা দিবে। অহংকার নয়, হিংসা নয়, বড়ত্ব নয়, প্রতিহিংসা নয়, বিশুদ্ধ ও উদার মনের বড়ত্বে মানুষ বড় হয়ে উঠুক। ত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে মানুষ বড় হয়ে উঠুক। দুঃখকে জয় করে মানুষ বড় হয়ে উঠুক। চিন্তার শক্তিতে মানুষ বড়র থেকে আরো বড় হয়ে উঠুক। মানুষ ‘মানুষ’ হয়ে উঠুক। কুপির নিভু নিভু আলোর সাথে আলিঙ্গন করে মানুষ নিজেকে নিজের মতো করে চিনুক। তবেই না আমরা মানুষ। ছোট কিংবা বড়।

২. কেউ কেউ ভবিষ্যতকে দেখতে পায়। এটা মানুষের কপালের ঠিক নিচে থাকা দৃশ্যমান চোখের দেখা নয়। বরং মানুষের অদৃশ্য চোখের দেখা। অনেক সময় আমরা তৃতীয় নয়নের কথা বলে থাকি। হয়তো সেটাই এটা। এটা কোনো রূপকথা না, উপকথা না, হাইপোথিসিস না। এটা বাস্তবতা না, কল্পনাও না। এটা এমন এক শক্তি যা মানুষের ভিতরকে বাহিরে এনে অদেখাকে দেখার জীবনবোধ তৈরী করে। পৃথিবীতে অনেক মানুষ। অনেক বৈচিত্র্য। তবে অন্যকে বোঝার মতো শক্তি সবার থাকে না। কারো কারো থাকে। এই যে প্রকৃতি, সেটিকে দেখার মতো কজনইবা মানুষ আছে। হয়তো কেউ কেউ আছে। একটা কথা এখন বেশ প্রচলিত হয়েছে। কথাটা এমন সবাই মানুষ না, কেউ কেউ মানুষ। 

আজকের এই সময়ে কথাটা ফেলে দেবার মতো নয়। আমরা যে দুটো চোখ দিয়ে দেখি তা কি আমাদের মধ্যে দেখার গভীরতা তৈরী করতে পারে। কতটা পারে, কতটা পারে না, তা অনেকটাই আপেক্ষিক। বরং যে চোখ দিয়ে মানুষ দেখার অহংকার করে, সে চোখ হয়তো অন্ধ। মানুষ হয়তো ভেবে নিয়েছে চোখ তাকে দেখায়। কিংবা ঘটনাটা একদম উল্টো। হয়তো চোখ মানুষকে দেখে। যা বোঝার ক্ষমতা মানুষ রাখেনা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তার জীবনবোধের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, চোখ কতটুকুই দেখে কান কতটুকুই শোনো স্পর্শ কতটুকুই বোধ করে। কিন্তু মন এই আপন ক্ষুদ্রতাকে কেবলই ছড়িয়ে যাচ্ছে। 

রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ একটু ভিন্নভাবে বলেন চোখ কেড়েছে চোখ উড়িয়ে দিলাম ঝরা পাতার শোক। যাই হোক এই কথাগুলো দর্শনশাস্ত্র ও মনস্তত্ব মিলিয়ে দেখবে। সেই বিচারে কোনো একটা অর্থবোধক ফলাফল হয়তো থাকতেও পারে, আবার নাও পারে। কারণ মানুষ যা চিন্তা করে তা আবার অন্য চিন্তা দ্বারা পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটা অব্যাহত থাকবে যতদিন পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকবে। মানুষ ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে। এই দেখাটা কখনো মানুষ মনে রাখতে পারে, কখনো পারেনা। 

মানুষ যখন স্বপ্ন দেখে তখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে। মানুষের প্রচলিত চোখ দুটো বন্ধ থাকে। তারপরও মানুষ স্বপ্ন দেখে। তার মানে স্বপ্ন দেখাটা চোখের উপর নির্ভরশীল নয়। এ পি জে আবদুল কালাম আজাদ জীবনবোধের গবেষণা থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, স্বপ্ন সেটা নয় যা তুমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখো, স্বপ্ন হলো সেটাই যা তোমাকে ঘুমোতে দেয় না। যে স্বপ্নগুলো তৃতীয় চোখটা দিয়ে মানুষ দেখে, সেটা মানুষকে স্বপ্নের লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে নেয়।

এটা এমন এক চোখ যা মানুষের ভিতরে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। তাহলে এটা কি চিন্তার চোখ? সেটা হবার সম্ভাবনা হয়তো একটু বেশি। কারণ চিন্তা থেকেই মানুষের কল্পনাশক্তি জাগ্রত হয়। কিন্তু তারপরও তৃতীয় নয়ন আর চিন্তার মধ্যে একটা মৌলিক পার্থক্য হয়তো আছে। যেটা বুঝতে হলে নিজেকে চিন্তাশক্তির বাইরের কোনো এক পৃথিবীতে নিয়ে যেতে হয়। এটা সবাই পারেনা, কেউ কেউ পারে। বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন, মেয়েদের তৃতীয় নয়ন থাকে। এই নয়নে সে প্রেমে পড়া বিষয়টি চট করে বুঝে ফেলে। পুরুষের খারাপ দৃষ্টিও বুঝে। মুরুব্বি কোন মানুষ মা- মা বলেপিঠে হাত বুলাচ্ছে - সেই স্পর্শ থেকেও সে বুঝে ফেলে মা ডাকের অংশে ভেজাল কতটুকু আছে।

কথাটা খুব অর্থপূর্ণ। অনেকে মন্দ কাজ করে ভাবে সে ছাড়া বোধ হয় বিষয়টা কেউ জানে না। বুঝে না। বোঝারও চেষ্টা করে না। এটা তার অতি আত্মবিশ্বাস। যেটা ইতিবাচক নয়, নেতিবাচক। আসলে মন্দ লোকের তৃতীয় চোখ থাকে না। একটা অসার মাথা থাকে। সাইকোপ্যাথির মতো মানসিক রোগ থাকে। অগভীর আবেগ, কম ভয়, উদাসীন সহানুভূতি, ঠাণ্ডা মাথায় অন্যায় করা, নিজ দোষ শিকার না করা, অহংকার করা, মানুষকে মিথ্যা কথা দিয়ে প্রভাবিত করা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, পরিকল্পনা করে অন্যায় কাজ করা, সুযোগ খোঁজা, মানুষের ক্ষতি করে অনুতপ্ত না হওয়া, মানুষের কষ্ট দেখে উপহাস করা এবং অসামাজিক আচরণ যেমন খারাপ চরিত্রের দিকে ধাবিত হওয়া, স্বার্থপূরণের জন্য নিজের চরিত্র নষ্ট করা, পরের সাফল্যের বা শ্রমের উপর নিজ জীবনধারা বিন্যাস করা এবং ঠাণ্ডা মস্তিষ্কে অপরাধিত্ব বজায় রাখা-সবগুলো নেতিবাচকতা যার মধ্যে থাকে সেই তো সাইকোপ্যাথ।

আরও পড়ুন:

 আরবি-বাংলা অক্ষরে চিরকুট নিয়ে আসা সেই ‘কণ্ঠী ঘুঘু’ অবশেষে অবমুক্ত

 বাংলা টিভি ইউকের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ খান আর নেই

 চীনের আরও একটি টিকার অনুমোদন দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

 গুরুদাসপুরে পাট ক্ষেত থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

 

আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছে। যাদের হয়তো আমরা চিনি, মুখের মুখোশটা ভদ্রতার খাতিরে টেনে বের করে আনিনা। তবে তৃতীয় নয়ন বলছে এসব অসুখে পড়া মানুষদের চিকিৎসা দরকার। কিন্তু সেটা করতেও যে সাইকোপ্যাথরা চায়না। কারণ এখন অনেক অনেক সুস্থ মানুষ অন্যায় করতে সাইকোপ্যাথ সাজে। সাজার ভান করে। তবে টেলিপ্যাথি তা ধরে ফেলে। যেখানে একজনের সুপ্ত চিন্তা আরেকজনের মস্তিষ্কে ধরা পড়বে। মস্তিষ্কের সঙ্গে মস্তিষ্কের এ যোগাযোগ টেলিপ্যাথি নামে পরিচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকেরা বলছেন, কারও মনের কথা পড়ার বিষয়টি বিজ্ঞানসম্মতভাবে সত্য হতে পারে। এমন এক পদ্ধতি তারা বের করেছেন যাতে দুই মস্তিষ্কের ভেতর চিন্তাভাবনা বিনিময় করা যাবে। এ পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ব্রেইন নেট। কেবল দুই মস্তিষ্কের চিন্তার বিনিময় নয়। পৃথিবীর প্রতিটি বিষয়কে আগে থেকে জানা ও বোঝা সেটাও টেলিপ্যাথির অংশ হতে পারে।

এমন অনেক অমীমাংসিত রহস্য পৃথিবীতে টিকে আছে, হয়তো সেটা তৃতীয় নয়নেরই জাদুকরী শক্তি। সেটা যেন হয় মানবিক মূল্যবোধের অংশ। জীবন দিয়ে জীবনকে বোঝার মর্মকথা। সব আবর্জনা আস্তাকুড়ে পড়ে থাকুক, নতুন নতুন ইতিবাচক চেতনা হোক বিকশিত। প্রতিটি মানুষের তৃতীয় নয়ন জেগে উঠুক সূর্যের আলোর মতো। সে আলোর তীব্রতায় পুড়ে যাক অন্ধকার। দগ্ধ হোক পুরাতন ধ্যান ধারণা। মানুষ নিজের  চোখের আলোর শক্তিতে মানুষ হয়ে উঠুক। তবেই না মানব জন্মের সার্থকতা।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

বেশিরভাগ অনলাইন টিভির মালিক তথাকথিত কিছু মহিলা উদ্যোক্তা

আশরাফুল আলম খোকন

বেশিরভাগ অনলাইন টিভির মালিক তথাকথিত কিছু মহিলা উদ্যোক্তা

মূলধারার পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাদের দেখা যেত না। কিন্তু নাম সর্বস্ব এবং অনুমতিবিহীন এইসব অনলাইন টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাদের সরব উপস্থিতি থাকে। এই “তাদের” বলতে যাদের বুঝিয়েছি তারা বিভিন্ন পেশার হোমরা চোমরা। আর এই বেশির ভাগ অনলাইন টিভির মালিক হচ্ছে নামিদামি তথাকথিত কিছু মহিলা উদ্যোক্তা(!)। অনেক ছেলে উদ্যোক্তাও এই অনলাইন টিভি করেছেন। কিন্তু তাদের টিভির কোন অনুষ্ঠানে এইসব হোমরা চোমরাদের দেখা যায়না।

যেখানে একটি টিভি চ্যানেল চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন মূলধারার টিভি চ্যানেল এর মালিকরা সেখানে এই নামসর্বস্বরা নামীদামী হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠান করে। তাদের আয়ের উৎস কি কেউ জানেনা। ঐসব অনুষ্ঠানে ফুল নিয়ে সেজেগুজে হোমরা চোমরা’রা হাজির হয়ে যান। দেখলে মনে হয় বিয়ে বাড়িতে আসছেন।

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশসহ চার দেশে দুবাইগামী ফ্লাইট বন্ধ ৭ আগস্ট পর্যন্ত

স্বামীর পর্নকাণ্ড: মানহানির মামলা নিয়ে শিল্পাকে আদালতের ভর্ৎসনা

হেলেনাকে সম্মানের সঙ্গে ছাড়তে বললেন সেফুদা

সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন বেসামরিক পদে ছয় শতাধিক নিয়োগ


হেলেনা জাহাঙ্গীরের টিভির মতো এমন অবৈধ ভুঁইফোড় অনেক অনলাইন টিভি আছে। মাননীয় তথ্যমন্ত্রী বললেন, এর সবই অবৈধ। এটা বন্ধ হলে ওই অবৈধগুলোও বন্ধ হওয়া উচিত। অধিকাংশের কাজই হচ্ছে কোন না কোন ঝান্ধা আর ব্ল্যকমেইল করা।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

হেলেনাকে সম্মানের সঙ্গে ছাড়তে বললেন সেফুদা

অনলাইন ডেস্ক

হেলেনাকে সম্মানের সঙ্গে ছাড়তে বললেন সেফুদা

সম্প্রতি নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে আওয়ামী লীগ থেকে বাদ পড়া হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার পর আলোচিত অস্ট্রিয়া প্রবাসী সেফাত উল্লাহ সেফুদার নাম উঠে আসে। হেলেনার সঙ্গে সেফুদার নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো বলে জানা যায়।

এবার হেলেনা ইস্যুতে মুখ খুলেছেন সেফুদা। তাকে সম্মানের সঙ্গে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার ফেসবুক লাইভে এসে এ আহ্বান জানান তিনি।

ওই ভিডিও বার্তায় সেফুদা বলেন, আমার নাতি হেলেনা জাহাঙ্গীরকে অসম্মানজনকভাবে, একজন সিআইপিকে অ্যারেস্ট করা হলো। আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। হেলেনা জাহাঙ্গীরের মেয়ে আমার ভাগ্নি জেসির একটি সাক্ষাৎকার দেখলাম একটি টেলিভিশনে। হেলানাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তিলকে তাল করে র‍্যাবদেরকে দিয়ে তছনছ করা হয়েছে। ভাবটা এমন যে, চোর ধরা পড়েছে।

সেফুদা আরও বলেন, আমার সঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরের দেখা হয়নি। তবে টেলিফোনে কথা হতো। হেলেনা জাহাঙ্গীর একজন স্মার্ট নারী, তিনি দুঃসাহসের সঙ্গে কথা বলতেন। অবিলম্বে এবং সম্মানের সঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ছেড়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন


আফগানিস্তানের জাতিসংঘের দপ্তরে হামলা, এক পুলিশ নিহত

হত্যা চেষ্টার অভিযোগে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা মিজোরাম পুলিশের

হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় আরও এক মামলা

হামলার শিকার ইসরাইলি জাহাজের ২ ক্রু নিহত


এদিকে, শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরকে অস্ট্রিয়া প্রবাসী আলোচিত সেফুদা নাতনী বলে ডাকতেন। সেফুদার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং তার সঙ্গে লেনদেনও ছিল হেলেনা জাহাঙ্গীরের।

তিনি বলেন, সেফুদা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসীর নজর কাড়তে চেষ্টা করেন। তার সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতের নিয়মিত যোগাযোগ ও লেনদেন রয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

এই যুক্তিতে লকডাউন উঠিয়ে দেওয়া যায়

অনলাইন ডেস্ক

এই যুক্তিতে লকডাউন উঠিয়ে দেওয়া যায়

অতিমারি ভাইরাস করোনায় দেশে মৃত্যু ও শনাক্ত যখন উদ্বেগজন পর্যায়ে ঠিক তখনই রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নতুনদেশ’র প্রধান সম্পাদক, শওগাত আলী সাগর।

এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেছেন, গার্মেন্টস শ্রমিকরা কোভিডে আক্রান্ত হবেন না- এই ধরনের তথ্য যদি সরকারের কাছে থাকে, তা হলে একই ধরনের যুক্তিতে সারা দেশ থেকেই লকডাউন উঠিয়ে দেওয়া যায়।

তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‌‘রপ্তাণিমূখী তৈরি পোশাক শিল্পকারখানায় যারা কাজ করেন বা করবেন- তাদের কোভিড স্পর্শ করবে না- এমন কোনো তথ্য উপাত্ত কী কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পাওয়া গেছে? সরকার যে গার্মেন্টস কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার পেছনে কী তথ্য উপাত্ত কাজ করেছে?

তারা কীভাবে নিশ্চিত হলেন- গার্মেন্টসকর্মীরা নিজেরা কোভিড আক্রান্ত হবেন না- তারা যখন বাড়িতে কিংবা অন্যকোথাও যাবেন তখন কোভিড ভা্ইরাস ছড়াবেন না!

গার্মেন্টস শ্রমিকরা যে যুক্তিতে কোভিড সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এর আওতামুক্ত থাকবেন- একই যুক্তিতে তো সারা দেশের মানুষই এই ধরনের বিধি নিষেধ থেকে অব্যহতি চাইতে পারেন!

গার্মেন্টস শ্রমিকরা কোভিডে আক্রান্ত হবেন না- এই ধরনের তথ্য যদি সরকারের কাছে থাকে, তা হলে একই ধরনের যুক্তিতে সারা দেশ থেকেই লকডাউন উঠিয়ে দেওয়া যায়।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

আরও পড়ুন:


বিট লবনের যত উপকার

ধানখেতে ৮ ফুট অজগর

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ম্যুরাল ভাঙচুরকারীদের গ্রেপ্তার দাবি হানিফের


 news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

করোনা আক্রান্তকে সমাজচ্যুত করার মানসিকতা বন্ধ করি

জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু

করোনা আক্রান্তকে সমাজচ্যুত করার মানসিকতা বন্ধ করি

আপা কেউ যেন না জানে! সিকিউরিটি গার্ডও না। plz..খাবারটা চুপচাপ পাঠায়েন! অক্সিমিটারটা ব্যাগে ভরে দিয়েন! স্যাম্পল নিতে যিনি আসবেন তাকে আমার আত্মীয়ের পরিচয় দিতে বলবেন!

স্বেচ্ছাসেবক ফোরামে আমরা যারা কাজ করছি তারা প্রতিদিন রোগী বা তাদের স্বজনের কাছে এসব কথা শুনেই যাচ্ছি! অথচ যে কেউ যে কোন সময়ে এতে আক্রান্ত হতে পারেন!

বছর পেরিয়ে গেছে! এই রোগের সাথে লড়তে লড়তে ক্লান্ত, দিশেহারা আমরা। কিন্তু বের হতে পারিনি নিজেদের সামাজিক ট্যাবু থেকে, হীন মানসিকতা থেকে! পাশের বাড়ির মানুষটাও জানেন না বা জানতে চাননা আপনি করোনা আক্রান্ত!

অনেকে তো টেস্ট করাবেনই না! বৃষ্টিতে জ্বর, এসির ঠান্ডা, গরমে ঘেমে কাশি....কত বাহানা! অথচ শুরু থেকেই সচেতন হলে বেঁচে যেত জীবন বা টাকা!!

আরও পড়ুন


অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার

আগস্টের শোককে আমরা শক্তিতে রূপান্তরিত করবো: আব্দুর রহমান

চার মাস ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নায়ক ফারুক

বগুড়ার শেরপুর ও ধুনটে ৬০০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ


এই মহামারি আপনার আমার সবার জন্যই মহাবিপদ! তাই আর লুকিয়ে না থাকি, করোনা আক্রান্তকে সমাজচ্যুত করার মানসিকতা বন্ধ করি! তার পাশে না যাই অন্তত মানসিক ও সামাজিক সাপোর্টটা দিই plz..পুরো জীবনটাই তো নিজের বলে কাটিয়ে দিলাম এবার সবাই মিলে একটু বাঁচার চেষ্টা করি!! 

সবাই সচেতন হই, মাস্ক পড়ি, টেস্ট করাই! করোনা আক্রান্তদের পাশে থাকি- যে যেভাবে পারি! বিপদ কিন্তু যেকোন সময় আপনার দরজাতেও কড়া নাড়বে!

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

একচুয়াল পারফেকশন বলে আসলে কিছু নেই

এমি জান্নাত

একচুয়াল পারফেকশন বলে আসলে কিছু নেই

পারফেক্ট বলে আসলে কিছু হয় না। কারণ ভালোর চেয়ে ভালো, তার চেয়েও ভালো হয়। এর কোনো সীমারেখা নেই। আবার একই জিনিস একজনের কাছে পারফেক্ট আরেকজনের কাছে মূল্যহীনও হতে পারে। তাই "একচুয়াল পারফেকশন" বলে আসলে কিছু নেই। কারণ এটা সার্বজনীন না। কোনো কিছুই একবারে মনের মতো হয়ে আসেনা। করে নিয়ে পারফেক্ট ভাবতে জানতে হয়। নাহলে জীবনে হাসি আসলেও খুশিটা আসেনা। 

আরেকটা বিষয় হলো একই জিনিস কে কীভাবে দেখছে। গ্লাসে রাখা অর্ধেক পানির সাধারণ উদাহরণটাই যদি টানি। মানে হাফ পূর্ণ আর হাফ খালি। ইতিবাচকভাবে দেখলে আপনার চোখে পূর্ণতাটা পড়বে আর নেতিবাচকভাবে দেখলে আপনি দেখবেন শূন্যতাটুকু।

এই ব্যাপারটার সাথে চাহিদা শব্দটা কিছুটা জড়িত। যেমন যিনি পূর্ণতা দেখছেন তার চাহিদা কম। অল্পতে তুষ্ট থাকা মানুষ। আর শূন্যতা যার চোখে, তার চাহিদাটা বোধহয় একটু বেশি৷ তাই আরও কিছু যোগ করে খালি জায়গাটা পূর্ণ করে পেতে চান। তবে এই ব্যাপারটাও অনেকটা নির্ভর করে জীবনের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির উপর। একজন দিনমজুর তার জীবনযাপনের জন্য একদিনের জন্য যা প্রয়োজন সেটা পেয়ে গেলে তার চাহিদা বেড়ে সর্বোচ্চ এটা হতে পারে যে তিনি দুই তিন বা ১৫ দিনেরটা একবারে যদি জোগাড় করতে পারতেন! কিন্তু তার চাহিদা কখনো এটা হবে না যে সে প্রাসাদে বাস করবে। আর যিনি নিজের প্রাসাদে বাস করেন তার মনে আরও কয়েকটা প্রাসাদের মালিক হওয়ার চাহিদা আসতেই পারে। 

চাহিদা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পূরণ করা সম্ভব। কিন্তু এর সাথে মানুষ স্বপ্নও যে দেখে! কিন্তু কিছু স্বপ্ন অজান্তেই একটু বেশি হয়ে যায় অথবা জীবনের সাথে মেলবন্ধন ঘটেনা বলে সবারটা ধরা দেয়না!

বছরে একটা নতুন লালজামা পথশিশুর মুখে যে হাসি এনে দেয়, প্রাসাদের ছেলেমেয়েদের একটা  আইফোন পাওয়া তার কাছে অতি তুচ্ছ! তাই শুধু জীবন আর যাপনের পার্থক্যের সাথে সাথে পারফেকশন, চাহিদা আর স্বপ্ন এই শব্দগুলো পরিবর্তন হয়। জীবনে ভালো থাকতে খুব বেশি কিছু লাগেনা। শুধু যে যতটুকু ডিজার্ভ করে ততটুকু পেলে চাহিদা বা প্রত্যাশার ইতি টানা বোধহয় ভালো। কিন্তু নিজের প্রাপ্যটা অর্জন করা পর্যন্ত ছুটে চলা উচিৎ এবং সেই প্রাপ্তিটাকেই নিজের জন্য পারফেক্ট ভাবলেই সব গন্ডগোল সমাধান। এরপর জীবন যা দিবে সেটা বোনাসের আনন্দ এনে দিবে এটা হলফ করে বলা যায়। আবার বোনাসের পারফেকশন খুঁজতে গেলে কিন্তু বিপদ! কারণ ওই যে, এর সীমারেখা নেই। তাই নিজের মতো করে সীমারেখা টেনে নিতে হয়। 

লেখাটি এমি জান্নাত-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

এমি জান্নাত, সংবাদকর্মী

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর