আহত চিল উদ্ধার করে চিকিৎসা দিচ্ছেন রাফিদ হক

নিজস্ব প্রতিবেদক

আহত চিল উদ্ধার করে চিকিৎসা দিচ্ছেন রাফিদ হক

ঢাকার আহত চিল উদ্ধার করে চিকিৎসা দিচ্ছেন পুরনো ঢাকার ছেলে রাফিদ হক সোয়াদ। আর তাই নিজ বাসার ছাদে গড়ে তুলেছেন অভয়াশ্রম।

রাফিদ বলেন, "আমি একজন পশু প্রেমিক। বিগত চার বছর ধরে পশু পাখি উদ্ধার করছি।
আহত চিলদের নিয়ে চিকিৎসা দেই। গত মাসে আমার কাছে চিল ছিলো ছয়টা। এখন চারটা আছে, এর মধ্যে গতকাল একটা যুক্ত হয়েছে। আর যেগুলোর পরিচর্যা চলছে সেগুলোও আছে এখানে। কিছুদিনের মধ্যে এদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে।"
ঢাকা শহরের বিভিন্ন আহত ও অসুস্থ চিলদের এভাবেই শুশ্রূষা করেন রাফিদ।
তিনি আরও বলেন, "দুঃখজনক হলো, এই চিলগুলো আহত হয় মূলত মানুষের কারণেই। তার বাসার আশেপাশের অনেকেই কবুতর পালন করে। চিলরা অনেক ক্ষুধার্ত থাকলে অনেক সময় কবুতরদের আক্রমণ করে। বাচ্চা খেয়ে ফেলে বা কবুতরকে মেরে ফেলে। তখন কবুতরের মালিকরা স্বভাবতই  চিলদের আঘাত করে থাকে। আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমি তাদের সেবা ও চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করি। কারণ পশু চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে গেলে তারা বুনো পশু-পাখিকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না।"
এরপর থেকে নিজে দায়িত্ব নিয়েই এই মহৎ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন রাফিদ। আর তার এই চিলদের সেবা দেওয়ার কাজ শুরু হয় অনলাইনে একজন ইউটিউওবারের কাছ থেকে সাড়া পেয়ে। তার দেওয়া ভিডিও থেকেই মানুষ জানতে পারে যে রাফিদ এরকম পাখি উদ্ধার করে। এরপর থেকে চিলরা আহত হলেই রাফিদকে কল দেওয়া হতো। এভাবে  রাফিদ মানুষের কাছে চিলদের জন্যই পরিচিতি পায়। আর এই আশ্রমের খরচ বহন করে রাফিদ নিজেই। আর সাহায্য করে পরিবারের সদস্যরা। 

তবে রাফিদের মা রুবিনা হক প্রথমে ছেলের এই কাজে সমর্থন করেননি। এমনকি দীর্ঘ আট বছর অভিমান করে ছাদেও যাননি। আট বছর পর সব অভিমান ভুলে তিনি এবং পরিবারের সবাই রাফিদের এই মহৎ উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
সূত্রঃ বিবিসি

news24bd.tv / এমিজান্নাত

পরবর্তী খবর

আড়াই শত বছরের পুরনো বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে সংরক্ষাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে সংরক্ষাণ করা হবে চট্টগ্রামের আড়াই শত বছরের পুরনো একটি বাড়ি। যা মোঘল ও ব্রিটিশ শাসন আমলের মাঝামাঝি মাটির কলসি বা মটকার উপর নিমার্ণ করা হয়েছিল। 

জেলা প্রশাসন বলছেন, ঐতিহাস-ঐতিহ্য  ও স্থাপত্য শিল্পের চর্চা ও গবেষণা করার জন্য বাড়িটি সংরক্ষণের নিদের্শ দিয়েছে সরকার। ফাতেমা জান্নাত মুমুর তথ্য  ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।

এটি চট্টগ্রামের আলোচিত প্রায় আড়াই শত বছরের পুরনো বাড়ি। যার লিখিত কোন দলিল না থাকলেও ধারণ করা হচ্ছে মুঘল ও ব্রিটিশ শাসন আমলের মাঝা মাঝি  তৈরি। নগরির পাথর ঘাটা এলাকায় মাত্র ২৫হাজার টাকা ব্যয় করে মাটির কলসি বা মটকার উপর প্রয়াত ব্যবসায়ী হাজী শরীয়ত উল্লাহ সওদাগর এ বাড়িটি নির্মাণ করেন।

বাড়ির চারপাশে এখনও আছে ৩টি জলকূপ। যার পানি এখনো স্বচ্ছ্ব। এছাড়া পুরো বাড়ি জুড়ে আছে শত বছরের পুরনো আসবাবপত্র।

সম্প্রতি বাড়িটি পুনো নির্মাণের ঘটনা চক্রে রূপ কথার গল্পের মত বেড়িয়ে আসে হাজারো ইতিহাস। নতুন প্রজন্মের ইতিহাস চর্চায় এ বাড়িটি সংরক্ষাণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন চট্টগ্রাম ইতিহাস সংষ্কৃতি গবেষকরা। তবে এরই মধ্যে স্থাপনাটি সংরক্ষাণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।

জলোচ্ছ্বাস ও ভূমিকম্প থেকে রক্ষা পেতে ইটপাথরের জায়গায় এ মাটির কলসিগুলো ব্যবহার করে এ বাড়ি তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন:


করোনায় ঝালকাঠির আদালতের বিচারকের মৃত্যু!

আগস্ট মাসের দুই দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক

বিভিন্ন জেলায় করোনায় প্রায় দেড় শতাধিক মৃত্যুর

সিলেট বিভাগে করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যু নতুন রেকর্ড


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে চলছে তিন দিনের হট এয়ার বেলুন ফেস্টিভাল

চন্দ্রানী চন্দ্রা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে চলছে তিন দিনের হট এয়ার বেলুন ফেস্টিভাল। আকাশে নানান রঙের বেলুন দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা। করোনার কারণে গেল বছর এই উৎসব বাতিল হলেও এবার বেশ বড় পরিসরেই করা হয়েছে আয়োজন। 

Up, up and away in hot air balloon festival এই শ্লোগানে, ৩৮তম বার্ষিক নিউ জার্সি লটারি বেলুন উৎসব। উড়ানো হচ্ছে শত শত রঙ্গীন বেলুন। দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থান থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা।

নিউ জার্সির রিডিংটনের আকাশে উড়ছে নানা রঙের হট এয়ার বেলুন। পরিষ্কার, রৌদ্রজ্জ্বল দিন, হিমেল বাতাস আকাশে বেলুন উড়ানোর জন্য আদর্শ সময়। আকাশে ভেসে থাকার দারুন মুহূর্ত উপভোগ করছেন এয়ার বেলুনে আরোহণকারীরা।

" আমি সত্যিই ভেবেছিলাম আমরা কারো ঘরে ঢুকে যাব। তারপরে কিছুটা ব্যাকআপ নিয়ে তাদের মাঠে নামলাম।"

"আমি খুব এক্সসাইটেড। বাতাসের বাইরে চলে গিয়েছিলাম। উপর থেকে সব দেখতে ভালো লেগেছে।"


দশ বছর আগে যা ঘটেছে তার জন্য আমি দায়ী নই : প্রভা

‘চুম্বন বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যয়নের আগে একান্তে সময় কাটাই’


 

গেল বছর করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নেয়ায় বাতিল হয়ে যায় জনপ্রিয় এই উৎসব। এবার করোনার টিকা গ্রহণকারীরা টিকিট সংগ্রহে পাচ্ছেন ছাড়। রয়েছে লটারি জিতে হট এয়ার বেলুনে আকাশে ভেসে বেড়ানোর সুযোগ।

২৩ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের হট এয়ার বেলুন উৎসব। গরমের সময় এয়ার এ উৎসব হয়ে থাকে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আজ শেরপুরের সোহাগপুর গণহত্যা দিবস

মাত্র দুই ঘণ্টায় হত্যা করা হয় ১৮৭ জন পুরুষকে

জুবাইদুল ইসলাম, শেরপুর

মাত্র দুই ঘণ্টায় হত্যা করা হয় ১৮৭ জন পুরুষকে

আজ ২৫ জুলাই, শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ঐতিহাসিক সোহাগপুর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল নালিতাবাড়ী উপজেলার কাঁকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামে।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা এদিন ভারত সীমান্তঘেঁষা ওই গ্রামের সব পুরুষ মানুষকে হত্যা করে। মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রামের ১৮৭ জন পুরুষকে হত্যা করা হয়। সেই থেকে সোহাগপুর গ্রামের নাম হয় বিধবা পল্লী।

জানা যায়, বৃহত্তর ময়মনসিংহের তৎকালীন আলবদর কমান্ডার জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের প্রত্যক্ষ মদদে ও স্থানীয় রাজাকার কাদের ডাক্তারের সহায়তায় ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী সোহাগপুর গ্রামে ঘটে এক ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি।

সেদিন ওই গ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা আশ্রয় নিয়েছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে রাজাকার আলবদরদের সহায়তায় ১৫০ জনের পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী স্থানীয় প্রফুল্লের দিঘি থেকে সাধুর আশ্রম পর্যন্ত এলাকা ঘিরে ফেলে। হায়েনার দল অর্ধ দিনব্যাপী তান্ডব চালিয়ে খুঁজতে থাকে মুক্তিযোদ্ধাদের ও তাদের আশ্রয়দাতাদের।

ওই সময় প্রাণের মায়া ত্যাগ করে সামনের দিকে এগিয়ে যান স্থানীয় কৃষক আলী হোসেন ও জমির আলী। কিন্তু তারা বেশীদূর এগুতে পারেননি। এক রাজাকার গুলি করে দু’জনকেই হত্যা করে। এরপর শুরু হয় নারকীয় তান্ডব। মাঠে কর্মরত রমেন রিছিল, চটপাথাং ও সিরিল গাব্রিয়েল নামে ৩ গারো আদিবাসীকে হত্যা করে।

তারপর একে একে হত্যা করে আনসার আলী, লতিফ মিয়া, ছফর উদ্দিন, শহর আলী, হযরত আলী, রিয়াজ আহমেদ, রহম আলী, সাহেব আলী, বাবর আলী, উমেদ আলী, আছমত আলী, মহেজ উদ্দিন, সিরাজ আলী, পিতা-পুত্র আবুল হোসেনসহ প্রায় ১৮৭ জন নিরীহ পুরুষ মানুষকে।

একইসাথে ওইসময় হায়েনাদের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন ১৩ জন নারী। সেদিন কলাপাতা, ছেড়া শাড়ী আর মশারী দিয়ে কাফন পড়িয়ে ৪/৫ টি করে লাশ এক একটি কবরে দাফন করা হয়েছিল। আবার কোন কোন কবরে ৭/৮টি করে লাশও এক সাথে কবর দেওয়া হয়েছিল।

ওই নারকীয় হত্যাকান্ডের জীবন্ত স্বাক্ষী রয়েছেন অনেকেই। সেদিন সোহাগপুর গ্রামের সকল পুরুষ মানুষকে হত্যা করায় পরবর্তীতে ওই গ্রামের নাম হয় ‘বিধবা পল্লী’।

এ পল্লীতে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ৫৬ জন বিধবা বেঁচে ছিলেন। বর্তমানে ২৩ জন বিধবা বেঁচে আছেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিধবাদের ভাগ্য বদল হয়েছে। উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে সোহাগপুর গ্রামে।

ইতোমধ্যেই ২৯ বিধবাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ লাখ টাকা মূল্যের একটি করে পাকাবাড়ি উপহার দিয়েছেন। ১৪ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিধবাপল্লীতে পাকা সড়ক হয়েছে। কাকরকান্দির বুরুয়াজানি গ্রামে শহীদদের স্মরণে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় করে দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। সুদীর্ঘ ৫০ বছর পর শহীদদের স্মৃতি রক্ষার জন্য জেলা পুলিশ বিভাগের সদস্যরা তাদের বেতনের টাকা দিয়ে বিধবাদের জমি ক্রয় করে দিয়েছেন। এছাড়া বিধবাপল্লীতে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

এসবের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বিধবা হাফিজা বেওয়া বলেন, ‘স্বামী-স্বজনগরে মাইরা হালানির পরে আমরা ভিক্ষা কইরাও ভাত খাইছি। শেখ হাসিনা ও মতিয়া চৌধুরী আমগরে লাইগা অনেক করছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধার পদবী পাইছি। ভাতা পাইতাছি। পাক্কাঘরে শান্তিতে ঘুমাইতাছি। আমগরে চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নাই। শুধু দোয়া করি হাসিনারে আল্লাহপাক বাঁচাইয়া রাখুক।’


আরও পড়ুন:

চীনে গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৪

এনএসও'র দাবি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহারে বিশ্বের লাখো মানুষ ঘুমাতে পারছে

পিএসজির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ল পচেত্তিনোর

হাইতি প্রেসিডেন্টের সৎকার অনুষ্ঠান থেকে পালিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদল


ওই গ্রামের আন্তর্জাতিক যোদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের সাক্ষী ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ছফির উদ্দিনের ছেলে জালাল উদ্দিন (৫০) বলেন, বিধবারা সুখের মুখ দেখলেও তাদের সন্তানরা কষ্টে চলেন। তাদের জন্য সরকারিভাবে কর্মসংস্থানের দাবি জানান তিনি। এদিকে দিবসটি পালন উপলক্ষে কোরানখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

বর্ষায় ভরা যৌবনা গড়াই নদী

জাহিদুজ্জামান

বর্ষায় ভরা যৌবনা গড়াই নদী

এই বর্ষায় ভরা যৌবন ফিরে পেয়েছে পদ্মার প্রধান শাখা নদী গড়াই। নদীর পাড়, কোল, কিনারে পানি ঢুকে অপরূপ রূপ নিয়েছে।

বিশেষ করে বালিয়াড়ির মতো জমে থাকা নদী খননের বালির খাজে তা অপরূপ হ্রদের রূপ নিয়েছে। আর এখানেই নেমেছে জেলের দল। নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে মাছ ধরছেন।

আর দু-কুলের সারি সারি চাঁই, খোপ ও জাল দেখে বুঝতেই পারছেন এখন কতটা জীবন্ত এই নদী। নদীর এই ছলছলে আবহ টেনে আনছে সৌখিন মৎস্য শিকারীদেরও।

অন্নদাশংকর রায়ের বঙ্গবন্ধু কবিতার সেই গৌরী নদীই এই গড়াই। একদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অন্যদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য আনছে নদীর এই জীবন্ত রূপ। খুশিতে নাচছে জেলেরা, দেশি মাছ ধরা দিচ্ছে তাদের জালে। তাইতো নদীর পাড়জুড়ে সারি সারি জাল।


আরও পড়ুন:

কারারক্ষীদের জিম্মি করে পিৎজা খাওয়ার দাবি দুই বন্দীর!

পিএসজির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ল পচেত্তিনোর

মুখ্যমন্ত্রীকে গরুর মাংস উপহারের ইচ্ছা পোষণ, নারী গ্রেপ্তার

মুনিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে সায়েম সোবহান আনভীরের জড়িত থাকার প্রমাণ পায়নি পুলিশ


সুন্দরবনে মিঠাপানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই গড়াই নদী।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

পর্যটক শূণ্য রাঙামাটি, নতুন রূপে সেজেছে পাহাড়

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

পর্যটক শূণ্য রাঙামাটি, নতুন রূপে সেজেছে পাহাড়

পর্যটক শূণ্য রাঙামাটি। চার মাস ধরে বন্ধ পর্যটন কেন্দ্র। আয় নেই, আছে ব্যয়। তবুও থেমে নেই কর্মচারীদের বেতন। কিন্তু দিন যত বাড়ছে লোকসানও বাড়ছে কয়েকগুন। মাত্র চার মাসে রাজস্ব খাতে ঘাটতি রয়েছে এক কোটি টাকা।

আয় সংকট চলমান থাকলে বন্ধ হতে পারে কর্মচারীদের বেতনও। শুধু পর্যটন ব্যবসায়ীরা নয়, এর প্রভাব পরবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের শিল্পের উপরও। তাই টানা পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকলে নানামুখি সংকটের শঙ্কা বাড়বে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গত এপ্রিল মাস থেকে বন্ধ রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্রগুলো। তাই নেই কোন পর্যটকের আনাগোনা। তাই একেবারে স্থবির পর্যটন কেন্দ্রীক সব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। আর মাত্র একদিন পর ঈদ-উল-আযহা হলেও লাগেনি উৎসবের রঙ। নেই কোথাও আনন্দের উচ্ছাস। করোনা সংক্রমণের শঙ্কায় ম্লান করেছে সমস্ত আয়োজন।

অথচ গত বছরও পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় ছিল এ পাহাড়ে। কিন্তু এখন পুরাই ভিন্ন চিত্র। এ বারে খালি সব হোটেল, মোটেল ও রেস্ট হাউসগুলো। তাতেই বেকার হয়ে পড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।

শুধু রাঙামাটি নয়, একই চিত্র দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত অপর দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। করোনার কালো ছায়ায় ধস নেমেছে পর্যটন ব্যবসায়। বেকার সময় পার করছে হাজারো পর্যটন শ্রমিক।

এক সময় যে পাহাড় জুড়ে জমজমাট ছিল ভ্রমণ পিয়াসুদের আনাগোনায়। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে হাজারো পর্যটক ছুটে আসতো সবুজ পাহাড় ও নদী ঘেরা মনোরম প্রকৃতির লীলাভূমি পার্বত্যাঞ্চলে। এখন তা কল্পনা করা যায়না। 

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের নৌযান ঘাটের ম্যানেজার মো. রমজান আলী জানান, পর্যটক নেই, তাই ব্যবসাও নেই। নৌযান ঘাটের প্রায় শতাধিক মানুষ বেকার রয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে এখন আর কেউ নৌ ভ্রমণ করে না। করোনার কারণে সব কিছুতেই ধস নেমেছে। 

অন্যদিকে পাহাড় সেজেছে নতুন রূপে। সবুজ পাহাড়ে একপশলা বৃষ্টিতে দোল খেলছে সাদা মেঘের ভেলা। একই সাথে পাহড়ের ভাঁজে ভাঁজে হরেক রঙের ফুলের মেলা। পাখ-পাখালির নির্মল আনন্দ আর অনাবিল উচ্ছাস। প্রকৃতি যেন শান্ত, সিগ্ধ আর কোমলতার রূপ নিয়েছে। কিন্তু তা দেখার কেউ নেই।

রাঙামাটি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, দেশে করোনাকাল শুরু থেকে বন্ধ রাঙামাটিতে পর্যটক আসা। মাঝখানে একটু স্বাভাবিক হলেও গত চার মাস ধরে একেবারে বন্ধ পর্যটন কেন্দ্র। তাই পর্যটন কমপ্লেক্সের কর্মচারীদেরও বেতন ভাতাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সে ৪৯ জন কর্মচারী রয়েছে। তাদের প্রতি মাসে বেতন দিতে হয় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ঘাটতি রয়েছে এক কোটি টাকা। তাই দিন বাড়লে নানামুখি শঙ্কাও বেড়ে যায়।  এবার ঈদ উৎসবেও পর্যটক আসেনি পাহাড়ে। নেই কোন বুকিংও। করোনার দূর্যোগ না কাটা পর্যন্ত স্বাভাবিক হবে না পর্যটন ব্যবসা।


আরও পড়ুনঃ

দ. কোরিয়ার কোন গালিও দেয়া চলবে না উত্তর কোরিয়ায়

তালেবানের হাত থেকে ২৪ জেলা পুনরুদ্ধারের দাবি

কাছাকাছি আসা ঠেকাতে টোকিও অলিম্পিকে বিশেষ ব্যবস্থা

দীর্ঘ রোগে ভুগে মহানবী (সা.) কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র আঁকা কার্টুনিস্টের মৃত্যু


প্রসঙ্গত, রাঙামাটি জেলাজুড়ে রয়েছে অসংখ্য দর্শণীয় ও উপভোগ্য স্থান। গড়ে উঠেছে অনেক দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পট। এখন ভ্রমণপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের বেড়ানোর বড় সুযোগ ছিল ঈদের ছুটি। রাঙামাটির মূল শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হলিডে কমপ্লেক্স। সেখানে রয়েছে দৃষ্টিকাড়া ঝুলন্ত ব্রিজ, কটেজ ও মোটেল। পর্যটন নগরী রাঙামাটিতে পর্যটকদের আনন্দ ও মনোরঞ্জন জোগানোর অসংখ্য নৈসর্গিক আবেশ ও দর্শনীয় অনেকগুলো স্থান ও স্পট রয়েছে। সরকারি পর্যটন মোটেল ছাড়াও ডিসি বাংলো, পেদাটিংটিং, সুবলং ঝর্ণা ও পর্যটন স্পট, টুকটুক ইকো ভিলেজ, গিরিশোভা ভাসমান রেস্তোঁরা, পৌর পার্ক, সুখী নীল গঞ্জ, উপজাতীয় যাদুঘর, রাজবন বিহার, চাকমা রাজার বাড়ি, বীরশ্রেষ্ট মুন্সি আবদুর রউফের স্মৃতিসৌধসহ মনোরম ও নয়নাভিরাম স্পট ও স্থাপনা সত্যিই যে কোন পর্যটককে সহজেই কাছে টানে। শিহরিত করে তোলে স্বচ্ছ কাপ্তাই হ্রদের জলে নৌ বিহারের মতো রোমাঞ্চকর নৌ-ভ্রমণ। আর এসব পর্যটন স্পটগুলো এখন একেবারে ফাঁকা।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর