রংপুর মেডিকেলের বার্ন ইউনিট ১০টি এসির ৯টিই নষ্ট

রেজাউল করিম মানিক, রংপুর :

রংপুর মেডিকেলের বার্ন ইউনিট ১০টি এসির ৯টিই নষ্ট

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) অকেজো হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগীরা। ইউনিটটির ১০টি এসির ৯টিই ৬ মাস ধরে নষ্ট। ফলে দগ্ধ হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীরা এই গরমে নিদারুণ কষ্ট পাচ্ছেন।

২০১৩ সালের জুলাইয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালু হয় বার্ন ইউনিট। বিশেষায়িত এ ইউনিট শুরু থেকেই উত্তরাঞ্চলের দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।

বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের পাশে বসে হাতপাখা দিয়ে প্রতিনিয়ত বাতাস করে চলেছেন স্বজনেরা। কেউ ছোট টেবিল ফ্যান শয্যার পাশে রেখে বাতাসের ব্যবস্থা করেছেন। এদিন ১৪টি শয্যায় দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।

বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা যায়, এসিগুলো কয়েকবার মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত ছয় মাসে সেগুলো ঠিক হয়নি। রোগীদের ড্রেসিং করার কক্ষের এসিটি শুধু সচল। ইউনিটের দায়িত্বে নিয়োজিত চিকিৎসক এম এ হামিদ বলেন, একটু সার্ভিসিং করলেই যন্ত্রগুলো ঠিক হয়ে যায়। হাসপাতালের পরিচালককে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন


এবার ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় হিরো আলমের বিরহের গান (ভিডিও)

টিকটকারদের ভয়ংকর ফাঁদ, কয়েকশ জনকে খুঁজছে পুলিশ

মা হচ্ছেন নুসরাত, নিজের নয় বলে মন্তব্য স্বামীর!

পাপারাজ্জি থেকে বাঁচতে মেয়েকে বুকে চেপে ধরলেন আনুশকা


১৪ নম্বর শয্যায় চিকিৎসা নিতে দেখা যায় গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের শিশু আবদুল্লাহকে (৪)। পাশে পাখা দিয়ে বাতাস করছিলেন মা আফরোজা বেগম। তিনি বলেন, চুলার আগুনে শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয় আবদুল্লাহর। এক মাসের বেশি সময় ধরে এ হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসা চলছে। বেশি গরম পড়লে ছেলেটা ছটফট করে।

পাশের শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন একরামুল হক (২৮) নামের এক তরুণ। তিনি দুই মাস ধরে ভর্তি। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর একরামুলের পিঠ পুড়ে গেছে। একপাশ হয়ে শুয়ে থাকতে হয়। একরামুল বলেন, হাসপাতালের বদ্ধ কক্ষের ভেতর বাতাসও গরম। ঘাম আর রোগীদের পোড়া অংশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জের শিলা রানী নামের (৬০) এক নারী আড়াই মাস ধরে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দগ্ধ হওয়া দুই পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়ে শুয়ে আছেন। সঙ্গে থাকা তাঁর ছেলে কলেজশিক্ষার্থী শিপন সাহা বলেন, ‘এসি নষ্ট থাকায় এই গরমে একেবারে কাহিল অবস্থা। কেননা, এটি একদম বদ্ধ ঘর। সব সময় গরম বাতাস।’

হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল করিম বলেছিলেন, ‘এসিগুলো ঠিক হয়ে যাবে।’ কবে নাগাদ ঠিক হবে, জানতে চাইলে বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে।’ তাঁর সঙ্গে কথা বলার এক দিন পর গতকাল শুক্রবার বিকেলে বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, দুটি কক্ষে চারটি বড় স্ট্যান্ডযুক্ত ফ্যান সরবরাহ করা হয়েছে। এদিকে আজ  ভর্তি রোগীদের মধ্যে একজন দগ্ধ রোগী মারা গেছেন। দুজনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

শেরপুর থেকে ট্রাকে করে কর্মস্থলে ফেরার হিড়িক, চরম ভোগান্তি

জুবাইদুল ইসলাম, শেরপুর:

শেরপুর থেকে ট্রাকে করে কর্মস্থলে ফেরার হিড়িক, চরম ভোগান্তি

শিল্প-কারখানা খোলার খবরে শেরপুর থেকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের কর্মস্থলে ফেরার হিড়িক পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। 

শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকেই মানুষ ভিড় করছে শহরে। লকডাউনের কারণে বাস বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ট্রাক, লেগুনা, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা, ভ্যানগাড়ি- যে যা পাচ্ছেন সেটি করেই ভেঙে ভেঙে ঢাকায় ছুটছেন কর্মজীবী মানুষরা। এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না মানুষের ঢাকামুখী জোয়ার।

রোববার দুপুরে শহরের নবীনগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই ১ আগস্ট থেকে শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণায় শেরপুর জেলাসহ পাশ্ববর্তী জামালপুরের বকশীগঞ্জ, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীরা ঢাকায় ফিরতে শেরপুর শহরে পৌঁছে ভিড় করছে।

অনেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রিজার্ভ করে শহরে আসছেন। এরপর ট্রাকে বা অন্য যে পরিবহন পাচ্ছেন সেটি দিয়েই যাচ্ছেন ঢাকায়। যাত্রীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই দেখা যায়নি। 

এদিকে ২শ টাকার ভাড়া ৮শ থেকে ১২শ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে। এ অবস্থায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছে এসব যাত্রীরা। এদিকে হঠাৎ বৃষ্টিতে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। খোলা ট্রাকে বৃষ্টিতে ভিজেই ঢাকা যেতে হচ্ছে যাত্রীদের। কিছু কিছু ট্রাকের উপর পলিথিন থাকলেও তা দিয়ে বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। 

ঢাকামুখী যাত্রী শ্রীবরদী উপজেলার আবু বকর বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আইছিলাম। হঠাৎ আমার কারখানা খোলা দিছে। এখন যেভাবেই হোক আজই ঢাকায় যাইতে হবে। বাস বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে ট্রাকে কইরা যাইতেছি। 

এরা ভাড়া বেশি চাইতাছে। কিন্তু কি করার, যাইতেই হইব। পৌরশহরের উত্তর গৌরীপুর মহল্লার বাসিন্দা গার্মেন্টস কর্মী আছমা আক্তার বলেন, কারখানা বন্ধ থাকায় বাপের বাড়িতে ঈদের ছুটিতে আইছিলাম। এখন রোববার থেকে কারখানা খোলা দেয়ার কারণে কষ্ট কইরাই ঢাকা রওনা হইছি। কাইলকা সকালে অফিসে যাবার না পাইলে চাকরি থাকব না। 

কুড়িগ্রামের রৌমারা থেকে আসা যাত্রী আব্দুল মোতালেব জানান, রৌমারী থেকে ভেঙে ভেঙে শেরপুর আসতেই সাড়ে ৪শ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখন ঢাকার ভাড়া চাইতেছে কেবিনে ১২শ আর পেছনে খোলা বডিতে ৮শ টাকা। এত টাকা দিয়া কেমনে যামু বুঝতাছি না। 

এ ব্যাপারে ট্রাকের ভাড়ার টিকেট কাটার সময় শেরপুর জেলা ট্রাক চালক-শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দেওয়া আবুল হাশেম বলেন, আমরা বেশি ভাড়া নিতেছি না। ৩শ/৪শ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী নিয়ে গেলে রাস্তায় পুলিশে ঝামেলা করে, অনেক সমস্যা। তারপরও যাত্রীর চাপ থাকায় আর বাস না চলার কারণে ট্রাক যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:


দেশে একদিনে করোনায় মৃত্যু বাড়ল

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১২ দিন পর চালু


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে জনস্রোত

শফিকুল ইসলাম শামীম, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে জনস্রোত

গণপরিবহন বন্ধ। রোববার থেকে খোলা থাকবে রপ্তানিমুখি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান মালিকদের কঠোর নির্দেশ। রোববার কাজে যোগ দিতে হবে। সুতরাং কাজ রক্ষাতে, কাজে যোগ দেওয়ার জন্য ছুঁটছে কর্মমুখি মানুষ। 

মহাসড়কে গণপরিবহন না থাকায় পায়ে হেঁটে, ট্রাক, অটোটেম্পু সহ ইঞ্জিন চালিত যানবাহনে ওপর নির্ভর করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মমুখি হচ্ছে দক্ষিণ পশ্চিঞ্চলের ২১ জেলার সাধারণ মানুষ। গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

আজ শনিবার সকালে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় গিয়ে ঘাট সংশ্লিষ্ট এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া হয়।  

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, লকডাউন চলমান সময় পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি যানবাহন নদী পারাপার করার জন্য ৩টি ছোট ও ৩টি বড় ফেরি পালাক্রমে চলাচল করছে। কিন্ত ঢাকামুখি যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ থাকার কারণে শনিবার সকাল থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৪টি ছোট বড় ফেরি চলাচল করছে। তবে এই নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
  
এ সময় পাংশা থেকে ঢাকাগামী এক নারী বলেন, হঠাৎ অফিসের ফোন। মোবাইল ধরতে উপর পাশ থেকে বলা হলো রোববার অফিস। যেভাবে পারো ঢাকা চলে আসো। কিন্ত রাস্তায় তো গাড়ি নেই। তাহলে আমরা কিভাবে ঢাকায় যাব। বাধ্য হয়ে ভ্যানে পাংশা থেকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের উদ্দ্যোশে এসেছি। ভ্যান চালক পুলিশের ভয়ে ফেরি ঘাটের ৩কিলোমিটার দূরে নামিয়ে দেওয়ার কারণে পায়ে হেঁটে আসতো হলো। 

তিনি আরও বলেন, দুর্ভোগের কথা কিভাবে বুঝাব। কোলের শিশু বাচ্চা নিয়ে অনিশ্চয়তার পথে। কখন, কিভাবে যাব এর নিশ্চয়তা নেই। এর চেয়ে দুর্ভোগ আর কি?

কামারখালী থেকে ঢাকাগামী এক পোশাক শ্রমিক বলেন, কর্ম বাঁচাতে ঢাকামুখি। ঘরে বসে থাকলে কি আর কর্ম থাকবে। সুতরাং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকার পথে। সকাল ৭টার সময় বাড়ি থেকে বের হয়েছি। এখন ১২টা, তবুও ফেরি পার হতে পারি নাই। 

তিনি আরও বলেন, সহজে ফেরি পার হতে পারলেও পাটুরিয়া ঘাট থেকে কিভাবে যাব এই চিন্তা করছি।  

কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এক নারী বলেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ ঢাকামুখি মনুষের দুর্ভোগ ছাড়া কিছু নয়। তিনি বলেন, ইচ্ছা করলে তো ঢাকায় চলে যাওয়া যায় না। রপ্তানীমুখি প্রতিষ্ঠান গুলো খুলে দেওয়া হলো এর সাথে গণপরিবহন খুলে দিলে ঢাকা মুখি মানুষের কষ্ট কিছুটা কমে আসতো। 

নাসিফ নামের এক যাত্রী বলেন, সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু গণপরিবহন ছাড়া। সব কিছু যেহেতু খুলে দিলেন সেই সাথে গণপরিবহন খুলে দেওয়া প্রয়োজন ছিল। গণপরিবহন খুলে না দেওয়া ঢাকামুখি যাত্রীদের দুর্ভোগ ২/৩ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। সাথে অতিরিক্ত টাকাও ব্যয় হচ্ছে। 

বাংলাদেশ অভ্যান্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. শিহাব উদ্দিন জানান, রপ্তানিমুখি প্রতিষ্ঠান গুলো খুলে দেওয়ার কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকা মুখি যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ রয়েছে। তবে ফেরি পারের অপেক্ষায় কোন প্রকার যানবাহন নেই। 

আরও পড়ুন:


জলাবদ্ধতার সাথে মশা, ব্যাঙ বিষাক্ত প্রাণীর সাথে বসবাস

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১২ দিন পর চালু


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনায় ঢাকামুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়

নেত্রকোনা প্রতিনিধি:

নেত্রকোনায় ঢাকামুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়

১৪ দিনের লকডাউন শেষ হওয়ার আগেই গার্মেন্টস খুলে দেয়ার খবরে নেত্রকোনায় ঢাকামুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পায়ে হেঁটেই রওনা দিয়েছেন ঢাকার উদ্দেশ্যে। 

শনিবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ঢাকাগামী কর্মজীবী মানুষ বিরামহীন ছুটে চলেছেন। যদিও পৌর শহরে সিএনজি ইজিবাইক চলাচল অনেকটাই বন্ধ রয়েছে।

এমন অবস্থায় চাকরি বাঁচাতে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে ছুটছেন তারা। এদিকে মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন জেলা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এমন অবস্থায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন:


জলাবদ্ধতার সাথে মশা, ব্যাঙ বিষাক্ত প্রাণীর সাথে বসবাস

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১২ দিন পর চালু


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহে ভোগান্তি উপেক্ষা করে ঢাকায় ছুটছে মানুষ

শেখ রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ:

ঝিনাইদহে ভোগান্তি উপেক্ষা করে ঢাকায় ছুটছে মানুষ

ঝিনাইদহে ভোগান্তি উপেক্ষা করে ঢাকা শহরের উদ্দেশ্যে ছুটতে মানুষ। চলমান কঠোর লকডাউনের মাঝেও কলকারখানা খোলার ঘোষণায় মহাসড়কে বেড়েছে মানুষের ঢল। আজ শনিবার সকাল থেকেই ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ঢাকাগামী যাত্রীদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। 

বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন স্থান থেকে ইজিবাইক, ভ্যান রিক্সা যোগে টার্মিনালে এসে ভীড় করছে তারা। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে এই কর্মজীবী মানুষ। 

কাজে যোগ দিতে ইজিবাইক, মাহেন্দ্রসহ ছোট ছোট যানে ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে তাদের। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে সেখান থেকে নতুন বাহনে ছুটছেন তারা। 

যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। কয়েকগুন বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাদের। যানবাহন না পেয়ে অনেককে বসে থাকতে দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ ট্রাফিট ইন্সপেক্টর সালাহউদ্দিন জানান, সকাল থেকে টার্মিনালে মানুষের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা ছোট ছোট যানবাহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন:


জলাবদ্ধতার সাথে মশা, ব্যাঙ বিষাক্ত প্রাণীর সাথে বসবাস

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১২ দিন পর চালু


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

শিল্প কলকারকানা খোলার খবরে

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

রাহাত খান, বরিশাল:

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকামুখি মানুষের ঢল নেমেছে। আগামীকাল পহেলা আগস্ট থেকে গার্মেন্ট খোলার খবরে ঢাকা ছুটছেন তারা। কিন্তু লকডাউনে অভ্যন্তরীন ও দূরপাল্লরা রুটের লঞ্চবাস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। 

বাধ্য হয়ে ট্রাকে, পিকাপে, নসিমন, করিমন, মোটরসাইকেল, থ্রি হুইলার, ট্রাক্টর এমনকি ভ্যানেও তারা রাজধানীর দিকে ছুটছেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পলিথিন টাঙিয়ে বৃষ্টির হাত থেকে পরিত্রান পাওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। 

গার্মেন্ট খোলার খবরে আজ সকাল থেকে দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত নেমেছে। সকালে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয় ঢাকার যাবার জন্য। দক্ষিণের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্যানে, রিক্সায়, পিকাপে, ট্রাকে যে যেভাবে পেরেছে বিভাগীয় সদর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে পৌঁছেছে। 

বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভীর আরও বাড়তে থাকে। ঢাকামুখি বেশীরভাগ মানুষই গার্মেন্ট শ্রমিক। কিন্তু লকডাউনের কারণে সব ধরনের লঞ্চ-বাস বন্ধ থাকায় বিপকে পড়েন তারা। কোন উপায়ন্ত না পেয়ে এক পর্যায়ে তারা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহাসড়কে পণ্যবাহি ট্রাক চলাচলে বাঁধা দেয় এবং বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে নগরীর বিমান বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু সময়ের মধ্যে পণ্যবাহি যান চলাচল স্বাভাবিক করে। 

এ সময় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা জানান, সরকার পহেলা আগস্ট থেকে শিল্প কলকারখানা খুলে দিয়েছে। শিল্প মালিক কর্তৃপক্ষ যথা সময়ে শ্রমিকদের কারখানায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এ কারণে তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে ছুটছেন। কিন্তু লঞ্চ-বাস বন্ধ থাকায় কিভাবে তারা ঢাকা যাবেন তা নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। 

এ কারণে দুর্ভোগ সহ্য করে ট্রাকে, পিকাপে, ভ্যানে, মোটরসাইকেলে, থ্রি হুইলারে এমনকি ট্রাক্টরেও ঢাকার উদ্দেশ্যে ছুটছেন তারা। এর মধ্যে অনেক নারী যাত্রীও রয়েছেন। লকডাউনের মধ্যে শিল্পকলকারখানা খুলে দেয়ার সমালোচনা করেন তারা। ভুক্তভোগীরা সাময়িক সময়ের জন্য লকডাউন স্থগিত করে দূরপাল্লার লঞ্চ-বাস চালুর দাবি জানান।  

বরিশালের বিমান বন্দর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) বিপ্লব মিস্ত্রী বলেন, শিল্প খুলে দেয়ায় সবাই ঢাকা ছুটছেন। এ কারণে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালে ভীর হয়েছে। কিন্তু লকডাউনে সব কিছু বন্ধ থাকায় তারা যেতে পারছেন না। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন তারা। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া কথা বলেন তিনি।

বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার কয়েক লাখ মানুষ ঢাকার বিভিন্ন শিল্প কলকারকানায় চাকুরি করেন। গেল ঈদের সময় ৪ দিনের জন্য লকডাউন শিথিল করায় তাদের বেশীরভাগ মানুষ বাড়ি ফিরেছিলেন। এখন দুর্ভোগ সাথে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন তারা। 

আরও পড়ুন:


পর্যটকদের জন্য খুলছে সৌদির দরজা

বাংলাদেশসহ চার দেশে দুবাইগামী ফ্লাইট বন্ধ ৭ আগস্ট পর্যন্ত

স্বামীর পর্নকাণ্ড: মানহানির মামলা নিয়ে শিল্পাকে আদালতের ভর্ৎসনা

হেলেনাকে সম্মানের সঙ্গে ছাড়তে বললেন সেফুদা


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর