জ্ঞানদাতাদের বলছি নিজের চরকার জং পরিষ্কার করেন

এমি জান্নাত

জ্ঞানদাতাদের বলছি নিজের চরকার জং পরিষ্কার করেন

এমি জান্নাত

বিবাহিত, সন্তানের মা এবং কর্মজীবী মেয়েদের উদ্দেশে কমন প্রশ্ন হলো- সংসার, বাচ্চা রেখে চাকরি করেন কেন? প্রশ্নকর্তাদের উত্তর দিতে আসলে কেউই আমরা বাধ্য নই। 

কিন্তু চোখে আঙুল দিয়ে কিছু ভুলভাল নিম্নশ্রেণির চিন্তাধারা ধরিয়ে দেওয়াটা দায়িত্ব মনে করছি। আর সেই সূত্রেই উত্তরগুলো দিচ্ছি-

প্রথমত, সংসার ফেলে কেউ চাকরি করে না বরং সংসারে নিজের অস্তিত্ব এবং অবদান তুলে ধরতে চাকরি করে।

দ্বিতীয়ত, বাচ্চা ফেলেও মায়েরা চাকরি করে না, সন্তানের কাছে নিজের জায়গাটা দৃঢ় করতে এবং তার একটা সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংসার আর চাকরি ব্যালান্স করে চাকরি করে।

তৃতীয়ত, সুশিক্ষিত একটা মেয়েকে ঘরে বসিয়ে রেখে ঠিক কি হিসেবে ব্যবহার করতে চান সেই মহৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে না দেওয়ার জবাবে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মেয়েরা চাকরি করে অথবা শিক্ষা কম হলেও নিজের গুণাবলী দিয়ে একটা পরিচিতি তৈরি করে।

আর চতুর্থত, যে স্বামীর হাজার বা লাখ বা কোটি টাকার উপর সব আশা ভরসা ছেড়ে দিয়ে নিজেকে নিজের কাছে এবং সবার কাছে অপদার্থ টাইপ কিছু বানানোর প্রচেষ্টা চলে, সেই স্বামী আপনারে ছেড়ে দিবে না বা আপনি তারে ছাড়বেন না সেই গ্যারান্টি দিলেও বিশ্বাস করি না। যুগ যুগ ধরে ভালোবাসার বহুত সংসারের ইতি ঘটতে দেখেছি তো!

আরও পড়ুুুন: 


মহাখালীর সাততলা বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে, সহস্রাধিক ঘর ভস্মীভূত

 যার জন্য বিয়ে করা ফরজ

 মহেশখালীতে পাহাড় ধসে প্রাণ গেল আড়াই বছরের শিশুর

 ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ আজ


যাই হোক, জ্ঞানদাতাদের বলছি, আপনাদের সবার চাইতে নিজের সংসার আর সন্তানের প্রতি মেয়েদের এবং মায়েদের ভালোবাসাটা অনেক বেশি। তাই এসব আজাইরা প্রশ্ন এবং আলগা পিরিতি না দেখাইয়া নিজের চরকার জং পরিষ্কার করেন।যারা নিজের পরিচিতি তৈরি করেননি বা করতে পারেননি তাদেরকেও জীবনের কোনো না কোনো সময় নিজের অস্তিত্বের প্রশ্নের সামনে দাঁড়াতে হয়।

সময় থাকলে সেটা কাটিয়ে উঠে অনেকেই নিজের অবস্থান তৈরি করে নেন আর সময় এবং আত্মবিশ্বাস ফুরিয়ে গেলে আফসোস করে কাটাতে হয়। যারা বলবেন আফসোস নেই, ডাহা মিথ্যা কথা! স্বান্তনা পুরষ্কার আর কী! তাই সময় থাকতেই ভাবেন।

লেখক: এমি জান্নাত (সাংবাদিক)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

জানিনা সামনে কি সময় আসছে

ডাঃ গুলজার হোসেন

জানিনা সামনে কি সময় আসছে

জানিনা সামনে কি সময় আসছে। গত দুইদিন ধরে বেশ কিছু রোগী রেফার্ড হচ্ছে আমার কাছে। এরা হাসপাতালে ভর্তি রোগী। কোভিড পজিটিভ। কেউ কেউ সাস্পেক্টেড কোভিড৷ কেউ কেউ আই সি ইউতে আছেন৷ 

 এদের প্লেইটলেট অনেক কম। পঞ্চাশ হাজারের আশেপাশে।  সেকারণেই আমার কাছে রেফার করছে মতামতের জন্য। আমি জ্বরের ইতিহাস অনুযায়ী এন্টিজেন এবং এন্টিবডি পরীক্ষা করে পেলাম এদের ডেংগি হয়েছে। 

হাসপাতালে ভর্তি হয়ে এরা এর মধ্যেই দুই চারদিন রেমডিসিভির ইঞ্জেকশন, চামড়ার নিচে ব্লাড থিনার ইঞ্জেকশন সহ নানারকম ফর্দ করা ইঞ্জেকশন ও ওষুধ নিয়ে ফেলেছে। একজনের  এই ফাঁকে রক্তক্ষরণও শুরু হয়েছে৷ 

একটু চিন্তিত বৈকি। জাহিদুর রহমান  ভাই এবং Maliha কে ফোন দিলাম কোনভাবে কি ডেংগি পেশেন্টের শরীরে ডেংগি ভাইরাস থাকবার কারণে করোনা পরীক্ষা ফলস পজিটিভ আসতে পারে? দুজনই মত দিলেন 'না, পারেনা'। (ফলস পজিটিভ এমনিতেই নানা কারণে আসতে পারে। সে প্রসংগ আলাদা।)  
তার মানে এই রোগীদের দুটোই হয়েছে।  কোভিড ১৯ এবং ডেংগি। 

আসলে না হবার তো কারণ নেই। বাংলাদেশ, বিশেষ করে ঢাকা ডেংগির এন্ডেমিক জোন। এটা দূর হবেনা, থেকে যাবে। ইতিহাস তো এটাই বলে। যেখানে ডেংগি ঢুকেছে আর বের হয়নি। ফিরে ফিরে এসেছে। হয়ত দুই এক বছর প্রকোপ কম ছিলো।
 
গতবছর মশক নিধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থবির জনজীবনের কারণে ডেংগিবাহী মশা বংশ বিস্তারের মওকা পেয়েছে৷ মানুষ বাড়িতে থাকে। দিনের বেলায় কাজ নেই, শুয়ে,বসে,ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে৷  হাসপাতাল রোগীতে ভর্তি। এক রোগী থেকে আরেক রোগীতে ছড়ানোও বেশ সহজ। ডেংগির প্রকোপ বাড়ার বিস্তর কারণ বিদ্যমান। 

সমস্যা আরো। দেখা গেল রোগী এসেছে জ্বর নিয়ে।  সবার নজর কোভিডে। কোভিড পরীক্ষা হলো।  পরীক্ষায় দেখা গেল পজিটিভ। ব্যাস,  রোগ তো পেয়ে গেলাম। দশ-বারোটি ওষুধ ছড়ড়া গুলির মত চালু হয়ে গেল। চামড়ার নিচে ব্লাড থিনার। এদিকে কোন ফাঁকে প্লেইটলেট কমে, উপরি হিসেবে ব্লাড থিনার পেয়ে শুরু হলো রক্তক্ষরণ। পরশু একটা রোগীকে এভাবে হারালাম। 

অর্থাৎ কোভিডের সাথে যে ডেংগি কো-ইনফেকশন হিসেবে আসছে,  আসতে পারে এবং আসতেই পারে এটাই মাথায় রাখতে হচ্ছে এখন।
হাসপাতালে করোনা রোগীরা আছে। হাজার হাজার টাকার এন্টিভাইরাল দিচ্ছেন। লাখ টাকার টসিলিজুম্যাব। সাথে দুইশ টাকার একটা মশারিও দেন। 
বাড়িতেও মশারি খাটান।  এটুকুই বলার ছিলো।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

ডা. গুলজার হোসেন, রক্তরোগ ও রক্তক্যান্সার বিশেষজ্ঞ|

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আর তাতে নেশা ফেশা কিছুই হবে না!

তসলিমা নাসরিন

আর তাতে নেশা ফেশা কিছুই হবে না!

পোস্ত আমাদের পূর্ব বঙ্গের খাবার নয়। তারপরও আমি মাঝে মাঝে  ঝিঙে পোস্ত রান্না করি। আজ প্রথম করলাম পোস্ত বড়া। যেহেতু ছোটবেলা থেকে পোস্ত বড়া খেয়ে অভ্যস্ত নই, তাই আমার ঘটি বন্ধুদের মতো নাচানাচি করিনি। খেয়েছি, ব্যস। নতুন একটা রান্না শিখলে যে আনন্দ, সেই আনন্দটুকুই শুধু হলো। 

হতো যদি আজ সেইসব বড়া, যেগুলো মা বানাতো, যেগুলো এখনও মুখে লেগে আছি, তাহলে নাচানাচি নিশ্চয়ই কিছুটা হতোই। আজ তবে কী দুঃখে পোস্ত বড়া বানাতে গেলাম? একটাই দুঃখে, দু'তিনদিন ঘুম ভালো হচ্ছে না। 

হচ্ছে না না বলে আসলে বলা উচিত নিজেকে আমি ঘুমোতে দিচ্ছি না। জীবনের সময় ফুরিয়ে আসছে বলে বালিশেই মাথা রাখছি না। বালিশে আমার মাথা মানেই দেড় মিনিটের মধ্যে গভীর ঘুমে চলে যাওয়া।দেখি পোস্ত আমার মাথাকে টেনে বালিশে নিতে পারে কিনা। 

অপিয়ামের বীজ। ভাবলেই গা কেঁপে ওঠে। যে অপিয়াম থেকে মরফিন আর হেরোইনের মতো ভয়াবহ জিনিস বেরোয়, সে অপিয়ামের বীজ মুঠো মুঠো খেয়ে নেব আর তাতে নেশা ফেশা কিছুই হবে না, শুধু একটু মাথা আর বালিশ হলেও হতে পারে,  ভাবাই যায় না।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 

আরও পড়ুন:


দেশে একদিনে করোনায় মৃত্যু বাড়ল

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১২ দিন পর চালু


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

পৃথিবী-মানবজাতি রক্ষায় সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে ভাবার বিকল্প নেই

শান্তা আনোয়ার

পৃথিবী-মানবজাতি রক্ষায় সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে ভাবার বিকল্প নেই

শান্তা আনোয়ার

১৯৭২ সালে, এমআইটি থেকে বিজ্ঞানীদের একটি দল ক্লাব অফ রোম নামের একটি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী নেতা এবং রাজনীতিবিদদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে দায়িত্ব পাওয়ার পরে মানবজাতির ভবিষ্যত কেমন হতে যাচ্ছে তা জানার জন্য একটি কম্পিউটার মডেল ব্যবহার গবেষণা করেছিল।  

জনসংখ্যা, শিল্প উৎপাদন ও খাদ্য উৎপাদন দূষণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে জটিল মিথস্ক্রিয়াগুলি থেকে এই গবেষণার ভবিষৎবাণী করা হয়েছিলো। 

গবেষণায় দেখা যায় যে, যাকে আমরা "স্থিতিশীল বিশ্ব" পরিস্থিতি বলি-যেখানে বিশ্বব্যাপী সামগ্রিক পতন যেমন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক মূল্যবোধ, স্বাস্থ্য ইত্যাদি পতন এড়ানো এবং জীবনযাত্রার মান স্থিতিশীল রাখা তখনি সম্ভব হতে পারে, যদি সামাজিক মূল্যবোধগুলিতে অগ্রাধিকার দিয়ে নাটকীয় পরিবর্তন আনা হয়। 

পরিবেশকে ধ্বংস করে তথাকথিত অর্থনৈতিক বিকাশ অব্যাহত থাকলে তা খাদ্য সংকট সৃষ্টি করতে পারে এবং এমন সমাজ তৈরি করতে পারে যা মানব কল্যাণকে ডুবিয়ে দিতে দেবে। 

যেই সময় এমআইটির এই গবেষণাটা প্রকাশিত হয়েছিলো তখন সেটাকে নিয়ে তুমুল সমালোচনা এবং বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিলো। তবে আজকের বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে দেখলে অনুধাবণ করা যায় যে এম আইটির গবেষণার ভবিষ্যদ্বাণীটি বিস্ময়করভাবে সঠিক ছিলো।

২০২০ সালের নভেম্বরে জার্নাল অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোলজিতে হিসাবরক্ষণ সংস্থা কেপিএমজির পরিচালক গয়া হেরিংটন এর প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কীভাবে গত কয়েক দশকের তথ্য ও উপাত্ত এম আইটির গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলকে সমর্থন করছে।  

গত কয়েক দশকের ডেটা বিশ্লেষণ করে, তিনি চারটি পৃথক সম্ভাব্য সিনারিও বা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছিলেন: প্রথম দুটি সিনারিও ছিল দুটি ভিন্ন ভিন্ন “বিজনেস এজ ইউজুয়াল” পরিস্থিতি বা যেভাবে সবকিছু চলছে সেভাবেই সবকিছু চালানো, তৃতীয় পরিস্থিতি বা সিনারিও ছিল একটি "স্থিতিশীল বিশ্ব পরিস্থিতি," এবং চতুর্থ সিনারিও ছিল “কম্পরেহেন্সিভ প্রযুক্তি নির্ভর” পরিস্থিতি , যেখানে মানবিক প্রযুক্তিগত বিকাশ ব্যবহার করে উন্নয়নের কারণে পরিবেশগত বিপর্যয়কে মোকাবেলা করার পথকে উদ্ভাবন করতে মানবজাতি সক্ষম হয়েছে । 

প্রথম দুই ধরণের  “বিজনেস এজ ইউজুয়াল পরিস্থিতি” বা যেই পরিস্থিতির মধ্যে আমরা ছিলাম তা চললে একবিংশ শতাব্দীর মধ্যে তা সামগ্রিক বৈশ্বিক পতনের সূত্রপাত করবে বলে দেখা গিয়েছিল। 

প্রথম দুইটা সিনারিওর একটি সিনারিওতে প্রাকৃতিক সম্পদ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার কারণে এবং দ্বিতীয় সিনারিওতে দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন বা পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে কম্প্রিহেন্সিভ প্রযুক্তি পরিস্থিতি যা পরিবেশগত বিপর্যর মোকাবেলায় সক্ষম ছিলো তা একবিংশ শতাব্দীর পুরোটায় তার পতন এড়াতে সক্ষম হয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে এই গবেষণার মানবকল্যাণ হ্রাস পেয়েছিল।

আরও পড়ুন:


হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হচ্ছে

মেঘনায় ট্রলার ডুবে জেলের মৃত্যু, জীবিত উদ্ধার ১১

পর্যটকদের জন্য খুলছে সৌদির দরজা

বগুড়ার গাবতলীতে ৩০০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ


স্থিতিশীল বিশ্ব পরিস্থিতি সিনারিওতে, যেখানে বিশ্ব নাটকীয়ভাবে সামাজিক মূল্যবোধ এবং অগ্রাধিকারগুলি পরিবর্তন করেছে, সেই মডেল বা সিনারিও অনুসারে একবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে মানুষের জনসংখ্যা স্থিতিশীল হয়ে পড়েছিল এবং জীবনযাত্রার মান বজায় ছিল।

পৃথিবী রক্ষায়, মানবজাতিকে রক্ষায় আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবার কোন বিকল্প নাই।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ভুল করে ইতালিতে এক নারীকে ৬ ডোজ ফাইজারের টিকা দেয়া হয়েছিল

শওগাত আলী সাগর

ভুল করে ইতালিতে এক নারীকে ৬ ডোজ ফাইজারের টিকা দেয়া হয়েছিল

পৃথিবীর বিভিন্ন  দেশে কোভিড এর টিকা  দিতে গিয়ে টুকটাক ভুল ভ্রান্তি হচ্ছে। ইতালী প্রবাসী সাংবাদিক পলাশ রহমান ফেসবুকে এক পোষ্টে জানিয়েছেন,”ইতালিতে এক নারীকে এক সাথে ৬ ডোজ ফাইজারের টিকা দেয়া হয়েছিল ভুল করে। বিষয়টা যখন বোঝা যাওয়ার সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পর্যবেক্ষণে রাখা হয় দুদিন। বিশেষ কোনো অসুবিধা না হওয়ায় তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। আরো কিছু দিন নিয়মিত তার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেয়া হয় টেলিফোনে।

ওই নারী সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। ৬ ডোজ টিকার জন্য তাকে বিশেষ কোনো অসুবিধায় পড়তে হয়নি। প্রায় একই রকম ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি এবং সিঙ্গাপুরেও ঘটেছে।”

কানাডায় কোভিডের টিকা  দিতে গিয়ে ’স্যালাইন ওয়াটার’ দিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ১৮ বছরের কম বয়ষী ডজনখানেক ছেলে মেয়েকে ভুল টিকা দেয়া হয়েছে। আঠারোর কম বয়েসীদের জন্য যখন কেবলমাত্র ফাইজারের টিকা  অনুমোদিত তখন এই ছেলেমেয়েদের মডার্নার টিকা দেয়া হয়েছে ভুল করে। 

এই ভুলটা নানা দেশেই হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে ব্যবস্থা নিয়েছে, সতর্ক হয়েছে যাতে আর কেউ কোনো ধরনের ভুলের শিকার না হন।

একটা বিশ্বমহারীতে গণটিকার ক্ষেত্রে দু একটি ভুলের ঘটনা যাতে টিকা বিরোধী ক্যাম্পেইনে পরিণত না হয়, সে দিকে নজর রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

শিক্ষিত কে?

হারুন আল নাফিস

শিক্ষিত কে?

শিক্ষিত কে? যে শিখেছে বা শিক্ষা সম্পন্ন করেছে সে? না যে পড়ালেখা করেছে বা জানে সে? বাংলায় যে পড়ালেখা করেনি তাকে বোঝানোর জন্য একটি শব্দ আছে- আনপড় বা আনপড়া। হিন্দিতেও আছে শব্দটি। আগে গ্রামে-গঞ্জে এই শব্দটি বেশি ব্যবহার হত। পরে পরে অশিক্ষিত শব্দটি এর জায়গা দখল করে নিয়েছে।

আধুনিক যুগে, অক্ষর বা লিখিত শিক্ষা পদ্ধতি আবিষ্কার ও চালুর পর অক্ষর না চেনা বা লিখতে না পারা মানুষদের নিরক্ষর বলার চল হয়েছে। তবে অশিক্ষিতই বলা হয় বেশি। ‘শিক্ষা’ প্রসারের সাথে স্বল্প শিক্ষিত মানুষদের আমরা তাচ্ছিল্য ভরে অশিক্ষিত বলে তৃপ্তি বোধ করি।

প্রশ্ন হলো এর আগে কি সব মানুষ অশিক্ষিত ছিল? নিশ্চিয়ই না। তবে তারা আনপড় ছিলো। মানুষ জন্মের পর থেকেই, এমনকি মায়ের পেটে থাকতেই শিখতে শুরু করে। এটা বৈজ্ঞনিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আর আমৃতু সে শিখতে থাকে। কাজেই কোনো মানুষকে সত্যিকার অর্থে অশিক্ষিত বলার কোনো সুযাগ নাই।

আনপড় হলেই বা পড়ালেখা না জানলেই মানুষ অশিক্ষিত হয় না, অজ্ঞানীও হয় না। জানাশোনার মাধ্যমে পরোক্ষ পাঠ, অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি বিভিন্ন উপায়, সর্বোপরি ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা’ মানুষকে শিক্ষিত ও জ্ঞানী করে তুলতে কার্পণ্য করে না।

আবার পড়ালেখা জানলেই মানুষ জ্ঞানী হয় না। শুধু তাই নয়, নামে হলেও সত্যিকার শিক্ষিতও হয় না। তবু বারবার হতাশ হওয়ার পরও কেন জানি আমরা শিক্ষিত নামধারী হলেই তার কাছ থেকে শিক্ষা ও জ্ঞান লাভের মিছে আশা করা থেকে বিরত হতে পারি না।

পড়ালেখা একটা বিদ্যা মাত্র। আর দশটা বিদ্যার মতোই। যেমন, চুলকাটা বিদ্যা, জুতা সেলাই বিদ্যা, রিকশা চালানো বিদ্যা, আসবাবপত্র বানানোর বিদ্যা আরও কত কী! আর ঠিক মতো পড়ালেখা না করে বিকল্প পদ্ধতিতে পাস করলে শিক্ষা দূরে থাক বিদ্যাই আয়ত্ত হয় না।

তবে হ্যাঁ, পড়ালেখা জানলেই কেউ জ্ঞানী না হলেও তার জন্য হওয়াটা সহজ হয়ে যায়। জ্ঞানী হওয়ার পথ খুলে যায় পড়ালেখা জানা মানুষের সামনে। কিন্তু এ পথে জ্ঞান লাভ করতে উদ্বুদ্ধ হয় এবং পরিশেষে সফল হয় এমন মানুষের সংখ্যা সবসময়ই বিরল।

মনে রাখা দরকার সনদধারী হলেই কাউকে ভাল মানের পড়ালেখা জানা মানুষ বলে মনে করারও কোনো কারণ নেই, শিক্ষিত বা জ্ঞানী হওয়া তো নয়ই। কেননা সনদের শ্রেণি এবং তা লাভ করার উপায় সম্পর্কে আমরা সবাই কম-বেশি জানি।

পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়া, প্রশ্নপত্র ফাঁস, চুরি বা নকল করে অথবা বেঞ্চের ওপর পিস্তল রেখে বই দেখে লেখা, পরীক্ষার পর ঘরে বসে উত্তরপত্র লেখা এবং টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট কেনা এ রকম বেশ কিছু পদ্ধতিতে পরীক্ষা পাসের বা শিক্ষিতের সনদ লাভের বিষয় ভুলে থাকলেই তো আর এসব মিথ্যা হয়ে যায় না!

শিখতে গিয়ে ভুল বা উল্টা শেখা মানুষের সংখ্যাও সমাজে একেবারে কম নয়। এ ছাড়া শিক্ষার অপব্যবহার তো আছেই। খেয়াল করলে দেখা যাবে মানুষ সুযোগ পেলে শিক্ষার অপব্যবহার করতে কসুর করে না। নীতি-নৈতিকতাহীন মানুষ শিক্ষার ব্যবহার নয়, অপব্যবহার করতেই আগ্রহী হয় বেশি।

আমরা দীর্ঘদিন থেকে সনদের ভারবাহী কিংবা গলায় সনদের ট্যাগ ঝুলিয়ে রাখা লোকদেরই কেবল শিক্ষিত বলার যে রেওয়াজ চালু করেছি তাতে করে শিক্ষিত নামধারী মূর্খরা যে সমাজের বিশাল ক্ষতি করে যাচ্ছে তা বুঝতে তো নিশ্চয়ই জ্ঞানী বা শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

পরবর্তী খবর