আপনার মাঝে আমি অচেনারে খুঁজি

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

আপনার মাঝে আমি অচেনারে খুঁজি

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

আমি ক্রমশ নিচে নেমে এসেছি উপরের মহানায়কদের অভিনয় দেখবো বলে। আমি  যত নিচে নামতে নামতে ছোট হয়েছি  মাটি ততই  আমাকে আঁকড়ে ধরেছে । এখন আমি মাটি হয়ে মানুষকে দেখি। তারা এখন আকাশ হয়েছে। তারার মতো তারকা হয়েছে।অথচ মাটির মতো শক্ত শেকড়কে তারা চিরকালের মতো হারিয়েছে।

তারা ভাবছে আমাকে ছোট করে তারা বড় হয়েছে। সেটা তাদের ভাবনা।যে ভাবনায় যুক্তি নেই, আবেগ নেই, দর্শন নেই। যে ভাবনায় কাপুরুষতা আছে, জড়তা আছে, ভীরুতা আছে। সে ভাবনা অবান্তর।মানুষ যতই ভাবুক তারা আমাকে ছোট করেছে, সেটা তাদের অলীক  কল্পনা। মিছে সুখ, মিছে স্বপ্ন, মিছে বিলাস। কারণ তারা সব সময় আমাকে ছোট করে দেখাতে যেয়ে তাদের মনস্তত্বকে বার বার আঘাত করেছে। নিজেদের প্রকৃত  চিন্তার সাথে প্রতারণা করেছে।

মানুষ মানুষকে ছোট-বড় করতে পারেনা। মানুষ ছোট হয় তার মহত্তে, মানুষ বড়  হয় তার উদারতায়।আমি নিজের সিদ্ধান্তে ছোট হয়েছি। যে ছোটত্বের বোঝা আমাকে দৃশ্যমান থেকে অদৃশ্যমান জীবনবোধের শক্তি দিয়েছে। যে শক্তি ছোট হয়, নিচু হয়, অবনত হয়।কিন্তু কখনো পলাতক আসামির মতো পালিয়ে বেড়ায়না। সেটা লড়তে জানে, পরাজিত হতে জানে, জিততেও জানে। 

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের "আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি" এর কয়েকটা শব্দ সে বোধের সন্ধান দেয় আমাকে এভাবেই-আমার বুকের মধ্যে হাওয়া ঘুরে ওঠে, হৃদয়কে অবহেলা করে রক্ত; আমি মানুষের পায়ের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে থাকি-তার ভেতরের কুকুরটাকে দেখবো বলে। আমি আক্রোশে হেসে উঠি না, আমি ছারপোকার পাশে ছারপোকা হয়ে হাঁটি, মশা হয়ে উড়ি একদল মশার সঙ্গে; খাঁটি"।

সব সময় ছদ্মনাম ব্যবহার করা চিরচেনা অথচ অচেনা মার্ক টোয়েনের অভিজ্ঞতাও তেমনই যেমন উনি বলেছেন "আমি যতই মানুষ চিনেছি, ততই কুকুরকে ভালোবেসেছি"। ঠিক তেমনি আমি যতই  মানুষ চিনেছি ততই ছোট হয়েছি।কারণ আমি প্রাসাদে বসে সুখ খুঁজতে চাইনা, আমি ডাস্টবিনের আবর্জনায় বসে জীবনকে দেখতে চাই।

২ 

আপনার মাঝে আমি অচেনারে খুঁজি। অচেনারে খুঁজতে খুঁজতে কোথায় হারিয়ে যাই তা আমি জানিনা। তারপরও খুঁজি। এমন করে অনুসন্ধান করতে গিয়ে  আমি নিজেকে যেখানটায় আবিষ্কার করি সেটা ভিন্ন একটা পৃথিবী। যে পৃথিবী একান্ত আমার আর কারো নয়  ।সে পৃথিবীর বাসিন্দা কেবল আমি আর কেউ নয়। 

সেটা মানুষের পৃথিবীর মতো এতো ছোট নয় ।সেটা অনেক গুণ  বড়।এতটা বড়  যে তার কোনো মানচিত্র থাকেনা।তবে সেখানে অসংখ্য কল্পনার শেকড় থাকে ।যে শেকড়কে মাটিতে শক্ত করে ধরে রেখে মানুষ একটার পর একটা কল্পনার বৃক্ষ গড়ে তোলে।  সে কল্পনার শক্তি মানুষের পৃথিবীর যে কোনো শক্তির চেয়ে অনেক বড়। তৃষিত হৃদয়ের কল্পনাশক্তি মানুষের ভিতরে নতুন নতুন  চিন্তার জন্ম দেয়।সে চিন্তা গতানুগতিক পৃথিবীর মতো নয়। সে চিন্তা মৌলিক চিন্তার অন্তর্গত। পৃথিবীর মানুষ যা আগে কখনো ভাবতে পারেনি এমন এক একটা  নতুন চিন্তা মানুষ   তার নিজের পৃথিবীর কল্পনাশক্তির নির্যাস থেকে   বের করে আনে।সে এক অভূতপূর্ব বিস্ময়, সে এক অলৌকিক শিহরণ, সে এক আপনা মাঝে শক্তি ধরো  নিজেরে করো  জয়ের মতো অভিজ্ঞতা। মানুষটা তখন সে পৃথিবীর সৃজনশীল মানুষ হয়।মানুষের পৃথিবী তার মূল্য দিবে কি দিবেনা মানুষটা সেটা কখনো ভাবেনা।কারণ সে জানে তার পৃথিবী তাকে ত্যাগ করতে শেখায় আর মানুষের পৃথিবী স্বার্থপর হতে শেখায়।স্বার্থপর পৃথিবী মানুষটার নিজের গড়া  পৃথিবী থেকে শুধু কেড়ে নিতে জানে, প্রতিদান দিতে জানেনা।পৃথিবীর মানুষ তাই হারিয়ে যায়, কিন্তু নিজের অচেনার মাঝে চেনা পৃথিবী গড়া মানুষটা বেঁচে থাকে কাল থেকে কালান্তরে, যুগ থেকে যুগান্তরে, মহাকাল থেকে মহাস্রোতে ।  মানুষ যদি নিজের পৃথিবী তৈরী করতে পারে তবে সে পৃথিবী মানুষের মনে স্বপ্ন তৈরী করে।সে স্বপ্ন মানুষটা নিজের স্বার্থে দেখেনা তার পৃথিবীর বাইরে মানুষের যে পৃথিবী রয়েছে  সে পৃথিবীর মুখোশ পরা মানুষগুলোর  জন্য দেখে।তাদের জন্য মানুষটা স্বপ্নের ঘুড়ি তার নিজের পৃথিবীর আকাশে উড়ায় যেন সে ঘুড়িটা   সুতো  ছিঁড়ে গোলকধাঁধার আবর্তে ঘুরতে ঘুরতে মানুষের পৃথিবীতে  উড়তে থাকে।আনন্দের বার্তা হাতে নিয়ে, সবার চোখের আয়নায়।তৃতীয় নয়নে।


মহাখালীর সাততলা বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে, সহস্রাধিক ঘর ভস্মীভূত

 যার জন্য বিয়ে করা ফরজ

 মহেশখালীতে পাহাড় ধসে প্রাণ গেল আড়াই বছরের শিশুর

 ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ আজ


তারপর ঘুড়িটা জীবের আবরণ ছেড়ে জীবন পেয়ে  পাখি হয়ে উড়ে বেড়ায় নীল আকাশ থেকে নীল আকাশে।শীতের দেশে, নদীর জলে, প্রকৃতির কোলে। তারপর কোনো এক মহাকাব্যের লেখক তার নিজের পৃথিবী ছেড়ে নেমে আসে মানুষের পৃথিবীতে। স্বপ্ন শুধু একটাই তার, যদি বদলানো যায় মানুষ।যদি বদলানো যায় মানুষের জীবন।যে জীবন সব বস্তুবাদী চিন্তাধারাকে বিসর্জন দিয়ে নিজের পৃথিবী গড়বে।প্রত্যেক মানুষের একটা নিজের পৃথিবী থাকে।তবে  নিজের মাঝে বাস করা অচেনা পৃথিবীকে কেউ খুঁজে পায়, কেউ পায়না।যারা পায় তারা কখনো কাউকে সেটা জানায় না, বরং সে পৃথিবী তৈরির বোধ তার মধ্যে তৈরী করে  ।আমি সেই পৃথিবী খুঁজে পেয়েছি কিনা জানিনা, তবে সে পৃথিবী যতই অচেনা-অজানা হোক, অন্তর্নিহিত হোক,  সে পৃথিবী খোঁজার মহাযজ্ঞে নামুক মানুষ। কারণ সে পৃথিবীর যারা মানুষ হতে পারে তাদের মতো মানুষ আর কেউ হতে পারেনা। নিজেকে যারা চিনতে পারে তারাই তো মানুষ আর যারা নিজেদের চিনতে পারেনা তাদের মতো অভাগা আর কেউ নেই।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং কিসের উপর ভিত্তি করে হয়?

রউফুল আলম

ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং কিসের উপর ভিত্তি করে হয়?

ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং কিসের উপর ভিত্তি করে হয়?

অনেকগুলো বিষয়কে বিবেচনা করা হয়। তবে প্রধাণত যে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দেয়া হয়-

এক. প্রতি বছর কী পরিমাণ গবেষণা আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত আর্টিকেলগুলোর আন্তর্জাতিক স্কেলে মান। এই আর্টিকেলগুলো কতোবার সাইট করা হয়—মোট সাইটেশন নাম্বার।

দুই. স্টুডেন্ট-ফ‍্যাকাল্টি অনুপাত। যেমন, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট-ফ‍্যাকাল্টি অনুপাত হলো ৫:১।

তিন. প্রতি বছর কি পরিমান ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়া হয়।

চার. ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও ছাত্র সংখ‍্যা কেমন। দুনিয়ার যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো র‍্যাঙ্কে এগিয়ে থাকে তাদের ক‍্যাম্পাসে একটা ডাইভারসিটি দেখা যায়। বহু দেশের স্টুডেন্টরা এসে পড়াশুনা করে। গবেষণা করে।

পাঁচ. আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে কতো সংখ‍্যক স্টুডেন্ট জব পায়, সেটা বিবেচনা করা হয়। এটা মূলত ইঙ্গিত করে যে একটা প্রতিষ্ঠান তরুণদেরকে কেমন মানের যোগ‍্য করে তুলছে। আমি যে বারবার বিশ্বমানের তারুণ‍্যের কথা বলি—এ জন‍্যই। আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলো থেকে স্টুডেন্টরা পাশ করে বের হয়েই যদি সরাসরি আন্তর্জাতিক যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোতে চাকরি পায়, তাহলে বুঝতে হবে আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলোতে বিশ্বমানের পড়াশুনা ও গবেষণা হচ্ছে।

ছয়. পড়াশুনা এবং গবেষণার মান সম্পর্কিত “একাডেমিক রেপুটেশন” জরিপ করা হয়।

বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের র‍্যাংকিং একই রকম হয় না। অবশ‍্যই কিছু হেরফের হয়। কিন্তু তাই বলে, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি যদি কোন তালিকায় দশম হয় অন‍্য তালিকায় একশো হবে না।


আরও পড়ুন:


 

নাসির আমার বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে: পরীমণি

জি-সেভেনের বিবৃতি চীনের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মারাত্মক হস্তক্ষেপ: বেইজিং

‘আটলান্টিক মহাসাগরে ইরানি নৌবহরের উপস্থিতিতে উদ্বিগ্ন শত্রুরা’

এমন ফ্রি-কিকে গোল মেসির দ্বারাই সম্ভব (ভিডিও)


 

আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে র‍্যাংকিং চিন্তা করার দরকার নেই। একটা প্রতিষ্ঠানকে যদি ইউনিভার্সিটি বলতে হয়, সেটার মৌলিক কতোগুলো ক্রাইটেরিয়া থাকে। আগে তো ফান্ডামেন্টাল বিষয়গুলো ঠিক করা চাই। তারপর আসে র‍্যাংকিং নিয়ে চিন্তা।

ক‍্যাম্পাসে গুণ্ডামি, দলাদলি, ছাত্র-শিক্ষক মিলে রাজনীতি, দেয়ালে দেয়ালে নেতা-নেত্রীর পোস্টার-শ্লোগান, শিক্ষক নিয়মে সীমাহীন অনিয়ম, গবেষণার জন‍্য নামমাত্র বরাদ্ধ, শিক্ষকের সংখ‍্যা বিবেচনা না করে গণহারে ছাত্র ভর্তি, ভিসি’দের সেচ্ছাচারিতা, ব‍্যাচেলর পাশ স্টুডেন্টদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ—এগুলো ইউনিভার্সিটি নামধারী কোন প্রতিষ্ঠানে থাকে না।

এগুলো ঠিক-ঠাক না করে, র‍্যাংক-ফ‍্যাংক নিয়ে চিন্তা করার কোন মানেই নাই! আগে তো খুঁটি, নাইলে চাল দিয়ে কি হবে?

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

প্রতিবেশীকে যে না জানে, দুনিয়াকে কী করে জানবে!

তসলিমা নাসরিন

প্রতিবেশীকে যে না জানে, দুনিয়াকে কী করে জানবে!

তসলিমা নাসরিন

পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের বড় বোনকে দিদি বলে ডাকে, অথবা না ডাকলেও দিদি মানে কী, তা জানে। মুসলমানদের মধ্যে দিদিকে বুবু ডাকার চল বেশ। 

আমার কিছু উপন্যাসে ছোটবোন বড়বোনকে বুবু বলে ডাকে। 'অপরপক্ষ' এবং 'ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে' -- এই দুটো উপন্যাসিকায় দু'বোনের কাহিনী বর্ণনা করেছি। ছোটবোন নূপুর বড়বোন যমুনাকে বুবু বলে। 

পশ্চিমবঙ্গে আমার ওই দুটো উপন্যাসিকা যারা পড়েছে, তারা অনেকেই আমার সঙ্গে কাহিনী নিয়ে আলোচনা করেছে। আমাকে কিন্তু বারবারই তখন  মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে হয়েছে। তারা ভেবেছে, আমার  কাহিনীর চরিত্র তিনজন, নূপুর, যমুনা আর বুবু। 

তারা বুবু যে দিদি জানে না, তারা মনে করে বুবু কারও নাম,  কারণ তাদের অনেকের  ডাক নাম বুবু। দুটো চরিত্রের মধ্যে কথোপকথন চলতে থাকলে ওরা কিভাবে তিনটে চরিত্রের  মধ্যে কথোপকথন চলছে ভেবে নেয়, আমার মাথায় ঢোকে না। 

একজন বললো, তোমার বইয়ে নূপুর একটু ভীরু, যমুনা ততটা ভীরু নয়, তবে বুবু বেশ সাহসী চরিত্র। আমি বললাম, বুবু আবার আলাদা চরিত্র কী করে হলো, যমুনাই তো নূপুরের বুবু, মানে দিদি!  কী বলছো? 

পাঠিকা অবিশ্বাস চোখে আমার দিকে তাকায়, যেন আমি মিথ্যে বলছি। দিদিকে যে বাঙালি- মুসলমানদের অনেকে বুবু ডাকে, এ তোমার জানা নেই? আকাশ থেকে পড়লো পাঠিকা, 

একেবারেই জানা নেই। তোমার রাজ্যের শতকরা তিরিশ ভাগ তো মুসলমান, তাই না? হ্যাঁ। ওদের দাদা দাদি নানা নানি চাচা ফুপা ডাক জানো না, কিন্তু হিন্দি ছবি দেখে তো জানো ডাকগুলো।

আরও পড়ুন:


পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা: প্রধান আসামী নাসিরসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার

আওয়ামী লীগ কখনও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে না: কাদের

পরীমণিকে নির্যাতনের ঘটনায় সংসদে বিচার চাইলেন এমপি হারুন

মামলার এজাহারে যা বলেছেন পরীমণি


তাছাড়া আমার বই যখন পড়ছো, তখন তো বোঝার কথা যে, বড়বোনকে বুবু বলে ডাকা হচ্ছে। অন্য কোনও কালচারের বা ভাষার বই যদি পড়ো তাহলে কি ওদের অনেক কিছুই জানা হয়ে যায় না? কোনও বইয়ে যদি পিটার নাম দেখ, তাহলে কি ভাবতেই হবে, এ তোমাদের কুকুরকে নিয়ে গল্প, যেহেতু তোমাদের কুকুরের নাম পিটার? 

নিজের ছোট্ট গন্ডি থেকে বেরোতে হয় দুনিয়াকে জানতে হলে! অবশ্য প্রতিবেশীকে যে না জানে, দুনিয়াকে কী করে জানবে! আমি কী বললাম পাঠিকা হয়তো বুঝতেই পারেনি। নূপুর আর যমুনার মতো নয়, বুবুর মতো চরিত্র যেন আরও নির্মাণ করি, সেই আশা ব্যক্ত করে বিদেয় নিয়েছে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মরে যায়!

এমি জান্নাত

স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মরে যায়!

ঘর-সংসার শব্দটা আমরা একসাথে জুড়ে দেই ঠিকই। কিন্তু ঘর আর সংসারের মধ্যে একটা বিস্তর ফারাক আছে বোধহয়।

আমার সীমিত জ্ঞানে ঘর বলতে বুঝি একটা ভালোবাসার ছায়াতলে বসবাস। যেখানে সুখ না থাকলেও শান্তি থাকে। দিন শেষে ফেরার তাড়া থাকে। কিন্তু সংসার নামক বেড়াজালে মানুষ শুধুই আবদ্ধ থাকে দায়িত্ব, ভাঙা গড়ার খেলায় মত্ত সুখের খোঁজে! প্রশান্তিটা এসবের মাঝেই অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। ঘর মানে চার দেয়ালের প্রতিটা কোণায় অভিমান, অনুরাগ আর ভালোবাসার নিবিড় বন্ধন, যেখানে সংসারে চারটা দেয়াল থাকে আর স্যাক্রিফাইস এর বদলে কম্প্রোমাইজ বেশি থাকে। কোথায় একটা লিখেছিলাম, স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মন মরে যায়! সংসারের সবাই হতে পারে, কিন্তু ঘরের কয়জন!

সংসার থেকে পালিয়ে বাঁচা যায়, ঘর থেকে না। মনের বসত তো ঘরেই হয়। দায়িত্ব থেকে সৃষ্টি হওয়া মায়া কাটানো যায়, কিন্তু ভালোবাসা থেকে সৃষ্টি হওয়া মায়া কাটানো বড় কঠিন!

তাই মনে হয়, সব ঘরই সংসার, কিন্তু সব সংসার ঘর হতে পারে কী?

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

এতো মন্ত্রণালয় থেকে কী হবে?

রুবাইয়াত সাইমুম চৌধুরী

এতো মন্ত্রণালয় থেকে কী হবে?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হচ্ছে ভালো কথা। যুক্তি বোঝা যায়। যেটা বোঝা যায় না সেটা হলো শিক্ষার ব্যাপারে পরিকল্পনা কি?

কিভাবে ভালো ভাবে ক্লাস নেওয়া যাবে অনলাইনে? কোনো নতুন হাল্কা (লাইট) সফটওয়ার কেনা হয়েছে? পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যাপারে কোনো চিন্তা ভাবনা?

অনলাইনে বেশী মানুষকে কিভাবে এনগেজ করা হবে তার কোনো পরিকল্পনা? বিশ্বের অন্যদেশ অনলাইনে কিভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে তার কোনো গবেষণা কি হয়েছে?

কিভাবে ছাত্রদের সৃজনশীলতার বাড়ানো যাবে তার ব্যাপারে কেউ কি কিছু ভেবেছে?

অনলাইনে কিউ এস রাংকিং এর অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রাম পার্টনারশিপ করছে। অল্প কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে। বাকিরা?

ছাত্রদের মোটিভেট করতে কোনো মাস্টারপ্লান আছে?

যেহেতু কোনো ফল দেখছিনা তাই ধরে নেওয়া যায় প্রশ্ন গুলোর পজিটিভ উত্তর নাই।

তাহলে এত মন্ত্রনালয় থেকে কি হয়? কি হবে? দেশের সেরা মেধাবীদের নিয়ে তৈরি, দেশ সেবায় নিয়জিত ক্যাডার সার্ভিসের মানুষজন কি ভাবে শিক্ষার উন্নয়নে তাদের সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন?


আরও পড়ুন:


ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ: মাঠে যাওয়ার সময় আম্পায়ারদের গাড়িতে হামলা

১০ বছরের জেল হতে পারে নেতানিয়াহুর: ইসরাইলি আইনজীবী

এবার ফিলিস্তিনি নারীকে গুলি করে হত্যা ইসরাইলি বাহিনীর

বিয়ের আসরে নকল গহনা, মারামারি পরে ক্ষতিপূরণ রেখে তালাক


আগেও বলেছি করোনার আগের শিক্ষা ব্যবস্থা আর পরেরটা একই থাকবে না। বদল হবে। হবেই।

এই কথা সরকার-মন্ত্রানালয়-শিক্ষক-ছাত্র-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যত দ্রুত বুঝবে ততই মঙ্গল।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

সাকিবের একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

আনোয়ার সাদী

সাকিবের একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

সাকিবের আচরণ ক্রিকেটের ভাষায় শোভন নয়। তার সাজা হয়েছে । তিনি সাজা মেনে নিয়েছেন। ঘটনা এখানেই শেষ নয়।  সাকিব পরিকল্পিতভাবে ইউকেটে লাত্থি দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের এটাই মত। তিনি বল ছোঁড়ার পর বসে আবেদন করেছেন। ফিরে যখন দেখলেন আম্পায়ার আউট দেননি, সাকিব প্রথমে উইকেটে লাত্থি দিয়েছেন, তারপর আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেছেন। 

এই ভিডিও বিশ্লেষন করে একজন বিশেষজ্ঞ আমাকে বলেছেন, হতে পারে সাকিব আগেই ভেবে রেখেছে, LBW সে পাবে না। কারণ আগের সাত ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে কোনো LBW নাই। 

এখন বিসিবি একটা তদন্ত কমিটি করেছে । তারা সব ক্লাবের সঙ্গে কথা বলবে। ’আম্পায়ার’ বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে বলে জানা গেছে। 
এর মানে হলো বিসিবি অভিযোগ আমলে নিয়েছে। আম্পায়ারদের স্বজনপ্রীতি আছে কী না, তা প্রমাণ করার এটা একটা উদ্যোগ। এটাকে একই সঙ্গে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি থাকার বেশ ভালো সম্ভাবনার স্বীকৃতি হিসাবেও কেউ কেউ দেখছেন। 

তাহলে জল গড়ালো অনেক দূর। সাকিব ঘটনা ঘটিয়েছেন প্রকাশ্যে, ক্ষমা চেয়েছেন প্রকাশ্যে, সাজা পেয়েছেন, তা মেনে নিয়েছেন। তিনি কখনো দাবী করেননি, তিনি সিস্টেমকে লাত্থি দিয়েছেন। তিনি দুর্নীতির প্রতিবাদ করেছেন বলে কোথাও দাবী করেননি। আউট দেয়নি বলে তিনি রেগে গেছেন। 

এমনকী ফেইসবুকে ক্ষমা চাওয়ার সময়ও সিস্টেম নিয়ে তার কোনো জোড়ালো বক্তব্য নেই। 
তাহলে প্রশ্ন, একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

এটা কার বুদ্ধি ? ​

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর