৬ দফা আন্দোলনে প্রবাসীদের সহযোগীতা

সুলতান মাহমুদ শরীফ

৬ দফা আন্দোলনে প্রবাসীদের সহযোগীতা

১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বিভক্ত হিন্দু-মুসলমানদের জন্য পৃথক পৃথক রাষ্ট্র পাকিস্তান ও হিন্দুস্তান সৃষ্টি হলো। হিন্দুস্তানকে নাম পরিবর্তন করে তারা ভারত নাম দিলো। ভারত ভাগের অনেক আগে ১৯০৬ সালে ঢাকায় নবাব স্যার সলিমুল্লাহর তত্ত্বাবধানে মুসলিম লীগ সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। 

১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ লাহোরে মুসলিম লীগ সম্মেলনে পাকিস্তান প্রস্তাব গৃহীত হয়। এটি ইতিহাসে লাহোর প্রস্তাব নামে খ্যাত। এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন তখনকার বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক।

যে প্রস্তাব গৃহীত হয় তাতে বলা হয়েছিলো যে ভারতের যে যে অংশে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা আছে সেখানে ওইসব এলাকা নিয়ে একেকটি পৃথক রাষ্ট্র হবে। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এবং পূর্বাঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বিবেচিত হবে এবং এদের প্রত্যেকটিই সার্বভৌম রাষ্ট্র হবে।

পাকিস্তান সত্য সত্যই যখন হলো তখন পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান ও উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ নিয়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে নিয়ে নিজ নিজ নাম রক্ষা করে পশ্চিম পাকিস্তান হিসেবে নাম দেওয়া হলো এবং পূর্বাঞ্চলের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাকে পূর্ব বাংলা নাম দেয়া হলো যা পরে পরিবর্তন করে পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিণত করা হলো।

কিন্তু লাহোর প্রস্তাবের মূল প্রতিপাদ্যকে অবজ্ঞা করে দুইটি পৃথক রাষ্ট্র না হয়ে এক রাষ্ট্র হিসেবে এই নতুন রাষ্ট্রটি শাসকরা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে প্রথম থেকেই পরিচালিত করলো। সেই থেকেই অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, বিভেদে জড়িয়ে পড়লো পাকিস্তান। রাষ্ট্র ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানি মূলত পাঞ্জাবিদের হাতে চলে গেলো। এর ফলে পূর্ব বাংলার সমস্ত সম্পদ লুট করা শুরু হলো,  আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা পশ্চিম পাকিস্তানের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতে লাগলো।

রাষ্ট্র পরিচালনায়, সরকারি চাকরিতে, সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের যদিও ৫৮ ভাগ অংশীদারিত্ব থাকার কথা ছিলো প্রথমদিন থেকেই, সেখানে ৩-৪% থেকে আরম্ভ করে সর্বাধিক কোথাও কোথাও ১৫% এর উপরে কোন অংশীদারিত্ব রইলো না। কিন্তু রাষ্ট্রের সমস্ত ব্যয়ের খরচের সিংহভাগ পূর্ব বাংলাকে বহন করতে হলো। দিনে দিনে বাংলার মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হতে লাগলো। আর বাংলার সম্পদ লুট করে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ধনী থেকে আরো ধনী হতে লাগলো।

এই প্রেক্ষাপটেই ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান ও ভারত একে অন্যকে আক্রমণ করে উপমহাদেশে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করলো। এই যুদ্ধ চলাকালে পূর্ব বাংলা সম্পূর্ণরূপে অরক্ষিত রয়ে গেলো। কারণ এখানে না ছিলো সেনাবাহিনী, না ছিলো অস্ত্রশস্ত্র, না ছিলো প্রশিক্ষিত জনবল, না ছিলো বহির্বিশ্বের হাত থেকে প্রতিরক্ষার কোনো ব্যবস্থা।

এই অবস্থার মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাঙালির স্বাধিকার রক্ষার তাগিদেই আমাদের বাঁচার দাবি সম্বলিত ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, লাহোরে। যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থায় পাকিস্তানের সকল রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লাহোরে একটি সর্বদলীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলার বাঁচার দাবি সম্বলিত ৬ দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়।  সম্মেলনের আয়োজকরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান কনফারেন্স স্থল সদলবলে ত্যাগ করেন ও পূর্ব বাংলায় ফিরে এসে ২০ মে, ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং ডেকে এই ছয় দফা প্রস্তাব পাস করিয়ে নেন।

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন আইয়ুব সরকার এই আন্দোলনের বিরোধিতা করে শেখ মুজিবুর রহমানকে বারবার নানা অজুহাতে জেলে নিক্ষেপ করতে থাকে। এই সময় বাংলার জনগণের সাথে মিলে বাংলা দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা জোরালোভাবে ৬ দফার পক্ষে প্রচারণা শুরু করে। যার ফলে ছয় দফা প্রকৃতপক্ষেই বাঙালির বাঁচার দাবিতে পরিণত হয়। 

১৯৬৬ সালের ১৮ থেকে ২০ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তাজ উদ্দীন আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। ঐ কনফারেন্সেই ৬ দফার ভিত্তিতে দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়। পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ এই পর্যায়ে ৬ দফা বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন শুরু করে।

৭ই জুনের হরতাল চলাকালে পুলিশের গুলিতে ঢাকার তেজগাঁও, নারায়ণগঞ্জ ও খালিশপুরে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের উপর গুলিবর্ষণের ফলে ১১ জন শ্রমিক শহীদ হন এবং প্রায় ৮০০ শ্রমিক কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রবাসে ৬ দফা দাবির সমর্থনে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহরে অবস্থানরত বাঙালিরা সভা সমাবেশ ও বিক্ষোভ শুরু করে। তারা ৬ দফা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে, পাকিস্তান দূতাবাসে প্রতিনিয়ত বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। ব্রিটেনের পাকিস্তান ছাত্র ফেডারেশন ৬ দফার পক্ষে প্রস্তাব এনে পাকিস্তান দূতাবাসে স্মারকলিপি প্রদান করে।

৬৬'র ৭ ই জুনের হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদ করে বারবার মিছিল সহকারে দূতাবাসে গিয়ে এই অত্যাচার বন্ধ করার দাবি জানানো হয়। এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ‍"আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা" নাম দিয়ে পাকিস্তান সরকার ' ডিফেন্স অব পাকিস্তান এ্যাক্ট ' এর আওতায় একটি দেশদ্রোহ মামলা রুজু করে।  আসামি করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জন বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক ঊর্দ্ধতন এবং নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তাদের।

এই মামলা পরিচালনার জন্য তারা একটি স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল করে বিচারকার্য শুরু করে। প্রবাসী বাঙালিরা একদিকে এই হঠকারী মামলার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানায়। অন্যদিকে প্রবাসী বাঙালিদেরকে একত্রিত করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয় এবং ছয় দফার ই্ংরেজি সংস্করণ ছাপিয়ে বিলি করতে শুরু করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার শুরু হলে লন্ডন থেকে আইনজীবী পাঠিয়ে তার পক্ষ সমর্থন করার আয়োজন করে। শেখ মুজিব ডিফেন্স ফান্ড গঠন করে মামলার খরচ বহন করার জন্য চাঁদা আদায় করা শুরু করে এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী স্যার থমাস উইলিয়াম এমপিকে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই প্রচেষ্টার প্রথম পর্যায়ে স্যার থমাসকে পাকিস্তানে যাওয়ার ভিসা দিতে সরকারের অনীহা ও অবশেষে প্রত্যাখ্যান, প্রবাসীদের বিচলিত করে তোলে।

বারবার পাকিস্তান দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেও যখন পাকিস্তান সরকারকে স্যার থমাস উইলিয়ামের যাওয়া ও আগরতলা মামলার আসামিদের পক্ষ সমর্থন করে এই মিথ্যা মামলায় আইনি পরামর্শ দেয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়, তখন প্রবাসে অবস্থানরত পূর্ব বাংলার ছাত্রজনতার উদ্যোগে এক পর্যায়ে আমরা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের প্রচেষ্টায় পাকিস্তান দূতাবাস জোরপূর্বক দখল করি।

এর ফলে সেদিনের ব্রিটেনের সবচেয়ে প্রভাবশালী পত্রিকা টাইমসের প্রথম পৃষ্ঠায় ব্যানার হেডলাইনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যায় বিচারের প্রচেষ্টা ও বাংলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার দাবিয়ে রাখার আইয়ুবের সামরিক জান্তার অগণতান্ত্রিক প্রচেষ্টার খবর ঐ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বিশ্ববাসী সেইদিন থেকে বিশদভাবে জানতে পারে যে বাংলার মানুষের উপর কি অপরিসীম নির্যাতন হচ্ছে এবং বাংলাদেশ কার্যত একটি কারাগারে পরিণত হয়েছে।

এই খবর প্রচারিত হওয়ার পর পাকিস্তান সরকার স্যার থমাস উইলিয়ামকে ঢাকায় গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে এই বিচার প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করার ছাড়পত্র প্রদান করে।   

স্যার থমাস ঢাকায় গিয়ে স্থানীয় আইনজীবীদের নিয়ে, এই মামলার সামরিক আদালতে অথবা বিশেষ কোন সামরিক আদালতে, বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন মামলা করার অধিকার পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রে কাউকেই দেয়ার দেয় নাই বলে দাবি করেন। যে বিশেষ ট্রাইবুনালে এই বিচারকার্য পরিচালিত হচ্ছিলো সেই আদালতের বিচার করার অধিকার আইনানুগভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। দেশব্যাপী আইয়ুববিরোধী আন্দোলন ও হঠকারী মামলার বিরুদ্ধে গণ আন্দোলন বিস্ফোরক আকার ধারণ করে। মামলার প্রধান বিচারপতি রাতের অন্ধকারে পালিয়ে পাকিস্তানে চলে যায় এবং মামলাটি  তখন মুখ থুবড়ে পড়ে যায়।

আরও পড়ুন


ইসরাইলের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ

হেফাজতের ৩৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা, যারা আছেন কমিটিতে

ইসরাইলি বন্দীদের অডিও ও ফুটেজ প্রচার করলো হামাস

কোন খবরকে ঘিরে আমরা যে মতামত দিই তা কি সাংবাদিকতা নয়?


শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে "আগরতলা মামলা"র কার্যক্রম শুরু হলে সারা বাংলাদেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী , খুলনা, বরিশালকে কেন্দ্র করে সারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। পাকিস্তান সরকার ও মুসলিম লীগের পেটোয়া বাহিনী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই আন্দোলন ব্যর্থ করার চেষ্টা করে, কিন্তু লক্ষ লক্ষ জনগণ প্রতিবাদে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। প্রতিদিন অগণিত ছাত্র, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ অত্যাচারিত, নিগৃহীত ও বর্বরোচিত হত্যার শিকার হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সহযোগী সকল আসামিদেরকে আইয়ুব সরকার বিনাশর্তে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। আইয়ুব শাসনের অবসান ঘটে ও আরেক সামরিক অফিসার ইয়াহিয়া খান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। এর ফলেই ১৯৭০ সালে ইয়াহিয়া খানের তত্ত্বাবধানে পাকিস্তানের প্রথম অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে সারা পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচিত হয়। পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ প্রায় সকল আসন দখল করে।

ইয়াহিয়া খান জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরে সর্বপ্রকার বাধার সৃষ্টি করে। জুলফিকার আলীর ভুট্টোর সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশকে সামরিক বাহিনীর পুরোপুরি আয়ত্তে নিয়ে আসার জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যা থেকে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ২৫, ২৬ ও ২৭ মার্চের মধ্যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে লক্ষাধিক নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার জনগণকে ডাক দেন পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে এবং একইসাথে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সে রাতেই তার ধানমন্ডির বাড়ি থেকে বন্দী করে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানী কারাগারে নিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে বাংলার জনগণ দেশকে মুক্ত করার মরণপণ সংগ্রামে লিপ্ত হয়। এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই আমরা দেশকে স্বাধীন করি। ছয় দফা আন্দোলন এবং এর যুক্তিযুক্ততা এমনভাবে বিশ্ববাসীকে ও বাংলার মানুষকে একত্রিত করেছিল যে আমরা পৃথিবীর সকল ন্যায়বান মানুষের সাহায্য সহযোগিতা ও সমর্থন নিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে পাকিস্তানকে পরাজিত করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলাম। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জোর্তিময় পুরুষ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত করিয়ে বাংলার জনগণ দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুকে প্রধান করে নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় ও অবশেষে বিদেশি শত্রুমুক্ত হয়। বাঙালির নিজেদের একটি দেশ তখন থেকেই হলো।   

লেখক: সভাপতি, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

ফিনল্যান্ডের সিটি নির্বাচনে মবিন নির্বাচিত

অনলাইন ডেস্ক

ফিনল্যান্ডের সিটি নির্বাচনে মবিন নির্বাচিত

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফিনিশ নাগরিক মবিন মোহাম্মদ ১৩ জুন অনুষ্ঠিত সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে ফিনল্যান্ডের এস্পো থেকে ডেপুটি কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে এই আসনে কখনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ন্যাশনাল কোয়ালিশন পার্টির কোনো প্রার্থী জয়ী হয়নি।

ফিনল্যান্ডে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে মবিন মোহাম্মদ একটি উজ্জ্বল নাম। 

কুমিল্লায় জন্মগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ও ফিনল্যান্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মবিন মোহাম্মদ ব্যবসার পাশাপাশি ফিনিশ রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৯৩ সালে তিনি ফিনল্যান্ডে পাড়ি দেন।

সিটি কাউন্সিল নির্বাচনী প্রচারণায় অভিবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও এই আসনে তাকে নির্বাচিত করায় নবনির্বাচিত ডেপুটি কাউন্সিলর মবিন মোহাম্মদ বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে

ইউরোপের দেশ উত্তর মেসিডোনিয়াতে ২০ বাংলাদেশি আটক

অনলাইন ডেস্ক

ইউরোপের দেশ উত্তর মেসিডোনিয়াতে ২০ বাংলাদেশি আটক

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ উত্তর মেসিডোনিয়াতে শনিবার ২০ বাংলাদেশি অভিবাসন-প্রত্যাশীকে আটক করা হয়েছে। উত্তর মেসিডোনিয়ার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম। অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার নিয়মিত টহলের সময় একটি ভ্যান থেকে তাদের আটক করা হয়। সার্বিয়ার সঙ্গে দেশটির সীমান্তের কাছাকাছি একটি মহাসড়ক থেকে তাদের আটক করা হয়। 

এদের মধ্যে নয়জনের বয়স আঠারো বছরের নিচে। তাদেরকে বহন করা ভ্যানের ড্রাইভার ছিলেন একজন উত্তর মেসিডোনিয়ান যার বয়স অনুমানিক ৪৪ বছর। বর্তমানে তাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

বর্তমানে আটক হওয়া এসব অভিবাসন-প্রত্যাশীকে মেসিডোনিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জেভেলিয়াতে রাখা হয়েছে।

মেসিডোনিয়ার পুলিশ বলছে, এরা সবাই বলকান উপদ্বীপের সবচেয়ে দক্ষিণের দেশ গ্রিস থেকে মেসিডোনিয়াতে প্রবেশ করেছিলেন। তাই খুব শিগগিরই তাদেরকে গ্রিসে ফেরত পাঠানো হবে।

অবৈধভাবে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালসহ সেনজেনভুক্ত বিভিন্ন দেশে অনুপ্রবেশের জন্য বর্তমানে বলকানের এ রুটটি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে তুরস্ক ও গ্রিস থেকে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে অনুপ্রবেশের লক্ষ্যে উত্তর মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো ও বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার মতো বলকান পেনিনসুলার দেশগুলোকে অনেক অভিবাসন-প্রত্যাশী ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন।

আরও পড়ুন:


শিক্ষা প্রতিষ্ঠনের চলমান ছুটি বাড়ল

উপ-নির্বাচনে তিন আসনের আ.লীগের প্রার্থী ঘোষণা

১০০ কোটি টিকা দরিদ্র দেশগুলোতে দেবে বিশ্ব নেতারা

ফের ফিলিস্তিনি কিশোরকে হত্যা করল ইসরায়েল


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল স্মরণে ইউরোপে সাংস্কৃতিক আয়োজন

অনলাইন ডেস্ক

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল স্মরণে ইউরোপে সাংস্কৃতিক আয়োজন

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে ভার্চুয়ালি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইউরোপিয়ান কালচারাল সিভিল সোসাইটি। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টায় অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তপন ডি রোজারিও এবং ফারাহ দিবার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল গীতি, কবিতা আবৃত্তি এবং নৃত্যতে অংশগ্রহণ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা। 

অনুষ্ঠানের বিষয়ে সংগঠনটির যুগ্ম আহবায়ক তপন ডি রোজারিও বলেন, ইউরোপিয়ান কালচারাল সিভিল সোসাইটির মূল উদ্দেশ্য ইউরোপের সকল সংস্কৃতিমনা প্রবাসী বাঙ্গালীদের একত্রিত করা এবং বাংলা সংস্কৃতিকে স্থানীয় ইউরোপিয়দের নিকট তুলে ধরা। 

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন উজ্জ্বলা রোজারিও, শিল্পী সিদ্দিকা, নাজেম আহমেদ, লীনা, রোনাল্ড তপু রিবেরু, জুনায়েদ আন্দ্রে, সুরভী ক্যথরিন, জেমস পিন্টু কস্তা, জ্যানেট মেরি গমেজ, রত্না বসাক, অঙ্গনা গমেজ, মিতা রোজারিও, প্রজ্ঞা আলম, সুমি মেরিলিন রোজারিও, তপন ডি রোজারিও, অনল নিকোলাস গমেজ ও উইলিয়াম পিরিস।  

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের প্রশংসায় বিশ্ব খাদ্য সংস্থা

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রশংসায় বিশ্ব খাদ্য সংস্থা

বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশ্ব খাদ্য সংস্থা’র নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলী। তিনি ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ডব্লিউএফপি-তে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি শামীম আহসানের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এই প্রশংসা করেন। 

এর আগে ডব্লিউএফপি-তে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি শামীম আহসান ডব্লিউএফপি নির্বাহী পরিচালকের কাছে নিজের পরিচয়পত্র প্রদান করেন। গত ৮ জুন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ডব্লিউএফপি’র সদর দপ্তরে এ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এ সময় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করার জন্য ডব্লিউএফপি’র নির্বাহী পরিচালককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ইতালিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আহসান। তিনি ২০২০ সালে ডব্লিউএফপি’র নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তি এবং কোভিড সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যেও ২০২০ সালে রেকর্ড পরিমাণ আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করায় ডব্লিউএফপি’র নির্বাহী পরিচালকের গতিশীল নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

এছাড়াও রোহিঙ্গা ইস্যুতে ডব্লিউএফপি’র অভূতপূর্ব সহায়তা ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং এক্ষেত্রে রোহিঙ্গা জনগণের তাদের নিজ ভূমিতে নিশ্চিত, নিরাপদ এবং সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে ডব্লিউএফপি’র নির্বাহী বোর্ডের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে চাপ প্রয়োগের জন্য নির্বাহী পরিচালককে অনুরোধ করেন।

অনুষ্ঠানে দূতাবাসের ইকোনমিক কাউন্সিলর ও রোমভিত্তিক জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের বিকল্প স্থায়ী প্রতিনিধি মানস মিত্র এবং ডব্লিউএফপি থেকে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

স্পেনে আ.লীগের নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক

স্পেনে আ.লীগের নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন

আওয়ামী লীগ স্পেন শাখার সদ্য প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রত্যাখান করে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্পেন আওয়ামী লীগের একাংশ। বুধবার রাতে মাদ্রিদে একটি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্পেন আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে নতুন কমিটিকে বয়কট করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

তাদের দাবি, স্পেনে সত্যিকারের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে অর্থের বিনিময়ে বহিরাগত ও হাইব্রিডদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। দবির তালুকদারের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মো. দুলাল সাফা ও জাকির হোসেন।

মো. দুলাল সাফা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে স্পেনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছেন, আওয়ামী লীগের কোনো সভা সমাবেশ হলে ঘরে বসে থাকতে পারেন না, সেইসব নেতাকর্মীদের নতুন কমিটিতে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. ফয়জুর রহমান, আব্দুল কাদের, আহমদ আসাদুর রহমান সাদ, আব্দুল আজিজ মবু, মো. জসিম উদ্দিন, সায়েম সরকার, জালাল হোসেন ও সাইফুল আলম সোহাগ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলন শেষে স্পেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক একেএম জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মো. জসিম উদ্দিনের পরিচালনায় দলীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। শেষে ৭ সদস্যবিশিষ্ট স্পেন আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন একেএম জহিরুল ইসলাম।

কমিটির সদস্যরা হলেন- সভাপতি মো. দুলাল সাফা, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেন, সহ-সভাপতি ফয়জুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক দবির তালুকদার, যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল হোসেন। এ কমিটি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্য নির্বাহী কমিটি গঠন করবে বলে জানানো হয়।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর