বিয়ার গ্রিলস: জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এক দুর্ঘটনা

আয়শা সিদ্দিকা আশা

বিয়ার গ্রিলস: জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এক দুর্ঘটনা

জাম্বিয়ার ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা প্লেন থেকে প্যারাসুটের মাধ্যমে নামার কথা ছিলো তাঁর। প্যারাসুট নিয়ে লাফ দিলেন প্রায় সব ঠিকঠাক। প্যারাসুট ও ঠিকভাবে নামছে। কিন্তু কিছুক্ষণ বাদেই হলো চূড়ান্ত গোলমাল।

প্যারাস্যুটের দড়িটা ধরে টান দিতেই তিনি বুঝতে পারলেন বড় ধরনের গোলমাল হয়েছে। প্যারাস্যুট খুলছে না। এরপর আবার তিনি চেষ্টা করলেন। তবুও হলোনা।

প্যারাস্যুটের রিজার্ভ প্যাকটা ব্যবহার করা উচিৎ হবে কিনা, তা ভাবতেই ভাবতেই মাটি আরও কিছুটা কাছে চলে এসেছে… নাহ, পৈতৃক প্রাণটা এত সহজে খোয়ানো উচিৎ হবে না। শেষবারের মতো হ্যাঁচকা টান দিয়ে খোলার চেষ্টা করলো পলিথিনের তৈরি বস্তুটা। তারপর হঠাৎ করেই খুলে গেলো জীবন রক্ষাকারী প্যারাস্যুট। কিন্তু বিধি বাম, শেষ রক্ষা হলো না তার। মাটি ছোঁয়ার আগে যতটুকু কম গতি প্রয়োজন ছিল, তার ধারেকাছেও যেতে পারেনি সে। সোজা গিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়লো ছয় ফুটের দীর্ঘ দেহটা। সোজা বললে ভুল হবে, পিঠটা ছিলো নিচের দিকে। পিঠে থাকা নরম প্যারাস্যুটের রিজার্ভ প্যাকটা যেন হঠাৎ করেই শক্ত পাথর হয়ে গেল। শরীরের হাড় যেন একেবারে গুড়ো হয়ে গিয়েছে! মৃত্যুপথযাত্রীর খাতায় কি নতুন কোনো নাম উঠতে যাচ্ছে?

তার দিকে ছুটে গেলো সবাই। স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হলো হাসপাতালে। যা ভাবা হয়েছিল, বলা যায় তার চেয়ে বেশ কম ক্ষতিই হয়েছে। মেরুদণ্ড দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে, ভেঙে গিয়েছে ৩টি কশেরুকা। মৃত্যু থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূর থেকে বেঁচে ফিরে আসলো সে, স্পাইনাল কর্ডে আঘাত লাগলে সেখানেই তার ইহলীলা সাঙ্গ হয়ে যেতে পারত! বয়স আর ফিটনেস দেখে ডাক্তার আর অপারেশন করার ঝুঁকির মধ্যে গেলেন না, তার পরিবর্তে তাকে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা করে সময় কাটাতে হবে ফিজিওথেরাপি আর আলট্রা-সাউন্ড ট্রিটমেন্টের মধ্যে।

যে দুর্ঘটনার পর ভাবা হয়েছিল সে হাঁটতেই পারবেন না, ঠিক সেই দুর্ঘটনাই যেন জীবনের মোড় পাল্টে দিলো তার। ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছার জোরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ার দেড় বছরের মাথায় এভারেস্টের চূড়ায় উঠল সে, সর্বকনিষ্ঠ ব্রিটিশ অভিযাত্রী হিসেবে।

আটলান্টিকের গা ঘেঁষে বেড়ে ওঠা আয়ারল্যান্ডের ছোট্ট শহর ডোনাদিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এডওয়ার্ড মাইকেল গ্রিলস। তারপর সেখানেই নানীর কাছে চার বছর কাটিয়ে পাড়ি জমালেন ইংল্যান্ডের দক্ষিণে, আইল অফ উইটে। সাগরের চারপাশে থাকার ফলেই হয়তো সাগরের প্রতি আলাদা ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল তার। তাছাড়া বাবা মাইকেল গ্রিলসও রয়্যাল ইয়ট স্কোয়াড্রনের একজন সদস্য; তাই অ্যাডভেঞ্চারের নেশার হাতেখড়িটাও পেয়েছিলেন বাবার কাছ থেকেই।

একদিকে নানী প্যাট্রিশিয়া ফোর্ড নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের প্রথম নারী এমপি, অন্যদিকে বাবা স্যার মাইকেলও যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ; তাই স্বভাবতই রাজনীতির হালকা আঁচড় তার মাঝে থাকাটা স্বাভাবিক ছিলো। কিন্তু অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় পাওয়া এই কারাতের ব্ল্যাকবেল্টকে এসব আটকে রাখতে পারেনি। কলেজে থাকতে থাকতেই গঠন করেছেন পর্বতারোহীদের ক্লাব।

কিশোর বয়সেই নেতৃত্ব দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের স্কাউট দলকে। পড়াশোনা শেষ করার পর ছুটে গিয়েছিলেন ভারতে। কারণ? ভারতের আর্মড ফোর্সের সৈন্যদের অ্যাডভেঞ্চারপূর্ণ জীবন তার কাছে বেশ আকর্ষণীয় বলেই মনে হয়েছিলো। সিকিম আর দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়ানো বেয়ার গ্রিলস ভারতের নাগরিক না হওয়ার কারণে আর্মড ফোর্সে সুযোগ না পেয়ে শেষমেশ ঢুকে পড়লেন ব্রিটিশ আর্মিতে। তারপর ব্রিটিশ আর্মির স্পেশাল এয়ার সার্ভিসের ৩ বছরের জীবন তাকে পরিণত করলো ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্কাইডাইভারে।

আর সেই স্কাইডাইভিং করতে গিয়েই জাম্বিয়ায় প্যারাস্যুট অ্যাক্সিডেন্ট, অতঃপর ব্রিটিশ আর্মি থেকে অবসর। এই অকাল অবসরের কারণেই হয়তো জীবনের মোড় ঘুরে গেলো তার। শুরু হলো নতুন অভিযানের গল্প।

২৩ বছর বয়সে এভারেস্ট বিজয়ের মাধ্যমেই বেয়ার গ্রিলসের বড় ধরনের অভিযানের সূচনা হয়। তারপর একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন শুধু। বলা যায়, জীবনে যত ধরনের অ্যাডভেঞ্চার করা সম্ভব, তার সবকিছুই কিছুটা হলেও করে ফেলেছেন। এভারেস্টে ওঠার পরপরই পুরো বিশ্বে, বিশেষ করে গ্রেট ব্রিটেনে তাকে নিয়ে ব্যাপক হইচই শুরু হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রয়্যাল লাইফবোট ইনিস্টিটিউশনের তহবিল গঠনের জন্য জেট স্কি নিয়ে তিনি চক্কর দিয়েছেন ব্রিটিশ আইলের এ মাথা থেকে ও’ মাথা। দুর্ঘটনায় পা হারানো বন্ধুর সাহায্যের জন্য নগ্ন হয়ে নেমে গিয়েছেন শীতল টেমস নদীতে! পানি আর তার শরীরের মাঝখানে বাধা হয়ে ছিল শুধু একটা বাথটাব।

সাগরের নীল পানিকে আপন করেই তিনি ছোট্ট বাতাস ভরা নৌকা দিয়ে উত্তর মেরুর বরফ কেটে বেরিয়ে এসেছেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি অ্যান্টার্কটিকা পাড়ি দিয়েছেন জেট স্কি দিয়ে, এমনকি বরফশীতল হিমালয়ের উপর সর্বোচ্চ উচ্চতায় প্যারাগ্লাইডিং করার রেকর্ডটাও তার দখলে। এভারেস্টের উপর দিয়েই হয়তো গ্লাইডার নিয়ে ভেসে যেতেন, কিন্তু চীন সীমান্তে অনধিকার প্রবেশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তা আর হয়ে ওঠেনি।

পৃথিবীর বুকে সর্বোচ্চ উচ্চতায় ডান হাতের কাজ সেরে ফেলার রেকর্ডটাও দখলে রেখেছেন ‘দ্য বেয়ার’। ইংল্যান্ডের এক দাতব্য সংস্থার অর্থ তহবিলের জন্য অক্সিজেন মাস্ক নিয়েই বেলুনে চড়ে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ডিনার করেছিলেন তিনি!

দুই মেরু পাড়ি দেওয়া, এভারেস্ট জয় করা এই ব্যক্তি হয়তো শুধু পানির নিচে ডুব দেওয়ার রেকর্ডগুলোই বাকি রেখেছেন।

এভারেস্ট জয় কিংবা মেরু অভিযান, এর কোনোটিই বেয়ার গ্রিলসকে ততটা খ্যাতি এনে দিতে পারেনি যতটা এনে দিয়েছে ডিসকাভারি চ্যানেলের ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ অনুষ্ঠানটি।

প্রতিকূল পরিবেশ কিংবা দুর্গম অঞ্চল থেকে কীভাবে বেঁচে ফেরা যায় তার চিত্রায়ন করতেই বেয়ার গ্রিলস ছুটে গিয়েছেন গ্রেট ক্যানিয়নে, পুড়েছেন উতাহর তীব্র রোদে, খাবি খেয়েছেন আল্পসের বরফগলা পানিতে, তাড়া খেয়েছেন আফ্রিকার সাভানায় হাতি-সিংহের কাছ থেকে, মশার কামড় খেয়েছেন কোস্টা রিকার রেইনফরেস্টে, রাত কাটিয়েছেন আইসল্যান্ডের বরফের গুহায়, মানুষখেকো বুশম্যানদের পাল্লায় পড়েছেন নামিবিয়ায়, নগ্ন হয়ে সাঁতার কেটেছেন সাইবেরিয়ার -৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়, সাপ খেয়েছেন সিয়েরা নেভাডার প্রান্তরে, প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তাল ঢেউ পার করেছেন সামান্য ভেলার সাহায্য নিয়ে, এমনকি সাহারার তীব্র রোদে পানিশূন্যতার কারণে পান করেছেন নিজের মূত্রও!


আরও পড়ুন


ইসরাইলের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ

হেফাজতের ৩৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা, যারা আছেন কমিটিতে

ইসরাইলি বন্দীদের অডিও ও ফুটেজ প্রচার করলো হামাস

কোন খবরকে ঘিরে আমরা যে মতামত দিই তা কি সাংবাদিকতা নয়?


কিন্তু ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ডের প্রতিটি ঘটনাই কি সত্য? একে পুরোপুরি সত্যও বলা যাবে না, আবার মিথ্যা বলে একেবারে উড়িয়ে দেওয়াও ঠিক হবে না। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির রিপোর্টে জানা যায়, ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ডের একেকটি পর্ব তৈরি করতে কয়েকদিন সময় লেগে যায়, যেখানে টিভিতে দেখানো হয় মাত্র দুই দিনের বেঁচে থাকার কৌশল।

দ্বীপে থাকা অবস্থায় ভেলা বানাতে তাকে দলের অন্য সদস্যরা সহযোগিতা করেছে। হাওয়াই দ্বীপের রবিনসন ক্রুশো জঙ্গলে না থেকে তিনি রাত কাটিয়েছিলেন এক হোটেলে! পরবর্তীতে বেয়ার গ্রিলস অনুষ্ঠানের এ ধরনের ত্রুটির জন্য ক্ষমা চান দর্শকদের কাছে।

তবে একটি অনুষ্ঠানের এমন অসামঞ্জস্যতা তার যাবতীয় অর্জনকে ঢেকে দেয় না। তার দুঃসাহসকে বাহবা না দিয়ে উপায় নেই। প্যারাগ্লাইডার নিয়ে খরস্রোতা আমাজন নদে ঝাঁপিয়ে পড়া কেবল মুখের কথা নয়। পদে পদে মৃত্যুর আশঙ্কা নিয়েও প্রকৃতির একেবারে গভীরে মিশে যাওয়া বেয়ার গ্রিলসকে টেলিভিশনের পর্দায় যে মুগ্ধতা নিয়ে আমরা দেখি, সেই মুগ্ধতা মিথ্যে নয়। জীবনের মোড় পালটে দেওয়া ভয়াবহ প্যারাস্যুট অ্যাকসিডেন্টকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একটি কথাই বলেছিলেন তিনি।

আজ বিয়ার গ্রিলসের জন্মদিন। শুভ জন্মদিন বিয়ার গ্রিলস। নিরন্তর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা!

“IF YOU RISK NOTHING, YOU WILL GAIN NOTHING”

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

পাট থেকে নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের সন্ধান

অনলাইন ডেস্ক

পাট থেকে নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের সন্ধান

পাট থেকে একেবারে নতুন ধরনের একটি অ্যান্টিবায়োটিকের সন্ধান পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী। এই অ্যান্টিবায়োটিকের গঠন ও বৈশিষ্ট্য দেখে মনে হচ্ছে, এটি শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে মানুষের জীবন বাঁচাতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে জীবাণুপ্রতিরোধী অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নিয়ে যখন ক্রমশই উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে তখন এই আবিষ্কার আশার সঞ্চার করছে। নতুন এই অ্যান্টিবায়োটিকের নাম দেওয়া হয়েছে হোমিকরসিন। প্রাপ্ত ব্যাকটেরিয়া ও পাটের বৈজ্ঞানিক নাম মিলিয়ে এই অ্যান্টিবায়োটিকটির নামকরণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী নেচারের সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে সম্প্রতি এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবে তিন বছর ধরে গবেষণার পর এই অ্যান্টিবায়োটিকের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের শিক্ষক ড. হাসিনা খানের নেতৃত্বে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পাট নিয়ে গবেষণা করছেন।

ড. হাসিনা খান জানান, পাটের জীবন রহস্য উদঘাটনের সময় তিনি এর ভেতরে বিভিন্ন ধরনের অণুজীবের সন্ধান পেয়েছিলেন। এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই তিনি বিভিন্ন অণুজীবের ওপর গবেষণা শুরু করেছিলেন। তার এক পর্যায়ে অনেকটা আকস্মিকভাবেই তিনি এই অ্যান্টিবায়োটিকের সন্ধান পান। এটা অনেকটা অপ্রত্যাশিতই বলবো। পাট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি পাটের অণুজীবের সন্ধান পেলাম। তখন সেগুলোকে খুব ইন্টারেস্টিং বলে মনে হলো।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পাটের তন্তুর খাঁজে খাঁজে বহু অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া বাস করে। এদের মধ্যে তারা একটি ব্যাকটেরিয়ার খোঁজ পান যা তার নিজের শরীর থেকে এমন কিছু তৈরি করে, যাতে অন্য ব্যাকটেরিয়াগুলো মারা যায়।

বিজ্ঞানীরা যে অণুজীবের ভেতরে অভিনব এই ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পান সেটি তারা পেয়েছেন পাটের বীজের ভেতরে। তারা দেখেন স্টেফাইলোকক্বাস হোমিনিস নামের এই ব্যাকটেরিয়াটি অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কাজ করছে।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, যাদের দেহে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না অর্থাৎ অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে অণুজীবের প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে, তাদের চিকিৎসায় এই হোমিকরসিন অ্যান্টিবায়োটিক ভালোভাবেই কাজ করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানান, তারা যে হোমিকরসিন অ্যান্টিবায়োটিকের সন্ধান পেয়েছেন সেটি বেশ কিছু শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ভালো কাজ করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।


আরও পড়ুনঃ

জম্মু-কাশ্মীরে সংঘর্ষ: লস্কর-ই-তাইয়্যেবার কমান্ডারসহ নিহত ৩

যদি নারী অল্প পোশাক পরে ঘোরে তার প্রভাব পুরুষের উপর পড়তে বাধ্য: ইমরান

পুলিশ বিনা ওয়ারেন্টে সাইফুলকে ধরে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে: ফখরুল

ফেসবুকে ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ


বিজ্ঞানীরা তাদের আবিষ্কৃত অ্যান্টিবায়োটিকের পাঁচটি ভ্যারিয়েন্টের সন্ধান পেয়েছেন। এরমধ্যে দুটো ভ্যারিয়েন্টের কথা সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি তিনটি ভ্যারিয়েন্টের কার্যকারিতা নিয়ে এখনও গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই পাঁচ রকমের ভ্যারিয়েন্ট থেকে অন্তত পাঁচটি অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা যেতে পারে যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে তৈরি করতে পারে নতুন এক ইতিহাস। তবে এই হোমিকরসিন অ্যান্টিবায়োটিক এখনই চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে না। এনিয়ে আরো গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

কানের ইনফেকশন ও ব্যথা থেকে বাঁচার উপায়

অনলাইন ডেস্ক

কানের ইনফেকশন ও ব্যথা থেকে বাঁচার উপায়

শরীরের প্রতিটি অঙ্গই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে কান অন্যতম। তাই আলাদা করে কানের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। অনেকেই কানের ফাঙ্গাল ইনফেকশন, ব্যাকটেরিয়া, ব্যথা, চুলকানিসহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। তবে প্রাথমিকভাবে ঘরেই এর সমাধান করতে পারেন। জেনে নিন বর্ষায় কীভাবে ঘরোয়া উপায়ে কানের ব্যথা, চুলকানি এবং ফাঙ্গাল ইনফেকশন থেকে মুক্তি পেতে পারেন-

>> কানের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে ঠান্ডা বা গরম সেঁক দিতে পারেন। হিট প্যাড বা গরম পানিতে ভিজিয়ে পানি নিংড়ে নেওয়া কাপড়টি কানের পাশে রেখে সেঁক দিতে পারেন। কিংবা একটি টাওয়ালের মধ্যে কয়েক টুকরো বরফ নিয়েও সেঁক দিতে পারেন। এতে করে খুব সহজেই কানের ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন।

>> ঘুমানোর সময় কানে যেন চাপ না পড়ে। শক্ত বালিশে মাথা রেখে অনেকেই ঘুমিয়ে থাকেন। এতে করে কানে বেশি চাপ পড়তে পারে। যা আপনার কানের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। এক্ষেত্রে সোজা হয়ে ঘুমাতে পারেন।

>> শুধু খাবারের স্বাদ বাড়াতেই নয়, আদা বিভিন্ন সংক্রমণ এবং ব্যথা নিরাময়েও সহায়তা করতে পারে। আদায় উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটিরিয়াল বৈশিষ্ট্যসমূহ কানের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। যা আপনার কানের ব্যথা দূর করার পাশাপাশি ফাঙ্গাল ইনফেকশন থেকে মুক্তি দিবে।

>> রসুনে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য কানের সংক্রমণ ও ব্যথা দ্রুত সারায়। এজন্য রসুনের কয়েকটি কোয়া তেলে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এরপর ঠান্ডা হলে ২ ফোঁটা তেল আপনার কানে ড্রপার দিয়ে দিন। এভাবে ২-৩বার ব্যবহার করলেই আপনার কানে ব্যথা কমে যাবে।

>> আপেল সিডার ভিনেগার: ইনফেকশনের ক্ষেত্রে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য আছে এমন উপাদান ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপেল সিডার ভিনেগার বিশেষ কার্যকরী। কানে ব্যথা হলে কয়েক ফোঁটা আপেল সিডার ভিনেগার কানে প্রয়োগ করুন। কিছুক্ষণ পর দেখবেন ব্যথা কমে গেছে।

>> কানের ব্যথা কমানোর আরও একটি ঘরোয়া উপায় হলো আকুপাংচার। এটি আপনার কানের ভেতরে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করবে। যা কানের সংক্রমণ এবং ব্যথা থেকে খুব সহজেই মুক্তি দিতে পারে।

>> ফেসিয়াল রোলার ব্যবহারে মুখের ত্বকে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। যা ত্বক মসৃণ, টানটান রাখাসহ অনেক সমস্যার সমাধান করে। এক্ষেত্রে কানের পাশে আপনি ফেসিয়াল রোলার দিয়ে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে করে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে এবং কানের ব্যথা থেকেও মুক্তি পাবেন।

সূত্র: হেলথলাইন

news24bd.tv/এমিজান্নাত

পরবর্তী খবর

রুপকথার বাস্তব গল্প ধ্বংস করছে ফেসবুকের নকল বিজ্ঞাপন

অনলাইন ডেস্ক

রুপকথার বাস্তব গল্প ধ্বংস করছে ফেসবুকের নকল বিজ্ঞাপন

কেরি সিবার্ট থাকেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। তিনি রবিন উইট নামে এক ভাস্করের কাজের বেশ বড় ভক্ত। ফেসবুকে প্রতিদিনই তার ভাস্কর্যের কিছু বিজ্ঞাপন তার সামনে আসে। ফলে তিনি একরকম নিশ্চিত হয়েই তার বাগানে সাজিয়ে রাখার জন্য অনলাইনে চারটি ভাস্কর্যের অর্ডার দেন। তবে এখনো কিছুই পাননি।

একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বাস করা ভিকি কানিংহ্যাম। ফেসবুকের একটি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে এটি তাকে আরেকটি ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি একই রকম দেখতে দুইটি ভাস্কর্যের অর্ডার দেন। তবে তিনিও এখনো কিছুই হাতে পাননি। পাবেন কিনা এটি নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

আরও একজন ২৮ ইউরো দিয়ে দুটো ভাস্কর্যের অর্ডার দিয়ে পেয়েছেন নিম্নমানের প্লাস্টিকের তৈরি এক ভাস্কর্য, ছবির সাথে যার কোন মিলই নেই।

এক দশক আগে রবিন রাইট ''ফ্যান্টাসিওয়্যার'' নামে শখের বশে একটি প্রতিষ্ঠানটি চালু করেন। যেখানে তিনি স্টিলের তার ব্যবহার করে কিছু ভাস্কর্য তৈরি করেন। স্থানীয়ভাবে তার কিছু ভাস্কর্য বিক্রিও হয়। এরপর একদিন অনলাইনে তার ভাস্কর্যের ছবি ভাইরাল হয়ে গেলে ফুলে ফেঁপে ওঠে রবিনের ব্যবসা। তার ভক্তের সংখ্যাও বেড়ে যায়। খুলে ফেলেন নিজস্ব ওয়েবসাইটও। একেকটি ভাস্কর্য তিনি বিক্রি করেন ১৫ হাজার পাউন্ডে।

তবে এখানেই দেখা দেয় বিপত্তি। তার ভাস্কর্যের ভুয়া বিজ্ঞাপন ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। রবিনের ওয়েবসাইট থেকে ছবি নিয়ে প্রতারকেরা আরও কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেয়। ফলে বিভ্রান্ত হয়ে প্রতারিত হন অনেকেই। কেউ হয়তো নিম্নমানের প্লাস্টিকের পণ্য হাতে পান। কেউ কিছুই পান না।

তবে ভুয়া বিজ্ঞাপন বন্ধে ফেসবুকে সঙ্গে কথা বলেছেন রবিন। ফেসবুক তাকে সব বিজ্ঞাপনের জন্য আলাদা করে রিপোর্ট করতে বলে। কিন্তু এসব বিজ্ঞাপন সংখ্যায় এতো বেশি যার প্রত্যেকটিতে আলাদা করে রিপোর্ট করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, ভুয়া বিজ্ঞাপন বন্ধে ফেসবুক কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। ভুয়া বিজ্ঞাপন দিতে নিরুৎসাহিতও করে না।


আরও পড়ুনঃ

ফ্যান্টাসিওয়্যার: ড্যান্ডেলিয়ন ফুল আর পরীর রাজ্য

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

হোটেলে নারী এনে জরিমানার মুখে চিলির ফুটবলাররা

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক কুমির ‘মুজা’র জন্মদিন পালন


বিজ্ঞাপনগুলো ভুয়া জানায় পরও ফেসবুক সরিয়ে নেয় নি। এর কারণ হিসেবে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন নিয়ে অতিরিক্ত অর্থের লোভকেই দায়ী করেন তিনি। তার মতে, বিজ্ঞাপনের জন্য মোটা অর্থ পায় ফেসবুক।

এই বিজ্ঞাপন কেলেঙ্কারির জন্য শুধু বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভোক্তারাই নন, তিনি নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সূত্রঃ বিবিসি

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

ফ্যান্টাসিওয়্যার: ড্যান্ডেলিয়ন ফুল আর পরীর রাজ্য

অনলাইন ডেস্ক

ফ্যান্টাসিওয়্যার: ড্যান্ডেলিয়ন ফুল আর পরীর রাজ্য

মাত্র ১০ বছর আগে শখের বসে রবিন ‘ফ্যান্টাসিওয়্যার’ নামে ছোট্ট একটি পারিবারিক ব্যবসা শুরু করেন। রবিন উইট একজন ভাস্কর। তিনি স্টেইনলেস স্টিলের তার ব্যবহার করে পরী ও ড্যান্ডেলিয়ন ফুলের ভাস্কর্য তৈরি করে থাকেন। তার স্ত্রী ও তার দুই ছেলে-মেয়ে একাজে সাহায্য করে তাকে।

অনলাইনে তার তৈরি ভাস্কর্য বেশ বিখ্যাত। এগুলো প্রশংসিত হয়েছে লাখো মানুষের কাছে। এমনকি কোন বিজ্ঞাপন ছাড়াই ইন্টারনেটে তার তৈরি ভাস্কর্যের ছবি অহরহ দেখা যায়।

সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য রবিনের তৈরি ভাস্কর্য বাচ্চাদের খেলার মাঠে ব্যবহারের চিন্তা ট্রেন্থাম গার্ডেনসের মার্কেটিং ম্যানেজার অ্যামান্ডা ডসনের মাথায় আসে। তিনি রবিনের কাছ থেকে কয়েকটি ভাস্কর্য কিনে তা বাগানে সাজিয়ে রাখেন।

অ্যামান্ডা জানান, এরপর থেকেই বাগানে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এমনকি ৭২৫ একর আয়তনের এই বিশাল বাগানে অবিস্কার করার মতো আরও অনেক কিছু থাকলেও শুধুমাত্র ভাস্কর্য রাখা জায়গাগুলোতেই ভিড় হতে থাকে।

একদিন এক দর্শনার্থী ভাস্কর্যগুলোর কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করলে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যায় রবিনের ভাস্কর্যগুলো। ফেসবুকে তার রয়েছে ৪৪ মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার। তার একেকটি ভাস্কর্য বিক্রি হয় ১৫ হাজার ইউরোতে।

বিশ্বজুড়ে তার ভক্তেরা ফেয়ারি ফ্যানস নামে পরিচিত। তার ফেসবুক গ্রুপে প্রতি সপ্তাহে তিনি তার বর্তমান কাজের আপডেট জানান।


আরও পড়ুনঃ

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

হোটেলে নারী এনে জরিমানার মুখে চিলির ফুটবলাররা

বেবি বাম্পের ছবি দিয়ে নুসরাতের লুকোচুরির ইতি

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক কুমির ‘মুজা’র জন্মদিন পালন


তবে এসবের সাথে সাথে একটি সমস্যাও দেখা দেয়। নেটদুনিয়ায় তার ভাস্কর্যের ছবি চুরি ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হয়! তার ওয়েবসাইটের ছবিগুলো অপরাধীরা চুরি করে তা বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহার করে।

এই প্রতারণায় ফেসবুকে তার ছবির ওপর ক্লিক করলে তা অন্য একটি পেইজ বা ওয়েবসাইটে নিয়ে যায় যেখানে হুবহু তার ছবিগুলো ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। পরে তাদেরকে নিম্নমানের পণ্য ধরিয়ে দেওয়া হয়, অথবা তারা কিছুই পান না।

এই বিজ্ঞাপনগুলো বন্ধের জন্য বারবার ফেসবুকের কাছে আবেদন করলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি রবিন। মানুষের ভোগান্তি দূর করার চেয়ে বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া অর্থই ফেসবুকের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

সূত্রঃ বিবিসি

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

ধূমপান ছাড়তে চান?

অনলাইন ডেস্ক

ধূমপান ছাড়তে চান?

ধূমপান ক্ষতিকর সেকথা সবাই জানে। মৃত্যুর কারণও হতে পারে  ধূমপান। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা বলছে হৃদরোগের জন্য ৫৪ ভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী হলো ধূমপান। গবেষনায় দেখা গেছে, সাধারণের তুলনায় ধূমপায়ীদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকে ছয় গুণ বেশি।

সুস্থ থাকতে চাইলে ধূমপান বর্জন করা জরুরি। কিন্তু অনেকেই ধূমপান ছাড়তে চাইলেও পারেন না। আর এটা চাইলেই একদিনে ছাড়া সম্ভব হয় না। চলুন জেনে নেওয়া যাক ধূমপান ছাড়ার কার্যকরী কিছু উপায়-

#ধূমপান ছাড়ার জন্য সবার আগে প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি। আপনি যদি একবার সিদ্ধান্ত নেন যে ধূমপান ছেড়ে দেবেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকুন। 

#নিজের পকেটেই সিগারেট রাখুন। এতে অন্যের কিাছ থেকে চাওয়ার প্রবণতা কমবে। তবে সিগারেট খাওয়া থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। 

#খেয়াল করুন, কোন সময়টাতে আপনার সিগারেট খেতে বেশি ইচ্ছা করে। হতে পারে তা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে, ফোনে কথা বলার সময়, টিভি দেখার সময়, খাবারের পর কিংবা চায়ের সঙ্গে। যে সময়েই হোক, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। 

#কাজ করতে করতে সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস? আজ থেকে বাদ দিন।

news24bd.tv/এমিজান্নাত

পরবর্তী খবর