ভালোবাসা ও ত্যাগ হোক রাজনীতির শক্তি

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

ভালোবাসা ও ত্যাগ হোক রাজনীতির শক্তি

সমাজের সব স্তরে এখন রাজনীতির প্রভাব দৃশ্যমান | অনেকে বলেন রাজনীতি ছাড়া মানুষ, মানুষ ছাড়া রাজনীতি অর্থহীন | কারণ তথকথিত নিরপেক্ষতাও একধরণের রাজনীতি | সেটা কেউ স্বীকার করুক বা না করুক | তবে আনাড়ি ও অতি রাজনীতির ফল বেশিরভাগক্ষেত্রেই ভয়ংকর | 

রাজনীতির একটা নীতি আছে, যদিও অনেকে বলবেন সময় যত গড়িয়েছে রাজনীতি তত নীতির খোলস থেকে বের হয়ে এসে আর রাজনীতি থাকেনি, বরং সেটা সুবিধাবাদিতা ও স্বার্থপরতায় রূপান্তরিত হয়েছে | সেটা রাজনীতির দোষ নয়, যারা রাজনীতির উপর আধিপত্য বিস্তার করে রাজনীতিকে অপরাজনীতিতে পরিণত করেছে তাদের দোষ |   

সবক্ষেত্রেই রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত | যে রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকবে | মানুষের স্বকীয়তা, স্বচ্ছতা ও বিবেচনাবোধের প্রকাশ থাকবে | যেটা কাঁচা বা পাকা অর্থাৎ আনাড়ি বা অতিমাত্রার রাজনীতি না হয়ে চিন্তাশক্তি, উন্নয়নের মানসিকতা, বিবেচনাবোধের মূল শেকড় থেকে উৎসারিত হবে |

 জন্মের পর থেকেই মানুষ রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত  হয়  | সেটা ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে আরও গভীর হতে থাকে | একসময় সেটা মানুষের জীবনের একটা অন্যতম উপাদানে পরিণত হয় | এমন রাজনীতি যে দেশ ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক হবে তা নয় | এ ধরণের রাজনীতি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিকও হতে পারে | রাজনীতির ধরণগত বৈচিত্র্য থাকলেও সব স্তরের রাজনীতির ক্ষেত্রে ইতিবাচকতার প্রভাব থাকাটা বেশি দরকার | যাতে করে  সেটা মানুষের রাজনীতি হয়, রাজনীতির মানুষ না হয় | 

রাজনীতিসংক্রান্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কিছু বাণী আমাদের সঠিক পথ দেখাতে সক্ষম | যেমন তিনি বলেছেন : "অযোগ্য নেতৃত্ব, নীতিহীন নেতা ও কাপুরুষ রাজনীতিবিদদের সাথে কোন দিন একসাথে হয়ে দেশের কাজে নামতে নেই। তাতে দেশসেবার চেয়ে দেশের ও জনগণের সর্বনাশই বেশি হয়।"

"সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। তাই মাটি ও মানুষকে কেন্দ্র করে গণমানুষের সুখ, শান্তি ও স্বপ্ন এবং আশা-আকাঙ্খাকে অবলম্বন করে গড়ে উঠবে বাংলার নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতি।"

"রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের চারটি জিনিসের প্রয়োজন, তা হচ্ছে: নেতৃত্ব, ম্যানিফেস্টো বা আদর্শ, নিঃস্বার্থ কর্মী এবং সংগঠন।"

"বাংলার উর্বর মাটিতে যেমন সোনা ফলে, ঠিক তেমনি পরগাছাও জন্মায়! একইভাবে, বাংলাদেশে কতকগুলো রাজনৈতিক পরগাছা রয়েছে, যারা বাংলার মানুষের বর্তমান দুঃখ-দূর্দশার জন্য দায়ী।"

“মানুষ চায় কী জীবনে? কেউ চায় অর্থ, কেউ চায় শক্তি, কেউ চায় সম্পদ, কেউ চায় মানুষের ভালোবাসা। আমি চাই মানুষের ভালোবাসা।”
“আমি সব ত্যাগ করতে পারি, তোমাদের ভালোবাসা আমি ত্যাগ করতে পারিনা।”

“সাত কোটি বাঙ্গালির ভালোবাসার কাঙ্গাল আমি। আমি সব হারাতে পারি, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা হারাতে পারব না।”

মানুষের জন্য ত্যাগ ও ভালোবাসার নাম রাজনীতি | সব ধরণের সম্প্রীতি ও উদার মানবিকতার নাম রাজনীতি | আপন সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে সৃজনশীলতার নাম রাজনীতি যেখানে  সুচিন্তা মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে একীভূত করবে | যে কোনো পর্যায়ের রাজনীতির জন্য নীতি, আদর্শ, সাহস ও যোগ্যতা থাকা দরকার | সততা, দেশপ্রেম ও জীবনবোধ থাকা দরকার |

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভারতীয় সহযোগিতা

হাসান ইবনে হামিদ

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভারতীয় সহযোগিতা

শ্রমনির্ভর থেকে জ্ঞাননির্ভর জাতিতে পরিণত হবার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পৃথিবীতে যে বিশাল জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে, বাংলাদেশ তার অংশীদার হতে চায়। নতুন ধরনের এই অর্থনীতিতে প্রবেশের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সরকার সারা দেশে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। ই-গভার্ন্যান্স পদ্ধতি চালু, স্কুল-কলেজে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং আইটি পার্ক গড়ে তোলাসহ সরকারের নানামুখী কর্মযজ্ঞ দেশব্যাপী চলমান। নানা ধাপে এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের কার্যক্রম সরকার এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি জেলায় আইটি পার্ক গড়ে তোলার ঘোষণা ইতোমধ্যে সরকার দিয়েছে।

বর্তমানে দেশের ৩৯টি জেলায় আইটি পার্ক নির্মাণাধীন। বর্তমানে সাতটি হাইটেক পার্ক বিনিয়োগের উপযুক্ত অবস্থায় আছে। এগুলো হচ্ছে কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি, ঢাকায় জনতা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, সিলেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক, চট্টগ্রামে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, নাটোরে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার, রাজশাহীতে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার। দেশের বিভিন্ন পার্কে এ পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

এই হাইটেক পার্কগুলো সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাবে। এদিকে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইটি সেক্টরের উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় হাইটেক পার্ক স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে। তার মানে বৃহৎ জনগোষ্ঠী যে এই হাইটেক পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের আওতায় আসবে তা পরিস্কার। 

ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ভারত এবার হাইটেক পার্ক নির্মাণে বাংলাদেশকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে দেশের ১২টি জেলায় হাই-টেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পে ভারত সরকার অর্থায়ন করছে। সম্প্রতি আইসিটি প্রতিমন্ত্রী ভারতের সাথে এক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় এসব তথ্য দিয়েছেন। গত ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ‘বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল সার্ভিস এন্ড এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং সেন্টার (বিডিসেট)’ নামক একটি প্রকল্প স্থাপনে ভারতীয় অনুদানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই সমঝোতার আওতায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও আইসিটি শিল্পের বিকাশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ২৫ কোটি টাকা ভারতীয় অনুদান দেয়া হবে। এই প্রকল্পে মোট ৬১.০২৫৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে যার বাকী অংশ (৩৬.০২৫৯ কোটি টাকা) বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হবে। এখান থেকে আগামী দুই বছরে প্রায় আড়াই হাজার প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। ইন্টারনেট অব থিংস, মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, এক্সটেনডেড রিয়ালিটি এবং অন্যান্য উচ্চতর বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এ ছাড়াও ৩০ জনকে ৬ মাসের জন্য ভারতে আইসিটির উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণ করা হবে।

বাংলাদেশের বেকারত্ব নিরসনে ভারত সরকার যেভাবে এগিয়ে এসেছে তা নিঃসন্দেহে ধন্যবাদ ও প্রশংসা পাবার দাবি রাখে। কেননা হাইটেক পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণের পথে হাঁটতে চাইছে বাংলাদেশ। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপ দিয়ে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের তালিকায় নিয়ে যেতে চাইছে বাংলাদেশ সরকার। আর সেই পথে আমাদের বন্ধুর ন্যায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আমাদের জন্মবন্ধু ভারত। হাইটেক পার্ক শুধু যে স্কিলড কর্মীদের চাকুরীর নিশ্চয়তা দেবে তা কিন্তু না বরং প্রতিটি জেলায় এই পার্ককে কেন্দ্র করে যে কর্মযজ্ঞ শুরু হবে তাতে লাখো মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় কালিয়াকৈরের হাইটেক পার্কের কথা, যেখানে প্রশাসনিক ভবন, হাসপাতাল, কাস্টম হাউস, স্কুল-কলেজ, ব্যাংক, শপিং মল, আবাসিক এলাকা, শিল্প এলাকা, কনভেনশন সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে কালিয়াকৈর পার্কের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে একটি রেলস্টেশন স্থাপন ও শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। তার মানে এই পুরো অঞ্চলে লাখো মানুষকে ব্যবসার সুযোগও তৈরি করে দিচ্ছে এই হাইটেক পার্ক। বেকারত্ব নিরসনে বন্ধু দেশ ভারত আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে যা দুই দেশের আদি বন্ধুত্বের এক উদাহরণ। 

আইসিটি খাতে ভারত সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও পারস্পরিক সম্পর্ক আগের যেকোন সময়ের চেয়ে এখন অনেক উন্নত। আইসিটি খাতে ভারতীয় কোম্পানি বিশ্ব বাজারে জায়গা করে নিলেও বাংলাদেশ থেকে আইটি খাতের দশ লাখের বেশি দক্ষ জনবল নিয়ে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের নিজস্ব অবস্থান তৈরী করতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে আইসিটি খাতে ৫ বিলিয়ন ডলারের উপর রপ্তানি আয় করার আশা করছে বাংলাদেশ। এই খাতে বাংলাদেশ ও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক বৃদ্ধি পেলে তা উভয় দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইসিটি খাতে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্প্রাসারণে ভারতীয় হাইকমিশন, বাংলাদেশ সরকার এবং দু’দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়িক সংগঠন যদি একত্রিত হয়ে কাজ করতে পারে তবে দক্ষিণ এশিয়াতেই আইসিটি খাতে এক বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।

সে লক্ষ্যেই এবারের ২৭ জুলাইয়ের ভার্চুয়াল সম্মেলনে ই-কমার্স, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আইটির ব্যবহার, সাইবার নিরাপত্তা, রোবটিক অটোমেশন প্রক্রিয়া,পর্যটন খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমাত্রা ও ব্লকচেইনের ব্যবহার, বড় তথ্য বিশ্লেষণ, সংযুক্ত ও ভার্চুয়াল বাস্তবতা, অ্যানিমেটেড ছবি নির্মাণ, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ নির্মাণসহ প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য ক্ষেত্রে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা কিভাবে পারস্পরিক ব্যাবসা বৃদ্ধি করে পরস্পর লাভবান হতে পারেন সে বিষয়ে আলোচনা করেন উভয় দেশের আইসিটি খাতের ব্যবসায়ীরা। এভাবে দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে গেলে আইসিটি খাতে উত্তরোত্তর সফলতা দ্রুতই আসবে। 

হাইটেক পার্ক ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এটা সত্যি যে, এতদিনে কমপক্ষে লাখ খানেক কর্মসংস্থান করার কথা ছিল। সেদিক থেকে আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে যেহেতু চাহিদা বেশি সেগুলোতে অগ্রাধিকার দেয়ার এখন সময়। লক্ষ্যের দিকে এগোতে হলে ফোকাস থাকতে হবে। দ্রুত ট্রেন যোগাযোগ প্রয়োজন হবে। ইন্ড্রাস্টি, একাডেমি ও সরকারের টাস্কফোর্স গঠন করে কাজ করতে হবে। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর প্রথম হাইটেক বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলো। যেহেতু হাইটেক পার্কের বিষয়টি শিল্পখাত ভিত্তিক তাই শিল্প ও প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

এটা করতে সময় লাগে। তাই দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে এই হাইটেক পার্ক নির্মাণ করছে সরকার যেখানে লাখ লাখ বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। আমাদের প্রত্যাশা, ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে আগামী দিনগুলোতেও বাংলাদেশের হাই-টেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগসহ আইসিটি খাতে সহযোগিতা আরও প্রসারিত করবে ভারত। ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব অমর হোক।

 (মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

লেখক : হাসান ইবনে হামিদ, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আমার বন্ধু ভাগ্য অনেক ভালো

পীর হাবিবুর রহমান

আমার বন্ধু ভাগ্য অনেক ভালো

পীর হাবিবুর রহমান

বন্ধু মানে ডাকলেই ছুটে যাওয়া, ডাকলেই ছুটে আসা। করোনার দেড় বছরে আমার বন্ধুদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ নেই। আড্ডা নেই। একা বন্ধুবিহীন জীবন। ছোটবেলা থেকেই আমি দূড়ন্ত আমুদে প্রানবন্ত আড্ডাবাজ বন্ধু পাগল। বন্ধু ভাগ্য আমার অনেক ভালো।

পাড়া থেকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। বন্ধুত্ব মানেই আত্নার গভীরে বহন করা টান। বিশ্বাসের প্রবল শক্তি। দলবেধে ছুটে চলা। জীবনের সব কিছুই ভাগাভাগি করা। চায়ের আসর থেকে সব। তুমুল তর্ক ঝগড়া গলাগলি সব। বিপদে আপদে দৌড়ে আসা যাওয়া নি:স্বার্থ এক সম্পর্ক।

বন্ধুবিহীন জীবন ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষ ছাড়া কারও হয়না। শৈশব কৈশোরের খেলার মাঠ, তারুন্যের মিছিল, কবিতা পাঠের আসর, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, ছাত্র মিছিল জীবনের বড় একটা অংশজুড়েই বন্ধু। বন্ধুত্ব এমনিতেই হয়না, অন্তর থেকে জন্ম নেয় এবং গভীর আবেগে তা লালিত হয়।

আমার অসুখেও কত বন্ধু দেখতে আসতে চাইলে মন ভরে গেছে তবু আসতে দেইনি করোনার ভয়ে। এ কষ্ট আমার। তারা সবাই দোয়া করছে। নিজ শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, স্কুল কলেজ, দেশ বিদেশ কত পথ কত বন্ধুর সাথে ঘুরেছি হেটেছি। কত বৃষ্টিতে ভিজেছি, জোছনায় ভেসেছি। কত জায়গায় কত আড্ডা। কত রাত দিন আড্ডায় কত হাসি কত আনন্দ। আড্ডায় কেবল সেন্স অব হিউমার নয়, শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি রাজনীতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা, তর্কযুদ্ধ। এ জীবনের পরম পাওয়া। 

সুনামগন্জের প্রকৃতি পরিবার মাটি ও মানুষ পাঠ দিয়েছিলো নির্লোভ সাদামাটা জীবনের। সরলতা আবেগ বিশ্বাস জন্মগত পেয়েছিলাম। এর চড়া মূল্য দিলেও নিজেকে বদলাইনি, এ আমার শত্রু আমারই শক্তি।

পেশাগত জীবনে কত বন্ধু ছড়িয়েছে কতখানে, কত দেশে। তবু যোগাযোগ শেষ হয়নি। হৃদয়ে লালন করে রেখেছি। কত বন্ধু অকালে চলে গেছে, মনে পড়ে তাদের খুব। মন খারাপ করে। আল্লাহ তাদের বেহেসত দিন।

জীবিত সকল বন্ধু আনন্দময় দীর্ঘ জীবন লাভ করুক। বন্ধুরা ভালো থাকিস। বন্ধুত্বের কখনো মৃত্যু হয়না।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

জানিনা সামনে কি সময় আসছে

ডাঃ গুলজার হোসেন

জানিনা সামনে কি সময় আসছে

জানিনা সামনে কি সময় আসছে। গত দুইদিন ধরে বেশ কিছু রোগী রেফার্ড হচ্ছে আমার কাছে। এরা হাসপাতালে ভর্তি রোগী। কোভিড পজিটিভ। কেউ কেউ সাস্পেক্টেড কোভিড৷ কেউ কেউ আই সি ইউতে আছেন৷ 

 এদের প্লেইটলেট অনেক কম। পঞ্চাশ হাজারের আশেপাশে।  সেকারণেই আমার কাছে রেফার করছে মতামতের জন্য। আমি জ্বরের ইতিহাস অনুযায়ী এন্টিজেন এবং এন্টিবডি পরীক্ষা করে পেলাম এদের ডেংগি হয়েছে। 

হাসপাতালে ভর্তি হয়ে এরা এর মধ্যেই দুই চারদিন রেমডিসিভির ইঞ্জেকশন, চামড়ার নিচে ব্লাড থিনার ইঞ্জেকশন সহ নানারকম ফর্দ করা ইঞ্জেকশন ও ওষুধ নিয়ে ফেলেছে। একজনের  এই ফাঁকে রক্তক্ষরণও শুরু হয়েছে৷ 

একটু চিন্তিত বৈকি। জাহিদুর রহমান  ভাই এবং Maliha কে ফোন দিলাম কোনভাবে কি ডেংগি পেশেন্টের শরীরে ডেংগি ভাইরাস থাকবার কারণে করোনা পরীক্ষা ফলস পজিটিভ আসতে পারে? দুজনই মত দিলেন 'না, পারেনা'। (ফলস পজিটিভ এমনিতেই নানা কারণে আসতে পারে। সে প্রসংগ আলাদা।)  
তার মানে এই রোগীদের দুটোই হয়েছে।  কোভিড ১৯ এবং ডেংগি। 

আসলে না হবার তো কারণ নেই। বাংলাদেশ, বিশেষ করে ঢাকা ডেংগির এন্ডেমিক জোন। এটা দূর হবেনা, থেকে যাবে। ইতিহাস তো এটাই বলে। যেখানে ডেংগি ঢুকেছে আর বের হয়নি। ফিরে ফিরে এসেছে। হয়ত দুই এক বছর প্রকোপ কম ছিলো।
 
গতবছর মশক নিধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থবির জনজীবনের কারণে ডেংগিবাহী মশা বংশ বিস্তারের মওকা পেয়েছে৷ মানুষ বাড়িতে থাকে। দিনের বেলায় কাজ নেই, শুয়ে,বসে,ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে৷  হাসপাতাল রোগীতে ভর্তি। এক রোগী থেকে আরেক রোগীতে ছড়ানোও বেশ সহজ। ডেংগির প্রকোপ বাড়ার বিস্তর কারণ বিদ্যমান। 

সমস্যা আরো। দেখা গেল রোগী এসেছে জ্বর নিয়ে।  সবার নজর কোভিডে। কোভিড পরীক্ষা হলো।  পরীক্ষায় দেখা গেল পজিটিভ। ব্যাস,  রোগ তো পেয়ে গেলাম। দশ-বারোটি ওষুধ ছড়ড়া গুলির মত চালু হয়ে গেল। চামড়ার নিচে ব্লাড থিনার। এদিকে কোন ফাঁকে প্লেইটলেট কমে, উপরি হিসেবে ব্লাড থিনার পেয়ে শুরু হলো রক্তক্ষরণ। পরশু একটা রোগীকে এভাবে হারালাম। 

অর্থাৎ কোভিডের সাথে যে ডেংগি কো-ইনফেকশন হিসেবে আসছে,  আসতে পারে এবং আসতেই পারে এটাই মাথায় রাখতে হচ্ছে এখন।
হাসপাতালে করোনা রোগীরা আছে। হাজার হাজার টাকার এন্টিভাইরাল দিচ্ছেন। লাখ টাকার টসিলিজুম্যাব। সাথে দুইশ টাকার একটা মশারিও দেন। 
বাড়িতেও মশারি খাটান।  এটুকুই বলার ছিলো।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

ডা. গুলজার হোসেন, রক্তরোগ ও রক্তক্যান্সার বিশেষজ্ঞ|

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আর তাতে নেশা ফেশা কিছুই হবে না!

তসলিমা নাসরিন

আর তাতে নেশা ফেশা কিছুই হবে না!

পোস্ত আমাদের পূর্ব বঙ্গের খাবার নয়। তারপরও আমি মাঝে মাঝে  ঝিঙে পোস্ত রান্না করি। আজ প্রথম করলাম পোস্ত বড়া। যেহেতু ছোটবেলা থেকে পোস্ত বড়া খেয়ে অভ্যস্ত নই, তাই আমার ঘটি বন্ধুদের মতো নাচানাচি করিনি। খেয়েছি, ব্যস। নতুন একটা রান্না শিখলে যে আনন্দ, সেই আনন্দটুকুই শুধু হলো। 

হতো যদি আজ সেইসব বড়া, যেগুলো মা বানাতো, যেগুলো এখনও মুখে লেগে আছি, তাহলে নাচানাচি নিশ্চয়ই কিছুটা হতোই। আজ তবে কী দুঃখে পোস্ত বড়া বানাতে গেলাম? একটাই দুঃখে, দু'তিনদিন ঘুম ভালো হচ্ছে না। 

হচ্ছে না না বলে আসলে বলা উচিত নিজেকে আমি ঘুমোতে দিচ্ছি না। জীবনের সময় ফুরিয়ে আসছে বলে বালিশেই মাথা রাখছি না। বালিশে আমার মাথা মানেই দেড় মিনিটের মধ্যে গভীর ঘুমে চলে যাওয়া।দেখি পোস্ত আমার মাথাকে টেনে বালিশে নিতে পারে কিনা। 

অপিয়ামের বীজ। ভাবলেই গা কেঁপে ওঠে। যে অপিয়াম থেকে মরফিন আর হেরোইনের মতো ভয়াবহ জিনিস বেরোয়, সে অপিয়ামের বীজ মুঠো মুঠো খেয়ে নেব আর তাতে নেশা ফেশা কিছুই হবে না, শুধু একটু মাথা আর বালিশ হলেও হতে পারে,  ভাবাই যায় না।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 

আরও পড়ুন:


দেশে একদিনে করোনায় মৃত্যু বাড়ল

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১২ দিন পর চালু


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

পৃথিবী-মানবজাতি রক্ষায় সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে ভাবার বিকল্প নেই

শান্তা আনোয়ার

পৃথিবী-মানবজাতি রক্ষায় সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে ভাবার বিকল্প নেই

শান্তা আনোয়ার

১৯৭২ সালে, এমআইটি থেকে বিজ্ঞানীদের একটি দল ক্লাব অফ রোম নামের একটি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী নেতা এবং রাজনীতিবিদদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে দায়িত্ব পাওয়ার পরে মানবজাতির ভবিষ্যত কেমন হতে যাচ্ছে তা জানার জন্য একটি কম্পিউটার মডেল ব্যবহার গবেষণা করেছিল।  

জনসংখ্যা, শিল্প উৎপাদন ও খাদ্য উৎপাদন দূষণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে জটিল মিথস্ক্রিয়াগুলি থেকে এই গবেষণার ভবিষৎবাণী করা হয়েছিলো। 

গবেষণায় দেখা যায় যে, যাকে আমরা "স্থিতিশীল বিশ্ব" পরিস্থিতি বলি-যেখানে বিশ্বব্যাপী সামগ্রিক পতন যেমন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক মূল্যবোধ, স্বাস্থ্য ইত্যাদি পতন এড়ানো এবং জীবনযাত্রার মান স্থিতিশীল রাখা তখনি সম্ভব হতে পারে, যদি সামাজিক মূল্যবোধগুলিতে অগ্রাধিকার দিয়ে নাটকীয় পরিবর্তন আনা হয়। 

পরিবেশকে ধ্বংস করে তথাকথিত অর্থনৈতিক বিকাশ অব্যাহত থাকলে তা খাদ্য সংকট সৃষ্টি করতে পারে এবং এমন সমাজ তৈরি করতে পারে যা মানব কল্যাণকে ডুবিয়ে দিতে দেবে। 

যেই সময় এমআইটির এই গবেষণাটা প্রকাশিত হয়েছিলো তখন সেটাকে নিয়ে তুমুল সমালোচনা এবং বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিলো। তবে আজকের বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে দেখলে অনুধাবণ করা যায় যে এম আইটির গবেষণার ভবিষ্যদ্বাণীটি বিস্ময়করভাবে সঠিক ছিলো।

২০২০ সালের নভেম্বরে জার্নাল অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোলজিতে হিসাবরক্ষণ সংস্থা কেপিএমজির পরিচালক গয়া হেরিংটন এর প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কীভাবে গত কয়েক দশকের তথ্য ও উপাত্ত এম আইটির গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলকে সমর্থন করছে।  

গত কয়েক দশকের ডেটা বিশ্লেষণ করে, তিনি চারটি পৃথক সম্ভাব্য সিনারিও বা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছিলেন: প্রথম দুটি সিনারিও ছিল দুটি ভিন্ন ভিন্ন “বিজনেস এজ ইউজুয়াল” পরিস্থিতি বা যেভাবে সবকিছু চলছে সেভাবেই সবকিছু চালানো, তৃতীয় পরিস্থিতি বা সিনারিও ছিল একটি "স্থিতিশীল বিশ্ব পরিস্থিতি," এবং চতুর্থ সিনারিও ছিল “কম্পরেহেন্সিভ প্রযুক্তি নির্ভর” পরিস্থিতি , যেখানে মানবিক প্রযুক্তিগত বিকাশ ব্যবহার করে উন্নয়নের কারণে পরিবেশগত বিপর্যয়কে মোকাবেলা করার পথকে উদ্ভাবন করতে মানবজাতি সক্ষম হয়েছে । 

প্রথম দুই ধরণের  “বিজনেস এজ ইউজুয়াল পরিস্থিতি” বা যেই পরিস্থিতির মধ্যে আমরা ছিলাম তা চললে একবিংশ শতাব্দীর মধ্যে তা সামগ্রিক বৈশ্বিক পতনের সূত্রপাত করবে বলে দেখা গিয়েছিল। 

প্রথম দুইটা সিনারিওর একটি সিনারিওতে প্রাকৃতিক সম্পদ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার কারণে এবং দ্বিতীয় সিনারিওতে দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন বা পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে কম্প্রিহেন্সিভ প্রযুক্তি পরিস্থিতি যা পরিবেশগত বিপর্যর মোকাবেলায় সক্ষম ছিলো তা একবিংশ শতাব্দীর পুরোটায় তার পতন এড়াতে সক্ষম হয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে এই গবেষণার মানবকল্যাণ হ্রাস পেয়েছিল।

আরও পড়ুন:


হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হচ্ছে

মেঘনায় ট্রলার ডুবে জেলের মৃত্যু, জীবিত উদ্ধার ১১

পর্যটকদের জন্য খুলছে সৌদির দরজা

বগুড়ার গাবতলীতে ৩০০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ


স্থিতিশীল বিশ্ব পরিস্থিতি সিনারিওতে, যেখানে বিশ্ব নাটকীয়ভাবে সামাজিক মূল্যবোধ এবং অগ্রাধিকারগুলি পরিবর্তন করেছে, সেই মডেল বা সিনারিও অনুসারে একবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে মানুষের জনসংখ্যা স্থিতিশীল হয়ে পড়েছিল এবং জীবনযাত্রার মান বজায় ছিল।

পৃথিবী রক্ষায়, মানবজাতিকে রক্ষায় আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবার কোন বিকল্প নাই।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর