রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ০৮ মিনিট আগে

দেশের বিভিন্ন জেলায় আজ ঈদ

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন জেলায় আজ ঈদ

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় আজ শুক্রবার ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে। চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, দিনাজপুর, মাদারিপুরসহ আরও কিছু এলাকায় আজ সকালে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে লক্ষ্মীপুরে ১১টি গ্রামে আগাম ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও বাজারের তালিমুন কোরান নুরানী মাদ্রাসা মাঠে সবচাইতে বড় ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা আমিনুল ইসলাম।

এছাড়া জেলার রামগঞ্জ উপজেলার জয়পুরা, বিঘা, বারো ঘরিয়া, হোটাটিয়া, শরশৈই, কাঞ্চনপুর ও রায়পুর উপজেলার কলাকোপা ও সদর উপজেলার বশিকপুর গ্রামসহ ১১টি গ্রামে মাওলানা ইসহাক (রাঃ) অনুসারীরা স্ব স্ব ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন।  

দিনাজপুর
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে দিনাজপুরের জেলা সদর, বিরল, কাহারোল, খানসামা এবং চিরিরবন্দর উপজেলায় এলাকায় আলাদাভাবে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছে প্রায় দুই হাজার পরিবারের সদস্যরা। নামাজ শেষে পশু কোরবানিও দিয়েছেন তারা।

আজ শুক্রবার সকাল সোয়া ৮টায় দিনাজপুর শহরের কমিউনিটি সেন্টারে স্বপরিবারে নামাজ আদায় করেছে দুই শতাধিক অনুসারি। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মতিউর রহমান।

প্রায় একই সময়ে কাহারোল উপজেলার জয়নন্দহাট, মুকুন্দপুর, গড়েয়াবাজার মাঠ, চিরিরবন্দর উপজেলার সাইতাড়া রাবার ড্যাম মাঠ খানসামার পাকেরহাট, বিরলের বালান্দর গ্রামে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন অনুসারিরা। এসব মাঠে আলাদা ভাবে ঈদের নামাজ আদায় করেছে বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার।

মাদারীপুর
সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুরের ৪ উপজেলার ৩০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আজ শুক্রবার কোরবানির ঈদ উদযাপন করছেন।
 
জানা গেছে, প্রায় দেড়‘শ বছর পূর্ব থেকে বাংলাদেশে সুরেশ্বর দরবার শরীফের মুরিদানারা সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করে আসছেন। সে হিসেবে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চরকালিকাপুর, মহিষেরচর, পূর্ব পাঁচখোলা, জাজিরা, কাতলা, তাল্লুক, খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর, পখিরা, খোয়াজপুর, কুনিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর, কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর, হোসনাবাদ, ছিলারচর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর, আংগুলকাটা, হাজামবাড়ী, কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের আন্ডারচর, কয়ারিয়া, রামারপুল ও শিবচর উপজেলার বাহেরচরসহ ৩০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ শুক্রবার ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করছেন। শুক্রবার সকালে ঈদের নামাজ শেষে পশু কোরবানি দিয়ে ঈদ-উল-আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন তারা।

সুরেশ্বর পীরের ভক্ত সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও তাল্লুক গ্রামের আলী আহম্মদ ফকির বলেন, ‘ইসলাম ধর্মের সবকিছুই সৌদি আরবের মক্কা শরীফ হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। তাই সুরেশ্বর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা শাহ্ সুরেশ্বরী (রহঃ) এর অনুসারীরা ১৪৭ বৎসর পূর্ব থেকে সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ উল আযহা পালন করে আসছেন। সে হিসেবে আমরা শুক্রবার কোরবানির ঈদ উদযাপন করভি।'

পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর কয়েকটি উপজেলার পাঁচ হাজারের বেশি পরিবারে আজ ঈদের খুশি। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ শুক্রবার তারা পালন করছে ইদুল আজহা। সকাল নয়টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের বদরপুর দরবার শরিফ জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বদরপুর দরবার শরিফ মসজিদে প্রধান ঈদের জামাতের ইমামতি করেন মসজিদের খতিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম আবদুল গনি। 

জানা গেছে, এ বছর জেলার সদর উপজেলার বদরপুর ও ছোট বিঘাই, গলাচিপা উপজেলার সেনের হাওলা, পশুরীবুনিয়া, নিজ হাওলা ও কানকুনি পাড়া, বাউফল উপজেলার মদনপুরা, শাপলাখালী, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদী, সাবুপুরা ও আমিরাবাদ এবং কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া, নিশানবাড়িয়া, মরিচবুনিয়া, উত্তর লালুয়া, মাঝিবাড়ি, টিয়াখালীর ইটবাড়িয়া, পৌর শহরের নাইয়াপট্টি, বাদুরতলী এবং মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের সাফাখাল গ্রামের ৫ হাজারেরও বেশি পরিবার আগাম ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন করছে।

পিরোজপুর
জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামের খোন্দকার বাড়ি ও কচুবাড়িয়া গ্রামের হাজি ওয়াহেদ আলী হাওলাদার বাড়িতে সকালে ঈদের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আর সকাল নয়টায় নাজিরপুর উপজেলার খেজুরতলা বাজারের একটি মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। তবে আজ ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করলেও তাঁরা আগামীকাল শনিবার পশু কোরবানি দেবেন।

জানা গেছে, কচুবাড়িয়া গ্রামের প্রয়াত হাজি ওয়াহেদ আলী হাওলাদার, শীতল খান, হাজি সমিরুদ্দিন অষ্টাদশ শতকের শেষদিকে সুরেশ্বর গ্রামের পীর মরহুম হজরত মাওলানা জান শরিফকে কচুবাড়িয়ায় নিয়ে আসেন। সেই থেকে হাজি ওয়াহেদ আলী হাওলাদার তাঁর অনুসারীদের নিয়ে কচুবাড়িয়া ও ভাইজোড়া গ্রামে প্রথম সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখা ও ঈদ উদ্‌যাপন শুরু করেন। ধীরে ধীরে তাঁদের অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

চাঁদপুর
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার প্রায় ৪০ গ্রামে আজ শুক্রবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এ এলাকায় আগাম রোজা ও দুই ঈদ পালনের প্রবর্তক মাওলানা ইসহাক (রহ.)। তার মৃত্যুর পর অনুসারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার ছেলে ও বর্তমান সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মো. ইদ্রিস।  

তিনি বলেন, ১৯৩২ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরীফের পীর সাহেব সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আগাম রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপনের নিয়ম চালু করেন।

আগাম পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে যে সব গ্রামে- হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, জাকনী , প্রতাবপুর, বাসারা, ফরিদগঞ্জ উপজেলার: লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলব উপজেলার দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়াসহ শাহরাস্তি উপজেলার কয়েকটি গ্রামের অংশ বিশেষ।

মন্তব্য