পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি পেশ

বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের নাম প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের নাম প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ বুধবার দুপুর ১২ টায় (৯ জুন) কানাডার বেগমপাড়াসহ বিদেশে অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের নামের তালিকা জাতির সামনে দ্রুত প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন এর সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। 

আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ভাস্কর শিল্পী রাশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন স্বাধীন, সহ-সভাপতি রোমান হোসাইন, শাহীন মাতবর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি আরিফুর রহমান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুদসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। 

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা করে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। প্রায় এক ঘন্টা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ করার পর সংগঠনের তিন সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রীর পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ওয়ারিসুল ইসলাম। স্মারকলিপি হস্তান্তরের সময় প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ভাস্কর শিল্পী রাশা, সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন।

আরও পড়ুন


দশ বছরে ৪ বার পিছিয়েছে সময়সীমা, অগ্রগতি মাত্র ২৬ ভাগ (ভিডিও)

ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান হলেন শতরূপা বড়ুয়া

বিএনপির বহুদলীয় গণতন্ত্র ছিলো বহুদলীয় তামাশা: ওবায়দুল কাদের

টগর হত্যা মামলা: ২৭ বছর পর মূল আসামিসহ ১৮ জনকে খালাস


এর আগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, "বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন ও সংগ্রামের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম-অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এর ধারাবাহিকতায় দেশের অর্থ বিদেশে পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের নামের তালিকা জাতির সামনে দ্রুত প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। বিদেশে অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজরা দেশ ও জাতির শত্রু। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে আমাদের পিতারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে নয় মাস যুদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছিল। অর্জিত হয়েছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছে বাংলাদেশ। কিন্তু আজও পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি  ও বিদেশে অর্থ পাচার সম্পূর্ণভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড। আমরা কখনোই এসব দুর্নীতিবাজদের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড মেনে নিবো না।"

ভাস্কর শিল্পী রাশা বলেন, "লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে দুর্নীতিবাজদের কোন ঠাঁই হবে না। এদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কানাডার বেগমপাড়াসহ বিদেশে অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজরা এখন নব্য রাজাকারে পরিণত হয়েছে। এরা দেশ ও জাতির প্রকৃত শত্রু। বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করাই এদের মূল উদ্দেশ্য। বর্তমান সরকারের সফল অর্জনগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানাবিধ ষড়যন্ত্র চলছে। বিদেশে অর্থ পাচারকারীরা বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের মূলহোতা। এরা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারা ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, "কারা অর্থ পাচার করে, সেই তালিকা আমার কাছে নেই। নামগুলো যদি আপনারা জানেন যে এঁরা এঁরা অর্থ পাচার করেন, আমাদের দিন।" অর্থমন্ত্রীর এধরনের দায়িত্বহীন বক্তব্য আমাদেরকে হতাশ করেছে।"

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন বলেন, "পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও দুদকের দায়িত্ব হচ্ছে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের চিহ্নিত করে সেই অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে কখনোই বিদেশে অর্থ পাচার হতো না এবং অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো বলে আমরা মনে করি। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে নাটোরের সাংসদ শিমুলের বিরুদ্ধে কানাডায় বাড়ি কেনার অভিযোগ ওঠেছে। কিছুদিন আগে সংসদ সদস্য পদ হারানো পাপুলের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠেছে। পিকে হাওলাদারসহ অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারসহ দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। কিন্তু কানাডার বেগমপাড়ায় যারা অর্থ পাচার করে বাড়ি কিনেছে, তাদের নাম এখনোও পর্যন্ত জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়নি যা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই গত নভেম্বরে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, "বাংলাদেশ থেকে কানাডায় টাকা পাচারের যে গুঞ্জন আছে, তার কিছুটা সত্যতা আমরা পেয়েছি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী টাকা পাচারের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের সংখ্যাই বেশি। টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া ২৮টি ঘটনার মধ্যে সরকারি কর্মচারীই বেশি। প্রাথমিকভাবে কিছু সত্যতা পেয়েছি। মনে করেছিলাম রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেশি হবে। কিন্তু দেখা গেল, রাজনীতিবিদ চারজন। সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া কিছু ব্যবসায়ী আছেন।" সুতরাং পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী সেই ২৮ জন বিদেশে অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের নামের তালিকা জাতির সামনে অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।"

আল মামুন আরও বলেন, "পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকা বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের সকল তথ্য জাতির সামনে দ্রুত প্রকাশ করার দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। কেউ আইনের উর্ধে নয়। আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান। আমলা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী যারাই অবৈধভাবে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে, তাদেরকে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। জনগণের টাকা যারা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে, তাদের নামের তালিকা জাতির সামনে প্রকাশ করা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নৈতিক দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি। পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সেই বক্তব্যের পরেই হাইকোর্ট বিষয়টি নজরে এনে তথ্য জানতে চাইলেও দুদক এখনো পর্যন্ত আদালতকে সেই ২৮ জন অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের তথ্য দিতে পারেনি। আমরা প্রত্যাশা করি, আপনি সেই তালিকা জাতির সামনে দ্রুত প্রকাশ করবেন। শুধুমাত্র কানাডা নয়, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যেও অবৈধভাবে অর্থ পাচার করা হচ্ছে যা দেশের অর্থনীতির জন্য অনেক বড় অশনিসংকেত। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দুর্নীতির কারণেই প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে অবৈধভাবে পাচার হচ্ছে। জনগণের টাকা লুটকারী এসব দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এরা সমাজের বড় অভিশাপ। রাষ্ট্র বিচার না করলে জনগণই এসব দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কট করবে। কানাডার বেগমপাড়ায় যে ২৮ জন দুর্নীতিবাজ আমলা, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী অর্থ পাচার করেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই তাদের নামের তালিকা আগামী সাত দিনের মধ্যে জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করবে।"

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

শাটডাউন নিয়ে কী বললেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী?

অনলাইন ডেস্ক

শাটডাউন নিয়ে কী বললেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী?

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় সারা দেশে ১৪ দিনের ‘শাটডাউনের’ সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। 

আজ বৃহস্পতিবার কোভিড কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মােহাম্মদ সহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সারা দেশে ১৪ দিনের ‘শাটডাউনের সুপারিশের বিষয়ে সরকার কী ভাবছে বা কী পদক্ষেপ নেবে? এমন প্রশ্নে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, উনারা (জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি) সুপারিশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আসলে আমাদের চারপাশে করোনা বেড়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গাতে কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিদিনই আমরা সেটা পর্যবেক্ষণ করছি যে এটা বেড়ে যাচ্ছে। ৬ হাজারের বেশি হয়ে গেছে আজকে। এরপর জাতীয় পরামর্শক কমিটি যেটা দিয়েছে তা সরকারের কাছে এসেছে। সরকার অবশ্যই এটাকে মূল্যায়ন করবে। আমরা দেখছি এটাকে কীভাবে আরও কঠোরভাবে বাড়াতে পারি।

তিনি আরও বলেন, সে ধরনের একটা প্রস্তুতি ইতোমধ্যে আমাদের আছে। আমরা হয়তো একটি সিদ্ধাস্তে আসবো।

news24bd.tv/এমিজান্নাত 

পরবর্তী খবর

‘যেকোনো সময় শাট ডাউনের ঘোষণা’

অনলাইন ডেস্ক

‘যেকোনো সময় শাট ডাউনের ঘোষণা’

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৮৬৮ জনের।  এমন অবস্থায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সারাদেশে ১৪ দিনের ‘শাটডাউন’ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

১৪ দিন সম্পূর্ণ ‘শাট ডাউন’ করতে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশকে যৌক্তিক বলে মনে করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। 

তিনি বলেছেন, সরকারেরও এই ধরনের প্রস্তুতি আছে। যেকোনো সময় সরকার তা ঘোষণা দেবে।

বিস্তারিত আসছে..

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

পঞ্চাশোর্ধ জেলায় করোনার উচ্চ সংক্রমণ, ১৪ দিনের ‘শাটডাউন’

অনলাইন ডেস্ক

পঞ্চাশোর্ধ জেলায় করোনার উচ্চ সংক্রমণ, ১৪ দিনের ‘শাটডাউন’

বিশ্বব্যাপী তাণ্ডব চালানো প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সারাদেশে ১৪ দিনের ‘শাটডাউন’ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) কোভিড-১৯ কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মােহাম্মদ সহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, কোভিড-১৯ রোগের বিশেষ ডেলটা প্রজাতির সামাজিক সংক্রমণ চিহ্নিত হয়েছে ও দেশে ইতোমধ্যেই তার প্রকোপ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রজাতির জীবাণুর সংক্রমণ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে সারা দেশেই উচ্চ সংক্রমণ ও পঞ্চাশোর্ধ জেলায় অতি উচ্চ সংক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সভায় আরও বলা হয়, রোগ প্রতিরোধের জন্য খণ্ড খণ্ড ভাবে গৃহীত কর্মসূচির উপযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। অন্যান্য দেশ, বিশেষত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায় কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া এ প্রজাতির বিস্তৃতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত অনুযায়ী যে সব স্থানে পূর্ণ ‘শাটডাউন’ করা হয়েছে সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ও জনগণের জীবনের ক্ষতি প্রতিরোধ করার জন্য কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সারা দেশে কমপক্ষে ১৪ দিন সম্পূর্ণ ‘শাটডাউন’ দেওয়ার সুপারিশ করছে।

সুপারিশে বলা হয়, শাটডাউন চলা অবস্থায় জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সবকিছু বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পালন করতে না পারলে আমাদের যত প্রস্তুতিই থাকুক না কেনো, সংক্রমণ এভাবে বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপ্রতুল হয়ে পড়বে।

সভায় ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে এ রোগ থেকে পূর্ণ মুক্তির জন্য দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশের ঊর্ধ্বে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলেও কমিটি মতামত দিয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদেশ থেকে টিকা সংগ্রহ, লাইসেন্সের মাধ্যমে দেশে টিকা উৎপাদন করা ও নিজস্ব টিকা তৈরির জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গবেষণা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টার প্রতি কমিটি পূর্ণ সমর্থন জানায়।

কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ বলেন, আমাদের দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে পঞ্চাশের অধিক জেলায় ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ অত্যন্ত বেড়ে গেছে। আর এ সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, সংক্রমণের পাশাপাশি হাসপাতালে আক্রান্তদের ভর্তি হওয়া ও মৃত্যুর হারও বেড়ে গেছে।

অধ্যাপক সহিদুল্লাহ বলেন, আমরা যদি ভারতের সেই বিপর্যস্ত অবস্থার কথা চিন্তা করি, সেখান থেকে তারা কঠোর লকডাউনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে দিল্লি বা মুম্বাইয়ের কথা বলি, যেখানে প্রতিদিন ২৮ হাজারের উপরে মানুষ সংক্রামিত হয়েছে। হাজার হাজার মৃত্যু ঘটেছে। এরপর তারা যখন কঠোর লকডাউনের দিকে গেল বিশেষ করে দিল্লিতে, এখন সেখানে সংক্রমণের হার কোনো কোনো দিন একশর নিচে। কোনো কোনো দিন মৃত্যুও নেই।

এদিকে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সারাদেশে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ চলছে। চলতি বছর করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ঢিলেঢালা লকডাউন হলেও সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কঠোর লকডাউন‘ ঘোষণা দেয় সরকার। পরে সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ এবং ট্রেন চলাচল রোজার ঈদ পর্যন্ত বন্ধ ছিল। পরে ২৪ মে থেকে গণপরিবহন চলার অনুমতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো আসন সংখ্যার অর্ধেক বসিয়ে খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।

তবে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সারাদেশে বিধিনিষেধ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত ১৬ জুন বিধিনিষেধ এক মাস বাড়িয়েছে সরকার, যা ১৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

news24bd.tv / তৌহিদ

পরবর্তী খবর

শাটডাউন আসলে কি?

অনলাইন ডেস্ক

শাটডাউন আসলে কি?

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৮৬৮ জনের।  এমন অবস্থায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সারাদেশে ১৪ দিনের ‘শাটডাউন’ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সহিদুল্লা শাটডাউন বিষয়ে জানিয়েছেন, করোনার এই সময়ে শাটডাউন মানে হলো একমাত্র জরুরি সেবা ছাড়া বাকি সব সবকিছুই বন্ধ রাখার কথা বোঝানো হয়েছে।

কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সবকিছু বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পালন করতে না পারলে যত প্রস্তুতিই থাকুক না কেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা অপ্রতুল হয়ে পড়বে।

বৃহস্পতিবার কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। আগের দিন বুধবার রাতে কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে সারা দেশে বিধিনিষেধ চলছে, যা ১৫ জুলাই পর্যন্ত চলার কথা। এ ছাড়া করোনার বিস্তাররোধে ঢাকার আশপাশের সাতটি জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ দিয়ে রাজধানী ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলছে।

এ অবস্থায় করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি বলেছে, তাদের মতামত হলো যেসব স্থানে পূর্ণ শাটডাউন করা হয়েছে, সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। এ জন্য সারা দেশে ১৪ দিন সম্পূর্ণ শাটডাউনের সুপারিশ করেছে কমিটি।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৮৬৮ জনের। নতুন করে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৮ জন। মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৫ জনে। এদিকে  বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২১ শে জুন প্রকাশিত সর্বশেষ সপ্তাহের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৪০ জেলা বর্তমানে করোনা সংক্রমণের অত্যান্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

করোনায় মাসিক আয় কমেছে ৭৭ শতাংশ পরিবারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনায় মাসিক আয় কমেছে ৭৭ শতাংশ পরিবারের

কোভিড-১৯ মহামারিতে গত বছরের এপ্রিল-অক্টোবর সময়কালে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বল্প আয় ও অনানুষ্ঠানিক খাতে সম্পৃক্তরা চাকরি ও উপার্জনের সুযোগ হারিয়েছেন। ৭৭ শতাংশ পরিবারে করোনার কারণে গড় মাসিক আয় কমেছে এবং ৩৪ শতাংশ পরিবারের কেউ না কেউ চাকরি অথবা আয়ের সক্ষমতা হারিয়েছেন।

এ সময়ে দৈনন্দিন খরচ মেটাতে পরিবারগুলো সঞ্চয় ও ধারদেনার ওপর নির্ভরশীল ছিল। ফলে, পরিবারগুলোর গড় মাসিক সঞ্চয় ৬২ ভাগ কমে গেছে, ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৩১ শতাংশ। ব্র্যাক, ইউএন উইমেন বাংলাদেশ এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির যৌথভাবে পরিচালিত এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

এই গবেষণায় করোনাকালে বিপরীতমুখী অভিবাসনের প্রভাবে বাংলাদেশের মধ্যম মানের শহর, উপজেলা এবং গ্রামীণ অঞ্চলে জনমিতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশের ওপর পরিবর্তনগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

‘কোভিড-১৯-এর কারণে জনমিতিক ও আর্থসামাজিক পরিবর্তনসমূহ: নতুন পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য ও ফলাফল বুধবার (২৩শে জুন ২০২১) রাতে একটি ভার্চুয়াল আন্তর্জাতিক সংলাপের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়নকর্মীসহ বিশিষ্টজনেরা মতামত ও পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অগ্রাধিকারযোগ্য নীতিগুলো চিহ্নিত করে কীভাবে সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করেন।

নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন-এর প্রোগ্রাম লিড লিয়া জেমোর এই অনলাইন আলোচনা সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বাংলাদেশ-এর ঊর্ধ্বতন পরিচালক কেএএম মোর্শেদ। উপস্থাপনা শেষে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ইউএন উইমেন বাংলাদেশ-এর আবাাসিক প্রতিনিধি শোকো ইশিকাওয়া, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. ডেনিয়েল নাওজোকস এবং ব্র্যাক ইউএসএ- এর পরিচালক (স্বাস্থ্য) ড. এডাম সোয়ার্টজ।

সংখ্যাবাচক ও পরিমাণবাচক উভয় পদ্ধতি প্রয়ােগে পরিচালিত গবেষণাটির সময়কাল ২০২০ সালের ১০-২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাতে ৬ হাজার ৩৭০টি খানা অংশগ্রহণ করে। এতে গত বছরের এপ্রিল-অক্টোবর সময়কালকে ভিত্তিকাল (রেফারেন্স পিরিয়ড) হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। করোনাকালে বিবিধ পরিস্থিতির শিকার হয়ে যারা দেশ ও দেশের বাইরে থেকে নিজ বাসভূমে ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের জীবনযাত্রায় সামগ্রিক প্রভাবের ওপর এই গবেষণায় বিশেষভাবে দৃষ্টিনিবদ্ধ করা হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পরিবারগুলির ৬১ শতাংশেই তাদের অন্তত একজন সদস্য কোভিড -১৯ মহামারীতে চাকরি বা উপার্জনের সুযোগ হারিয়েছেন। আবার গ্রামাঞ্চল বা মফস্বল শহরে ফিরে আসা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের প্রায় ৭৭% মনে করেন কাজ বা চাকুরি খুঁজে পাওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

সমীক্ষায় অংশ নেওয়া খানাগুলোতে প্রায় ২৫% ফেরত আসা আন্তর্জাতিক অভিবাসী অভিবাসন ঋণ পরিশোধ নিয়ে উদ্বিগ্ন যার পরিমাণ ৭৬ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ সাত লাখ টাকা পর্যন্ত। শতকরা ৪৪ ভাগ জানিয়েছেন, তারা কোনও উপার্জনমূলক কাজ পাননি। তাদের মধ্যে কিছু পরিবার সঞ্চয় উত্তোলন করে বা বিভিন্ন সম্পদ ভাড়া বা বন্ধক দিয়ে খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন। জরিপকৃত পরিবারগুলোতে মহামারী চলাকালীন সময়ে গড়ে মাসিক রেমিট্যান্স বা বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ ৫৮% হ্রাস পেয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রাম বা মফস্বল শহরগুলোতে ফিরে আসা পরিবারগুলো বিদ্যমান স্থানীয় অপ্রতুল সম্পদ বিশেষত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৪.৫৭% স্কুলের শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের গড় বয়স ৫-১৬ বছর। পুনরায় স্কুল খোলার পর যদি তারা তাদের পূর্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেরত না যেতে পারে তবে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। এছাড়া, ফেরত আসা প্রায় ১৩.৩৫% জনগোষ্ঠীর (অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় অভিবাসী) বয়স চল্লিশোর্ধ এবং ৪.৫৬%-এর বয়স পঞ্চাশের ওপরে যাদের ফেরত যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এ বিষয়টি স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর বিশেষ করে অসংক্রামক ব্যাধির ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

ফেরত আসা নারীদের মধ্যে বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ অভিবাসী পরিবারগুলোর নারীরা করোনাকালীন সময়ে বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন যা এই গবেষণায় উঠে এসেছে। যেমন, কোনো উৎপাদনশীল বা আয়মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে না পারা (৭৪%), রাস্তাঘাট ও বাজারে স্বাধীনভাবে চলাচল করতে না পারা (২৬.৮%), স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সমস্যা অনুভব করা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধার অভাব বোধ করা (২০%), গৃহস্থালি কাজের চাপ বৃদ্ধি এবং শিশু লালনপালন এবং সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে সমস্যা অনুভব করা (১৮%)।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী উক্ত সময়ে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ বেড়ে গেছে। বিয়ের সময় কনে কোনে শ্রেণিতে পড়ত তার ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করে দেখা যায় জরিপকালে অনুষ্ঠিত বিয়ের মধ্যে বিবাহ অনুষ্ঠানের সময় তিন চতুর্থাংশের বেশি (৭৭%) কনের বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে এবং ৬১% কনের বয়স ছিল ১৬ বছরের কম।

ড. ডেনিয়েল নাওজোকস বলেন, এই গবেষণার ফলাফল স্থানীয় এবং জাতীয় স্তরের নীতিনির্ধারকদের যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা বিভিন্ন ধরণের চাপের সম্মুখীন হয়ে থাকে যার কারণে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন জোরদার রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নির্দেশনা যা বৈপ্লবিক, শক্তিশালী ও বৃহত্তর সংস্কার আনতে নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে।


সব মুছতে চান শ্রাবন্তী, কিন্তু কেন?

সারাদেশে মদ পানে ১৫ জনের মৃত্যু, বাড়ছে উৎকণ্ঠা

স্মার্টফোনের বহুমুখী ব্যবহারে কমছে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা


 

জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি গ্রহণের সিদ্ধান্তে নারীর অগ্রাধিকারের উপর জোর দিয়ে ড. এডাম সোয়ার্টজ বলেন, নারীরা যাতে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে পারেন ও একইসঙ্গে সঠিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন সে লক্ষ্যে উপযুক্ত সামগ্রী ও সামর্থ্য উভয়ই তাঁদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে। আমরা কি এমন সেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারি না যেখানে সরকার এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলো শুধু জ্ঞান বা সুযোগ নয়, বরং সত্যিকার অর্থেই নারীদের জন্য মাধ্যম, সামর্থ্য এবং বিকল্প সমাধান তৈরি করবে? এই বিষয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন যাতে করে প্রকৃতই অর্থবহ সমাধানগুলো খুঁজে বের করা যায়।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর