সূরা ইয়াসিন: আয়াত ১-৪, গুরুত্ব ও শিক্ষণীয় দিক

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ১-৪, গুরুত্ব ও শিক্ষণীয় দিক

সূরা ইয়াসিনের পবিত্র কুরআনের মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এই সূরার প্রথমে বর্ণিত দুই মুকাত্তায়াত হরফের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরায় রয়েছে ৮৩টি আয়াত। সূরা ইয়াসিনে বিশ্বাসগত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

কয়েকটি আয়াতে বিশ্বজগতে মহান সৃষ্টিকর্তার বিশালত্বের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সূরার অন্য অংশে পরকালীন জীবন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। হাদিসের বর্ণনায়, এই সূরাকে পবিত্র কুরআনের কলব বা হৃৎপিণ্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সূরার প্রথম চার আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

يس (1) وَالْقُرْآَنِ الْحَكِيمِ (2) إِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ (3) عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (4)

“ইয়া সিন।” “প্রজ্ঞাময় কোরআনের শপথ।” “নিশ্চয় আপনি প্রেরিত রসূলগণের একজন।” “(এবং) আপনি সরল পথে প্রতিষ্ঠিত।”

পবিত্র কুরআনের বেশ কয়েকটি সূরা এই ধরনের অক্ষর বা হরফ দিয়ে শুরু হয়েছে। এগুলো পরস্পর থেকে আলাদা বা বিচ্ছিন্ন কোনো অক্ষর নয়। বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের নামের প্রথম অক্ষরগুলো নিয়ে যেমন ওই প্রতিষ্ঠানের নামকে সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হয় তেমনি হুরুফে মুকাত্তায়াতেও রয়েছে সেরকম কিছু ইঙ্গিত ও নিদর্শন। কিন্তু সে নিদর্শন উপলব্ধি করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এর জ্ঞান আল্লাহ তায়ালা নিজের কাছে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। কোনো কোনো বর্ণনায় হুরুফে মুকাত্তায়াত ‘ইয়া-সিন’কে বিশ্বনবী (সা.)-এর অন্যতম নাম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এই দুই আরবি হরফের পরই নবীজীকে সম্মোধন করে আল্লাহ তায়ালা কথা বলেছেন।

সাধারণভাবে মুকাত্তায়াত হরফের পর পবিত্র কুরআনের নাম এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা করা হয়। এই সূরায়ও পবিত্র কুরআনের প্রজ্ঞাপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে তার শপথ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা যখন কোনো কিছুর শপথ করেন তখন তিনি সেই বিষয় বা বস্তুর বিশালতা ও গুরুত্ব মানুষের সামনে তুলে ধরেন। তা না হলে মানুষকে বিশ্বাস করানো বা মানুষের সামনে কোনোকিছুর অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য আল্লাহ তায়ালার শপথ করার প্রয়োজন হয় না।

এই চার আয়াতে বিশ্বনবীর রিসালাত ও পবিত্র কুরআন নাজিলের মধ্যকার সম্পর্ক সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নবীজী (সা.) কে উদ্দেশ করে বলা হচ্ছে, কুরআনুল হাকিম হচ্ছে আপনার রিসালাতের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এটি হচ্ছে ঐশী মুজিযা এবং কুরআনের মতো কিতাব কোনো মানুষের পক্ষে লিপিবদ্ধ করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া, অতীতের নবী-রাসূলদের মতো মানুষকে সত্য সরল পথে পরিচালিত করার জন্য আপনাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আপনি সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর অটল রয়েছেন, এই পথ আপনার ভালোভাবে জানা আছে এবং এই পথ থেকে বিচ্যুতির কারণগুলিও আপনার অজানা নয়।

সূরা ইয়াসিনের চতুর্থ আয়াতের সারমর্ম অনুযায়ী, আল্লাহর রাসূল শুধু সত্য সরল পথেই পরিচালিত নন সেইসঙ্গে এই পথের ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এটা স্পষ্ট যে, যিনি মানুষকে এই পথে দাওয়াত জানাবেন তাঁকে এই পথের একজন বাস্তব আদর্শ হতে হবে; যিনি একইসঙ্গে মানুষকে সঠিকভাবে সিরাতুল মুস্তাকিমে পরিচালিত করবেন এবং তাদেরকে এই পথে অটল রাখবেন। এখানে মনে রাখতে হবে, আল্লাহ তায়ালা সিরাতুল মুস্তাকিম বা সহজ-সরল পথে চলার যে আহ্বান জানিয়েছেন তার অর্থ এই নয় যে, এই পথে চলা অত্যন্ত সহজ। আমরা যেন এটা না ভাবি যে, এই পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা বা গিরিখাদ নেই। বরং সিরাতুল মুস্তাকিম এই অর্থে বলা হয়েছে যে, লক্ষ্যে পৌঁছার সঠিক পথ হচ্ছে এটি। বাকি সব পথ মানুষকে বিভ্রান্তি ও বিচ্যুতির দিকে নিয়ে যায়। বিচ্যুতির পথগুলো দৃশ্যত অনেক সোজা ও প্রতিবন্ধকতাবিহীন মনে হলেও এগুলোকে অনুসরণ করলে মানুষ কখনোই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না।

আরও পড়ুন


শুক্রবার থেকে রাজশাহীতে ট্রেন চলাচল বন্ধ

৭ দিনের লকডাউনে বন্ধ সব দোকানপাট

পোশাকশিল্প খাতে স্বস্তি ফিরছে না

নির্বাচনী দায়িত্বের জন্য পুলিশ সদস্যদের পদক দিচ্ছে সরকার


এই চার আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো-

১. কুরআনে কারিম হচ্ছে সুদৃঢ় গ্রন্থ। প্রজ্ঞাপূর্ণ এ গ্রন্থ মানুষকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেয়। কুরআনের অন্যতম মুজিযা হচ্ছে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের জন্য এতে রয়েছে প্রজ্ঞাপূর্ণ শিক্ষা।

২. পবিত্র কুরআনের শিক্ষা প্রচারের জন্য বিশ্বনবী (সা.)-এর মতো একজন মহান শিক্ষকের প্রয়োজন যিনি মানুষকে তা শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি নিজের জীবনে সে শিক্ষা বাস্তবায়ন করে দেখাবেন।

৩. আমরা প্রতিবার নামাজে দাঁড়ালেই সূরা ফাতিহার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদেরকে সিরাতুল মুস্তাকিমে পরিচালিত করেন। আর সূরা ইয়াসিনের চতুর্থ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীকে সিরাতুল মুস্তাকিমের শ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কাজেই আমরা যদি সিরাতুল মুস্তাকিম বা সহজ-সরল পথে চলতে চাই তাহলে নবীজী (সা.)-এর জীবনাদর্শ সঠিকভাবে চিনতে, বুঝতে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে হবে।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

ইসলামী সাইকোথেরাপির প্রবর্তক আল-বালখি

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

ইসলামী সাইকোথেরাপির প্রবর্তক আল-বালখি

বরাবরই জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিম মনীষীদের অবদান আড়াল করা হয়। সে ধারাবাহিকতায় মনোবিজ্ঞানে মুসলিম অবদানের কথা প্রায় বিস্মৃত। অথচ নবম শতকে মনের রোগের বিশ্লেষণ করেছিলেন আল-বালখি। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হলে সিগমুন্ড ফ্রয়েড, ইভান ও কার্ল রজার্সের নাম যেভাবে উচ্চারিত হয়; যেসব মুসলিম মনীষী এই শাস্ত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন তাঁদের নাম সেভাবে উচ্চারিত হয় না।

মুসলিম চিকিৎসক আবু জায়েদ আল-বালখি ছিলেন সাইকোথেরাপির প্রবর্তক। ভূগোল, চিকিৎসাশাস্ত্র, ফিলোজফি, থিওলজি, রাজনীতি, ব্যাকরণ, সাহিত্য ও জ্যোতির্বিদ্যায় তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল। তাঁর জন্ম ৮৫০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান আফগানিস্তানে। তিনি ছিলেন আল-কিন্দির শিষ্য।

আল-বালখির জীবন আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন তাঁর জীবনীকার ইয়াকুত আল-হামাউই। যদিও তাঁর জীবনীর মধ্যে বালখির শৈশব নিয়ে বিশেষ কিছু পাওয়া যায় না। শুধু তাঁর জন্মস্থান ও পিতার কাছ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা সম্পর্কে জানা যায়। তবে তাঁর কৈশোর ও তৎকালীন পড়াশোনা নিয়ে বিশদ জানা যায়। কিশোর বালখি বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের নানা বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। 

আল-বালখির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের নাম ‘মন ও শরীরের উন্নতি সাধন’ (মাসালিহ আল-আবদান ওয়া আল আনফুস)। এই পাণ্ডুলিপিতে আল-বালখি প্রথমে শরীরের উন্নতির কথা বলেন, তারপর শরীরের উন্নতি ও অধ্যাত্মবাদের মাধ্যমে কিভাবে মানসিক উন্নতি করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ইসলামের ইতিহাসে এই বই অমূল্য সম্পদ!

তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে গণিত বিষয়ে ‘আল-ফাইরিস্ট’। ভৌগোলিক মানচিত্র বিষয়ে ‘সুয়ার আল-আকালিম’।

ইসলামী মনস্তত্ত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্যবিধির প্রবর্তন করেছিলেন আল-বালখি। ‘মাসালিহ আল-আবদান ওয়াল আনফুস’ (দেহ এবং আত্মার উন্নতি সাধন) গ্রন্থে তিনিই প্রথম শরীর এবং আত্মা সম্পর্কিত বিভিন্ন রোগের আলোচনা করেছিলেন। তিনি এর জন্য শব্দ ব্যবহার করেছিলেন ‘আল-তিব্ব আল-রুহানি’ বা আধ্যাত্মিক ও মানসিক স্বাস্থ্য। তিনি বহু মেডিক্যাল ডাক্তারকে মানসিক অসুস্থতা বিষয়ে অবহেলার কারণে সমালোচনা করেছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে যেহেতু মানুষের আত্মা ও দেহ উভয় থেকেই মানুষের নির্মাণ হয়, সুতরাং মানুষের অস্তিত্ব স্বাস্থ্যকর হতে পারে না দেহ ও আত্মার সমন্বয় ছাড়া।

আরও পড়ুন


হানি সিংকে নিয়ে গুরুতর সব অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ স্ত্রী

ভারতের এলপিইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কর্নার

বর্তমান সমাজে মানসিক সমস্যা একটি ট্যাবু। এখনো কারো মানসিক সমস্যা হলে তাকে মানুষ অন্য চোখে দেখে। তাই আধুনিককালে চিকিৎসাশাস্ত্র মানসিক সমস্যাকে স্বাভাবিক অসুখ বলতে বাধ্য হয়েছে। মানুষের মধ্যে চিন্তাভাবনার প্রসার ঘটানোর চেষ্টা চলছে। সামাজিকভাবে আমরা এখনো মানসিক সমস্যাকে মেনে নিতে পারি না। আল-বালখি বহু বছর আগে এ বিষয়ে লিখে গেছেন। আল-বালখির মতে, মানসিক সমস্যাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারলেই অসুখের সঙ্গে সহজে লড়াই করা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি সেরে ওঠেন।

আল-বালখি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে তাঁর ধারণাগুলো কোরআনের আয়াত ও হাদিস থেকে গ্রহণ করেছেন।

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

গুরুত্ব অসুস্থ হলে যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

গুরুত্ব অসুস্থ হলে যে দোয়া পড়বেন

সুস্থতা আল্লাহর নেয়ামত। আবার অসুস্থতার মাধ্যমে মুমিনদের পাপ মোচন হয়। সুস্থতার জন্য আল্লাহর দরবারে যেমন দোয়া করা উচিৎ তেমনি অসুস্থ হলেও তা থেকে পানাহ পাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করা উচিৎ।

রোগ থেকে দ্রুত মুক্তি লাভের দোয়া:

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা রাব্বান-নাসি মুজহিবাল বা’সি, ইশফি আনতাশ-শাফি, লা শাফি ইল্লা আনতা শিফায়ান লা য়ুগাদিরু সুকমা।

অর্থ: হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক, কষ্ট দূরকারী। আমাকে আরোগ্য দিন, আপনি আরোগ্যকারী; আপনি ছাড়া কোনো আরোগ্যকারী নেই। এমন আরোগ্য দিন যেন কোনো রোগ অবশিষ্ট না থাকে।

হাদিসে এসেছে, আনাস বিন মালিক (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া পড়ে অসুস্থ ব্যক্তিদের ঝাড়-ফুঁক করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৭৪২)

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

নিউজ টোয়েন্টিফোর / কামরুল

পরবর্তী খবর

মনের অস্থিরতা দূর করার আমল ও দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

হতাশ হওয়া কিংবা মানসিক চাপ অনুভব করা নতুন কিছু নয়। বিপদ-আপদ, চাপ কিংবা না পাওয়ার বেদনা যত বেশিই হোক না কেন কোনো অবস্থায়ই হতাশ হওয়া ঈমানদারের কাজ নয়। বরং সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর আস্থা রাখাই সুস্থ থাকার উপায় এবং বুদ্ধিমানের কাজ।

মনের অস্থিরতা দূর করতে মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। এছাড়াও কিছু আমল রয়েছে।

আমলটি জানতে ভিডিওটি দেখুন

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

যে দুটি খারাপ অভ্যাস ত্যাগের বিনিময়ে জান্নাত

অনলাইন ডেস্ক

যে দুটি খারাপ অভ্যাস ত্যাগের বিনিময়ে জান্নাত

পবিত্র কোরআনে বহু আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাকওয়া অর্জনের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। কারণ তাকওয়া মানুষকে সব ধরনের পাপ থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে। এর বিপরীতে দুটি অভ্যাস এমন আছে, যেগুলো মানুষ পাপ কাজের প্রতি উৎসাহিত করে, ফলে তারা অন্ধ হয়ে যায় এবং পাপের সাগরে ডুব দিতে দিতে জাহান্নামের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘এটা আখিরাতের আবাস, যা আমি নির্ধারিত করি তাদের জন্য, যারা জমিনে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। আর শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য।’ (সুরা : আল কাসাস, আয়াত : ৮৩)

এ আয়াতে আখিরাতের মুক্তি ও সাফল্য শুধু তাদের জন্য নির্ধারিত বলা হয়েছে, যারা জমিনে ঔদ্ধত্য ও অনার্থের ইচ্ছা করে না। পবিত্র কোরআনে এই দুটি অভ্যাসকে দুটি শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। ১. ‘উলুয়্যুন’- ঔদ্ধত্য, ২. ‘ফ্যাসাদ’-অনার্থ/অশান্তি।

১। আরবি শব্দ ‘উলুয়্যুন’-এর অর্থ অহংকার তথা নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় মনে করা এবং অন্যকে হেয় করা। যা মহান আল্লাহ মোটেই পছন্দ করেন না। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অনুগ্রহ করে নিয়ামত দেন; কিন্তু কেউ যখন সেই নিয়ামত পেয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং অহংকার করা শুরু করে, তখন মহান আল্লাহ তাকে কঠিন শাস্তি দেন। অতীতে বহু প্রভাবশালী জাতিকে এই অহংকারের কারণে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর আদ সম্প্রদায়, তারা জমিনে অযথা অহংকার করেছিল এবং বলেছিল, আমাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী কে আছে? তবে কি তারা লক্ষ করেনি যে নিশ্চয়ই আল্লাহ, যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী? আর তারা আমার নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করত। তারপর আমি তাদের ওপর অশুভ দিনগুলোতে প্রেরণ করলাম ঝোড়ো হাওয়া, যাতে আমি তাদের আস্বাদন করাতে পারি দুনিয়ার জীবনের লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। আর আখিরাতের শাস্তি তো তার চেয়ে বেশি লাঞ্ছনাদায়ক এবং তাদের সাহায্য করা হবে না।’ (সুরা : হা-মিম সাজদা, আয়াত : ১৫-১৬) 

২। ‘ফ্যাসাদ’ মানে অশান্তি সৃষ্টি করা। যেমন—পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহ ফ্যাসাদকারীদের আমল পরিশুদ্ধ করেন না।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৮১)

এখানে ‘ফ্যাসাদ’-এর অর্থ বিশৃঙ্খলা বা অশান্তি সৃষ্টি। যারা জুলুম করে তারাই সাধারণত পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে। জুলুমের ভয়াবহতা সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা জুলুম করা থেকে বিরত থেকো। কেননা কিয়ামতের দিন জুলুম অন্ধকারে পরিণত হবে। তোমরা কৃপণতা থেকে সাবধান হও। কেননা কৃপণতা তোমাদের আগের জাতিকে ধ্বংস করেছে। এ কৃপণতা তাঁদের খুন-খারাবি ও রক্তপাতে উৎসাহ জুগিয়েছে এবং হারাম বস্তু হালাল জ্ঞান করতে প্রলোভন দিয়েছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৭০)

আরও পড়ুন

গুনাহ হয়ে গেলে যে দোয়া পড়বেন

৭৩টি ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

রামেকে করোনা ওয়ার্ডে ১৯ জনের মৃত্যু

হেলেনা জাহাঙ্গীরের দুই সহযোগী গ্রেফতার

কোনো কোনো তাফসিরকারক বলেন, গুনাহমাত্রই জমিনে ফ্যাসাদের শামিল। কারণ গুনাহের কুফলস্বরূপ বিশ্বময় বরকত হ্রাস পায়, বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সাগরে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে; ফলে তিনি তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তির মজা দেখান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা রুম, আয়াত : ৪১)

প্রতিটি মুমিনের তাকওয়া অবলম্বন করা উচিত। তাকওয়া বান্দাকে মহান আল্লাহর অতি কাছে নিয়ে যায়। আর মহান আল্লাহ মুত্তাকিদের দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা দান করেন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর

গুনাহ হয়ে গেলে যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

গুনাহ হয়ে গেলে যে দোয়া পড়বেন

উচ্চারণ : আতুবু ইলাল্লাহি মিম্মা আজনাবতু।

অর্থ : আমি যে অপরাধ করেছি, তা থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আরও পড়ুন

৭৩টি ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

রামেকে করোনা ওয়ার্ডে ১৯ জনের মৃত্যু

হেলেনা জাহাঙ্গীরের দুই সহযোগী গ্রেফতার

উপকার : আয়েশা (রা.) বলেন, একবার তিনি ছবিযুক্ত গদি ক্রয় করেন। রাসুল (সা.) তা দেখে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন—প্রবেশ করেননি। তখন আয়েশা (রা.) এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৫৭)

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর