শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ০১ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে

পা ছাড়াই বাড়ি ফিরল প্রাণহীন রোজিনা!

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

পা ছাড়াই বাড়ি ফিরল প্রাণহীন রোজিনা!

ইট-কাঠ আর যন্ত্র দানবের নগরী রাজধানী ঢাকায় নিজের ডান পা রেখেই বাড়ি ফিরেছেন গৃহকর্মী রোজিনা আক্তার রোজী (১৮)। তবে নিথর দেহ নিয়ে। প্রাণহীন হয়ে।

বাস চাপায় পা হারানোর পর টানা নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে রোববার সকাল ছয়টা ৫৫ মিনিটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। পরে সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ঘোঁষগাঁও ইউনিয়নের কামাক্ষা গোনা গ্রামে এসে পৌঁছায় তার মরদেহ।

এদিকে রোজিনার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে অ্যাম্বুলেন্স যোগে পৌঁছায় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে। এর পরই শোকে ভারী হয়ে ওঠে ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা গারো পাহারের পাদদেশের  মেঠো পথ ছোঁয়া সবুজ শান্ত গ্রামটি। মেয়ের মরদেহের পাশে বসে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা রাবেয়া খাতুন। শোকে পাথর বাকরুদ্ধ বাবা রসুল মিয়া। ছোট ছোট ভাই-বোনগুলোও রোজিনার মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিলো অঝোরে । অপরদিকে স্বজনদের বুক ফাটা কান্না আর আহাজারীতেও শোকাবহ দৃশ্যের অবতারণ হয়।

রোজিনার চাচা দুলাল মিয়া জানান, এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। প্রাণ তো গেলোই। পা টিও ফেরত দিল না। পা ছাড়াই দাফন করতে হচ্ছে আমাদের।

তিনি আরো জানান, এশার নামাজের পর নিজ বাড়ির উঠানেই রোজিনার জানাজা সম্পন্ন হবে। পরে ঘোঁষগাঁও কবরস্থানে শায়িত করা হবে তাকে।  

পারিবারিক সূত্র জানায়, দরিদ্র মা-বাবার দ্বিতীয় সন্তান রোজিনা। নয় সদস্যের সংসারের হাল ধরতে আট বছর আগে সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার ঢাকার বাসায় এসে গৃহকর্মীর কাজ নেন। বছরখানেক আগে ছোট বোনকেও ঢাকায় এনে গৃহকর্মীর কাজ জুটিয়ে দেন। দুই বোনের আয়েই তাঁদের সংসার চলছিল। কিন্তু রোজিনার অকালে চলে যাওয়ায় এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা গোটা পরিবার।

রাজধানীর বনানীতে বিআরটিসি দ্বিতল বাসের চাপায় চলতি মাসের ২১ তারিখ রাতে বনানীতে গৃহকর্মী রোজিনা আক্তারের ডান পা থেঁতলে যায়। পরে অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হয়। তিনি রাতেই অস্ত্রোপচার করার পর ডান পায়ের উরু পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়। সেখানে তার অবস্থার  অবনতি হলে ২৫ এপ্রিল তাকে ঢামেক হাসপাতলে বার্ন ইউনিটের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউ নেওয়া হয়। সেখানেই রোববার সকাল ছয়টা ৫৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/নোমান/তৌহিদ)
 

মন্তব্য