সেলফি তুলে পাঠিয়েছে চীনের রোভার 'ঝুরং'

অনলাইন ডেস্ক

সেলফি তুলে পাঠিয়েছে চীনের রোভার 'ঝুরং'

মঙ্গল গ্রহে পাঠানো চীনের মহাকাশযান (রোভার) ‘ঝুরং’ একটি সেলফিসহ নতুন কয়েকটি ছবি পৃথিবীতে পাঠিয়েছে। গত মে মাসে রোবটটি মঙ্গলের মাটিতে অবতরণ করে।

একটি সেলফি তোলার জন্য এটি একটি ওয়্যারলেস ক্যামেরা ভূমিতে রাখে, তারপর কিছুটা দূরে সরে গিয়ে একটি সেলফি তোলে।

প্রথম ছবিতে ঝুরংয়ের ডানদিকে একটি রকেট চালিত প্ল্যাটফর্ম দেখা যাচ্ছে। এটি ছয় চাকার ঝুরংকে ভূমিতে ধীরে নামতে সহায়তা করেছে। প্ল্যাটফর্ম ও ঝুরং, দুটিতেই চীনের পতাকা চোখে পড়ছে।

দ্বিতীয় ছবিতে শুধু প্ল্যাটফর্মটি দেখা যাচ্ছে। এ ছবিতে ঝুরংয়ের চাকার ছাপও দেখা গেছে।

তৃতীয় ছবিতে চোখে পড়ছে মঙ্গলের বিস্তীর্ণ দিগন্ত। এই অঞ্চলটি মঙ্গল গ্রহের উত্তর গোলার্ধের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল যা ইউটোপিয়া প্লানিটিয়া নামে পরিচিত।


আরও পড়ুন


আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলেন মেক্সিকান মাদকসম্রাট গুজম্যানের স্ত্রী

২০ দিন আগে আইনজীবী পাত্রীকে দেখে পছন্দ করে রেলমন্ত্রী

অবশেষে প্রকাশ্যে আসলো নুসরাতের বেবি বাম্প, ছবি ভাইরাল

‘গোপন তথ্য ফাঁস করতে চেয়েছিলেন কারাগারে নিহত ইসরাইলি গোয়েন্দা’

ঝুরংয়ের পাঠানো সবগুলো ছবি শুক্রবার চীনের মহাকাশ সংস্থা প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ঝুরং অন্তত ৯০ মঙ্গল দিবস পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

রোভারটির ওজন ২৪০ কেজি। এর লম্বা মাস্তুলে ছবি তোলার জন্য একাধিক ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলের খনিজ, প্রকৃতি, আবহাওয়া প্রভৃতি বিশ্লেষণের জন্য আরও পাঁচটি সরঞ্জাম সংযুক্ত রয়েছে।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

বাগদাদ মধ্যযুগীয় বিশ্বের বৃহত্তম নগরকেন্দ্র!

শান্তা আনোয়ার

বাগদাদ মধ্যযুগীয় বিশ্বের বৃহত্তম নগরকেন্দ্র!

৭৬২ খিস্টাব্দের ৩০ জুলাই আব্বাসিয় খলিফা আল মনসুর টাইগ্রিস নদির পশ্চিম পারে বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। বাগদাদ  দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে মধ্যযুগীয় বিশ্বের বৃহত্তম নগরকেন্দ্র হয়ে ওঠে এবং একটি অর্থনৈতিক ও বৌদ্ধিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।

এই শহরটিতে ছিল অসংখ্য বইয়ের দোকান এবং পাবলিক লাইব্রেরি যেখান থেকে তৈরি হয়েছিল এক বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ ফলে বাগদাদ জ্ঞানের সন্ধানকারী সকল শিক্ষার্থীদের একটি গন্তব্য হয়ে উঠেছিল।

নতুন আব্বাসীয় শহরটির আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছিল মদিনাত আল-সালাম। এই নামটিই পরবর্তীকালে শহরের সমস্ত সরকারী রেফারেন্সে প্রকাশিত হয়েছিল, মুদ্রার শিলালিপি থেকে শুরু করে রাজকীয় কারখানায় বোনা কাপড়ের লেখাগুলিতে  পর্যন্ত এই নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে কোন এক অজানা কারণে বাগদাদ নামটি জনপ্রিয় হয়ে যায়।

একাদশ শতাব্দীর খতিব আল-বাগদাদী বাগদাদকে ঘিরেই তাঁর বিস্ময়ের অনুভূতিটিকে দারুণভাবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: “সমগ্র বিশ্বে এমন কোন শহর নেই যার সাথে বাগদাদের আকার ও জাঁকজমকের তুলনা করা যেতে পারে। শুধু তাই নয়, আপনি এই শহরে বিদ্বানদের সংখ্যা বা মহান ব্যক্তিত্ব, নগরের অসংখ্য রাস্তা, বাজার, লেন, মসজিদ, স্নানাগার এবং দোকানগুলি বিবেচনা করুন - এসবই অন্য শহর থেকে বাগদাদ শহরকে আলাদা করে দেয়  ""

সেই সময়, বাগদাদ হাউজ অফ উইজডম সহ বিশ্বের বৃহত্তম একাডেমিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিল এবং 'সেন্টার অফ লার্নিং' হিসাবে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিল। 

হিউ কেনেডির মতে, বাগদাদে নতুন রাজধানী স্থাপনের জন্য বেশ কয়েকটি কারণ ছিল। এগুলির মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল সুরক্ষা। সুরক্ষাকে কেবল দুর্গ-প্রাসাদ নির্মাণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়। 

দ্বিতীয়ত, এই অঞ্চলটিতে ইসলামিক ও প্রাক-ইসলামী বহু রাজবংশের পরিচয় ও প্রতিপত্তি প্রদর্শনের জন্য নতুন রাজধানী নির্মানের খায়েশ ছিল। আব্বাসীয়দেরও এমন একটি জায়গার দরকার ছিল যেখানে তারা তাদের সরকার এবং আমলাতন্ত্রের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে।

নতুন রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রটি ছিল রাউন্ড সিটি যেখানে প্রাসাদ, প্রধান মসজিদ এবং কিছু প্রশাসনিক ভবন এবং সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার ছিল। রাজ প্রাসাদ এবং মসজিদটি একসাথে কেন্দ্রীয় উদ্যানের মাঝখানে ছিল এবং প্রাসাদটিতে ছিল একটি সবুজ গম্বুজ যা এই ছবির শেষ প্রান্তে দেখা যাচ্ছে।

বাইতুল হিকমাহ ছিল আব্বাসীয় আমলে ইরাকের বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত একটি গ্রন্থাগার, অনুবাদকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটিকে ইসলামি স্বর্ণযুগের একটি প্রধান বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মোঙ্গলদের বাগদাদ অবরোধের সময় শহরের পতন হলে এই গ্রন্থাগারটিও ধ্বংস হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:


জলাবদ্ধতার সাথে মশা, ব্যাঙ বিষাক্ত প্রাণীর সাথে বসবাস

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১২ দিন পর চালু


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে বাড়ছে বাঘের সংখ্যা

অনলাইন ডেস্ক

সুন্দরবনে বাড়ছে বাঘের সংখ্যা

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে আলাদাভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার একটি প্রতীক বাঘ। বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ধীরে ধীরে কমে আসছিলো বাঘের সংখ্যা। তবে অবশেষে পাওয়া গেলো সুখবর। সুন্দরবনের বাংলাদেশে যে অংশ রয়েছে তাতে গত ৪ বছরে বাঘের সংখ্যা ১০৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৪টি। সুন্দরবনের সর্বশেষ ক্যামেরা ট্র্যাকিং বাঘ জরিপে এই তথ্য মিলেছে।

সুন্দরবনে বাঘ বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সুন্দরবনের চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্য কমে যাওয়া ও বনদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসা সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

এছাড়া সম্প্রতি সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত বাঘশাবকের দেখা পাওয়া ও বাঘের অবাধ বিচরণ দেখার কথা জানিয়েছেন সুন্দরবনের স্থানীয়রা।

 

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. আবু নাসের মোহসীন হোসেন বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ও চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্য কম হওয়ায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘের সংখ্যা সর্বশেষ জরিপে বেড়েছে। ইতিমধ্যেই বাঘের প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ অবাধ চলাচলের জন্য গোটা সুন্দরবনের অর্ধেকেরও বেশি এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে টহল ফাঁড়ি। পাশাপাশি চোরাশিকারীদের তত্পরতা বন্ধে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট পেট্রোলিং চালু করা হয়েছে। বাঘের প্রজনন মৌসুম জুন থেকে আগস্ট সুন্দরবনের সব পাস পারমিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ বাঘ অবাধ চলাচল করতে পারবে।

বন বিভাগের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, স্বাধীনতার পর প্রথম বাঘ জরিপ করা হয় ১৯৭৫ সালে, সেসময়ে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিলো ৩৫০টি। এরপর ১৯৮২ সালের জরিপে ৪২৫টি বাঘের দেখা মেলে। এমনকি ২০০৪ সালের জরিপেও সুন্দরবনে ৪৪০টি বাঘ খুঁজে পাওয়া যায়।

তবে ২০১৫ সালের জরিপে আশঙ্কাজনকভাবে বাঘের সংখ্যা কমে মাত্র ১০৬টিতে গিয়ে দাঁড়ায়। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫০টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি বাঘ স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে, ১৪টি বাঘ পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয় জনতা, একটি ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডরে নিহত হয়েছে ও বাকি ২৫টি বাঘ হত্যা করেছে চোরাশিকারিরা।


আরও পড়ুন:

ওমরাহ্‌ পালনে করতে মানতে হবে যেসব শর্ত

গুলি করে ফিলিস্তিনি শিশুর বুক ঝাঁজরা করে দিল ইসরাইলি বাহিনী

কুমিল্লায় বালু বোঝাই ট্রাক্টরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা, নিহত ৩

কলাপাড়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছাত্রলীগ নেতার কবজি কেটে নিল প্রতিপক্ষ


সর্বশেষ জরিপে তাই বাঘের সংখ্যা বাড়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আবু সালেহ বলেন, বর্তমান সরকার বাঘের সংখ্যা বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করা হয়েছে। যার সুফল কিন্তু দেখা যাচ্ছে। বিগত তিন বছরে অনেক বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। বন বিভাগ বাঘ সুরক্ষায় যেভাবে কাজ করছে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য, সুন্দরবনই দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সবচেয়ে বড় আবাসভূমি। চোরাশিকারিদের অবাধ বিচরণ রোধ ও বাঘের আবাসস্থল নিরাপদ রাখার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সারাবিশ্বের অতিপরিচিত এই প্রাণীটির জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

আড়াই শত বছরের পুরনো বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে সংরক্ষাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে সংরক্ষাণ করা হবে চট্টগ্রামের আড়াই শত বছরের পুরনো একটি বাড়ি। যা মোঘল ও ব্রিটিশ শাসন আমলের মাঝামাঝি মাটির কলসি বা মটকার উপর নিমার্ণ করা হয়েছিল। 

জেলা প্রশাসন বলছেন, ঐতিহাস-ঐতিহ্য  ও স্থাপত্য শিল্পের চর্চা ও গবেষণা করার জন্য বাড়িটি সংরক্ষণের নিদের্শ দিয়েছে সরকার। ফাতেমা জান্নাত মুমুর তথ্য  ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।

এটি চট্টগ্রামের আলোচিত প্রায় আড়াই শত বছরের পুরনো বাড়ি। যার লিখিত কোন দলিল না থাকলেও ধারণ করা হচ্ছে মুঘল ও ব্রিটিশ শাসন আমলের মাঝা মাঝি  তৈরি। নগরির পাথর ঘাটা এলাকায় মাত্র ২৫হাজার টাকা ব্যয় করে মাটির কলসি বা মটকার উপর প্রয়াত ব্যবসায়ী হাজী শরীয়ত উল্লাহ সওদাগর এ বাড়িটি নির্মাণ করেন।

বাড়ির চারপাশে এখনও আছে ৩টি জলকূপ। যার পানি এখনো স্বচ্ছ্ব। এছাড়া পুরো বাড়ি জুড়ে আছে শত বছরের পুরনো আসবাবপত্র।

সম্প্রতি বাড়িটি পুনো নির্মাণের ঘটনা চক্রে রূপ কথার গল্পের মত বেড়িয়ে আসে হাজারো ইতিহাস। নতুন প্রজন্মের ইতিহাস চর্চায় এ বাড়িটি সংরক্ষাণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন চট্টগ্রাম ইতিহাস সংষ্কৃতি গবেষকরা। তবে এরই মধ্যে স্থাপনাটি সংরক্ষাণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।

জলোচ্ছ্বাস ও ভূমিকম্প থেকে রক্ষা পেতে ইটপাথরের জায়গায় এ মাটির কলসিগুলো ব্যবহার করে এ বাড়ি তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন:


করোনায় ঝালকাঠির আদালতের বিচারকের মৃত্যু!

আগস্ট মাসের দুই দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক

বিভিন্ন জেলায় করোনায় প্রায় দেড় শতাধিক মৃত্যুর

সিলেট বিভাগে করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যু নতুন রেকর্ড


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে চলছে তিন দিনের হট এয়ার বেলুন ফেস্টিভাল

চন্দ্রানী চন্দ্রা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে চলছে তিন দিনের হট এয়ার বেলুন ফেস্টিভাল। আকাশে নানান রঙের বেলুন দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা। করোনার কারণে গেল বছর এই উৎসব বাতিল হলেও এবার বেশ বড় পরিসরেই করা হয়েছে আয়োজন। 

Up, up and away in hot air balloon festival এই শ্লোগানে, ৩৮তম বার্ষিক নিউ জার্সি লটারি বেলুন উৎসব। উড়ানো হচ্ছে শত শত রঙ্গীন বেলুন। দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থান থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা।

নিউ জার্সির রিডিংটনের আকাশে উড়ছে নানা রঙের হট এয়ার বেলুন। পরিষ্কার, রৌদ্রজ্জ্বল দিন, হিমেল বাতাস আকাশে বেলুন উড়ানোর জন্য আদর্শ সময়। আকাশে ভেসে থাকার দারুন মুহূর্ত উপভোগ করছেন এয়ার বেলুনে আরোহণকারীরা।

" আমি সত্যিই ভেবেছিলাম আমরা কারো ঘরে ঢুকে যাব। তারপরে কিছুটা ব্যাকআপ নিয়ে তাদের মাঠে নামলাম।"

"আমি খুব এক্সসাইটেড। বাতাসের বাইরে চলে গিয়েছিলাম। উপর থেকে সব দেখতে ভালো লেগেছে।"


দশ বছর আগে যা ঘটেছে তার জন্য আমি দায়ী নই : প্রভা

‘চুম্বন বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যয়নের আগে একান্তে সময় কাটাই’


 

গেল বছর করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নেয়ায় বাতিল হয়ে যায় জনপ্রিয় এই উৎসব। এবার করোনার টিকা গ্রহণকারীরা টিকিট সংগ্রহে পাচ্ছেন ছাড়। রয়েছে লটারি জিতে হট এয়ার বেলুনে আকাশে ভেসে বেড়ানোর সুযোগ।

২৩ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের হট এয়ার বেলুন উৎসব। গরমের সময় এয়ার এ উৎসব হয়ে থাকে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আজ শেরপুরের সোহাগপুর গণহত্যা দিবস

মাত্র দুই ঘণ্টায় হত্যা করা হয় ১৮৭ জন পুরুষকে

জুবাইদুল ইসলাম, শেরপুর

মাত্র দুই ঘণ্টায় হত্যা করা হয় ১৮৭ জন পুরুষকে

আজ ২৫ জুলাই, শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ঐতিহাসিক সোহাগপুর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল নালিতাবাড়ী উপজেলার কাঁকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামে।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা এদিন ভারত সীমান্তঘেঁষা ওই গ্রামের সব পুরুষ মানুষকে হত্যা করে। মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রামের ১৮৭ জন পুরুষকে হত্যা করা হয়। সেই থেকে সোহাগপুর গ্রামের নাম হয় বিধবা পল্লী।

জানা যায়, বৃহত্তর ময়মনসিংহের তৎকালীন আলবদর কমান্ডার জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের প্রত্যক্ষ মদদে ও স্থানীয় রাজাকার কাদের ডাক্তারের সহায়তায় ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী সোহাগপুর গ্রামে ঘটে এক ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি।

সেদিন ওই গ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা আশ্রয় নিয়েছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে রাজাকার আলবদরদের সহায়তায় ১৫০ জনের পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী স্থানীয় প্রফুল্লের দিঘি থেকে সাধুর আশ্রম পর্যন্ত এলাকা ঘিরে ফেলে। হায়েনার দল অর্ধ দিনব্যাপী তান্ডব চালিয়ে খুঁজতে থাকে মুক্তিযোদ্ধাদের ও তাদের আশ্রয়দাতাদের।

ওই সময় প্রাণের মায়া ত্যাগ করে সামনের দিকে এগিয়ে যান স্থানীয় কৃষক আলী হোসেন ও জমির আলী। কিন্তু তারা বেশীদূর এগুতে পারেননি। এক রাজাকার গুলি করে দু’জনকেই হত্যা করে। এরপর শুরু হয় নারকীয় তান্ডব। মাঠে কর্মরত রমেন রিছিল, চটপাথাং ও সিরিল গাব্রিয়েল নামে ৩ গারো আদিবাসীকে হত্যা করে।

তারপর একে একে হত্যা করে আনসার আলী, লতিফ মিয়া, ছফর উদ্দিন, শহর আলী, হযরত আলী, রিয়াজ আহমেদ, রহম আলী, সাহেব আলী, বাবর আলী, উমেদ আলী, আছমত আলী, মহেজ উদ্দিন, সিরাজ আলী, পিতা-পুত্র আবুল হোসেনসহ প্রায় ১৮৭ জন নিরীহ পুরুষ মানুষকে।

একইসাথে ওইসময় হায়েনাদের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন ১৩ জন নারী। সেদিন কলাপাতা, ছেড়া শাড়ী আর মশারী দিয়ে কাফন পড়িয়ে ৪/৫ টি করে লাশ এক একটি কবরে দাফন করা হয়েছিল। আবার কোন কোন কবরে ৭/৮টি করে লাশও এক সাথে কবর দেওয়া হয়েছিল।

ওই নারকীয় হত্যাকান্ডের জীবন্ত স্বাক্ষী রয়েছেন অনেকেই। সেদিন সোহাগপুর গ্রামের সকল পুরুষ মানুষকে হত্যা করায় পরবর্তীতে ওই গ্রামের নাম হয় ‘বিধবা পল্লী’।

এ পল্লীতে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ৫৬ জন বিধবা বেঁচে ছিলেন। বর্তমানে ২৩ জন বিধবা বেঁচে আছেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিধবাদের ভাগ্য বদল হয়েছে। উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে সোহাগপুর গ্রামে।

ইতোমধ্যেই ২৯ বিধবাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ লাখ টাকা মূল্যের একটি করে পাকাবাড়ি উপহার দিয়েছেন। ১৪ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিধবাপল্লীতে পাকা সড়ক হয়েছে। কাকরকান্দির বুরুয়াজানি গ্রামে শহীদদের স্মরণে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় করে দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। সুদীর্ঘ ৫০ বছর পর শহীদদের স্মৃতি রক্ষার জন্য জেলা পুলিশ বিভাগের সদস্যরা তাদের বেতনের টাকা দিয়ে বিধবাদের জমি ক্রয় করে দিয়েছেন। এছাড়া বিধবাপল্লীতে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

এসবের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বিধবা হাফিজা বেওয়া বলেন, ‘স্বামী-স্বজনগরে মাইরা হালানির পরে আমরা ভিক্ষা কইরাও ভাত খাইছি। শেখ হাসিনা ও মতিয়া চৌধুরী আমগরে লাইগা অনেক করছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধার পদবী পাইছি। ভাতা পাইতাছি। পাক্কাঘরে শান্তিতে ঘুমাইতাছি। আমগরে চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নাই। শুধু দোয়া করি হাসিনারে আল্লাহপাক বাঁচাইয়া রাখুক।’


আরও পড়ুন:

চীনে গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৪

এনএসও'র দাবি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহারে বিশ্বের লাখো মানুষ ঘুমাতে পারছে

পিএসজির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ল পচেত্তিনোর

হাইতি প্রেসিডেন্টের সৎকার অনুষ্ঠান থেকে পালিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদল


ওই গ্রামের আন্তর্জাতিক যোদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের সাক্ষী ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ছফির উদ্দিনের ছেলে জালাল উদ্দিন (৫০) বলেন, বিধবারা সুখের মুখ দেখলেও তাদের সন্তানরা কষ্টে চলেন। তাদের জন্য সরকারিভাবে কর্মসংস্থানের দাবি জানান তিনি। এদিকে দিবসটি পালন উপলক্ষে কোরানখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর