সূরা ইয়াসিন: আয়াত ৫-৯, উদাসিনতা থেকে মুক্তি ও সৃষ্টিরহস্য

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ৫-৯, উদাসিনতা থেকে মুক্তি ও সৃষ্টিরহস্য

সূরা ইয়াসিনের পবিত্র কুরআনের মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এই সূরার প্রথমে বর্ণিত দুই মুকাত্তায়াত হরফের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরায় রয়েছে ৮৩টি আয়াত। সূরা ইয়াসিনে বিশ্বাসগত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এর আগে এই সূরার ১-৪ আয়াত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আজ ৫ থেকে ৯ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে। এই সূরার ৫ ও ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

تَنْزِيلَ الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ (5) لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَا أُنْذِرَ آَبَاؤُهُمْ فَهُمْ غَافِلُونَ (6)

“(কুরআন) পরাক্রমশালী পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে।”

“যাতে আপনি এমন এক জাতিকে সতর্ক করেন, যাদের পূর্ব পুরুষগণকে সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা গাফেল বা উদাসিন।”

ইয়াসিনের আজকের এই দুই আয়াতের মধ্যে পঞ্চম আয়াতে বলা হচ্ছে: কুরআন হচ্ছে আল্লাহর কালাম; রাসূলের কোনো বক্তব্য নয়। বিশ্বনবীর মুখ থেকে এই কুরআনের বাণী শোনা গেলেও এর সঙ্গে তাঁর অন্যান্য কথাবার্তার পার্থক্য রয়েছে। হাদিস গ্রন্থগুলোর দিকে তাকালে এ বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে যায়। রাসূলের মুখনিসৃত হাদিসগুলোর ভাষার সঙ্গে কুরআনে কারিমের ভাষার পার্থক্য স্পষ্ট।

পরের আয়াত অর্থ্যাৎ ৬ নম্বর আয়াতে বলা হচ্ছে, মানুষকে সতর্ক করার জন্য কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে যাতে তারা উদাসিনতা থেকে মুক্তি পেয়ে সৃষ্টিরহস্য সম্পর্কে জানতে পারে। এই সৃষ্টিরহস্য জানতে না পারলে মৃত্যুর পরে যে মানুষের চিরস্থায়ী জীবন শুরু হবে সে সম্পর্কে মানুষ বেখবর থেকে যাবে।

এই আয়াতে আরব উপত্যকায় নবীজী (সা.)কে রিসালাতের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানোর গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হচ্ছে: এই অঞ্চলে তার আগে আরবদের মধ্য থেকে কোনো প্রখ্যাত নবী পাঠানো হয়নি। অবশ্য কুরআনের অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষের মধ্যে সব সময়ই এমন কেউ না কেউ ছিলেন যিনি সবাইকে আল্লাহ ও পরকাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু হযরত ঈসা (আ.)-এর অন্তর্ধানের পর থেকে শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর আগমন পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০০ বছরে আরব উপত্যকায় কোনো প্রখ্যাত নবীর আবির্ভাব ঘটেনি।

এই দুই আয়াতের দু’টি শিক্ষণীয় দিক হচ্ছে:

১. মহান আল্লাহ সমস্ত পূর্ণাঙ্গ গুণাবলীর অধিকারী। তিনি একদিকে ক্ষমতাবান ও মহাপরাক্রমশালী এবং অন্যদিকে দয়ালু ও মেহেরবান।
২. মানুষকে উদাসীনতার হাত থেকে রক্ষা করে পারলৌকিক জীবনের ব্যাপারে সতর্ক করা ছিল সব নবী-রাসূলের প্রধান কর্তব্য।

সূরা ইয়াসিনের ৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন: لَقَدْ حَقَّ الْقَوْلُ عَلَى أَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ (7)
“নিঃসন্দেহে তাদের অধিকাংশের জন্যে শাস্তির বিষয় অবধারিত হয়েছে। সুতরাং তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।”

এই আয়াতে বলা হচ্ছে: বেশিরভাগ মানুষই নবী-রাসূলদের সতর্কবাণীর প্রতি কর্ণপাত করে ঈমান আনে না। স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের ভ্রুক্ষেপহীন মানুষদের জন্য পরকালে আল্লাহর শাস্তি অবধারিত হয়ে যায়। অবশ্য আল্লাহ তায়ালা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের জন্য তওবার দরজা খোলা রেখেছেন। যারা মৃত্যুর আগ মুহূর্তে হলেও আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং অতীত কৃতকর্মের জন্য কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তাদেরকে দয়াময় আল্লাহ ক্ষমা করে দিতেও পারেন। মনে রাখতে হবে তওবা করতে হবে মৃত্যুর ফেরেশতাকে দেখার আগে। মৃত্যুর আলামত চোখের সামনে ভেসে ওঠার পর তওবা কবুল হবে না। কিন্তু যারা সমাজে শিরক ও কুফরের ধারক ও বাহক হিসেবে বহু মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে তাদের জন্য তওবার সুযোগ পাওয়া কঠিন।

এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. ধার্মিকতার ব্যাপারে মানুষের সংখ্যা মুখ্য বিষয় নয়। বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ যদি আল্লাহর দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে এর অর্থ এই নয় যে, বেশিরভাগ মানুষ সঠিক পথে রয়েছে। একজন ঈমানদার ব্যক্তি যদি মুমিনের সংখ্যা অনেক কম দেখতে পায় তাহলে তার হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

২. অদৃশ্যের প্রতি উদাসীনতা মানুষকে কুফরের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন


বঙ্গবন্ধু শিশু আইন প্রণয়ন ও প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেন : প্রধানমন্ত্রী

শিশুশ্রম একটি জাতীয় সমস্যা : রাষ্ট্রপতি

চীন ইসলামকেই মুছে ফেলতে চায় : অ্যামনেস্টির রিপোর্ট

এবার টকশোতেই এমপিকে চড় (ভিডিও)


সূরা ইয়াসিনের ৮ ও ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

إِنَّا جَعَلْنَا فِي أَعْنَاقِهِمْ أَغْلَالًا فَهِيَ إِلَى الْأَذْقَانِ فَهُمْ مُقْمَحُونَ (8) وَجَعَلْنَا مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ (9)

“আমি তাদের গর্দানে চিবুক পর্যন্ত বেড়ী পরিয়েছি। ফলে তাদের মস্তক উর্দ্ধমুখী হয়ে গেছে।”
“আমি তাদের সামনে ও পিছনে প্রাচীর স্থাপন করেছি, অতঃপর তাদের দৃষ্টিকে আবৃত করে দিয়েছি, ফলে তারা কোনো কিছু দেখতে পায় না।” 

এই আয়াতে দুনিয়া ও আখেরাতে কাফেরদের কৃতকর্মের শাস্তি বর্ণনা করা হয়েছে। কিয়ামতের শাস্তির বর্ণনায় জাহান্নামীদের হাত পা ও গলায় লোহার শেকল বা বেড়ী পরানোর কথা উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, তাদের গলায় এমনভাবে বেড়ী পরানো থাকবে যে তারা মাথা নাড়াতে পারবে না। আগুনে পোড়ার কষ্টের পাশাপাশি এটি হবে তাদের জন্য চরম অপমান। এরা পার্থিব জীবনে সামনে ও পেছনে সত্য খুঁজে পাওয়ার অসংখ্য নিদর্শনকে উপেক্ষা করেছিল। তারা সৃষ্টির উৎসমূল আল্লাহকে যেমন দেখতে পায়নি তেমনি সৃষ্টির শেষ অর্থাৎ কিয়ামতকেও উপেক্ষা করেছে। পার্থিব জীবনে সত্য না দেখার কারণে কিয়ামতের দিন তাদেরকে অন্ধভাবে উঠানো হবে। আখেরাতে দুনিয়ার জীবনের কৃতকর্মগুলো ভিন্ন আকৃতিতে নিজেদের অস্তিত্ব প্রকাশ করবে। দুনিয়ায় মানুষ যত খারাপ কাজই করুক না কেন তার ফলাফল হয়ত মানুষ উপলব্ধি করে কিন্তু খারাপ কাজের কুৎসিত চেহারাটা প্রকাশ পায় না। কিন্তু কিয়ামতের দিন মন্দ কর্মশীল বান্দারা দুনিয়ার কৃতকর্মের আকৃতি নিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে। যারা পৃথিবীতে চোখ থাকা সত্ত্বেও সত্য উপলব্ধি করার চেষ্টা করেনি তারা প্রকৃতপক্ষ অন্ধের মতো আচরণ করেছে। তাই কিয়ামতের দিন তাদেরকে অন্ধ করে আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে।

এই দুই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. কিয়ামতের দিনের শিকল ও বেড়ীগুলো কাফেররা আসলে দুনিয়ার জীবনেই নিজেদের হাতে পায়ে পরে নিয়েছে। পার্থিব জীবনে তারা নিজেদেরকে স্বাধীন মনে করে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা তাদের ঋপুর তাড়নার কাছে বন্দি।

২. কাফেররা দুনিয়ার জীবনের তাৎক্ষণিক ভোগসম্ভার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সৃষ্টির অতীত এবং নিজেদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে তারা চিন্তাভাবনা করতে রাজি নয়। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা তাদের চোখের ওপর আবরণ ফেলে দিয়েছেন। তারা যেমন অতীত থেকে শিক্ষা নেয় না তেমনি নিজেদের পরকালীন জীবনের ব্যাপারেও চরম উদাসীন। 

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

ঋণ পরিশোধের দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

মানুষ অভাবে ও সংকটে পড়ে। এটি জীবনব্যবস্থার খুবই স্বাভাবিক বিষয়। তাই কেউ যখন আর্থিক দুরাবস্থায় পড়ে কিংবা গুরুতর প্রয়োজনে বাধ্য হয়-তখন অন্যের কাছ থেকে ঋণ নেয়। ঋণের টাকায় নিজের প্রয়োজন ও আবশ্যিকতা পূরণের চেষ্টা করে।

কিন্তু ঋণ কারো কারো জীবনে কখনো অভিশাপ বয়ে আনে। ঋণদাতাকে যেমন ঋণ আদায় করতে না পারার হাতাশায় ভুগতে হয় তেমনি ঋণগ্রহীতাকেও ঋণদাতার বাক্যবাণে নাজেহাল হতে হয়। 

আরও পড়ুন:


করোনায় আক্রান্ত কনডেম সেলের ফাঁসির আসামি

টিকা নিলে কমে মৃত্যু ঝুঁকি: আইইডিসিআর

করোনা: কুষ্টিয়ায় একদিনে ৯ জনের মৃত্যু

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রয়োগ শুরু


দ্রুত ঋণ আদায় করতে বা ঋণমুক্ত হতে সক্ষম হওয়ার জন্য রাসুল (সা.) কিছু দোয়া ও আমল শিক্ষা দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি ঋণ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে অত্যধিক আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠের যত ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠের যত ফজিলত

সুরা বাকারা। পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় সুরা। এ সুরার শেষ দুটি আয়াতের রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও তাৎপর্য। নিয়মিত এ অংশের আমল বান্দাকে নানা বিপদাপদ থেকে রক্ষা করবে। জান্নাতের পথও সুগম করবে।

বিশ্ব নবী (সাঃ) একদিন বললেন, “এই মাত্র আকাশের একটি দরজা খোলা হয়েছে। এর আগে কখনও এ দরজাটি খোলা হয়নি, এ দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা অবতরণ করছেন। এর আগে তিনি কখনও পৃথিবীতে অবতরণ করেননি। এ ফেরেশতা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে সালাম করে বলেন, সুসংবাদ গ্রহণ করুন আপাদমস্তক দুটি নূরের, যা আপনার আগে কোন নবীকে দেয়া হয়নি।

১. ফাতেহাতুন কিতাব অর্থাৎ সুরা ফাতেহা এবং

২. সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত।

উভয় আয়াতে দোয়া আছে। আল্লাহর উসিলা করে,আপনি এসব দোয়ার যে অংশই পাঠ করবেন আল্লাহ আপনাকে অবশ্যই রহমত দান করবেন, (অর্থাত কবুল করা হবে)। সহীহ মুসলিম।

রাতের বেলা ঘুমানোর পূর্বে সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করলে তাহাজ্জুদ নামাযের সমান সওয়াব পাওয়ার আশা করা যেতে পারে।

রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতের বেলা সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পড়বে সেটা তার জন্য যথেষ্ঠ হবে।”

বুখারি ৫০১০, মুসলিম ৮০৭।

হজরত আবু মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত রাতে পাঠ করবে, তার জন্য এ দুটি আয়াত যথেষ্ট হবে; অর্থাৎ সারারাত সে জিন ও মানুষের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে এবং প্রতিটি অপ্রিয় বিষয় থেকে তাকে হেফাজত করা হবে।

সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম।

আ’উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম।

آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

উচ্চারণঃ

২৮৫. আমানুর-রাসুলু বিমা উংজিলা ইলাইহি মির রাব্বিহি ওয়াল মু’মিনুন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালা-ইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহি, লা নুফার-রিকু বাইনা আহা’দিম-মির রুসুলিহি। ওয়া ক্বালু সামি’না, ওয়া আত্বা’না, গুফরা নাকা, রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির।

২৮৬. লা ইউ কাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উস-আ’হা। লাহা মা কাসাবাত ওয়া আ’লাইহা মাক তাসাবাত। রব্বানা লা-তু আখজিনা-ইন্না সিনা- আও আখত্বা’না। রাব্বানা ওয়ালা তাহ’মিল আ’লাইনা ইসরান কামা হা’মালতাহু আ’লাল্লাজিনা মিন ক্বাবলিনা। রব্বানা ওয়ালা তুহা’ম্মিলনা মা-লা ত্বাকাতালানা বিহ। ওয়াআ’ফু আ’ন্না, ওয়াগ ফিরলানা, ওয়ার হা’মনা। আংতা মাওলানা, ফানছুরনা আ’লাল ক্বাওমিল কাফিরিন। (আমিন)।

অর্থঃ

২৮৫. রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

২৮৬. আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর।

বদরি সাহাবি আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সুরা বাকারার শেষে এমন দুটি আয়াত রয়েছে, যে ব্যক্তি রাতের বেলা আয়াত দুটি তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এ আয়াত দুটোই যথেষ্ট। অর্থাৎ রাতে কোরআন মজিদ তিলাওয়াত করার যে হক রয়েছে, কমপক্ষে সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত তিলাওয়াত করলে তার জন্য তা যথেষ্ট।’ [সহিহ্ বুখারি: ৪০০৮]

আরও পড়ুন:


দেশে একদিনে করোনায় মৃত্যু বাড়ল

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু


 

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সবাইকে পবিত্র কোরআন শরিফের এ বরকতময় সম্মানিত আয়াত পাঠ এবং আমল করার তাওফিক দিয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের সব মুসিবত, বিপদ-আপদ, রোগ-শোক অতিক্রম করে শান্তিময় ও সুখের জীবনলাভে ধন্য করুন। আমিন!

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

দোয়া ইউনুস পড়ার সঠিক নিয়ম

অনলাইন ডেস্ক

দোয়া ইউনুস পড়ার সঠিক নিয়ম

কোনো বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ইত্যাদি থেকে মুক্তি লাভের জন্য দোয়া ইউনুস পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর আমল। কিন্তু এ দোয়া ইউনুস কখন, কীভাবে এবং কতবার পড়তে হয় এবং এ দোয়া পড়ার সঠিক নিয়ম কি অনেকেই হয়তো জানেন না।  

দোয়া উইনুস পড়ার নিয়ম হল মহান আল্লাহর কাছে একান্ত বিনয় ও নম্রতা, একাগ্রতা, পূর্ণ আন্তরিকতা ও ভয়ভীতির মাধ্যমে যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা। এ দোয়া কবুল ও উপকারিতা লাভে রয়েছে কিছু নিয়ম-নীতি আর তা নিচে তুলে ধরা হল-

প্রথমে দোয়া ইউনুস পাঠ করার পর আল্লাহর কাছে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য নিয়ে দোয়া করলে, মহান আল্লাহ দোয়া কবুল করবেন। এ ক্ষেত্রে দোয়া কবুলের শর্তাবলি ও আদব ঠিক থাকতে হবে।

এ দোয়ার আমলকারীকে অবশ্য হালাল উপার্জন থেকে খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করা এবং হালাল অর্থের উপর জীবন যাপন করা। দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরুদ পাঠ করা। দোয়া শেষে আবারও দরুদ পাঠ করা ভালো।

অন্তরে দোয়া কবুল হওয়ার দৃঢ় আস্থা ও মনোভাব অক্ষুণ্ন রাখা। একান্ত বিনয়-নম্রতার সাথে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বারবার দোয়া করতে থাকা।

আরও পড়ুন:


তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

ঘরে ফিরতেই মাকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল মেয়ে

দোয়া করতে করতে বিরক্ত না হওয়া। দোয়া কবুলের জন্য তাড়াহুড়া না করা। দোয়ার মধ্যে গোনাহের কোনো কিছু না থাকা ইত্যাদি।

মহান আল্লাহ তা'আলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথভাবে দোয়া ইউনুস'এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় ‘তাহাজ্জুদ’ বলা হয় এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত যেকোনো নফল নামাজ পড়া। এ নামাজকে ‘কিয়ামুল-লাইল’, ‘সালাতুল-লাইল’ও বলা হয়ে থাকে। 

কোরআন-হাদিসের অসংখ্য জায়গায় ‘তাহাজ্জুদ’ নামাজের অনেক ফজিলত বর্ণিত আছে।

মহান আল্লাহ রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লক্ষ্য করে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করো—তোমার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে। আশা করা যায়, তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।’ (সুরা বনি ইসরাঈল : আয়াত ১৬)

হাদিস শরিফে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো রাতের (তাহাজ্জুদ) নামাজ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬৩)

তাহাজ্জুদ নামাজের সর্বোত্তম সময়

তবে তাহাজ্জুদ নামাজের সর্বোত্তম সময় হলো রাতের শেষ প্রহরে ঘুম থেকে ওঠার পর। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কোরআনে তাহাজ্জুদের জন্য বিছানা ত্যাগকারীর প্রশংসা করে আয়াত নাজিল করেছেন—‘তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা হয়। তারা ভয় ও আশা নিয়ে তাদের রবকে ডাকে। আর আমি তাদের যে রিজিক দান করেছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে।’ (সুরা সাজদা, আয়াত : ১৬)

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

তাহাজ্জুদ নামাজের সর্বোত্তম সময় রাতের শেষ প্রহরে ঘুম থেকে ওঠার পর হলেও এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া যায় এবং তাহাজ্জুদের ফজিলত লাভ হয়। কেননা তাহাজ্জুদ নামাজের মূল সময় এশার নামাজের পর থেকেই শুরু হয়ে যায়, যদিও উত্তম সময় হলো ঘুম থেকে ওঠার পর। আমরা অনেকেই শেষ রাতে উঠতে না পারার কারণে তাহাজ্জুদের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বীয় উম্মতের এই দুর্বলতার প্রতি সদয় হয়ে এই শিক্ষা দিয়েছেন যে তোমরা এশার নামাজের পর শোয়ার আগেই তাহাজ্জুদের নিয়তে দু-চার রাকাত নামাজ পড়ে নেবে।

আরও পড়ুন:


ঘরে ফিরতেই মাকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল মেয়ে

পর্নো ভিডিওর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন

হাদিস শরিফে এসেছে, সাউবান (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, রাত্রিজাগরণ কষ্টকর ও ভারী জিনিস, তাই তোমরা যখন (শোয়ার আগে) বিতর পড়বে তখন দুই রাকাত (নফল) নামাজ পড়ে নেবে। পরে শেষ রাতে উঠতে পারলে ভালো, অন্যথায় এই দুই রাকাতই ‘কিয়ামুল লাইল’-এর ফজিলত লাভের উপায় হবে।’ (সুনানে দারেমি, হাদিস : ১৬৩৫; সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ১১০৬; তাহাবি, হাদিস : ২০১১)

মহান আল্লাহ তা'আলা সকলকে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার ধৈর্য দান করুন। আমিন 

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

দুর্দিনে আর্থিক সংকট থেকে বাঁচার উপায়

অনলাইন ডেস্ক

অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে কে না চায়। তবে অনেকেই ভ্রান্ত পথ বেছে নেয়। যা গুনাহের কাজ। এমনকি চরম দুর্দিনেও অন্যায় পথ বেছে নেওয়া যাবে না।  ইসলাম এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে হতাশ হবার কোনো কারণ নেই। কারণ সমাধান রয়েছে। দুর্দিনে আর্থিক সঙ্কট থেকে বাচাঁতে মহান আল্লাহর কাছে দয়া ভিক্ষা চাইতে হবে। বিস্তারিত ভিডিওতে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর