সূরা ইয়াসিন: আয়াত ৫-৯, উদাসিনতা থেকে মুক্তি ও সৃষ্টিরহস্য

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ৫-৯, উদাসিনতা থেকে মুক্তি ও সৃষ্টিরহস্য

সূরা ইয়াসিনের পবিত্র কুরআনের মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এই সূরার প্রথমে বর্ণিত দুই মুকাত্তায়াত হরফের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরায় রয়েছে ৮৩টি আয়াত। সূরা ইয়াসিনে বিশ্বাসগত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এর আগে এই সূরার ১-৪ আয়াত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আজ ৫ থেকে ৯ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে। এই সূরার ৫ ও ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

تَنْزِيلَ الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ (5) لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَا أُنْذِرَ آَبَاؤُهُمْ فَهُمْ غَافِلُونَ (6)

“(কুরআন) পরাক্রমশালী পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে।”

“যাতে আপনি এমন এক জাতিকে সতর্ক করেন, যাদের পূর্ব পুরুষগণকে সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা গাফেল বা উদাসিন।”

ইয়াসিনের আজকের এই দুই আয়াতের মধ্যে পঞ্চম আয়াতে বলা হচ্ছে: কুরআন হচ্ছে আল্লাহর কালাম; রাসূলের কোনো বক্তব্য নয়। বিশ্বনবীর মুখ থেকে এই কুরআনের বাণী শোনা গেলেও এর সঙ্গে তাঁর অন্যান্য কথাবার্তার পার্থক্য রয়েছে। হাদিস গ্রন্থগুলোর দিকে তাকালে এ বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে যায়। রাসূলের মুখনিসৃত হাদিসগুলোর ভাষার সঙ্গে কুরআনে কারিমের ভাষার পার্থক্য স্পষ্ট।

পরের আয়াত অর্থ্যাৎ ৬ নম্বর আয়াতে বলা হচ্ছে, মানুষকে সতর্ক করার জন্য কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে যাতে তারা উদাসিনতা থেকে মুক্তি পেয়ে সৃষ্টিরহস্য সম্পর্কে জানতে পারে। এই সৃষ্টিরহস্য জানতে না পারলে মৃত্যুর পরে যে মানুষের চিরস্থায়ী জীবন শুরু হবে সে সম্পর্কে মানুষ বেখবর থেকে যাবে।

এই আয়াতে আরব উপত্যকায় নবীজী (সা.)কে রিসালাতের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানোর গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হচ্ছে: এই অঞ্চলে তার আগে আরবদের মধ্য থেকে কোনো প্রখ্যাত নবী পাঠানো হয়নি। অবশ্য কুরআনের অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষের মধ্যে সব সময়ই এমন কেউ না কেউ ছিলেন যিনি সবাইকে আল্লাহ ও পরকাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু হযরত ঈসা (আ.)-এর অন্তর্ধানের পর থেকে শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর আগমন পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০০ বছরে আরব উপত্যকায় কোনো প্রখ্যাত নবীর আবির্ভাব ঘটেনি।

এই দুই আয়াতের দু’টি শিক্ষণীয় দিক হচ্ছে:

১. মহান আল্লাহ সমস্ত পূর্ণাঙ্গ গুণাবলীর অধিকারী। তিনি একদিকে ক্ষমতাবান ও মহাপরাক্রমশালী এবং অন্যদিকে দয়ালু ও মেহেরবান।
২. মানুষকে উদাসীনতার হাত থেকে রক্ষা করে পারলৌকিক জীবনের ব্যাপারে সতর্ক করা ছিল সব নবী-রাসূলের প্রধান কর্তব্য।

সূরা ইয়াসিনের ৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন: لَقَدْ حَقَّ الْقَوْلُ عَلَى أَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ (7)
“নিঃসন্দেহে তাদের অধিকাংশের জন্যে শাস্তির বিষয় অবধারিত হয়েছে। সুতরাং তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।”

এই আয়াতে বলা হচ্ছে: বেশিরভাগ মানুষই নবী-রাসূলদের সতর্কবাণীর প্রতি কর্ণপাত করে ঈমান আনে না। স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের ভ্রুক্ষেপহীন মানুষদের জন্য পরকালে আল্লাহর শাস্তি অবধারিত হয়ে যায়। অবশ্য আল্লাহ তায়ালা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের জন্য তওবার দরজা খোলা রেখেছেন। যারা মৃত্যুর আগ মুহূর্তে হলেও আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং অতীত কৃতকর্মের জন্য কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তাদেরকে দয়াময় আল্লাহ ক্ষমা করে দিতেও পারেন। মনে রাখতে হবে তওবা করতে হবে মৃত্যুর ফেরেশতাকে দেখার আগে। মৃত্যুর আলামত চোখের সামনে ভেসে ওঠার পর তওবা কবুল হবে না। কিন্তু যারা সমাজে শিরক ও কুফরের ধারক ও বাহক হিসেবে বহু মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে তাদের জন্য তওবার সুযোগ পাওয়া কঠিন।

এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. ধার্মিকতার ব্যাপারে মানুষের সংখ্যা মুখ্য বিষয় নয়। বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ যদি আল্লাহর দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে এর অর্থ এই নয় যে, বেশিরভাগ মানুষ সঠিক পথে রয়েছে। একজন ঈমানদার ব্যক্তি যদি মুমিনের সংখ্যা অনেক কম দেখতে পায় তাহলে তার হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

২. অদৃশ্যের প্রতি উদাসীনতা মানুষকে কুফরের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন


বঙ্গবন্ধু শিশু আইন প্রণয়ন ও প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেন : প্রধানমন্ত্রী

শিশুশ্রম একটি জাতীয় সমস্যা : রাষ্ট্রপতি

চীন ইসলামকেই মুছে ফেলতে চায় : অ্যামনেস্টির রিপোর্ট

এবার টকশোতেই এমপিকে চড় (ভিডিও)


সূরা ইয়াসিনের ৮ ও ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

إِنَّا جَعَلْنَا فِي أَعْنَاقِهِمْ أَغْلَالًا فَهِيَ إِلَى الْأَذْقَانِ فَهُمْ مُقْمَحُونَ (8) وَجَعَلْنَا مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ (9)

“আমি তাদের গর্দানে চিবুক পর্যন্ত বেড়ী পরিয়েছি। ফলে তাদের মস্তক উর্দ্ধমুখী হয়ে গেছে।”
“আমি তাদের সামনে ও পিছনে প্রাচীর স্থাপন করেছি, অতঃপর তাদের দৃষ্টিকে আবৃত করে দিয়েছি, ফলে তারা কোনো কিছু দেখতে পায় না।” 

এই আয়াতে দুনিয়া ও আখেরাতে কাফেরদের কৃতকর্মের শাস্তি বর্ণনা করা হয়েছে। কিয়ামতের শাস্তির বর্ণনায় জাহান্নামীদের হাত পা ও গলায় লোহার শেকল বা বেড়ী পরানোর কথা উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, তাদের গলায় এমনভাবে বেড়ী পরানো থাকবে যে তারা মাথা নাড়াতে পারবে না। আগুনে পোড়ার কষ্টের পাশাপাশি এটি হবে তাদের জন্য চরম অপমান। এরা পার্থিব জীবনে সামনে ও পেছনে সত্য খুঁজে পাওয়ার অসংখ্য নিদর্শনকে উপেক্ষা করেছিল। তারা সৃষ্টির উৎসমূল আল্লাহকে যেমন দেখতে পায়নি তেমনি সৃষ্টির শেষ অর্থাৎ কিয়ামতকেও উপেক্ষা করেছে। পার্থিব জীবনে সত্য না দেখার কারণে কিয়ামতের দিন তাদেরকে অন্ধভাবে উঠানো হবে। আখেরাতে দুনিয়ার জীবনের কৃতকর্মগুলো ভিন্ন আকৃতিতে নিজেদের অস্তিত্ব প্রকাশ করবে। দুনিয়ায় মানুষ যত খারাপ কাজই করুক না কেন তার ফলাফল হয়ত মানুষ উপলব্ধি করে কিন্তু খারাপ কাজের কুৎসিত চেহারাটা প্রকাশ পায় না। কিন্তু কিয়ামতের দিন মন্দ কর্মশীল বান্দারা দুনিয়ার কৃতকর্মের আকৃতি নিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে। যারা পৃথিবীতে চোখ থাকা সত্ত্বেও সত্য উপলব্ধি করার চেষ্টা করেনি তারা প্রকৃতপক্ষ অন্ধের মতো আচরণ করেছে। তাই কিয়ামতের দিন তাদেরকে অন্ধ করে আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে।

এই দুই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. কিয়ামতের দিনের শিকল ও বেড়ীগুলো কাফেররা আসলে দুনিয়ার জীবনেই নিজেদের হাতে পায়ে পরে নিয়েছে। পার্থিব জীবনে তারা নিজেদেরকে স্বাধীন মনে করে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা তাদের ঋপুর তাড়নার কাছে বন্দি।

২. কাফেররা দুনিয়ার জীবনের তাৎক্ষণিক ভোগসম্ভার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সৃষ্টির অতীত এবং নিজেদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে তারা চিন্তাভাবনা করতে রাজি নয়। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা তাদের চোখের ওপর আবরণ ফেলে দিয়েছেন। তারা যেমন অতীত থেকে শিক্ষা নেয় না তেমনি নিজেদের পরকালীন জীবনের ব্যাপারেও চরম উদাসীন। 

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

ইসলামী সাইকোথেরাপির প্রবর্তক আল-বালখি

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

ইসলামী সাইকোথেরাপির প্রবর্তক আল-বালখি

বরাবরই জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিম মনীষীদের অবদান আড়াল করা হয়। সে ধারাবাহিকতায় মনোবিজ্ঞানে মুসলিম অবদানের কথা প্রায় বিস্মৃত। অথচ নবম শতকে মনের রোগের বিশ্লেষণ করেছিলেন আল-বালখি। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হলে সিগমুন্ড ফ্রয়েড, ইভান ও কার্ল রজার্সের নাম যেভাবে উচ্চারিত হয়; যেসব মুসলিম মনীষী এই শাস্ত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন তাঁদের নাম সেভাবে উচ্চারিত হয় না।

মুসলিম চিকিৎসক আবু জায়েদ আল-বালখি ছিলেন সাইকোথেরাপির প্রবর্তক। ভূগোল, চিকিৎসাশাস্ত্র, ফিলোজফি, থিওলজি, রাজনীতি, ব্যাকরণ, সাহিত্য ও জ্যোতির্বিদ্যায় তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল। তাঁর জন্ম ৮৫০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান আফগানিস্তানে। তিনি ছিলেন আল-কিন্দির শিষ্য।

আল-বালখির জীবন আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন তাঁর জীবনীকার ইয়াকুত আল-হামাউই। যদিও তাঁর জীবনীর মধ্যে বালখির শৈশব নিয়ে বিশেষ কিছু পাওয়া যায় না। শুধু তাঁর জন্মস্থান ও পিতার কাছ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা সম্পর্কে জানা যায়। তবে তাঁর কৈশোর ও তৎকালীন পড়াশোনা নিয়ে বিশদ জানা যায়। কিশোর বালখি বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের নানা বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। 

আল-বালখির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের নাম ‘মন ও শরীরের উন্নতি সাধন’ (মাসালিহ আল-আবদান ওয়া আল আনফুস)। এই পাণ্ডুলিপিতে আল-বালখি প্রথমে শরীরের উন্নতির কথা বলেন, তারপর শরীরের উন্নতি ও অধ্যাত্মবাদের মাধ্যমে কিভাবে মানসিক উন্নতি করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ইসলামের ইতিহাসে এই বই অমূল্য সম্পদ!

তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে গণিত বিষয়ে ‘আল-ফাইরিস্ট’। ভৌগোলিক মানচিত্র বিষয়ে ‘সুয়ার আল-আকালিম’।

ইসলামী মনস্তত্ত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্যবিধির প্রবর্তন করেছিলেন আল-বালখি। ‘মাসালিহ আল-আবদান ওয়াল আনফুস’ (দেহ এবং আত্মার উন্নতি সাধন) গ্রন্থে তিনিই প্রথম শরীর এবং আত্মা সম্পর্কিত বিভিন্ন রোগের আলোচনা করেছিলেন। তিনি এর জন্য শব্দ ব্যবহার করেছিলেন ‘আল-তিব্ব আল-রুহানি’ বা আধ্যাত্মিক ও মানসিক স্বাস্থ্য। তিনি বহু মেডিক্যাল ডাক্তারকে মানসিক অসুস্থতা বিষয়ে অবহেলার কারণে সমালোচনা করেছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে যেহেতু মানুষের আত্মা ও দেহ উভয় থেকেই মানুষের নির্মাণ হয়, সুতরাং মানুষের অস্তিত্ব স্বাস্থ্যকর হতে পারে না দেহ ও আত্মার সমন্বয় ছাড়া।

আরও পড়ুন


হানি সিংকে নিয়ে গুরুতর সব অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ স্ত্রী

ভারতের এলপিইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কর্নার

বর্তমান সমাজে মানসিক সমস্যা একটি ট্যাবু। এখনো কারো মানসিক সমস্যা হলে তাকে মানুষ অন্য চোখে দেখে। তাই আধুনিককালে চিকিৎসাশাস্ত্র মানসিক সমস্যাকে স্বাভাবিক অসুখ বলতে বাধ্য হয়েছে। মানুষের মধ্যে চিন্তাভাবনার প্রসার ঘটানোর চেষ্টা চলছে। সামাজিকভাবে আমরা এখনো মানসিক সমস্যাকে মেনে নিতে পারি না। আল-বালখি বহু বছর আগে এ বিষয়ে লিখে গেছেন। আল-বালখির মতে, মানসিক সমস্যাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারলেই অসুখের সঙ্গে সহজে লড়াই করা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি সেরে ওঠেন।

আল-বালখি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে তাঁর ধারণাগুলো কোরআনের আয়াত ও হাদিস থেকে গ্রহণ করেছেন।

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

গুরুত্ব অসুস্থ হলে যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

গুরুত্ব অসুস্থ হলে যে দোয়া পড়বেন

সুস্থতা আল্লাহর নেয়ামত। আবার অসুস্থতার মাধ্যমে মুমিনদের পাপ মোচন হয়। সুস্থতার জন্য আল্লাহর দরবারে যেমন দোয়া করা উচিৎ তেমনি অসুস্থ হলেও তা থেকে পানাহ পাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করা উচিৎ।

রোগ থেকে দ্রুত মুক্তি লাভের দোয়া:

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা রাব্বান-নাসি মুজহিবাল বা’সি, ইশফি আনতাশ-শাফি, লা শাফি ইল্লা আনতা শিফায়ান লা য়ুগাদিরু সুকমা।

অর্থ: হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক, কষ্ট দূরকারী। আমাকে আরোগ্য দিন, আপনি আরোগ্যকারী; আপনি ছাড়া কোনো আরোগ্যকারী নেই। এমন আরোগ্য দিন যেন কোনো রোগ অবশিষ্ট না থাকে।

হাদিসে এসেছে, আনাস বিন মালিক (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া পড়ে অসুস্থ ব্যক্তিদের ঝাড়-ফুঁক করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৭৪২)

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

নিউজ টোয়েন্টিফোর / কামরুল

পরবর্তী খবর

মনের অস্থিরতা দূর করার আমল ও দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

হতাশ হওয়া কিংবা মানসিক চাপ অনুভব করা নতুন কিছু নয়। বিপদ-আপদ, চাপ কিংবা না পাওয়ার বেদনা যত বেশিই হোক না কেন কোনো অবস্থায়ই হতাশ হওয়া ঈমানদারের কাজ নয়। বরং সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর আস্থা রাখাই সুস্থ থাকার উপায় এবং বুদ্ধিমানের কাজ।

মনের অস্থিরতা দূর করতে মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। এছাড়াও কিছু আমল রয়েছে।

আমলটি জানতে ভিডিওটি দেখুন

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

যে দুটি খারাপ অভ্যাস ত্যাগের বিনিময়ে জান্নাত

অনলাইন ডেস্ক

যে দুটি খারাপ অভ্যাস ত্যাগের বিনিময়ে জান্নাত

পবিত্র কোরআনে বহু আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাকওয়া অর্জনের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। কারণ তাকওয়া মানুষকে সব ধরনের পাপ থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে। এর বিপরীতে দুটি অভ্যাস এমন আছে, যেগুলো মানুষ পাপ কাজের প্রতি উৎসাহিত করে, ফলে তারা অন্ধ হয়ে যায় এবং পাপের সাগরে ডুব দিতে দিতে জাহান্নামের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘এটা আখিরাতের আবাস, যা আমি নির্ধারিত করি তাদের জন্য, যারা জমিনে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। আর শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য।’ (সুরা : আল কাসাস, আয়াত : ৮৩)

এ আয়াতে আখিরাতের মুক্তি ও সাফল্য শুধু তাদের জন্য নির্ধারিত বলা হয়েছে, যারা জমিনে ঔদ্ধত্য ও অনার্থের ইচ্ছা করে না। পবিত্র কোরআনে এই দুটি অভ্যাসকে দুটি শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। ১. ‘উলুয়্যুন’- ঔদ্ধত্য, ২. ‘ফ্যাসাদ’-অনার্থ/অশান্তি।

১। আরবি শব্দ ‘উলুয়্যুন’-এর অর্থ অহংকার তথা নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় মনে করা এবং অন্যকে হেয় করা। যা মহান আল্লাহ মোটেই পছন্দ করেন না। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অনুগ্রহ করে নিয়ামত দেন; কিন্তু কেউ যখন সেই নিয়ামত পেয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং অহংকার করা শুরু করে, তখন মহান আল্লাহ তাকে কঠিন শাস্তি দেন। অতীতে বহু প্রভাবশালী জাতিকে এই অহংকারের কারণে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর আদ সম্প্রদায়, তারা জমিনে অযথা অহংকার করেছিল এবং বলেছিল, আমাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী কে আছে? তবে কি তারা লক্ষ করেনি যে নিশ্চয়ই আল্লাহ, যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী? আর তারা আমার নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করত। তারপর আমি তাদের ওপর অশুভ দিনগুলোতে প্রেরণ করলাম ঝোড়ো হাওয়া, যাতে আমি তাদের আস্বাদন করাতে পারি দুনিয়ার জীবনের লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। আর আখিরাতের শাস্তি তো তার চেয়ে বেশি লাঞ্ছনাদায়ক এবং তাদের সাহায্য করা হবে না।’ (সুরা : হা-মিম সাজদা, আয়াত : ১৫-১৬) 

২। ‘ফ্যাসাদ’ মানে অশান্তি সৃষ্টি করা। যেমন—পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহ ফ্যাসাদকারীদের আমল পরিশুদ্ধ করেন না।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৮১)

এখানে ‘ফ্যাসাদ’-এর অর্থ বিশৃঙ্খলা বা অশান্তি সৃষ্টি। যারা জুলুম করে তারাই সাধারণত পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে। জুলুমের ভয়াবহতা সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা জুলুম করা থেকে বিরত থেকো। কেননা কিয়ামতের দিন জুলুম অন্ধকারে পরিণত হবে। তোমরা কৃপণতা থেকে সাবধান হও। কেননা কৃপণতা তোমাদের আগের জাতিকে ধ্বংস করেছে। এ কৃপণতা তাঁদের খুন-খারাবি ও রক্তপাতে উৎসাহ জুগিয়েছে এবং হারাম বস্তু হালাল জ্ঞান করতে প্রলোভন দিয়েছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৭০)

আরও পড়ুন

গুনাহ হয়ে গেলে যে দোয়া পড়বেন

৭৩টি ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

রামেকে করোনা ওয়ার্ডে ১৯ জনের মৃত্যু

হেলেনা জাহাঙ্গীরের দুই সহযোগী গ্রেফতার

কোনো কোনো তাফসিরকারক বলেন, গুনাহমাত্রই জমিনে ফ্যাসাদের শামিল। কারণ গুনাহের কুফলস্বরূপ বিশ্বময় বরকত হ্রাস পায়, বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সাগরে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে; ফলে তিনি তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তির মজা দেখান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা রুম, আয়াত : ৪১)

প্রতিটি মুমিনের তাকওয়া অবলম্বন করা উচিত। তাকওয়া বান্দাকে মহান আল্লাহর অতি কাছে নিয়ে যায়। আর মহান আল্লাহ মুত্তাকিদের দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা দান করেন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর

গুনাহ হয়ে গেলে যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

গুনাহ হয়ে গেলে যে দোয়া পড়বেন

উচ্চারণ : আতুবু ইলাল্লাহি মিম্মা আজনাবতু।

অর্থ : আমি যে অপরাধ করেছি, তা থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আরও পড়ুন

৭৩টি ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

রামেকে করোনা ওয়ার্ডে ১৯ জনের মৃত্যু

হেলেনা জাহাঙ্গীরের দুই সহযোগী গ্রেফতার

উপকার : আয়েশা (রা.) বলেন, একবার তিনি ছবিযুক্ত গদি ক্রয় করেন। রাসুল (সা.) তা দেখে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন—প্রবেশ করেননি। তখন আয়েশা (রা.) এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৫৭)

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর