সবার আগে সাকিবের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া দরকার

শওগাত আলী সাগর

সবার আগে সাকিবের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া দরকার

ক্রিকেটার সাকিবকে নিয়ে নানা জনের নানা রকমের প্রতিক্রিয়ার কোনোটাই পড়িনি, পড়ার প্রয়োজন মনে করিনি। সাকিব একজন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, যে কোনো পরিস্থিতিতে তার আচরণ হবে খেলোয়াড়সুলভ- এটিই হচ্ছে বটমলাইন। এর ব্যত্যয় হলে সেটিকে অবশ্যই ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে বিবেচনায় নিতে হবে।

একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় ‘বিহেভিয়ারাল নর্মস’ সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন থাকেন, থাকতে হয়। সেখানে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন হয়ে পরে। 

সাকিব আল হাসানের ঘটনাকে আমি এই আঙ্গিকে দেখার পক্ষপাতি। একজন খেলোয়াড় হুটহাট রেগে যান না, রেগে গেলেও তারা ভায়োলেন্ট রিঅ্যাকশন দেখান না। যখন এগুলো ঘটে তখন তার মানসিক অবস্থার দিকে মনোযোগ দেয়া জরুরী হয়ে পরে। সাকিব কী কোনো স্ট্রেসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন? তার মানসিক সুস্থতায় কোথাও কী কোনো ধরনের আচড় লেগেছে? কোভিডকালে অনেক মানুষই কোনো না কোনো ভাবে মানসিক অবসাদে ভোগছেন, মানসিক চাপের মধ্যে পরেছেন। সাকিবেরও সে ধরনের কোনো পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। আমি মনে করি, সাকিবের সবার আগে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শ্মরণাপন্ন হওয়া দরকার। সাকিবের যারা শুভাকাংখী তারা নিশ্চয়ই তাকে এই পরামর্শটা দেবেন। 

বাই দ্যা ওয়ে,মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞর শ্মরণাপন্ন হওয়ার কথা শুনে  নাক সিটকাবেন না যেনো। উন্নত দেশগুলোতে যে কোনো মানুষের মানসিক স্বাস্থকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। অনেক বড় বড় সেলিব্রেটিকেও এমন কি গবেষক, শিক্ষাবিদদেরও  অনেক সময় ’অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট’ এর ভেতর দিয়ে যেতে হয়। এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ‘ওয়েলনেস প্রসিডিউর’।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

হেলেনা জাহাঙ্গীরও রাজনীতিবিদ না, মৌ-পিয়াসাও মডেল কিংবা অভিনেত্রী না

আশরাফুল আলম খোকন

হেলেনা জাহাঙ্গীরও রাজনীতিবিদ না, মৌ-পিয়াসাও মডেল কিংবা অভিনেত্রী না

সব পেশারই কিছু ধর্ম আছে, সম্মান আছে। সমাজের সবচেয়ে নিচু শ্রেণীর মানুষের কোনো পেশার কথা যদি বলেন তারাও তাদের জগতে একটা সম্মান নিয়ে চলে।

এখন কোন পেশাকে আপনি ছোট করে দেখেবেন? কোন কাজকে আপনি ছোট করে দেখবেন? কোনো কাজ কিংবা পেশাকেই ছোট করে দেখার বা অসম্মান করে দেখার অবকাশ নেই।

আপনি যদি সমাজের উঁচু স্তরের মানুষ হয়ে ভাবেন ঝাড়ুদার একটা ছোট পেশা। একবার ভাবুনতো আপনার শহর কিংবা ঘর একমাস ধরে কেউ পরিষ্কার করে না। তখন আপনার সাহেবগিরি কোথায় যাবে? আপনি যে ড্রাইভারকে ছোট করে দেখেন তার দক্ষতার উপরও আপনার নিজের জীবন মরণ নির্ভর করে।

যেহেতু প্রতিটি পেশারই কিছু না কিছু সম্মান আছে, সমাজে গুরুত্ব আছে তাই এইসব পেশার উপর এক শ্রেনীর মানুষ ভর করে স্বার্থ হাসিল করে। সেই শ্রেণীর পেশাজীবির নাম প্রতারক বা জালিয়াত বা বাটপার। সুতরাং তাদেরকে প্রতারক বা জালিয়াতই বলা উচিত। যেই পেশার উপর ভর করে সেই পেশার খেতাব দিয়ে সেই পেশাকে অসম্মান করা উচিত না।

আরও পড়ুন

সুন্দরী ২০-২৫ জন রমণীকে নিয়ে জমজমাট আসর বসাতো পিয়াসা

ভয়াবহ দাবানল থেকে বাঁচাতে সমুদ্র সৈকতে নেয়া হচ্ছে গবাদিপশুদের

ফ্লোরিডায় অদ্ভুতদর্শন ‘সেসিলিয়ান’-এর খোঁজ

১৬ই আগস্ট ভারতে ‘খেলা হবে’ দিবস


সর্বশেষ উদাহরণ: হেলেনা জাহাঙ্গীর কখনোই রাজনীতিবিদ কিংবা নেত্রী না। পিয়াসা কিংবা মৌ আক্তারও কোনো প্রকারের মডেল কিংবা অভিনেত্রী না। তারা এইসব পেশাকে অপব্যবহার করার চেষ্টা করেছে মাত্র। তাদেরকে নেত্রী,অভিনেত্রী কিংবা মডেল বললে ওই পেশাকেই অপমান করা হয়, ওই পেশার সম্মানিত মানুষগুলোকে অপমান করা হয়।

তবে হ্যা, কোনো প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী যদি প্রতারণা কিংবা জালিয়াতি করে তখন আপনি ওই পেশার নাম ধরে তাকে প্রতারক বা জালিয়াত বলতে পারেন।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তাওবা

জাকির হোসেন

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তাওবা

হালাল উপার্জনের উপর নির্ভর করা এবং হারাম উপার্জন বর্জন করা মুসলিমের জন্য অন্যতম ফরয ইবাদত। শুধু তাই নয়, এর উপর নির্ভর করে তার অন্যান্য ফরয ও নফল ইবাদত আল্লাহর নিকট কবুল হওয়া বা না হওয়া। হারাম উপার্জনের দ্বরা আপনি বাড়ি-গাড়ি, জায়গা-জমি, ব্যাংক ব্যালেন্স করে ফেলেছেন। এখন আপনার হুঁশ হয়েছে পরকালের আযাবকে ভয় করে আপনি তাওবা করে সকল হারাম বর্জন করে পরিশুদ্ধ হতে চান। মহান আল্লাহর পথে ফিরে আসতে চান। নিশ্চয়ই মহান রব তাওবা কবুলকারী। বান্দা অপরাধ করে অনুতপ্ত হয়ে বিশুদ্ধ নিয়তে, এই অপরাধ আর হবে না এই দৃঢ় সংকল্প করে তাওবা করলে নিশ্চয়ই মহান রব তা কবুল করবেন। কিন্তু অনেকেই মনে করেন তাওবার মাধ্যমে তার অবৈধ উপায়ে সম্পদও হালাল বা বৈধ হয়ে গিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

আপনি আল্লাহ তা’য়ালা ও রাসূল (সা.) এর নির্দেশ অমান্য করে অবৈধ পন্থায় আয়-রোজগার করেছেন। আপনার এই অবৈধ কাজের জন্য তাওবা কবুল হতে পারে, এর দ্বারা অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ কখনই হালাল হবে না। এটি যদি ইসলামে অনুমোদিত হতো তাহলে  অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন মহামারি আকার ধারণ করতো। তখন সবাই মনে করতো আগে রোজগার করে ফেলি পরে তাওবা করে বেশি বেশি ইবাদত করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবো। এমন ধারণা চরম ভ্রান্তির। কারণ ঐ অবৈধ সম্পদের হকদার অন্য কেউ। যেমন রাষ্ট্রের সম্পত্তি আত্মসাৎ করলে তার হকদার রাষ্ট্রের জনগণ। আর ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ নিলে এই অর্থের হকদার ঠিকাদার ও তার পরিবারের সদস্যরা। ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার কারণে সে কাজের মানে ফাঁকি দিয়েছে এবং আপনি তা দেখেও কোন ব্যবস্থা নেন নি। এই অপরাধের জন্য তাওবা কবুল হতে পারে, ঘুষ হালাল হবে না। অবৈধ উপার্জনের অন্যতম পদ্ধতি ঘুষ। 

অনেকে মনে করেন হারাম পথে উপার্জন করে সেখান থেকে কিছু সদকা করে দিলে আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু ব্যাপারটা এরকম নয়। ইবনু আব্বাস (রা) কে প্রশ্ন করা হয়, ‘একব্যক্তি একটি প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিল। তখন সে যুলুম করে ও অবৈধভাবে ধনসম্পদ উপার্জন করে। পরে সে তাওবা করে এবং সেই সম্পদ দিয়ে হজ্জ করে, দান করে এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে।’ তখন ইবন আব্বাস বলেন, ‘হারাম বা পাপ কখনো পাপমোচন করে না। বরং হালাল টাকা থেকে ব্যয় করলে পাপ মোচন হয়।’

ইবনু উমার (রা.) কে বসরার এক গভর্ণর প্রশ্ন করেন, আমরা যে এত জনহিতকর কাজ করি এর জন্য কি কোনো সাওয়াব পাব না? তিনি উত্তরে বলেন, আপনি কি জানেন না যে, কোনো পাপ কখনো কোনো পাপমোচন করতে পারে না?’

আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘুষ গ্রহীতা ও ঘুষদাতা উভয়কে লানত করেছেন। (তিরমিযি ) বিভিন্ন হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি, কোনো পাপ দিয়ে অন্য পাপ মোচন করা যায় না। রাসূলুল্লাহ (সা.)বলেন ‘যে ব্যক্তি অবৈধভাবে সম্পদ সঞ্চয় করে এরপর তা দান করবে, সে এই দানের জন্য কোনো সাওয়াব পাবে না এবং তার পাপ তাকে ভোগ করতে হবে।’ (ইবনু হিব্বান) অন্য হাদীসে রাসূল (সা.) বলেন, ‘বৈধ জীবিকার ইবাদত ছাড়া কোনো প্রকার ইবাদত আল্লাহর নিকট উঠানো হয় না।’(বুখারী) রাসূল (সা.) আরো বলেন ‘ওযু-গোসল ছাড়া কোনো নামায কবুল হয় না, আর অবৈধ সম্পদের কোনো দান কবুল হয় না।’ (বুখারী)

হারাম ভক্ষণ করে ইবাদত করলে তা কবুল হয়না। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা পবিত্রতা ছাড়া কোনো সালাত কবুল করেন না এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের সদকা গ্রহণ করেন না।’ (নাসায়ি)

রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘হে মানুষেরা, নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র (বৈধ) ছাড়া কোনো কিছুই কবুল করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনগণকে সেই নির্দেশ দিয়েছেন যে নির্দেশ তিনি নবী ও রাসূলগণকে দিয়েছেন … এরপর তিনি একজন মানুষের কথা উল্লেখ করেন, যে ব্যক্তি (হজ্ব, উমরা ইত্যাদি পালনের জন্য, আল্লাহর পথে) দীর্ঘ সফরে রত থাকে, ধূলি ধূসরিত দেহ ও এলোমেলো চুল, তার হাত দু’টি আকাশের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে সে দোয়া করতে থাকে, হে প্রভু! হে প্রভু ! কিন্তু তার খাদ্য হারাম, তার পোশাক হারাম, তার পানীয় হারাম এবং হারাম উপার্জনের জীবিকাতেই তার রক্তমাংস গড়ে উঠেছে। তার দোয়া কিভাবে কবুল হবে!’ (মুসলিম)

আরও পড়ুন


নাটোরে ধর্ষণ মামলার আসামি ও এক মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার

সেনবাগে বিকাশ প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে শিক্ষার্থীদের টাকা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগারদের সম্ভাব্য একাদশ

অভিনব কায়দায় গরুর মাধ্যমে ইয়াবা নিয়ে আসতো মডেল পিয়াসা


মহান রব বলেছেন,“হে রাসূলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু হতে আহার কর এবং সৎকর্ম কর। তোমরা যা কর সে বিষয়ে আমি অবহিত।”(সুরা মুমিন ৫১)

হারাম ও হালাল সম্পদ মিশ্রিত হয়ে গেলে তা অনুমান করে আলাদা করতে হবে। হারাম উপার্জনের থেকে তাওবা করে বিশুদ্ধ হতে হলে হারাম সম্পদ যে কোন প্রকারে তার মালিক কিংবা তার উত্তরাধিকারীকে ফেরত দিতে হবে। লজ্জা লাগলে তাদের ব্যাংক একাউন্টে জমা দেয়া যেতে পারে। মালিক চেনা না গেলে তার পক্ষ থেকে দান করে দিতে হবে কিংবা অন্য কোন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে। তাওবা করার পর হারাম সম্পদের বাড়ি-গাড়ি, জায়গা-জমি, ব্যাংক ব্যলেন্সের সুবিধা গ্রহণ করতে থাকলে আপনার অবস্থা ঐ ব্যক্তির ন্যায় যিনি কাদা মাখা শরীর ধূয়ে সাফ-সুতরো হয়ে আবার পরক্ষণেই কাদা ঘাঁটতে শুরু করলেন।

মনে রাখবেন, তাওবা করে অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বিলিয়ে দেয়া যত কঠিন জাহান্নামের আগুন তার চেয়ে আরও অনেক অনেক বেশি ভয়ংকর।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভারতীয় সহযোগিতা

হাসান ইবনে হামিদ

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভারতীয় সহযোগিতা

শ্রমনির্ভর থেকে জ্ঞাননির্ভর জাতিতে পরিণত হবার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পৃথিবীতে যে বিশাল জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে, বাংলাদেশ তার অংশীদার হতে চায়। নতুন ধরনের এই অর্থনীতিতে প্রবেশের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সরকার সারা দেশে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। ই-গভার্ন্যান্স পদ্ধতি চালু, স্কুল-কলেজে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং আইটি পার্ক গড়ে তোলাসহ সরকারের নানামুখী কর্মযজ্ঞ দেশব্যাপী চলমান। নানা ধাপে এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের কার্যক্রম সরকার এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি জেলায় আইটি পার্ক গড়ে তোলার ঘোষণা ইতোমধ্যে সরকার দিয়েছে।

বর্তমানে দেশের ৩৯টি জেলায় আইটি পার্ক নির্মাণাধীন। বর্তমানে সাতটি হাইটেক পার্ক বিনিয়োগের উপযুক্ত অবস্থায় আছে। এগুলো হচ্ছে কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি, ঢাকায় জনতা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, সিলেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক, চট্টগ্রামে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, নাটোরে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার, রাজশাহীতে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার। দেশের বিভিন্ন পার্কে এ পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

এই হাইটেক পার্কগুলো সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাবে। এদিকে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইটি সেক্টরের উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় হাইটেক পার্ক স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে। তার মানে বৃহৎ জনগোষ্ঠী যে এই হাইটেক পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের আওতায় আসবে তা পরিস্কার। 

ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ভারত এবার হাইটেক পার্ক নির্মাণে বাংলাদেশকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে দেশের ১২টি জেলায় হাই-টেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পে ভারত সরকার অর্থায়ন করছে। সম্প্রতি আইসিটি প্রতিমন্ত্রী ভারতের সাথে এক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় এসব তথ্য দিয়েছেন। গত ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ‘বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল সার্ভিস এন্ড এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং সেন্টার (বিডিসেট)’ নামক একটি প্রকল্প স্থাপনে ভারতীয় অনুদানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই সমঝোতার আওতায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও আইসিটি শিল্পের বিকাশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ২৫ কোটি টাকা ভারতীয় অনুদান দেয়া হবে। এই প্রকল্পে মোট ৬১.০২৫৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে যার বাকী অংশ (৩৬.০২৫৯ কোটি টাকা) বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হবে। এখান থেকে আগামী দুই বছরে প্রায় আড়াই হাজার প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। ইন্টারনেট অব থিংস, মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, এক্সটেনডেড রিয়ালিটি এবং অন্যান্য উচ্চতর বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এ ছাড়াও ৩০ জনকে ৬ মাসের জন্য ভারতে আইসিটির উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণ করা হবে।

বাংলাদেশের বেকারত্ব নিরসনে ভারত সরকার যেভাবে এগিয়ে এসেছে তা নিঃসন্দেহে ধন্যবাদ ও প্রশংসা পাবার দাবি রাখে। কেননা হাইটেক পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণের পথে হাঁটতে চাইছে বাংলাদেশ। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপ দিয়ে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের তালিকায় নিয়ে যেতে চাইছে বাংলাদেশ সরকার। আর সেই পথে আমাদের বন্ধুর ন্যায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আমাদের জন্মবন্ধু ভারত। হাইটেক পার্ক শুধু যে স্কিলড কর্মীদের চাকুরীর নিশ্চয়তা দেবে তা কিন্তু না বরং প্রতিটি জেলায় এই পার্ককে কেন্দ্র করে যে কর্মযজ্ঞ শুরু হবে তাতে লাখো মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় কালিয়াকৈরের হাইটেক পার্কের কথা, যেখানে প্রশাসনিক ভবন, হাসপাতাল, কাস্টম হাউস, স্কুল-কলেজ, ব্যাংক, শপিং মল, আবাসিক এলাকা, শিল্প এলাকা, কনভেনশন সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে কালিয়াকৈর পার্কের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে একটি রেলস্টেশন স্থাপন ও শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। তার মানে এই পুরো অঞ্চলে লাখো মানুষকে ব্যবসার সুযোগও তৈরি করে দিচ্ছে এই হাইটেক পার্ক। বেকারত্ব নিরসনে বন্ধু দেশ ভারত আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে যা দুই দেশের আদি বন্ধুত্বের এক উদাহরণ। 

আইসিটি খাতে ভারত সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও পারস্পরিক সম্পর্ক আগের যেকোন সময়ের চেয়ে এখন অনেক উন্নত। আইসিটি খাতে ভারতীয় কোম্পানি বিশ্ব বাজারে জায়গা করে নিলেও বাংলাদেশ থেকে আইটি খাতের দশ লাখের বেশি দক্ষ জনবল নিয়ে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের নিজস্ব অবস্থান তৈরী করতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে আইসিটি খাতে ৫ বিলিয়ন ডলারের উপর রপ্তানি আয় করার আশা করছে বাংলাদেশ। এই খাতে বাংলাদেশ ও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক বৃদ্ধি পেলে তা উভয় দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইসিটি খাতে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্প্রাসারণে ভারতীয় হাইকমিশন, বাংলাদেশ সরকার এবং দু’দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়িক সংগঠন যদি একত্রিত হয়ে কাজ করতে পারে তবে দক্ষিণ এশিয়াতেই আইসিটি খাতে এক বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।

সে লক্ষ্যেই এবারের ২৭ জুলাইয়ের ভার্চুয়াল সম্মেলনে ই-কমার্স, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আইটির ব্যবহার, সাইবার নিরাপত্তা, রোবটিক অটোমেশন প্রক্রিয়া,পর্যটন খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমাত্রা ও ব্লকচেইনের ব্যবহার, বড় তথ্য বিশ্লেষণ, সংযুক্ত ও ভার্চুয়াল বাস্তবতা, অ্যানিমেটেড ছবি নির্মাণ, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ নির্মাণসহ প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য ক্ষেত্রে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা কিভাবে পারস্পরিক ব্যাবসা বৃদ্ধি করে পরস্পর লাভবান হতে পারেন সে বিষয়ে আলোচনা করেন উভয় দেশের আইসিটি খাতের ব্যবসায়ীরা। এভাবে দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে গেলে আইসিটি খাতে উত্তরোত্তর সফলতা দ্রুতই আসবে। 

হাইটেক পার্ক ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এটা সত্যি যে, এতদিনে কমপক্ষে লাখ খানেক কর্মসংস্থান করার কথা ছিল। সেদিক থেকে আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে যেহেতু চাহিদা বেশি সেগুলোতে অগ্রাধিকার দেয়ার এখন সময়। লক্ষ্যের দিকে এগোতে হলে ফোকাস থাকতে হবে। দ্রুত ট্রেন যোগাযোগ প্রয়োজন হবে। ইন্ড্রাস্টি, একাডেমি ও সরকারের টাস্কফোর্স গঠন করে কাজ করতে হবে। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর প্রথম হাইটেক বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলো। যেহেতু হাইটেক পার্কের বিষয়টি শিল্পখাত ভিত্তিক তাই শিল্প ও প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

এটা করতে সময় লাগে। তাই দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে এই হাইটেক পার্ক নির্মাণ করছে সরকার যেখানে লাখ লাখ বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। আমাদের প্রত্যাশা, ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে আগামী দিনগুলোতেও বাংলাদেশের হাই-টেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগসহ আইসিটি খাতে সহযোগিতা আরও প্রসারিত করবে ভারত। ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব অমর হোক।

 (মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

লেখক : হাসান ইবনে হামিদ, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আমার বন্ধু ভাগ্য অনেক ভালো

পীর হাবিবুর রহমান

আমার বন্ধু ভাগ্য অনেক ভালো

পীর হাবিবুর রহমান

বন্ধু মানে ডাকলেই ছুটে যাওয়া, ডাকলেই ছুটে আসা। করোনার দেড় বছরে আমার বন্ধুদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ নেই। আড্ডা নেই। একা বন্ধুবিহীন জীবন। ছোটবেলা থেকেই আমি দূড়ন্ত আমুদে প্রানবন্ত আড্ডাবাজ বন্ধু পাগল। বন্ধু ভাগ্য আমার অনেক ভালো।

পাড়া থেকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। বন্ধুত্ব মানেই আত্নার গভীরে বহন করা টান। বিশ্বাসের প্রবল শক্তি। দলবেধে ছুটে চলা। জীবনের সব কিছুই ভাগাভাগি করা। চায়ের আসর থেকে সব। তুমুল তর্ক ঝগড়া গলাগলি সব। বিপদে আপদে দৌড়ে আসা যাওয়া নি:স্বার্থ এক সম্পর্ক।

বন্ধুবিহীন জীবন ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষ ছাড়া কারও হয়না। শৈশব কৈশোরের খেলার মাঠ, তারুন্যের মিছিল, কবিতা পাঠের আসর, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, ছাত্র মিছিল জীবনের বড় একটা অংশজুড়েই বন্ধু। বন্ধুত্ব এমনিতেই হয়না, অন্তর থেকে জন্ম নেয় এবং গভীর আবেগে তা লালিত হয়।

আমার অসুখেও কত বন্ধু দেখতে আসতে চাইলে মন ভরে গেছে তবু আসতে দেইনি করোনার ভয়ে। এ কষ্ট আমার। তারা সবাই দোয়া করছে। নিজ শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, স্কুল কলেজ, দেশ বিদেশ কত পথ কত বন্ধুর সাথে ঘুরেছি হেটেছি। কত বৃষ্টিতে ভিজেছি, জোছনায় ভেসেছি। কত জায়গায় কত আড্ডা। কত রাত দিন আড্ডায় কত হাসি কত আনন্দ। আড্ডায় কেবল সেন্স অব হিউমার নয়, শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি রাজনীতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা, তর্কযুদ্ধ। এ জীবনের পরম পাওয়া। 

সুনামগন্জের প্রকৃতি পরিবার মাটি ও মানুষ পাঠ দিয়েছিলো নির্লোভ সাদামাটা জীবনের। সরলতা আবেগ বিশ্বাস জন্মগত পেয়েছিলাম। এর চড়া মূল্য দিলেও নিজেকে বদলাইনি, এ আমার শত্রু আমারই শক্তি।

পেশাগত জীবনে কত বন্ধু ছড়িয়েছে কতখানে, কত দেশে। তবু যোগাযোগ শেষ হয়নি। হৃদয়ে লালন করে রেখেছি। কত বন্ধু অকালে চলে গেছে, মনে পড়ে তাদের খুব। মন খারাপ করে। আল্লাহ তাদের বেহেসত দিন।

জীবিত সকল বন্ধু আনন্দময় দীর্ঘ জীবন লাভ করুক। বন্ধুরা ভালো থাকিস। বন্ধুত্বের কখনো মৃত্যু হয়না।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

জানিনা সামনে কি সময় আসছে

ডাঃ গুলজার হোসেন

জানিনা সামনে কি সময় আসছে

জানিনা সামনে কি সময় আসছে। গত দুইদিন ধরে বেশ কিছু রোগী রেফার্ড হচ্ছে আমার কাছে। এরা হাসপাতালে ভর্তি রোগী। কোভিড পজিটিভ। কেউ কেউ সাস্পেক্টেড কোভিড৷ কেউ কেউ আই সি ইউতে আছেন৷ 

 এদের প্লেইটলেট অনেক কম। পঞ্চাশ হাজারের আশেপাশে।  সেকারণেই আমার কাছে রেফার করছে মতামতের জন্য। আমি জ্বরের ইতিহাস অনুযায়ী এন্টিজেন এবং এন্টিবডি পরীক্ষা করে পেলাম এদের ডেংগি হয়েছে। 

হাসপাতালে ভর্তি হয়ে এরা এর মধ্যেই দুই চারদিন রেমডিসিভির ইঞ্জেকশন, চামড়ার নিচে ব্লাড থিনার ইঞ্জেকশন সহ নানারকম ফর্দ করা ইঞ্জেকশন ও ওষুধ নিয়ে ফেলেছে। একজনের  এই ফাঁকে রক্তক্ষরণও শুরু হয়েছে৷ 

একটু চিন্তিত বৈকি। জাহিদুর রহমান  ভাই এবং Maliha কে ফোন দিলাম কোনভাবে কি ডেংগি পেশেন্টের শরীরে ডেংগি ভাইরাস থাকবার কারণে করোনা পরীক্ষা ফলস পজিটিভ আসতে পারে? দুজনই মত দিলেন 'না, পারেনা'। (ফলস পজিটিভ এমনিতেই নানা কারণে আসতে পারে। সে প্রসংগ আলাদা।)  
তার মানে এই রোগীদের দুটোই হয়েছে।  কোভিড ১৯ এবং ডেংগি। 

আসলে না হবার তো কারণ নেই। বাংলাদেশ, বিশেষ করে ঢাকা ডেংগির এন্ডেমিক জোন। এটা দূর হবেনা, থেকে যাবে। ইতিহাস তো এটাই বলে। যেখানে ডেংগি ঢুকেছে আর বের হয়নি। ফিরে ফিরে এসেছে। হয়ত দুই এক বছর প্রকোপ কম ছিলো।
 
গতবছর মশক নিধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থবির জনজীবনের কারণে ডেংগিবাহী মশা বংশ বিস্তারের মওকা পেয়েছে৷ মানুষ বাড়িতে থাকে। দিনের বেলায় কাজ নেই, শুয়ে,বসে,ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে৷  হাসপাতাল রোগীতে ভর্তি। এক রোগী থেকে আরেক রোগীতে ছড়ানোও বেশ সহজ। ডেংগির প্রকোপ বাড়ার বিস্তর কারণ বিদ্যমান। 

সমস্যা আরো। দেখা গেল রোগী এসেছে জ্বর নিয়ে।  সবার নজর কোভিডে। কোভিড পরীক্ষা হলো।  পরীক্ষায় দেখা গেল পজিটিভ। ব্যাস,  রোগ তো পেয়ে গেলাম। দশ-বারোটি ওষুধ ছড়ড়া গুলির মত চালু হয়ে গেল। চামড়ার নিচে ব্লাড থিনার। এদিকে কোন ফাঁকে প্লেইটলেট কমে, উপরি হিসেবে ব্লাড থিনার পেয়ে শুরু হলো রক্তক্ষরণ। পরশু একটা রোগীকে এভাবে হারালাম। 

অর্থাৎ কোভিডের সাথে যে ডেংগি কো-ইনফেকশন হিসেবে আসছে,  আসতে পারে এবং আসতেই পারে এটাই মাথায় রাখতে হচ্ছে এখন।
হাসপাতালে করোনা রোগীরা আছে। হাজার হাজার টাকার এন্টিভাইরাল দিচ্ছেন। লাখ টাকার টসিলিজুম্যাব। সাথে দুইশ টাকার একটা মশারিও দেন। 
বাড়িতেও মশারি খাটান।  এটুকুই বলার ছিলো।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

ডা. গুলজার হোসেন, রক্তরোগ ও রক্তক্যান্সার বিশেষজ্ঞ|

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর