বিটুমিনের কর কাঠামোতে এক দেশে দুই নিয়মের বৈষম্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিটুমিনের কর কাঠামোতে এক দেশে দুই নিয়মের বৈষম্য

সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণের অন্যতম উপকরণ বিটুমিনের কর কাঠামোতে এক দেশে দুই নিয়মের বৈষম্য পাওয়া গেছে। এই তথ্য দিয়ে বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিটুমিন উৎপাদনে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আমদানিতে বিশাল ছাড় দিয়ে নজিরবিহীন কর-বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এই ধরনের রাজস্বনীতি দেশীয় শিল্পের স্বার্থবিরোধী। সরকারের শিল্প সুরক্ষা নীতির পরিপন্থী। এতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিওর নিয়মনীতি ভঙ্গ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রীতিনীতি বিরুদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, বিপুল বিনিয়োগে গড়ে ওঠা দেশীয় বিটুমিন শিল্পে উৎপাদন পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কর বিদ্যমান থাকলেও, আমদানিতে অনেক কম। বিটুমিন উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে অন্যায্যভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বিদ্যমান। অথচ পরিশোধিত বিটুমিন আমদানিতে ভ্যাট নেই। আমদানির বিটুমিন সরবরাহ পর্যায়ে যেখানে ভ্যাট মাত্র ৫ শতাংশ, সেখানে দেশীয় উৎপাদকের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাটের খড়গ রয়েছে। বিটুমিন উৎপাদনে প্রতি টনের কাঁচামাল আমদানিতে খরচ ৫৭০ মার্কিন ডলার হলেও, আমদানিতে তা ২৬০ ডলার। এই বৈষম্যমূলক কর কাঠামো বাতিল করে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন বাণিজ্য বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য ও রাজস্বনীতি বিশ্লেষক মনজুর আহমেদ বলেন, দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় মৌলিক কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর কমাতে হবে। বিটুমিন উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল পেট্রোলিয়াম অয়েলস অ্যান্ড অয়েলস অবটেইন্ড মিনারেলস, ক্রুড আমদানিতে শুল্ককর বা সিডি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা উচিত। আর ১৫ শতাংশ ভ্যাট যেহেতু আমদানিতে নেই, তাই উৎপাদনেও রাখা যাবে না। 

এর সঙ্গে আগাম কর বা এটি ৩ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ২ শতাংশ বাতিল করতে হবে। কারণ, এই ধরনের কর কাঠামোর মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিওর নিয়মনীতি ভঙ্গ করা হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রীতিনীতি বিরুদ্ধ পদক্ষেপ।

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন-এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, অগ্রিম আয়কর বা এআইটি দিয়ে ব্যবসার পরিচালন খরচ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অগ্রিম ট্রেড ভ্যাট বা এটিভি আগে ছিল বাণিজ্যিক আমদানিতে। এখন কাঁচামাল আমদানিতে আগাম কর বা এটি আরোপ করা হয়েছে, এটা প্রত্যাহার করা উচিত।

তার মতে, যেখানে তৈরি পণ্য আমদানিতে ভ্যাট নেই, সেখানে উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ অযৌক্তিক ও অন্যায়। দেশীয় বিটুমিন সরবরাহ পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাটও অপ্রত্যাশিত।

তথ্যমতে, দেশে এখন বিপুল দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রথম শর্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। সড়ক ব্যবস্থা প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। টেকসই সড়ক নির্মাণের মূল উপাদান হলো- ভালো মানের বিটুমিন। দেশে বিটুমিনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন। যা অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছরই বাড়ছে।

জানা যায়, বিটুমিনের ব্যবহার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সড়ক নির্মাণ, বিমানবন্দরের রানওয়ে নির্মাণসহ ফুটপাথ তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। এ ছাড়াও নহর তৈরিতে বা ট্যাংকের ভিতর প্রলেপ হিসাবে, নদী বা সমুদ্রের কিনারে তটরক্ষক হিসেবে ও নৌকার তলদেশে প্রলেপরূপে বিটুমিনের ব্যবহার হয়। ভারী শিল্পেও এর ব্যবহার হয়। এটি বিদ্যুৎরোধকের কাজেও যুক্ত করা হয়। ইন্সুলেটিং টেপ, পানিরোধী কাপড় ইত্যাদি কাজেও বিটুমিন ব্যবহার হয়। বার্নিশ, অয়েল পেইন্ট, রাবার এনামেলের বিকল্প ও কোল্ড স্টোরেজ, ইলেকট্রোনিক ব্যাটারি, রেফ্রিজারেটর ইত্যাদি তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়।  

জানা যায়, বিটুমিন উৎপাদনে প্রধান কাঁচামাল পেট্রোলিয়াম অয়েলস অ্যান্ড অয়েলস অবটেইন্ড মিনারেলস, ক্রুড। যার এইচ এস কোড : ২৭০৯.০০.০০। এই কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর বা সিডি ৫ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, আগাম কর বা এটি ৩ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ২ শতাংশ। এই কর কাঠামো পর্যালোচনায় দেখা যায়- ৫ শতাংশ সিডিসহ মোট আমদানি শুল্ক দাঁড়ায় ২৬ শতাংশ। এ ছাড়া প্রতি ব্যারেলের ট্যারিফ মূল্য ৪০ মার্কিন ডলার নির্ধারিত আছে।

অন্যদিকে দেশে এইচ এস কোড ২৭১৩.২০.১০ এবং ২৭১৩.২০.৯০ এর মাধ্যমে ফিনিশড বা তৈরি বিটুমিন আমদানি হয়ে থাকে। ড্রামে বিটুমিন আমদানিতে প্রতি টনের শুল্ককর নির্ধারিত আছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। এর সঙ্গে অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ২ শতাংশ এবং আগাম কর বা এটি ৫ শতাংশ। অপরদিকে অন্যান্য বিটুমিন নামে যদি কেউ বাল্ক আকারে আমদানি করে, সে ক্ষেত্রে প্রতি টনে ৩ হাজার ৫০০ টাকা আমদানি শুল্ক নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে এআইটি ২ শতাংশ এবং এটি ৩ শতাংশ প্রযোজ্য হয়।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, বিটুমিন আমদানির চেয়ে উৎপাদনে বাড়তি কর আরোপ, দেশীয় শিল্পের স্বার্থবিরোধী। সরকারের শিল্প সুরক্ষা নীতিরও পরিপন্থী। দেশীয় শিল্পের সঙ্গে এই বৈষম্যমূলক কর কাঠামো যথাযথ কর্তৃপক্ষের সংশোধন করা উচিত। কারণ, শিল্পের সংরক্ষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের।  এদিকে ফিনিশড বা তৈরি বিটুমিন আমদানিতে মূল্য ঘোষণায় কারসাজির তথ্য পাওয়া গেছে।

কাস্টমস সূত্র বলছে, অসাধু আমদানিকারকরা আন্ডার ইনভয়েসিং বা দাম কম দেখিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বিটুমিন ভর্তি ড্রাম খালাস করেন। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে শুল্কফাঁকি। বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। রাস্তা নির্মাণে ব্যবহৃত বিটুমিন আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা থামছে না। ভেজাল বিটুমিন আসছেই, নীরব কাস্টমস। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আনা হচ্ছে বিটুমিন, রাজস্ব ফাঁকি ধরাছোঁয়ার বাইরে। কার্যত বিটুমিন আমদানির পুরো প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ। বিএসটিআই, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও বুয়েটের অনুমোদন ছাড়াই বিটুমিন আসছে দেশে। চট্টগ্রাম বন্দরের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেগুলো ছাড়পত্রও পেয়ে যাচ্ছে।  

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-সিসিসিআই সভাপতি ও বিটুমিন আমদানিকারক মাহবুবুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারদর দেখে কাস্টমসকে বিটুমিনের শুল্কায়ন করতে হবে। আন্ডার ইনভয়েসিং বন্ধে কাস্টমসের নজরদারি রাখতে হবে। দেশে যেহেতু উন্নত মানের বিটুমিন উৎপাদন হচ্ছে, তাই আমদানি নিরুৎসাহিত করতে হবে।

জানা যায়, এতদিন স্থানীয়ভাবে বিটুমিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান না থাকায় বিটুমিনাস ক্রুডের চেয়ে পরিশোধিত বিটুমিনের আমদানি শুল্ক কম রাখা হতো কেবলমাত্র স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে। কিন্তু বর্তমানে গুণগতমান সম্পন্ন বিটুমিন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা বিবেচনায় আমদানি শুল্ক কাঠামো স্থানীয় শিল্পবান্ধব করে পুনরায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে দেশীয় শিল্পকে রক্ষার্থে এ ধরনের নীতি আমাদেরও অনুসরণ করা উচিত। এদিকে আমদানি হওয়া ফিনিশড বিটুমিন এবং দেশীয় উৎপাদিত বিটুমিনের স্থানীয় সরবরাহ পর্যায়ের বৈষম্যমূলক চিত্রের দেখা মিলেছে।

ড্রাম ও অন্যান্য বিটুমিন আমদানিতে কোনো অগ্রিম ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর-মূসক পরিশোধ করতে হয় না। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট পণ্যসমূহ ‘মূল্য সংযোজন কর’ অব্যাহতি প্রাপ্ত। মূল্য সংযোজন কর ও স¤পূরক শুল্ক আইন-২০১২-এর তৃতীয় তফসিল টেবিল-১ অনুযায়ী, বাল্ক বিটুমিন আমদানিতে স্থানীয়ভাবে সরবরাহের ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ। পক্ষান্তরে স্থানীয়ভাবে বিটুমিন উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে ১৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট প্রযোজ্য, যা সরবরাহ পর্যায়ে সমন্বয়যোগ্য। অর্থাৎ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিটুমিনে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপিত। ফলশ্রুতিতে আমদানি হওয়া বিটুমিনের তুলনায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিটুমিনের উৎপাদন খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেশি হবে এবং বাজারে অসম প্রতিযোগিতার কারণে দেশীয় বিটুমিন উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারবে না।

জানা যায়, দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উৎপাদিত বিটুমিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ন্যূনতম শুল্ক ও ভ্যাট বিদ্যমান থাকায় কিছু সংখ্যক আমদানিকারক স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করছে। ফলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের উৎপাদিত পণ্যের বিপণন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পেরে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এতে আমদানি খাতে দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপচয়ের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর খাতে রাজস্ব আয় বিঘ্নিত হচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘ মেয়াদে চলতে থাকলে দেশীয় বিটুমিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকসই উন্নয়ন ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে প্রথম বিটুমিন অ্যাসফল্ট প্লান্ট স্থাপিত হয়েছে। যা দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানিতে সক্ষম। ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশীয় সিমেন্ট শিল্পের গুরুত্ব অনুধাবন করে বাল্ক সিমেন্ট আমদানির ওপর ৩০০ শতাংশ ডিউটি আরোপ করে সিমেন্ট শিল্পকে রক্ষা করেছেন। ঠিক তেমনিভাবে নিম্নমানের বিটুমিন আমদানির ওপর উচ্চহারে আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য কর আরোপ করা হলে দেশীয় প্রিমিয়াম মানের বিটুমিন শিল্প বিকশিত করার পথ প্রশস্ত হবে।

আরও পড়ুন:


ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা সম্পর্কে যা জানালেন পরীমণি

নেইমার জাদুতে কোপায় উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলের জয়

চতুর্থ বিয়ের মধুচন্দ্রিমায় পাহাড়ে যেতে চান শ্রাবন্তী?


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

করোনায় বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা, বাড়ছে কেবল ঋণের বোঝা

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

করোনায় বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা, বাড়ছে কেবল ঋণের বোঝা

করোনা প্রভাবে নতুন করে দারিদ্রসীমার নীচে বড় সংখ্যক মানুষ। কর্ম হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। এসব মানুষের জীবন-জীবিকা চালিয়ে নেয়ার স্বার্থে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে দরিদ্র মানুষের সঠিক কোনো তথ্য ভাণ্ডার না থাকায় বেশিরভাগ মানুষই থেকে যাচ্ছে সহায়তা বলয়ের বাইরে। যা সামনের দিনগুলোয় সমস্টিক অর্থনীতিকে দিতে পারে বড় ধাক্কা।

গাছের ফাঁক গলিয়ে দিনের প্রথম কিরণ ঝিলিক দিয়েছে পূর্ব দিগন্তে। অনাদায়ি ঘুম হিসাবের খাতায় ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু ফুরসৎ নেই নিলুফার কাছে। লকডাউনেও কাজের সন্ধানে তাই গ্রাম ছেড়ে ছুটে আসা শহরে।

ততক্ষণে সূর্যমামা সম্পূর্ণ চোখ মেলেছে। পূর্ণ দৃষ্টিতে সে জগৎ ছুঁয়েছে। কাজের সন্ধানে ছুটে আসা মানুষগুলোর অপেক্ষা পথের ধারে। লকডাউনে নেই কাজ। সংসার চলে না, হাত পাততেও দ্বিধা। অকপট স্বীকারোক্তি কষ্টে চলা মানুষগুলোর।

করোনার প্রভাবে দারিদ্র্যের হার ও মাত্রা দুটোই বেড়েছে। সংক্রমণ রোধে লকডাউন চলতে থাকায় অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বেকারত্বের হার বেড়েছে।

২০১৬ সালে দারিদ্রের হার ছিল ২৯.৯০ শতাংশ (বিবিএস)। আর ২০২০ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৫৫.৫০ শতাংশ (সানেম)। করোনার প্রভাবে এমন পার্থক্য বলছেন, অর্থনীতিবিদরা।

আরও পড়ুন:


কক্সবাজারের উখিয়ায় পাহাড় ধসে ৫ রোহিঙ্গা নিহত

৫ অতিরিক্ত সচিবকে বদলি 

ভারত সফর বাতিল করলেন আফগান সেনাপ্রধান

একজন আইনজীবির মৃত্যু ও আমাদের জন্য বার্তা


সরকার নানা উদ্যোগ নিয়ে পাশে থাকলেও দারিদ্র্যের সঠিক তথ্য ভাণ্ডার না থাকায় বরাদ্দ নিয়েও বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে পাশে থাকা যায়, এনিয়ে সরকারকে পরিকল্পনা নেয়ার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।

টিকার নিবন্ধনের মতো, কারা এসময়ে দরিদ্র হয়েছেন, তার একটি ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ সরকার নিতে পারে-মত অর্থনীতিবিদদের।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

রপ্তানি হচ্ছে গরু-মহিষের নাড়ি-ভুঁড়ি

নয়ন বড়ুয়া জয়, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই চীন, হংকং, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে রপ্তানি হচ্ছে ওমাসম বা গরু-মহিষের নাড়ি ভুঁড়ি। চট্টগ্রামের একদল তরুণ উদ্যোক্তা ওমাসম বিক্রি করেই এখন আয় করছে কোটি কোটি টাকা। কারণ এক টন ওমাসম বিশ্ববাজারে বিক্রি হয় আট হাজার ডলারে। 

একই সাথে গরুর পিজল যাচ্ছে আমেরিকাসহ চীনে ,যা ককুরের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছে তারা। প্রতি টন পিজল বিক্রি হয় আট থেকে সাড়ে আট হাজার ডলারে। আর গরুর হাড় ও শিং দিয়েই তৈরি হচ্ছে বোতামসহ বিভিন্ন ধরণের শোপিস। 

গরুর তৃতীয় পাকস্থলীর স্থানীয় নাম সাতপাল্লা। যা চীনসহ বিশ্ববাজারে ওমাসম নামে পরিচিত।গরু জবাইয়ের পর এক সময় নদী খালে ফেলে দেওয়া হতো এসব উচ্ছিষ্ট। যা পরিবেশও দূষণ করতো। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব পণ্যের কদর রয়েছে জেনে এখন নিয়মিত রপ্তানি করছেন চট্টগ্রামের তরুণ উদ্যোক্তারা।

আরও পড়ুন:


করোনায় জাবি অধ্যাপকের মৃত্যু

মর্মান্তিক মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে ছবি তোলেন তিনি

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ স্থগিত


এক টন ওমাসম রপ্তানিতে আয় হয় আট হাজার ডলার। গরুর পেনিস বা পিজলের চাহিদাও বেড়েছে আমেরিকা ,চীনসহ আরো কয়েকটি দেশে। প্রক্রিয়াজাত  প্রতি টন পেনিস বিশ্ববাজারে বিক্রি হচ্ছে আট থেকে সাড়ে আট হাজার ডলারে।

এদিকে, গরুর হাড় শিং দিয়েই দেশে তৈরি হচ্ছে বোতামসহ নানান ধরণের শোপিস। এসব পণ্য রপ্তানি হওয়ার পাশাপাশি হাড় শিংও যাচ্ছে বিদেশে। করোনা সংকটেও গেল অর্থবছরে ৩২০ কোটি টাকার ওমাসম রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

অনুমতি ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডিদের বিদেশ যাওয়া মানা

অনলাইন ডেস্ক

অনুমতি ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডিদের বিদেশ যাওয়া মানা

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা (এমডি) এখন থেকে  বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিদেশে যেতে পারবেন না।সোমবার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। এর ফলে এখন থেকে তাদের বিদেশে যেতে হলে আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। অনুমতি পেলেই কেবল তারা বিদেশে যেতে পারবেন।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে শুধু অনুমতি নয়, কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন, সঙ্গী কে- এসব তথ্যও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে। 

দেশে কার্যরত সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাফতরিক কাজে বা ব্যক্তিগত ছুটিতে দীর্ঘদিনের জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করলে প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের সার্বিক গতিশীলতা হ্রাস পায়। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনাগত ঝুঁকিসহ আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। যা কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়।

এ পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশের বাইরে অবস্থান যতদূর সম্ভব পরিহার করতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর যদি বিদেশ ভ্রমণ আবশ্যকীয় হয় তাহলে দেশের বাইরে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। আর অনুমোদন গ্রহণের ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের সঙ্গে ভ্রমণের ১৫ কর্মদিবস পূর্বে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের কপিসহ তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে দিতে হবে।

এছাড়া প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিদেশ ভ্রমণকালে তার অনুপস্থিতিতে যে দায়িত্ব পালন করবে ওই কর্মকর্তার নাম, পদবি, দাফতরিক ফোন, সেল ফোন নম্বর ও ই-মেইল এড্রেস প্রধান নির্বাহীর কর্মস্থল ত্যাগের আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সচিবালয় এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগকে জানাতে হবে।


করোনায় জাবি অধ্যাপকের মৃত্যু

মর্মান্তিক মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে ছবি তোলেন তিনি

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ স্থগিত


 

আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এর ১৮ (ছ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে-বলে সার্কুলারে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আজ থেকে ফের টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু

অনলাইন ডেস্ক

আজ থেকে ফের টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু

আজ থেকে আবারও শুরু হচ্ছে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম। রোববার (২৫ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা লতিফ বকসীর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর শোকাবহ আগস্টে মাসে কঠোর লকডাউন পরিস্থিতিতেও ভোক্তা সাধারণের কাছে ভর্তুকি মূল্যে কতিপয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে দেশব্যাপী বিক্রয় করবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে— সয়াবিন তেল, মশুর ডাল এবং চিনি।’

আরও পড়ুন:


ভ্যাকসিন নিয়ে উপহাস করা সেই ব্যক্তির করোনায় মৃত্যু

মাসে এক কোটি টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নামের সাথে লীগ জুড়ে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নেই: কাদের

করোনা: খুলনা বিভাগে একদিনে ৪৫ জনের মৃত্যু


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও  বলা হয়, ‘সোমবার ২৬ জুলাই থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত (সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) উল্লিখিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, মশুর ডাল প্রতি কেজি ৫৫ টাকা এবং চিনি প্রতি কেজি ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।’

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আজ থেকে ব্যাংক লেনদেনের সময় পরিবর্তন

অনলাইন ডেস্ক

আজ থেকে ব্যাংক লেনদেনের সময় পরিবর্তন

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে চলমান কঠোরতম বিধিনিষেধের মধ্যেও আজ থেকে সীমিত সময়ের জন্য খোলা থাকবে ব্যাংক। এই বিধিনিষেধের মধ্যে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বেলা দেড়টা পর্যন্ত ব্যাংক লেনদেন চালু থাকবে। ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই এক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এতে বলা হয়, সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত বিধিনিষেধ চলাকালে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই সময়ে মাস্ক পরিধানসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পরিপালন করে সীমিত সংখ্যক লোকবলের মাধ্যমে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জরুরি বিভাগসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক শাখা খোলা রাখতে পারবে ব্যাংকগুলো। শাখা খোলা রাখার ব্যাপারে বলা হয়েছে, নিজ বিবেচনায় খোলা রাখা যাবে। এই সময়ে ব্যাংকে লেনদেন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বেলা দেড়টা পর্যন্ত চলবে।

বিধিনিষেধ চলাকালে হিসাবে নগদ/ চেকের মাধ্যমে অর্থ জমা ও উত্তোলন, ডিমান্ড ড্রাফট/ পে-অর্ডার ইস্যু ও জমা গ্রহণ-এসব সেবার পাশাপাশি বৈদেশিক রেমিট্যান্সের অর্থ পরিশোধ, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির ভাতা/ অনুদান বিতরণ ইত্যাদি সেবা মিলবে।

এ ছাড়া একই ব্যাংকের খোলা রাখা বিভিন্ন শাখা ও একই শাখার বিভিন্ন হিসাবের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর, ট্রেজারি চালান গ্রহণ, অনলাইন সুবিধা–সংবলিত ব্যাংকের সব গ্রাহকের এবং এসব সুবিধা–বহির্ভূত ব্যাংকের খোলা রাখা শাখার গ্রাহকেরা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক চালু রাখা বিভিন্ন পেমেন্ট সিস্টেমস/ ক্লিয়ারিং ব্যবস্থার আওতাধীন অন্যান্য লেনদেন সুবিধা ও জরুরি বৈদেশিক লেনদেন–সংক্রান্ত সেবা পাবেন গ্রাহকেরা।


আরও পড়ুন:

এনএসও'র দাবি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহারে বিশ্বের লাখো মানুষ ঘুমাতে পারছে

চীনে গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৪

পিএসজির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ল পচেত্তিনোর

হাইতি প্রেসিডেন্টের সৎকার অনুষ্ঠান থেকে পালিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদল


এই সময়ে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখার নির্দেশনা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত নোট সরবরাহসহ সার্বক্ষণিক সেবা চালু রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ৮ দিনের জন্য শিথিল করা হয় কঠোর লকডাউন। এই শিথিলতা কাটিয়ে গত ২৩ জুলাই থেকে আবারও কঠোর লকডাউন শুরু হয়। তবে শুক্রবার ও শনিবার দুইদিন সাপ্তাহিক বন্ধের পর আজ থেকে খুলছে ব্যাংক।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর