বাংলাদেশে উদ্ভট কথার বাজার ভালো

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

বাংলাদেশে উদ্ভট কথার বাজার ভালো

আবু ত্বহা আদনান নামের একজন ধর্মীয় বক্তা নিখোঁজ হয়েছেন। কিছুদিন আগে ভদ্রলোকের একটি ওয়াজের ভিডিও, আমাকে এক পাঠক পাঠিয়েছিলেন, এবং আমার মন্তব্য জানতে চেয়েছিলেন। কৌতূহলবশত আমি তার কয়েকটি ভিডিও দেখি, এবং এগুলোর বিরোধীতা করে কয়েক লাইনের প্রতিক্রিয়া লিখি। এ নিয়ে ভদ্রলোকের ভক্তরা আমাকে আক্রমণ করেছিলেন। ভদ্রলোক স্পষ্ট ভাষায় আধুনিক অর্থনীতিকে হারাম বলেছেন, ভ্রান্ত যুক্তির ভিত্তিতে কাগজের টাকার বিরোধীতা করেছেন, কারেন্সি হিশেবে খেজুর ও স্বর্ণমুদ্রার প্রশংসা করেছেন, এবং সেক্যুলার ঘরানার মুসলিমদের কাফের ও মুশরিক ঘোষণা করেছেন। দাজ্জালের একটি কাল্পনিক রূপও তিনি আবিষ্কার করেছেন। ঢাকা শহরের উপর যেকোনো সময় আল্লাহর গজব নেমে আসতে পারে, এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।   

নো ওয়ান্ডার, এ উদ্ভট কথাগুলো আমার কাছে প্রলাপই মনে হয়েছে, কারণ যারা সবকিছুকে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন, তাদের পক্ষে কোনোকিছুকেই নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। মডার্ন কারেন্সি সিস্টেম কীভাবে কাজ করে, তা জানা থাকলে তিনি এগুলো বলতেন না। স্পেনিশরা যখন এজটেক বিজয় করে, তখন তারা দেখতে পায়, এজটেক শিশুরা স্বর্ণপিন্ডকে, সাধারণ পাথর হিশেবে খেলাধুলার সামগ্রীরূপে ব্যবহার করছে।

কাগজ বা স্বর্ণ নয়, কারেন্সি সিস্টেমের ভিত্তি হলো বিশ্বাস। কাগজের মতো স্বর্ণও মূল্যহীন, যদি না মানুষ স্বর্ণকে মূল্যবানরূপে বিশ্বাস করে। যদি মানুষ আগামীকাল থেকে বলে, স্বর্ণের উপর আমাদের আর বিশ্বাস নেই, স্বর্ণকে আমরা আর মূল্যবান মনে করি না, আমরা মূল্যবান মনে করি লোহা বা কপারকে, স্বর্ণের চেয়ে এলুমিনিয়ামের অলংকারই ভালো, তাহলে পরশু থেকেই স্বর্ণ, একটি সাধারণ ধাতুতে পরিণত হবে।

মানুষ একসময় বিশ্বাস করতো শামুকের খোল বা কাওয়ারি শেল মূল্যবান। এই কাওয়ারি শেল দীর্ঘদিন মুদ্রা হিশেবে ব্যবহৃত হয়েছিলো। কিন্তু এটি ভেঙে যেতো, এবং বস্তায় করে সারাক্ষণ বহন করা সহজ ব্যাপার ছিলো না। এজন্য একসময় উদ্ভব ঘটেছিলো ধাতব মুদ্রার। এই ধাতব মুদ্রাদের মধ্যে স্বর্ণমুদ্রা খুব জনপ্রিয় হয়েছিলো, কারণ ধাতু হিশেবে স্বর্ণ ছিলো দুর্লভ, এবং সহজে নষ্ট হতো না।

আর স্বর্ণমুদ্রা মোটেই মুসলিমদের কোনো আবিষ্কার নয়। কাগজের মুদ্রার মতো স্বর্ণমুদ্রাও বিধর্মীদের আবিষ্কার।

ভারতে তো একসময় স্বর্ণের কোনো দামই ছিলো না। পারস্যের সাথে যখন তারা ব্যবসা শুরু করলো, তখন পারসিয়ানরা, সিল্কের বিনিময় মূল্য হিশেবে স্বর্ণ চাইলো। কারণ, স্বর্ণ ভারতে মূল্যবান না হলেও মূল্যবান ছিলো পারস্যে। এর কারণ বিশ্বাস। পারসিয়ানরা শামুকের খোলের মতো স্বর্ণের উপরে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলো। আর ভারতীয়রা ভাবতো— পারসিয়ানরা এতো বোকা কেন? ফালতু স্বর্ণের বিনিময়ে এরা আমাদের মূল্যবান সিল্ক দিচ্ছে!

যাইহোক, বাংলাদেশে উদ্ভট কথার বাজার ভালো। এগুলো অনেকেই বিশ্বাস করেন, কেউ যাচাই বাছাই করে দেখার কোনো প্রয়োজন বোধ করেন না। আমি এসব বলা বা বিশ্বাস করার স্বাধীনতা নিয়ে এখানে প্রশ্ন তুলছি না, কিন্তু কিছু ব্যাপার আছে যা আমার কাছে সবসময়ই আপত্তিকর মনে হয়। যেমন, কাউকে বা কোনো গোষ্ঠীকে যদি আপনি কাফের, মুশরেক, মুরতাদ, ইহুদিদের দালাল, নাসারাদের দালাল, জঙ্গী, এসব ট্যাগ দিয়ে দেন, তখন ওই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জীবন বিপন্ন হয়ে উঠতে পারে।

আমি ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়িয়ে, কারও জীবন বিপন্ন করে তোলাকে সমর্থন করি না। আমি মানুষকে ভয় দেখানোও সমর্থন করি না। সভ্য দেশ হলে এসব নিয়ে নির্বিকার থাকা যেতো, কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় ধর্মীয় ফ্যানাটসিজমকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।

এসব ফ্যানাটিসিজমকে রুখে দেয়ার সভ্য উপায় হলো এগুলোর বিরুদ্ধে লিখা ও কথা বলা, যা খুবই বিপজ্জনক কাজ। আমি লেখালেখি করি অনেক বছর ধরে, কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহ এসব ফ্যানাটিসিজমের বিরুদ্ধে লিখেই নানা উপাধি পেয়ে গেছি। আমি শুধু মানুষকে সাবধান করেছিলাম যে, ধর্মকে যারা নিজ নিজ রাজনীতিক ও অর্থনীতিক স্বার্থে ব্যবহার করে, তাদের কথা সতর্কতার সাথে আমলে নিতে। কিন্তু এ সামান্য কথাতেই মানুষ খেপে উঠেছিলো।

এখন প্রশ্ন হলো, কথার জবাব কথা দিয়ে না দিয়ে, লেখার জবাব লেখা দিয়ে না দিয়ে, কাউকে নিখোঁজ করে ফেলাটা সঠিক কি না?

উত্তর হলো, আমার কোনো শত্রুকেও আমি গুম করা সমর্থন করি না। আদনান সাহেবকে কে বা কারা কী কারণে নিখোঁজ করেছে তা আমরা জানি না। শুধু অনুমান করতে পারি মাত্র। যদি মনে হয় আদনান সাহেব কোনো অপরাধ করেছেন, বা কারও জীবনের প্রতি হুমকি হয়ে উঠেছেন, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্থানীয় আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। এজন্য স্ট্যান্ডার্ড প্রক্রিয়া হলো, তাকে প্রকাশ্যে আইনি প্রক্রিয়া মেনে গ্রেপ্তার করা, এবং আদালতে প্রেরণ করা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন হলে, সেটিরও স্ট্যান্ডার্ড প্রসেজার আছে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে। কিন্তু একজন নাগরিককে, গোপনে নিখোঁজ করা, অত্যন্ত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।

আবার এমনও হতে পারে, তার কোনো বিরোধী পক্ষ তাকে নিখোঁজ করেছে। সবই অনুমান মাত্র। কিন্তু পুলিশকে এসব অনুমান গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে, এবং তাকে উদ্ধার করতে সামর্থ্যের সবটুকু প্রয়োগ করতে হবে।

কারও বক্তব্যের সাথে আমার দ্বিমত থাকতে পারে, কাউকে আমার কাছে উন্মাদ মনে হতে পারে, কিন্তু তার কোনো মৌলিক অধিকারের হরণ আমার পক্ষে সমর্থন করা সম্ভব নয়। কেউ আমার শত্রু হলেও, আমি তার উপর সংগঠিত কোনো অন্যায়কে উপভোগ করি না।

আর ওয়াজ-মাহফিলের যারা ভক্ত, তাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে বলে মনে করি। অপ্রয়োজনীয় ধর্মীয় বয়ান, যা ঘৃণা-বিদ্বেষ ও মারদাঙ্গাকে উৎসাহিত করে, যা স্রেফ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নানা রাজনীতিক ও অর্থনীতিক মতবাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার প্রচার করে, তা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।


আরও পড়ুন:


তিন সঙ্গীসহ তিনদিন নিখোঁজ ধর্মীয় বক্তা আদনান

মধ্যগগণে ক্রু-যাত্রীদের ধ্বস্তাধস্তি, বিমানের জরুরি অবতরণ

চতুর্থ বিয়ের মধুচন্দ্রিমায় পাহাড়ে যেতে চান শ্রাবন্তী?

দায়িত্ব গ্রহণ করেই যে প্রতিশ্রুতি দিলেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী


মনে রাখতে হবে, পৃথিবীটা শুধু মুসলিমদের জন্য নয়। সব ধর্মের, সব মতের মানুষ যেন শান্তিপূর্ণভাবে বাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যেতে হবে। নিজের মত, নিজের বিশ্বাস, কারও উপর চাপিয়ে দেয়া কোনো ভালো কাজ নয়। কারও কোনো কথা আমলে নেয়ার আগে, আবেগের পরিবর্তে যুক্তির মানদন্ডটিকে একটু ব্যবহার করতে হবে।

আবু ত্বহার পরিবার যে দুর্ভোগ ও দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছে, তার দ্রুত অবসান হোক।

(এই লেখাটি ফেইসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের। স্যোশাল মিডিয়া পাতায় প্রকাশিত লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

একচুয়াল পারফেকশন বলে আসলে কিছু নেই

এমি জান্নাত

একচুয়াল পারফেকশন বলে আসলে কিছু নেই

পারফেক্ট বলে আসলে কিছু হয় না। কারণ ভালোর চেয়ে ভালো, তার চেয়েও ভালো হয়। এর কোনো সীমারেখা নেই। আবার একই জিনিস একজনের কাছে পারফেক্ট আরেকজনের কাছে মূল্যহীনও হতে পারে। তাই "একচুয়াল পারফেকশন" বলে আসলে কিছু নেই। কারণ এটা সার্বজনীন না। কোনো কিছুই একবারে মনের মতো হয়ে আসেনা। করে নিয়ে পারফেক্ট ভাবতে জানতে হয়। নাহলে জীবনে হাসি আসলেও খুশিটা আসেনা। 

আরেকটা বিষয় হলো একই জিনিস কে কীভাবে দেখছে। গ্লাসে রাখা অর্ধেক পানির সাধারণ উদাহরণটাই যদি টানি। মানে হাফ পূর্ণ আর হাফ খালি। ইতিবাচকভাবে দেখলে আপনার চোখে পূর্ণতাটা পড়বে আর নেতিবাচকভাবে দেখলে আপনি দেখবেন শূন্যতাটুকু।

এই ব্যাপারটার সাথে চাহিদা শব্দটা কিছুটা জড়িত। যেমন যিনি পূর্ণতা দেখছেন তার চাহিদা কম। অল্পতে তুষ্ট থাকা মানুষ। আর শূন্যতা যার চোখে, তার চাহিদাটা বোধহয় একটু বেশি৷ তাই আরও কিছু যোগ করে খালি জায়গাটা পূর্ণ করে পেতে চান। তবে এই ব্যাপারটাও অনেকটা নির্ভর করে জীবনের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির উপর। একজন দিনমজুর তার জীবনযাপনের জন্য একদিনের জন্য যা প্রয়োজন সেটা পেয়ে গেলে তার চাহিদা বেড়ে সর্বোচ্চ এটা হতে পারে যে তিনি দুই তিন বা ১৫ দিনেরটা একবারে যদি জোগাড় করতে পারতেন! কিন্তু তার চাহিদা কখনো এটা হবে না যে সে প্রাসাদে বাস করবে। আর যিনি নিজের প্রাসাদে বাস করেন তার মনে আরও কয়েকটা প্রাসাদের মালিক হওয়ার চাহিদা আসতেই পারে। 

চাহিদা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পূরণ করা সম্ভব। কিন্তু এর সাথে মানুষ স্বপ্নও যে দেখে! কিন্তু কিছু স্বপ্ন অজান্তেই একটু বেশি হয়ে যায় অথবা জীবনের সাথে মেলবন্ধন ঘটেনা বলে সবারটা ধরা দেয়না!

বছরে একটা নতুন লালজামা পথশিশুর মুখে যে হাসি এনে দেয়, প্রাসাদের ছেলেমেয়েদের একটা  আইফোন পাওয়া তার কাছে অতি তুচ্ছ! তাই শুধু জীবন আর যাপনের পার্থক্যের সাথে সাথে পারফেকশন, চাহিদা আর স্বপ্ন এই শব্দগুলো পরিবর্তন হয়। জীবনে ভালো থাকতে খুব বেশি কিছু লাগেনা। শুধু যে যতটুকু ডিজার্ভ করে ততটুকু পেলে চাহিদা বা প্রত্যাশার ইতি টানা বোধহয় ভালো। কিন্তু নিজের প্রাপ্যটা অর্জন করা পর্যন্ত ছুটে চলা উচিৎ এবং সেই প্রাপ্তিটাকেই নিজের জন্য পারফেক্ট ভাবলেই সব গন্ডগোল সমাধান। এরপর জীবন যা দিবে সেটা বোনাসের আনন্দ এনে দিবে এটা হলফ করে বলা যায়। আবার বোনাসের পারফেকশন খুঁজতে গেলে কিন্তু বিপদ! কারণ ওই যে, এর সীমারেখা নেই। তাই নিজের মতো করে সীমারেখা টেনে নিতে হয়। 

লেখাটি এমি জান্নাত-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

এমি জান্নাত, সংবাদকর্মী

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

প্রিন্সিপাল আর অভিভাবক ফোরামের জন্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হতে পারেনা

পীর হাবিবুর রহমান

প্রিন্সিপাল আর অভিভাবক ফোরামের জন্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হতে পারেনা

ব্যক্তিগত স্বার্থে যারা অন্যের করুনালাভে বিলম্ব করেনা,যারা নোংরা অশালীন ভাষায় একান্ত জীবনে অভ্যস্ত, তারাই প্রিন্সিপালের এমন কদর্য ভাষার পক্ষে সাফাই গায়।এমন নির্লজ্জ বেহায়ারা এই নষ্ট সমাজে পোষাকে মেকাপে মুখোশের আড়ালে হাঁটে।

একবারও বলেনা প্রিন্সিপালের সাথে কেউ বেয়াদবি,বেআইনি কাজ করলে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন।উর্ধ্বতনরা তার পক্ষেই ছিলেন।অভিভাবক ফোরাম অনৈতিক ভর্তি বানিজ্যের চাপ দিলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্হা গ্রহনের পথ আছে।মন্ত্রনালয়ের কাছে অভিভাবক ফোরাম ঠিকতেই পারেনা।প্রয়োজনে অভিভাবক ফোরামের নিবন্ধন বাতিল হোক।

আরও পড়ুনঃ


দ. কোরিয়ার কোন গালিও দেয়া চলবে না উত্তর কোরিয়ায়

তালেবানের হাত থেকে ২৪ জেলা পুনরুদ্ধারের দাবি

কাছাকাছি আসা ঠেকাতে টোকিও অলিম্পিকে বিশেষ ব্যবস্থা


 

ভর্তি বানিজ্যের অভিশাপ মুক্ত হোক দেশ সেরা মেধাবি ছাত্রীদের ভিকারুননিসা স্কুল এন্ড কলেজ।আর যে প্রিন্সিপালের মুখের ভাষা এতো কান গরম করা অরুচিকর তাকে এমন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে রাখা যায়না।শিক্ষামন্ত্রীকেই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।প্রিন্সিপাল আর অভিভাবক ফোরামের জন্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হতে পারেনা।এটা দেশের সম্পদ।

লেখাটি পীর হাবিবুর রহমান-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

পীর হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক 

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি!

কাজী শরীফ

অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি!

আজ সকাল এগারোটায় সানিয়া আক্তার নামে আমার একজন সহকর্মী বোন (জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট)  করোনাক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

তিনি আমার আগের ব্যাচে চাকুরি পেলেও বয়সে আমার অনুজই হবেন৷ এ অল্পবয়সে আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছেন।
আল্লাহ তার পরিবারকে শোক সইবার সামর্থ্য দিক।

সানিয়া আপা ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানলাম৷ গত বছর আমার আরেক সহকর্মী নুসরাত জাহানের বোন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় করোনাক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। 

আমি দেখলাম অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি৷ আগামী মাসের পাঁচ তারিখ বিধিনিষেধ উঠে গেলে প্রত্যেক পেশার অনেক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকেই কাজে যেতে হবে। এতে তারা করোনার ঝুঁকিতে পড়ে যাবেন। 

সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কী পারে না এ ঝুঁকি থেকে তাদের কিছুটা রক্ষা করতে! একটা সার্কুলার জারি করতে পারে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা কর্মস্হলে আসতে হবে না। আমরা যারা পুরুষ সহকর্মী আছি ও অন্য নারী সহকর্মীরা এ কিছুদিন একটু বাড়তি কাজ করে অফিসের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পারি।

সুপ্রিম কোর্টের ১৯শে জুলাই, ২০২০ সালের সার্কুলারে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কর্মস্হলে আসতে বারণ করা হয়েছে। সরকারি অন্যান্য অফিসেও যেন এমন আদেশ দেয়া হয় আর যে সকল প্রতিষ্ঠান এমন আদেশ দিয়েছেন সেখানে যেন এর প্রতিপালন করা হয়।

একইভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এমন সিদ্ধান্ত নেয়া আবশ্যক। দ্রুত এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সঙ্গত বলে আমি মনে করি। দুটো মানুষের জীবন ও তাদের ঘিরে থাকা এত এত মানুষের দিকে তাকিয়ে কি এমন একটা সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না? 

লেখাটি কাজী শরীফ (সহকারী জজ ,নোয়াখালী)-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 

আরও পড়ুন:


করোনায় ঝালকাঠির আদালতের বিচারকের মৃত্যু!

আগস্ট মাসের দুই দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক

বিভিন্ন জেলায় করোনায় প্রায় দেড় শতাধিক মৃত্যুর

সিলেট বিভাগে করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যু নতুন রেকর্ড


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

ম্যাজিস্ট্রট সানিয়ার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মৃত্যু, সবই আল্লাহর ইচ্ছা

নজরুল ইসলাম

ম্যাজিস্ট্রট সানিয়ার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মৃত্যু, সবই আল্লাহর ইচ্ছা

কিছু বলার নাই, সবই আল্লাহর ইচ্ছা।

সহকর্মী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট সানিয়া আক্তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন।

তার পূণ্য স্মৃতির উদ্দেশ্যে------------

মা, আমি তো এখন তোমার পেটের ভিতরে অনেক বড় হয়ে উঠেছি। তুমি আর বাবা যে আমার "আসা" নিয়ে বলতে থাক তা আমি তোমার পেটে কান লাগিয়ে শুনে থাকি। এত আনন্দ নিয়ে কথাগুলো বলো যে আমি এখনই চলে আসতে চাই। কিন্তু তোমরা বলো যে আরো একটু  সময় নাকি লাগবে। কিন্তু এই দেখ, আমার হাত- পা চোখ- মুখ সব কেমন বড় আর শক্ত হয়ে উঠেছে। আমি তাড়াতাড়ি আসতে চাই মা! তোমাকে আর বাবাকে দেখার আর ত্বর সইছে না। 

সেদিন তো বাবা বাজার দেখে পিংক কালারের ছোট বালিশ, ন্যাপকিন এগুলো নিয়ে তোমার হাতে দিয়েছে। তুমি কি সুন্দর হেসে বললে এত তাড়াতাড়ি কেন? মা, তুমি না! বাবা ঠিকই করেছে। আমি তোমাদের মাঝে তাড়াতাড়িই আসব। নান কে দেখ আমার জন্য কি সুন্দর কাঁথা বানিয়ে রেখেছে। ওখানে যে  রঙিন ফুল আর প্রজাপতি আছে সেগুলো  নিয়ে খেলব । তখন তোমরা আমাকে আচ্ছামত দেখে নিও।  লাল ফড়িং এর লেজ ধরে তোমার হাতে দিব মা। তুমি শুধু হাসতেই থাকবে....

মা, আজ আমি তোমার  কথা তেমন শুনতে পাচ্ছি  না। তোমার কি মন খারাপ? তোমার কি কষ্ট হচ্ছে?   তুমি আর বাবা কি করছ তাও বুঝতে পারছি না! এতদিন কত কি বলতে! আজ চুপ হয়ে আছ কেন?

কি হয়েছে তোমার? আমারও বা এমন লাগছে কেন মা? আমি কোন সাড়াশব্দও পাচ্ছি না। মা তুমি কি আমার সাথে মিথ্যা বলেছিলে। তুমি দেখি আমাকে না নিয়ে কোথায় জানি চলে যাচ্ছ! 

মা! মা! আমাকে ফেলে যেওনা তুমি। আমার এত কষ্ট লাগছে কেন?  বাবা কোথায়? 

ও! বুঝেছি মা!  তুমি আমাকে ফেলে চলে যাচ্ছ। তুমি তো জান আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না তাই একটু দাঁড়াও ; আমিও আসছি তোমার সাথে।

বাবা তুমি ভাল থাকিও। আমরা এখন আর আসব না। আমাদের জন্য দোয়া করিও। তুমি আসলে তখন তোমার সাথে আমাদের দেখা হবে একটা অনিন্দ্য সুন্দর জায়গায় যেখানে ফুল আছে, প্রজাপতি আছে আরও আছ টকটকে লাল ফড়িং। 

লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া হয়েছে। (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

আরও পড়ুন:


করোনায় ঝালকাঠির আদালতের বিচারকের মৃত্যু!

আগস্ট মাসের দুই দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক

বিভিন্ন জেলায় করোনায় প্রায় দেড় শতাধিক মৃত্যুর

সিলেট বিভাগে করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যু নতুন রেকর্ড


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

সানিয়া যে একা ছিলেন এমন না, ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা

মিল্লাত হোসেন

সানিয়া যে একা ছিলেন এমন না, ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা

এই ফুটফুটে বিচারক দম্পতিটি আর কখনোই এভাবে ছবি তুলতে পোজ দেবেন না। ঝালকাঠির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সানিয়া আক্তার কালব্যাধি করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন আজ সকালে। সানিয়া যে একা ছিলেন এমন না; ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

তার স্বামী ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এইচ এম ইমরানুর রহমানও কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ম্যাজিস্ট্রেসি একটি ২৪ ঘণ্টার কাজ। এই লকডাউনে যখন অন্যান্য সরকারি অফিসের সাথে সাথে আদালতগুলোও বন্ধ তখনও সমগ্র বাংলাদেশের সকল ম্যাজিস্ট্রেটগণকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় দায়িত্বপালন করতে হয়। তারাসহ এই বিশ্বমারীকালে দায়িত্বরত সকল সরকারি, বেসরকারি ব্যক্তিবর্গ, তাদের পরিবারের সুস্থতা কামনা করছি।

এই বিশ্বমারী কীভাবে দূর হবে বা আর কতো দিন থাকবে - তা এখনো কেউ বলতে পারে না। টিকা আর সর্বজনের সতর্কতাই এখন শেষ ভরসা।

আরও পড়ুন


এবার কঙ্গনাকে কড়া বার্তা দিলেন আদালত

করোনায় ইন্দোনেশিয়ায় রেকর্ড মৃত্যু, শনাক্ত ৪৫ হাজারের বেশি

দাঁড়িয়েছিলেন করোনা পরীক্ষার জন্য, সেখানেই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

বরিশালে টিসিবি পণ্য কিনতে দীর্ঘ লাইন, ক্রেতাদের অভিযোগ


সানিয়া-ইমরান দম্পতির পরিবারের কাছে এই ক্ষতি অপূরণীয়। এর কোনো সান্ত্বনাই হতে পারে না। অনুজপ্রতিম ইমরানের দ্রুত আরোগ্য ও তাদের পরিবার যেনো প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর রাহসিকতা থেকে উদ্ভূত শোক কাটিয়ে উঠতে পারে, এই কামনাই থাকলো।

আর সেই মানবশিশুটি যে, মাতৃজঠর থেকে বেরিয়ে পৃথিবীর আলো দেখারই সুযোগ পেলো না, অনাগত দেবদূতটির জন্য কোনো শোকগাথাই যথেষ্ট নয়। তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া আর কীইবা চাওয়ার আছে?

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর