ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার মানুষ মানেই কিন্তু রাগী না

কাজী শরীফ

ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার মানুষ মানেই কিন্তু রাগী না

ঘটনাটা আজ থেকে তেরো বছর আগের ৷ ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে আমাদের সম্মান প্রথম বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম বর্ষে থাকার সময় আমি ন্যূনতম পড়াশোনাও করিনি। তাই পরীক্ষার হলে যেতাম আধাখ্যাঁচড়া একটা প্রস্তুতি নিয়ে। দ্বিতীয় বর্ষ থেকে আমি কিছুটা পড়াশোনা করতে শুরু করি। আমার ফলাফলে পড়া প্রভাব থেকেই এ দাবির সত্যতা মেলে।

মূল প্রসঙ্গে ফিরি। পরীক্ষার হলে বসে আছি। রোমান ল’ পরীক্ষা। আমার কাছে এ বিষয়টা খুবই কঠিন লাগত ৷ পড়াশোনা না করলে কঠিন লাগাটাই স্বাভাবিক৷ আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে প্রশ্ন হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলাম। তেরোটা থেকে দশটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। পূর্ণমান ৫০। বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা প্রশ্ন পড়তে পড়তেই আমি ঘামতে শুরু করি। তেরোটার মধ্যে পারি কেবল একটা প্রশ্ন! সুতরাং ফেল কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না নিশ্চিত হয়ে পারা একটাও না লিখে বসে ছিলাম। মিনিট দশেক পর আমার সামনের বেঞ্চে বসা বন্ধু রানাকে বললাম, "আমি যাইরে। কিচ্ছু পারি না। শুধু শুধু বসে থেকে লাভ কী!"

আমার বন্ধু রানা আমার দিকে মাথা ঘুরিয়ে বলে কী কস তুই?

আমি বললাম, কিচ্ছু পারি না। তুই পরীক্ষা দে। আমি যাই।

এ কথা বলে দাঁড়াতেই একটা হাত আমাকে শক্ত করে ধরে ফেলল। আর বলল, আরে বয় তো। আমি যা পারি তাই লেখ। দেখি না কী হয়!

হাত ধরেছিল রানাই। ওর পুরো নাম কাজী নজরুল ইসলাম। আমার নাম কাজী শরীফুল ইসলাম।

সেদিন পরীক্ষার হলে পরিদর্শক ছিলেন ফারজানা ম্যাম। আমাদের ইংরেজি পড়াতেন তিনি। রানা একপাশ হয়ে লেখা শুরু করল। আমি ওর ঠিক পেছনে বসে মাথা নিচু করে ও যা লিখছে তাই লিখে যাচ্ছি!

এভাবে ছয়টা প্রশ্নের উত্তর লেখা শেষ। লাস্টের এক বেঞ্চ আগে বসায় ফারজানা ম্যামের দৃষ্টি এড়িয়ে পাস নাম্বার তুলে ফেলেছি ততক্ষণে!

ম্যাম আচমকাই বললেন, "শরীফ তুমি কি সামনের জন থেকে দেখছ?"

আমি বললাম, জি ম্যাডাম। মাত্র দেখা শুরু করব তখনই আপনি দেখে ফেললেন!

ম্যাম আমাকে ডাক দিলেন। তার বসার টেবিলে আলাদা চেয়ার দিয়ে বসিয়ে দিলেন। মজার ব্যাপার হলো রানা যে ছয়টা প্রশ্নের উত্তর দেখিয়েছে সেগুলোর মধ্যে আমি যে প্রশ্নটার উত্তর পারতাম ওটা ছিল না!

ম্যামের পাশে বসে পারা প্রশ্নটার উত্তর লিখে পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে আসার সময় ফেল করব না নিশ্চিত হয়ে যাই!

সেদিন রানা যদি আমার হাতটা না ধরত, আমাকে না বসাত তাহলে আমাকে পরের বছর আবার এ বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হতো। আমার কনফিডেন্স লেভেল তলানিতে গিয়ে ঠেকত!

প্রথম বর্ষের ফল পেয়ে বুঝলাম না পড়ে এত পেলে একটু পড়লে ভালো করা সম্ভব। রানার ঐ হাত ধরাই আমাকে বদলে দেয়।

রানার সেদিনের আচরণ আমি বাকি জীবনে ভুলব না। ওদের মত মানুষকে মনে করেই ভুপেন হাজারিকা সৃষ্টি করেন -

বল কি তোমার ক্ষতি

জীবনের অথৈ নদী

পার হয় তোমাকে ধরে

দুর্বল মানুষ যদি!

আমাদের প্রত্যেকের সম্ভাবনা আছে। শুধু একটা ধাক্কা লাগে। বিপদে হাত ধরে এগিয়ে দেয়ার মানুষ লাগে। আমার জীবনে অনেকের ধাক্কা আছে। হাত ধরে এগিয়ে দিয়েছে অনেকেই। তাদের স্মরণ করি বিনম্র শ্রদ্ধায়। আমার আজকের লেখা রানার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে।


আরও পড়ুন:


তিন সঙ্গীসহ তিনদিন নিখোঁজ ধর্মীয় বক্তা আদনান

পরীমনির ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে কোথাও কারো মধ্যে ঘাপলা আছে

মধ্যগগণে ক্রু-যাত্রীদের ধ্বস্তাধস্তি, বিমানের জরুরি অবতরণ

চতুর্থ বিয়ের মধুচন্দ্রিমায় পাহাড়ে যেতে চান শ্রাবন্তী?


ও এখন ঢাকা জজকোর্টে ওকালতি করে। আমার প্রতি যে ভালোবাসা আজ থেকে তেরো বছর আগে রানা দেখিয়েছে পরম করুণাময় তার চেয়ে কোটিগুণ বেশি ভালোবাসা ওকে ফিরিয়ে দিক।

ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার মানুষ মানেই কিন্তু রাগী না। রগচটাও না। আমি এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি কারণ রানার বাড়ি যে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায়!

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

একচুয়াল পারফেকশন বলে আসলে কিছু নেই

এমি জান্নাত

একচুয়াল পারফেকশন বলে আসলে কিছু নেই

পারফেক্ট বলে আসলে কিছু হয় না। কারণ ভালোর চেয়ে ভালো, তার চেয়েও ভালো হয়। এর কোনো সীমারেখা নেই। আবার একই জিনিস একজনের কাছে পারফেক্ট আরেকজনের কাছে মূল্যহীনও হতে পারে। তাই "একচুয়াল পারফেকশন" বলে আসলে কিছু নেই। কারণ এটা সার্বজনীন না। কোনো কিছুই একবারে মনের মতো হয়ে আসেনা। করে নিয়ে পারফেক্ট ভাবতে জানতে হয়। নাহলে জীবনে হাসি আসলেও খুশিটা আসেনা। 

আরেকটা বিষয় হলো একই জিনিস কে কীভাবে দেখছে। গ্লাসে রাখা অর্ধেক পানির সাধারণ উদাহরণটাই যদি টানি। মানে হাফ পূর্ণ আর হাফ খালি। ইতিবাচকভাবে দেখলে আপনার চোখে পূর্ণতাটা পড়বে আর নেতিবাচকভাবে দেখলে আপনি দেখবেন শূন্যতাটুকু।

এই ব্যাপারটার সাথে চাহিদা শব্দটা কিছুটা জড়িত। যেমন যিনি পূর্ণতা দেখছেন তার চাহিদা কম। অল্পতে তুষ্ট থাকা মানুষ। আর শূন্যতা যার চোখে, তার চাহিদাটা বোধহয় একটু বেশি৷ তাই আরও কিছু যোগ করে খালি জায়গাটা পূর্ণ করে পেতে চান। তবে এই ব্যাপারটাও অনেকটা নির্ভর করে জীবনের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির উপর। একজন দিনমজুর তার জীবনযাপনের জন্য একদিনের জন্য যা প্রয়োজন সেটা পেয়ে গেলে তার চাহিদা বেড়ে সর্বোচ্চ এটা হতে পারে যে তিনি দুই তিন বা ১৫ দিনেরটা একবারে যদি জোগাড় করতে পারতেন! কিন্তু তার চাহিদা কখনো এটা হবে না যে সে প্রাসাদে বাস করবে। আর যিনি নিজের প্রাসাদে বাস করেন তার মনে আরও কয়েকটা প্রাসাদের মালিক হওয়ার চাহিদা আসতেই পারে। 

চাহিদা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পূরণ করা সম্ভব। কিন্তু এর সাথে মানুষ স্বপ্নও যে দেখে! কিন্তু কিছু স্বপ্ন অজান্তেই একটু বেশি হয়ে যায় অথবা জীবনের সাথে মেলবন্ধন ঘটেনা বলে সবারটা ধরা দেয়না!

বছরে একটা নতুন লালজামা পথশিশুর মুখে যে হাসি এনে দেয়, প্রাসাদের ছেলেমেয়েদের একটা  আইফোন পাওয়া তার কাছে অতি তুচ্ছ! তাই শুধু জীবন আর যাপনের পার্থক্যের সাথে সাথে পারফেকশন, চাহিদা আর স্বপ্ন এই শব্দগুলো পরিবর্তন হয়। জীবনে ভালো থাকতে খুব বেশি কিছু লাগেনা। শুধু যে যতটুকু ডিজার্ভ করে ততটুকু পেলে চাহিদা বা প্রত্যাশার ইতি টানা বোধহয় ভালো। কিন্তু নিজের প্রাপ্যটা অর্জন করা পর্যন্ত ছুটে চলা উচিৎ এবং সেই প্রাপ্তিটাকেই নিজের জন্য পারফেক্ট ভাবলেই সব গন্ডগোল সমাধান। এরপর জীবন যা দিবে সেটা বোনাসের আনন্দ এনে দিবে এটা হলফ করে বলা যায়। আবার বোনাসের পারফেকশন খুঁজতে গেলে কিন্তু বিপদ! কারণ ওই যে, এর সীমারেখা নেই। তাই নিজের মতো করে সীমারেখা টেনে নিতে হয়। 

লেখাটি এমি জান্নাত-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

এমি জান্নাত, সংবাদকর্মী

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

প্রিন্সিপাল আর অভিভাবক ফোরামের জন্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হতে পারেনা

পীর হাবিবুর রহমান

প্রিন্সিপাল আর অভিভাবক ফোরামের জন্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হতে পারেনা

ব্যক্তিগত স্বার্থে যারা অন্যের করুনালাভে বিলম্ব করেনা,যারা নোংরা অশালীন ভাষায় একান্ত জীবনে অভ্যস্ত, তারাই প্রিন্সিপালের এমন কদর্য ভাষার পক্ষে সাফাই গায়।এমন নির্লজ্জ বেহায়ারা এই নষ্ট সমাজে পোষাকে মেকাপে মুখোশের আড়ালে হাঁটে।

একবারও বলেনা প্রিন্সিপালের সাথে কেউ বেয়াদবি,বেআইনি কাজ করলে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন।উর্ধ্বতনরা তার পক্ষেই ছিলেন।অভিভাবক ফোরাম অনৈতিক ভর্তি বানিজ্যের চাপ দিলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্হা গ্রহনের পথ আছে।মন্ত্রনালয়ের কাছে অভিভাবক ফোরাম ঠিকতেই পারেনা।প্রয়োজনে অভিভাবক ফোরামের নিবন্ধন বাতিল হোক।

আরও পড়ুনঃ


দ. কোরিয়ার কোন গালিও দেয়া চলবে না উত্তর কোরিয়ায়

তালেবানের হাত থেকে ২৪ জেলা পুনরুদ্ধারের দাবি

কাছাকাছি আসা ঠেকাতে টোকিও অলিম্পিকে বিশেষ ব্যবস্থা


 

ভর্তি বানিজ্যের অভিশাপ মুক্ত হোক দেশ সেরা মেধাবি ছাত্রীদের ভিকারুননিসা স্কুল এন্ড কলেজ।আর যে প্রিন্সিপালের মুখের ভাষা এতো কান গরম করা অরুচিকর তাকে এমন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে রাখা যায়না।শিক্ষামন্ত্রীকেই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।প্রিন্সিপাল আর অভিভাবক ফোরামের জন্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হতে পারেনা।এটা দেশের সম্পদ।

লেখাটি পীর হাবিবুর রহমান-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

পীর হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক 

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি!

কাজী শরীফ

অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি!

আজ সকাল এগারোটায় সানিয়া আক্তার নামে আমার একজন সহকর্মী বোন (জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট)  করোনাক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

তিনি আমার আগের ব্যাচে চাকুরি পেলেও বয়সে আমার অনুজই হবেন৷ এ অল্পবয়সে আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছেন।
আল্লাহ তার পরিবারকে শোক সইবার সামর্থ্য দিক।

সানিয়া আপা ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানলাম৷ গত বছর আমার আরেক সহকর্মী নুসরাত জাহানের বোন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় করোনাক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। 

আমি দেখলাম অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি৷ আগামী মাসের পাঁচ তারিখ বিধিনিষেধ উঠে গেলে প্রত্যেক পেশার অনেক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকেই কাজে যেতে হবে। এতে তারা করোনার ঝুঁকিতে পড়ে যাবেন। 

সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কী পারে না এ ঝুঁকি থেকে তাদের কিছুটা রক্ষা করতে! একটা সার্কুলার জারি করতে পারে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা কর্মস্হলে আসতে হবে না। আমরা যারা পুরুষ সহকর্মী আছি ও অন্য নারী সহকর্মীরা এ কিছুদিন একটু বাড়তি কাজ করে অফিসের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পারি।

সুপ্রিম কোর্টের ১৯শে জুলাই, ২০২০ সালের সার্কুলারে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কর্মস্হলে আসতে বারণ করা হয়েছে। সরকারি অন্যান্য অফিসেও যেন এমন আদেশ দেয়া হয় আর যে সকল প্রতিষ্ঠান এমন আদেশ দিয়েছেন সেখানে যেন এর প্রতিপালন করা হয়।

একইভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এমন সিদ্ধান্ত নেয়া আবশ্যক। দ্রুত এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সঙ্গত বলে আমি মনে করি। দুটো মানুষের জীবন ও তাদের ঘিরে থাকা এত এত মানুষের দিকে তাকিয়ে কি এমন একটা সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না? 

লেখাটি কাজী শরীফ (সহকারী জজ ,নোয়াখালী)-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 

আরও পড়ুন:


করোনায় ঝালকাঠির আদালতের বিচারকের মৃত্যু!

আগস্ট মাসের দুই দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক

বিভিন্ন জেলায় করোনায় প্রায় দেড় শতাধিক মৃত্যুর

সিলেট বিভাগে করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যু নতুন রেকর্ড


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

ম্যাজিস্ট্রট সানিয়ার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মৃত্যু, সবই আল্লাহর ইচ্ছা

নজরুল ইসলাম

ম্যাজিস্ট্রট সানিয়ার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মৃত্যু, সবই আল্লাহর ইচ্ছা

কিছু বলার নাই, সবই আল্লাহর ইচ্ছা।

সহকর্মী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট সানিয়া আক্তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন।

তার পূণ্য স্মৃতির উদ্দেশ্যে------------

মা, আমি তো এখন তোমার পেটের ভিতরে অনেক বড় হয়ে উঠেছি। তুমি আর বাবা যে আমার "আসা" নিয়ে বলতে থাক তা আমি তোমার পেটে কান লাগিয়ে শুনে থাকি। এত আনন্দ নিয়ে কথাগুলো বলো যে আমি এখনই চলে আসতে চাই। কিন্তু তোমরা বলো যে আরো একটু  সময় নাকি লাগবে। কিন্তু এই দেখ, আমার হাত- পা চোখ- মুখ সব কেমন বড় আর শক্ত হয়ে উঠেছে। আমি তাড়াতাড়ি আসতে চাই মা! তোমাকে আর বাবাকে দেখার আর ত্বর সইছে না। 

সেদিন তো বাবা বাজার দেখে পিংক কালারের ছোট বালিশ, ন্যাপকিন এগুলো নিয়ে তোমার হাতে দিয়েছে। তুমি কি সুন্দর হেসে বললে এত তাড়াতাড়ি কেন? মা, তুমি না! বাবা ঠিকই করেছে। আমি তোমাদের মাঝে তাড়াতাড়িই আসব। নান কে দেখ আমার জন্য কি সুন্দর কাঁথা বানিয়ে রেখেছে। ওখানে যে  রঙিন ফুল আর প্রজাপতি আছে সেগুলো  নিয়ে খেলব । তখন তোমরা আমাকে আচ্ছামত দেখে নিও।  লাল ফড়িং এর লেজ ধরে তোমার হাতে দিব মা। তুমি শুধু হাসতেই থাকবে....

মা, আজ আমি তোমার  কথা তেমন শুনতে পাচ্ছি  না। তোমার কি মন খারাপ? তোমার কি কষ্ট হচ্ছে?   তুমি আর বাবা কি করছ তাও বুঝতে পারছি না! এতদিন কত কি বলতে! আজ চুপ হয়ে আছ কেন?

কি হয়েছে তোমার? আমারও বা এমন লাগছে কেন মা? আমি কোন সাড়াশব্দও পাচ্ছি না। মা তুমি কি আমার সাথে মিথ্যা বলেছিলে। তুমি দেখি আমাকে না নিয়ে কোথায় জানি চলে যাচ্ছ! 

মা! মা! আমাকে ফেলে যেওনা তুমি। আমার এত কষ্ট লাগছে কেন?  বাবা কোথায়? 

ও! বুঝেছি মা!  তুমি আমাকে ফেলে চলে যাচ্ছ। তুমি তো জান আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না তাই একটু দাঁড়াও ; আমিও আসছি তোমার সাথে।

বাবা তুমি ভাল থাকিও। আমরা এখন আর আসব না। আমাদের জন্য দোয়া করিও। তুমি আসলে তখন তোমার সাথে আমাদের দেখা হবে একটা অনিন্দ্য সুন্দর জায়গায় যেখানে ফুল আছে, প্রজাপতি আছে আরও আছ টকটকে লাল ফড়িং। 

লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া হয়েছে। (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

আরও পড়ুন:


করোনায় ঝালকাঠির আদালতের বিচারকের মৃত্যু!

আগস্ট মাসের দুই দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক

বিভিন্ন জেলায় করোনায় প্রায় দেড় শতাধিক মৃত্যুর

সিলেট বিভাগে করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যু নতুন রেকর্ড


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

সানিয়া যে একা ছিলেন এমন না, ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা

মিল্লাত হোসেন

সানিয়া যে একা ছিলেন এমন না, ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা

এই ফুটফুটে বিচারক দম্পতিটি আর কখনোই এভাবে ছবি তুলতে পোজ দেবেন না। ঝালকাঠির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সানিয়া আক্তার কালব্যাধি করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন আজ সকালে। সানিয়া যে একা ছিলেন এমন না; ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

তার স্বামী ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এইচ এম ইমরানুর রহমানও কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ম্যাজিস্ট্রেসি একটি ২৪ ঘণ্টার কাজ। এই লকডাউনে যখন অন্যান্য সরকারি অফিসের সাথে সাথে আদালতগুলোও বন্ধ তখনও সমগ্র বাংলাদেশের সকল ম্যাজিস্ট্রেটগণকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় দায়িত্বপালন করতে হয়। তারাসহ এই বিশ্বমারীকালে দায়িত্বরত সকল সরকারি, বেসরকারি ব্যক্তিবর্গ, তাদের পরিবারের সুস্থতা কামনা করছি।

এই বিশ্বমারী কীভাবে দূর হবে বা আর কতো দিন থাকবে - তা এখনো কেউ বলতে পারে না। টিকা আর সর্বজনের সতর্কতাই এখন শেষ ভরসা।

আরও পড়ুন


এবার কঙ্গনাকে কড়া বার্তা দিলেন আদালত

করোনায় ইন্দোনেশিয়ায় রেকর্ড মৃত্যু, শনাক্ত ৪৫ হাজারের বেশি

দাঁড়িয়েছিলেন করোনা পরীক্ষার জন্য, সেখানেই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

বরিশালে টিসিবি পণ্য কিনতে দীর্ঘ লাইন, ক্রেতাদের অভিযোগ


সানিয়া-ইমরান দম্পতির পরিবারের কাছে এই ক্ষতি অপূরণীয়। এর কোনো সান্ত্বনাই হতে পারে না। অনুজপ্রতিম ইমরানের দ্রুত আরোগ্য ও তাদের পরিবার যেনো প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর রাহসিকতা থেকে উদ্ভূত শোক কাটিয়ে উঠতে পারে, এই কামনাই থাকলো।

আর সেই মানবশিশুটি যে, মাতৃজঠর থেকে বেরিয়ে পৃথিবীর আলো দেখারই সুযোগ পেলো না, অনাগত দেবদূতটির জন্য কোনো শোকগাথাই যথেষ্ট নয়। তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া আর কীইবা চাওয়ার আছে?

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর