অন্ধকারের বিপরীতে চাই সংস্কৃতির জাগরণ

বাণী ইয়াসমিন হাসি

অন্ধকারের বিপরীতে চাই সংস্কৃতির জাগরণ

বাণী ইয়াসমিন হাসি

ছেলেবেলায় আমরা গ্রীষ্ম ও শীতের ছুটিতে মামাবাড়ি বেড়াতে যেতাম। মামাবাড়িতে তখনও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। প্রতিদিন দুপুরের খাওয়া শেষে দেখতাম শীতল পাটি বিছিয়ে বাড়ির মেয়ে-বউরা কাঁথা সেলাই করতে বসতেন। একজন গান ধরতেন, যেটাকে তারা বলতেন গীত। এই গীত কিন্তু কোনো শেখা গান না, যার যা মনে আসতো তাই দিয়ে একজনের কাছ থেকে আর একজন কথা কেড়ে নিয়ে গান বাঁধতেন। এ এক অপূর্ব দৃশ্য। এই যে সুখ স্মৃতি নিয়ে বেড়ে ওঠা এটা আমার কাছে সম্পদের মত। আর এই যে সংস্কৃতি এটা কিন্তু চলে আসছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে।

দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গ্রামের বিশাল জনগোষ্ঠী নিজস্ব জীবনপ্রণালীর মাধ্যমে শতকের পর শতক ধরে যে বহুমুখী ও বিচিত্রধর্মী সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে। দীর্ঘকাল ধরে গড়ে ওঠা এই সংস্কৃতি জাতির প্রকৃত পরিচয় বহন করে।

আমাদের হস্তশিল্পের আজ বিদেশে ভীষণ চাহিদা। কিন্তু নিজের দেশে এর চাহিদা আছে কি? আমাদের বাড়িতে ছেলেবেলায় দেখেছি পাটের দড়ি দিয়ে বানানো শিকায় মাটির ভাড়ে রসুন, শুকনো মরিচ এ সব রাখা হতো। এখন গ্রামেও কয়জনের বাড়িতে শিকা দেখতে পাওয়া যায়?

আকাশ সংস্কৃতির কারণে লোকসংস্কৃতি থেকে আজ আমরা বিচ্ছিন্ন। কিন্তু নিজের শেকড়কে না জানলে কোন জাতির উন্নয়ন সম্ভব না। আমাদের শেকড় লুকিয়ে আছে লোকগান, হস্তশিল্প ও সাহিত্যে। আর এগুলোকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ।

অবহেলায় লোকসংস্কৃতির সহজ সরল ধারা আজ শহরের সংস্কৃতির সঙ্গে সংঘর্ষে উপনীত হচ্ছে। এ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে রাষ্ট্রও। রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম-সংস্কৃতির ধারাকে বেশ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, সে কারণে এসবের ওপর সংস্কৃতির বিকাশও নির্ভরশীল।

আগে গ্রামে যেসব নির্মল বিনোদন ব্যবস্থা যেমন গ্রামীণ খেলা, যাত্রাপালা, জারি-সারি গান, নৌকাবাইচ, পুঁথিপাঠের আয়োজন ছিল কালের পরিক্রমায় সেগুলো আজ নির্বাসিত। এখন গ্রামীণ মেলা বলতেই যেখানে মদ ও জুয়ার আসর বোঝায়। মেলাকে সেই জায়গা থেকে উদ্ধার করতে হবে। যাত্রামঞ্চকে করতে হবে শালীন ও কলুষতামুক্ত। গ্রামে গ্রামে গড়ে তুলতে হবে সংস্কৃতি চর্চার এক একটি শক্তিশালী কেন্দ্র। সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করবে কিন্তু আয়োজনগুলো চলবে স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্ত সামাজিক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। ভাটি অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে যখন থাকে অখন্ড অবসর সেই সময়ে গ্রামে গ্রামে সংস্কৃতিকেন্দ্রগুলো যাতে সরব হতে পারে সেজন্য নিতে হবে পরিকল্পনা। একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সাংস্কৃতিক জাগরণ যখন ঘটবে তখন খারাপ বহু উপসর্গ সমাজদেহ থেকে দূর হয়ে যাবে।

দেশে এখন অগণিত সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। আবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক, নৃত্যকলা ও সংগীত পড়ানো হচ্ছে। অথচ দেশে নাট্য আন্দোলন একসময় যেমন তুঙ্গে উঠেছিলো, সেটা অনেক ক্ষেত্রে অন্ধকার দূরীকরণে ব্যাপক অবদান রেখেছে। কিন্তু আজ তার অবস্থা কেমন যেন বেহাল।

১৯৫২ সালে তৈরি হয়েছিলো ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে শব্দ ‘অমর একুশে’। ১৯৭১ সালে বাঙালি পেয়েছে অবিনাশী শব্দ ‘মুক্তিযুদ্ধ’। এই দুই বিশাল ঘটনা আজকের দিনে বাঙালির সংস্কৃতিতে এক স্থায়ী আয়োজন। এই দুই ঘটনা বাঙালিকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্বে গৌরবের জায়গা। বাঙালির ২১ ফেব্রুয়ারি ইউনেস্কো কর্তৃক ঘোষিত হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে। সংস্কৃতির এই গৌরবময় যাত্রা স্বাধীন দেশের মর্যাদার স্মারক। এভাবে সংস্কৃতি যেকোন অবস্থায় তার জায়গা খুঁজে নেয়।

সাংস্কৃতিক বোধ মানুষের শুভচেতনাকে জাগ্রত করে। সাংস্কৃতিক বোধ মানুষের প্রতিবাদ-প্রতিরোধকে তীক্ষ্ন করে তোলে। মানুষ সমবেত হয় একটি সম্মিলিত শক্তির জায়গায়। মৌলবাদী জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা যখন ভাস্কর্য ভাঙে, তখন তার বিপরীতে তরুণ ছেলেমেয়েরা সাংস্কৃতিক গণজাগরণে প্রতিরোধের অবিনাশী আয়োজন করে। 

মানুষ শান্তির গান গেয়ে মিছিল করে। সেই মিছিলে শান্তির পতাকা উড়িয়ে হেঁটে যায় অগণিত শিশুরা যারা আগামী দিনকে ধরে রাখবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তির পক্ষে। এখনো শান্তির প্রতীক হিসেবে পিকাসোর আঁকা সাদা কবুতর আকাশে উড়ে যায়, এখনো শান্তির পক্ষে আছে নাটক, গণসঙ্গীত, অবিনাশী কবিতার পঙ্ক্তিমালা। 

এসবই মানুষের হাতে শান্তির জন্য হাতিয়ার। এসব দিয়েই জয় করা যায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মানবতার হৃদয়কে। এই বাংলাদেশে তারুণ্যের শক্তির নানা উদাহরণ আছে। তারুণ্যের শক্তিই পারে এই আয়োজনকে মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষের কাছে নিয়ে যেতে এবং প্রতিরোধের বিশাল দেয়ালটি গড়ে তুলতে।

বঙ্গবন্ধু যে সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন, তাতেই তিনি আমাদের মাতৃভূমিকে 'সোনার বাংলায়' রূপান্তরিত করে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক তৎপরতা এবং দেশ পুনর্নির্মাণে ব্যস্ত বঙ্গবন্ধু সবকিছুর সঙ্গে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে পুনরুদ্ধার, চর্চা এবং দেশ ও বিদেশে উপস্থাপনার উদ্দেশ্য নিয়ে পাকিস্তান আর্টস কাউন্সিলকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে রূপান্তরিত করলেন ১৯৭৪ সালে। 

তিনি চেয়েছিলেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতিকে যথার্থরূপে তুলে ধরে তাকে সমৃদ্ধ করার জন্য। দেশের সর্বত্র এই শিল্পকলা চর্চা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই এ ধরনের সংস্কৃতি কেন্দ্র জেলায় জেলায় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে কার্যক্রমও গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সপরিবারে হত্যার পর সেই কর্মচঞ্চলতা একেবারে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। আর তারপর থেকে জেনারেল জিয়াউর রহমান ও জেনারেল এইচএম এরশাদ রাষ্ট্র পরিচালনায় যে সাম্প্রদায়িক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে গেছেন তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে, তাতে রাজনীতির পাশাপাশি সংস্কৃতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর বহুমুখী বিরূপ প্রভাব সমাজে পরিলক্ষিত হতে থাকে। 

আরও পড়ুন:


গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট, প্রভাব রাজধানীতেও

স্নাতক পাসে ঢাকায় নিয়োগ দেবে কেয়ার নিউট্রিশন

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

সিলেটের জকিগঞ্জে দেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান!


 

এ ক্ষেত্রে চরম অবহেলা দেখা যায় এবং এ কারণেই এই শাখার কোন উন্নতি সামরিক শাসনের সময় হয়নি। বিএনপি শাসনামলে খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের বিচারের দাবিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে ও তার সমন্বয় কমিটিকে যেভাবে হেনস্তা করতে চেয়েছিলেন তাতে বাংলার মাটিতে উদার গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি বাধাগ্রস্ত হলো পুনর্বার। তাই আমরা দেখেছি সংস্কৃতি অঙ্গনকে পরিপূর্ণতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে যে ধরনের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া উচিত ছিল, তা আদৌ হয়নি সেই সময়ে।

আমাদের সংস্কৃতিকে শুধু রক্ষাই নয়, এর ব্যাপক প্রসারে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। সব অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে সামাজিক অনাচার ও নানা দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে জাগ্রত করার জন্য দরকার একটি সাংস্কৃতিক জাগরণ। 

জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাসী তৎপরতা, সামাজিক নানা দুস্কর্ম এবং নানা ধরনের বিকারগ্রস্ত মানসিকতা থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য সংস্কৃতির বিকাশ ও চর্চার কোন বিকল্প নেই, এ কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে। আমাদের সংস্কৃতির যে পুষ্টধারা সেটার সঠিক চর্চাই পারে সব অন্ধকার দূর করে আলোর সন্ধান দিতে। 

লেখক: সম্পাদক, বিবার্তা ২৪ ডট নেট

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগ 'নেত্রী' ছিলেন না

আশরাফুল আলম খোকন

হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগ 'নেত্রী' ছিলেন না

হেলেনা জাহাঙ্গীর কখনো আওয়ামীলীগ “নেত্রী” ছিলেন না। ঢাকা শহর ব্যাপী রং বেরঙের পোস্টার ছাপিয়ে আর ফেসবুকে উদ্ভট লাইভ করে তিনি অনেক আগেই আলোচিত।

বছর দুয়েক হলো আওয়ামীলীগের উপ কমিটিতে হয়তো কোনো কায়দা কানুন(!) করে তিনি ঢুকেছেন। এর মানে কি হেলেনা জাহাঙ্গীর “নেত্রী” হয়ে গেলেন? উনি রাজনীতি কবে কোথায় করেছেন? তিনি নিজেও দাবী করেন, তিনি সোশ্যাল ওয়ার্ক করতেন।
 
“নেত্রী” অনেক বড় ও ওজনদার শব্দ। সুতরাং কেউ যদি সংবাদে কিংবা লেখায় সাবেক আওয়ামীলীগ “নেত্রী” লিখেন একটু সিক্সথ সেন্স কাজ করানো উচিত। কেউ লটারিতে অনেক অনেক টাকা পেয়ে গেলে যেমন আমরা তাকে ব্যবসায়ী বলিনা, ভাগ্যবান বলি। ঠিক তেমনি কোন অনুকম্পায় হঠাৎ মন্ত্রী এমপি কিংবা পদপদবী পেয়ে গেলেই তিনি “নেতা কিংবা নেত্রী” হবেন না। “নেতা-নেত্রী” খেতাব অনেক সাধনার ফসল। হুদাই লিখে লিখে কাউকে এই খেতাব দিয়েন না।

আরও পড়ুন


ক্ষমতার দাপট ও ফেরাউনের শেষ পরিণতি

স্বামীর পর্নকাণ্ড: এবার শিল্পা শেঠির সমর্থনে বলি-অভিনেত্রী

ফল খাওয়ার উপযুক্ত সময় কোনটি জেনে নিন

যাকে তাকে নেতা-নেত্রী বানিয়ে প্রকৃত নেতা নেত্রীকে ছোট করা হয়।

লেখাটি আশরাফুল আলম খকন- এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

বেশিরভাগ অনলাইন টিভির মালিক তথাকথিত কিছু মহিলা উদ্যোক্তা

আশরাফুল আলম খোকন

বেশিরভাগ অনলাইন টিভির মালিক তথাকথিত কিছু মহিলা উদ্যোক্তা

মূলধারার পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাদের দেখা যেত না। কিন্তু নাম সর্বস্ব এবং অনুমতিবিহীন এইসব অনলাইন টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাদের সরব উপস্থিতি থাকে। এই “তাদের” বলতে যাদের বুঝিয়েছি তারা বিভিন্ন পেশার হোমরা চোমরা। আর এই বেশির ভাগ অনলাইন টিভির মালিক হচ্ছে নামিদামি তথাকথিত কিছু মহিলা উদ্যোক্তা(!)। অনেক ছেলে উদ্যোক্তাও এই অনলাইন টিভি করেছেন। কিন্তু তাদের টিভির কোন অনুষ্ঠানে এইসব হোমরা চোমরাদের দেখা যায়না।

যেখানে একটি টিভি চ্যানেল চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন মূলধারার টিভি চ্যানেল এর মালিকরা সেখানে এই নামসর্বস্বরা নামীদামী হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠান করে। তাদের আয়ের উৎস কি কেউ জানেনা। ঐসব অনুষ্ঠানে ফুল নিয়ে সেজেগুজে হোমরা চোমরা’রা হাজির হয়ে যান। দেখলে মনে হয় বিয়ে বাড়িতে আসছেন।

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশসহ চার দেশে দুবাইগামী ফ্লাইট বন্ধ ৭ আগস্ট পর্যন্ত

স্বামীর পর্নকাণ্ড: মানহানির মামলা নিয়ে শিল্পাকে আদালতের ভর্ৎসনা

হেলেনাকে সম্মানের সঙ্গে ছাড়তে বললেন সেফুদা

সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন বেসামরিক পদে ছয় শতাধিক নিয়োগ


হেলেনা জাহাঙ্গীরের টিভির মতো এমন অবৈধ ভুঁইফোড় অনেক অনলাইন টিভি আছে। মাননীয় তথ্যমন্ত্রী বললেন, এর সবই অবৈধ। এটা বন্ধ হলে ওই অবৈধগুলোও বন্ধ হওয়া উচিত। অধিকাংশের কাজই হচ্ছে কোন না কোন ঝান্ধা আর ব্ল্যকমেইল করা।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

হেলেনাকে সম্মানের সঙ্গে ছাড়তে বললেন সেফুদা

অনলাইন ডেস্ক

হেলেনাকে সম্মানের সঙ্গে ছাড়তে বললেন সেফুদা

সম্প্রতি নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে আওয়ামী লীগ থেকে বাদ পড়া হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার পর আলোচিত অস্ট্রিয়া প্রবাসী সেফাত উল্লাহ সেফুদার নাম উঠে আসে। হেলেনার সঙ্গে সেফুদার নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো বলে জানা যায়।

এবার হেলেনা ইস্যুতে মুখ খুলেছেন সেফুদা। তাকে সম্মানের সঙ্গে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার ফেসবুক লাইভে এসে এ আহ্বান জানান তিনি।

ওই ভিডিও বার্তায় সেফুদা বলেন, আমার নাতি হেলেনা জাহাঙ্গীরকে অসম্মানজনকভাবে, একজন সিআইপিকে অ্যারেস্ট করা হলো। আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। হেলেনা জাহাঙ্গীরের মেয়ে আমার ভাগ্নি জেসির একটি সাক্ষাৎকার দেখলাম একটি টেলিভিশনে। হেলানাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তিলকে তাল করে র‍্যাবদেরকে দিয়ে তছনছ করা হয়েছে। ভাবটা এমন যে, চোর ধরা পড়েছে।

সেফুদা আরও বলেন, আমার সঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরের দেখা হয়নি। তবে টেলিফোনে কথা হতো। হেলেনা জাহাঙ্গীর একজন স্মার্ট নারী, তিনি দুঃসাহসের সঙ্গে কথা বলতেন। অবিলম্বে এবং সম্মানের সঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ছেড়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন


আফগানিস্তানের জাতিসংঘের দপ্তরে হামলা, এক পুলিশ নিহত

হত্যা চেষ্টার অভিযোগে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা মিজোরাম পুলিশের

হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় আরও এক মামলা

হামলার শিকার ইসরাইলি জাহাজের ২ ক্রু নিহত


এদিকে, শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরকে অস্ট্রিয়া প্রবাসী আলোচিত সেফুদা নাতনী বলে ডাকতেন। সেফুদার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং তার সঙ্গে লেনদেনও ছিল হেলেনা জাহাঙ্গীরের।

তিনি বলেন, সেফুদা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসীর নজর কাড়তে চেষ্টা করেন। তার সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতের নিয়মিত যোগাযোগ ও লেনদেন রয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

এই যুক্তিতে লকডাউন উঠিয়ে দেওয়া যায়

অনলাইন ডেস্ক

এই যুক্তিতে লকডাউন উঠিয়ে দেওয়া যায়

অতিমারি ভাইরাস করোনায় দেশে মৃত্যু ও শনাক্ত যখন উদ্বেগজন পর্যায়ে ঠিক তখনই রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নতুনদেশ’র প্রধান সম্পাদক, শওগাত আলী সাগর।

এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেছেন, গার্মেন্টস শ্রমিকরা কোভিডে আক্রান্ত হবেন না- এই ধরনের তথ্য যদি সরকারের কাছে থাকে, তা হলে একই ধরনের যুক্তিতে সারা দেশ থেকেই লকডাউন উঠিয়ে দেওয়া যায়।

তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‌‘রপ্তাণিমূখী তৈরি পোশাক শিল্পকারখানায় যারা কাজ করেন বা করবেন- তাদের কোভিড স্পর্শ করবে না- এমন কোনো তথ্য উপাত্ত কী কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পাওয়া গেছে? সরকার যে গার্মেন্টস কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার পেছনে কী তথ্য উপাত্ত কাজ করেছে?

তারা কীভাবে নিশ্চিত হলেন- গার্মেন্টসকর্মীরা নিজেরা কোভিড আক্রান্ত হবেন না- তারা যখন বাড়িতে কিংবা অন্যকোথাও যাবেন তখন কোভিড ভা্ইরাস ছড়াবেন না!

গার্মেন্টস শ্রমিকরা যে যুক্তিতে কোভিড সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এর আওতামুক্ত থাকবেন- একই যুক্তিতে তো সারা দেশের মানুষই এই ধরনের বিধি নিষেধ থেকে অব্যহতি চাইতে পারেন!

গার্মেন্টস শ্রমিকরা কোভিডে আক্রান্ত হবেন না- এই ধরনের তথ্য যদি সরকারের কাছে থাকে, তা হলে একই ধরনের যুক্তিতে সারা দেশ থেকেই লকডাউন উঠিয়ে দেওয়া যায়।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

আরও পড়ুন:


বিট লবনের যত উপকার

ধানখেতে ৮ ফুট অজগর

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ম্যুরাল ভাঙচুরকারীদের গ্রেপ্তার দাবি হানিফের


 news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

করোনা আক্রান্তকে সমাজচ্যুত করার মানসিকতা বন্ধ করি

জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু

করোনা আক্রান্তকে সমাজচ্যুত করার মানসিকতা বন্ধ করি

আপা কেউ যেন না জানে! সিকিউরিটি গার্ডও না। plz..খাবারটা চুপচাপ পাঠায়েন! অক্সিমিটারটা ব্যাগে ভরে দিয়েন! স্যাম্পল নিতে যিনি আসবেন তাকে আমার আত্মীয়ের পরিচয় দিতে বলবেন!

স্বেচ্ছাসেবক ফোরামে আমরা যারা কাজ করছি তারা প্রতিদিন রোগী বা তাদের স্বজনের কাছে এসব কথা শুনেই যাচ্ছি! অথচ যে কেউ যে কোন সময়ে এতে আক্রান্ত হতে পারেন!

বছর পেরিয়ে গেছে! এই রোগের সাথে লড়তে লড়তে ক্লান্ত, দিশেহারা আমরা। কিন্তু বের হতে পারিনি নিজেদের সামাজিক ট্যাবু থেকে, হীন মানসিকতা থেকে! পাশের বাড়ির মানুষটাও জানেন না বা জানতে চাননা আপনি করোনা আক্রান্ত!

অনেকে তো টেস্ট করাবেনই না! বৃষ্টিতে জ্বর, এসির ঠান্ডা, গরমে ঘেমে কাশি....কত বাহানা! অথচ শুরু থেকেই সচেতন হলে বেঁচে যেত জীবন বা টাকা!!

আরও পড়ুন


অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার

আগস্টের শোককে আমরা শক্তিতে রূপান্তরিত করবো: আব্দুর রহমান

চার মাস ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নায়ক ফারুক

বগুড়ার শেরপুর ও ধুনটে ৬০০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ


এই মহামারি আপনার আমার সবার জন্যই মহাবিপদ! তাই আর লুকিয়ে না থাকি, করোনা আক্রান্তকে সমাজচ্যুত করার মানসিকতা বন্ধ করি! তার পাশে না যাই অন্তত মানসিক ও সামাজিক সাপোর্টটা দিই plz..পুরো জীবনটাই তো নিজের বলে কাটিয়ে দিলাম এবার সবাই মিলে একটু বাঁচার চেষ্টা করি!! 

সবাই সচেতন হই, মাস্ক পড়ি, টেস্ট করাই! করোনা আক্রান্তদের পাশে থাকি- যে যেভাবে পারি! বিপদ কিন্তু যেকোন সময় আপনার দরজাতেও কড়া নাড়বে!

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর