শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে বিক্ষোভে পুলিশের বাধা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে বিক্ষোভে পুলিশের বাধা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে বিক্ষোভে পুলিশের বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া, বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ কর আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রগতিশীল কয়েকটি ছাত্র সংগঠন।  

মিছিলটি আজ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে শুরু হয়। এরপর শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, কদমফোয়ারা মোড় হয়ে সচিবালয়ের সামনে আসলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়। পরে সেখানেই অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেন তারা।

এসময় তারা ‘শিক্ষা-ব্যবসা, একসাথে চলে না’,  ‘হল-ক্যাম্পাস খুলে দাও, নাইলে গদি ছেড়ে দাও’,  ‘করারোপ যেখানে, লড়াই হবে সেখানে’,  ‘অচল হল সচল করো, শিক্ষা জীবন রক্ষা করো’, ইত্যাদি স্লোগান দেন

কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ও গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

ছাত্রজোটের সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার রোডম্যাপ ঘোষণা করার আহ্বান করছি, শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দেয়ার আবেদন করেছিলাম কিন্তু আমরা দেখলাম ফ্যাসিবাদী সরকার আমাদের দাবিতে কর্ণপাত করেননি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগও দেখতে পাচ্ছি না। রোডম্যাপও ঘোষণা করা হচ্ছে না। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উপর ঠিকই ১৫% করারোপ করে। এ সরকার যে বর্বরতা, কর্মকাণ্ড করছে, আমাদের যৌক্তিক দাবিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। এতে করে এ সরকারের ফ্যাসিবাদী চরিত্র স্পষ্ট। বাধা দিয়ে আমাদের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। শিক্ষা খাতের এই চক্রান্ত এবং এই চক্রান্তের মূল ফ্যাসিবাদী সরকারকে রুখে দিতে হবে। ’

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘করোনার থাকা না থাকার প্রশ্ন শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করছে এ সরকার। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে শতাধিক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার ঘটনাসহ নানান সংকট তৈরি হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বারবার শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিচ্ছে অথচ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আপনি দায়িত্ব ছেড়ে আমাদের উপর দায়িত্ব দিন, আমরা ১৫ দিনের মধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালা খুলে দেশের শিক্ষা কার্যক্রম সচল করব। ’

আরও পড়ুন:


স্বাধীনতার মূল শর্ত হচ্ছে বাক, চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা: ফখরুল

এখনও খোঁজ মেলেনি আবু ত্ব-হা আদনানের, যা বলছে পুলিশ

রোনালদোকাণ্ডের পর এবার টেবিল থেকে বিয়ারের বোতল সরালেন পগবা


পুলিশি বাধার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি আল কাদেরী জয় বলেন, ‘আজকের সমাবেশ থেকে আমাদের যৌক্তিক দাবিতে পুলিশি বাধার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বাধা দিয়ে আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম বন্ধ করা যাবে না, ছাত্রসমাজের জন্য আমাদের আন্দোলন চলবে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা বাড়াবাড়ি করছেন, এই বাড়াবাড়ির ফল ভালো হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওই জং ধরা তালা আমাদের ভাঙতে হবে, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের চারটি দাবি মেনে নিন। অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিন। অন্যথায় সারা দেশের ছাত্র সমাজকে নিয়ে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করব। ’

news24bd.tv নাজিম