সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২০-২৭, যেসব বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২০-২৭, যেসব বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে

সূরা ইয়াসিন পবিত্র কুরআনের মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এই সূরার প্রথমে বর্ণিত দুই মুকাত্তায়াত হরফের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরায় রয়েছে ৮৩টি আয়াত। সূরা ইয়াসিনে বিশ্বাসগত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আজ এই সূরার ২০ থেকে ২৭ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে। এই সূরার ২০ ও ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

  وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ (20) اتَّبِعُوا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ (21)

“অতঃপর শহরের শেষ প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল (এবং) বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা (আল্লাহর) রাসূলগণকে অনুসরণ কর।” (৩৬:২০)

“তাদের অনুসরণ কর, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।” (৩৬:২১)

গত আসরে আমরা একটি পথভ্রষ্ট জাতির লোকজনকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য কয়েকজন নবীর আগমন নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। সে আলোচনার ধারাবাহিকতায় এই দুই আয়াতে বলা হচ্ছে: কোনো কোনো মুমিন ব্যক্তি অত্যাচারী লোক ও শাসকের হাত থেকে নবী-রাসূলদের রক্ষা করার জন্য নিজেদের জীবন পর্যন্ত বিলিয়ে দিয়েছেন। এখানে যে সৌভাগ্যবান ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছে হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী তার নাম ছিল হাবিব নাজ্জার। তিনি শহরের শেষ প্রান্তে বসে শুনতে পান লোকজন আল্লাহর রাসূলদের নির্যাতন করে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছে। এ অবস্থায় তিনি হন্তদন্ত হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং নবীদের রক্ষা করার জন্য উপস্থিত জনতার সাহায্য চান। হাবিব নাজ্জার একজন মুমিন ব্যক্তি হিসেবে জানতেন যে, কাফেরদেরকে ঈমানের পথে আহ্বান করতে হয়। তিনি উপস্থিত জনতাকে দ্বীনের পথে আহ্বান জানিয়ে বলতে থাকেন তারা যেন এসব রাসূলের আনুগত্য করেন যারা তাদের হেদায়েতের বিনিময়ে কোনো টাকা-পয়সা বা ধন-সম্পদ চান না।

এ দুই আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হচ্ছে:

১. ধর্ম ও ধর্মীয় নেতাদের রক্ষা করা ঈমানদার ব্যক্তির কর্তব্য।
২. ধর্ম রক্ষা করার ক্ষেত্রে সঙ্গীহীন ও একা থাকা কোনো অজুহাত হতে পারে না। প্রয়োজনে একাই লড়াই করতে হবে। দ্বীন রক্ষার ক্ষেত্রে নিজেদের সংখ্যার অপ্রতুলতা দেখে ঘাবড়ে যাওয়া যাবে না।
৩. আমরা তাদেরই অনুসরণ করব যারা সঠিকপথ প্রাপ্ত হয়েছেন।

সূরা ইয়াসিনের ২২ থেকে ২৪ নম্বর পর্যন্ত আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

وَمَا لِيَ لَا أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ (22) أَأَتَّخِذُ مِنْ دُونِهِ آَلِهَةً إِنْ يُرِدْنِ الرَّحْمَنُ بِضُرٍّ لَا تُغْنِ عَنِّي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا وَلَا يُنْقِذُونِ (23) إِنِّي إِذًا لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (24)

“কেন আমি তাঁর এবাদত করব না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যার কাছে তোমরা সবাই প্রত্যাবর্তিত হবে?” (৩৬:২২) 

“আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্যদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করব, করুণাময় (আল্লাহ) যদি আমাকে কষ্টে নিপতিত করতে চান, তবে যাদের সুপারিশ আমার কোনই কাজে আসবে না এবং যারা আমাকে রক্ষাও করতে পারবে না?" (৩৬:২৩)

“এরূপ করলে আমি প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হব।”(৩৬:২৪)  

যিনি নবীদের রক্ষা করার জন্য শহরের মাঝখানে ছুটে যান এবং উপস্থিত জনতার সাহায্য চান তিনি নিজের একত্ববাদী বিশ্বাস তুলে ধরে বলেন: তোমাদের মূর্তি ও কল্পিত উপাস্যদের উপাসনা করার কোনো কারণ আমি দেখি না। কারণ আমি জানি, দয়াময় আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করেছেন। যদি কারো উপাসনা করতে হয় আমি একমাত্র তাঁর উপাসনা করব। মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য এবং যুক্তি উভয়ই বলে যিনি সৃষ্টিকর্তা তাঁর ইবাদত করতে হবে। কিন্তু তোমরা যেসব মূর্তির উপাসনা করো সেগুলো কোনো যুক্তির ধোপে টেকে না। কারণ, কেউ যদি আমার ক্ষতি করতে চায় তাহলে এসব মূর্তি আমার কোনো উপকারে আসবে না এবং কেউ যদি আমার উপকার করতে চায় তাহলেও তাতে বাধা দেয়ার কোনো শক্তি এসব উপাস্যের নেই। কাজেই বিবেকের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আমি তোমাদের হাতে তৈরি মূর্তির উপাসনা করতে পারব না। যদি করি তাহলে সুস্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাব।

এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হচ্ছে:

১. যেকোনো যুক্তির বিবেচনায় সৃষ্টিকর্তার ইবাদত গ্রহণযোগ্য। কিন্তু অন্য কারো উপাসনা কোনো যুক্তির বিচারেই টেকে না।
২. আল্লাহ তায়ালা শুধু আমাদের সৃষ্টিকর্তাই নন একইসঙ্গে আমাদের জীবন পরিচালনাও হয় তাঁর নির্দেশে। কাজেই ইবাদতের একমাত্র যোগ্য ও দাবিদার হচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুন


বারডেম হাসপাতালের নীচে আগুন

ওই নারী যত উপরে পা তুলে আঘাত করল, শতকরা ৯৮ জনই এটা পারে না: টিপু

পরীমনির পোশাক নিয়ে রাঙ্গার মন্তব্য, সাংসদ টিপু বললেন ‌‘নাসিরকে চিনি’

ভারতের নতুন আতঙ্ক ‘গ্রিন ফাঙ্গাস’


সূরা ইয়াসিনের ২৫ থেকে ২৭ নম্বর পর্যন্ত আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

  إِنِّي آَمَنْتُ بِرَبِّكُمْ فَاسْمَعُونِ (25) قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ (26) بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ (27)

“আমি নিশ্চিতভাবে তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। অতএব আমার বক্তব্য শুনে নাও।” (৩৬:২৫)

“(শেষ পর্যন্ত তাকে শহীদ করা হলো এবং) তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলল হায়, আমার সম্প্রদায় যদি কোনক্রমে জানতে পারত-”(৩৬:২৬) 

“যে আমার পরওয়ারদেগার আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।” (৩৬:২৭)

নবীদের রক্ষার্থে ছুটে যাওয়া ব্যক্তি ঘোষণা করেন, আমি এই নবীদের প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাদের সাহায্য করার জন্য আমি তোমাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু গোঁড়া ও অন্ধ কাফেররা তার এ সত্যবাণী শুনতে মোটেই আগ্রহী ছিল না। তারা তাকে হত্যা করে এই ভেবে যে, এই ব্যক্তির কণ্ঠে আর উপদেশবাণী শুনতে হবে না। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা শহীদ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর নির্দেশ দেন। এটি হচ্ছে বারযাখি জান্নাত যা কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। আল্লাহর যেসব বান্দা শহীদ হয়েছেন তারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত এই জান্নাতে অবস্থান করবেন।

শহীদদের জীবিত থাকা প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ সূরা আলে-ইমরানের ১৬৯ নম্বর আয়াতে বলেন: যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তুমি কখনো তাদেরকে মৃত মনে করো না। বরং তারা জীবিত ও নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিকাপ্রাপ্ত। কাজেই নিজ জাতির লোকদের হাতে নিহত ওই ঈমানদার ব্যক্তি তার হত্যকারীদের জন্যও দোয়া করেছেন যেন তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হয় এবং জান্নাত লাভ করতে পারে।

এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. ধর্ম ও ধর্মীয় নেতাদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে নিজেদের জীবন অকাতরে বিলিয়ে দিতে হবে।
২. আল্লাহর প্রেমে মত্ত ব্যক্তিরা সব মানুষের হিতাকাঙ্ক্ষী। মানুষ তাদেরকে কষ্ট দেয়া সত্ত্বেও তারা কষ্ট দানকারী ব্যক্তিদের মঙ্গল কামনা করেন। এসব মানুষ কষ্ট পাক তা তারা চান না।
৩. আল্লাহর রাস্তায় শহীদগণ কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বারযাখি জগতে বিশেষ জীবন ও জীবিকাপ্রাপ্ত হন। তারা ওই জগতে জান্নাতের সব আরাম আয়েশ ভোগ করেন।

আল্লাহ তাআলা সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে ঈমানের সঙ্গে সঙ্গে নেক আমল করে জান্নাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

ইসলামী সাইকোথেরাপির প্রবর্তক আল-বালখি

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

ইসলামী সাইকোথেরাপির প্রবর্তক আল-বালখি

বরাবরই জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিম মনীষীদের অবদান আড়াল করা হয়। সে ধারাবাহিকতায় মনোবিজ্ঞানে মুসলিম অবদানের কথা প্রায় বিস্মৃত। অথচ নবম শতকে মনের রোগের বিশ্লেষণ করেছিলেন আল-বালখি। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হলে সিগমুন্ড ফ্রয়েড, ইভান ও কার্ল রজার্সের নাম যেভাবে উচ্চারিত হয়; যেসব মুসলিম মনীষী এই শাস্ত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন তাঁদের নাম সেভাবে উচ্চারিত হয় না।

মুসলিম চিকিৎসক আবু জায়েদ আল-বালখি ছিলেন সাইকোথেরাপির প্রবর্তক। ভূগোল, চিকিৎসাশাস্ত্র, ফিলোজফি, থিওলজি, রাজনীতি, ব্যাকরণ, সাহিত্য ও জ্যোতির্বিদ্যায় তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল। তাঁর জন্ম ৮৫০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান আফগানিস্তানে। তিনি ছিলেন আল-কিন্দির শিষ্য।

আল-বালখির জীবন আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন তাঁর জীবনীকার ইয়াকুত আল-হামাউই। যদিও তাঁর জীবনীর মধ্যে বালখির শৈশব নিয়ে বিশেষ কিছু পাওয়া যায় না। শুধু তাঁর জন্মস্থান ও পিতার কাছ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা সম্পর্কে জানা যায়। তবে তাঁর কৈশোর ও তৎকালীন পড়াশোনা নিয়ে বিশদ জানা যায়। কিশোর বালখি বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের নানা বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। 

আল-বালখির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের নাম ‘মন ও শরীরের উন্নতি সাধন’ (মাসালিহ আল-আবদান ওয়া আল আনফুস)। এই পাণ্ডুলিপিতে আল-বালখি প্রথমে শরীরের উন্নতির কথা বলেন, তারপর শরীরের উন্নতি ও অধ্যাত্মবাদের মাধ্যমে কিভাবে মানসিক উন্নতি করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ইসলামের ইতিহাসে এই বই অমূল্য সম্পদ!

তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে গণিত বিষয়ে ‘আল-ফাইরিস্ট’। ভৌগোলিক মানচিত্র বিষয়ে ‘সুয়ার আল-আকালিম’।

ইসলামী মনস্তত্ত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্যবিধির প্রবর্তন করেছিলেন আল-বালখি। ‘মাসালিহ আল-আবদান ওয়াল আনফুস’ (দেহ এবং আত্মার উন্নতি সাধন) গ্রন্থে তিনিই প্রথম শরীর এবং আত্মা সম্পর্কিত বিভিন্ন রোগের আলোচনা করেছিলেন। তিনি এর জন্য শব্দ ব্যবহার করেছিলেন ‘আল-তিব্ব আল-রুহানি’ বা আধ্যাত্মিক ও মানসিক স্বাস্থ্য। তিনি বহু মেডিক্যাল ডাক্তারকে মানসিক অসুস্থতা বিষয়ে অবহেলার কারণে সমালোচনা করেছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে যেহেতু মানুষের আত্মা ও দেহ উভয় থেকেই মানুষের নির্মাণ হয়, সুতরাং মানুষের অস্তিত্ব স্বাস্থ্যকর হতে পারে না দেহ ও আত্মার সমন্বয় ছাড়া।

আরও পড়ুন


হানি সিংকে নিয়ে গুরুতর সব অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ স্ত্রী

ভারতের এলপিইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কর্নার

বর্তমান সমাজে মানসিক সমস্যা একটি ট্যাবু। এখনো কারো মানসিক সমস্যা হলে তাকে মানুষ অন্য চোখে দেখে। তাই আধুনিককালে চিকিৎসাশাস্ত্র মানসিক সমস্যাকে স্বাভাবিক অসুখ বলতে বাধ্য হয়েছে। মানুষের মধ্যে চিন্তাভাবনার প্রসার ঘটানোর চেষ্টা চলছে। সামাজিকভাবে আমরা এখনো মানসিক সমস্যাকে মেনে নিতে পারি না। আল-বালখি বহু বছর আগে এ বিষয়ে লিখে গেছেন। আল-বালখির মতে, মানসিক সমস্যাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারলেই অসুখের সঙ্গে সহজে লড়াই করা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি সেরে ওঠেন।

আল-বালখি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে তাঁর ধারণাগুলো কোরআনের আয়াত ও হাদিস থেকে গ্রহণ করেছেন।

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

গুরুত্ব অসুস্থ হলে যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

গুরুত্ব অসুস্থ হলে যে দোয়া পড়বেন

সুস্থতা আল্লাহর নেয়ামত। আবার অসুস্থতার মাধ্যমে মুমিনদের পাপ মোচন হয়। সুস্থতার জন্য আল্লাহর দরবারে যেমন দোয়া করা উচিৎ তেমনি অসুস্থ হলেও তা থেকে পানাহ পাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করা উচিৎ।

রোগ থেকে দ্রুত মুক্তি লাভের দোয়া:

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা রাব্বান-নাসি মুজহিবাল বা’সি, ইশফি আনতাশ-শাফি, লা শাফি ইল্লা আনতা শিফায়ান লা য়ুগাদিরু সুকমা।

অর্থ: হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক, কষ্ট দূরকারী। আমাকে আরোগ্য দিন, আপনি আরোগ্যকারী; আপনি ছাড়া কোনো আরোগ্যকারী নেই। এমন আরোগ্য দিন যেন কোনো রোগ অবশিষ্ট না থাকে।

হাদিসে এসেছে, আনাস বিন মালিক (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া পড়ে অসুস্থ ব্যক্তিদের ঝাড়-ফুঁক করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৭৪২)

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

নিউজ টোয়েন্টিফোর / কামরুল

পরবর্তী খবর

মনের অস্থিরতা দূর করার আমল ও দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

হতাশ হওয়া কিংবা মানসিক চাপ অনুভব করা নতুন কিছু নয়। বিপদ-আপদ, চাপ কিংবা না পাওয়ার বেদনা যত বেশিই হোক না কেন কোনো অবস্থায়ই হতাশ হওয়া ঈমানদারের কাজ নয়। বরং সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর আস্থা রাখাই সুস্থ থাকার উপায় এবং বুদ্ধিমানের কাজ।

মনের অস্থিরতা দূর করতে মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। এছাড়াও কিছু আমল রয়েছে।

আমলটি জানতে ভিডিওটি দেখুন

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

যে দুটি খারাপ অভ্যাস ত্যাগের বিনিময়ে জান্নাত

অনলাইন ডেস্ক

যে দুটি খারাপ অভ্যাস ত্যাগের বিনিময়ে জান্নাত

পবিত্র কোরআনে বহু আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাকওয়া অর্জনের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। কারণ তাকওয়া মানুষকে সব ধরনের পাপ থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে। এর বিপরীতে দুটি অভ্যাস এমন আছে, যেগুলো মানুষ পাপ কাজের প্রতি উৎসাহিত করে, ফলে তারা অন্ধ হয়ে যায় এবং পাপের সাগরে ডুব দিতে দিতে জাহান্নামের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘এটা আখিরাতের আবাস, যা আমি নির্ধারিত করি তাদের জন্য, যারা জমিনে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। আর শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য।’ (সুরা : আল কাসাস, আয়াত : ৮৩)

এ আয়াতে আখিরাতের মুক্তি ও সাফল্য শুধু তাদের জন্য নির্ধারিত বলা হয়েছে, যারা জমিনে ঔদ্ধত্য ও অনার্থের ইচ্ছা করে না। পবিত্র কোরআনে এই দুটি অভ্যাসকে দুটি শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। ১. ‘উলুয়্যুন’- ঔদ্ধত্য, ২. ‘ফ্যাসাদ’-অনার্থ/অশান্তি।

১। আরবি শব্দ ‘উলুয়্যুন’-এর অর্থ অহংকার তথা নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় মনে করা এবং অন্যকে হেয় করা। যা মহান আল্লাহ মোটেই পছন্দ করেন না। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অনুগ্রহ করে নিয়ামত দেন; কিন্তু কেউ যখন সেই নিয়ামত পেয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং অহংকার করা শুরু করে, তখন মহান আল্লাহ তাকে কঠিন শাস্তি দেন। অতীতে বহু প্রভাবশালী জাতিকে এই অহংকারের কারণে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর আদ সম্প্রদায়, তারা জমিনে অযথা অহংকার করেছিল এবং বলেছিল, আমাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী কে আছে? তবে কি তারা লক্ষ করেনি যে নিশ্চয়ই আল্লাহ, যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী? আর তারা আমার নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করত। তারপর আমি তাদের ওপর অশুভ দিনগুলোতে প্রেরণ করলাম ঝোড়ো হাওয়া, যাতে আমি তাদের আস্বাদন করাতে পারি দুনিয়ার জীবনের লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। আর আখিরাতের শাস্তি তো তার চেয়ে বেশি লাঞ্ছনাদায়ক এবং তাদের সাহায্য করা হবে না।’ (সুরা : হা-মিম সাজদা, আয়াত : ১৫-১৬) 

২। ‘ফ্যাসাদ’ মানে অশান্তি সৃষ্টি করা। যেমন—পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহ ফ্যাসাদকারীদের আমল পরিশুদ্ধ করেন না।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৮১)

এখানে ‘ফ্যাসাদ’-এর অর্থ বিশৃঙ্খলা বা অশান্তি সৃষ্টি। যারা জুলুম করে তারাই সাধারণত পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে। জুলুমের ভয়াবহতা সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা জুলুম করা থেকে বিরত থেকো। কেননা কিয়ামতের দিন জুলুম অন্ধকারে পরিণত হবে। তোমরা কৃপণতা থেকে সাবধান হও। কেননা কৃপণতা তোমাদের আগের জাতিকে ধ্বংস করেছে। এ কৃপণতা তাঁদের খুন-খারাবি ও রক্তপাতে উৎসাহ জুগিয়েছে এবং হারাম বস্তু হালাল জ্ঞান করতে প্রলোভন দিয়েছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৭০)

আরও পড়ুন

গুনাহ হয়ে গেলে যে দোয়া পড়বেন

৭৩টি ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

রামেকে করোনা ওয়ার্ডে ১৯ জনের মৃত্যু

হেলেনা জাহাঙ্গীরের দুই সহযোগী গ্রেফতার

কোনো কোনো তাফসিরকারক বলেন, গুনাহমাত্রই জমিনে ফ্যাসাদের শামিল। কারণ গুনাহের কুফলস্বরূপ বিশ্বময় বরকত হ্রাস পায়, বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সাগরে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে; ফলে তিনি তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তির মজা দেখান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা রুম, আয়াত : ৪১)

প্রতিটি মুমিনের তাকওয়া অবলম্বন করা উচিত। তাকওয়া বান্দাকে মহান আল্লাহর অতি কাছে নিয়ে যায়। আর মহান আল্লাহ মুত্তাকিদের দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা দান করেন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর

গুনাহ হয়ে গেলে যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

গুনাহ হয়ে গেলে যে দোয়া পড়বেন

উচ্চারণ : আতুবু ইলাল্লাহি মিম্মা আজনাবতু।

অর্থ : আমি যে অপরাধ করেছি, তা থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আরও পড়ুন

৭৩টি ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

রামেকে করোনা ওয়ার্ডে ১৯ জনের মৃত্যু

হেলেনা জাহাঙ্গীরের দুই সহযোগী গ্রেফতার

উপকার : আয়েশা (রা.) বলেন, একবার তিনি ছবিযুক্ত গদি ক্রয় করেন। রাসুল (সা.) তা দেখে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন—প্রবেশ করেননি। তখন আয়েশা (রা.) এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৫৭)

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর