ইস্তেগফারের গুরুত্ব ও ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

ইস্তেগফারের গুরুত্ব ও ফজিলত

‘ইস্তেগফার’ শব্দের অর্থ কৃত পাপকর্মের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহর অসংখ্য মহান গুণাবলির একটি হলো ক্ষমা। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি, যে তওবা করে, ইমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎপথে অবিচলিত থাকে।’ (সূরা তাহা, আয়াত: ৮২)

মানবজাতিকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী।’ (সূরা নাসর, আয়াত: ৩)

ইস্তেগফারের গুরুত্ব:

রাসূল (সা.) ইস্তেগফারের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে বলেন (অথচ তিনি মা’সুম-নিষ্পাপ), হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার ও তাওবা করো। কারণ আমি নিজেও দৈনিক শতবার তাওবা-ইস্তেগফার করি। 

অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) বলেন, যার আমলনামায় ইস্তেগফার অধিক সংখ্যায় পাওয়া যাবে তার জন্য রইল সুসংবাদ।

হযরত লোকমান হাকীম তাঁর সন্তানকে উপদেশ দান করে বলেন, হে আমার পুত্র! ‘আল্লাহুম্মাগ ফিরলী’ বলাকে অভ্যাসে পরিণত করে নাও। কারণ এমন কিছু সময় আছে যখন আল্লাহ তা’আলা যেকোনো দু’আকারীর দু’আ কবুল করেন।

হযরত আবু মূসা (রা.) বলেন, আমাদের সুরক্ষাদানকারী দুটি জিনিস ছিল, তন্মধ্যে হতে একটি চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছে। সেটা হলো আমাদের মাঝে রাসূল (সা.)-এর উপস্থিতি। আর দ্বিতীয় জিনিস ইস্তেগফার যা এখনো আমাদের মাঝে রয়ে গেছে। যেদিন এটিও চলে যাবে (করার মতো কেউ থাকবে না) তখন আমাদের ধ্বংস অনিবার্য। 

হযরত হাসান (রহ.) বলেন, তোমরা ঘরে-দুয়ারে, দস্তরখানে, রাস্তা-ঘাটে, হাটে-বাজারে, সভা-সমাবেশে বেশি বেশি ইস্তেগফার করো। কারণ ইস্তেগফার কবুল হওয়ার সময় তোমাদের জানা নেই।

ইস্তেগফারের ফজিলত:

ইস্তেগফারের ফজিলত অনেক। কোরআন-হাদীসের আলোকে কিছু উপকারের কথা নিচে তুলে ধরা হলো।

এক. গোনাহখাতা মাফ হয়। 
কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে : তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। (সূরা নূহ-১০)

দুই. অনাবৃষ্টি দূর হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তিনি (আল্লাহ) আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। (নূহ-১১)

তিন. সন্তান ও সম্পদ লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে :  তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে উন্নতি দান করবেন। (নূহ-১২)

চার. সবুজ-শ্যামল পরিবেশ লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান। (নূহ-১২)

পাঁচ. নদ-নদীর ব্যবস্থা হবে। 
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের জন্য নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দেবেন। (নূহ-১২)

ছয়. উপভোগ্য জীবন লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমরা তোমাদের রবের কাছে গোনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করো। অতঃপর তাঁর অভিমুখী হও (ভবিষ্যতে গোনাহা না করার এবং আল্লাহর হুকুম-আহকাম পালন করার দৃঢ় সংকল্প করো)। তিনি তোমাদের নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত উত্তম জীবন উপভোগ করতে দেবেন। (সূরা হুদ-৩)

সাত. শক্তি-সামর্থ্য বাড়বে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের শক্তির সাথে বাড়তি আরো শক্তি জোগাবেন। (হুদ-৫২)

আরও পড়ুন:


বাঁচবো কিনা জানি না, সবাই ক্ষমা করে দিয়েন

দুদককে পরীমণির সম্পদের হিসাব চাওয়ার আহ্বান হেলেনা জাহাঙ্গীরের

গণপরিবহনে অবাধে যাতায়াত করায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপেনে ছিলেন আবু ত্ব-হা: পুলিশ


আট. আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপত্তা দান করবে। 

ইরশাদ হচ্ছে : তারা ইস্তেগফারে রত থাকাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা তাদের শাস্তি দেবেন না। (আনফাল-৩৩)

নয়. সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন : যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তা’আলা তার সর্বপ্রকার সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুলে দেবেন।

দশ. উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুঃখ-চিন্তা দূর হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন : সর্বপ্রকার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুঃখ-চিন্তা লাঘব করে স্বস্তি ও আনন্দ দান করবেন।

এগারো. অকল্পনীয় রিযিকের ব্যবস্থা হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন :তাকে কল্পনাতীত রিযিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। (আবু দাউদ)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

দোয়া ইউনুস পড়ার সঠিক নিয়ম

অনলাইন ডেস্ক

দোয়া ইউনুস পড়ার সঠিক নিয়ম

কোনো বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ইত্যাদি থেকে মুক্তি লাভের জন্য দোয়া ইউনুস পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর আমল। কিন্তু এ দোয়া ইউনুস কখন, কীভাবে এবং কতবার পড়তে হয় এবং এ দোয়া পড়ার সঠিক নিয়ম কি অনেকেই হয়তো জানেন না।  

দোয়া উইনুস পড়ার নিয়ম হল মহান আল্লাহর কাছে একান্ত বিনয় ও নম্রতা, একাগ্রতা, পূর্ণ আন্তরিকতা ও ভয়ভীতির মাধ্যমে যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা। এ দোয়া কবুল ও উপকারিতা লাভে রয়েছে কিছু নিয়ম-নীতি আর তা নিচে তুলে ধরা হল-

প্রথমে দোয়া ইউনুস পাঠ করার পর আল্লাহর কাছে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য নিয়ে দোয়া করলে, মহান আল্লাহ দোয়া কবুল করবেন। এ ক্ষেত্রে দোয়া কবুলের শর্তাবলি ও আদব ঠিক থাকতে হবে।

এ দোয়ার আমলকারীকে অবশ্য হালাল উপার্জন থেকে খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করা এবং হালাল অর্থের উপর জীবন যাপন করা। দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরুদ পাঠ করা। দোয়া শেষে আবারও দরুদ পাঠ করা ভালো।

অন্তরে দোয়া কবুল হওয়ার দৃঢ় আস্থা ও মনোভাব অক্ষুণ্ন রাখা। একান্ত বিনয়-নম্রতার সাথে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বারবার দোয়া করতে থাকা।

আরও পড়ুন:


তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

ঘরে ফিরতেই মাকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল মেয়ে

দোয়া করতে করতে বিরক্ত না হওয়া। দোয়া কবুলের জন্য তাড়াহুড়া না করা। দোয়ার মধ্যে গোনাহের কোনো কিছু না থাকা ইত্যাদি।

মহান আল্লাহ তা'আলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথভাবে দোয়া ইউনুস'এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় ‘তাহাজ্জুদ’ বলা হয় এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত যেকোনো নফল নামাজ পড়া। এ নামাজকে ‘কিয়ামুল-লাইল’, ‘সালাতুল-লাইল’ও বলা হয়ে থাকে। 

কোরআন-হাদিসের অসংখ্য জায়গায় ‘তাহাজ্জুদ’ নামাজের অনেক ফজিলত বর্ণিত আছে।

মহান আল্লাহ রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লক্ষ্য করে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করো—তোমার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে। আশা করা যায়, তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।’ (সুরা বনি ইসরাঈল : আয়াত ১৬)

হাদিস শরিফে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো রাতের (তাহাজ্জুদ) নামাজ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬৩)

তাহাজ্জুদ নামাজের সর্বোত্তম সময়

তবে তাহাজ্জুদ নামাজের সর্বোত্তম সময় হলো রাতের শেষ প্রহরে ঘুম থেকে ওঠার পর। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কোরআনে তাহাজ্জুদের জন্য বিছানা ত্যাগকারীর প্রশংসা করে আয়াত নাজিল করেছেন—‘তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা হয়। তারা ভয় ও আশা নিয়ে তাদের রবকে ডাকে। আর আমি তাদের যে রিজিক দান করেছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে।’ (সুরা সাজদা, আয়াত : ১৬)

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

তাহাজ্জুদ নামাজের সর্বোত্তম সময় রাতের শেষ প্রহরে ঘুম থেকে ওঠার পর হলেও এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া যায় এবং তাহাজ্জুদের ফজিলত লাভ হয়। কেননা তাহাজ্জুদ নামাজের মূল সময় এশার নামাজের পর থেকেই শুরু হয়ে যায়, যদিও উত্তম সময় হলো ঘুম থেকে ওঠার পর। আমরা অনেকেই শেষ রাতে উঠতে না পারার কারণে তাহাজ্জুদের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বীয় উম্মতের এই দুর্বলতার প্রতি সদয় হয়ে এই শিক্ষা দিয়েছেন যে তোমরা এশার নামাজের পর শোয়ার আগেই তাহাজ্জুদের নিয়তে দু-চার রাকাত নামাজ পড়ে নেবে।

আরও পড়ুন:


ঘরে ফিরতেই মাকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল মেয়ে

পর্নো ভিডিওর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন

হাদিস শরিফে এসেছে, সাউবান (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, রাত্রিজাগরণ কষ্টকর ও ভারী জিনিস, তাই তোমরা যখন (শোয়ার আগে) বিতর পড়বে তখন দুই রাকাত (নফল) নামাজ পড়ে নেবে। পরে শেষ রাতে উঠতে পারলে ভালো, অন্যথায় এই দুই রাকাতই ‘কিয়ামুল লাইল’-এর ফজিলত লাভের উপায় হবে।’ (সুনানে দারেমি, হাদিস : ১৬৩৫; সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ১১০৬; তাহাবি, হাদিস : ২০১১)

মহান আল্লাহ তা'আলা সকলকে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার ধৈর্য দান করুন। আমিন 

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

দুর্দিনে আর্থিক সংকট থেকে বাঁচার উপায়

অনলাইন ডেস্ক

অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে কে না চায়। তবে অনেকেই ভ্রান্ত পথ বেছে নেয়। যা গুনাহের কাজ। এমনকি চরম দুর্দিনেও অন্যায় পথ বেছে নেওয়া যাবে না।  ইসলাম এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে হতাশ হবার কোনো কারণ নেই। কারণ সমাধান রয়েছে। দুর্দিনে আর্থিক সঙ্কট থেকে বাচাঁতে মহান আল্লাহর কাছে দয়া ভিক্ষা চাইতে হবে। বিস্তারিত ভিডিওতে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ক্ষমতার দাপট ও ফেরাউনের শেষ পরিণতি

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ

ক্ষমতার দাপট ও ফেরাউনের শেষ পরিণতি

আরবি শব্দ ফেরাউন। ইংরেজি ফারাও, বাংলা ফেরাউন। ৩২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে দেশীয় রাজা মেনেসের নেতৃত্বে সারা মিসর ঐক্যবদ্ধ হলে ফারাও রাজবংশের সূচনা। প্রাচীন মিসরীয় সম্রাটের রাজকীয় উপাধি ফারাও বা ফেরাউন। প্রচলিত ফেরাউন বলতে দ্বিতীয় রামসিসকে (১২৭৯-১২১৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) বোঝায়। সে তুতেন খামেন, কাবুস ইত্যাদি পরিচয়ে কুখ্যাত। ইবনে কাসিরে ফেরাউনের পূর্ণ নাম হলো ওয়ালিদ ইবনে মুসাইয়্যিব ইবনে রাইয়্যান। এই পাপিষ্ঠের নাম পবিত্র কোরআনের ২৭ সুরায় ৭৪ বার আছে। ফেরাউনের কিছু ভালো গুণও ছিল! সেগুলো হলো—

(ক)       গভীর রাতে আল্লাহর ইবাদত।

(খ)        সারা দিনের অপকর্মের জন্য রাত জেগে অনুতাপ ও ক্ষমা প্রার্থনা।

(গ)        আশ্রয়হীন, ক্ষুধার্ত ও অসহায় মানুষকে সাহায্য।

(ঘ)        গোপনে আল্লাহকে স্বীকার করা, তাঁরই সাহায্য কামনা।

(ঙ)        দুর্বলের প্রতি শক্তি দেখানোতে বিরত থাকা।

(চ)        সাধ্যমতো দান-খয়রাত।

প্রাচীন মিসরের রাজধানী পেন্টাটিউক দ্বিতীয় রামসিস নামধারী ফেরাউনের আবাসস্থল। তার ছিল ১১১ পুত্র ও ৬৭ কন্যা। বর্ণিত আছে, একবার ফেরাউন দারুণ দুঃস্বপ্ন দেখে, ব্যাখ্যাকারীর মাধ্যমে জানতে পারে, বনি ইসরাঈল গোত্রে জন্মগ্রহণকারী এক পুত্রসন্তানের নেতৃত্বে ফেরাউনের রাজত্বের অবসান ঘটবে। তখন ফেরাউন গুপ্তচর লাগিয়ে দেয়, যেন কোনো পুত্রশিশুর জন্ম না হয়। পবিত্র কোরআনের ভাষায়, ‘ফেরাউন পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছিল এবং সে তার জনগণকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করেছিল। তাদের এক শ্রেণিকে সে অত্যন্ত দুর্বল করে রেখেছিল, যাদের পুত্রসন্তানকে সে জবাই করত ও নারীদের (ভোগের জন্য) জীবিত রাখত...।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ০৪)

এমন পরিবেশে হজরত মুসা (আ.)-এর জন্ম হয়। ক্ষমতার দাপট, ঔদ্ধত্যে বিভোর ফেরাউন নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক ‘রাব্বুল আলা’ ঘোষণা করে। পবিত্র কোরআনের ভাষায়, ‘সে বলল, আমিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিপালক বা রব। পরিণামে সে আল্লাহর ইহ-পারলৌকিক শাস্তিতে নিপতিত হলো। নিশ্চয়ই এর মধ্যে আছে ধর্মভীরুদের জন্য পরম শিক্ষা।’ (সুরা : নাজিয়াত, আয়াত : ২৪-২৬)

যখন চরমে পৌঁছে ফেরাউনের অবাধ্যতা ও অনাচার, তখন নিপীড়িত জনতার আর্তি পৌঁছায় আল্লাহর দরবারে : ‘হে আমাদের রব!  আমাদের এই অত্যাচারীর জনপদ থেকে মুক্তি দাও...।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৭৫)

শুধু তা-ই নয়, ফেরাউন ছয় হাজার কিবতি সেনা নিয়ে মুসা (আ.)-এর অনুসারীদের তাড়া করে লোহিত সাগরের তীরে নিয়ে আসে। তখনই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরাউনের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হলো। আল্লাহ ঘোষণা করলেন, ‘সুতরাং আমি তাকে ও তার বাহিনীকে ধরলাম এবং তাদের সাগরে নিক্ষেপ করলাম।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৪০)

অত্যাচারী ফেরাউনের পতন ও পরাজয় হয়। মুসা (আ.)-এর দুর্বল, অসহায় অনুসারীরা পেল মুক্তি-স্বাধীনতা। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি বনি ইসরাঈলকে সাগর পার করিয়ে দিলাম। তখন ফেরাউন ও তার বাহিনী অত্যাচার ও সীমা লঙ্ঘনের উদ্দেশ্যে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল। তারপর যখন সে ডুবে মরার উপক্রম হলো, তখন বলতে লাগল, আমি বিশ্বাস করলাম, বনি ইসরাঈল যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত। (আল্লাহর পক্ষ থেকে জবাব এলো) এখন ঈমান আনছিস? অথচ এর আগে তো তুই অবাধ্যতা করেছিস এবং তুই তো অশান্তি সৃষ্টিকারীদের মধ্যে ছিলি।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৯৯, ৯১)

আরও পড়ুন


ভারতকে ১৪টি প্রাচীন শিল্প নিদর্শন ফেরত দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

ফল খাওয়ার উপযুক্ত সময় কোনটি জেনে নিন

জাহাজে হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করল ইসরায়েল

ক্রিকেট থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিরতি নিলেন বেন স্টোকস

১৮৮১ সালে মিসরের নিলের উপত্যকায় ফেরাউনের লাশ পাওয়া যায়। সম্পূর্ণ অবিকৃত ওই লাশ তখনো মমি হয়নি। ১৮৮১, মতান্তরে ১৮৯৮ সালে মমি করে ফেরাউনের লাশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা হয়। সাগরে ডুবে মরার কারণে ফেরাউনের শরীরে স্পষ্ট লবণাক্ততা। তিন হাজার ১১৬ বছরের অধিককাল ফেরাউনের লাশ সংরক্ষিত থাকার মধ্যে পবিত্র কোরআনের বাণীর নিত্যতা প্রমাণিত হয়—‘আজ আমি তোর দেহ সংরক্ষণ করব, যাতে তুই তোর পরবর্তীকালের মানুষের জন্য নিদর্শন হয়ে থাকিস...।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৯২)

লেখক : সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ

কাপাসিয়া, গাজীপুর

news24bd.tv রিমু 

 

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারা: আয়াত ১১-১৩, নিফাক বা কপটতা

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ১১-১৩, নিফাক বা কপটতা

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে ১১ থেকে ১৩ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। এই সূরার ১১ ও ১২ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন -

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ (11) أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَكِنْ لَا يَشْعُرُونَ (12
‘‘তাদেরকে (মুনাফিকদেরকে) যখন বলা হয়-পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে আমরা তো কেবল সংস্কার সাধনকারী।’’ (২:১১) 

‘‘জেনে রাখ এরাই অশান্তি সৃষ্টিকারী। কিন্তু তারা তা বুঝতে পারে না।’’ (২:১২)

নিফাক বা কপটতা এক ধরনের সংক্রামক রোগ। যদি এ রোগের চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে এ রোগে সমাজের বহু মানুষ আক্রান্ত হবে। সমাজ কলুষিত হয়ে পড়বে ভণ্ডামী, তোষামোদী, মিথ্যা বলা, পরচর্চা, কুৎসা রটনার মত নানা রকম ব্যাধিতে। মুনাফিক যেহেতু নিজে ধর্মীয় নির্দেশ মেনে চলে না, তাই চায় মুমিন ব্যক্তিরাও তার মত হয়ে যাক। বিভিন্নভাবে সে মুমিনদেরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালায়। আল্লাহর নির্দেশকে অবিরাম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে মানুষকে তাদের কর্তব্যের প্রতি অমনোযোগী করে তোলে। মুনাফিকদের এ ধরনের অন্যায় আচরণের কিছু উদাহরণ পবিত্র কোরআনের সূরা তওবায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে এ মুনাফিকরা ইসলামের দুশমনদের সাথে লড়াইয়ের সময় যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যেত, মুজাহিদদের মনোবল দুর্বল করতো কিংবা দানের ক্ষেত্রে ঈমানদারদেরকে উপহাস করতো। সমাজে সব রকম অপরাধের উৎসই হলো নিফাক বা কপটতা। মুনাফিক আসলে সত্যকে দেখার শক্তি হারিয়ে ফেলে। তাই সে নিজের অন্যায় অপরাধকে সংস্কার বলে মনে করে। কপট ব্যক্তির দৃষ্টিতে শত্রুর সাথে আপোষ করে চলার মধ্যে সমাজের মঙ্গল নিহিত। তাই যেভাবেই হোক আন্দোলন কিংবা যুদ্ধের সূচনা যাতে না হয় সে দিকে তারা খেয়াল রাখে। এর ফলে যদি মুসলমানরা দুর্বল হয়ে পড়ে তাতেও মুনাফিকের কিছু আসে যায় না।

এই দুই আয়াত থেকে আমরা এই শিক্ষা নিতে পারি যে, নিফাকের প্রভাব শুধু ব্যক্তির মধ্যেই নয় বরং সমাজের ওপরও এর প্রভাব পড়ে এবং সমাজকে নিয়ে যায় অশান্তির দিকে। আর নিফাকের একটি বৈশিষ্ট্য হলো আত্মগর্ব। মুনাফিকরা বলে-আমরাই কেবল উপযুক্ত ব্যক্তি এবং সংস্কার সাধনকারী,অন্য কেউ নয়। কোন ব্যক্তির অন্তরে যদি নিফাক অনুপ্রবেশ করে তাহলে তার উপলব্ধি ক্ষমতা লোপ পায় এবং সত্য কথা শুনতে ও দেখতে চায় না।

আরও পড়ুন


শোকাবহ আগস্টের প্রথমদিন আজ

১৬ ঘন্টার জন্য গণপরিবহন চালু

৫ তারিখের পর কী হবে, সেটা প্রধানমন্ত্রী জানাবেন : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

যে কয় ঘন্টা চলবে লঞ্চ


এর পর সূরা বাকারার ১৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آَمِنُوا كَمَا آَمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آَمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ (13

‘‘যখন মুনাফিকদেরকে বলা হয় অন্যান্যদের মত তোমরাও ঈমান আনো, তখন তারা বলে আমরাও কি নির্বোধদের মত ঈমান আনবো? জেনে রাখ এরা নিজেরাই নির্বোধ, কিন্তু এরা তা বুঝতে পারে না।’’ (২:১৩)

গর্ব, অহঙ্কার, অন্য মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, এ সবই নিফাকের বৈশিষ্ট্য। তারা নিজেদেরকে বুদ্ধিমান, প্রজ্ঞাবান ও চালাক মনে করে। আর মুমিনদেরকে ভাবে নির্বোধ,সহজ-সরল ও বোকা। তাই কপট বা মুনাফিক ব্যক্তিদেরকে যখন বলা হয়, কেন তোমরা নিজেদেরকে অন্যান্য মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছ এবং তাদের মত ঈমান আনো না? তখন তারা ঈমানদার ও বিশ্বাসীদেরকে বোকা বলে অভিহিত করে। যে মুমিন ব্যক্তিরা সুখ-দুঃখ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, ঝড়-ঝঞ্ঝা সর্বাবস্থায় তাদের ধর্ম ও নেতার পাশে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করে, তাদেরকে মুনাফিকরা নির্বোধ বলে মনে করে। আর পবিত্র কোরআন তাদের এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথার জবাবে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছে-যারা মুমিনদেরকে নির্বোধ মনে করে, তারাই আসল নির্বোধ। তবে সমস্যা হলো তারা তাদের এই মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতা সম্পর্কে জানে না। তারা তাদের অজ্ঞতা সম্পর্কেই কিছু জানে না। তাই তারা ভাবে অন্যরা কেউ কিছু জানে না আর তারা সব কিছু জানে বোঝে।

এই আয়াতের কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, মুমিনদের খাটো করা, অপমান করা মুনাফিকদের একটি পন্থা। এভাবে তারা নিজেদেরকে অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করতে চায়। অহঙ্কারী ব্যক্তির সাথে তার মতো আচরণ করা উচিত। যে ব্যক্তি মুমিনদের হেয় করে তাকেও সমাজে হেয় করতে হবে যাতে তার মিথ্যা অহঙ্কার ও দর্প চূর্ণ হয়। আল্লাহপাক মুনাফিকদেরকে এ দুনিয়াতেই অপদস্ত করেন। এবং তাদের কদর্য চেহারা উন্মোচিত করেন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর