সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২৮-৩৫, নবীদের অবমাননার শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২৮-৩৫, নবীদের অবমাননার শাস্তি

সূরা ইয়াসিন পবিত্র কুরআনের মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এই সূরার প্রথমে বর্ণিত দুই মুকাত্তায়াত হরফের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরায় রয়েছে ৮৩টি আয়াত। আজ এই সূরার ২৮ থেকে ৩৫ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে। এই সূরার ২৮ থেকে ৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى قَوْمِهِ مِنْ بَعْدِهِ مِنْ جُنْدٍ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا كُنَّا مُنْزِلِينَ (28) إِنْ كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ خَامِدُونَ (29) يَا حَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِ مَا يَأْتِيهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ (30)

“এবং তারপর আমি তার সম্প্রদায়ের উপর আকাশ থেকে কোন বাহিনী অবতীর্ণ করিনি এবং (এর আগেও) আমি (বাহিনী) অবতরণকারী ছিলাম না। (অর্থাৎ আমার রীতি এর আগেও এরূপ ছিল না।)” (৩৬:২৮)

“বস্তুতঃ এ ছিল এক মহানাদ। অতঃপর হঠাৎ সবাই স্তদ্ধ হয়ে যায়।” (৩৬:২৯)

“বান্দাদের জন্যে আক্ষেপ যে, তাদের কাছে এমন কোন রাসূলই (হেদায়েতের জন্য) আগমন করেননি যাকে তারা বিদ্রুপ করে নি।” (৩৬:৩০)

গত আসরে আমরা বলেছি, শাম অঞ্চলের আনতাকিয়া শহরের জনগণকে হেদায়েতের জন্য কয়েকজন নবী আগমন করলে সেখানকার লোকজন তাদেরক লাঞ্ছনা করে এবং তাদের নবুওয়াত মেনে নিতে অস্বীকার করে। এ সময় নবীদেরকে রক্ষা করার জন্য হাবিবে নাজ্জার নামক এক ব্যক্তি এগিয়ে এলে কাফেররা তাকে হত্যা করে। এরপর এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, যে জাতি নবীদের অস্বীকার করে এবং এক ব্যক্তিকে শহীদ করে ফেলে তাদের ওপর ঐশী আজাব অবধারিত হয়ে যায়। আল্লাহর আদেশে এমন গগনবিদারী আওয়াজ হয়ে যার ফলে ওই জাতির সব লোক মৃত্যুবরণ করে। এই আজাব ছিল পার্থিব শাস্তি এবং কিয়ামতে তাদের জন্য আরো কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে।

প্রকৃতপক্ষে কাফের ও গোনাহগার ব্যক্তিদের ধ্বংস করে ফেলা আল্লাহ তায়ালার জন্য অত্যন্ত সহজ কাজ। এই কাজের জন্য ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আসমান থেকে কোনো বাহিনী প্রেরণের প্রয়োজন নেই। বরং, আল্লাহর ইচ্ছায় আসমান ও জমিন থেকে এমন বিকট শব্দ হয় যে, এর ফলে সবাই নিস্তব্ধ হয়ে যায়।  পরের আয়াতে আল্লাহ তাঁর এ ধরনের বান্দাদের জন্য আক্ষেপ করে বলছেন, তারা আল্লাহর হেদায়েতের বাণী গ্রহণ না করে এমন আচরণ করে যা তাদের ধ্বংস ডেকে আনে। নবী-রাসূলদের ঠাট্টা করা থেকে এই আচরণ শুরু হয় এবং তাদেরকে লাঞ্ছনা করে শেষ পর্যন্ত অনেক নবীকে মেরে ফেলা হয়।

এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. কোন সমাজ যদি আল্লাহর ওলীদেরকে ব্যাঙ্গ-বিদ্রূপ করে বা তাদেরকে লাঞ্ছিত করে তাহলে সেই সমাজ আল্লাহর শাস্তিতে নিপতিত হতে পারে; যে শাস্তি আসে হঠাৎ করে।
২. দাম্ভিক ও অত্যাচারী ব্যক্তিদের হুমকিতে ভয় পাওয়া বা সত্য ত্যাগ করা যাবে না। আল্লাহ চাইলে অত্যাচারীরা অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে।
৩. অন্যরা সত্যকে বিদ্রূপ করলে আমাদের ঈমান যেন দুর্বল হয়ে না যায় এবং আমরা যেন ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে পিছ-পা না হই। সমস্ত নবী-রাসূল বিদ্রূপের শিকার হওয়া সত্ত্বেও সত্যের পথে অটল থেকেছেন। 

সূরা ইয়াসিনের ৩১ ও ৩২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

  أَلَمْ يَرَوْا كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنَ الْقُرُونِ أَنَّهُمْ إِلَيْهِمْ لَا يَرْجِعُونَ (31) وَإِنْ كُلٌّ لَمَّا جَمِيعٌ لَدَيْنَا مُحْضَرُونَ (32)

“তারা কি প্রত্যক্ষ করে না, তাদের পূর্বে আমি কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি, যারা আর তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) কাছে ফিরে আসবে না?” (৩৬: ৩১)

“এবং ওদের সবাইকে (কিয়ামতের দিন) আমার কাছে উপস্থিত হতেই হবে।” (৩৬:৩২)

আগের কয়েকটি আয়াতের সূত্র ধরে এই দুই আয়াতে সব মানুষকে উদ্দেশ করে আল্লাহ তায়ালা বলছেন: তোমরা কেন অতীত জাতিগুলোর ইতিহাস ও তাদের পরিণতি সম্পর্কে ভেবে দেখছ না? তোমরা কেন দেখছ না যে, তোমাদের পূর্বে কত শত জাতি এই পৃথিবীতে এসেছিল যাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে? তাদের মধ্যে অনেক জাতির ছিল সমৃদ্ধ সভ্যতা; ধনে-জ্ঞানে তাদের কোনো তুলনা ছিল না। কিন্তু আজ তাদের কোনো চিহ্ন এই পৃথিবীতে অবশিষ্ট নেই। আজকের সমাজে ফিরে আসার কোনো ক্ষমতাও তাদের নেই।

এই দুই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. পবিত্র কুরআন বারবার অতীত জাতিগুলোর ইতিহাস জানার ও তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার নির্দেশ দিয়েছে। শুধু বিনোদনের জন্য ইতিহাস জানা যথেষ্ট নয়।

২. পৃথিবী পরিচালনায় আল্লাহর রীতি অভিন্ন এবং অতীত জাতিগুলোর পরিণতি প্রায় একই রকম। কাজেই যে জাতি মুক্তি পেতে চায় তার উচিত এসব জাতির পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের চলার পথ সংশোধন করা।

আরও পড়ুন


দেশজুড়ে ভারি বর্ষণের আভাস, পাহাড় ধসের শঙ্কা

ত্ব-হা ও দুই সফরসঙ্গীর জবানবন্দির পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর

নওমুসলিম ইমামকে ডেকে নিয়ে মসজিদের সামনে গুলি করে হত্যা

আবু ত্ব-হাসহ সঙ্গীদের রাতেই আদালতে নিল পুলিশ


সূরা ইয়াসিনের ৩৩ থেকে ৩৫ নম্বর পর্যন্ত আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

وَآَيَةٌ لَهُمُ الْأَرْضُ الْمَيْتَةُ أَحْيَيْنَاهَا وَأَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَأْكُلُونَ (33) وَجَعَلْنَا فِيهَا جَنَّاتٍ مِنْ نَخِيلٍ وَأَعْنَابٍ وَفَجَّرْنَا فِيهَا مِنَ الْعُيُونِ (34) لِيَأْكُلُوا مِنْ ثَمَرِهِ وَمَا عَمِلَتْهُ أَيْدِيهِمْ أَفَلَا يَشْكُرُونَ (35)   

“এবং তাদের জন্যে একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে। (৩৬:৩৩)

“এবং আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং তাতে প্রবাহিত করি ঝরনাধারা।” (৩৬:৩৪)

“যাতে তারা তার ফল এবং নিজেদের হাতে উৎপাদিত শস্য খেতে পারে। সুতরাং তাদের কি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত নয়?” (৩৬:৩৫)

এই তিন আয়াতে বলা হচ্ছে: আখিরাতের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে মৃত ভূমির প্রাণ ফিরে পাওয়া। শীতকালে মাটি এমনভাবে শুকিয়ে যায় যাতে মনে হয় এখানে আর কোনোদিন শষ্য উৎপাদিত হবে না। কিন্তু গ্রীষ্মকালে বৃষ্টির পানি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই মৃত ভূমি আবার সতেজ হয়ে ওঠে এবং তাতে নানারকম শস্য ও ফলমূল উৎপাদিত হয়। প্রতি বছর মানুষ তার চোখের সামনে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেখে।

আল্লাহর দেয়া খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে পবিত্র কুরআনে খোরমা ও আঙ্গুরের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং এই দুই ফলকে আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নেয়ামত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হয়ত এ কারণে একথা বলা হয়েছে যে, এই দুই ফলে যেমন মানুষের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব খাদ্যগুণ রয়েছে তেমনি মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব ভিটামিনের সমাহার এই দুই ফলে ঘটেছে।

এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. প্রকৃতি হচ্ছে আল্লাহকে উপলব্ধি করার কিতাব যার প্রতিটি পৃষ্ঠা অধ্যয়নের মাধ্যমে মানুষ তার স্রষ্টাকে আরো ভালোভাবে চিনতে ও বুঝতে পারে।
২. মানুষের পক্ষে পার্থিব জগতে বসে তার মৃত্যু পরবর্তী জীবন উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। কিন্তু আখিরাত দিবসের সত্যতা উপলব্ধি করার জন্য আল্লাহ তায়ালা মাটি, গাছ ও গুল্মলতার জীবন ও মৃত্যু মানুষের সামনে বারবার দেখিয়ে দিয়েছেন।
৩. নানারকম খাদ্য ও ফলমূল ভক্ষণ করার কারণে মানুষের উচিত এসব খাদ্যের স্রষ্টা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বেশিরভাগ মানুষ অকৃতজ্ঞ হয়।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

ফজিলতপূর্ণ সূরা আল নাস

অনলাইন ডেস্ক

ফজিলতপূর্ণ সূরা আল নাস

পবিত্র কোরআন শরীফের সর্বশেষ সূরা আল নাস। এই সূরার আয়াত সংখ্যা ৬, এতে রুকু আছে ১টি। সূরা আল নাস মদিনায় অবতীর্ণ হয়। 

হাদিস শরীফে সূরা নাস ও সূরা ফালাক বারবার পড়ার জন্যে তাগিদ দিয়েছে। এই দুই সূরাকে এক সঙ্গে মুআওবিযাতাইন বলা হয়। 

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘এ দুইটি সূরা তোমরা পড়তে থাক। কেননা, এ দুইটি সূরার মতো কোনো সূরা তোমরা কোনো দিন পাবে না।’ (মুসলিম ৮১৪)

ফজর আর মাগরিবে এই দুই ওয়াক্তে ফরজ সালাতের পর সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস প্রতিটি সূরা তিন বার করে পড়া সুন্নত। অন্যান্য ফরজ সালাতের আদায় করে একবার করে এই তিন সূরা পড়তে হবে। (আবু দাউদ হা: ১৩৬৩)

আরও পড়ুন:


এবার তিউনিসিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বহিষ্কার করলেন প্রেসিডেন্ট

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে যেসব কাজে প্রতিযোগিতা করা উচিত

সূরা নাস পড়লে শয়তানের অনিষ্ট ও যাদু থেকে হেফাজতে থাকা যায়। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা সূরা ইখলাস ও এই দুই সূরা ( সূরা ফালাক ও সূরা নাস) পড়বে সে সকল বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকবে।’ (জামে তিরমিযী, হাদীস: ২৯০৩)

মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে নেক আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

আয়াতুল কুরসির ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

আয়াতুল কুরসির ফজিলত

পবিত্র কোরআন মাজীদের সুরা আল বাকারার ২৫৫তম আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি। এ আয়াতটিতে ১০টি বাক্য রয়েছে। যার প্রত্যেকটিতে আল্লাহর ক্ষমতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে মানব জাতির অনেক কল্যাণ সাধিত হয়, বিভিন্ন বিপদ আপদ থেকে বাঁচা যায়।

এই আয়াতটিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উবাই বিন কাব (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) উবাই বিন কাবকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার দৃষ্টিতে কোরআন মাজিদের কোন আয়াতটি সর্ব শ্রেষ্ঠ? তিনি বলেছিলেন, আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুআল হাইয়্যুল কাইয়্যুম তথা আয়াতুল কুরসি। তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাত দিয়ে তাঁর বুকে মৃদু আঘাত করে বলেন, আবুল মুনজির! এই জ্ঞানের কারণে তোমাকে মোবারকবাদ।  (মুসলিম, হাদিস : ১৩৯৬)

আরও পড়ুন:


এবার তিউনিসিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বহিষ্কার করলেন প্রেসিডেন্ট

মাহফুজ আনামের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সম্পাদক পরিষদ থেকে নঈম নিজামের পদত্যাগ


পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি এতই বরকতপূর্ণ যে রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি নামাজের পর এই আয়াত পড়বে, সে তার জান্নাতে যেতে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূরা বাকারার মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে, যে আয়াতটি পুরো কোরআনের নেতাস্বরূপ। তা পড়ে ঘরে প্রবেশ করলে শয়তান বের হয়ে যায়। তা হলো- ‘আয়াতুল কুরসি’।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে যেসব কাজে প্রতিযোগিতা করা উচিত

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে যেসব কাজে প্রতিযোগিতা করা উচিত

নেক কাজের মাধ্যমে মানুষের আমলের পাল্লা ভারী হয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়। তাই নেক কাজ করার সুযোগ থাকলেই তা আত্মনিয়োগ করার চেষ্টা করা আবশ্যক। বিশেষ করে যেসব কাজের ব্যাপারে প্রিয় নবী (সা.) বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছেন, সেগুলো আত্মনিয়োগ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা উচিত। নিম্নে এমন চারটি কাজ তুলে ধরা হলো;

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আজান ও প্রথম কাতারের মর্যাদা মানুষ যদি জানত আর কুর‘আ নিক্ষেপ (সমঅধিকারী একাধিক প্রার্থী থাকলে, সেখান থেকে একজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তৎকালে প্রচলিত একধরনের লটারি) ব্যতীত সে সুযোগ তারা না পেত, তাহলে কুর‘আ নিক্ষেপ করত, তেমনি আগেভাগে জামাতে শরিক হওয়ার মর্যাদা যদি তারা জানত, তাহলে তারা সেদিকে ছুটে যেত। তেমনি এশা ও ফজরের জামাতে হাজির হওয়ার মর্যাদা যদি তারা জানত তাহলে হামাগুঁড়ি দিয়ে হলেও তারা তাতে হাজির হতো। (বুখারি, হাদিস : ২৬৮৯)

হাদিসের বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায় যে উল্লিখিত আমলগুলো অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। তাই রাসুল (সা.) তাঁর প্রিয় উম্মতদের এই আমলগুলোর প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন। নিম্নে হাদিসের আলোকে এই আমলগুলোর কিছু ফজিলত তুলে ধরা হলো;
আজান দেওয়ার ফজিলত : আজান দেওয়ার মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর ঘরের দিকে আহ্বান করা অত্যন্ত সৌভাগ্যের কাজ। কারণ কিয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনগণ লোকদের মাঝে সুদীর্ঘ ঘাড়বিশিষ্ট হবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৭২৫)

অর্থাৎ কিয়ামতের দিন তারা মর্যাদায় উচ্চ হবে। শুধু তাই নয়, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর বহু মাখলুক তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। আবদুর রহমান বিন আবু সাসাআহ থেকে বর্ণিত, আবু সাঈদ (রা.) আমাকে বলেছেন, যখন তুমি গ্রামে বা বন-জঙ্গলে থাকবে, তখন উচ্চৈঃস্বরে আজান দেবে। কেননা আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, জিন, মানুষ, বৃক্ষলতা ও পাথর যে-ই এই আজান শুনবে, সে তাঁর জন্য (আখিরাতে) সাক্ষ্য দেবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৭২৩)

প্রথম কাতারে নামাজ পড়ার ফজিলত : জামাতের সহিত নামাজ পড়া অত্যন্ত সওয়াবের। তার মধ্যে বেশি সওয়াবের হলো, প্রথম কাতারে নামাজ পড়া। কারণ প্রথম কাতারে নামাজ পড়লে আল্লাহর রহমত, ফেরেশতাদের দোয়া পাওয়া যায়। রাসুল (সা.) নিজেও প্রথম কাতারের মুসল্লিদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করেছেন। বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত,...রাসুল (সা.) বলতেন, আল্লাহ প্রথম কাতারের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও প্রথম কাতারের জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন। (নাসায়ি, হাদিস : ৮১১)

ইরবাদ বিন সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) প্রথম কাতারের লোকের জন্য তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন এবং দ্বিতীয় কাতারের লোকের জন্য একবার। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৯৯৬)

আগে আগে জামাতে শরিক হওয়া : আগেভাগে মসজিদে যাওয়া, নামাজের জন্য অপেক্ষা করাও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ নামাজ আদায় করে যতক্ষণ মুসাল্লায় বসে থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতারা তার জন্য নিম্নরূপ দোয়া করতে থাকেন, (অর্থ : হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন), যতক্ষণ না তার অজু ভঙ্গ হয়। (নাসায়ি, হাদিস : ৭৩৩)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি মসজিদে নামাজের অপেক্ষায় থাকে, সে যেন নামাজের মধ্যে থাকে। (নাসায়ি, হাদিস : ৭৩৪)

এশা ও ফজরের নামাজ জামাতে পড়া : সাধারণত মানুষ এই দুটি ওয়াক্ত মসজিদে গিয়ে জামাতের সহিত আদায় করার ব্যাপারে অলসতা করে। অথচ এই দুটি ওয়াক্ত জামাতের সহিত আদায় করলে সারা রাত নামাজ পড়ার সওয়াব পাওয়া যায়। আবদুর রহমান ইবনে আবু আমরাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন মাগরিবের নামাজের পর উসমান ইবনু আফফান মসজিদে এসে একাকী এক জায়গায় বসলেন। তখন আমি তার কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে বললেন, ভাতিজা, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত নামাজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল সে যেন সারা রাত জেগে নামাজ আদায় করল। (মুসলিম, হাদিস : ১৩৭৭)।

মহান আল্লাহ সকলকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

ইসলামে মিসওয়াকের গুরুত্ব ও ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

ইসলামে মিসওয়াকের গুরুত্ব ও ফজিলত

পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার ইসলামী পদ্ধতিগুলোর একটি হলো মিসওয়াক। মিসওয়াক পবিত্রতা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘মিসওয়াক মুখের পবিত্রতার মাধ্যম ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উপায়।’ নাসায়ি। 

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত মিসওয়াক করে তাঁর দাঁতগুলো পরিষ্কার রাখতেন। তাঁর দাঁতগুলো এতটাই ঝকঝকে রাখতেন যে, তিনি কথাবার্তা বললে মনে হতো যেন দাঁত থেকে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। হুজাইফা (রা.) বলেন, ‘রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুম থেকে উঠতেন তখন মিসওয়াক করে নিতেন।’ বুখারি।

মিসওয়াক করার ফজিলত:

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম বলেন, মিসওয়াক করে যে নামাজ আদায় করা হয়, সে নামাজে মিসওয়াকবিহীন নামাজের তুলনায় সত্তরগুণ বেশি ফজিলত রয়েছে। (বায়হাকি)

মিসওয়াকে আল্লাহর রিজামন্দি হাসিল হয়।

দারিদ্র্যতা দূর হয়ে সচ্ছলতা আসে এবং উপার্জন বাড়ে।

পাকস্থলী ঠিক থাকে ও শরীর শক্তিশালী হয়।

স্মরণশক্তি ও জ্ঞান বাড়ে, অন্তর পবিত্র হয়, সৌন্দর্য বাড়ে।

ফিরিশতা তার সঙ্গে মুসাফাহা করেন, নামাজে বের হলে সম্মান করেন, নামাজ আদায় করে বের হলে আরশ বহনকারী ফিরিশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

শয়তান অসন্তুষ্ট হয়।

ফুলসিরাত বিজলীর ন্যায় দ্রুত পার হবেন এবং ডান হাতে আমলনামা পাবেন, ইবাদতে শক্তি পাবে।

মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হবে, জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হবে। পূত-পবিত্র হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

পবিত্র কোরআনুল কারিমে বর্ণিত নবীজির নামসমূহ

সাআদ তাশফিন

পবিত্র কোরআনুল কারিমে বর্ণিত নবীজির নামসমূহ

মহান আল্লাহ তার প্রিয় বন্ধুকে ‘রহমত’ বলে সম্বোধন করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, আমি তোমাকে (রাহমাতান লিল আলামিন) বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)

মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বন্ধুকে আমাদের জন্য পাঠিয়েছেন নিয়ামতস্বরূপ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ওয়াজকুরু নিমাতাল্লাহি আলাইকুম’ তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর নিয়ামতকে স্মরণ করো। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১০৩)

কিছু কিছু তাফসিরবিদের মতে, এখানে ‘নিয়ামত’ দ্বারা রাসুল (সা.)-এর কথা বলা হয়েছে। 
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, হে নবী, আমি আপনাকে পাঠিয়েছি, ‘শাহেদ’ সাক্ষ্যদাতা, ‘মুবাশশির’ সুসংবাদদাতা ও ‘নাজির’ সতর্ককারীরূপে। (সুরা আহজাব, আয়াত : ৪৫)

ওই আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বন্ধুকে তিনটি নামে সম্বোধন করেছেন। শাহেদ, মুবাশশির ও নাজির।

এর পরের আয়াতেই মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বন্ধুকে আরো দুটি নামে সম্বোধন করেন। ১. ‘দায়ি ইলাল্লাহ’। ২. ‘সিরাজাম মুনিরা’। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে (দায়ি ইলাল্লাহ) তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও (সিরাজাম মুনিরা) উজ্জ্বল প্রদীপরূপে। (সুরা আহজাব, আয়াত : ৪৬)

আন নাবিয়্যুল উম্মি : ইরশাদ হয়েছে, যারা অনুসরণ করে রাসুলের। যিনি উম্মি নবী। (সুরা আরাফ, আয়াত : ১৫৭) এই আয়াতে মহান নবী (সা.)-কে ‘আন নাবিয়্যুল উম্মি’ বলে সম্বোধন করেছেন।

কখনো মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বন্ধুকে মুজ্জাম্মিল বলে সম্বোধন করেছেন। ‘মুজ্জাম্মিল’ মানে হলো, চাদরে আবৃত ব্যক্তি। একবার রাসুল (সা.) চাদরে আবৃত ছিলেন। সেই সময় আয়াত নাজিল হলো, ‘ইয়া আইয়ুহাল মুজ্জাম্মিল’ হে বস্ত্রাবৃত, (সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত : ১)

আবার কখনো সম্বোধন করেছেন ‘মুদ্দাসসির’ বলে। যার অর্থ হলো বস্ত্রাবৃত। ইরশাদ হয়েছে, ‘ইয়া আইয়ুহাল মুদ্দাসসির’ হে বস্ত্রাবৃত, (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত : ১)

আরও পড়ুন:

শিল্পকারখানা খুললে আইনানুগ ব্যবস্থা

আবারও মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল

কখনো সম্বোধন করেছেন, ‘আমিন’ বলে, যার অর্থ : বিশ্বস্ত। ইরশাদ হয়েছে। নিশ্চয়ই কোরআন সম্মানিত রাসুলের আনিত বাণী। যে শক্তিশালী আরশের মালিক, আল্লাহর নিকট মর্যাদাসম্পন্ন। মান্যবর ও বিশ্বাসভাজন। (সুরা তাকভির, আয়াত : ১৯-২১)

এ ছাড়া মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবীকে ‘হাদি’, ‘খাতামুন নাবিয়্যিন’ প্রভৃতি নামে সম্বোধন করেছেন।

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর