বাবা, সমষ্টি ও মি. হাইড বটিকা

মিল্লাত হোসেন

বাবা, সমষ্টি ও মি. হাইড বটিকা

ব্যক্তি বাবারা যদি এতো ভালোই হবেন, সমষ্টির এতো দুঃখ কেনে?

১৮৮৬ সালে প্রকাশিত স্কটিশ লেখক রবার্ট লুই স্টিভেনসনের প্রবাদবাক্যে পরিণত হওয়া "স্ট্রেঞ্জ কেস অব ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড" নামের উপন্যাসের মূল চরিত্র ডাক্তার হেনরি জেকিল এমন একটি ঔষধ আবিষ্কার করেন যা সেবন করলে মানুষ তার স্বভাবের বিপরীত রূপ ধারণ করতে পারতেন। এভাবে ড. জেকিল দিনমানে থাকতেন দয়া, মায়া ও মানবিকতায় উদ্ভাসিত একজন আদর্শ মানুষ। সেই তিনিই আবার রাতে ওই ওষুধটি সেবন করে হয়ে উঠতেন ভীষণ খারাপ মানুষ। হেন অপকর্ম 'নেই তিনি করতে পারেন না। আরেকটি ঔষধ সেবনের মাধ্যমে আবার তিনি স্বাভাবিক ড. জেকিলে রূপান্তরিত হতে পারতেন। এভাবে নিজের মধ্যে এক দ্বৈতসত্তাকে ধারণ করতে থাকেন। এই অশুভ সত্তাটির নাম দিলেন তিনি 'মি. হাইড'।

নিজের সন্তানকে পৃথিবীর সব বাবাই ভালবাসেন, এটা বিরল কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বলেই দেয়া যায়। পুত্র-কন্যার কাছেও "পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা"ই হন তারা। আজ বাবা দিবসে সামাজিক ও সংবাদ মাধ্যমের সাথে সাথে ঘরোয়া জীবনেও বাবার প্রতি সন্তানদের আবেগ-ভালবাসার প্রকাশ উথলে উঠতে দেখা যাবে।

আমাদের বাবারা বা আমরা নিজেরাও যারা বাবা, তারা নিজ নিজ সন্তানের জন্য যে কোনো কিছু করতে একপায়ে খাড়া সবসময়। ছেলে-মেয়ে নাতি-নাতকুরের জন্য যে কোনো আত্মত্যাগেই প্রস্তুত থাকেন সব বাবাই। মৃত্যুমুখে থাকা পুত্র হুমায়ুনের জন্য সম্রাট বাবুরের "পিতৃস্নেহের কাছে হইয়াছে মরণের পরাজয়" এর গল্প তো কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছে।

ঠিক আছে, মানুষের ইতিহাসে এর অপরিসীম মূল্য আছে বটে, তবে অনেকখানি তলিয়ে দেখলে নেতি'র দিকটাও উঠে আসবে। যুদ্ধজয় বা রাজ্য পরিচালনার দোহাই দিয়ে কিংবা নিছক খামখেয়ালিতে কতো লক্ষ সন্তানকে পিতৃ-মাতৃহারা করেছিলেন, জীবনকে উল্টে দিয়েছিলেন কতো কোটি সন্তানের- সেই হিসেব ইতিহাসে নেই। "আব্বু, তুমি কান্না কত্তেছো যে" আখ্যান রচয়িতাও তো কাজ শেষে হাত-মুখ ধুয়ে ভাত খেয়ে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়েছেন নিশ্চিতভাবে।

সন্তানকে কী খাওয়াবেন, কোন স্কুলে পড়াবেন, আদব-কায়দা শেখাবেন, তাকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অহর্নিশ উদ্বিগ্ন পিতৃশ্রেষ্ঠরা অন্যের সন্তানদের প্রতি কেমন আচরণ করেন, কতোটা ভাবেন- সেটাই বিবেচ্য।

শিশুধর্ষক, নকল N95 মাস্ক গছানো, খাবারে ভেজাল দেয়া, পরের হক মেরে খাওয়া, সুপারি কিলার, নারী পাচারকারী, মাদকের কারবারি, যুদ্ধবাজ সেনাপতি-রাজা-বাদশা, দাসব্যবসায়ী, দুইনম্বরী পয়সা কামানো লোকগুলোও সন্তানদের ভালবাসেন, অকৃপণভাবে। আমাদের মাঝে এই বাবারাও আছেন বা চারপাশে কিলবিল করছেন। সংখ্যায় লক্ষ-কোটি হবেন।


আরও পড়ুনঃ

 

ভাল থাকুক বিশ্বের সকল বাবা, যেভাবে দিবসটির শুরু

বিএনপি থেকে শফি আহমেদ চৌধুরীকে বহিষ্কার

ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট রায়িসিকে অভিনন্দন জানাল হামাস

বিশেষ ট্রেন চালু, মাত্র এক ঘণ্টাতেই ঢাকা-গাজীপুর

 


বাস্তবে, বেশিরভাগ বাবাই কিন্তু ড. জেকিল এন্ড মি. হাইড। কাউকে কখনো বুক দেখান তো, কাউকে কখনো পিঠ! নিয়মিত সেবন করেন 'মি. হাইড' বটিকা!

আপনি যদি ভাল বাবা হন তবে অন্যের সন্তানদের প্রতিও ন্যায্য আচরণ করুন। আর ভাল সন্তান হতে চাইলে নিজের বাবাকেও বলুন, আপনার ভালোর জন্য তিনি যেনো অন্যের সন্তানদের অমঙ্গল না করেন।

এই নিক্তিতে যে বাবা উৎরে যেতে পারেন, তাঁকেই লাখো সেলাম।

(মিল্লাত হোসেন, বিচারক)

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

আর তাতে নেশা ফেশা কিছুই হবে না!

তসলিমা নাসরিন

আর তাতে নেশা ফেশা কিছুই হবে না!

পোস্ত আমাদের পূর্ব বঙ্গের খাবার নয়। তারপরও আমি মাঝে মাঝে  ঝিঙে পোস্ত রান্না করি। আজ প্রথম করলাম পোস্ত বড়া। যেহেতু ছোটবেলা থেকে পোস্ত বড়া খেয়ে অভ্যস্ত নই, তাই আমার ঘটি বন্ধুদের মতো নাচানাচি করিনি। খেয়েছি, ব্যস। নতুন একটা রান্না শিখলে যে আনন্দ, সেই আনন্দটুকুই শুধু হলো। 

হতো যদি আজ সেইসব বড়া, যেগুলো মা বানাতো, যেগুলো এখনও মুখে লেগে আছি, তাহলে নাচানাচি নিশ্চয়ই কিছুটা হতোই। আজ তবে কী দুঃখে পোস্ত বড়া বানাতে গেলাম? একটাই দুঃখে, দু'তিনদিন ঘুম ভালো হচ্ছে না। 

হচ্ছে না না বলে আসলে বলা উচিত নিজেকে আমি ঘুমোতে দিচ্ছি না। জীবনের সময় ফুরিয়ে আসছে বলে বালিশেই মাথা রাখছি না। বালিশে আমার মাথা মানেই দেড় মিনিটের মধ্যে গভীর ঘুমে চলে যাওয়া।দেখি পোস্ত আমার মাথাকে টেনে বালিশে নিতে পারে কিনা। 

অপিয়ামের বীজ। ভাবলেই গা কেঁপে ওঠে। যে অপিয়াম থেকে মরফিন আর হেরোইনের মতো ভয়াবহ জিনিস বেরোয়, সে অপিয়ামের বীজ মুঠো মুঠো খেয়ে নেব আর তাতে নেশা ফেশা কিছুই হবে না, শুধু একটু মাথা আর বালিশ হলেও হতে পারে,  ভাবাই যায় না।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 

আরও পড়ুন:


দেশে একদিনে করোনায় মৃত্যু বাড়ল

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১২ দিন পর চালু


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

পৃথিবী-মানবজাতি রক্ষায় সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে ভাবার বিকল্প নেই

শান্তা আনোয়ার

পৃথিবী-মানবজাতি রক্ষায় সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে ভাবার বিকল্প নেই

শান্তা আনোয়ার

১৯৭২ সালে, এমআইটি থেকে বিজ্ঞানীদের একটি দল ক্লাব অফ রোম নামের একটি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী নেতা এবং রাজনীতিবিদদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে দায়িত্ব পাওয়ার পরে মানবজাতির ভবিষ্যত কেমন হতে যাচ্ছে তা জানার জন্য একটি কম্পিউটার মডেল ব্যবহার গবেষণা করেছিল।  

জনসংখ্যা, শিল্প উৎপাদন ও খাদ্য উৎপাদন দূষণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে জটিল মিথস্ক্রিয়াগুলি থেকে এই গবেষণার ভবিষৎবাণী করা হয়েছিলো। 

গবেষণায় দেখা যায় যে, যাকে আমরা "স্থিতিশীল বিশ্ব" পরিস্থিতি বলি-যেখানে বিশ্বব্যাপী সামগ্রিক পতন যেমন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক মূল্যবোধ, স্বাস্থ্য ইত্যাদি পতন এড়ানো এবং জীবনযাত্রার মান স্থিতিশীল রাখা তখনি সম্ভব হতে পারে, যদি সামাজিক মূল্যবোধগুলিতে অগ্রাধিকার দিয়ে নাটকীয় পরিবর্তন আনা হয়। 

পরিবেশকে ধ্বংস করে তথাকথিত অর্থনৈতিক বিকাশ অব্যাহত থাকলে তা খাদ্য সংকট সৃষ্টি করতে পারে এবং এমন সমাজ তৈরি করতে পারে যা মানব কল্যাণকে ডুবিয়ে দিতে দেবে। 

যেই সময় এমআইটির এই গবেষণাটা প্রকাশিত হয়েছিলো তখন সেটাকে নিয়ে তুমুল সমালোচনা এবং বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিলো। তবে আজকের বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে দেখলে অনুধাবণ করা যায় যে এম আইটির গবেষণার ভবিষ্যদ্বাণীটি বিস্ময়করভাবে সঠিক ছিলো।

২০২০ সালের নভেম্বরে জার্নাল অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোলজিতে হিসাবরক্ষণ সংস্থা কেপিএমজির পরিচালক গয়া হেরিংটন এর প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কীভাবে গত কয়েক দশকের তথ্য ও উপাত্ত এম আইটির গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলকে সমর্থন করছে।  

গত কয়েক দশকের ডেটা বিশ্লেষণ করে, তিনি চারটি পৃথক সম্ভাব্য সিনারিও বা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছিলেন: প্রথম দুটি সিনারিও ছিল দুটি ভিন্ন ভিন্ন “বিজনেস এজ ইউজুয়াল” পরিস্থিতি বা যেভাবে সবকিছু চলছে সেভাবেই সবকিছু চালানো, তৃতীয় পরিস্থিতি বা সিনারিও ছিল একটি "স্থিতিশীল বিশ্ব পরিস্থিতি," এবং চতুর্থ সিনারিও ছিল “কম্পরেহেন্সিভ প্রযুক্তি নির্ভর” পরিস্থিতি , যেখানে মানবিক প্রযুক্তিগত বিকাশ ব্যবহার করে উন্নয়নের কারণে পরিবেশগত বিপর্যয়কে মোকাবেলা করার পথকে উদ্ভাবন করতে মানবজাতি সক্ষম হয়েছে । 

প্রথম দুই ধরণের  “বিজনেস এজ ইউজুয়াল পরিস্থিতি” বা যেই পরিস্থিতির মধ্যে আমরা ছিলাম তা চললে একবিংশ শতাব্দীর মধ্যে তা সামগ্রিক বৈশ্বিক পতনের সূত্রপাত করবে বলে দেখা গিয়েছিল। 

প্রথম দুইটা সিনারিওর একটি সিনারিওতে প্রাকৃতিক সম্পদ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার কারণে এবং দ্বিতীয় সিনারিওতে দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন বা পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে কম্প্রিহেন্সিভ প্রযুক্তি পরিস্থিতি যা পরিবেশগত বিপর্যর মোকাবেলায় সক্ষম ছিলো তা একবিংশ শতাব্দীর পুরোটায় তার পতন এড়াতে সক্ষম হয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে এই গবেষণার মানবকল্যাণ হ্রাস পেয়েছিল।

আরও পড়ুন:


হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হচ্ছে

মেঘনায় ট্রলার ডুবে জেলের মৃত্যু, জীবিত উদ্ধার ১১

পর্যটকদের জন্য খুলছে সৌদির দরজা

বগুড়ার গাবতলীতে ৩০০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ


স্থিতিশীল বিশ্ব পরিস্থিতি সিনারিওতে, যেখানে বিশ্ব নাটকীয়ভাবে সামাজিক মূল্যবোধ এবং অগ্রাধিকারগুলি পরিবর্তন করেছে, সেই মডেল বা সিনারিও অনুসারে একবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে মানুষের জনসংখ্যা স্থিতিশীল হয়ে পড়েছিল এবং জীবনযাত্রার মান বজায় ছিল।

পৃথিবী রক্ষায়, মানবজাতিকে রক্ষায় আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবার কোন বিকল্প নাই।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ভুল করে ইতালিতে এক নারীকে ৬ ডোজ ফাইজারের টিকা দেয়া হয়েছিল

শওগাত আলী সাগর

ভুল করে ইতালিতে এক নারীকে ৬ ডোজ ফাইজারের টিকা দেয়া হয়েছিল

পৃথিবীর বিভিন্ন  দেশে কোভিড এর টিকা  দিতে গিয়ে টুকটাক ভুল ভ্রান্তি হচ্ছে। ইতালী প্রবাসী সাংবাদিক পলাশ রহমান ফেসবুকে এক পোষ্টে জানিয়েছেন,”ইতালিতে এক নারীকে এক সাথে ৬ ডোজ ফাইজারের টিকা দেয়া হয়েছিল ভুল করে। বিষয়টা যখন বোঝা যাওয়ার সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পর্যবেক্ষণে রাখা হয় দুদিন। বিশেষ কোনো অসুবিধা না হওয়ায় তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। আরো কিছু দিন নিয়মিত তার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেয়া হয় টেলিফোনে।

ওই নারী সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। ৬ ডোজ টিকার জন্য তাকে বিশেষ কোনো অসুবিধায় পড়তে হয়নি। প্রায় একই রকম ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি এবং সিঙ্গাপুরেও ঘটেছে।”

কানাডায় কোভিডের টিকা  দিতে গিয়ে ’স্যালাইন ওয়াটার’ দিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ১৮ বছরের কম বয়ষী ডজনখানেক ছেলে মেয়েকে ভুল টিকা দেয়া হয়েছে। আঠারোর কম বয়েসীদের জন্য যখন কেবলমাত্র ফাইজারের টিকা  অনুমোদিত তখন এই ছেলেমেয়েদের মডার্নার টিকা দেয়া হয়েছে ভুল করে। 

এই ভুলটা নানা দেশেই হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে ব্যবস্থা নিয়েছে, সতর্ক হয়েছে যাতে আর কেউ কোনো ধরনের ভুলের শিকার না হন।

একটা বিশ্বমহারীতে গণটিকার ক্ষেত্রে দু একটি ভুলের ঘটনা যাতে টিকা বিরোধী ক্যাম্পেইনে পরিণত না হয়, সে দিকে নজর রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

শিক্ষিত কে?

হারুন আল নাফিস

শিক্ষিত কে?

শিক্ষিত কে? যে শিখেছে বা শিক্ষা সম্পন্ন করেছে সে? না যে পড়ালেখা করেছে বা জানে সে? বাংলায় যে পড়ালেখা করেনি তাকে বোঝানোর জন্য একটি শব্দ আছে- আনপড় বা আনপড়া। হিন্দিতেও আছে শব্দটি। আগে গ্রামে-গঞ্জে এই শব্দটি বেশি ব্যবহার হত। পরে পরে অশিক্ষিত শব্দটি এর জায়গা দখল করে নিয়েছে।

আধুনিক যুগে, অক্ষর বা লিখিত শিক্ষা পদ্ধতি আবিষ্কার ও চালুর পর অক্ষর না চেনা বা লিখতে না পারা মানুষদের নিরক্ষর বলার চল হয়েছে। তবে অশিক্ষিতই বলা হয় বেশি। ‘শিক্ষা’ প্রসারের সাথে স্বল্প শিক্ষিত মানুষদের আমরা তাচ্ছিল্য ভরে অশিক্ষিত বলে তৃপ্তি বোধ করি।

প্রশ্ন হলো এর আগে কি সব মানুষ অশিক্ষিত ছিল? নিশ্চিয়ই না। তবে তারা আনপড় ছিলো। মানুষ জন্মের পর থেকেই, এমনকি মায়ের পেটে থাকতেই শিখতে শুরু করে। এটা বৈজ্ঞনিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আর আমৃতু সে শিখতে থাকে। কাজেই কোনো মানুষকে সত্যিকার অর্থে অশিক্ষিত বলার কোনো সুযাগ নাই।

আনপড় হলেই বা পড়ালেখা না জানলেই মানুষ অশিক্ষিত হয় না, অজ্ঞানীও হয় না। জানাশোনার মাধ্যমে পরোক্ষ পাঠ, অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি বিভিন্ন উপায়, সর্বোপরি ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা’ মানুষকে শিক্ষিত ও জ্ঞানী করে তুলতে কার্পণ্য করে না।

আবার পড়ালেখা জানলেই মানুষ জ্ঞানী হয় না। শুধু তাই নয়, নামে হলেও সত্যিকার শিক্ষিতও হয় না। তবু বারবার হতাশ হওয়ার পরও কেন জানি আমরা শিক্ষিত নামধারী হলেই তার কাছ থেকে শিক্ষা ও জ্ঞান লাভের মিছে আশা করা থেকে বিরত হতে পারি না।

পড়ালেখা একটা বিদ্যা মাত্র। আর দশটা বিদ্যার মতোই। যেমন, চুলকাটা বিদ্যা, জুতা সেলাই বিদ্যা, রিকশা চালানো বিদ্যা, আসবাবপত্র বানানোর বিদ্যা আরও কত কী! আর ঠিক মতো পড়ালেখা না করে বিকল্প পদ্ধতিতে পাস করলে শিক্ষা দূরে থাক বিদ্যাই আয়ত্ত হয় না।

তবে হ্যাঁ, পড়ালেখা জানলেই কেউ জ্ঞানী না হলেও তার জন্য হওয়াটা সহজ হয়ে যায়। জ্ঞানী হওয়ার পথ খুলে যায় পড়ালেখা জানা মানুষের সামনে। কিন্তু এ পথে জ্ঞান লাভ করতে উদ্বুদ্ধ হয় এবং পরিশেষে সফল হয় এমন মানুষের সংখ্যা সবসময়ই বিরল।

মনে রাখা দরকার সনদধারী হলেই কাউকে ভাল মানের পড়ালেখা জানা মানুষ বলে মনে করারও কোনো কারণ নেই, শিক্ষিত বা জ্ঞানী হওয়া তো নয়ই। কেননা সনদের শ্রেণি এবং তা লাভ করার উপায় সম্পর্কে আমরা সবাই কম-বেশি জানি।

পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়া, প্রশ্নপত্র ফাঁস, চুরি বা নকল করে অথবা বেঞ্চের ওপর পিস্তল রেখে বই দেখে লেখা, পরীক্ষার পর ঘরে বসে উত্তরপত্র লেখা এবং টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট কেনা এ রকম বেশ কিছু পদ্ধতিতে পরীক্ষা পাসের বা শিক্ষিতের সনদ লাভের বিষয় ভুলে থাকলেই তো আর এসব মিথ্যা হয়ে যায় না!

শিখতে গিয়ে ভুল বা উল্টা শেখা মানুষের সংখ্যাও সমাজে একেবারে কম নয়। এ ছাড়া শিক্ষার অপব্যবহার তো আছেই। খেয়াল করলে দেখা যাবে মানুষ সুযোগ পেলে শিক্ষার অপব্যবহার করতে কসুর করে না। নীতি-নৈতিকতাহীন মানুষ শিক্ষার ব্যবহার নয়, অপব্যবহার করতেই আগ্রহী হয় বেশি।

আমরা দীর্ঘদিন থেকে সনদের ভারবাহী কিংবা গলায় সনদের ট্যাগ ঝুলিয়ে রাখা লোকদেরই কেবল শিক্ষিত বলার যে রেওয়াজ চালু করেছি তাতে করে শিক্ষিত নামধারী মূর্খরা যে সমাজের বিশাল ক্ষতি করে যাচ্ছে তা বুঝতে তো নিশ্চয়ই জ্ঞানী বা শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

পরবর্তী খবর

মাস্ক পরানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে আমার কিছু প্রস্তাব

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু

মাস্ক পরানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে আমার কিছু প্রস্তাব

আমরা যা করতে পারি:

০১. আমরা আমাদের টেলিভিশনগুলোতে সকল রাজনৈতিক দলের পরিচ্ছন্ন সিনিয়র নেতা বলে এখনও যাঁরা পরিচিত তাঁদের স্পেস দিতে পারি। তাঁরা এক মিনিট, দু’মিনিট সময় নিয়ে নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের কর্মী, সমর্থকসহ সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখবেন। আর সেসব বক্তব্য দেশের সকল টিভিস্টেশন, পত্রিকা বাধ্যতামূলকভাবে এই রেকর্ডকৃত, মুদ্রিত বক্তব্য প্রতিদিন নিয়মিত বিরতিতে বারবার প্রচার করবে, প্রকাশ করবে।

০২. একইভাবে বায়তুল মোকাররমের খতিবসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, বিভিন্নপ্রান্তের শ্রদ্ধেয় আলেম, নামকরা মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, পীরসাহেবসহ মন্দির, আশ্রম, উপাসনালয়ের শ্রদ্ধেয় পুরোহিত, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের দিয়ে মাস্ক পরার আহবান সম্বলিত বক্তব্য প্রচার করতে পারি।

০৩. দেশের শ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ, চিকিৎসকদেরও একইভাবে কাজে লাগাতে পারি।

০৪. মাস্কপরার আহবান সম্বলিত লাখ লাখ ছোট ছোট লিফলেট বিমান থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে, শহরে শহরে ছড়িয়ে দিতে পারি। আকাশ থেকে ফেলা এসব লিফলেটে মাস্কপরার আহবানের সাথে গণস্বাক্ষরের মত রাজনীতিক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সামাজিক, সাংস্কৃতিব্যক্তিত্বদের নাম উল্লেখ থাকবে। স্বাধীনতাপূর্ব এবং স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বিভিন্ন ইস্যুতে হালকা সেসনা বিমান থেকে এমন লিফলেট ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়গুলো আমরা দেখেছি। মানুষকে এসব লিফলেট দারুণভাবে প্রভাবিতও করেছে। 

পাশাপাশি

০৫. বাড়ির বাইরে যারা মাস্ক পড়বে না তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অনুকম্পাহীন আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ। 

কেন এমন চেষ্টা এবার সেটা একটু বলা দরকার...

করোনাকালের দেড় বছরেও আমাদের দেশের শিক্ষিত-অশিক্ষিত, বৃদ্ধ, তরুণ-তরুণী সব মিলে ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ মানুষকে মাস্ক পরতে অভ্যস্ত করানো যায় নি। নানা কারণ, যুক্তি, কুযুক্তি, অজুহাতে মানুষ মাস্ক পরেনি।

এই মাস্ক না পরা মানুষের অনেকগুলো ক্যাটাগরি আছে। এর মধ্যে অন্ধ, গোড়া ধর্মবিশ্বাসী, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ যেমন আছে, ঠিক তেমনি চলতি হাওয়ায় বড় হওয়া তরুণের দলও আছে।

আরও পড়ুন


করোনা আক্রান্তকে সমাজচ্যুত করার মানসিকতা বন্ধ করি

অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার

আগস্টের শোককে আমরা শক্তিতে রূপান্তরিত করবো: আব্দুর রহমান

চার মাস ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নায়ক ফারুক


এই যে ৮০/৮৫ ভাগ মানুষ মাস্ক পরেনি বা আমরা তাদের মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ কিংবা বাধ্য করতে পারিনি তারই খেসারত দিচ্ছি  প্রতিদিন লাশের মিছিল বাড়িয়ে, অসুস্থ মানুষে হাসপাতালের আঙিনা ভরিয়ে।

আমরা পারিনি। টিভির বিজ্ঞাপন, টকশোর তুমুল বক্তা, মুখচেনা রাজনীতিক, ডাক্তার, বিশেষজ্ঞদের কথা তারা শুনেনি, আমলেই নেয়নি, বিশ্বাস করেনি, আস্থা রাখেনি আমাদের উপর। কারণ আমরা তাদের বিশ্বাস, আস্থা অনেক আগেই নানা কারণে হারিয়েছি। তাই বলে হালতো ছেড়ে দেয়া যাবে না। হাল ছেড়ে দেয়ার মানে হারিয়ে যাওয়া।

আন্তরিক ইচ্ছা থাকলে এসব কাজ খুব অনায়াসেই করা সম্ভব এবং আমার বিশ্বাস এমন উদ্যোগ বর্তমান প্রচারণার তুলনায় মানুষকে শতগুন প্রভাবিত করবে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর