রুপকথার বাস্তব গল্প ধ্বংস করছে ফেসবুকের নকল বিজ্ঞাপন

অনলাইন ডেস্ক

রুপকথার বাস্তব গল্প ধ্বংস করছে ফেসবুকের নকল বিজ্ঞাপন

কেরি সিবার্ট থাকেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। তিনি রবিন উইট নামে এক ভাস্করের কাজের বেশ বড় ভক্ত। ফেসবুকে প্রতিদিনই তার ভাস্কর্যের কিছু বিজ্ঞাপন তার সামনে আসে। ফলে তিনি একরকম নিশ্চিত হয়েই তার বাগানে সাজিয়ে রাখার জন্য অনলাইনে চারটি ভাস্কর্যের অর্ডার দেন। তবে এখনো কিছুই পাননি।

একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বাস করা ভিকি কানিংহ্যাম। ফেসবুকের একটি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে এটি তাকে আরেকটি ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি একই রকম দেখতে দুইটি ভাস্কর্যের অর্ডার দেন। তবে তিনিও এখনো কিছুই হাতে পাননি। পাবেন কিনা এটি নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

আরও একজন ২৮ ইউরো দিয়ে দুটো ভাস্কর্যের অর্ডার দিয়ে পেয়েছেন নিম্নমানের প্লাস্টিকের তৈরি এক ভাস্কর্য, ছবির সাথে যার কোন মিলই নেই।

এক দশক আগে রবিন রাইট ''ফ্যান্টাসিওয়্যার'' নামে শখের বশে একটি প্রতিষ্ঠানটি চালু করেন। যেখানে তিনি স্টিলের তার ব্যবহার করে কিছু ভাস্কর্য তৈরি করেন। স্থানীয়ভাবে তার কিছু ভাস্কর্য বিক্রিও হয়। এরপর একদিন অনলাইনে তার ভাস্কর্যের ছবি ভাইরাল হয়ে গেলে ফুলে ফেঁপে ওঠে রবিনের ব্যবসা। তার ভক্তের সংখ্যাও বেড়ে যায়। খুলে ফেলেন নিজস্ব ওয়েবসাইটও। একেকটি ভাস্কর্য তিনি বিক্রি করেন ১৫ হাজার পাউন্ডে।

তবে এখানেই দেখা দেয় বিপত্তি। তার ভাস্কর্যের ভুয়া বিজ্ঞাপন ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। রবিনের ওয়েবসাইট থেকে ছবি নিয়ে প্রতারকেরা আরও কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেয়। ফলে বিভ্রান্ত হয়ে প্রতারিত হন অনেকেই। কেউ হয়তো নিম্নমানের প্লাস্টিকের পণ্য হাতে পান। কেউ কিছুই পান না।

তবে ভুয়া বিজ্ঞাপন বন্ধে ফেসবুকে সঙ্গে কথা বলেছেন রবিন। ফেসবুক তাকে সব বিজ্ঞাপনের জন্য আলাদা করে রিপোর্ট করতে বলে। কিন্তু এসব বিজ্ঞাপন সংখ্যায় এতো বেশি যার প্রত্যেকটিতে আলাদা করে রিপোর্ট করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, ভুয়া বিজ্ঞাপন বন্ধে ফেসবুক কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। ভুয়া বিজ্ঞাপন দিতে নিরুৎসাহিতও করে না।


আরও পড়ুনঃ

ফ্যান্টাসিওয়্যার: ড্যান্ডেলিয়ন ফুল আর পরীর রাজ্য

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

হোটেলে নারী এনে জরিমানার মুখে চিলির ফুটবলাররা

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক কুমির ‘মুজা’র জন্মদিন পালন


বিজ্ঞাপনগুলো ভুয়া জানায় পরও ফেসবুক সরিয়ে নেয় নি। এর কারণ হিসেবে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন নিয়ে অতিরিক্ত অর্থের লোভকেই দায়ী করেন তিনি। তার মতে, বিজ্ঞাপনের জন্য মোটা অর্থ পায় ফেসবুক।

এই বিজ্ঞাপন কেলেঙ্কারির জন্য শুধু বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভোক্তারাই নন, তিনি নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সূত্রঃ বিবিসি

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে চলছে তিন দিনের হট এয়ার বেলুন ফেস্টিভাল

চন্দ্রানী চন্দ্রা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে চলছে তিন দিনের হট এয়ার বেলুন ফেস্টিভাল। আকাশে নানান রঙের বেলুন দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা। করোনার কারণে গেল বছর এই উৎসব বাতিল হলেও এবার বেশ বড় পরিসরেই করা হয়েছে আয়োজন। 

Up, up and away in hot air balloon festival এই শ্লোগানে, ৩৮তম বার্ষিক নিউ জার্সি লটারি বেলুন উৎসব। উড়ানো হচ্ছে শত শত রঙ্গীন বেলুন। দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থান থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা।

নিউ জার্সির রিডিংটনের আকাশে উড়ছে নানা রঙের হট এয়ার বেলুন। পরিষ্কার, রৌদ্রজ্জ্বল দিন, হিমেল বাতাস আকাশে বেলুন উড়ানোর জন্য আদর্শ সময়। আকাশে ভেসে থাকার দারুন মুহূর্ত উপভোগ করছেন এয়ার বেলুনে আরোহণকারীরা।

" আমি সত্যিই ভেবেছিলাম আমরা কারো ঘরে ঢুকে যাব। তারপরে কিছুটা ব্যাকআপ নিয়ে তাদের মাঠে নামলাম।"

"আমি খুব এক্সসাইটেড। বাতাসের বাইরে চলে গিয়েছিলাম। উপর থেকে সব দেখতে ভালো লেগেছে।"


দশ বছর আগে যা ঘটেছে তার জন্য আমি দায়ী নই : প্রভা

‘চুম্বন বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যয়নের আগে একান্তে সময় কাটাই’


 

গেল বছর করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নেয়ায় বাতিল হয়ে যায় জনপ্রিয় এই উৎসব। এবার করোনার টিকা গ্রহণকারীরা টিকিট সংগ্রহে পাচ্ছেন ছাড়। রয়েছে লটারি জিতে হট এয়ার বেলুনে আকাশে ভেসে বেড়ানোর সুযোগ।

২৩ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের হট এয়ার বেলুন উৎসব। গরমের সময় এয়ার এ উৎসব হয়ে থাকে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আজ শেরপুরের সোহাগপুর গণহত্যা দিবস

মাত্র দুই ঘণ্টায় হত্যা করা হয় ১৮৭ জন পুরুষকে

জুবাইদুল ইসলাম, শেরপুর

মাত্র দুই ঘণ্টায় হত্যা করা হয় ১৮৭ জন পুরুষকে

আজ ২৫ জুলাই, শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ঐতিহাসিক সোহাগপুর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল নালিতাবাড়ী উপজেলার কাঁকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামে।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা এদিন ভারত সীমান্তঘেঁষা ওই গ্রামের সব পুরুষ মানুষকে হত্যা করে। মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রামের ১৮৭ জন পুরুষকে হত্যা করা হয়। সেই থেকে সোহাগপুর গ্রামের নাম হয় বিধবা পল্লী।

জানা যায়, বৃহত্তর ময়মনসিংহের তৎকালীন আলবদর কমান্ডার জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের প্রত্যক্ষ মদদে ও স্থানীয় রাজাকার কাদের ডাক্তারের সহায়তায় ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী সোহাগপুর গ্রামে ঘটে এক ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি।

সেদিন ওই গ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা আশ্রয় নিয়েছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে রাজাকার আলবদরদের সহায়তায় ১৫০ জনের পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী স্থানীয় প্রফুল্লের দিঘি থেকে সাধুর আশ্রম পর্যন্ত এলাকা ঘিরে ফেলে। হায়েনার দল অর্ধ দিনব্যাপী তান্ডব চালিয়ে খুঁজতে থাকে মুক্তিযোদ্ধাদের ও তাদের আশ্রয়দাতাদের।

ওই সময় প্রাণের মায়া ত্যাগ করে সামনের দিকে এগিয়ে যান স্থানীয় কৃষক আলী হোসেন ও জমির আলী। কিন্তু তারা বেশীদূর এগুতে পারেননি। এক রাজাকার গুলি করে দু’জনকেই হত্যা করে। এরপর শুরু হয় নারকীয় তান্ডব। মাঠে কর্মরত রমেন রিছিল, চটপাথাং ও সিরিল গাব্রিয়েল নামে ৩ গারো আদিবাসীকে হত্যা করে।

তারপর একে একে হত্যা করে আনসার আলী, লতিফ মিয়া, ছফর উদ্দিন, শহর আলী, হযরত আলী, রিয়াজ আহমেদ, রহম আলী, সাহেব আলী, বাবর আলী, উমেদ আলী, আছমত আলী, মহেজ উদ্দিন, সিরাজ আলী, পিতা-পুত্র আবুল হোসেনসহ প্রায় ১৮৭ জন নিরীহ পুরুষ মানুষকে।

একইসাথে ওইসময় হায়েনাদের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন ১৩ জন নারী। সেদিন কলাপাতা, ছেড়া শাড়ী আর মশারী দিয়ে কাফন পড়িয়ে ৪/৫ টি করে লাশ এক একটি কবরে দাফন করা হয়েছিল। আবার কোন কোন কবরে ৭/৮টি করে লাশও এক সাথে কবর দেওয়া হয়েছিল।

ওই নারকীয় হত্যাকান্ডের জীবন্ত স্বাক্ষী রয়েছেন অনেকেই। সেদিন সোহাগপুর গ্রামের সকল পুরুষ মানুষকে হত্যা করায় পরবর্তীতে ওই গ্রামের নাম হয় ‘বিধবা পল্লী’।

এ পল্লীতে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ৫৬ জন বিধবা বেঁচে ছিলেন। বর্তমানে ২৩ জন বিধবা বেঁচে আছেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিধবাদের ভাগ্য বদল হয়েছে। উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে সোহাগপুর গ্রামে।

ইতোমধ্যেই ২৯ বিধবাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ লাখ টাকা মূল্যের একটি করে পাকাবাড়ি উপহার দিয়েছেন। ১৪ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিধবাপল্লীতে পাকা সড়ক হয়েছে। কাকরকান্দির বুরুয়াজানি গ্রামে শহীদদের স্মরণে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় করে দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। সুদীর্ঘ ৫০ বছর পর শহীদদের স্মৃতি রক্ষার জন্য জেলা পুলিশ বিভাগের সদস্যরা তাদের বেতনের টাকা দিয়ে বিধবাদের জমি ক্রয় করে দিয়েছেন। এছাড়া বিধবাপল্লীতে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

এসবের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বিধবা হাফিজা বেওয়া বলেন, ‘স্বামী-স্বজনগরে মাইরা হালানির পরে আমরা ভিক্ষা কইরাও ভাত খাইছি। শেখ হাসিনা ও মতিয়া চৌধুরী আমগরে লাইগা অনেক করছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধার পদবী পাইছি। ভাতা পাইতাছি। পাক্কাঘরে শান্তিতে ঘুমাইতাছি। আমগরে চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নাই। শুধু দোয়া করি হাসিনারে আল্লাহপাক বাঁচাইয়া রাখুক।’


আরও পড়ুন:

চীনে গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৪

এনএসও'র দাবি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহারে বিশ্বের লাখো মানুষ ঘুমাতে পারছে

পিএসজির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ল পচেত্তিনোর

হাইতি প্রেসিডেন্টের সৎকার অনুষ্ঠান থেকে পালিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদল


ওই গ্রামের আন্তর্জাতিক যোদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের সাক্ষী ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ছফির উদ্দিনের ছেলে জালাল উদ্দিন (৫০) বলেন, বিধবারা সুখের মুখ দেখলেও তাদের সন্তানরা কষ্টে চলেন। তাদের জন্য সরকারিভাবে কর্মসংস্থানের দাবি জানান তিনি। এদিকে দিবসটি পালন উপলক্ষে কোরানখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

বর্ষায় ভরা যৌবনা গড়াই নদী

জাহিদুজ্জামান

বর্ষায় ভরা যৌবনা গড়াই নদী

এই বর্ষায় ভরা যৌবন ফিরে পেয়েছে পদ্মার প্রধান শাখা নদী গড়াই। নদীর পাড়, কোল, কিনারে পানি ঢুকে অপরূপ রূপ নিয়েছে।

বিশেষ করে বালিয়াড়ির মতো জমে থাকা নদী খননের বালির খাজে তা অপরূপ হ্রদের রূপ নিয়েছে। আর এখানেই নেমেছে জেলের দল। নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে মাছ ধরছেন।

আর দু-কুলের সারি সারি চাঁই, খোপ ও জাল দেখে বুঝতেই পারছেন এখন কতটা জীবন্ত এই নদী। নদীর এই ছলছলে আবহ টেনে আনছে সৌখিন মৎস্য শিকারীদেরও।

অন্নদাশংকর রায়ের বঙ্গবন্ধু কবিতার সেই গৌরী নদীই এই গড়াই। একদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অন্যদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য আনছে নদীর এই জীবন্ত রূপ। খুশিতে নাচছে জেলেরা, দেশি মাছ ধরা দিচ্ছে তাদের জালে। তাইতো নদীর পাড়জুড়ে সারি সারি জাল।


আরও পড়ুন:

কারারক্ষীদের জিম্মি করে পিৎজা খাওয়ার দাবি দুই বন্দীর!

পিএসজির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ল পচেত্তিনোর

মুখ্যমন্ত্রীকে গরুর মাংস উপহারের ইচ্ছা পোষণ, নারী গ্রেপ্তার

মুনিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে সায়েম সোবহান আনভীরের জড়িত থাকার প্রমাণ পায়নি পুলিশ


সুন্দরবনে মিঠাপানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই গড়াই নদী।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

পর্যটক শূণ্য রাঙামাটি, নতুন রূপে সেজেছে পাহাড়

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

পর্যটক শূণ্য রাঙামাটি, নতুন রূপে সেজেছে পাহাড়

পর্যটক শূণ্য রাঙামাটি। চার মাস ধরে বন্ধ পর্যটন কেন্দ্র। আয় নেই, আছে ব্যয়। তবুও থেমে নেই কর্মচারীদের বেতন। কিন্তু দিন যত বাড়ছে লোকসানও বাড়ছে কয়েকগুন। মাত্র চার মাসে রাজস্ব খাতে ঘাটতি রয়েছে এক কোটি টাকা।

আয় সংকট চলমান থাকলে বন্ধ হতে পারে কর্মচারীদের বেতনও। শুধু পর্যটন ব্যবসায়ীরা নয়, এর প্রভাব পরবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের শিল্পের উপরও। তাই টানা পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকলে নানামুখি সংকটের শঙ্কা বাড়বে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গত এপ্রিল মাস থেকে বন্ধ রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্রগুলো। তাই নেই কোন পর্যটকের আনাগোনা। তাই একেবারে স্থবির পর্যটন কেন্দ্রীক সব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। আর মাত্র একদিন পর ঈদ-উল-আযহা হলেও লাগেনি উৎসবের রঙ। নেই কোথাও আনন্দের উচ্ছাস। করোনা সংক্রমণের শঙ্কায় ম্লান করেছে সমস্ত আয়োজন।

অথচ গত বছরও পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় ছিল এ পাহাড়ে। কিন্তু এখন পুরাই ভিন্ন চিত্র। এ বারে খালি সব হোটেল, মোটেল ও রেস্ট হাউসগুলো। তাতেই বেকার হয়ে পড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।

শুধু রাঙামাটি নয়, একই চিত্র দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত অপর দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। করোনার কালো ছায়ায় ধস নেমেছে পর্যটন ব্যবসায়। বেকার সময় পার করছে হাজারো পর্যটন শ্রমিক।

এক সময় যে পাহাড় জুড়ে জমজমাট ছিল ভ্রমণ পিয়াসুদের আনাগোনায়। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে হাজারো পর্যটক ছুটে আসতো সবুজ পাহাড় ও নদী ঘেরা মনোরম প্রকৃতির লীলাভূমি পার্বত্যাঞ্চলে। এখন তা কল্পনা করা যায়না। 

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের নৌযান ঘাটের ম্যানেজার মো. রমজান আলী জানান, পর্যটক নেই, তাই ব্যবসাও নেই। নৌযান ঘাটের প্রায় শতাধিক মানুষ বেকার রয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে এখন আর কেউ নৌ ভ্রমণ করে না। করোনার কারণে সব কিছুতেই ধস নেমেছে। 

অন্যদিকে পাহাড় সেজেছে নতুন রূপে। সবুজ পাহাড়ে একপশলা বৃষ্টিতে দোল খেলছে সাদা মেঘের ভেলা। একই সাথে পাহড়ের ভাঁজে ভাঁজে হরেক রঙের ফুলের মেলা। পাখ-পাখালির নির্মল আনন্দ আর অনাবিল উচ্ছাস। প্রকৃতি যেন শান্ত, সিগ্ধ আর কোমলতার রূপ নিয়েছে। কিন্তু তা দেখার কেউ নেই।

রাঙামাটি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, দেশে করোনাকাল শুরু থেকে বন্ধ রাঙামাটিতে পর্যটক আসা। মাঝখানে একটু স্বাভাবিক হলেও গত চার মাস ধরে একেবারে বন্ধ পর্যটন কেন্দ্র। তাই পর্যটন কমপ্লেক্সের কর্মচারীদেরও বেতন ভাতাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সে ৪৯ জন কর্মচারী রয়েছে। তাদের প্রতি মাসে বেতন দিতে হয় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ঘাটতি রয়েছে এক কোটি টাকা। তাই দিন বাড়লে নানামুখি শঙ্কাও বেড়ে যায়।  এবার ঈদ উৎসবেও পর্যটক আসেনি পাহাড়ে। নেই কোন বুকিংও। করোনার দূর্যোগ না কাটা পর্যন্ত স্বাভাবিক হবে না পর্যটন ব্যবসা।


আরও পড়ুনঃ

দ. কোরিয়ার কোন গালিও দেয়া চলবে না উত্তর কোরিয়ায়

তালেবানের হাত থেকে ২৪ জেলা পুনরুদ্ধারের দাবি

কাছাকাছি আসা ঠেকাতে টোকিও অলিম্পিকে বিশেষ ব্যবস্থা

দীর্ঘ রোগে ভুগে মহানবী (সা.) কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র আঁকা কার্টুনিস্টের মৃত্যু


প্রসঙ্গত, রাঙামাটি জেলাজুড়ে রয়েছে অসংখ্য দর্শণীয় ও উপভোগ্য স্থান। গড়ে উঠেছে অনেক দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পট। এখন ভ্রমণপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের বেড়ানোর বড় সুযোগ ছিল ঈদের ছুটি। রাঙামাটির মূল শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হলিডে কমপ্লেক্স। সেখানে রয়েছে দৃষ্টিকাড়া ঝুলন্ত ব্রিজ, কটেজ ও মোটেল। পর্যটন নগরী রাঙামাটিতে পর্যটকদের আনন্দ ও মনোরঞ্জন জোগানোর অসংখ্য নৈসর্গিক আবেশ ও দর্শনীয় অনেকগুলো স্থান ও স্পট রয়েছে। সরকারি পর্যটন মোটেল ছাড়াও ডিসি বাংলো, পেদাটিংটিং, সুবলং ঝর্ণা ও পর্যটন স্পট, টুকটুক ইকো ভিলেজ, গিরিশোভা ভাসমান রেস্তোঁরা, পৌর পার্ক, সুখী নীল গঞ্জ, উপজাতীয় যাদুঘর, রাজবন বিহার, চাকমা রাজার বাড়ি, বীরশ্রেষ্ট মুন্সি আবদুর রউফের স্মৃতিসৌধসহ মনোরম ও নয়নাভিরাম স্পট ও স্থাপনা সত্যিই যে কোন পর্যটককে সহজেই কাছে টানে। শিহরিত করে তোলে স্বচ্ছ কাপ্তাই হ্রদের জলে নৌ বিহারের মতো রোমাঞ্চকর নৌ-ভ্রমণ। আর এসব পর্যটন স্পটগুলো এখন একেবারে ফাঁকা।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

ঈদে নতুন পোশাকের জন্য হাতে চায়ের ফ্লাক্স

শফিকুল ইসলাম শামীম, রাজবাড়ী

ঈদে নতুন পোশাকের জন্য হাতে চায়ের ফ্লাক্স

ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। তবে তা কার ও কাদের জন্য। যারা তিন বেলা পেট ভরে খেতে পায় না। স্কুলের গন্ডি পার হতে পারেনি, সংসারের ঘানি নিয়ে জীবন সংগ্রামে যুদ্ধ করছে। মায়ের একটি নতুন শাড়ি, ছোট ভাইয়ের ঈদের পোশাক, অসুস্থ বাবার ওষুধ কেনার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করছে। তাদের জন্য কি, ঈদ মানে আনন্দ? ঈদ মানে খুশি?

আসাদ শেখ (১১)। রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া কেকেএস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্র। করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় দেড় বছর স্কুল বন্ধ। ঘরে বসে সময় কাঁটে। বাবা লালন শেখ। করোনা কালে কর্ম হারিয়ে ঘরে বসে রয়েছে। দীর্ঘদিন আয়-রোজগার বন্ধ। ধার-দেনা করে সংসার চলে। অসুস্থ শরীর। প্রতিনিয়ত ওষুধ কিনতে হয়। তিন বেলা পেট ভরে খেতে পায় না। খেয়ে-না খেয়ে আর কয় দিন চলে!

তাই ঘরে রাখা টিফিনের জমানো টাকা দিয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আসাদের কিনে নেয় চায়ের ফ্লাক্স। সকাল-সন্ধ্যায় চায়ের ফ্লাক্স হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। চা বিক্রি করে মায়ের হাতে দেয় আয়ের টাকা। আনে অসুস্থ বাবার ঔষুধ।

আসাদ চা বিক্রি শুরু করেছে তাও প্রায় ৬ মাস হলো। প্রতিদিন আয় হয় দেড় থেকে দুইশ’ টাকা। আসাদের আয়ের টাকায় সংসার কিছুটা ভাল চলে। রবিবার সকালে দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাটের মাঝে এই প্রতিবেদকের সাথে দেখা হয় আসাদের। খোলা একটি জায়গায় কয়েকজন লোক বসা দেখে মুখ ভরা হাসি নিয়ে এগিয়ে এসে বলে স্যার চা দিব।

উপস্থিত সবাই ব্যস্ত। তাই আসাদের কথা কেউ শুনেছে, কেউ শোনেনি। এসময় মুখটি মলিন হয়ে গেল। আসাদের চেহারার দিকে তাকিকে উপস্থিত ৬ জনের সকলের চা দেওয়া কথা বললে নিমিষেই আসাদের মুখে হাসি ফিরে আসে। আনন্দের সাথে সকলের হাতে এক কাপ করে চা তুলে দেয়। এসময় পাশে বসিয়ে কথা বলতে চাইলে মনের আনন্দের বলতে লাগলো সে। স্যার আমি ৫ম শ্রেণীতে পড়ি। বাবা লালন শেখ হকারী করে। তবে করোনার কারণে এখন কাজ নেই। তাই ঘরে বসে থাকে। শরীরটাও ভাল না।

আসাদ আরও বলে, বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে আমার টিফিনের জমানো টাকা দিয়ে চায়ের ফ্লাক্স কিনি। সেই দিন থেকে প্রতিদিন দুই বেলা, সকাল-সন্ধ্যা চা বিক্রি করি। প্রথমে বাবা জানতো না। এখন জানে।

দুই ফ্লাক্স চা বিক্রি করলে আর কয় টাকা লাভ হয়? হাসি দিয়ে বলে স্যার প্রতি ফ্লাক্সে ১১০/১২০ টাকা লাভ হয়। দুই ফ্লাক্সে ২৩০/২৪০ টাকা লাভ হয়। আমি টাকাগুলো খরচ করি না। মায়ের হাতে দেই।

তোমার এই টাকা দিয়ে কি করে তোমার মা? এমন প্রশ্নে আসাদ বলে, চাউল কেনে, বাজার করে। এই টাকায় এখন আমাদের সংসার চলে। তবে ঈদের মধ্যে সারাদিন চা বিক্রি করি। ৪/৫ ফ্লাক্স চা বিক্রি করা যায়। লাভ বেশি হচ্ছে। দুই দিন যাবৎ চার-পাঁচশ’ টাকা লাভ হয়।

এই টাকা দিয়ে তুমি কি করবে এমন প্রশ্নে আসাদ বলে, কেন স্যার? ঈদে মায়ের জন্য নতুন শাড়ী। ছোট ভাইয়ের নতুন জামা। সেমাই, চিনি ও বাবার জন্য জন্য একটি নতুন লুঙ্গি। তোমার জন্য কিছু কিনবে না। তখন বলে স্যার এত টাকা কোথায় পাব?

এসময় পাশে বসে থাকা বিআইডব্লিউটিসি কর্মরত রাজু হাউলাদার আসাদের কথা শুনে পাঁচশ’ টাকা দিয়ে বলেন বাবা তুমি একটি নতুন জামা কিনে নিও। আসাদ টাকা নিয়ে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল আর কোন প্রশ্নে উত্তর না দিয়ে। উপস্থিত সকলে আসাদের চলে যাওয়ার দিকে নীরবে তাকিয়ে রইল।


আরও পড়ুনঃ

পর্নতারকা ডালিয়া স্কাইয়ের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার

পাকিস্তানে আফগান রাষ্ট্রদূতের মেয়েকে অপহরণ ও নির্যাতন

সৌদি আরবে বন্ধ হচ্ছে নামাজের সময়ে দোকান বন্ধ রাখার নিয়ম

'ছাত্রলীগ সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে'


আসাদের ব্যাপারে কথা হয় দৌলতদিয়া কর্মজীবি কল্যাণ সংস্থা কেকেএস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরি রাণীর সাথে। তিনি বলেন, আসাদ ভাল ছাত্র। স্কুলচলা কালীন প্রতিদিন স্কুলে আসতো। তবে স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক দিন যাবৎ যোগাযোগ নেই।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর