পটিয়া আওয়ামী লীগ নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ, ভেঙে দেওয়া কমিটি পুনর্বহালের দাবি

অনলাইন ডেস্ক

পটিয়া আওয়ামী লীগ নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ, ভেঙে দেওয়া কমিটি পুনর্বহালের দাবি

জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন পটিয়া আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা। তিনি তার বশংবদ ‘এমপি লীগ’ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে দলের নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দিয়ে জামায়াত-হাইব্রিড-অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই দিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রে অভিযোগের পাহাড় জমা পড়ছে। প্রভাব খাটিয়ে যেসব নেতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতারা।

গত সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে পটিয়া উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগপত্র কেন্দ্রীয় নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এতে নেতাদের স্বাক্ষর রয়েছে। 

এতে বলা হয়, ‘আমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সাংগঠনিক নিয়মে গঠনতন্ত্র অনুসারে সাংগঠনিক এবং দলীয় সব কর্মকাণ্ড সুচারুরূপে পরিচালনা করে আসছি। পরিতাপের বিষয়, সম্প্রতি কোনো প্রকার সভা, সম্মেলন না করে এবং আমাদের কোনোরূপ চিঠি বা মৌখিকভাবে অবগত না করে উপজেলা আওয়ামী লীগ হঠাৎ করে অগঠনতান্ত্রিকভাবে পটিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। আরও দুঃখের বিষয়, বিভিন্ন দল থেকে আগত অনুপ্রবেশকারী, পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগবিদ্বেষী, কট্টর সাম্প্রদায়িক ও অসাংগঠনিক ব্যক্তিদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে অন্যায়ভাবে কমিটি ঘোষণা করা হয়। যার দরুণ দলীয় ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।’

সূত্রমতে, পটিয়া উপজেলার ১৪ নম্বর ভাটিখাইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন সন্তোষ কুমার বড়ুয়া। ৭৪ বছর বয়সী এই সাবেক স্কুলশিক্ষক কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত। তিনি স্থানীয় নলিনীকান্ত মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে কাজ করতেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ভাটিখাইন ইউনিয়নে হাতে গোনা যে দু-চার জন আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রেখেছিলেন তার অন্যতম সন্তোষ কুমার বড়ুয়া। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত প্রবীণ এই নেতাকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে জাতীয় পার্টি থেকে আসা এক নেতাকে পদায়ন করা হয়েছে। শুধু সন্তোষ কুমার বড়ুয়াই নন, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি সাংগঠনিক নিয়মবহির্ভূতভাবে ভেঙে দিয়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত থেকে আসা অনেক নেতাকে নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হারানোর শোকের মাস আগস্টে আওয়ামী লীগের কোনো স্তরেই কমিটি গঠনের রেওয়াজ না থাকলেও পটিয়ায় এমনটাই করা হয়েছে। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গঠিত ১৪টি ইউনিয়ন কমিটি ২০১৯ সালের আগস্টে ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা হয়। এমন কাণ্ডের পেছনের ব্যক্তিটি হলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী।

হুইপ সামশুল, তার দুই ভাই ও এক ছেলের বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগের অন্ত নেই। মতের অমিল হলেই পুরনো ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্যাতন ও অপমান, জবরদখল, দলীয় পদ বাণিজ্য, অনিয়ম-দুর্নীতির বহু অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে পটিয়া আওয়ামী লীগের নেতারা নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। ১৪ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের কাছে লিখিত অভিযোগও দেন। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘কিছু অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সামশুল হকের সঙ্গে মতের অমিল হওয়ায় পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগসাজশে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে ১৪ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের আগস্টে এ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। যদিও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো পর্যায়ের কমিটিই শোকের মাস আগস্টে গঠন করা হয় না। নতুন গঠিত এসব কমিটিতে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি থেকে আসা অনেক নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়। অসাংগঠনিকভাবে কমিটি ভেঙে দেওয়া ও অনুপ্রবেশকারীদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন তৃণমূল নেতারা।

কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রে পটিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৩ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কজনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা অভিযোগগুলো আমলে নিয়েছেন। তারা সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটি পুনর্বহাল হবে বলে জানিয়েছেন। সামশুল হকের অনুসারীদের নিয়ে গঠিত কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

কমিটি ভেঙে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কোলাগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভেঙে দেওয়া কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘পুরনো ও ত্যাগী আওয়ামী লীগের নেতারা টাকাপয়সার লোভ করেন না। তারা দল নিয়ে ভাবেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কাজ করেন। টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় সুবিধাবাদী লোক ঢুকে গেছে। তারা আমাদের মতো পুরনো নেতাদের কারণে অপকর্ম করতে পারেন না। সেজন্য আমাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেছিল।’

কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে খেপে যান হুইপ সামশুল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম শামসুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘এটা আপনার জানার প্রয়োজন কী? এখানে আমার দলের ভালোমন্দ আমি বুঝতেছি। যেটা ভালো সেটা করতেছি।’

সোমবার দুপুরে সার্কিট হাউসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী। প্রবীণ এই নেতা বলেন, ‘সামশুল হক চৌধুরী নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে দলকে বিতর্কিত করছে। তার কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’

এ সময় তিনি সামশুল হকের নানা অপকর্মের কথা তুলে ধরতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন তাকে থামিয়ে দেন। সভায় আরও কয়েকজন নেতা সামশুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দিদারুল আলমকে থামিয়ে দেওয়ায় অন্যরা আর কথা বলেননি। তবে ১৪ ইউনিয়নের সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

news24bd.tv / তৌহিদ

পরবর্তী খবর

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাথে জড়িতরা এখনো সক্রিয় : প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাথে জড়িতরা এখনো সক্রিয় : প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার সাথে জড়িত শত্রুরা এখনো সক্রিয় বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

আজ বুধবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যোষ্ঠ পুত্র শহিদ শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। 

এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের প্লট যারা রচনা করেছিল, তারা নিঃশেষ হয়ে যায়নি। তারা এদেশ থেকে এখনো বিনাশ হয়ে যায়নি। কখনো ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়ে কখেনো তারা স্বাধীন ফোরাম করে এদেশে থাকে। পঁচাত্তরের শত্রু যারা, তারা একাত্তরের শত্রু, তারা ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাকারী এবং তারাই ১৯ বার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। তারাই শেখ কামালকে হত্যা করেছে। আমরা সে মানুষগুলোকে এখনো আইনের আওতায় আনতে পারি নি।

শ ম রেজাউল করিম আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ছিলেন বিধায় এতো প্রতিকূলতার ভেতরও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। শেখ হাসিনা না থাকলে এ জাতীয় হত্যাকান্ডের বা ঘটনার বিচার কোনদিন হবে না। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের 'গো অ্যাহেড' বলে প্রমাণ করেছেন তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের শুধু ষড়যন্ত্রকারীই নন, হুকুমদাতা। এজন্য বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে একটি সম্পূরক তদন্ত করে সে রিপোর্ট রেকর্ডে রাখা উচিত। এ বিষয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া দরকার, যে তদন্ত কমিশন বঙ্গবন্ধু হত্যা ও ষড়যন্ত্রে কারা কারা জড়িত ছিল তাদের নাম প্রকাশ করবে।

তিনি আরো বলেন, শহিদ শেখ কামাল বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জন্য সম্পদ ছিলেন। তাঁকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা না হলে এ দেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ায় তিনি বিশাল অবদান রাখতে পারতেন। শেখ কামালকে হত্যার মধ্য দিয়ে গোটা জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো যোগ করেন, ১৯৭৫ সালের খুনিদের টার্গেট ছিল বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবার ও স্বজনরা। কারণ তারাই হচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। খুনিরা ভেবেছিল তাদের মেরে ফেলতে পারলে বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাকে মেরে ফেলা যাবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মতো হত্যাকান্ডেরে নজির পৃথিবীর কোথাও নেই।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কার্যকরী সভাপতি রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন হালদারের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল আলোচনায় প্রধান বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ মুরাদ হাসান এমপি। এছাড়া আরো অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি বলরাম পোদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা, সহসভাপতি অরুণা বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক তারিন জাহান, শিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী প্রমুখ।

আরও পড়ুন

জামিনে থাকা আসামিকে খুন!

প্রসূতিদের টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন তথ্য

আর্থিক সংকট মেটাতে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

পরীমণির বাসায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলার দাবি, আতঙ্কে নায়িকা

news24bd.tv/এমিজান্নাত

পরবর্তী খবর

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় বিএনপি, নতুন করে আন্দোলনের প্রস্তুতি

মারুফা রহমান

ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করছে বিএনপি।ঢাকা মহানগরের নতুন কমিটি ,দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভুমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করেছেন দলের মহাসচিব, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সকালে উত্তরার বাসায় মহানগর উত্তর-দক্ষিনের নবগঠিত আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব এই প্রত্যাশা জানান । নতুন কমিটির আহ্বায়করাও আন্দোলন সংগ্রামের পথ কে নতুন করে তৈরির কথা বলেন। 

মঙ্গলবার সকালে উত্তরার বাসায় মহানগর উত্তর-দক্ষিনের নবগঠিত আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ দেখা করতে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে। সেখানে একটি বৈঠক শেষে নবগঠিত কমিটি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন, মির্জা ফখরুল। দলের সংকটপূর্ন এই সময়ে নতুন কমিটি আগামীর আন্দোলন সংগ্রামে নতুন মাত্রায় ভুমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
ঢাকা মহানগর উত্তরের নতুন আহ্বয়াক আমানউল্লাহ আমান বলেন

আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে সরিয়ে নিদরলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে বাধ্য করতে কাজ করবেন তিনি।

আরও পড়ুন:


আবারও বাড়ল লকডাউন

জানানো হলো দোকানপাট খোলার তারিখ

টিকা নেওয়া ছাড়া কেউ অফিস-দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসতে পারবে না


 

আর দক্ষিনের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেছেন, সাংগঠনিক অবস্থাকে দ্রুত ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করবেন তিনি।

এদিকে ঢাকা-মহানগরের নতুন এই কমিটিকে নিয়ে দলের ভেতরে ইতিমধ্যেই  নেতা-কর্মীদের বড় এক অংশের ভেতর অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

করোনা মোকাবিবেলায় সমন্বয়হীনতা দূর করতে হবে: ইনু

অনলাইন ডেস্ক

করোনা মোকাবিবেলায় সমন্বয়হীনতা দূর করতে হবে: ইনু

মহামারি করোনা মোকাবিলায় সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি এবং সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু।

মঙ্গলবার (০৩ আগস্ট) দুপুরে জাসদ কার্যালয়ে দলীয় কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড হাবিবুর রহমান শওকতের ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

হাসানুল হক ইনু বলেন, বৈষম্য-বঞ্চনা থেকে মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে সমাজতন্ত্রের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েই হাবিবুর রহমান শওকতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাসদের নেতা-কর্মীদের সংগ্রাম চলবে।

তিনি আরো বলেন, করোনা মহামারির কাছে আত্মসমর্পন করে জীবনও বাঁচবে না, জীবিকাও রক্ষা হবে না, অর্থনীতিও সচল হবে না। জনগণের অসচেতনাকে না দুষে, হাল না ছেড়ে দিয়ে করোনা মোকাবিলায় সমন্বয়হীতা ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জাসদ সহ-সভাপতি মীর হোসাইন আখতার,  নুরুল আকতার, বীরমুক্তিযোদ্ধা সফি উদ্দিন মোল্লা, জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী, আব্দুল্লাহিল কাইয়ুম, শওকত রায়হান, মোঃ মোহসীন, রোকনুজ্জামান রোকন, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, কোষাধক্ষ্য মোঃ মুনির হোসেন, দফতর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, সহ-দফতর সম্পাদক প্রকৌশলি হারুন অর রশিদ সুমন, তথ্য ও  প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কাজী সালমা সুলতানা, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এড. নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী, জাসদ ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সভাপতি ইদ্রিস বেপারী, সাধারণ সম্পাদক এড. মহিবুর রহমান মিহির, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরদার খোরশেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কনক বর্মন, প্রচার সম্পাদক মোহম্মদ আলী, জাতীয় কৃষক জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান ফসি, জাতীয় আইনজীবী পরিষদের এড. মোঃ সেলিম,  জাতীয় নারী জোটের সৈয়দা শামীমা সুলতানা হ্যাপি, জাতীয় যুব জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ সামসুল ইসলাম সুমন, সহ-সভাপতি এড. আবু হানিফ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হক ননী, সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল রাজ বংশী, সহ-সম্পাদক হাসানুতুজ্জামান বাবু, সদস্য হাসান আজিজ জনি, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মারুফ হোসেন  প্রমুখ।

আরও পড়ুন:


আবারও বাড়ল লকডাউন

জানানো হলো দোকানপাট খোলার তারিখ

টিকা নেওয়া ছাড়া কেউ অফিস-দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসতে পারবে না


 

স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক ও জাসদ সহ-সভাপতি মীর হোসাইন আখতার, জাতীয় নারী জোটের আহবায়ক ও জাসদ সহ-সভাপতি আফরোজা হক, ঢাকা মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়ক ও জাসদ সহ-সভাপতি নুরুল আকতার, মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদের নেতা ও জাসদ সহ-সভাপতি সফি উদ্দিন মোল্লা ও জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশের সভাপতি ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফুজ্জামান বাদশা। 

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের মুখপাত্র

‘কোন ব্যক্তির নির্দেশে আ.লীগ কোন ব্যক্তির সম্পদে পরিণত হবেনা’

নোয়াখালী প্রতিনিধি

‘কোন ব্যক্তির নির্দেশে আ.লীগ কোন ব্যক্তির সম্পদে পরিণত হবেনা’

বাংলাদেশ আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাগনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু বলেছেন, আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের। সারা জীবনে সততায় সমৃদ্ধ রাজনৈতিক জীবন যার, তার নির্বাচনী এলাকায় এ ধরনের অপরাজনীতি অনভিপ্রেত এবং অগ্রহণযোগ্য। এ বিষয়ে বার বার দাবি করেও আমরা কোন সমস্যার সমাধান পাইনি। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান তাদের চেয়ারে বসে অফিস করতে পারেনা। ২০০৮ সাল থেকে থেকে এখানে কে কমিশন বাণিজ্য করেছে?  

সোমবার (২ আগস্ট) রাত ৯টায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ.লীগ ওবায়দুল কাদেরের সাথে আছে এবং জেলা আ.লীগের নির্দেশে গঠনতন্ত্র মোতাবেক কার্যক্রম চালাবে। কোন ব্যক্তির ইশারায়, কোন ব্যক্তির নির্দেশে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ.লীগ কোন ব্যক্তির সম্পদে পরিণত হবেনা। দুই একজন মানুষের লোভের কারণে ওবায়দুল কাদের ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এটি থেকে আপনার বের হওয়া উচিত। আমরা ছোট মানুষ আপনাকে পরামর্শ দেওয়ার যোগ্যতা ও সাহস কোনটাই আমরা রাখিনা। আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।

এ সময় মঞ্জু  প্রশ্ন রাখেন? কাদের মির্জা এখন যুক্তরাষ্ট্রে। পৌরসভায় যে সকল সশন্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিয়ে রেখেছে? এটি কিসের আলামত। তারা কাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। এ থেকে কি বুঝা যায়। এ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে কি ম্যাসেজ যাচ্ছে। যে সকল সন্ত্রাসী মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট করেছে, লাইভে এসে মা-বোনকে গালি দিয়েছে, পৌরসভার তিনতলা থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় হামলা করেছে এবং মানুষের হাত-পা ভেঙ্গেছে। তাদেরকে পৌরসভায় রেখে পুলিশী নিরাপত্তা দেওয়া কি কোন সভ্য সমাজের কাজ। দেশে কি কোন আইনের শাসন নেই। তাহলে কেন পুলিশ তাদেরকে সেখানে পাহারা দিয়ে রেখেছে।

আরও পড়ুন:


আবারও বাড়ল লকডাউন

জানানো হলো দোকানপাট খোলার তারিখ

টিকা নেওয়া ছাড়া কেউ অফিস-দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসতে পারবে না


 

তিনি আরও বলেন, মন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি। আপনার এলাকায় আ.লীগের অফিসটা আপনার ভাই ভেঙ্গে চুরে নিয়ে গেছে। আপনার এলাকায় আ.লীগের কোন কার্যালয় নেই। কার্যালয় করতে গিয়ে উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আপনার ভাইয়ের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছে। সেই থেকে আমার বাসায় আ.লীগের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আপনি আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এখানে কার্যালয় থাকবেনা কেন। আমরা মিটিং করতে গেলে প্রশাসন নানান কথা বলে। কিন্তু করোনার মধ্যে পৌরসভা হলরুমে মিটিং গুলো কিভাবে হয়। আপনার বাড়ির সামনে বোমা পাঠানোর নাটক সৃষ্টি করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জে আ.লীগের একটি কার্যালয় প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেন। এখানে কার্যালয় না থাকলে আপনারই ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সরকারের বিবেচনাবোধ থাকলে শ্রমিকদের এই দুর্ভোগ হতো না: রব

অনলাইন ডেস্ক

সরকারের বিবেচনাবোধ থাকলে শ্রমিকদের এই দুর্ভোগ হতো না: রব

জনগণের সীমাহীন অমানবিক দুর্ভোগে রাষ্ট্র তথা সরকার দর্শকের ভূমিকায় থাকতে পারে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব। তিনি বলেছেন, নাগরিকের দুর্ভোগে সরকারকে অবশ্যই মানবিক হতে হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরাকে কেন্দ্র করে তাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের প্রেক্ষিতে আজ গণমাধ্যমে এক বিবৃতি দেয় জেএসডি।

ওই বিবৃতিতে আ স ম রব বলেন, সরকারের উচিত এই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ কষ্টের জন্য শ্রমিকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করা। গার্মেন্টসহ সব রপ্তানিমুখী শিল্প কলকারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে যে গণপরিবহন খোলা রাখার বিষয়টি সম্পৃক্ত সরকারের মধ্যে এটুকু বিবেচনাবোধ থাকলে আর শ্রমিকদের এই দুর্ভোগ হতো না।

‌‘ঢাকামুখী মানুষের স্রোত, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, উপচে পড়া ভিড় সীমাহীন দুর্যোগ এবং দুর্ভোগের দৃষ্টান্তের ঘটনা নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র ও সরকারের অমানবিকতা প্রতিফলিত হয়েছে। এ ধরনের অদূরদর্শী ও অপরিকল্পিত ঘটনায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে’ বলে জানান রব।

তিনি আরও বলেন, জনগণ ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে বুকের রক্ত দিয়ে রাষ্ট্রের উপর মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করেছে, কারো বা কোনো প্রতিষ্ঠানের অবহেলা পাওয়ার জন্য নয়।

ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে এবং যথাযথ পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

করোনায় স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ মেনে শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য সরকারকে ছয়টি প্রস্তাব দেন এই প্রবীণ রাজনীতিক।

প্রস্তাবগুলো হলো- কর্মরত শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রদানসহ প্রতিটি কারখানায় করোনা পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন, আক্রান্ত শ্রমিকদের কারখানা মালিকের ব্যবস্থাপনায় আইসোলেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ, শ্রমিকদের কারখানায় যাওয়া আসার জন্য মালিকের ব্যবস্থাপনায় পরিবহন নিশ্চিত করা; চাকরিরত শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হলে সরকারি কর্মচারীদের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বিভিন্ন উৎসবে ছুটি অথবা কারখানা বন্ধ বা খোলার সাথে সরকারের লকডাউন ঘোষণার সঙ্গে ও পরিবহন চলাচলের সমন্বয় করতে হবে।

আরও পড়ুন:


১১ তারিখ থেকে যানবাহন চলবে যে নিয়মে

৭, ৮, ৯ আগস্ট ভ্যাকসিন নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছি: মোজাম্মেল হক

১১ আগস্টের পর ভ্যাকসিন ছাড়া ঘোরাফেরা করলে শাস্তি


news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর